বাবার দেশত্যাগ
গোপালচন্দ্র দাস
রোদ্দুর মাথায় নিয়ে
একদিন জ্যাঠমশাই এসে বাবাকে বললেন
সবাই চলে গেছে
তুই কেন পড়ে আছিস?
এখানে হিঁদুর খুঁটি শিথিল।
বাবা শুধু চুপচাপ ভাবতেন
দেশভাগ দেশত্যাগ মা ছাড়া সন্তান
চৌদ্দপুরুষের ভিটে-মাটি ছেড়ে
সন্তানের জন্যে কি কাঁদবে না বাবার শ্মশান
ক্ষমা করো জননী জন্মভূমি এযে মহাপাপ!
হা ঈশ্বর! এতো দুঃখ! এতো বিষাদ!
কি করে বাঁচে মানুষ শরীর ছাড়া প্রাণ।
তারপর বাবা ধূতির খুঁটে ময়লা লাগতে দেননি। মত বদলালেন
স্বজন ছাড়া বাবা যেনো অনাথ শিশুর মতো
জমি-জমার দলিলের প্রিয় বস্তুনী
নিয়ে আসা যায়না,ফেলে আসাও যায় না
প্রতিবেশীর হাতে দিয়ে বাস্তুভিটায় বাবার অন্তিম প্রণাম।
মায়ের চোখে জল।
আমি আঁচলের খুঁট কামড়িয়ে মিছেমিছি বায়না ধরি।
এখন শীতকাল,বাবা আমার গল্প বলার গাছ।
এদেশে এসে বাবা আর দাওয়ায় মাদুর পেতে বসেননি
পাতার ফাঁকে চাঁদ দেখে আর গল্প বলেননি।
বাবা যেন অন্য মানুষ।
0 মন্তব্যসমূহ