কী লিখি কেন লিখি
কামরুল বাহার আরিফ
কী লিখি কেন লিখি
কামরুল বাহার আরিফ
কবি, সম্পাদক, সংগঠক। বাংলাদেশ
কী করে কবে থেকে লেখার জগতে এলাম। পেছনের গল্পটা কী? কী লিখি, কেন লিখি, কীভাবে লিখি, কোথায় লিখি, প্রেরণা কে? গুরু কে? কী প্রকাশ পেয়েছে, কার মাধ্যমে প্রথম বই প্রকাশ, প্রথম বইয়ের অভিজ্ঞতা, বই নিয়ে কারো মন্তব্য, কী পুরস্কার বা স্বীকৃতি পেয়েছি? এমন সব প্রশ্নের উত্তর লেখার আগে একটু নড়ে চড়ে বসতেই হয়। আর হাতড়ে খুঁজতে হয় সময়ের পেছনের সিঁড়ি। প্রত্যেক গল্পের পেছনে আরও কিছু গল্প তো থাকেই। সেই গল্পগুলোও বেঁচে থাকার এবং এগিয়ে যাওয়ার এক একটা নন্দনকানন যেন।
তারপরও নিজের সম্পর্কে লেখার চেয়ে কঠিন কাজ বোধহয় একজন সাহিত্যিকই শুধু নয়, মানুষের জন্যও খুব কঠিন। কারণ বোধহয়, এ ক্ষেত্রে কেউই সম্পূর্ণ নির্মোহ থাকতে পারেন না। এটা বিবেককেও সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। বিবেকের সাথে সামনা সামনি দ্বন্দ্বে লিপ্ত করিয়ে দেয়। এবং সবশেষে বিবেক পরাজিত হয়। আমার কাছে আত্মলোচনাগুলো এমনই মনে হয়। হয়তো মিথ্যে কিছু লেখা হয় না সত্য, কিন্তু অনেক সত্যকে লুকিয়ে রাখতে হয়। এটাও এক ধরণের দ্বন্দ্ব। পরাজয়ও। তবুও করতে হয়।
যাইহোক, ধান ভানতে শিবের গীত রচনা করতে শুরু করে দিলাম, সুযোগ পেয়ে। তাছাড়া মেধা ও স্মৃতি আমার সাথে প্রতারণা করতে পারে সেটাও পাঠক মেনে নিবেন। কারণ, আমাদের পাঠকেরা যে বড় হৃদয়ের পরিচয় দেন তার উদাহরণ অনেক। সরল বিশ্বাসে তাঁরা যা পড়েন বা শোনেন তা সহজে হজম করে নিয়ে সুখনিদ্রা যাপন করেন। কখনো পাঠক হাসেন, কখনো কাঁদেন, কখনো গাড়ি ভাঙেন-পোড়ান, কখনো চাঁদে রিয়েলিস্টিক মুখায়বও দেখেন। আবারও... যাইহোক, নিজের সম্পর্কে একু গীত গেয়ে নেই তাহলে। সেখানে সুর বা বেসুর যেটাই হোক।
জন্মের কথার ক্ষেত্রে আমাকে শোনা কথাটাই লিখতে হবে। প্রত্যেকের মতো আমিও মাতৃগর্ভে প্রথম জন্ম নেই। সেখানে মাত্র নয়মাস দশদিন মাকে অসম্ভব এবং বর্ণনাহীন যন্ত্রণায় অতিষ্ট করে অতঃপর নিউটনের সূত্রে মাটির বুকে আশ্রয় হলো উনিশশত পঁয়ষট্টি সালের সাত নভেম্বর। খুলনা শহরের রূপসা-ভৈরব-আঠারোবাঁকির সঙ্গম নদীর কূল ঘেষে বর্তমান রূপসা থানার রাজাপুর গ্রামে। এই তারিখটি মায়ের এবং বাবার ডায়েরি মোতাবেক পাওয়া।
গাছ-গাছালির সবুজে ঘেরা গোলপাতার ছাউনি আর কাঠের বেড়ার ঘরে আমার জন্ম। জোয়ার-ভাটার রূপসা-ভৈরব আঠারোবাঁকি তিন নদীর সঙ্গমের গ্রামে একটু একটু করে বেড়ে ওঠা। সমবয়েসীদের সাথে আলো-ছায়ায় প্রকৃতির সাথে প্রথম প্রেম। মায়ের কোলে গল্প শোনা এবং ঘুমিয়ে পড়া। হাতে খড়িও মায়ের কাছে। আদর্শলিপির অক্ষরের পরিচয়, চক-স্লেটে হাত ঘোরানো সব মায়ের কাছ থেকেই। অক্ষর চেনা থেকে শব্দের পরিচয় তারপর বাক্যের পরিচয়। তারও পরে নৈতিক বাক্যগুলোকে ভিতরে প্রবেশ করানো সব মায়ের থেকেই শেখা। তাঁর অবদান। যা এখনো লালন করি ফলে অনৈতিক যা কিছু ঘটে যাচ্ছে চারপাশে তার সাথে নিয়ত দ্বন্দ্বে লিপ্ত হতে হয়।
আব্বা কবিতা লিখতেন, ডায়েরি লিখতেন। বাংলা ও ইংরেজীতে বেশ দখল ছিল তাঁর। পড়াশোনাও করতেন। তিনি তাঁর লেখার খাতা ও ডায়েরিগুলো একটা টিনের ট্রাংকে সংরক্ষণ করতেন। কখনো তা বই আকারে প্রকাশ করেননি। হয়তো ভবিষ্যতে ইচ্ছে ছিল তেমন। তারপর দেশ উত্তাল স্বাধিকার ও স্বাধীনতার জন্য। অস্থির চিত্তের মানুষ ছিলেন তিনি। এর মধ্যেই একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। নিরাপত্তাহীন সারা দেশের মানুষ, আমরাও তা থেকে বাদ নই। শহর ছেড়ে, বাড়ি ছেড়ে আমাদেরকেও জীবন বাঁচাতে গ্রামের দিকে আশ্রয় নিতে হলো। ততদিনে আমাদের বাড়িটা দখল নিয়েছে পাকিস্তানি দোসর রাজাকাররা। গোটা দেশটাই তখন যুদ্ধভূমি। নয় মাসের গণযুদ্ধে আমরা স্বাধীন হলাম একাত্তরের ষোলই ডিসেম্বর। মুক্তকণ্ঠে জয়বাংলা ধ্বনিতে আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে দিলাম। আমরা পেলাম একটি মানচিত্র আর একটি পতাকা ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত আর লক্ষ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে। কিন্তু তারই মাঝে স্বাধীনতা বিরোধী পাকি-দোসর রাজাকাররা আমাদের বাড়ি দখল করে নেয়। আর স্বাধীন হওয়ার পূর্বমুহূর্তে বাড়িটি পুড়িয়ে দেয়। সেইসাথে পুড়ে যায় আব্বার ট্রাঙ্ক, ট্রাঙ্কভর্তি লেখা কবিতা ও ডায়েরি। আব্বা সেই শোকে আর কবিতায় ফিরতে পারেননি। মাঝে মাঝে খেয়ালে বেখেয়ালে বিচ্ছিন্নভাবে ভেতরের কাব্য¯্রােতে একটি দুটি করে লিখেছেন যা খুলনা বা রাজশাহীর দৈনিকের সাহিত্যপাতায় বের হতো।
তাই আজকে যে আমি লিখি সেটা বলতে হবে মায়ের শিক্ষা আর আব্বার রক্ত¯্রােতধারার থেকেই। তবে কবে থেকে লিখি তা মনে করে বলতে পারবো না। আর সে সব লেখা কখনো লেখা বলেও মনে হয়নি বলে সংরক্ষণও করিনি। তবে যা কিছু একটা নিয়ে পদ্য রচনা করার একটা ঝোঁক ছোটবেলা থেকে ছিল। সেটা সিরিয়াস কখনোই ছিল না। আর মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে বেড়ে ওঠা শৈশব যতটা কাব্যপ্রেমে অনুরক্ত করেছিল তারচেয়ে ঢের দেশপ্রেমে আসক্ত করেছিল। তাই যৌবনের পুরো সময়টা রাজনীতিচর্চা, মিছিল, আন্দোলন, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাতেই কেটে গেছে। শৈশবে গানের প্রতিও ঝোঁক ছিল। সেটাও হয়নি। আক্ষেপ আছে এখনো। আর আমার রাজনীতির মাঠটি কিন্তু কখনোই ছন্দহীন ছিল না। আমি প্রতিটি শ্লোগানের মধ্য দিয়ে ছন্দকে ধারণ করতাম। প্রতিটি আগুনঝরা বক্তৃতা থেকে ছন্দের ওম নিতাম। প্রতিটি দেয়াল লিখন থেকে শিল্পকে গ্রহণ করতাম। সামরিকজান্তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে করতে নতুন করে যুক্ত হলো সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে শ্লোগান। স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত শক্তিরা সামরিক বাহিনীদের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে সংগঠিত হলো। যাই হোক সামরিক শাসনের অবসান হলে সরাসরি রাজনীতি থেকে অবসরে চলে এলাম নব্বইয়ের শেষে। এর কিছু পরেই একটু একটু করে লেখার জগতে ফিরে আসা। তবে মোটেই সংগঠিত চিন্তা থেকে না। একেবারেই বিচ্ছিন্ন ভাবনাগুলোকে লিখতে চেষ্টা করা। এভাবেই লেখার জগতে প্রবেশ করা ও তার পেছনের গল্প।
তারপর আমারই রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, কলামিস্ট, কবি, সম্পাদক, সংগঠক খোকন তালুকদার-এর প্রেরণায় লেখার জগতে সংগঠিতভাবে প্রবেশ ও সাংস্কৃতিক জগতে প্রবেশ। যা আজও অব্যহত রেখেছি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কী লিখি? আমার ক্ষেত্রে কাব্য ও প্রেম একই কক্ষের বাসিন্দা। আমার প্রথম প্রেম ছিল দেশমাতৃকা, মিছিল আর শ্লোগান। আমার কাব্যের শুরুও ছিল সেই নদীজলের ¯্রােতধারা জোয়ার-ভাটার অবারিত ঢেউ, নদীর বাঁক বদলের বিচিত্রতা, আকাশের রঙ বৈচিত্র, কুয়াশার সকালের অস্বচ্ছ পথের সীমায় অসীমকে খোঁজা, বর্ষার অঝোরধারা, পাখ-পাখালির গুঞ্জরণ, মিছিলে মিছিলে রাজপথে স্বপ্ন বুনন, দিন বদল আর অসাম্প্রদায়িক জাতি প্রতিষ্ঠা। এই ভালোবাসা আমাকে কখনো নারী প্রেমে একনিষ্ট হতে দেয়নি। আমার যৌবন তাই নারীহীন থেকে গেছে। এখনো যদি ভাবি তাহলে দেখি নারীপ্রেমে থাকে বিপরীত ধারা। বিকর্ষণের আকর্ষণ। আর প্রথমোক্ত প্রেমটা সম্পূর্ণ নিজের বা স্বধারা। এখানে নিজের করেই ভাবা যায়, স্বপ্ন দেখা যায়। নারী-পুরুষে প্রেম একে অপরের মাঝে ডুবে গিয়ে একাকার হওয়া হলেও একটা সময় এর পট পরিবর্তন ঘটে। কিন্তু প্রকৃতি প্রেমটা যেনো মহাকাব্য এক। এর রেশ কখনো কমে না। বরং নব নব রূপে আবির্ভূত হয়ে দেখা দেয়। আর কবিতা হচ্ছে এ সকল মৌলিকের একত্রিত প্রেম। অর্থাৎ কবিতা হচ্ছে, প্রেমের সম্পূর্ণ প্রকাশ। এ কথা স্বীকার করতেই হবে কবিতায় নারী পুরুষের প্রেম, ভালোবাসা, বিরহ কবিতা লিখতে প্রভাবিত করে। প্রেরণাও যোগায়। আমি তার বাইরে কখনোই ছিলাম না। নাইও। এই মৌলিক সত্য আমার কবিতার চরণে চরণে উদ্ভাসিতও বটে! প্রকৃতি যদি আমার কবিতার ¯্রােতধারা হয় তবে নারী হচ্ছে সেই কবিতার অবারিত ঢেউ। যা শুধু কবিতাতেই দৃশ্যমান।
তবে কবিতা নিয়ে চিন্তা বা ভাবনা সবার ক্ষেত্রে একই বা চিরন্তন, সে দাবী আমি করি না। কারণ কিছু কথা থাকেই তার নিজস্বতায় বন্দি। আর আমার কাছে আমার কবিতার বয়স নিতান্তই যুবক বয়েসী। নব্বই দশকের মধ্যভাগ থেকে কাগজে কলমে উপস্থাপন। কেননা আগেই বলেছি, আমার জীবনকালের যুবক বয়সে কবিতাকে উড়িয়েছিলাম মিছিলে-শ্লোগানে-বক্তৃতায়। ফলে যৌবনদৃপ্ত রাজপথেই কবিতা তখন ভেসে বেড়িয়েছে না লেখা কথায়, না লেখা পাতায়। সেই যে দৃপ্ত চেতনার সাহসী যৌবন তা কিন্তু এখনো এতোটুকু কমেনি, শুধু যুক্ত হয়েছে কাগজ আর কলম। আর ভালোবাসার বিস্তৃতি প্রসারিত হয়েছে জীবন-যৌবন, প্রেম-পিরীতি, প্রকৃতি-নদী-সাগর-পাহাড়-নারীতে। কবিতার চরণ রাজনীতির পরিম-লে দেশ থেকে দেশেÑ বিশ্ব পরিভ্রমণেও বাদ যায় নি। আর আরো বলা যায়, পরিশুদ্ধ অসাম্প্রদায়িক ধর্মীয় চেতনায় শাণিত স্রোতধারায় আমার কবিতা উচ্চারিত হয়েছে। ভাব ও ভবকে উৎসারিত করে যখন কিছু লিখে ফেলি তা কিন্তু গোছানো ও শৃঙ্খলিত। যাকে কবিতা তো বলতেই পারি। তবে তা কালোত্তীর্ণ সে কথা বলার মতো ধৃষ্টতা বা সাহস এখনো দেখাতে পারি না।
অবশ্য যা লিখি সেই কবিতাতে সুর আছে। চেনা অথবা অচেনা। পুলক আছে। বেদনা-বিষাদ, আর্তনাদ-আতঙ্ক-হাহাকার তো আছেই। অতীত রমোন্থন, ঘোরলাগা প্রেম, ইন্দ্রিয় সুখ, ঝঙ্কার-দোলা, আলো-অন্ধকার কত কিছুই যেনো সময়ে অসময়ে, নীরব কখনো সরব খেলায় অক্ষরে অক্ষরে, শব্দে-বাক্যে মিলিত হয়ে কিছু একটা হলো’র শান্তনা আর কিছু হবে এমন প্রেরণা নিয়ে আমার কবিতা ছুটে চলেছে, প্রকাশিত হচ্ছে।
তবে ঐ যে, জীবনের সকল সঙ্গ-অনুসঙ্গের মাঝেও কেনো জানি যৌবনের দেশ প্রেমের উদ্দীপ্ত আলোর মিছিলের শক্ত সূতাটা এখনো সামনে এসে বারবার আমার কবিতার পঙ্ক্তিতে পঙ্ক্তিতে শক্ত ভিত বা অবস্থান নিয়ে প্রকাশিত হয়। তার সাথে যুক্ত হয় পূর্ব-পুরুষের গৌরবের ভালোবাসার অহংকার আর তাদের নিঃশ্বাসের পবিত্র বাতাসের সুঘ্রাণ। আমার কবিতারা তাই তাঁদের। কবিতায় জীবনের অসীম পুলক, ঐতিহ্য, ঐশ্বর্য আর ভালোবাসার বিশালতাকে তুলে ধরতে চেষ্টা করি, চলেও আসে। কেননা সেই সব লেখনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাদের পূর্ব-পুরুষ আর অতীত ইতিহাসকে চেনাতে, জানাতে সহায়ক হবে। আর যে জাতি মহান এক মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতা পায় তাদের জন্য কবিতার বিষয় পেতে আর কী লাগে! আমি মনে করি, বাংলার মানুষ, প্রকৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্যকে এক বিশালতায় ফুটিয়ে তুলতে শুধু কবি নয় প্রত্যেকটি লেখকেরই একটা কমিটমেন্ট থাকা উচিৎ। আমরা তো এই মাটি জলেই বেড়ে উঠেছি, কত না মায়ায়, ভালোবাসায়।
যে কবিতায় ছন্দ আছে, সুর আছে, ঢেউ আছে, গতি আছে তাকে তো বেঁধে রাখা যায় না, সে তো সময়কে উত্তরণ ঘটাবেই। আর সবচেয়ে বড় কথা, কবিতা তো চাইলেই লেখা যায় না। কবিতাকে আসতে হয়। যার হৃদয় যত বেশি ভালোবাসতে পারে, যার চোখ যত বেশি সুন্দর করে দেখতে পারে, যার অনুভূতির গভীরতা যত বেশি, সে যদি কাগজ আর কলমকে কাব্যিক ভাষায় ব্যবহার করতে পারেÑ সময়ের সঠিকতায়, তবে তা কবিতা হতে বাধ্য।
এমন সব ভাবনার বর্ণ বাড়তে বাড়তে তা শব্দ আর বাক্যে রূপ নিয়ে নিয়ে কবিতা হতে হতে প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় আরও অনেক পরে ২০০৮ সালে, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ থেকে। প্রথম বই হিসেবে তার প্রতি মায়া আছে কিন্তু মোহটা কেটে গেছে। কারণ, নির্দিধায় বলতে হয় তার মান নিয়ে। নিজেই বুঝতে পারি সার্বিক বিবেচনায় কবিতাগুলোতে আবেগ, প্রেম, উচ্ছ্বাস থাকলেও কাব্যিকগুণের বড্ড অভাব ছিল বেশিরভাগ কবিতায়। এরমধ্যেই তেরটি কাব্যগ্রন্থের রূপ নিয়েছে। পরবর্তী কাব্যগ্রন্থগুলো পাঠকের কাছে প্রশংসা পেয়েছে। কোনো ক্ষেত্রে একটু বেশিই প্রশংসাতে ভেসেছি যা আমাকে লেখার ক্ষেত্রে আরও বেশি দায়বদ্ধ করেছে একই সাথে নিজের প্রতি আস্থা সৃষ্টি করেছে। সত্যি বলতে প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কার আমি তেমন পাইনি। পুরস্কারের দৌড় প্রতিযোগিতায় কখনোই অংশ নেইনি। আর পুরস্কারের জন্য লেখিও না। আমার কবিতা আমার কাছে সাধনা এবং প্রার্থনাও বটে। পাঠক, বোদ্ধাদের কাছ থেকে যে অনুপ্রেরণা পাই তা আমার প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কারের চেয়ে অনেক বেশি সম্মানের মনে হয়। তারপরও দুটি সম্মাননা গ্রহণ করেছি। একটি চট্টগ্রাম উচ্চারক আবৃত্তি কুঞ্জ থেকে অপরটি রাজশাহী কান্তকবি মেলা থেকে।
শেষ পর্যন্ত বলতে পারি। যতটুকু প্রকাশ করলাম খুব সচেতনভাবে নির্মোহ থাকতে চেষ্টা করেছি। কিছু তথ্য শেষ পর্যন্ত দিতে পারিনি আমার ও পত্রিকার পৃষ্ঠার সীমাবদ্ধতার কারণে, সময়ের স্বল্পতার কারণে এবং সর্বোপরি মেধার শক্তি কখনো কখনো বিপরীত ¯্রােতের দিকেই ধাবিত করেছে। যা অনিচ্ছাকৃত।
কবি, সম্পাদক, সংগঠক। বাংলাদেশ
1 মন্তব্যসমূহ
সম্পাদককে অশেষ ধন্যবাদ
উত্তরমুছুন