সোমা লাহিড়ী মল্লিকের একগুচ্ছ কবিতা

সোমা লাহিড়ী মল্লিক


লেখাপড়া করার ও জানার অদম্য ইচ্ছা তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। লেখপড়ার সাথে সাথে আবৃত্তি চর্চা, গান শেখা এবং পাশাপাশি অল্প বিস্তর কবিতা লেখা চলতে থাকে। এরপর বিবাহসুত্রে আবদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি। স্বামী নীহার রঞ্জন মল্লিক পেশায় ইঞ্জিনিয়ার এবং একজন সুগায়ক। বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েও লেখাপড়া এবং কাব্যচর্চা থেমে থাকেনি। একে একে তিনি অর্জন করলেন এম. এ. (ভাষাতত্ব), এম. বি. এ. (হিউমেন রিসোর্সেস), এম. এ.(মনোস্তত্ব) এবং বি. এড. এর ডিগ্রী। এ ছাড়াও রবীন্দ্রসঙ্গীতে ডিপ্লোমা এবং কম্পিউটার এ্যপ্লিকেশনে ডিপ্লোমা অর্জন করেন তিনি। প্রাইভেট কোম্পানির মার্কেটিং ও এ্যডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে চাকরী করেন তিনি। বর্তমানে স্বামীর চাকুরী সুত্রে বাস করেন ছত্তিশগড় রাজ্যের বিলাসপুরে, পাল্টে ফেলেন নিজের জীবিকা। শুরু করেন মনোবিদ হিসেবে নতুন কর্মজীবন ও পাশাপাশি পড়াশোনা মনোস্তত্বে ডক্টরেট। কাব্যচর্চার পাশপাশি তিনি গদ্য রচনাও করেন। তাঁর রচিত কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সম্মাননা লাভ করেছেন কাব্যচর্চায়। দুই সন্তানের জননী তিনি , একটি পুত্র অপরটি কন্যা সন্তান।




বন্দনা
সোমা লাহিড়ী মল্লিক

তোমার স্মরণে মরনের পার হতে
পুষ্পমালা বর্ষিত আজ প্রভাত পাতে,
জানিলে না কবি, অমর তুমি
সৃষ্টি সুধা ছড়িয়ে রেখেছ, জড়িয়ে হৃদ-মাঝারে।
বাজছে আজও দিকে দিকে গান, কলতান-
ওঠে, পাখি ফেরে নিড়ে, অঞ্জলি ভরে
হাতের পাতায়, মাধুরী মিশায়ে, অশ্রু সাজায়ে
দিতে চাই আজ অর্ঘ্য তোমারে, পূজিব মন মন্দিরে।
কালের যাত্রা, দেবতার গ্রাস, রথের রশি পড়ে আছে
পথে, চলি নিজ মনে, আশ্রয় নিতে তাই শান্তি-নিকেতনে।
কলম যখন শাশ্বত হয়, দুরদর্শী ভাবনার জয়
ঈশ্বর কোটি জন্ম নিলে হয় বর্ষব্যাপী প্রতিক্ষার অবসান।
আমি করি শুধু বন্দনা গান, রচনা বিহীন অলীক সে তান,
যদি থেমে যেতে চায় কখনও, তুমি এসে টেনে নিয়ে যেও
দূরে, আলোকমালার ওই ওপারে, বাজে বাঁশি বুকে, 
দৃষ্টি হারিয়ে বুনি অন্তর্জাল। আবার আসো যদি 
যেওনা ফিরে, শিখবো নতুন বসে পদতলে,
আমি যদি যাই, কবি বেঁচে থাক সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।

©Soma Lahiri Mallik
Bilaspur, Chhattisgarh, India


শ্রাবণ 
সোমা লাহিড়ী মল্লিক 

শ্রাবণ চেনো কি? 
শুনেছ কি কানপেতে 
পাতার উপর জলের শব্দ! 
দেখেছ কি কেমন ভাবে গাল বেয়ে
টপ টপ করে পড়তে থাকে বর্ষা
জীবনের যে গোপন খাতাতে 
মলাট দেওয়া নেই, পাতাগুলো ঝরঝরে
কালি লেপ্টে যায় মুখময় 
রাতের অন্ধকারে টুপ টুপ শব্দ
জল পড়ছে, শ্রাবণ ভিজছে অঝোর ধারায়।।

©Soma Lahiri Mallik 
Bilaspur, Chhattisgarh


স্মরণে জয়ন্ত ঘোষ

তোমার চলে যাওয়া বজ্রাঘাতের মত,
চলে যাওয়া নয়, এ যে ছেড়ে যাওয়া,
দমকা বাতাসে ওলট পালট স্রোত 
হাহুতাশ আর চারিদিকে আফসোস 
ঘটা করে আড়ম্বরের প্রস্তুতির অঘটন 
মোহময় সুমধুর রাগ, বকার হঠাৎ স্খলন 
এক বটবৃক্ষের পড়ে যাওয়া অকারণ 
শোক থেকে অশোক হবার স্মৃতিচারণ। 
কেনো খসে পড়ে অসময়ে তারারা
কেনো এসে বলবে না আমি আছি তো!
এ যাওয়া শেষ যাওয়া নয় তো, এ যাওয়া 
ঝুড়িদের শক্ত হবার, শপথ নেবার,
কাঁধে কাঁধ রেখে এগিয়ে চলার বেড়ে ওঠার। 

@ সোমা লাহিড়ী মল্লিক
বিলাসপুর, ছত্তিসগড়

আছি
সোমা লাহিড়ী মল্লিক 

যদি ভাগ করেনি আমার আনন্দকে
মাঝ রাতের ওই পোশাকিভদ্রতাকে
কোন কিছু আজ থামবেনা অজুহাতে
আগেকার মতো হিসাব জমার সাথে।
দিনের শেষে একান্তে এসে খুলি 
মনের খাতার মলাট উল্টে দেখি
ব্যস্ততম মুহুর্তের ছোট্টো চুম্বনে 
অলিগলি বেয়ে রাজপথে হাত রাখি।
তুমি সেই আছো আজও তোমাতেই
আমি বুঝি আছি মিশে সব রঙেতেই। 
কথা শেষে কথা রেখেছিলে কতবার, 
আমি সেই আছি, অকারণে পাশে বসবার।।

©Soma Lahiri Mallik 
Bilaspur, Chhattisgarh

নিয়ে চলো 
সোমা লাহিড়ী মল্লিক 

মনে হয় বাহু বাড়িয়ে দি,
বলি হে সখা নিয়ে চলো
নিয়ে চলো সেই সুদূরে,
যেখানে অমৃত পথের কিনারায়
সারি সারি ফলে আছে অমৃত ফল
আকাশবাণী হয় এসো আমার ঘরে, 
নিয়ে চলো সেই আলোর ভুবনে 
যেখানে জোৎস্না নামে পাহাড়ের চূড়ায়, 
আমি যাবো সেই গান শুনতে, সেই সুর
আমাকে নিয়ে যাবে এক স্বর্গোদ্যানে
পারিজাতের সুগন্ধে বাতাস হবে মধুময়।
নিয়ে চলো সেই স্নিগ্ধ মেঘের কোলে
ছবির মাঝে আমি ডুবি সেই আলেয়ায়।।

© Soma Lahiri Mallik 
Bilaspur, C.G.

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ