কী লিখি কেন লিখি গৌরব জি. পাথাং


কী লিখি কেন লিখি
গৌরব জি. পাথাং


কী লিখি কেন লিখি
গৌরব জি. পাথাং

কবি-কথাসাহিত্যক
আমি স্কুল জীবন থেকেই সাহিত্যের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করি। আমার মা শৈশবে গল্প শোনাতেন। খোলা আকাশের নিচে চাঁদনী রাতে ঘরের উঠোনে বাবা ও তার সঙ্গীরা তাস খেলতেন। আর আমি  মায়ের কোলে গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়তাম। মা গান করতেন, কবিতা লিখতেন। তার ডাইরিতে গান ও কবিতা লেখা দেখতাম। বাবা ও মা ডাইরি লিখতেন। আর আমি তাদের জীবনের লিপিবদ্ধ কাহিনী ও পত্রগুলো আমি কৌতুহল নিয়ে পড়তাম। দেখতাম বাবা মায়ের সেই সব লেখায় দেখতাম সাহিত্যের কত উদ্ধৃতি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শরৎ, বঙ্কিম প্রমুখ লেখকের উক্তি, মূল্যবান কথা কিংবা গানের কথাগুলো চিঠির মধ্যে দেখতাম এবং খুব ভাল লাগত। এভাবে ধীরে ধীরে আমিও সাহিত্যের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করতে থাকি। 
দরিদ্রতা-দুঃখ-কষ্ট আমার লেখার চালিকাশক্তি। দুঃখ-কষ্ট পেলে সেই সব গল্প, কবিতা কিংবা গান হয়ে বেরিয়ে যায়। কেউ লেখার জন্য অনুরোধ করলে সহজে লিখতে পারি না কিন্তু দুঃখ কষ্ট পেলে, কোন ঘটনা ঘটলে কেউ না বললেও আপনা আপনি লেখা হয়ে যায়। কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন, “হে দারিদ্য, তুমি মহান/ তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান কণ্টক মুকুট শোভা---।” এই কথাটি আমার জীবনের দেখতে পাই। অভাব অনটন, পাওয়া না পাওয়ার ব্যথাগুলো, প্রেম বিরহ লেখার জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। 
আমার লেখার বিষয় ধর্মীয়, মূল্যবোধ, সামাজিক, আদিবাসী, নারী ও মানুষের অধিকার। আদিবাসী ও দরিদ্র মানুষের হয়ে, আদিবাসী ও দরিদ্রদেও জন্য লিখি। তাদের দুঃখ কষ্ট, অধিকার নিয়ে লিখি। সামাজিক অন্যায্যতা ও অধিকার বিষয়গুলো তুলে ধরি। মানুষকে সচেতন করে তোলার চেষ্টা করি। 

আমি বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও দৈনিক পত্র-পত্রিকাগুলোতে লেখালেখি করেছি এবং করছি। দৈনিক জনকণ্ঠ, প্রথম আলো, ইত্তেফাক, সমকাল, সাপ্তাকি প্রতিবেশী, বিনোদন, রোববার, ২০০০ (বিলুপ্ত), সাপÍাহিক, এখন, ত্রৈমাসিক পত্রিকা স্বর্গমর্ত্য, নব কল্লোল, যুবদৃষ্টি প্রভৃতি গুলোতে লিখেছি এবং এখনও কিছু কিছু পত্রিকা ও ম্যাগাজিনগুলোতে লিখছি। দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় শুরু করেছি ‘টুকরো গপ্প’ দিয়ে। তারপর কলাম, মতামত ও গল্প প্রকাশিত হয়েছে।  দৈনিক সমকালেও মতামত লিখেছি, গল্প লিখেছি। দৈনিক প্রথম আলো’র ‘বন্ধুসভা’ কলামে কবিতা ও গল্প লিখেছি। প্রথম আলো পত্রিকা ‘বন্ধু সভা’র সব কবিতাগুলো নিয়ে সময় প্রকাশনী থেকে “পা ভাঙা চড়–ই’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছে ২০১০ খ্রীষ্টাব্দে। তাছাড়াও এই পত্রিকায় মতামতও লিখেছি। দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় মতামত লিখেছি এবং এখনও লিখছি। সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘প্রতিবেশী’তে নিয়মিত লিখছি। এভাবে এখন লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছি। 

কবিতা ও গল্প লেখালেখির পাশাপাশি গানও লিখে যাচ্ছি। গান লেখা ও সুর করার কাজ করছি। ইতোমধ্যে ‘বাণীদীপ্তি’ স্টুডিও থেকে কয়েকটি গান রিলিজ হয়েছে। বড়দিন, ইষ্টার, যাজক অভিষেক, সংস্কার প্রদান অনুষ্ঠান উপলক্ষে আমার গান যৌথভাবে রিলিজ হয়েছে। ২০০৮ খ্রীষ্টাব্দে আমার রচনায় বিটিভিতে বড়দিনের একটি অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচারিত হয়েছে। এ বছর (২০২১ খ্রীষ্টাব্দে) ইষ্টার উপলক্ষে বিটিভিতে আমার লেখা ও সুর করা একটি গান প্রচারিত হয়েছে। 
২০১৮ খ্রীষ্টাব্দে ‘থকবিরিম’ প্রকাশনী থেকে আমার প্রথম প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘নিবেদন’ প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দে একই প্রকাশনী থেকে আমার প্রথম গল্প বই ‘ভালোবাসা, ভালো থেকো’ প্রকাশিত হয়েছে এবং ২০২১ খ্রীষ্টাব্দে একই প্রকাশনীতে থেকে কাব্যগ্রন্থ “দূর থেকে ভালোবেসে যাব’ প্রকাশিত হয়েছে।  এছাড়াও যৌথভাবে কবিতার বই ‘আর্শি’, পা ভাঙা চড়–ই’ গল্প বই ‘ মানপত্র এবং’ প্রকাশিত হয়েছে। 

ফাদার গৌরব জি পাথাং: পাল পুরোহিত। সহকারী পরিচালক: মরো  সেমিনারি, জিন্দাবাহার, ঢাকা

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ