কী লিখি কেন লিখি
তুষারকান্তি সাহা
আমার সব লেখা কেবল তার জন্য...তার প্রেরণার ফসল। ইছামতীর পারে শৈশবের পাঠশালায় আট বছর বয়সেই অদেখা,অচেনা স্বপ্ন নিজেরই
অজান্তে ভিড় করেছিল বুঝি।
তারপর তোর্ষা সোনকোষ ব্রহ্মপুত্র গৌরাঙের জল মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় বরাকের ঢেউয়ে ...
প্রেমতলা থেকে প্রেরণার তরী ভেসে আসে বরোগ্রামের কুলে।
ছাপিয়ে ওঠে জীবন,অন্বেষণ। সম্ভাবনাময় উর্বর মাটিতে আবাদ হয় লেখার ফসল ... সব তারই জন্য।
একসময় ভেবেছিলাম এসব আমার কাজ নয়। সাহিত্যভুবনে এমনতরো অনাসৃষ্টি কারো কি কাজে আসে? তো, পথ ছেড়ে দেওয়াই ভালো। কিন্তু ভালো-মন্দের বিচারকর্ত্রী মুখভার করে বসে থাকেন।
কখনওবা অভিমান করে দূরে
নক্ষত্রজগতের দিকে তাকিয়ে উদাস হয়ে যান। অনুভব করি তাঁর একাকীত্ব, তাঁর যন্ত্রণা।
আমিও তখন ডুবে যাই বিষাদগ্রস্ততায়। আর তখনই সৃষ্টি হয় নতুন লেখা... প্রাণ পায় আমার প্রেরণা।
বস্তুত , লেখা আমার কাছে বেঁচে থাকার মূলমন্ত্র । চাবিকাঠি। মৃতসঞ্জীবনী সুধা। কত কত যুগ আগে সে-ই তো এই অমৃতধারার
সন্ধান দিয়েছিল যৌবনবনে... তারপর কেটে গেছে কত দিন কত রাত অথচ থাকিনি একসাথ
তবুও জড়িয়ে আছে ভালোবাসার আস্বাদ---- যা আমাকে তাড়িয়ে নিয়ে যায়
সৃষ্টির ছায়ায়। হ্যাঁ, আমি বাঁচি এভাবেই অনন্ত প্রেরণায়।
আসলে লিখতে চাই বলেই লিখি। ভেতর থেকে লেখা উঠে না এলে ছটফট করতে থাকি।
নিজের জন্য যতটা নয়, লেখার জন্যই তার চেয়ে বেশি। জানি, অভীষ্ট লক্ষে কোনোকালেই পৌঁছাতে পারব না। তবু বাঁচার তাগিদে নান্য পন্থা।।
সারাটা জীবন ধরে তো আসলে একটি লেখাই লিখতে চেয়েছি। কেননা, এ যাবৎ যত কিছুই লিখেছি সেসব তৃষ্ণা নিবারে ব্যর্থ ... অন্তত আমার উপলব্ধিতে। তবু আশাহত নই।
একদিন না একদিন সেই লেখাটির সন্ধান নিশ্চয়ই পাব।
জানি, সেও যে অপেক্ষায় ।
তার সুখের জন্যই তো আমার
লেখার যাত্রা অবিরত। অব্যাহত।
অন্য কোনোখানে
অন্য কোনোখানে যখনি চলে যেতে চাই
চারিদিকে রব ওঠে পালাই পালাই
বুকের মধ্যিখানে জেগে ওঠা দ্বীপ
লো- ব্যাটারির মোবাইলে করে বিপ্ বিপ্
ভালোবাসা প্রণয় ঢাকি গোপন অাঁধারে
শুকপাখি ঠোঁট নাড়ে আহা রে ...আহা রে!
একদা ছিল সখ্য যাহাদের সাথে
কোজাগরি জোছ্না গায়ে মেখে হেঁটেছিলাম পথে
কী কথা উদ্বৃত্ত আছে জানিনা তো আজ
বিষণ্ন অসুখে ধুয়ে গেছে আমার রাজসাজ।
3 মন্তব্যসমূহ
ভালো লাগলো।-বিজয়া দেব ।
উত্তরমুছুনএই মন্তব্যটি লেখক দ্বারা সরানো হয়েছে।
উত্তরমুছুনএই মন্তব্যটি লেখক দ্বারা সরানো হয়েছে।
উত্তরমুছুন