একগুচ্ছ অণুগল্প || মাধুরী লোধ

একগুচ্ছ অণুগল্প || মাধুরী লোধ 

বারোটি অণুগল্প অথবা বারো রকম মাধুরী লোধ। 

শৈলজা সুন্দরী

শৈলজা রেগা শ্রমিক । বাবার হাঁপানি মায়ের বাত রোগ ছিলো ।তার পরের দুই ভাই ‌। পাঁচ জনের স্্সারে ভরন পোষন দিতে হিমসিম খেতেন বাবা ।শৈলজা মাধ্যমিক পাশ করলে ও টাকার অভাবে আর পড়তে পারেনি । বিয়ের বয়স হলে ও পাত্র পক্ষের দেনা পাওনা মিটাতে পারছে না বলে ত্রিশ পায় হবার পর ও বিয়ের জল মাথায় পরে নি এখনো ।
সে কাজ নিয়ে থাকে । থাকতে বাধ্য । একমাত্র রোজ গার সে করে ।তাতে বাবার পরিবার খেয়ে পরে বাঁচে ।
ভাইরা বড়ো হতে ওরা কাজে যায়।জন মজুর নয়তো এটা সেটা । একদিন শৈলজা টের পায় দু ভাই নেশা করে বাড়ি আসে ।স্্সার খরচের বদলে মদ বিড়ি সিগারেট বা সিদ্দি ভাঙ নিয়ে উতলা হয়ে ।
আর একদিন টের পায় ভাইরা দুজনে দুটো মেয়ে কে বৌ করে নিয়ে আসে । কয়েক দিন পর ভাতের হাঁড়ি আলাদা হয় । তিন টা রান্না ঘর ।
একবাড়িতে তিনটা চুলা জ্বলে ।রেশন কার্ড নতুন হয় ।শৈলজার  নাম থাকে মা বাবার সাথে । তিনটি প্রান বাঁচাতে প্রতি দিন জীবন যুদ্ধ ।
শৈলজার চেহারায় কোন বিশেষত্ব নেই ।রুপ বা রূপ চর্চা নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় হয়না ।তার রুপের উপর ঘাঁটি গেড়েছে ময়লা রোদের তাপ ,ঢুলার কালি অনিদ্রা অনিয়ম কাঠিন্য । বিয়ে হয়নি রূপ দেখার কেউ তো নেই । এখন তার লক্ষ্য মা বাবার পাশে থাকা ।এ তো বিধাতা নির্ধারিত ললাটের লিখন ।
রেগা কর্মী সুরেশের ছেলের বৌ ভাত ।সুরেশ প্রতি বেশি ।যাবে না বললে শুনবে না ।আর কোন আপদ বিপদে সাহায্য পাবে না শৈলজা ।
বৌভাত এর দিন সাজগোজ করবে স্হির করলো সে ।
ট্রানক খুলে বের করলো মায়ের বিয়ের শাড়ি ।এবাড়ি ও বাড়ির বৌদি বা পাড়ার ভাই ঝি দের কাছ থেকে ইমিটেশন গহনা , পাউডার, স্নো লিপস্টিক কাজল আলতা  নখপালিশ । চুল বাঁধতে দিলো না কনিকা ,শৈলজা কে মেজে ঘষে বিয়ে বাড়ীতে যাবার যোগ্য করে দিলো পাড়ার কয়েকটি মেয়ে ।ওরা ধার দিলো ব্লাউজ , জুতা ভ্যনিটি ব্যগ  ।
শৈলজার সারা শরীরে খেলতে লাগলো রূপ লাবন্য ।
ত্রিশ পায় হ ও য়া মেয়েটি হয়ে গেলো টিন এজ বয়েসে ।
বিয়ের বিশেষ সাজ গোজ থাকে ।বর কনে ছাড়া ও বর যাত্রী কনে যাত্রী বা আড়া পাড়া পড়শী মেয়ে রা বৌ রা বা ছেলেরা কিশোর কিশোরী বা কচি কাচারা ।সাজে সাজায় ।হৈ চৈ আনন্দ অনুষ্ঠান উপভোগ করে । এমন কি ভাঙ্গা বাড়িকে ডেকোরেটররা বানিয়ে দেয় রাজ বাড়ি । বিয়ের সুখস্মৃতি র জাবর কাটে বর বৌ । বাড়ির মানুষ
বৌভাত এর অনুষ্ঠান এ কনে যাত্রীদের চোখ যাচ্ছিলো শৈলজা র দিকে । নিয়ন্ত্রিত সবার চোখ ছেঁকে ধরে ছিলো শৈলজা র অবয়ব ।কনে পক্ষ থেকে এসেছিলো দয়াময়। শৈলজার সাথে পড়তো । সে রেগা মাস্টার। শৈলজার সাথে ভাব ভালবাসা ছিলো না । চেনা ছিলো । এটুকু ।
এক খিলি পান হাতে নিয়ে দয়াময় শৈলজা কে দিতে দিতে বললো শৈলজা সুন্দরী আমি তোমার প্রেমে পড়ে গেছি ।
আমি রেগা মাষ্টার । অবিবাহিত ।

একোরিয়াম

পারুল বাড়িতে আসতেই গৃহযুদ্ধের সন্মুখীন হয় ।চেলাকাঠ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মেজ ভাই ,একে একে সেঝ ও ছোট ভাই ।
সন্তান সম ভাই দের এমন রুদ্রমূর্তি দেখে বুকে একটু  চাপা কষ্ট ধাক্কা দিলে ও পারুল ভয় পায়নি ।
পারুল পঞ্চাশ এর ঘর পেড়িয়েছে , ভাইদের বয়স এখনো   পয়ত্রিশ আট ত্রিশ বা বিয়াল্লিশ ।ওরা বিবাহিত ।সবার ঘরে সন্তান আছে ।সবাই রোজগেরে । উপার্জন ভালো । এখন আর পারুল এর কাছে হাত পাতে না ।
মা বাবা গাড়ি এ্যকসিডেনট এ মারা গেছে তখন পারুল এর বয়স উনিশ । চার ভাই এর সবাই তখন সিকি আধুলি কাঁচা টাকা ।
বাবার চাকরি পায় পারুল ।মাথায় তুলে নেয় দায়িত্ব কর্তব্য । সঠিক ভাবে পালন ও ভাইদের মানুষ এর মতো মানুষ করতে গিয়ে  প্রেমিক শুভঙ্কর এর সাথে গাট ছড়া বাধা হয়নি ।
বড় ভাই নিতাই চাকরি পায় কিছু দিনের মধ্যেই বদলী বিয়ে আগরতলা বাড়ি করে সে পাক্কা গৃহস্থ ।
এভাবে মেঝ সেজে ও ছোট । গৌরাঙ্গ রতন উত্তম পরিপূর্ণ যুবক ।
তিনটি বৌ আসে  আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব রা এসে ধুমধাম আনন্দ উল্লাস করে যায়। বছর ঘুরতেই ছেলে মেয়ে আসে ঘরে ঘরে ।
পাক ধরে রায় পারুল এর চুলে ।
শুভঙ্কর যতবার বিয়ের কথা তুলতো পাশ কাটতো পারুল । একদিন শুনতে পায় শুভঙ্কর বিয়ে করে ফেলেছে । মা বাবার কথা রাখতে বাধ্য হয়ে ।
শোক বা আফ সোস বা অভি সম্পাত করেনি পারুল কাউকে । ভাইদের বা শুভঙ্কর কে ।গাল দিয়েছে আপন কর্মফল কে । মনকে প্রবোধ দিয়েছে ভাইরা আছে ।ভাই পো ভাইঝি আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব রা আছে ।আছে চাকরী । হেসে খেলে কেটে যাবে জীবন ।
তিনটি বৌ  দখল  নেয় পারুল এর অতি কষটে গড়া স্্সার এর । কোন কারনে শরীর খারাপ হলে বা উপোস থাকলে ও কেউ জিজ্ঞেস করে না ।
শুভঙ্কর এর বৌ মারা গেছে হার্ট এ্যাটাকে একমাত্র মেয়ে র ও বিয়ে হয়ে গেছে । শুভঙ্কর সরাসরি আসে পারুল এর অফিসে । একাকি জীবন এর দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা জানায় পারুল কে ।আরো জানায় পারুল রাজি থাকলে দ্বিতীয় বার বিয়ে করে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করবে । ফিরিয়ে দেবে সুখ আনন্দ উল্লাস ।
পারুল কোন উত্তর না দিলে ও ভাববে বলে জানায় ।এ ও জানায় মাথার উপর গার্জেন ভাইরা আছে । এবার শুভঙ্কর পারুল এর ভাইদের কাছে প্রস্তাব পাঠায় । বাটপাড় শুভঙ্কর এর সাথে কেন কথা বলেছে সে অপরাধ এর শাস্তি দিতে তিন ভাই আসে চেলা কাঠ নিয়ে পারুল কে মারতে ।
পারুল ঘরে যায় ।হাতে একটা লাঠি দিয়ে ভেঙ্গে ফেলে একোরিয়াম । বিচিত্র রঙ্গের ম।

যাতনা কাহারে বলে

অমূল্য ধর বয়স আটান্ন । সিন্ডিকেটের টিকিট মাষ্টার । চিরকুমার
সুলতা পাল বয়স পঞ্চান্ন, পূর্বাশা র কর্মী , চিরকুমারী ।
ওরা বাল্য সখা সখী । যৌবনে প্রেম করতো ।তাই বহুবছর ছিলো প্রেমিক প্রেমিকা ।আড়া পাড়া পড়শী আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব সবাই জানতো ওদের বিয়ে হবে ,ঘর গৃহস্থ হবে সুখী দাম্পত্য জীবনের সুখ ভোগ করবে । হয়নি । ঠুনকো মান অভিমান চাওয়া পাওয়া অদৃশ্য কল কাঠি ওদের বিয়ের পিঁড়িতে বসে মালা বদল বা দাম্পত্য সুখ ভোগ করতে দেয়নি ।হয়ে ছিলো বিরহ বিচ্ছেদ । দীর্ঘ কুড়ি বছর ধরে দুটো মানুষ একাকী জীবন যাপন করছে । চিরকুমার চিরকুমারী ।
সুলতা রোজ যোগমায়া কালীবাড়ি তে প্রনাম করতে আসে ফুল বা প্রসাদ নিয়ে ও আসে ।
অমূল্য ধর আসবাব সময় পান না । তাছাড়া এ মন্দির চাতালে কথা কাটাকাটি হয়েছিল সুলতার সাথে ।তাই সে দেব দেবীদের এড়িয়ে চলে ।
দীর্ঘ লক ডাউন ও করোনা কারফিউ ।গাড়ি বন্ধ । কর্মহীন অমূল্য সময় কাটাতে আসে যোগমায়া কালীবাড়ি তে ।
আজ সুলতার সাথে দেখা হয়ে গেল মন্দির চাতালে । সুলতা মাথা নিচু করে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিলো অমূল্যের প্রশ্ন শুনে থমকে দাঁড়ায় ।
অমূল্য বলে কেমন আছো সুলতা ,
সুলতা বলে চলে যাচ্ছে, তুমি কেমন আছো 
অমূল্য বলে আমি ভালো নেই । সুগার, হাই প্রেশার । তাছাড়া  তেমন রোজগার নেই ।
সুলতা বলে আমাদের অফিস বন্ধ ।কবে খুলবে ঠিক নেই ।
সবার এক অবস্থা । করোনা র জন্য মানুষ রোজগার করতে পারছে না ।
সুলতা বলে যাই ।
অমূল্য বলে এখনো তো পূজা হয় নি ।আরতি হয় নি , প্রসাদ হয় নি ।
সুলতা বলে আমাকে রাঁধতে হবে ।ন ইলে দাদা বৌদি বাচ্চা রা ঝামেলা করবে ।
তোমাকে এসব করতে হয় 
সুলতা বলে ,হয়।মা বাবা মারা যাবার পর আমি ওদের সাথে থাকি । টাকা ও দিতে হয় । তোমার রান্না কে করে
অমূল্য বলে আমি একা একা থাকি ।মা বাবা মারা যাবার পর নিজের হাতে রান্না করি ।যেদিন পারি না জগন্নাথ বাড়িতে প্রসাদ খাই ।
দীর্ঘ শ্বাস ফেলে সুলতা ।
দীর্ঘ শ্বাস ফেলে অমূল্য ।
তোমার শরীর তো খারাপ সুলতা ।
সুলতা বলে  খুব খারাপ । আমার গ্যস অম্বল । লিভার খারাপ ।যেতে পারলে বাঁচি ।
অমূল্য বলে প্রসাদ দিচ্ছে মন্দিরে চলো ।
সুলতা বলে দেরী হলে অবস্থা খারাপ হবে ।
তোমাকে মারবে নাকি দাদার গুনডা মস্তান ছেলে গুলো ।বৌমা ও নাকি হাড় বজ্জাত ।
সুলতার চোখের জল গড়িয়ে পড়লো ।
অমূল্য বলে আমি এখনো তোমাকে ভালোবাসি সুলতা ।
সুলতা বলে এসব কথার কোন মূল্য নেই ।
অমূল্য বলে ভালবাসা হাড়িয়ে দীর্ঘ জীবন ভিক্ষুক এর মতো কাটিয়েছি ।আজ তার প্রতিকার করবো যোগমায়া কালী মা'কে সাক্ষী রেখে । আমি মৃত্যু পর্যন্ত তোমার সাথে থাকতে চাই সুলতা । আমাকে ফিরিয়ে দিও না ।
সুলতা সরাসরি তাকালো অমূল্য ধর এর দিকে । ভালবাসা কোথায় লুকিয়ে ছিলো এতদিন খুঁজছে সুলতা অমূল্যের বুকের চাতালে ।
আবার দীর্ঘ শ্বাস দু পক্ষের ।যাতনা কাহারে বলে ।

ভাবনা কাহারে বলে 

করোনা কারফিউ এর কারনে পিছিয়ে দেওয়া হলো বিয়ের অনুষ্ঠান ।
দু পক্ষের সমস্ত আচার বিধি তে ফোড়ন কাটলো করোনা বিধি ।মাত্র পঞ্চাশ জন লোক নিমন্ত্রিত থাকতে পারবে এমন বিধি নিষেধ এ ছেলে অঙ্কুর এর বিয়ে দিতে রাজি হলেন না বাবা  রাম চরণ পাল ।
মেয়ের বাবা নিতাই হালদার এক কাঠি উপরে । দিল্লি কলকাতা মুম্বাই তে রয়ে গেছেন আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব রা, তারা ও করোনা ভাইরাস এর সাথে লড়ছে ,তাই এমন অসময়ে বিয়ের বাজনা বাজতে দেবেন না তিনি ।
কাছাকাছি র আত্মীয় স্বজন রা একটু ট্য ফো করলে ও মেনে নিলেন কর্তার ইচ্ছায় কীর্তন ।
অঙ্কুর আর পল্লবী লক ডাউন সময়কে কাজে লাগিয়েছে মোবাইল হোয়াট আপ এর মাধ্যমে ।
দুজনে চ্যাট করে ,ঘরে বসে দেখাদেখি চোখাচোখি মান অভিমান চালাতে থাকে । বিয়ের ফুল ফুটেছে অথচ বিয়ের জল গায়ে পরছে না এসব ওরা পাত্তা না দিয়ে চুটিয়ে প্রেম করছে
দু পক্ষের অভিভাবকদের কিছু করার নেই ।
কারফিউ এর জন্য পল্লবীর ইস্কুল বন্ধ , অঙ্কুর এর কলেজের ক্লাস হয় অন লাইনে । ওদের অনন্ত অবসর । সারাক্ষণ মুখে মাস্ক লাগিয়ে বাড়ির চৌহদ্দি তে উঠে বস করার চেয়ে মোবাইল প্রেম মেনে নিলেন দু পক্ষ ।
পল্লবী অঙ্কুর এর নাম দিলো অঙ্কুরিত বীজ
অঙ্কুর পল্লবীর নাম দিলো আম্রপালি ।
একটা বীজ অঙ্কুরিত হয় শাখা পল্লবে ভাল পালা মেলে বিশাল মহীরুহ হয় । মানুষ ছায়া পান, পাখীরা ঘর বাঁধে । ফুল হয় ফল হয় অরন্য সৃষ্টি হয় মা মাটি মানুষের হিত কাজে লাগবে । করোনা কালে কৃত্রিম অক্সিজেন এর অভাবে রুগী মারা গেছেন ,চার দিকে গেলো গেলো হাহাকার ।
অঙ্কুর এর চোখে পল্লবী বৃক্ষের পল্লবিত  সৌন্দর্য সজীবতা । কোমল মতি নারীরা আন্তরিক অন্ত নীল সজীব নির্মল হাওয়া ।যা  টিকিয়ে রাখে হাওয়া ছায়া নির্মলতা দিয়ে পৃথিবীর জীবন গুলো কে ।
এ প্রেম ভালোবাসা র মধ্যে দার্শনিক কোন তত্ব নেই ।আছে বিশ্বাস ভালবাসা সারল্য।
আছে হাসি ঠাট্টা চুটকি বলে একে অপরের কাছা  কাছি থাকা । ভালবাসা ভাললাগা অদ্ভুত জলতরঙ্গ ।
পল্লবী বলে আর ভালো লাগে না ।কবে যে কারফিউ উঠবে । মুক্ত শ্বাস ফেলবো ।
অঙ্কুর বলে এতো তাড়া কিসের  ? আগে পৃথিবী শান্ত হোক, সুস্থ হোক । মানুষ মাস্ক সেনিটাইজার ফেলে নরমাল জীবন যাপন করুক ।
পল্লবী বলে আমরা মাস্ক সেনিটাইজার এর আজ্ঞাবহ হয়ে গেছি । ইচ্ছে হয় ঐসব ছেড়ে ছুড়ে খোলা মাঠে হা হা হি হি  করে হাসতে ।
অঙ্কুর বলে  অবশ্যই যাবো । মোবাইল রেখে যাবো ঘরে ।বসে থাকবো তোমার হাতে হাত রেখে ।দেখবে অনেক গুলো কোকিল একসুরে গেয়ে উঠবে কুহু কুহু কুহু কুহু কুহু।
পল্লবী বলে তখন যদি ঝিরি ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পরে আকাশ থেকে দারুন এনজয় হবে তাই না ,,।

মন ময়ুরী

মন ময়ুরী মনের পেখম মেলে  নাচে তা ধিন তা ধিন তালে ভারত নাট্যম কথা কলি
নাচে ওড়িশি রবীন্দ্র  লোক নৃত্য  গড়িয়া গাজন নাচে আপন মনে ময়ূরের পেখম তুলি ।
মন ময়ুরীর চোখের কাটুম কুটুম  টেনে আনে রাখালিয়ার বাঁশীর মিঠে তান
নিমেষেই মেঘের গর্জনে  ঝরে বৃষ্টির ফোয়ারা মন ময়ুরীর নূপুরে ঝুম ঝুম সুরতান ।
মন ময়ুরী আজো খোঁজে হিয়ার হিয়া যারে ভালবেসে ধরে ছিলো কঠিন কোমল  হাতে হাত
সে আজ পরবাসী  ভালবাসা ভঙ্গের নিষ্ঠুর  নিয়মে
তার প্রতীক্ষায় আজো কাটে বিনিদ্র রাত ।
মন ময়ুরী নাচে  মানে না তাল লয় ছন্দ বদ্ধ জীবন যাপন এর শেখে না  কোন কৌশল
ছবিকর তাকে নিয়ে আঁকলো কত শত ছবি কোথাও খুঁজে পেল না হারিয়ে পাওয়া মাশুল ।
মনের ময়ূর খোঁজে মন ময়ুরী চায় তার ভালোলাগায় জড়িয়ে থাকুক সাথী
সাথী কে সাথে পেলে মন ময়ুরীর  ছন্নছাড়া জীবনে জ্বলবে লক্ষ ঝাড় বাতি ।
মন ময়ুরী নাচবে গাইবে চলবে ফিরবে ফুল দেখে ফল দেখে  গাছ গাছালির মায়ায়
দিনের সূর্য রাতের চাঁদ সঙ্গ দেবে তাকে এ পৃথিবী সঙ্গ দেবে তাকে ভালবাসার মায়ায় ।
 বিরহী মন ময়ুরী আর জ্বলতে চায় না আপন দুঃখে প্রেম ভালবাসায় ভরাবে অন্তর
মনের খাতায় আঁকবে সুন্দর এর ছবি  বিশ্ব শান্তির প্রত্যাশায়  প্রার্থনা করবে নিরন্তর ।

মন যমুনা

মন যমুনায় অহনিশ সাঁতার কেটে মনের মানুষ পেলাম ক ই? 
তুমি হলে না আমার  মনের মিতা আমি হলাম না তোমার স ই !
হৃদ নদীতে রক্ত ক্ষরণ হি্্সা হিংসী ঝগড়া ঝাটির  রক্ত স্রোত 
সন্দেহ ভুত তাড়িয়ে বেড়ায়  রাতদিন  ক্ষত জুড়ে দেখি  পুঁজের স্রোত ।
ভালবাসার ঢেউ এ আসে না এখন দাম্পত্যে  প্রেম আদর সোহাগ বাণ 
পরের কথায় প্রতিনিয়ত ঘর ভাঙো স্বপ্ন সেতু ভেঙ্গে হয় খান খান ।
প্রেম যমুনায় তুফান উঠে ডিঙগির মাঝি হ ই যে দিশেহারা স্বপ্ন হারা 
টালমাটাল রক্ত বন্যা দু'জনের মাঝে ভালবাসা হয় বাস্তুহারা ছন্দহারা ।
তার পর তো বাঁচতে হয় বাঁচার মন্ত্র শিখতে হয় ঠকতে ঠকতে শেখা
মন যমুনায় অশ্রু ঝরে মনের রঙে হৃদয় রাঙ্গিয়ে  পাশে থাকবে এমন প্রত্যাশা ।
মনের মিতা গেঁথে মনে মন যমুনায় আসি সঙ্গোপনে শিখি প্রেমের মন্ত্র 
রাধা কৃষ্ণের লীলা খেলা  মনে পুষি এমন মেলা বাজাবো বাঁশীতে প্রেমের মহামন্ত্র ।


মন পাখী 

মন পাখী কখনো কোকিল সাজে কখনো বুলবুল কখনো সাজে টিয়া ময়না 
বলে প্রেম ভালোবাসা হৃদয়ে পুষে রাখবো চাই না ধন দৌলত সোনার গয়না ।
মন পাখী হতে চায় উড়াল পাখী কাক  বক চিল সারসের মতো 
উড়বে উড়বে আকাশ সীমানায়  ভাঙবে সীমান্তের সব বেড়া  যতো ।
মন পাখী বলে ,হবো বাবুই পাখি গড়বো আপন মনে সুখের একটা নীড়
সেখানে থাকবে না হট্ট কোলাহল  থাকবে না অমানুষের ভীড় ।
মন পাখী হতে চায়  মাছরাঙ্গা বা গাঙচিল  ধরে বেঁধে আনবে নিজের আহার 
স্বনির্ভর হতে  লাগে না বেশি পুঁজি  কষ্টের পর কষ্ট করবে বারবার ।
 মন পাখী বলে এবার আমি সাজবো মৌটুসী বা হলুদ অতিথি পাখি 
অতিথি আগমনী বার্তা পৌঁছে দেবো প্রিয়জনের ঘরে  মতো খুশি নিয়ে এসো রঙ্গীন রাখী ।
মন পাখির মনের কোণে নাচে গায় শালিক চড়ুই টুনটুনির এর দল
গৃহস্থ হেসে বলবেন নিয়ে আসুন খড়কুটো ঘর তৈরীর সব লোটা কম্বল সম্বল ।
মন পাখী বলে শকুন এর নজর দিও না কেউ তোমরা আমার স্বপ্ন খেলায়
পাখি হবো সুখী হবো মনের সুখে গাইবো নাচবো আপন মনেথাকবো সুখের ভেলায় ।
মনপাখী সুখপাখি করে ডাকাডাকি  ঘুমে জাগরণে  শান্তি ভঙ্গ করো না তোমরা
দেশ বিদেশ পর দেশে আমরা উড়িয়ে দেবো ঝাঁক ঝাঁক শান্তির পায়রা ।
নাইটিঙ্গেল পাখি ডেকে বলে আমার মতো হয়ো সেবা পরায়ন ও সুমিষ্ট ভাষী 
পুরো পৃথিবীর প্রতিজন ভালবাসবে তোমায়  তোমাকে নিয়ে করবে লেখালেখি ।

মন ঘড়ি

মন ঘড়ি চলে টিক টিক টুক টুক ঝিক ঝিক কুঝিক কুঝিক ঠিক ঠিক
সময় ঘড়ি বলে ভোর হলো বিছানা ছাড়ো তোমরা যে সবাই সময়ের শ্রমিক ।
দিনের পর রাত হবে রাতের পর দিন মাস বছর বদলাবে সঠিক সময় সঠিক 
জীবন যুদ্ধে লড়বার কৌশল শিখিয়ে দেয় মনঘড়ি সৎ কে আর কোন পথ বেঠিক ।
গর্ভ জাত ভূমিষ্ঠ হবে শিশুগুলো হবে কিশোর যুবক যুবতী গুলো  পা দেবে মাঝ বয়সে
সুন্দরী মুখ গুলোকে করবে গ্রাস বয়সের বলি রেখা  যৌবন রাখা যাবে না মেজে ঘষে ।
চক্রাকারে চলবে ঋতু চক্র  গ্রীষ্ম বর্ষা শরৎ হেমন্ত শীত বসন্ত এক নিয়ম এক ধাঁচে
মানুষের পরমাযু যতোদিন   হাসবে খেলবে চলবে কেউ মরবে কেউ থাকবে বেঁচে ।
মন ঘড়ি চলে সময় ধরে আমার আমার তোমার তোমার বলছে যারা অহনিশ
দম্ভের উপর হাঁটে মন ঘড়ি চলে মনের ইশারায় শত্রু কে কখনো করে না কুর্নিশ ।
মনঘড়ি বাজে টিক টিক ঠিক ঠিক দিশা হারা পথ হারা যাতেনা হয় কোন জন 
চলে নিয়মের সুতোয় ঝুলতে ঝুলতে পথে পথে খুঁজে নেয় আপন বন্ধু সুহৃদ সুজন ।
কুমন কুচক্রী কানড ভাবায় কাঁদায় নিদ্রা হীন করে রাখে সুন্দর মনের ভাষা
তাকে ও টপকায় সুমন ঘড়ি  বলে চলতে চলতে এগুতে থাকো পুড়িয়ে ফেলো পথের কাঁটা ।
মন ঘড়ি বেজায় খুশি চলতে ফিরতে চলতে বলতে পেয়ে যায় সৃষ্টির  হরেক অল্্কার
মন ঘড়ি জোরে চলে আস্তে  চলে ঘুমে জাগরণে সৃজনশীল তায়  হয়ে যান কবি কথাকার ।
আত্মজ্ঞান পরজন বন্ধুর বন্ধু জন সুজন কুজন বল হয়ে যায় চলতে থাকে মনঘড়ি
হাসি আনন্দে ভরপুর ত্রি স্্সারে মন ঘড়ি আপন করে হৃদয়ে রাখে লাগে না কোন দড়ি ।

কলাবতী কন্যা

বর্ষার জল পেতেই ফুলের কলি গুলো খুশিতে  বড়ো চঞ্চল হয়ে উঠে
দেখো কলাবতী কলির লাল লাল পাপড়ি গুলো কেমন অট্ট গরজে ফোটৈ ।
বর্ষা মানেই তো খাদ্য রসদ জীব প্রকৃতির আশা ভরসা সৌন্দর্য সজীব প্রানে 
ক্ষরায় শুকিয়ে থাকা শিকড় গুলো  পায় নব যৌবন বুঝাতে পারে জীবনের মানে ।
যতো দুঃখ যতো বেদনায় ভারাক্রান্ত মন  কাঁদতে কাঁদতে  জীবনে আসে বিরহ শূন্যতা
সে নষ্ট সময়ে মলম লাগায় রূপসী ফুলেরা  ধীরে ধীরে ভুলতে থাকে দুঃখের বারতা ।
চবিকর ছবি আঁকে ফটোগ্রাফার ফটো তোলে কবি বন্ধু লিখেন নানা  লয় ছন্দ
দুঃখ ভুলে হাসি মুখে বিরহী প্রেমিক প্রেমিকা হয়ে উঠে প্রেম পাগল চোখ মুখে আনন্দ ।
ফুলগুলো ডেকে আনে মধুকর মধুকরী মধুর লোভে বড়ো মিঠে গান বাজনা
প্রজাপতির ঝাঁক নাচে ভ্রমর নাচে কথা কলি কাউকে দিতে হয় না খাজনা ।
কলাবতী কন্যার লাল রঙ্গা সাজ অষ্টাদশী  যুবতী যেনো বিয়ের সাজে
ঠোঁটে মেখেছে লাল কলাবতী রঙ্গা ঠোঁট পালিশ পথ চলতে চলতে নূপুর ঝুমঝুম বাজে ।
ওগো কলাবতী কামিনী কাঞ্চন তোমাকে দেখে  আমার ব্যথিত  মন হয়ে গেলো ভালো
প্রতিদিন ফোটো লাল জামায় সেজে আমার ভাঙ্গা চোরা আঙ্গিনায় ভরে থাকুক আলো ।

আষাঢ়ে গল্প

আষাঢ় এলো আশা নিয়ে শুনতে পাবো মেঘের ডাক শুনতে পাবো আকাশের নানা ভাষা 
বর্ষার জল ঠোঁটে চেটে লাফাবে চাতক পাখি খুশি মনে জো্্ড়া মাথায় ছুটবে ক্ষেতের আলে চাষা ।   
কদম ফুল ছাতিম ফুল হাসবে দুলবে ফুলে ফুলে ভরবে ডালা মাটিতে হবে পাতা বকুল বিছানা 
বরষা এলো ভরসা নিয়ে কাদা মাটি জলে বোনা হবে ধান বীজ মাঠে মাঠে দোল খাবে সবুজ আলপণা।
ছুটবে দল বেঁধে  বক সারস পান কৌড়ি  এ মাঠ ও মাঠে গেড়ি শামুক ঝিনুক  পোকা মাকড় বা আহার সন্ধানে 
 বর্ষা বিকেল এর গোধূলি রঙ মাখবে প্রকৃতি গাছপালা নতুন বৌয়ের নতুন সাজ বাধা পড়বে মায়ার বাঁধনে ।
আজ থেকে শুরু হলো বর্ষার নাচন কুদন ঝিরি ঝিরি ঝুম ঝুম তাল বেতাল ভৈরব ভৈরবী নাচন ।
পথ ঘাট হবে থকথকে ভটভটে কাদা মাটি পিচ্ছিল তবুও  বর্ষা রাণী আনবে জল তা দিয়ে হবে জীবের জীবন বাঁচন ।
আষাঢ়ে হবে অম্বুবাচী রথের মেলা আরো হবে ছেলে খেলা উঠোন জলে কাগজের নৌকা ভাসা
বদ্ধ ঘরে মনের খাতায় ছবির পাতায় হাজার হাজার শব্দ দিয়ে  কথা কাহিনী তে শব্দ মালা গাঁথা
তোমায় কিছু বলবো বলে মনের কোণে জমা ছিলো টুকরো টুকরো ভাব ভালবাসার ফোটা কথাকলি
এ আষাঢ়ে অঝোর ধারার য়তো ফুটিয়ে দেবো আমার মনের কোনে জিইয়ে রাখা তোমার জন্য প্রেম কলি ।

 দুটো ভ্রমরের ভারত নাট্যম

তোমার শরীরে যখন রূপের বিজুলী ফোটে আমি তখন হয়ে তাই মাতাল ভ্রমর
 ইচ্ছে করে মনের পাড়ড়ির নির্যাস থেকে তৈরি করি তোমার জন্য আতর।
রূপের দোকান কোথায় থাকে জানি না শুধু দেখি উপচানো রূপ তোমাকে করে রাজকন্যা
আমি রাজ পুত্র ন ই তবুও সাধ জাগে মনে হাত ধরে   ঘটাই প্রেমের বন্যা ।
আমার চোখে তুমি কখনো বনফুল কখনো ভূইফুল কখনো , ঘাসফুল বা উর্বশী অনন্যা
তোমাকে পাবার স্বপ্নে নিজেকে ভুলি বারবার
  আমার চারপাশে ভিড় করে হাজার লক্ষ আয়না ।
হে হাস্যে জ্বলা মনমোহিনী মনোহারিনী কি জাদু তে করেছো বশ সে মন্ত্র খুঁজে পাইনা 
মাটি জল স্থল আকাশ বাতাস সবখানেই দেখি তোমার মায়া মুখ আমি আমার বশ এ থাকি না ।
ওগো কামিনী কাঞ্চন  স্বপ্ন হারিনী প্রিয় প্রেয়সী কতো আর কাটাবো কাল তোমাকে ছাড়া 
দাও সাড়া দাও জড়িয়ে ধরো আমাকে  আমাদের মিলন ক্ষণে ঘরে ব ইবে প্রেমের ঝর্ণা ।
ঐ তো  হলুদ বাগান বা গোলাপ বাগানে রোজ দেখি প্রজাপতি ভ্রমরের প্রমোদ বিহার
ওদের মাঝে নেই মান অভিমান শুধু দেখি হাসি খুশি ছন্দ তাল লয় প্রতি দিন উৎসব আচার
এসো দু'জন মিলে কাটাবো জীবনের চেনা ছন্দ তাল লয় ভালো লাগা মন্দ লাগা ক্ষণ
অসময়কে সুসময় বানাবো দুজনে  মানিয়ে নেবো অচেনা জগৎ লোকে ভাববে ভ্রমর প্রজাপতির ভারত নাট্যম ।

খেলা সারাবেলা

খেলার অনেক অনেক  জাত অনেক নিয়ম কানুন আছে 
সঠিক মতো নিয়ম মেনে খেলতে জানলে হবে কেল্লা ফতে  ।
জুয়া খেলা ধোঁয়া গেলা  সার্কাস খেলা মুরগীর পিছে ছোটা
একবার পা সটকে গেলে খেলতে খেলতে থাকতে হবে আধপেটা।
চক্কর খেলা ফক্কর বাজ এর  পিছনে হাঁটা চোর পুলিশ খেলা 
দশ টাকা টিকিট কেটে কোটি টাকা জিতে ভাগ্য ফিরানো  লটারি মেলা ।
মিষ্টি কথায় চিনি মিশিয়ে  পরের পকেট কেটে চোয়া ঢেকুর তোলা
লতাপাতা বীমা বানিয়ে  সিদ কাটা চোর  সেজে ফুলবাবু সেজে চলা  ।
খেলা হোক সাপে নেউলে খেলা হ উক চাউল তেঁতলে খেলো তেলে জলে 
খেলো খেলা মাটি জলে মাটি কোদালে কাঁটা শীতে জালে আর জলে ।
মানুষ মানুষে খেলো বন্ধু হাস্য কৌতুক  নাচ গান খেলো যাত্র পালা
ভরা পেটে রঙ্গ তামাশা পরিনাম এর আসর বাসর জীবন জোয়ার রঙ্গ লীলা ।
 খেলো ইট পাটকেল এর বৃষ্টি বৃষ্টি খেলা দিও না সাময়িক ভুলের  মাশুল 
সময়ের শোধ সময় নিয়ে নেবে  তোমার পাপে একদিন তারাই করবে উসুল ।
খেলা হোক ফুটবল ক্রিকেট ভলিবল ডসবল  ডুবসাঁতার প্যরাসু্যট উড়া
খেলা হোক অনাবাদী জমির ফসল নবান্ন উৎসব হাস্য উল্লাস এ হাততালি মারা ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ