সৌম্যদীপ দেব
উত্তর পূর্বের উপন্যাস গবেষক
সময়ের ছবি (১)
ঘোড়ার ঘাস না কেটে জীবনের আঁয়ু গোনো।
আদান- প্রদান (২)
হৃণ যদি মানো হাতের আদান-প্রদান জেনো।
জীবনের মূল্য (৩ )
জীবনের আঁয়ু কমেনা ভাই পরের সেবা করলে।
পথ (৪ )
রোজ দিন একই পথে যাওয়া আর আসা। দিন এনে দিন খাওয়া ঘরের বাপের একমাত্র মেয়ে যমুনা।
একই পথ আমার ষাট বছরের ইতিহাস জানে।
শনিবার সন্ধ্যা। মংলুর পথটা কেমন অচেনা ঠেকছে।
বার বার থমকে গিয়ে কি ভাবছে?
গতরাত থেকে যমুনাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
'মংলুর জীবনের পথটাই হারিয়ে গেছে। '
সন্ন্যাস-সংসার (৫ )
এক কালের দজ্জাল শাশুড়িরে পিটিয়ে বাড়ি ছাড়া করেছিলো রঘুর মা।
এখন অবশ্য সে মুক্তি চিন্তার অনুগামী। দিন-রাজ মালাজপে।
তবে মুক্তি কি আর চাইলেই ঘটে!
এখনো রঘুর বউ রান্না চাপালে পেছন থেকে উঁকি মারার অভ্যেস মজ্জা গত।
'তেল যেনো বউ বেশি না দিয়েদেয়! '
ভবা ঘুরে (৬)
গ্রামের ভবা, সবে বলে ওরে পাত্তা দিতে নেই।
সে নিজের মতোই থাকে। মাঝেমধ্যে কেউ খাবার দিলে হয়তো খায়।
গ্রামের নওয়াজ মন্ডল তারে একটা উপার্যনের পথ করে দেবেন বলেছিলেন। আজ তার এই দশা!
রাত-বিরেতে সে চেঁচায় আর বলে -
" তোমার চৈতন্য কেনো হলো না? "
জমিদার (৭ )
বাড়ি জুড়ে অতিথি - অভ্যাগতয় টইটম্বুর।
ছোট মেয়েটি দিনভর দাদু- দাদু বলে ডেকেছে!
কারো কাছে কোনো খবর নেই।
সন্ধ্যার কলি উদয় হলে জমিদারের গলা খাকরানি শোনা গেলো।
তখন মেয়েটি আর এলো না।
পরদিন বাড়ি শূন্য।
ডাক পিওন (৮)
চিঠি.... চিঠি..... চিঠি আসবে।
সাত মাস হলো ছেলের সাথে কোনো যোগাযোগ নেই। বলেছিল পাঁচ মাসের কি এক অপারেশান আছে!
পিওনটা দেখলাম গেলো কোনো খবর নেই।
আসেনা, চিঠি আর আসেনা।
হঠাৎ এলো -
বাড়ির উঠোনটা লাল লাল লাল।
নিমাই ( ৯ )
বিদেশে কতো টেহা। আর অভাব থাকতো না আমাগো।
আমি কইলাম মাসে মাসে তোমরারে টেহা পাডামু।
পর পর কয়েকমাস টাকা আসলো - কিন্তু এরপর আর খোঁজ নেই।
কিছুদিন বাদে বিদেশ মন্ত্রকের ফোন -
"ব্যঙ্কে গিয়ে টাকা পাঠান, আমরা ডেড বডি পাঠাচ্ছি! "
❤❤ধন্যবাদ ❤❤

1 মন্তব্যসমূহ
নিমাই অসাধারণ লেখা,হৃদয় কাঁদিয়ে গেল।
উত্তরমুছুন