হৃদপিণ্ড
পিঙ্কু চন্দ
পথে যেতে যেতে কুড়িয়ে নেই
কিছু নুড়ি পাথর বালি
তারপর টুকাই বালকের স্বপ্ন ঘ্রাণে
সাত মহলা বাড়ি
মৃতবৎসা চাঁদের মত
আমাদের বোবা রাত ঘুমোয়
আমি বিছানায় এপাশ ওপাশ করে
অন্ধকারের মাত্রা পরিমাপ করি
আমাদের সূর্যোদয় প্রসব যন্ত্রণার মত
ছটফট করে কষ্ট ঘ্রাণে ভূমিষ্ঠ হয়
জীবনের হাজার চূর্ণ-বিচূর্ণ স্বপ্ন
চুপিসারে কাকের বাসায় ডিম পাড়ে
এখানে কোন সমুদ্র উচ্ছ্বাস নেই
ধুধু বালিয়াড়িতে নিষ্ফল বীর্যপাত
অনিশ্চিত খাঁচার ভেতর একটা পাখি
হৃদপিণ্ড হারায় স্বাভাবিক স্পন্দন ।
-----------------
ডানা
পিঙ্কু চন্দ
আকাশে এক ছোট তারা
ঘুরপাক খেতে খেতে
নিজস্ব আলো আর উত্তাপ খুঁজে
মহাজাগতিক ভাবনায়
একটা আপেলের গল্প
কিভাবে বিস্তৃত হয়
সম্পর্কের সুঁচ সুতো
উড়ন্ত পাখির ডানায়
সুখের স্বপ্ন বৈভব
তারার শরীরে পাখির ডানা
আমার ভবঘুরে জীবন।
----------
খোঁজ
পিঙ্কু চন্দ
এখানে আলো ছিল ঝাড়বাতি ছিল
এখন ঝোপঝাড় ভ্যাপসা গরম
অপ্রস্তুত আমি হাতড়ে খুঁজি
ধ্বংসাবশেষে পিতৃ পুরুষের মুখ
কেউ কি খুঁজবে আমার কবন্ধ কঙ্কাল
যেখানে বটের ঝুরি আঁকড়ে ধরে মাটি
সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালে জোনাকি পোকা
উত্তরপুরুষ তোমার জন্য বিষাদ মেঘ
যা ছিল আমার একান্ত উত্তরাধিকার
তোমার জন্য অতল জলের ছবি
অনিশ্চিত কাগজের খেয়াতরী
তুমি কি খুঁজবে কোনদিন
ছেঁড়াখোঁড়া চাঁদের মুখ
অথবা রক্তমাংসের ভেতর
নশ্বর জীবনের অবিনশ্বর ঠিকানা।
----------------------
আগুনের গল্প
পিঙ্কু চন্দ
শীতার্ত মানুষ উষ্ণতার খোঁজে
আগুনের পাশে ভীড় জমে
আমি দেখি সেসব মুখের আবছা ছবি
ট্যাটু হয়ে বসে আছে কুয়াশা রাতে
আগুনের পাশে বসে আছে তারা তবু
হৃদয় নিরক্ত মাছের মত উত্তাপ হীন
জ্বলে আগুন কারা জড়ো করে
শুকনোপাতা খড়কুটো কাগজ
ওদের বুকে আগুন পেটে আগুন
আগুনের সাথে মাখামাখা জীবন
এসব খন্ড আগুন মহাকাব্য হয়
আর ছড়িয়ে পড়ে পাখির ডানায়
অতঃপর মানুষ শুনবে একদিন
সেসব আগুন পাখির গল্প।
--------------
দার্শনিক
পিঙ্কু চন্দ
ডিমের ভেতর ভ্রূণ
পাখি ও মানুষ
গরু ও ঘোড়া
অবিকল একই রকম
সাপেরও লেজ
ব্যাঙেরও লেজ
কারও থেকে যায়
কারও খসে যায়
আগুনও লাল
রক্তও লাল
দুজনই সমান
ধ্বংস ও বিনির্মাণ
হাতের তর্জনী
শাসায় না কেবল
প্রতিবাদও করে
শোষণে উৎপীড়নে
কুকুর ও হাতি
ঘোড়া ও ডিমে
তফাৎ নেই
রাম ও রহিমে ।
----------------
1 মন্তব্যসমূহ
ঋদ্ধ হলাম সাংঘাতিক ভাল কবিতা। কবিকে আন্তরিকঅভিনন্দন
উত্তরমুছুন