ছেঁড়াপাতার সাঁজাল // নুরুন্নাহার শিরীন


বাংলা কবিতার আঙিনায় নুরুন্নাহার শিরীন এর আবির্ভাব '৭০ দশকের শেষার্ধে। 
পিত্রালয় কুমিল্লা শহরের দারোগাবাড়ি তে। 
শ্বশুরালয় : বন্দর নগরী চট্টগ্রাম এর পটিয়া তে। 
বর্তমানে সপরিবারে ঢাকাবাসী। 
 
"এখন মানুষ কতটা মানুষ আর কতটা কুকুর জানি না তো !  
শুধু ছিন্নভিন্ন লোনায় শেকলে 
শ্যাওলায় রেখেছি পা ..  
অবিরাম টের পাচ্ছি পিছলে পড়ার অনুভূতি ... " 
দশকের এমনই অনিশ্চয়তা-অস্থিরতার চিত্রকল্পের উপস্থাপনার মধ্যে প্রথম কাব্যগ্রন্থ  "শ্যাওলায় রেখেছি পা"  প্রকাশিত হবার পর ক্রমান্বয়ে নিজেকে সংহত করেছেন সৃষ্টির গভীর মৌন চেতনায়। মিতভাষী ঋজুবাক নুরুন্নাহার শিরীন এর কবিতায় বহুমাত্রিক উপমার চিত্রকল্পময় বোধ তৈরী করেছে তার একান্ত নিজস্ব পাঠ শৈলী যা পাঠকের মন ছুঁয়ে দেয়। 

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ১৩ টি। 
প্রকাশিত গদ্যের বই ২টি। 
প্রকাশিত ছড়ার বই ২ টি। 
সম্পাদনা করেছেন ৪ টি গদ্য-পদ্য বইয়ের। 

এযাবত সম্মাননা পেয়েছেন কুমিল্লা আবৃত্তি সংসদ, চট্টগ্রাম বোধন আবৃত্তি পরিষদ, আম্বেদকর জন্মজয়ন্তী উৎসব ত্রিপুরা,  'বঙ্গাড্ডা' পশ্চিমবঙ্গ ভারত থেকে। 
পুরস্কার :  বাংলাদেশ শিক্ষা সংস্কৃতি মন্ত্রনালয় আয়োজিত দেশব্যাপী "উদীয়মান সাহিত্য প্রতিযোগীতা"-য় জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষ পুরস্কার।

ছেঁড়াপাতার সাঁজাল 
    নুরুন্নাহার শিরীন 

এক।। 

 মেঘলা চড়ায় খুঁজছিলাম যখন 
 একফালি ঠাঁই আহা ...  
 মাথায় মগজে এসে 
 ঠেকলো আকাশরেখা !  
 কে যেন রোদ্দুরের কণ্ঠে 
 পড়লো কবিতা ...  
 শুনে হৃদয় লাফিয়ে উঠতেই 
 জোছনার চন্দন খুঁজে পাই !  
 সুখ ওড়ে বনে ...  
 মনপবনের উত্তেজনা মাত্রাছাড়া  
 আঁকাবাঁকা নদীময় শত কথা .. 
 ভুবন পাগলপারা ..  
 ঠিক তখন তাহারে পড়ে মনে ...  
 আর জটিল ধূলিকাবেলা 
 ধাক্কায় ঢেউ চুরমার করে 
 আমায় বসিয়ে রাখে একা ...  
 নীল ব্যথার ভিতরে। 

দুই।। 

 কতকাল? কতকাল? 
জেগে আছি পরিযায়ী 
অভিমানে। অপমানে। 
জেগে আছি দূরগামী 
পরবাসী স্বপ্নসুদ্ধো 
পাতাদের গানে। 
অভিন্ন। অতন্দ্র। 
মহাকাল সুতীব্র লাল। 

কে কবে কখন এসে 
কবন্ধ কুয়াশাকে চিরে 
নিয়ে যাবে পারে? 
কে কবে কালচে যত 
জমাট গভীর ক্ষত 
শুষে নিতে পারে? 
বৃক্ষ ছুঁয়েছি প্রেমান্ধ ...  
যেন খসে যাওয়ার পরে 
তীব্রতম হৃদয়জাত 
ভালোবাসা ঝরে অবিরত ...  সেই আকুল দেশপ্রেম 
সেই তো তুমুল শ্যামলিম 
চিরকাল বাঁচে সঘন পাঁজরে  
ভাঙা ক্ষণজীবী হাড় ভেদ করে। 

তিন।। 

 আভাময় ভোর এসে কড়া নাড়ে 
 পুরনো মগজে লাগে 
 নতুন আলোকরেখা ...  
যেন কালের কবিতা !  
আদ্যন্ত জাগ্রত ঘোর মনে পড়ে? 
আদ্যন্ত জাগ্রত ঘোর মনে পড়ে? 
অপার আঁধারে তারে মনে পড়ে। 
অপার আঁধারে তারে মনে পড়ে। 

চার।। 

 আমরা দেখেছি বহু বিভাজন। 
 আমরা দেখেছি বহু নির্জন ..  
 দ্বিখণ্ডিত কালের ক্রন্দন .. 
 ভাঙনের বাজনা চিরন্তন। 
 বিষাদের মেঘের মতোন -
 নিভৃত না বলা ব্যথার গুঞ্জন। 
 তবু আসে হঠাৎ পাওয়া ধন -  
 সে আসে হঠাৎ গানের ক্ষণ। 

পাঁচ।। 

 কান্নার চল্লিশ বর্ষ পেরিয়ে - 
 অকরুণ সীমানা ছাড়িয়ে - 
 অবশেষে ছায়া জ্বেলে - 
 সেই তো আবার এলে !  
 সেই তো আকাশতলে 
 ছমছমে গান ভেসে যায় জলে। 
 থমথমে দিন তারাহীন রাত ...   
 তবুও কোথাও আলোমাখা হাত 
 হয়তো অপেক্ষায় আছে 
হয়তো স্বপ্ন গচ্ছিত তার কাছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ