কথাসাহিত্যিক মাধুরী লোধ মুখোমুখি কবি ও কথাশ্রমিক গোবিন্দ ধর

কথাসাহিত্যিক মাধুরী লোধ 
মুখোমুখি 
কবি ও কথাশ্রমিক গোবিন্দ ধর 


পরিচিতি
কবি গল্পকার ঔপন্যাসিক,নাট্যকার প্রবন্ধ কার, ছড়াকার, অভিনেত্রী ও সরকারি দপ্তর স্বাস্থ্য বিভাগের আয়ুর্বেদিক ফার্মাসিস্ট ।
ইতিহাসে অনার্স এম এ ,
নেশা সৃজনশীল সাহিত্য রচনা ।
বাবা শ্রীযুক্ত মনীন্দ্র কুমার লোধ,মা শ্রীমতী রেনুকনা লোধ।
তিন ভাই পাঁচ বোন । মাধুরী লোধ বাবা মায়ের ষষ্ঠ সন্তান ।
দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বিলোনিয়া মহকুমার অন্তর্গত ঋষ্যমুখ গ্রামে জন্মগ্রহণ করে ।
শিক্ষক বাদল বসুর সাথে বিয়ে হয় । একমাত্র পুত্র সন্তান এর জননী । ছেলে বিমান বসু  সদ্য উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছে ।
পেশাগত দায়িত্ব,স্্সার দেখাশোনা ও লেখালেখি র জগৎ নিয়ে ব্যস্ত তম জীবন ।
1988সালে অভিজিৎ চৌধুরীর ভোর ম্যাগাজিন এ প্রথম ছাপা হয় কবিতা  ত্রিপুরার ঐতিহ্য ।
দীর্ঘ সাহিত্য জীবনে অসংখ্য কবিতা গল্প উপন্যাস ছড়া নাটক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন পত্রিকা ও ম্যাগাজিন এ ।এ পর্যন্ত ছাপানো ব ই এর সংখ্যা দশটি ।

প্রশ্ন :১

প্রতিটি শুরুরও শুরু থাকে সেই শুরুর দিনগুলো শুনবো? 

মাধুরী :১
অধুনা বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার দক্ষিণ ধর্মপুর গ্রামের নিবাসী পন্ডিত নিশিকান্ত লোধ । ওনার হাত মেয়ে তিন ছেলে । নিশিকান্ত ছিলেন মিনি জমিদার । বৃটিশ ভারতে ধর্মপুর গ্রামের পোস্ট মাষ্টার । গ্রামের শালিশীতে ওনার কথা শেষ কথা । শুরু হয় স্বাধীনতার যুদ্ধ ।উনি সহ স্বাধীনতা  সংগ্রামীর ভাতা পেতেন । পিতৃমাতৃ ভূমির একনিষ্ঠ সৈনিক । ভারত ভাগের পর ও রয়ে গেছেন বাংলাদেশে । কিন্তু শুরু হয় ভাষা আন্দোলন , শুরু হয় মুক্তি যুদ্ধ ।সে সময় হিন্দুদের উপর শুরু হয় মুসলমান দের নির্যাতন । নিশি কান্ত বাধ্য হন  দুই ছেলে রবীন্দ্র ও মনীন্দ্র লোধ দের ইন্ডিয়া তে পাঠিয়ে দিতে ।বড় ছেলে যতীন্দ্র ওকালতি পাশ করে সাবরুম কোর্টে প্র্যাকটিস করেছিলো ।
রবীন্দ্র ও মনীন্দ্র সাধারণ জিনিস পত্র সম্বল করে চলে আসে ইন্ডিয়া তে । বিলোনিয়া মহকুমার অন্তর্গত ঋষ্যমুখ গ্রামে , যেখানে নিশিকান্ত কে ত্রিপুরার রাজা জমিদান  করেছিলেন । সেখানেই শুরু করেন বসবাস ।সহায় সম্বল হীন খায় ক্লেশ এর জীবন ।
মুক্তিযুদ্ধের সময় দলে দলে শরণার্থী আসে ঋষ্যমুখ ক্যমপে । আত্মীয় স্বজন রাত আসে প্রান বাঁচাতে ।গোদের ওপর বিষফোঁড়া র মতো হয় জীবন যাপন ।
মনীন্দ্র লোধ নিশি কানতের ছোট ছেলে । মনীন্দ্র লোধ এর তিন ছেলে পাঁচ মেয়ে । মাধুরী লোধ মনীন্দ্র লোধ এর ষষ্ঠ সন্তান ।
মা রেনুকনা লোধ হাসিমুখে করতেন স্্সার এর সমস্ত কাজ । মনীন্দ্র লোধ বাংলা দেশ থেকে আসার সময় সাথে এনেছিলেন ঊষা কোম্পানির শেলাই মেশিন ।দোকান দেন ঋষ্যমুখ বাজারে । চাষবাস আর শেলাই এর রোজগার দিয়ে চলতো বৃহৎ পরিবার । টানাটানির স্্সার কেন না সব ছেলে মেয়ে তখন ইস্কুলে পড়তো  । দশজনের পরিবারে একমাত্র রোজগার করতেন মনীন্দ্র লোধ ।

প্রশ্ন :২

পারিবারিক কোন চাপিয়ে দেওয়া ছিলো না নিজস্ব নির্বাচন এই শিল্পকে আপন করে নেওয়ার সময় ছিলো?

মাধুরী:২
আমার মা তৎকালীন সময়ের ফাইভ পাশ । মায়ের বাবা মিনি জমিদার ছিলেন । ঠাকুরদা বাড়িতে ও শিল্প স্্সকৃতি চর্চা ছিলো । আমাদের পুকুর পাড়ে বসতো গড়িয়া মেলা ।এক জেঠু ছিলেন উকিল অন্য জেঠু শিক্ষক ।
তৎকালীন সময়ে আমরা ইস্কুলে যেতাম ।মা নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন । বাবা যাত্রা গান নাটকে কমিক করতেন ।
দিদি শিউলি লোধ প্রথম ছাত্রী যিনি জি এস হয়ে ছিলেন । দিদি লাইব্রেরী কার্ড দিয়ে ব ই আনতেন মা আমি পড়তাম ।সে সময় কারেন্ট ছিলো না ,কুপীর আলো বা দিনের আলোয় পড়তাম ।
মা বলতেন যারা ব ই লেখেন তাঁরা ও আমাদের মতো মানুষ ।মা নিজে ও নক্সী কাঁথায় বিভিন্ন পদ্য লিখতেন ।আর বলতেন চেষ্টা গুনে দুঃখ খনডে । চেষ্টা করলে তু ই ও লিখতে পারবি ।
আমি মা দিদি বা আশপাশের পরিবেশ পরিস্থিতি থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছি ।
কাউকে জোর করে বিয়ে দেওয়া যায় লেখক বানানো যায় না

প্রশ্ন :৩
আপনার কলেজ জীবনের গল্প বলুন?তখনকার বিশেষ স্মৃতি?

মাধুরী :৩
আমি বিলোনিয়া কলেজে ভর্তি হ ই ইতিহাস অনার্স নিয়ে । পারিবারিক অর্থনৈতিক দুর্বলতা ছিলো ।তার ছাড়া মা ছিলেন অসুস্থ । পঁচাশি তে মা মারা যান । দুটো মাত্র শিফন শাড়ি পড়ে কলেজ করতাম । ভাড়া থাকতাম বিলোনিয়া শহরে ।
একঝাঁক শহুরে মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব হয় ।হ্যপী, নন্দিতা তন্দ্রা , মল্লিকা , অন্নপূর্ণা । ওদের সাহায্য সহযোগিতা র কাছে আমি ঋণী । আমার প্রাইভেট পড়ার ক্ষমতা ছিলো না ।মনজু,উষাদি প্রফেসর রবীন্দ্র দত্তের ভাইঝি ও আমাদের ঋষ্যমুখ এর ছাত্র মন্টু দার কাছ থেকে থেকে নোট নিয়ে পড়তাম । কলেজের স্যার আমাকে স্নেহ করতেন । প্রত্যুষ দেব বা্্লা পড়াতেন ।সত্য বাবু, প্রমথেশ বাবু , দূর্গা বাবুর নোট লিখতাম ।আর লাইব্রেরী তে বসে নোট নিতাম । এভাবে ইতিহাস এ অনার্স পাশ করি । দেওয়ান পত্রিকায় লিখেছি ।
ত্রিপুরার কুটির শিল্প ও পরিবেশ দূষণ নিয়ে কলেজ ভিত্তিক প্রতিযোগিতায় আমি সারা ত্রিপুরা য় দ্বিতীয় হ ই ।সূদুর রেডিও বেইজিং এ কবিতা প্রতিযোগিতা কবিতা পাঠাই ।তার পুরস্কার আসে একটা উত্তরীয় ও সোনার জলে লেখা সার্টিফিকেট ।
কলেজ  থাকা কালীন প্রক্সি দিতে গিয়ে ধরা পড়ি ফিলসফি প্রফেসর এর কাছে । বন্ধু হ্যপী বাড়ি চলে যায় আমাকে ওর প্রক্সি দিতে বলে । আমি জানতাম না যাবার পথে ঊষা রঞ্জন সরকার এর সাথে ওর দেখা হয়ে ছিলো । ক্লাসে রোল কলের ধরা পড়ি । কেলেঙ্কারির একশেষ । শেষে হ্যপীর সাথে স্যার এর বাড়ি যাই । হরতাল স্নেহের শাসন করেন ।
আমার বেচ এ পড়ুয়া অনেক ছাত্র ছাত্রী বন্ধু ব্যকতি জীবনে সু প্রতিষ্ঠিত । প্রেম ক্লাবের সম্পাদক প্রনব সরকার,হ্যপী বা আমি আমরা হাজার ঘাত প্রতিঘাত সামলে সু প্রতিষ্ঠিত হয়েছি । এজন্য আমি বিলোনিয়া কলেজ, সহপাঠী বন্ধু বান্ধবী ও প্রফেসর দের কাছে চিরকৃতজ্ঞ ।ঐ সময়ে প্রফেসর রবীন্দ্র দত্তের সাথে আমি নাটকে অ্্শ নিয়েছিলাম ও সাহিত্য সংস্কৃতি বিষয়ক তে কোন অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করতাম ।
অর্থনৈতিক দুর্বলতা থাকলেও ভালো বন্ধু বান্ধবী দের সাহচর্যে আমার দিন গুলো ভালো কেটে ছিলো ।

 প্রশ্ন :৪
এ অঞ্চলের সাহিত্যে ভিন্ন সুর আমরা অনুভব করছি।বৃহৎ বাংলার বাংলা সাহিত্যের সাথে সুর মিললেও তার আছে নিজস্ব স্বর।আপনি কেমন দেখেন?

মাধুরী :৪
 সমগ্র দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার অধিবাসী দের কথ্যভাষা নোয়াখালী । আদিবাসী দের ভাষা ককবরক বা কথ্য আদিবাসী ভাষা ।মগ  ত্রিপুরীদের নিজস্ব ভাষা । বাঙ্গালী সম্প্রদায়ের মধ্যে ও ভাষার ভিন্নতা রয়েছে ।যেমন চিটাগাং, নোয়াখালী , ব্রাহ্মণবাড়িয়া র ভাষার সাথে চলিত ভাষার মিশন হয়ে কথা বলার সময় শ্রুতি মধুর ও শ্রুতি কটু শোনা যায় ।
ঐ ভাষাতেই লেখালেখি হচ্ছে কবিতা গল্প প্রবন্ধ নিবন্ধ নাটক বা উপন্যাস ও ।
 বিলোনিয়া রেডিও স্টেশন থেকে আঞ্চলিক ভাষায় এখন অনুষ্ঠান প্রচার হয়।নাটক প্রচার হয়।
বেশ কয়েকজন লেখক আছেন দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় যারা নোয়াখালী ভাষায় লিখছেন গল্প কবিতা উপন্যাস । সমালোচনা করছেন, নাটক এর মাধ্যমে মায়ের ভাষাকে প্রচার করছেন । এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয় । আমার লেখালেখির জীবনে মত গল্প লিখেছি সব গল্পের কথোপকথন ছিলো আঞ্চলিক ভাষায় । আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন ভূপেন দত্ত ভৌমিক ও কবি অনিল সরকার এর মতো ব্যকতি ত্বরা ।যেমন রাখাল মজুমদার এর হুনা কথায় দুনা দোষ,সাবরুম এর কবি ননী গোপাল চক্রবর্তী র লেখা কবিতা স্্কলন স্বাধীনতা কবিতা, তুষার কনা মজুমদার এর লেখা আপ্তবাক্য, রবীন্দ্র 
দত্তের অনেক ব ই এ আছে নোয়াখালী ভাষায় ডায়লগ,গবেষক রনজিত রায় ও অশোকাননদ রায বর্ধন এর লেখায় পাই আঞ্চলিক ভাষায় বিন্যাস বি নির্মাণ । আমার দুটো ব ই মুহুরী চরের মানদা ও বেবিধীর বিয়া ব ই এ আছে সম্পূর্ণ নোয়াখালী ভাষার ব্যবহার ।পাঠক বন্ধু রা সাদরে গ্রহণ করেছেন আমাদের লেখনী ।
কথ্য ভাষায় সাহিত্য চর্চা কে আমি সাধুবাদ জানাই । সমাদৃত হোক সারা বিশ্বে ।


প্রশ্ন :৫
একটি গ্রন্থ নির্মানে বইয়ের বিষয়ের সাথে প্রচ্ছদ কতটুকু একে অন্যের পরিপূরক?

মাধুরী :৫
 গ্রন্থ ও প্রচ্ছদ তো অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ।তবে  যদি বোদ্ধা পাঠক হন অবশ্যই চাইবেন ব ই এর ভিতরের মালমশলা , বিষয় বস্তু । তারা গবেষণায় কাজ করেন তাঁরা প্রচ্ছদ নিয়ে ভাবেন না । রাজহাঁসের মতো জল থেকে দুধ টুকু টেনে খান ।
বর্তমানে চাকচিক্যময় জীবন যাত্রার জন্য অনেক পাঠক আছেন ব ই এর মলাটের ছবি নিয়ে আকৃষ্ট হন, ভিতরে মাল মশলা যা থাকুক না কেন ।
সুখের বিষয় এটুকু তে প্রচ্ছদ তৈরি হয় চিত্র শিল্পী দের দ্বারা । প্রচ্ছদ তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন অনেকেই ।কদর হয় চিত্র শিল্পীর । এখন ভালো প্রচ্ছদ তৈরি করার জন্য চিত্র শিল্পী দের পুরস্কার দেওয়া হয় । বিষয়টি অত্যন্ত যুকতি যুকত । রুটি রুজির জন্য তে কোন অঙ্কন শিল্প সমাদৃত হলে মানুষ এর মঙ্গল হবে ।

প্রশ্ন :৬
কোন পথে আমাদের সময়।কোন পরামর্শ কিংবা আমাদেরকে পথ বাৎলে দেবেন?

মাধুরী:৬
সময় খারাপ বা ভালো এ আলোচনা করবোনা ।বলবো যসমিন দেশে যদাচার ।
এখন ইলেকট্রনিক মিডিয়ার যুগ । বর্তমান প্রজন্ম আছেন ঘোড়দৌড়ে বিশেষ করে করোনা মহামারী আকালে লক্ষ লক্ষ মানুষ কর্ম চ্যুত হয়েছেন। জিনিস পত্রের লাগাম ছাড়া দাম ।সারা বিশ্বে  রুটি রুজির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক তৈরি হয়েছে । এমন আবহের শিকার ব ই প্রকাশনা শিল্প ।ব ই তৈরি হলে ও খরচ উঠছে না । পাঠক রাত আগ্রহী কিন্তু পকেটে মা ভবানী হলে লেখক হবার নেশা ছুটে যাবে ।
 সব মানুষের নিজস্ব পছন্দ ও নেশা থাকে । লেখালেখি তে কাউকে চাপিয়ে দেওয়া যায় না ।এ নেশা কে পুঁজি করে কেউ বড় হতে চাইলে ব্যকতি জীবনে খুব সুনাম অর্জন করতে পারে কিন্তু সুনাম দিয়ে স্্সার চলে না । আমাদের ত্রিপুরার লেখক কবি গন লেখালেখি কে পেশা হিসেবে নিতে পারে না ।এই দুঃখ জনক বিষয়টি মেনে যারা সাহিত্য সংস্কৃতি কে আঁকড়ে থাকতে পারেন তারাই হন সাহিত্য আকাশে উজ্জ্বল তারা নক্ষত্র ।
বর্তমান প্রজন্মের প্রতি আমার আবেদন অনেক বাজে নেশা থেকে মুক্ত হয়ে সাহিত্য চর্চার নেশায় নিজেকে জড়িয়ে দিন । সুস্থ ও সুষ্ঠ সমাজ গঠনে সামিল হোন , সমাজ থেকে দুরে যাবে অপস্্কৃতির মতো কালো দিন ।ভাবী প্রজন্ম পাবে রুচি শীল শিক্ষা ও রুচি সম্মত ব ই পত্র । বিকাশ ঘটবে প্রকাশনা শিল্পের ।

প্রশ্ন :৭
প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি বিষয়ে কোন আক্ষেপ আছে?


মাধুরী:৭
1988সালে অভিজিৎ চৌধুরীর ভোর ম্যাগাজিন এ প্রথম ছাপা অক্ষরে প্রকাশিত হয়েছিলো আমার প্রথম ছাপা অক্ষরে কবিতা ।তার পর মনে হয় একদিন ও লেখা বন্ধ করিনি । এমন কোনো বছর বাদ যায় নি আমার লেখা ছাপা হয়নি ।2021 ছাপা হয়েছে কয়েকটি ব ই । পাঠক বন্ধু দের ভালবাসা আমার পরম প্রাপ্তি । ত্রিপুরার সাহিত্য আকাশে মাধুরী লোধ স্ব নামে পরিচিত , ছোট বড় সবাই একবাক্যে চেনেন কবি গল্পকার নাট্যকার ঔপন্যাসিক হিসেবে ।এই উজ্বল উপস্থিতি আমি তো অন্য কাজে পেতাম না ।
অপ্রাপ্তি নিয়ে বিশেষ বলবো না । পুরস্কার যশ খ্যতি অনেক অর্জন করেছি ।যদি আরো আরো পুরস্কার এর পালক নিয়ে মা সরস্বতী পাশ দাঁড়ান অবশ্যই মাথা পেতে নেবো । আমার পিতৃপুরুষ মাতৃপুরুষ দের প্রতি , আমার দাদা দিদি ভাই বোন স্বামী সন্তান দের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা র ইলো । তাঁরা প্রতিনিয়ত আমাকে সঙ্গ দিচ্ছেন সৃষ্টি ও সৃজনশীলতা র কাজে ।
আমি যখন প্রথম লেখালেখি শুরু করি বা ছাপা হয় এ প্রজন্মের কবি সাহিত্যিক রাত অনেকেই জন্মান নি ।তাই যারা এখন নেতৃত্ব দেন সাহিত্য সংস্কৃতি বিষয়ে তাঁদের বলবো সিনিয়র দের  সম্মান করুন , প্রয়োজনীয় সাহায্য নিন । আমরা ও  করেছি বলে রমা প্রসাদ দত্ত ব অপরাজিতা রায় করবী দেববর্মণ রাত নমস্য হয়ে চিরজীবি হয়ে আছেন সাহিত্য আকাশে ।
আমি এখনো লিখছি ,আরো লিখবো ।তাই প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি নিয়ে কথা বলার সময় আসেনি।

প্রশ্ন :৮
কি রেখে যেতে চান?যা ১০০ বছর পর চর্চা হবে?

মাধুরী:৮
আমি কবিতা লিখি, গল্প উপন্যাস নাটক লিখি বা্্লা ভাষা য়। আঞ্চলিক কথ্য ভাষায় মা আমার মৃত্যুর পর ও পাঠক বন্ধু রা জানতে পারবেন বর্তমান সময়ের সাহিত্য চর্চা ও ভাষা চর্চার কথা । মানুষ জানতে পারবেন বর্তমান সময়ের পরিবেশ পরিস্থিতি র কথা । রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর ,কাজী নজরুল ইসলাম, সুকান্ত ভট্টাচার্য আছেন আমাদের মননে চিন্তা চেতনায় ।
আমার বই গুলো পাঠক সাদরে গ্রহণ করেছেন । বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা লেখা নিয়ে গবেষণা করছেন ডকটরেট হচ্ছেন । তাঁরা কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদানের সুযোগ পাচ্ছেন । তাদের কর্মজীবন উজ্বল হচ্ছে । পাঠক বন্ধু গবেষক বন্ধু ও শিক্ষার্থীরা আমার লেখা র উপর গবেষনা করে আমাকে লেখার জগতে টিকিয়ে রাখছেন । আমি উৎসাহিত আনন্দিত, গর্বিত । আমি চাই স্কুল কলেজ স্তরে পাঠ্য হোক বা ই গুলো ।যুগের পর যুগ বেঁচে থাকবো শিক্ষার্থীদের  আলোচনায় ।

প্রশ্ন :৯
নিরন্তর সাধনারও আপনার দীর্ঘ জার্নি।এত প্রাণ কি করে পান?

মাধুরী :৯
লেখা লেখি কে আমি অন্য কাজের মতোই দেখি ।তাই বিশেষ অসুবিধা হয় না । ভাবনা চিন্তা র জন্য স্থান কাল পাত্র লাগে না । লেখা লেখি র বিষয়টি ও ভুতে পাবার মতো নেশা খালি লেখা । কবিতা গল্প নাটক উপন্যাস বা মা খুশি ।ঐ সব লেখা কখনো বাধাছক এ হয় না ।
লিখে আনন্দ পাই তাই বয়স বাধা হয় না । আমি সরকারি চাকরি করি ।ষাট বছর বয়সে রিটায়ার করবো ।যতদিন পদে আছি আমাকে কাজ করতেই হবে ।পদে থাকতে গেলে বয়সের ভার বা অজুহাত তো খাটবে না । লেখালেখি র ক্ষেত্রে ও তাই ।বয়স বা শরীর খারাপ এসব অজুহাত তুচ্ছ । আমি দিনকাল সময় মেনে জীবনকে চালাতে ভালবাসি ।এটা সামলাই সমস্ত কাজ । ঘর গৃহস্থালি, পেশা গত কাজ বা লেখালেখি । আশির্বাদ করুন বাকী দিন গুলো যেনো এভাবে সর্বত্রই থাকে আমার উজ্বল উপস্থিতি ।হা হা হা।

প্রশ্ন :১০
আপনার প্রকাশিত উপন্যাস পড়ে তরুণেরা কিরকম স্বপ্ন দেখবে?
তরুণদের জন্য কিছু বলবেন?

মাধুরী :১০
এর মধ্যেই আমার চারটি উপন্যাস বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে । মুহুরী চরের মানদা, হৃদয় কালির আঁক, শান্ত বালা হাসে, স্রোতস্বিনী নদী । বাকী ছটা উপন্যাস ম্যাগজিন ও পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও তেমন প্রচার পায়নি ।
মুহুরী চরের মানদা ও শান্ত বালা হাসে ব ই গুলো নিয়ে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা গবেষণা করছেন ,ডকটরেট ও করেছেন । এজন্য আমি আপ্লুত ।আলোচক সমালোচক দের হাতে পৌঁছে গেছে ব ই গুলো , বিস্তর লেখালেখি হচ্ছে এ বিষয়ে মা একজন লেখককে শতবর্ষে এগিয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট ।আরো লিখছি আরো ব ই আকারে প্রকাশিত হবে আশা রাখছি । উপন্যাস পাঠক বন্ধু রা আমাকে আপন করে নিয়েছেন একজন লেখকের কাছে তার পরম প্রাপ্তি ।
একটা দুটো পুরস্কার, বা সম্বর্ধনা পেলাম কি পেলাম না ওতে কিছু রায় আসে না । তবে পুরস্কার প্রাপ্তির আলাদা জৌলুস থাকে । একটা পুরস্কার বা সম্বর্ধনা সৃষ্টির নেশা কে উজ্জীবিত করে ।
আমার উপন্যাস গুলো ভিন্ন ভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে লেখা । বিশ্ব বিদ্যালয়ের পাঠক বা গবেষকরা মূলতঃ তরুণ প্রজন্মের । তাঁদের উদ্দেশ্য একটাই কথা বলবো যে বিষয়টি বা ব ই টি পড়বেন তার নিয়ে অবশ্যই পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে বিচার বিশ্লেষণ করবেন । যাকে নিয়ে কাজ করুন না কেন সব তথ্য জোগাড় করে আপনার নোটস তিরী করবেন অবশ্যই ভালো সাফল্য পাবেন । কবিতা গল্প নাটক উপন্যাস এ থাকে লেখকের প্রান ভ্রমরা আপনাদের মাধ্যমেই জীবন্ত থাকবেন লেখক কুল।

প্রশ্ন :১১
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে রবীন্দ্রনাথ কতটুকু প্রাসঙ্গিক?

মাধুরী :১১
আমি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর এর আদর্শে নিজের জীবন কে চালাবার চেষ্টা করি । আমার শোবার ঘর ঠাকুর ঘর রান্না ঘর এমন কি বারান্দা উঠোন সর্বত্রই রবীন্দ্রনাথ এর ছোঁয়া । রবীন্দ্রনাথ শ্রেষ্ঠ বাঙালি লেখক , আমি তার অনুসারী ।

প্রশ্ন :১২
দেশভাগের যন্ত্রণা একজন কবিকে পীড়িত করে।আপনার পরিবার কি এমন কোন পরিস্থিতির শিকার?

মাধুরী:১২
হ্যাঁ। একশো শতাংশ ।
আমার পিতৃপুরুষ এর আদি নিবাস বাংলাদেশ এর নোয়াখালী জেলায় । ভাষা আন্দোলনের ও মুক্তি যুদ্ধের প্রাক কালে আমার বাবা জেঠা আত্মসম্মান বাঁচাতে শুধু ছেলে মেয়ে র হাত ধরে  জমি জমা সব ফেলে চলে এসেছিলেন রাজাকার দের হাত থেকে বাঁচতে ।এ দেশে এসে হয়ে যান গরীব চাষী । অর্থনৈতিক কষ্ট দীর্ঘ বছর আমাদের ক্লেশ এর কারন ছিলো । আমার কৈশোর যৌবন কেটেছে দুঃখ কষ্টে ।সে সব মনে এলে বড় কষ্ট পাই ।দেশ ভাগ বা রে কোন ধরনের দাঙ্গা হাঙ্গামা সমাজে বিশৃংখলা সৃষ্টি হয় , মানুষ উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে যায় ।

প্রশ্ন :১৩
কী লিখি কেন লিখি?

মাধুরী:১৩
লিখি লিখছি লিখে যাবো। লেখার জগতে প্রবেশ করি মেয়েবেলায় ।কি লিখে ছিলাম মনে নেই ।সে সময় ইস্কুলের ব ই পত্র ঠিকমতো কিনে দিতে পারতেন না ।লেখা গুলো একটা ডায়েরী বা খেরো খাতা  থাকলে লেখালেখির ইতিহাস অন্য কথা বলতো ।

শিক্ষক গোপালমণি দাস ও শিক্ষক কবি দেবাশীষ চক্রবর্তী আমাকে লিখতে উৎসাহ দিতেন । শিক্ষক প্রেম রঞ্জন স্যার ও গনেশ মিত্র স্যার এর কাছে আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা । সমাজ সেবী পরেশ চক্রবর্তী আমাকে লিখতে উৎসাহ দিতেন । প্রফেসর রবীন্দ্র দত্ত , শিক্ষক রবীন্দ্র মজুমদার ,রাখাল চক্রবর্তী,ভূপাল চক্রবর্তী, প্রবীর চক্রবর্তী ,শিবু রঞ্জন পাটারী উৎসাহিত করতেন ।
প্রাইভেট পড়ার ক্ষমতা ছিলো না ।বিনে পয়সায় অ্্ক করাতেন শিক্ষক পরিমল সরকার ও ইংরেজী পড়াতেন বিষ্ণু চক্রবর্তী মহাশয় লেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছি বড়দি শিউলি লোধ ও মা রেনুকনা লোধ এর কাছ থেকে । দিদির লাইব্রেরী কার্ড ছিলো । মায়ের জন্য উপন্যাস ও গল্পের বই আনতেন ।শরৎ রচনাবলী, রবীন্দ্র রচনাবলী , শঙ্কর এর ব ই বা অন্য ব ই । নৌকা ডুবি পড়তে পড়তে কতোদিন লুকিয়ে কেঁদেছি মনে নেই য়।বা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর গৃহদাহ, সনন্যসী নী, বিপ্রদাশ দেবদাস । আমার ক্লাস সিক্স থেকে বান্ধবী পিন্টু ভট্টাচার্য আর আমি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ব ই পড়তাম । লাইব্রেরী কার্ড হবার পরে দুজনের মধ্যে কে কতো ব ই শেষ করতে পারি প্রতিযোগিতা । আমাদের বাড়িতে সে সময় কারেন্ট ছিলো না । দুটো হ্যারিক্যন ছিলো ।একটা জ্বলতো মাটির ওয়াল ঘরে ।বেয়ার ঘরে আমি কুপীর আলো তে পড়তাম নিশিরাত অবধি । বাবা শাসন করতেন ।মা বলতেন চোখ নষ্ট হবে । তারপরও পড়ার নেশা কোন বাধা বাধা হয়নি ।
পিন্টু আমাকে ডাকতো ডালি বলে ,আমি ওকে ডাকতাম ফুলি ।সে সখ্যতা পড়ন্ত বেলায় ও অটুট । আমাদের উপর নানাহ ঝড় ঝাপটা গেছে আমরা এখনোও রয়ে গেছি প্রানের বন্ধু ।
ঐ সময় যতো ঘটনা দেখেছিলাম আমি কিছু কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে লিখে দিয়েছি আমার লেখালেখি তে। কবিতা গল্প উপন্যাস বা অন কোন লেখায় ।
মা বসবার পিড়িতে কাঠ কয়লা দিয়ে লেখা শিখিয়েছেন ।সে পিড়ি দিনে কয়েকবার ধুতেন , কখনো বিরক্ত হননি ।আর বলতেন যারা পড়তে ভালবাসে তাঁরা লিখতে ও পারে । লেখালেখি কোন কঠিন কাজ নয় । আমার মা নক্সী কাঁথা বুনতেন, রুমাল, বালিশের ওষার বা টেবিল ঢাকনীতে চমৎকার সুচ সুতোয় ফুল তুলতেন । ফুলের সাথে থাকতো পাখি , গাছপালা, শঙ্খ, রাধাকৃষ্ণ,শিব দূর্গা বা দেব দেবীর ফটো । সাথে থাকতো চুটকি বা ছড়া। একজন পাঠক বা লেখক কে অনুপ্রেরণা দেবার জন্য যথেষ্ট ।
সে সময় লেখক হবার মতো দুঃসাহস আমি দেখাতে পেরেছি তা আমার সুভাগ্য ও মা সরস্বতী র সহায়তার জন্য ।যে কোন কাজ বা টিউশনি আমি করতাম পড়ার খরচ খাতা কলম জোগাড় এর জন্য । মাঠের কাজ ,কানি ছড়া তোকানো,ঘুঁটে গোবর তোকানো এতে হতো বাড়তি আয় । শ্রমজীবী ও নিম্নবিত্ত পরিবারের আয়ের বাধা কোন উৎস থাকে না ।খড়কুটো ধরে বাঁচতে হয় । আমাদের ও সে দশা ছিলো । তবুও পড়া বা লেখা চালিয়ে গেছি ।মা বাবা না জানলে ও পরে জেনেছিলেন । বাবার আপত্তি ছিলো এতে ইনকাম হয় না ।মা সাপোর্ট করেছিলেন , কিন্তু মায়ের মৃত্যুর পর ছন্ন ছাড়া দশায় ও আমি লেখা লেখি নামক কাজ চালিয়ে গেছি ।
এই মাত্র লিখলাম । লেখালেখি আমার শখ ও নেশা ।ইনকাম যা হোক না কেন পরিচিতি বাড়ে ।
সমাজে দশের দেশের ভালো মানুষ হয়ে বাস করার আনন্দ পাওয়া যায় ।
আমার নয়টি ব ই হয়েছে । দুটো কবিতা স্্কলন, তিনটি উপন্যাস,চারটি গল্প সংকলন । লেখিকা তকমা পেয়ে আমি মনে প্রাণে খুব খুশি । আমার দাদা দিদি ভাই বোন রা আমাকে নিয়ে গর্ব করে । ছেলে খুশি মহাখুশি ।


প্রশ্ন:১৪
আপনার কবিতাসংকলনগুলোর নাম নির্মানের গোপন জীয়নকাটি
 কিরকম?

মাধুরী:১৪
আমার দুটো কবিতা সংকলন  বের হয়েছে 2021এ ব ই মেলায়।
রেনুকণা ,শুভুরানী । রেনুকনা আমার মায়ের নাম ,শুভুরানী আমার মাসীর নাম ।মা মাসী আমার জীবনে দেবী র স্থান পেয়েছেন । তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা র জন্য আমি আমার কবিতা সংকলন এর নাম দিয়েছি । ভবিষ্যতে যদি আরো ব ই বের হয় আমার আমি আমার দিদি দের বোন দের ভাই দের নামে নামকরণ করবো কেননা তাদের জন্য আমার সুপ্রতিষ্ঠিত জীবন । তাদের অবদান স্বীকার করবো ব ই এর নামকরণ এর মাধ্যমে । গোপনীয়তা বলে কিছু নেই আছে সৌজন্য বোধ ও আপন মানুষ দের আপন করে সমাজে পরিচিতি দান ।

প্রশ্ন :১৫
শিল্পীর ইচ্ছা অনিচ্ছায় একটি শিল্প রূপ পায়? নাকি আরো কোনো অতিভৌতিক কোন বিষয় প্রতিটি ছবির ঘরনা তৈরী করে?

মাধুরী:১৫
শিল্পীর ইচ্ছা অনিচ্ছা শিল্প তৈরি তে সহায়ক । আমি সম্পূর্ণ সহমত ।কবি শিল্পী বা লেখক শিল্পী  কোন বিষয়ে কাজ করবেন আগে তা সিদ্ধান্ত নেবেন । সাহিত্য করার বিভিন্ন পথ পরিক্রমার পর  উঠতে পারেন খ্যাতির শিখরে ।যে কোন শিল্পের ক্ষেত্রে তা   মানতে হয় ।  এখনে অতিভৌতিক বিষয়টি আপেক্ষিক । আমার মনে হয় যে কোন শিল্পী তে মত বেশি কাজ করতে পারবেন যে মত সময় দিতে পারবে তার ছবি বা সৃষ্টি সাফল্য পাবে ।
বর্তমানে অনেক লেখক সমগ্র সাহিত্য নিয়ে বিশাল আকারের  ব ই করছেন । সময়ে বলবে ঘরানার সফলতা । আমি ও ভেবেছি মাধুরী লোধ সাহিত্য বিষয়ে । বিষয়টি সময় সাপেক্ষ। কোন শিল্পী যতো বেশি কাজ করতে পারবেন যে যতো বেশি সময় দিতে পারবেন তার ছবি বা সৃষ্টি সাফল্য পাবে ।

প্রশ্ন :১৬
আপনার সাথে তেমন আড্ডা আমার নেই। আপনি আড্ডারু সে আমি জানি।আড্ডা কি শিল্প সৃষ্টির উৎস মনে করেন?

মাধুরী:১৬
আমি প্রচন্ড আডডাবাজ । তবে সময়ের অভাবে আডডা দিতে পারিনা । এখন কিছু টা সময় পেলে ফেসবুক এ আব্বা জমাই ।
অত্যন্ত ব্যস্ত তম জীবন যাপন করতে হয় আমাকে,ঘড়ি ধরে ,রুটিন মেনে ,সময় থেকে সময় চুরি করে ।
লেখালেখি র জন্য নির্দিষ্ট সময় দিতে পারি না ।
আমি বিলোনিয়া সাহিত্য পরিষদের সদস্য এই 2011সালে । স্থানীয় কয়েকজন সাহিত্যিক মিলে প্রতিমাসে দ্বিতীয় রবিবার আমাদের আডডা বসে  পাবলিক লাইব্রেরী তে । কবিতা পাঠ গল্প পাঠ হয় ,হয় আলোচনা সমালোচনা ।
বিগত কয়েক বছরে এ আডডার কারনে আমার সৃষ্টি হয়েছে অস্্খ্য কবিতা গল্প । নিজেকে সাহিত্য আকাশে অবাধ বিচরণ এর জন্য যোগ্য তৈরি করতে পেরেছি বলে আমার মনে হয় ।
তে কোন সৃজনশীল মানুষ এর শিল্প সাহিত্য আডডায় যোগদান করা প্রয়োজন বলে মনে করি ।দেশ দশের হালচাল ও সম সাময়িক সাহিত্য বিষয়ক অগ্রগতি ও সব আডডা ছাড়া শুধু ব ই বা পত্রিকা পড়ে জানা যায় না । তবে ফেসবুক এর দৌলতে অনেক চালু বিষয় তৎক্ষণাৎ পাওয়া সম্ভব তবুও মনে করি আডডা দেওয়া প্রয়োজন । একাত্বতা তৈরি হয়।


প্রশ্ন :১৭
কবিতা তো একটি স্বতন্ত্রশিল্প ছবিও স্বতন্ত্র। একটি রেখা একটি বিন্দু কিংবা তুলির কতটুকু স্বাধীনতা এই সমাজ এই সংবিধান আমাদেরকে দিয়েছে?যদিও বাকস্বাধীনতা যেখানে এসে থমকে যায় শিল্প কি তেমন কোন আটকে পড়ার সম্ভাবনায় দমে যায়?

মাধুরী :১৭
কঠিন প্রশ্ন ।সহজ উত্তর সম্ভব নয় । তবে আমি মনে করি একজন চিত্র শিল্পী রঙ তুলি দিয়ে অনায়াসে চিত্র আঁকতে পারেন কিন্তু একজন কবি হুট করে একটা কবিতা সৃষ্টি করতে পারেন না ।তাই হয়তো বলা হয় লাখো জন মানুষের মধ্যে তৈরি হন একজন কবি সাহিত্যিক ।
বাকী স্বাধীনতা র বিষয়ে আমি বলবো যে কোন প্রশাসক নিন্দে মন্দ সহ্য করতে পারেন না । রবীন্দ্র নাথের গোরা উপন্যাস বা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর পথের দাবী উপন্যাস প্রকাশিত হবার পর লেখক এর কন্ঠ রোধ করার চেষ্টা হয়েছিল ।নীল দর্পণ ব্যনড করা হয়েছিল কিন্তু আন্দোলন বা কন্ঠরোধ করে দমিয়ে রাখা যায় নি ।
আমি শেষ টা শুধু বলবো শেষ কথা বলে জনতা । জনতা একত্রিত হলো স্বৈরাচার বেশি দিন টিকতে পারবে না ।
প্রশ্ন  :১৮ 
আপনার পারিবারিক পরিবেশ শিল্প ও শিল্পীর।এই সম্মেলন কেমন লাগে?

মাধুরী:১৮
আমার বাপের বাড়ির মা বাবা ভাই বোন কেউই লেখালেখি র সাথে যুক্ত নন আমি ছাড়া । স্বামীর বাড়িতে ও তথৈবচ । স্বামী শিক্ষকতা করেন তবে সাহিত্য চর্চার সাথে যুক্ত নন , একমাত্র ছেলে ইংলিশ মিডিয়াম এর ছাত্র ।বাংলা ওর কাছে কঠিন বিষয় । তবে আমি লেখালেখি করি ওরা গর্বিত । আমার যশ খ্যতি নিয়ে ওরা  আনন্দিত । লেখালেখি র জন্য আমার সর্বত্রই মরয্যাদা ও বিশেষ ছাড় । পারিবারিক সুনাম ও শ্রীবৃদ্ধি কামনা করে ।
আমার আক্ষেপ আমার বাড়িতে আমার সাহিত্য সৃজনশীল কাজ কে এগিয়ে নেবার মতো কোনো উত্তরাধিকারী নেই । আমাকেই জীবদ্দশায় সব গুছিয়ে রেখে যেতে হবে ।

প্রশ্ন  :১৯
আপনার নিজস্ব ঘরনায় লৌকিক সংস্কৃতি কতটুকু আনতে পেরেছেন?আপনি কি সচেতনতার এই বিষয়টিকে এড়িয়ে গেছেন?

মাধুরী:১৯
আমার বাড়িতে পাল পার্বন পালিত হয় নিয়ম ও তিথি মেনে । যেহেতু আমি নোয়াখালী এলাকার কৃষ্টি সংস্কৃতি র সাথে পরিচিত আমার মা ঠাকুর মা'র কাছ থেকে শেখা বাস্তব জীবনে ও আমি আমার বাড়িতে পালন করি । আমি গ্রামে মানুষ , গ্রামীণ জীবনের সাথে আজন্ম লালিত পালিত সেসব কথা কাহিনী নিয়ে আমার লেখা গল্প উপন্যাস গুলো । গ্রামীণ ভাষার প্রয়োগ ও আছে বিষয় অনুসারে । লোক স্্সকৃতির পরম্পরা এড়িয়ে যাবার প্রশ্ন আসে না । মুহুরী নদীকে কেন্দ্র করে লেখা আমার উপন্যাস মুহুরী চরের মানদা ও শান্ত বালা হাসে । দুটো উপন্যাস এ আছে লৌকিক সংস্কৃতি বা গ্রামীণ সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক গুলো । আমার নোয়াখালী ভাষায় লেখা গল্প স্্কলন বেবিনীর বিয়া গ্রামীণ কথা শিল্পের অনবদ্য দলিল । এমন দ্বিতীয় আর একটা ব ই হয়েছে কিনা আমার জানা নেই ।


প্রশ্ন  :২০
জীবন কেউ কেউ নেশা বলেন।কেউ কেউ উৎসব। কেউ কেউ একটি নাটক।আবার কারো কারো নিকট জীবনে কবিতাই জীবন।আপনি কোন নিজস্ব জীবনচেতনায় তাড়িত নিশ্চয়ই। ব্যাখ্যা চাই।

মাধুরী :২০
দেখুন , এমন প্রশ্ন আমায় কেউ আগে করেনি আপনি করেছেন তাই অস্্খ্য ধন্যবাদ ।
আমার মতে জীবনের আর এক নাম গতি । বিশ্বের প্রায় আশি শতাংশ লোক ছাপোষা জীবন যাপন করেন । খাই পড়ি জীবন জীবিকা র নির্দিষ্ট একটা গনডীতে চলাফেরা করেন । সৃষ্টি সৃজনশীলতা নিয়ে মাথা ঘামান না। এজন্য দায়ী হচ্ছে রুটি রুজির জন্য জীবন স্্গরাম ।যারা এসব কে টপকে বেরিয়ে আসতে পারেন তাঁরা হন কবি সাহিত্যিক , নাট্ কার চিত্রশিল্পী বা ছবি নির্মাতা ।তবে আমি আবার ও বলবো সব বিষয় কে চালনা করেন অর্থ নামক বিশাল শক্তি ।এ বিষয় টি তার যতো আয়ত্তে থাকে যে কোন বিষয়ে তিনি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন ।
আমি সরকারি চাকুরে ।স নির্ভর ।তাই অনেক বাধা টপকে সাহিত্য জগতে বিচরণ করতে পারছি । কিন্তু একজন কম আয়ের মানুষের পক্ষে তার মোটেই সম্ভব নয় গাটের টাকা খরচ করে শখ শৌখিনতা বা  সৃষ্টি সৃজনশীলতা কে টিকিয়ে রাখা । এখনো আমরা লেখকরা লেখাকে পেশা হিসেবে নিতে পারিনি ।রয়ালিটি দিয়ে স্্সার এর অর্থ নৈতিক চাহিদা সব লেখক মিটাতে পারেন না ।অন্য তে কোন পেশা গ্রহণ করতে হবে ই ।
লেখার জগতে আয়ের বাধাধরা অঙ্ক থাকে না ,তাই উৎসাহ হারিয়ে ফেলা স্বাভাবিক । আমার যদি মাসিক আয় না থাকতো দীর্ঘ বছর গাটের টাকা খরচ করে সাহিত্য চর্চা করতে পারতাম কিনা জানিনা না ।। পরিশেষে বলবো একটা মোবাইল পুষলে আপনি সময় কাটাবার মাধ্যম পেয়ে যাবেন কিন্তু বছর বছর ব ই কিনে তার গুছিয়ে রাখা বা সময় দেবার ইচ্ছে অনেক পাঠকের মন থেকে মুছে গেছে ।
দিন দিন পরিবর্তন হচ্ছে সমাজ সংস্কৃতি , আমার মতো লেখক দের নিয়ে ভবিষ্যতে কি হবে জানিনা ।

গোবিন্দ:
অসংখ্য ধন্যবাদ দিদি।

মাধুরী:
আপনার সুন্দর সুন্দর প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে ।

১৩:০৯:২০২১

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ