জ্ঞান ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক আনিসুজ্জামান || গোবিন্দ ধর

জ্ঞান ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক আনিসুজ্জামান 
গোবিন্দ ধর 

জ্ঞান ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক আনিসুজ্জামান 
গোবিন্দ ধর 


বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন হোক আর দেশ গঠনে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে একজন ইতিহাস সচেতন নাগরিক হিসেবে কর্তব্যকর্মই হোক অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বাঙালি জাতির নিকট চেতনা সমৃদ্ধ একজন আলোকোজ্জ্বল জ্ঞান তাপস। তাঁর কর্মতৎপরতার নজির তিনি সারা জীবনেরর কর্মে লেখায় রেখে গেছেন।এই মহান মানুষটির নিকট যত বেশি নতজানু হওয়া সম্ভব, যত বেশী চর্চা হবে তাঁর জীবন,কর্ম ততই জাতি আরো সমৃদ্ধ হবে।দেশের ভেতর,দেশের বাইরে যেখানেই মানব সম্পদকে প্রজন্মের মানবিক বিকাশ সাধনে সঠিক পথ ও দিশায় এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।

আনিসুজ্জামান আমাদের ত্রিপুরায় এসেছেন নানা সময়।একবার আমার তাঁর আলোর সরণির স্পর্শ পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছি।
১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৪ স্রোত প্রকাশনার স্টলে বিশিষ্ট সাহিত্যিক  বাংলাদেশের জনাব আনিসুজ্জামান স্বস্ত্রীক এসেছিলেন আগরতলা বইমেলায় তিনি ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন।আমাদের বই নেড়ে দেখে  তিনি আনন্দিত।সাথে পশ্চিমবঙ্গের কবি দীপিকাবালা বিশ্বাস এবং স্রোত সাহিত্য পত্রের সম্পাদক কবি ও অক্ষরশ্রমিক হিসেবে আমি স্টলে ছিলাম সেদিন।
একজন জাতীয় অধ্যাপক জ্ঞান তাপস প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব আনিসুজ্জামানের নিকট দাঁড়িয়ে থাকার যোগ্য আমি নই।স্রোত প্রকাশনার একজন শ্রমিক হিসেবে সে সুযোগ আমি পাই। সেদিন স্টলে আমি ছিলাম।এই আনন্দ এই অহংকার করার মতো ঘটনায় আমি জীবনকে ধন্য মনে করেছও।জীবন থেকে আর কিচ্ছু না পেলেও আমার আর কিচ্ছু চাওয়ার নেই। 
আগরতলা বইমেলায় সেবার তিনি প্রতিবেশী দেশের অতিথি হিসেবে আগরতলা বইমেলা -২০১৪ মঞ্চ  আলোকিত করে ত্রিপুরাকে করেছেন গর্বিত।আগরতলা বইমেলার পালকে এই সংযোজন ঘটে তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতিতে।সেদিন তিনি দেখে ত্রিপুরার উল্লেখযোগ্য প্রকাশনার স্টলগুলো স্বচক্ষে দেখেন। তিনি আমাদের বিভিন্নরকমের গ্রন্থ নেড়েচেড়ে আমায় বলেছিলেন লেগে থেকো গোবিন্দ। এই কাজটি নিরন্তর চালিয়ে যেও।রাজ্যের উল্লেখযোগ্য লেখকের গ্রন্থ প্রকাশ করে ত্রিপুরাকে তুলে ধরবে । বই হলো জ্ঞানের প্রদীপ। পাঠকের মাধ্যমে একটি বই যে সেতু তৈরী করে,যে প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করে তা সময় পরিবর্তনে,সমাজ পরিবর্তনে,অন্ধকার দূর করতে এবং সর্বোপরি ভাবনার স্তরের যে ক্রমপরিবর্তন সম্ভব পৃথিবীর আর কোন কাজে সে সুযোগ থাকে না।শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান মহাশয় সল্প সময়ের জন্য আমাদের মতো সামান্য আড়থ সামাজিক কাঠামোয় দাঁড়িয়ে কাজ করার দুঃসাহসিক প্রচেষ্টাকে তিনি যেভাবে মূল্যায়ণ করেছিলেন তা আমার জীবন ও ভাবনাকে নাড়িয়েছিল। আমি কিছুক্ষন তন্ময় হয়ে যাই।আমি নীরব হয়ে যাই।আমি আপ্লুত হয়ে যাই।আমি আনন্দিত হই।আমি গর্বিত হই।আমার অন্তর্আত্মার নিকট নতজানু হই।তাঁর উচ্চতার নিকট নতজানু হই।তাঁর জ্ঞানের নিকট নতজানু হই। তাঁর প্রজ্ঞার নিকট নতজানু হই। 
একজন মানুষের ভেতর জ্ঞানের বাতি কতটুকু আলোকোজ্জ্বল হলে সামান্য একটি প্রকাশনার সামান্য কাজকেও কত বড় ভাবে দেখার ভাবার অবকাশ যাপন তিনি করেন তা উপলব্ধি করে আমি আমার সামান্যের নিকট বড় সামান্য হতে থাকি।আজীবন তাঁর মহত্ত্বের নিকট আমি নতজানু তাই।

স্রোত প্রকাশনার এই পথ চলায় মানুষটির অবদানকেও আমি স্নায়ুকোষে চিরদিন লালন করেই এগিয়ে যেতে চেয়েছি।
আমরা আপ্লুত।আনন্দিত।গর্বিত।গৌরবান্বিত।

আনিসুজ্জামান ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর পিতার নাম এ টি এম মোয়াজ্জেম। তিনি ছিলেন বিখ্যাত হোমিও চিকিৎসক। মা সৈয়দা খাতুন গৃহিণী হলেও লেখালেখির অভ্যাস ছিল। পিতামহ শেখ আবদুর রহিম ছিলেন লেখক ও সাংবাদিক। আনিসুজ্জামানরা ছিলেন পাঁচ ভাই-বোন। তিন বোনের ছোট আনিসুজ্জামান, তারপর আরেকটি ভাই। বড় বোনও নিয়মিত কবিতা লিখতেন।অধ্যাপক আনিসুজ্জামান মহাশয়ের জন্ম বাংলার পটভূমি পশ্চিমবঙ্গে এই প্রাপ্তিও আমাদের গর্বিত করেছে।তাঁর জ্ঞানের গভীরতা মূলয়ায়ন করার সার্মথ আমার নেই। তাঁর প্রাপ্তি ব্যপ্তি ও উচ্চারণে আমরা আমাদের নিকট আরো দায়বদ্ধ হই।

তাঁর এই জ্ঞানের মূল্যায়ন সময়ে সময়ে নানা প্রতিষ্ঠান দিয়েছেন। দিয়েছেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ডি. লিট (ডক্টর অব লিটারেচার) ডিগ্রি লাভ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ‘সাম্মানিক ডি. লিট’ ডিগ্রি দিয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য কেশরীনাথ ত্রিপাঠী অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে এ উপাধি প্রদান করেন। শিক্ষাবিদের সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী, সঙ্গীতজ্ঞ প্রতুল মুখোপাধ্যায় ছিলেন।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এর আগে রবীন্দ্রভারতী ও নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাম্মানিক ডি. লিট লাভ করেন।

নানা ভাবনায় তিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন।৫২ থেকে ৭১ ইতিহাসের ঘটনায় বাঙালি জাতির অবদানকে বিশ্ব মানের প্রজ্ঞায় প্রজ্বলিত করে পরিবেশন করেছেন নিজস্ব বোধ ও প্রজ্ঞা। পাঠ করলে সমৃদ্ধ হওয়া যাবে।সমৃদ্ধ হবো জাতির বিবেক।

২২:০৬:২০২১

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ