গল্প
দেবলীনা র বিয়ে
একলব্য করোনা ভাইরাস হাসপাতাল । দক্ষিণ জেলার করোনা ভাইরাস জেলা পজেটিভ রুগীদের চিকিৎসার জন্য খুলেছে স্বাস্থ্য বিভাগ ।রুগী আসবার বিরাম নেই ।মুখ কালো, মৃত্যু ভয়ে ভয়ার্ত রুগীরা আসছে ,দু সপ্তাহ বা তিন সপ্তাহ পর চলে যাচ্ছে হাসিমুখে। কিছুটা সুবিধা অসুবিধা থাকলে ও মৃত্যু হয়নি কা্রো তাই এ হাসপাতালে আসা রুগীরা স্বস্তির নিশ্বাস নিচ্ছে ।
শান্তির বাজারে র দেবলীনা আর বিলোনিয়া র সুকান্ত ।দু জন এসেছে দুদিক থেকে দুটো এম্বুলেন্সে । দুজনের রেজিস্ট্রেশন পাশাপাশি । মহিলা ও পুরুষ এর আলাদা বিভাগ । চারদিনের মাথায় দেখা হয় বারান্দায় । দুজনের পজেটিভ তাই ছোঁয়া ছোয়ির বাছ বিচার নেই ।
সুকান্ত বলে এ বয়সে মরে যাবো কিছুই তো ভোগ করলাম না। দেবলীনা বলে একে নুন আনতে পান্তা ফুরায় তার উপর করোনা ভাইরাস । বাঁচি মরি এক সমান । সুকান্ত বলে ওভাবে বলো না । নুন ফেন যা খাই না কেন পৃথিবীতে বেঁচে থাকাটাই হলো আশ্চর্যের । আমি বাঁচতে চাই ।
দেবলীনা বলে এম এ পাশ করে টিউশনি করছি । এখন ভাইরাস এর ভয়ে টিউশনি বন্ধ । আমাদের সংসার চলবে কি করে ।
সুকান্ত বলে আমার বাবা মা চাকুরি করে ।জমি জমা আছে অর্থের অভাব নেই ।এম এস সি করেছি , চাকুরি ষনা পেলে ব্যবসা করবো । আমি একমাত্র ছেলে , দিদির বিয়ে হয়ে গেছে ।
দেবলীনা আর সুকান্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়া পায় যে যার বাড়ি চলে আসে । এখন আর করোনা ভাইরাস এর ভয় নেই কারো । পৃথিবীতে বেঁচে থাকার আনন্দ দুজনের মনে । একে অপরকে ফোন নম্বর বিনিময় করে । সুকান্ত দের অভাব নেই , দেবলীনা মনোকষ্টে ভুগছে টিউশনি বন্ধ ।
এদের কয়েক দিনের মধ্যেই একটা গাড়ি এসে থামে দেবলীনা দেয় গেটে । সুকান্ত মা বাবা কে নিয়ে দেবলীনা র বাড়ি এসেছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে । দেবলীনা র মা বাবা যেন হাতে স্বর্গ পান ।
ঠিক হয় কোন প্রকার যৌতুক বা দান সামগ্রী ছাড়া হবে বিয়ে ।ঐ আগর দিনের মতো কন্যাপণ দিয়ে হবে বিয়ে । শুধু লালচেলী আর পাঁচটা হরীতকী । পাঁচজন এয়োতি আর অগ্নী সাক্ষী ।
করোনা ভাইরাস এর মহামারী আকালে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলাচল ও ছোঁয়া ছোয়ির স্পর্শ বাঁচিয়ে রাখা ।
দেবলীনা ও সুকান্ত গত দু মাস সুখে শান্তিতে আছে ।
আজব এ করোনা ভাইরাস এর কাল , মৃত্যুর মুখ থেকে বিয়ের পিড়িতে , লেনদেন বা খরচ পাতি নিয়ে জমি বাড়ি বিক্রি বা বন্দক দিতে হয়নি।
কয়েক গাড়ি বরযাত্রী বা কনে যাত্রী নিয়ে কোন পক্ষের হ্যাপা ছিলো না।
0 মন্তব্যসমূহ