শিমুল পারভীনের কবিতা

অবগাহন
শিমুল পারভীন 

অবগাহন না করলে জীবনকে তো জানা হয়না ঠিকঠাক ,জলে না নামলে যেমন সাঁতার শেখা হয়না।
শুকনো পাতা গড়িয়ে গিয়ে হাওয়ায় পাথরের উপরে উপরে মন্দাক্রান্তা ছন্দে বিলম্বিত একতালে কোন গায়িকা যখন জৌনপুরীতে গান ধরে,তখন কোমল নি যেন বুকের সব আনন্দ কান্না নিংড়ে নিয়ে ভাবগম্ভীর  সুরের রঙ ছড়িয়ে দেয় আসন্ন শরতের কাশের বনে।মনে হয় সময় এসেছে অবগাহনের। মনে হয় কে যেন নরম পা ফেলছে শুদ্ধ  বা কোমল পর্দাতে, থমকে দাঁড়াচ্ছে শ্রুতিতে, সুরে, আবারও চমকে চলছে সমস্ত প্রকৃতি। যেন অবগাহনের সব মিস্টি গন্ধ মেখে গায় ছুটে চলেছে ঐশী ঐক্যতানে। এইতো সময় সব তুচ্ছতাকে দূরে সরিয়ে নিজেকে নিবেদন করার।
ভোগ বা দান যে জানেনা সঞ্চয়কে শুধু একান্ত করে জানে তারাতো জানেনা এ আনন্দ কতো গভীর।জীবনকে যারা,কৃপণের মতো দেখে তারা কোনমতেই কোথাও মেলাতে পারেনা নিজেকে। তাদের কেবলই চাওয়া আর চাওয়া, চলা আর চলা। অবগাহন তাদের জন্য নয়। তারা চাবুক আর লাগাম কে স্বীকার করে, বৃহৎ এবং সুন্দর শেষ কে তারা মানেনা। দু হাতে আসন আঁকড়ে পড়ে থাকে যারা কি করে জানবে আসন সময় মতো ছাড়া কতো গৌরবের। পাকা ফলের ডাল ছেড়ে মাটিতে পড়া তো তার ব্যর্থতা নয় সেখানে বৃহত্তর জন্মের উদ্যোগ পর্ব সেখানে অজ্ঞাতবাসের পালা, সেখানে বাহির হতে ভিতরে প্রবেশ।
অবগাহন তো তার কাছে শেখা।
তার কাছে শেখা ভালোবাসা বাঁচিয়ে রাখা সোজা ব্যাপার নয়!
কাকে যে বলে ভালোবাসা তা বোঝে ক'জন। ভ্যাপসা মনের দরজা খুলে আলো, হাওয়া, পাখির ডাক, ফুলের গন্ধেও  যে অবগাহনের সুর  বাজে তা খুঁজে নিতে হয়।  অবগাহনের সময় পেছনে ফেলে দিতে হয় পেছনের জীবনের সব অলস বেলা।


অন্য নামে
শিমুল পারভীন 

বহুদিন পর, 
অন্যনামে অন্য খামে এলো একই চিঠি 
প্রেরক শুধু বদলে গেছে  লেখা তবু খাটি। 
বুমেরাং এর মতো এলো কষ্ট গুলো ফিরে
আমারই দেয়া দুঃখগুলো ফেরত এলো ঘরে। 
অন্য কোন নামে বিবর্ণ এক খামে 
মূল্য এবার চুকাতে হবে বড্ড চড়া দামে।
ফেরত এলো আমার দেয়া দুঃখের নীল চিঠি 
আমার কাছে সবই আছে 
হৃদয় শুকনো মাটি 
জানি আর ফিরবে না সে 
থাকবে দূরে দূরে 
আমারই তো ভুল ছিলো সব পেয়েও পাইনি তারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ