সত্যজিৎ চৌধুরীর অসমিয়া কবিতা অনুবাদ
অসমিয়া ভাষার অন্যতম জনপ্রিয় কবি হরেকৃষ্ণ ডেকা মহাশয়ের শুভ জন্মদিন উপলক্ষে ওনারই লেখা একটি কবিতার অনুবাদ দিয়ে শ্রদ্ধায় কবিকে সশ্রদ্ধ প্রণাম নিবেদন:
'আমার ঘরটি'
মূল অসমিয়া : হরেকৃষ্ণ ডেকা
বাংলা অনুবাদ: সত্যজিৎ চৌধুরী
আমার ঘরটিতে খালি জায়গা অনেক।
তুমি বলেছিলে, বেশি জিনিস নিয়ে আসবে না,
ঘরে দাঁড়াবার জায়গা থাকবে না।
ছোট ঘর, জায়গা কম।
কিভাবে যেন নিয়ে আসা জিনিস ঠিক ধরে যায়,
তুমি গজগজ করো ও জায়গা বের করো।
এই জাদু কোনো দিন বুঝতে পারি নি।
আসবাবপত্র গুলোর মাঝে দিয়ে ঘুরে ঘুরে ভাবি,
ঘরে জিনিসের থেকে খালি জায়গা বেশি।
আমার ঘরটিতে খালি জায়গা ছিল না।
সকল জায়গা পরিপূর্ণ হয়েছিল,
তুমি চারিপাশে ধরেছিলে।
তুমি আমাকে ঢেকে রেখেছিলে,
আমি শূন্য হয়ে লুকিয়ে ছিলাম,
তুমি আমাকে পরিপূর্ণ করে রেখেছিলে।
তোমার অন্তরের প্রশান্তি আমি জানি,
তবে তোমার শুয়ে থাকা মুখের
এই প্রশান্তি কেন অপরিচিত?
ললিত আমাকে বলেছিল, আপনিও
একখানা কাঠ দিন।
দিয়েছিলাম, কিন্তু দেখিনি ।
ধোঁয়া উপরদিকে উঠছিলো।
আগুন দপদপ করে জ্বলছিল।
আগুন তোমার নতুন প্রেমিক।
কেমন আকুলতায় জড়িয়ে ধরেছিল তোমাকে।
ঘরটিতে ফিরে এসেছিলাম,
মাটির ঘড়ায় অস্তিত্বের চিহ্ন নিয়ে।
সাজ সরঞ্জাম ও আসবাব পত্রের মাঝে
দাঁড়িয়ে থাকা ঘরটির বেশিরভাগ স্থান শূন্য।
আমার ঘরটিতে খালি জায়গা একটুকু নাই,
তুমি পরিপূর্ণ হয়ে আছো।
ও গো, তোমার পা আছে
আজও।
গত মে মাসে 'লিটল ম্যাগাজিন ও গ্রন্থমেলা' উপলক্ষে আগরতলায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছিলাম। ওখানে দেশ-বিদেশের কবিবন্ধুদের সাথে পরিচয় হলো । এমনই এক ব্যক্তিত্ব ছিলেন বাংলাদেশের সিলেট থেকে আগত পেশায় শিক্ষক নেশায় কবি/সাহিত্যিক খালেদ উদ -দীন। অল্প সময়ের মধ্যে ওনার সাথে হৃদ্যতা গড়ে উঠলো। আমাকে উপহার দিলেন ওনার প্রকাশিত 'হাওয়াবাড়ির জানালাগুলি'। আমার কাছে আবদার করেছিলেন অসমিয়া ভাষায় অনুবাদ করার জন্য। একটু দেরী হলেও কবিবন্ধুর অনুরোধ রাখার চেষ্টা করলাম।
(১)
ডেউকাহীন চৰাই
মূল বাংলা : খালেদ উদ -দীন
অসমীয়া অনুবাদ : সত্যজিৎ চৌধুৰী
মুক্ত আকাশত উৰি ফুৰা চৰাই খুব সহজতেই
ঘূৰি ফুৰে
এই দেশ
সেই দেশ
খবৰ এটা পঠাওঁ তাক__
মোৰ ভাল নহয়
ভালে থাকা তুমি
চৰাইবোৰে হেনো অকলে থাকিব নোৱাৰে
চৰাইবোৰৰ ভাষা বুজিছিল নবী ছুলাইমান।
অ' আকাশ, ডেউকাহীন চৰাইবোৰক উৰিব দিয়া তোমাৰ কোচত -
দোহাই নবী ছুলাইমানৰ।
(২)
'ঠাণ্ডাৰ চৰাই'
মূল বাংলা : খালেদ উদ-দীন
অসমীয়া অনুবাদ : সত্যজিৎ চৌধুৰী
ঠাণ্ডা আহিলেই সুদূৰ চাইবেৰিয়াৰ পৰা জাকে জাকে উৰি আহে অতিথি চৰাই ৷
টেঙুৱা হাওৰৰ ভৰপূৰ পানীত কটাই যায় অসময় ৷
কি যে অদ্ভুত মায়াত আৱৰি আছে আমাৰ জীৱনৰ পাঠ৷
খহি পৰা পালকৰ বুৰঞ্জী লিখিবলৈ বহে এই সময়ৰ কবি৷
0 মন্তব্যসমূহ