পরিচিতি
সুমিতা বর্ধন। ছোট্ট পার্বতী রাজ্য ত্রিপুরায় বাস করেন। পেশা ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে কাজ করা এবং নেশা সাহিত্য চর্চা।
প্রশ্ন :১
প্রতিটি শুরুরও শুরু থাকে সেই শুরুর দিনগুলো শুনবো?
উত্তর:১
শুরু বলতে সেই ছোট্ট বেলা। বাবা এবং আমার এক কাকু গল্পের বই খুব কিনে দিতেন, আর কিনে দিয়েছিলেন লাল রঙের একটা খাতা। এই লাল খাতাটাই ছিলো আমার জীবনের গল্প লেখার প্রথম খাতা বা প্রথম ধাপ যেটাতে আমি স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছিলাম অর্থাৎ মনে যা আসতো তাই লিখতে পারতাম । প্রতি রবিবার এতে গল্প বা কিছু একটা লিখতে হতো। পরে বাবা এসে পড়তেন। তারপর মূলত মানবী সোশ্যাল অর্গানাইজেশন এর কর্নধার কল্যাণী দির হাত ধরে শুরু এবং এগিয়ে যাওয়া একটু একটু করে।
প্রশ্ন :২
পারিবারিক কোন চাপিয়ে দেওয়া ছিলো না নিজস্ব নির্বাচন এই শিল্পকে আপন করে নেওয়ার সময় ছিলো।
উত্তর:২
না কোন পারিবারিক চাপ নয়। পুরোটাই নিজস্ব হয়তো পারিবারিক বংশধারার একটা ব্যাপার রয়েছে। আমার পরিবারের যদিও আমার দেখা না পুরোটাই শোনা বড়দের মুখে ,আমার ঠাকুমা না কি ভালো লিখতেন যদিও এটা অপ্রকাশিতই রয়ে গেছে। আর কাকু ড:প্রবন বর্ধন, শ্যামল বর্ধন ওনারাও ভালো লিখতেন এটা তো আমার চোখেই দেখা, এমন কি আমার বাবা স্বর্গীয় অশোক কুমার বর্ধন ,আমার পিসি যদিও বাবা এবং পিসিও তেমন ভাবে চর্চা করেন নি। তবে ভালো লিখতেন। জিনগত একটা ব্যাপার থেকেই যায় আমরা এটা সবাই জানি তাই হয়তো নিজের অজান্তেই আমি এই শিল্প বা এই জগৎ টাকে আপন করে নিয়েছি।
প্রশ্ন :৩
আপনার কলেজ জীবনের গল্প বলুন?তখনকার বিশেষ স্মৃতি?
উত্তর:৩
কলেজ জীবনের সবচেয়ে আনন্দের স্মৃতি বলতে যেটা প্রথম বলতে হয় কলেজ ম্যাগাজিনেই প্রথম আমার লেখা ছাপা অক্ষরে বের হয়। সেটার আনন্দই ছিলো আলাদা। এছাড়া তো আর পাঁচটা মেয়ের মতোই আমারো কলেজ জীবন কেটেছে। পড়াশুনা ,প্রেম,বাবার শাসন এই সব নিয়েই আমার কলেজ জীবন। তবে সেই দিনগুলোকে খুব মিস করি এখনো। সকাল 9 টায় কলেজের তাড়া ,স্যারের বাড়ি খুব মিস করি দিনগুলো।
প্রশ্ন :৪
এ অঞ্চলের সাহিত্যে ভিন্ন সুর আমরা অনুভব করছি।বৃহৎ বাংলার বাংলা সাহিত্যের সাথে সুর মিললেও তার আছে নিজস্ব স্বর।আপনি কেমন দেখেন?
উত্তর:৪
এটা খুব স্বাভাবিক যে প্রতিটি দেশের সাহিত্য চর্চায় বিভিন্ন সুরের মধ্যেও একটা আঞ্চলিক ধারা থেকেই যায় । ঠিক তেমনি আমাদের ছোট্ট পার্বতী রাজ্যেও সাহিত্য চর্চায় বিভিন্ন সুর রয়েছে। বৃহৎ বাংলা সাহিত্যের সাথে সুর মিলিয়ে আমাদের রাজ্যও এগিয়ে চলছে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তথাপি বলতেই হয় বৃহৎ বাংলা সাহিত্যের সাথে সুর মিললেও আমাদের কেনো প্রত্যেক দেশ একটি নিজস্ব ধারায় চলে যার যার স্বকীয়তা বজায় রেখেই।
প্রশ্ন :৫
একটি গ্রন্থ নির্মানে বইয়ের বিষয়ের সাথে প্রচ্ছদ কতটুকু একে অন্যের পরিপূরক?
উত্তর:৫
একটা কথা আছে না প্রথমে দর্শনধারী পরে গুন বিচারী,ঠিক তেমনি প্রথমেই একজন পাঠকের চোখ আটকায় একটি বইয়ের প্রচ্ছদটির উপর। বইয়ের নামকরণ , প্রচ্ছদ এই দুটো ব্যাপারই একজন পাঠক বইটির প্রতি আকৃষ্ট হয়। তাই বইয়ের মূল বিষয়ের সাথে প্রচ্ছদ এবং নামকরণ খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রশ্ন :৬
কোন পথে আমাদের সময়।কোন পরামর্শ কিংবা আমাদেরকে পথ বাৎলে দেবেন?
উত্তর:৬
সময় পরিবর্তনশীল তাই সময় এবং যুগ দুই-ই পাল্টেছে । বর্তমানে খুব জটিল পরিস্থির মধ্য দিয়ে আমরা চলছি । আমি মনে করি যুবাদের আরো অনেক বেশি সংস্কৃতিমনস্ক করে তুলতে হবে। আর আমরা যারা বড়রা রয়েছি আমাদের এক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা নিতে হবে। যেহেতু আমি সংবাদ জগতের সাথে দীর্ঘদিন যুক্ত তাই সময়ের ভালো খারাপ দিক গুলো আমার চোখে পড়ে। তাই আমাদের প্রত্যেকের সচেতন থাকতে হবে। সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা সুস্থ দেশ গড়তে সাহায্য করে আর লক্ষ্য রাখতে হবে সংস্কৃতির নামে যেনো অপসংস্কৃতি না হয়।
প্রশ্ন :৭
প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি বিষয়ে কোন আক্ষেপ আছে?
উত্তর:৭
জীবনের ঝুলিতে অপ্রাপ্তি যেমন রয়েছে তেমনি প্রাপ্তির হিসেবও অনেক তাই আক্ষেপ করে আর কি হবে। প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তি এই নিয়েই তো জীবন।
প্রশ্ন :৮
কি রেখে যেতে চান?যা ১০০ বছর পর চর্চা হবে?
উত্তর:৮
স্বচ্ছতা, মানুষের জন্য ভালবাসা, ভালো ব্যবহার আর কিছু ভালো কাজ করে যেতে চাই যেটা মানুষ মনে রাখবে যখন আমি থাকবো না তখনো।
প্রশ্ন :৯
নিরন্তর সাধনারও আপনার দীর্ঘ জার্নি।এত প্রাণ কি করে পান?
উত্তর:৯
কিছু করার ইচ্ছা বা তাগিদ যাই বলেন সেটা থাকলে গতি আপনা থেকেই আসবে। আর একটা কথা যেটা আমি সবসময় গুরুত্ব দেই ,কাজ করে যেতে হবে সততার সাথে মন দিয়ে, আর বিশ্বাস করি তার ফল একদিন ঈশ্বর দেবেনই। আমিও আমার জীবনের ক্ষেত্রে এটাই মেনে চলি। তাই কাজ করতে কষ্ট হয় না। আমি ক্লান্ত হই না। ভেঙে পড়ি না খুব কঠিন পরিস্থিতিতেও।
প্রশ্ন :১০
আপনার সম্পাদিত লিটল ম্যাগাজিন সম্পর্কে জানবো?
উত্তর:১০
আমার লিটল ম্যাগাজিন "সুমিতা সাহিত্যপত্র"। এখনো শিশুই বলতে পারেন সবেমাত্র চার বছরে পা রেখেছে। ত্রিপুরা ,কলকাতা ,বাংলাদেশ পশ্চিমবঙ্গের কবি সাহিত্যিক দের নিয়ে আমার এই সাহিত্যপত্র। রাজ্যের এবং রাজ্যের বাইরের স্বনামধন্য লেখক ,কবিদের পাশে আমি নতুনদের নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি। বর্তমান প্রজন্মের কবি সাহিত্যিকরা ভালো কাজ করছেন , ওরা আমাকে খুব সাহায্য করে। আর যারা একেবারেই নতুন তাঁদেরও আমি নিয়ে আসি আমার সাহিত্য পত্রিকাটিতে। তাতে ওরা উৎসাহ পায়। নতুনদের নিয়ে কাজ করতে আমারো খুব ভালো লাগে। আপনাদের সকলকে পাশে নিয়েই আগামীতেও চলতে চায় সুমিতা সাহিত্যপত্র।
প্রশ্ন :১১
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে রবীন্দ্রনাথ কতটুকু প্রাসঙ্গিক?
উত্তর:১১
আমাদের প্রতিটি দিন আর প্রতিটি মুহূর্তের সাথি কবিগুরু। জীবনের এমন কোন মুহূর্ত ভাবতে পারি না রবীন্দ্রনাথকে ছাড়া। আমরা সকলেই আশাকরি আমাদের প্রতিটি কাজ , জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত, দুঃখ,কষ্ট,শোক ,আনন্দ ভাগ করে নেই কবিগুরুর সাথে। তাই আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে, প্রাত্যহিক যাপনে রবীন্দ্রনাথ খুবই প্রাসঙ্গিক । রবিঠাকুর ছাড়া একটি মূহুর্তও ভাবতে পারি না।
প্রশ্ন:১২
দেশভাগের যন্ত্রণা একজন কবিকে পীড়িত করে।আপনার পরিবার কি এমন কোন পরিস্থিতির শিকার?
উত্তর:১২
দেশভাগের যন্ত্রনা বলতে আমাকে ব্যাপারটা তেমনভাবে নাড়া দেয় না কিন্তু মা-বাবা বা শ্বশুর-শাশুড়ির মুখে শোনা দেশভাগের ভয়াবহতা উপলপদ্ধি করতে পারি। কষ্ট হয় ভাবলে ,বেশ তো ছিলো সবই, তবে কি দরকার ছিলো। সেই দেশ ভাগের দাঙ্গার ভয়াবহতা মন কে নাড়িয়ে যায়। এসব যুদ্ধ বা দাঙ্গা শুধু কষ্টই দেয় মানুষকে আর কিছু না। সবাই মিলে মিশে থাকার মধ্যে অনেক আনন্দ।
প্রশ্ন:১৩
কী লিখি কেন লিখি?
উত্তর:১৩
লিখি বিশেষ করে জীবন মুখী লিখি। জীবনের কথা লিখি, মানুষের কথা লিখি, চলার পথের মানুষ গুলো , তাঁদের সুখ,দুঃখ,আনন্দগুলো থাকে আমার লেখায়। কেনো লিখি বললে বলতে হয় ভালো লাগে তাই লিখি।
প্রশ্ন:১৪
আপনার কবিতাসংকলনগুলোর নাম নির্মানের গোপন জিয়নকাটি কিরকম?
উত্তর:১৪
আমার একক কবিতার বই রয়েছে তিনটি, চক্রব্যূহ, ভালবাসার কবিতা,কেউ পালায় না আর ছোট গল্পের বই রয়েছে একটা যার নাম অবগাহন। মোট একক বই চারটি। আর যেটা বললেন নাম নির্মাণের গোপন জিয়নকাটি বলতে তেমন কিছুই না, বইয়ের ভিতরের গল্প বা কবিতার বিষয় বস্তুর ওপর ভিত্তি করে নাম রাখা। এক্ষেত্রে আমার প্রকাশক ছোট ভাই তীর্থঙ্করের অবদানও অনেকটাই রয়েছে।
প্রশ্ন :১৫
শিল্পীর ইচ্ছা অনিচ্ছায় একটি শিল্প রূপ পায়? নাকি আরো কোনো অতিভৌতিক কোন বিষয় প্রতিটি ছবির ঘরনা তৈরী করে?
উত্তর:১৫
অবশ্যই শিল্পীর ইচ্ছা অনিচ্ছায় একটি শিল্প পূর্ণ রূপ পায়। তবে এর মধ্যেও কিছু সীমাবদ্ধতা ,নিয়ম কানুনের গন্ডিও শিল্পীকে ভাবতে হয়। আর যেটা বললেন অতিভৌতিক কোন বিষয় প্রতিটি ছবির ঘরনা তৈরী করে ,এমন কোন বিষয় আমার মনে হয় না।
প্রশ্ন :১৬
আপনার সাথে তেমন আড্ডা আমার নেই। আপনি আড্ডারু সে আমি জানি।আড্ডা কি শিল্প সৃষ্টির উৎস মনে করেন?
উত্তর:১৬
তা ঠিক আপনার সাথে তেমন আড্ডা আমার নেই বা হয়ে উঠে নি তবে আড্ডা দিতে আমি ভালোবাসি সে ঠিক বলেছেন । তবে সুস্থ আড্ডা সুস্থ শিল্প সৃষ্টির উৎস হতে পারে বলে আমি মনে করি। প্রতিটি আড্ডায় আলোচনার বিষয়বস্তু এবং আলোচক সহ সকলের মানষিকতা সুস্থ ,সুন্দর এবং স্বচ্ছ হতে হবে। তবেই প্রতিটি আড্ডা হয়ে উঠবে এক একটি শিল্প সৃষ্টির মূল উৎস।
প্রশ্ন :১৭
কবিতা তো একটি স্বতন্ত্রশিল্প ছবিও স্বতন্ত্র। একটি রেখা একটি বিন্দু কিংবা তুলির কতটুকু স্বাধীনতা এই সমাজ এই সংবিধান আমাদেরকে দিয়েছে?যদিও বাকস্বাধীনতা যেখানে এসে থমকে যায় শিল্প কি তেমন কোন আটকে পড়ার সম্ভাবনায় দমে যায়?
উত্তর:১৭
আমার মনে হয় কবিতা শিল্পের যে শিল্পীরা রয়েছেন ওনারা তো স্বাধীন ভাবেই শিল্প চর্চা করছেন। শুধু কবিতা কেনো যে কোন শিল্পীর একটা স্বাধীনতা থাকা দরকার। আমরা যদিও জানি বাকস্বাধীনতা আমাদের অধিকারের মধ্যে পড়ে তথাপি সেটারও একটা সীমারেখা রয়েছে। আমরা সেই সীমারেখা উল্লঙ্ঘন করতে পারি না। আর শিল্পকে ঠিক দাবিয়ে রাখা যায় বলে মনে হয় না। তা যেকোন শিল্পই হোক না কেনো।
প্রশ্ন :১৮
আপনার পারিবারিক পরিবেশ শিল্প ও শিল্পীর।এই সম্মেলন কেমন লাগে?
উত্তর:১৮
আসলে মেয়েদের দুটো দিক থাকে জন্ম ভিটে আর শ্বশুর ভিটে। আমিও এর ব্যতিক্রম নই। আমি আগেও বলেছি আমার বাবার বাড়িতে রয়েছে সাহিত্যচর্চার পরিবেশ যেখানে শিল্প আর শিল্পীর কদর রয়েছে। কিন্তু শ্বশুর বাড়ি ঠিক তেমনটা নয় কিন্তু আমার পরিবারের উত্তরসূরী যারা এখন বড় হয়ে উঠছে ওদের মধ্যে সংস্কৃতিমনস্ক ভাবটা রয়েছে। যেটা খুবই ভালো লাগে। আর শিল্প আর শিল্পীদের এই সম্মেলনই আমার বেঁচে থাকার আধার। আমার ভাললাগার জায়গা।
প্রশ্ন :১৯
আপনার নিজস্ব ঘরনায় লৌকিক সংস্কৃতি কতটুকু আনতে পেরেছেন?আপনি কি সচেতনতার এই বিষয়টিকে এড়িয়ে গেছেন?
উত্তর:১৯
আমার নিজস্ব ঘরানায় লৌকিক সংস্কৃতি তেমনটা এখনো আনতে পারিনি। চেষ্টা করছি হয়তো কোনদিন সফল হবো। সচেতনতা বলতে সমাজের ঠিক কোন দিকটা নির্দেশ করছেন বুঝতে পারছি না কারন সচেতনতার বিভিন্ন দিক রয়েছে আর জীবনে চলতে গেলে প্রতিটি পদক্ষেপ মেপে চলতে হবে, সচেতনতার মধ্যেই আমাদের চলতে হবে। একটু অসচেতন হলেই পা পিছলে এক্কেবারে গভীর খাদে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাই সচেতনতার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না সে যে বিষয়েই হোক না কেনো।
প্রশ্ন :২০
জীবন কেউ কেউ নেশা বলেন।কেউ কেউ উৎসব। কেউ কেউ একটি নাটক।আবার কারো কারো নিকট জীবনে কবিতাই জীবন।আপনি কোন নিজস্ব জীবনচেতনায় তাড়িত নিশ্চয়ই। ব্যাখ্যা চাই।
উত্তর:২০
আমি যদি বলি জীবন এক রঙ্গমঞ্চ। জীবন এক নেশা । এই রঙ্গমঞ্চে যে যার অভিনয় করে যাচ্ছি , জীবন একটা ভীষন নেশা যে নেশা ছাড়তে পারে খুব কম মানুষই। এই নেশার টানে মাতাল হয়ে থাকি ,তাই তো জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমাদের দায়িত্ব ,কর্তব্য গুলি শেষ হয়েও শেষ হয় না। আর যদি বলেন জীবন কবিতা কিন্তু আমার তা মনে হয় না। সুকান্তের ভাষায় , ক্ষুদার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেনো ঝলসানো রুটি। মানুষ আগে নিজের জন্য,পরিবারের জন্য খাবারের জোগাড় করে আর ভর্তি পেটেই কবিতাটা যে ভালো আসে সে আমার কথা নয় বড় বড় মানুষদের কথা।
প্রশ্ন :২১
এই সময়ে যারা লিখতে আসছেন তাদের জন্য কিছু বলবেন?
উত্তর:২১
হে এদের জন্য যেটা আগেও বলেছি ওরা ভালো লিখছে। ওদের শুধু এটাই বলবো স্বচ্ছতা বজায় রেখে লিখতে হবে আর লেখার জন্য পড়তে হবে অনেক। হতাশ হয়ে লেখা বন্ধ করলে চলবে না। মনে জোর রেখে কলম চালিয়ে যেতে হবে।
প্রশ্ন :২২
একজন সাংবাদিক হিসেবেও লেখালেখির পাশাপাশি ইতিমধ্যেই দক্ষতা আমাদের নজরে আসছে।সাংবাদিক সুমিতার সাথে কবি সুমিতার মতপার্থক্য হয়?
উত্তর:২২
সাংবাদিক সুমিতা এবং কবি সুমিতার সাথে কিছুটা পার্থক্য তো থাকবেই । সেটা আপনারা একটু লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারবেন হয়তো। কিন্তু মতপার্থক্য ততটা হয় না কারন সাংবাদিক সুমিতা -কবি সুমিতাকে চোখে আঙুল দিয়ে জীবনের রূঢ় বাস্তবতা দেখিয়ে দেয় আর কবি সুমিতা ঠিক সেগুলোই তার কলমে তুলে ধরতে চেষ্টা করে । তাই বলতে পারেন সাংবাদিক সুমিতা আর কবি সুমিতা দুটো ভিন্ন সত্তা হলেও কিন্তু একজন আর একজনকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যায়। একজন আরেকজনের পরিপূরক।
প্রশ্ন :২৩
আমরা জানি আপনার ভালেবাসারজায়গা ভালো লাগার জায়গা সাংবাদিকতা।ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কাজ করতে কোন সমস্যা হয়?
উত্তর:২৩
সংবাদ জগৎ সত্যি আমার ভালবাসার এবং ভাললাগার জায়গা, আমার কর্মক্ষেত্র আমার মন্দির। প্রথম প্রথম প্রব্লেম হতো না যে তেমনটা নয়। কিন্তু ধীরে ধীরে কাজের প্রতি আরো মনোযোগী হলাম ,ডিউটি ,কর্তব্য বিষয়ে সচেতন হলাম , আর সবার উপরে বড়দের সেই কথাটা মগজে ঢুকিয়ে নিলাম "মেনে নাও মানিয়ে নাও"। সমস্যা তো আসবেই সেটাকে টপকে এগিয়ে যাওয়ার নাম জীবন।
প্রশ্ন :২৪
সংবাদ পাঠিকা থেকে সঞ্চালনায়ও আপনার অবদান প্রাসঙ্গিক। বাচিক শিল্পও আপনার প্রিয়।লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদনাও করেন।ঘর সংসার সব মিলে আপনি ব্যস্ততম একজন।কি করে সামাল দেয়?
উত্তর:২৪
ধরুন আপনার যদি ৪/৫ টি সন্তান থাকতো আপনি কোনটাকে ফেলে দিতেন বলুন,আপনার কাছে সব সন্তানই সমান আদরের কারন আপনি ওদের জন্মদাতা বাবা। ওদের জন্য আপনার স্নেহ ,মায়া,মমতা জড়িয়ে থাকতো সবসময় আর ওদের নিয়েই আপনার পথ চলা ,সুখ ,আনন্দ। আমারো ঠিক তাই এগুলো সব আমার ভালবাসার জায়গা ,আমার পথ চলার আনন্দ। তাই ওদের জড়িয়েই ব্যস্ত থাকি আমি।
প্রশ্ন :২৫
সময়ের সাথে সাথে ত্রিপুরার নানা পরিবর্তন লক্ষনীয়।আমরা চাই এগিয়ে যাক মানুষ।নারীশিক্ষা নারিশক্তি এগিয়ে গেলে সময় সমাজ এগিয়ে যায়।বলবেন অবস্থান কোথায় এই সময়ের মেয়েদের?
উত্তর:২৫
এই সময়ে মেয়েদের অবস্থান অনেকটাই ভালো , নারীশিক্ষা, নারিশক্তি অনেকটাই এগিয়ে কিন্তু তারপরেও বলবো এখনো 100% ভালো নেই মেয়েরা। শহর ছাড়িয়ে একটু গ্রামের দিকে যান দেখুন রোজ জ্বলছে মেয়েরা, আত্মহত্যা করছে, ধর্ষিত হচ্ছে । মেয়েরা এখন সবক্ষেত্রেই এগিয়ে যাচ্ছে তারপরেও বলছি মেয়েদের নিয়ে সমাজের মানষিকতা আরো একটু উপরে উঠতে হবে বিশেষ করে মেয়েদের মানষিকতার আরো উন্নতি হতে হবে একথা আমি একজন মেয়ে হয়েও বলছি। মেয়েরাই মেয়েদের শত্রু এই প্রচলিত কথাটা যে ভুল সেটা সমাজের কাছে আমাদের প্রমান করতে হবে। আর পুরুষদেরও মানষিকতার পরিবর্তন করতে হবে আরো অনেকটাই তবেই খুন ,ধর্ষণ, ডিভোর্স আর বধুহত্যার মতো ঘটনা গুলো কমবে। মেয়েরা এগিয়ে যাওয়া মানে মায়েদের এগিয়ে যাওয়া আর মায়েরা এগিয়ে গেলে সন্তানরা এগিয়ে যাবে আর এই সুসন্তানরাই ধরবে দেশের হাল । এতে দেশের এবং দশের অগ্রগতি হবে । দেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছবে।
এতক্ষন অনেক কথাই আলোচনা হলো, ভুলত্রুটি মার্জনা করবেন। অনেক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি স্রোত প্রকাশনার কর্নধার গোবিন্দ দা কে যিনি আমাকে বলার জন্য সুযোগ করে দিলেন নাহলে হয়তো কথাগুলো মনের ভিতরেই রয়ে যেতো। ভালো থাকবেন দাদা। সময়ের স্রোতে স্রোত প্রকাশনা বয়ে চলুক অনেক দূর দুরান্তে। তাঁর সুনাম ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বব্যাপী। সকলকে জানাই আমার অন্তরের ভালবাসা ও নমস্কার। ভালো থাকবেন সকলে।
০১:০৯:২০২১
0 মন্তব্যসমূহ