একগুচ্ছ কবিতা // সম্পা বৈদ্য

সম্পা বৈদ্য এই সময়ের একজন অন্যতম বাকপ্রতিমা।কবিতাই তাঁর প্রেম দ্রোহ ও প্রতিবাদ।


শুদ্ধিকরণ 
সম্পা বৈদ্য 
#

নিজেই নিজেরে শুদ্ধ করি
মনের সাহস দিয়ে।
অশুদ্ধি দূর করি আতর ছিটায়ে।

শাস্তি
সম্পা বৈদ্য 
#
এ কেমন মহামারি! 
মানুষের পাশে মানুষ থাকে না,
ভগবান করেছে পৃথক তাদের।
এ কোন্ শাস্তি?
নিজেকে নিজের ভয় লাগে! 
অতঙ্কে থাকি আমি আমার ভয়ে!
এতকাল যাদের বিশ্বাসবলে পূজা করে এসেছি!
তারা যদি থাকেন তবে   কোথায় আছেন?
আমি প্রানহীন ঠাকুররে রেখেছি ঘরে।
আমার ঘর কাঙ্গাল করে সে দিব্যি বসে আছেন দেবত্বের ঐশ্বর্যে!


মরন জীবন 
সম্পা বৈদ্য 
#
মরনের সাথে পাঞ্জা লড়ে মিথ্যা হেসে সবাইকে বলেছি ভালো আছি!
তবে কি আমি মরনকে জয় করে জিতে গেছি জীবনে!
মরন একবারই আসে জীবনের ধ্রুবসত্য হয়ে।
তবু মিথ্যা অমৃত খোঁজে সময় করেছি অপচয়! 
কারনে জীবনে বেঁচে থাকার লোভ সামলানো দায়!


অন্য ইতিহাস 
সম্পা বৈদ্য 
#
তুমি চুপ ছিলে, তোমরা চুপ ছিলে!
 যেদিন রাজপথে হেঁটে হেঁটে মরে গেছিল কত ক্লান্ত শ্রমিকের দল।
কুকুরের লাসের মতন ধর্ষিতা হচ্ছে, হয়েছিল আমার মা বোন আর মেয়ে!
খাওয়ার অভাবে মৃত মায়ের আঁচলে ঠাঁই  খুঁজেছিল শিশু।
তোমরা প্রতিবাদী হয়ে আজ ন্যায় বিচার চাইছো তাতে খুশী সবাই!
কিন্তু সেদিন তোমার কন্ঠের প্রতিবাদী সুরে গড়তে  পারত পৃথিবীর এক অন্য ইতিহাস!


বউমার সাধ ভক্ষন
সম্পা বৈদ্য 
#
নয় মাসে নয় দিন ও বউমার জুটে না নিজের  প্রয়োজনের মাছ মাংস ডিম দুধে প্রোটিন খাবার!
অথচ বিজ্ঞান বলে  গর্ভবতী মার নাকি দরকার পুষ্টিকর খাবার!
নয় মাস ধরে অপুষ্টিতে ভোগে মা সন্তানের প্রান নাশ।
কিন্তু শাশুড়িরা বলেন বুঝে খাও  বাছা 
বেশী খেয়ে বাচ্চা বেশী বড়ো হলে কষ্ট কিন্তু তোমার।
বউমা বুদ্ধি করে রেডিওর সাউন্ড বাড়িয়ে রাখেন শাশুড়ী কানের সামনে।
রেডিও বাজে বকে " গর্ভবতী মাকে পুষ্টিকর খাবার দিন।"

বউমার মর্নিং সিকনেস,
কিছু খেতে ইচ্ছে হয় না তার।
আর ঠিক তখন একদিন ঘটা করে ইলিশ ভাজা, পাঁঠার মাংস,পায়েস, বাড়ির আর সকলের যা যা পছন্দ, কোনো ত্রুটি যাতে না থাকে ।
বউমার এই খেতে না পারার অনুষ্ঠানের নাম সাধ ভক্ষন।
তাই হয়তো এদেশে প্রতি ২০মিনিটে মারা যান একজন গর্ভবতী  আর সদ্যোজাত মা।


শূন্য ক্লাসরুম
সম্পা বৈদ্য 
#
তোদের ছাড়া কেমন সব খালি খালি লাগে।
ক্লাসরুম,হোস্টেল, লাইব্রেরী,খেলার মাঠ।
সব খালি,সব একদম খালি।
অনলাইন ক্লাসে নেই সে ক্লাসরুমের আমেজ।

ফাঁকা ক্লাসরুম,বাইরে  থেকে তালা ঝুলানো। 
তবু ফাঁকা ক্লাসরুমে তাকাই অনন্ত একবার বিনাকারনে।
কলেজের দেয়ালে,বেঞ্চে তোদের দুরন্তপনার ছাপ এখনো আছে।

তোদের আনাগোনা নেই,
তাই বড্ড মন খারাপ লাগে।
আবারএই মন খারাপের কোন ঔষধ নেই এদেশে।
তোদের কথা ভীষণ মনে পড়ে।

অডিটোরিয়াম চেয়ারগুলি সব খালি।
অথচ গত শরতেও মাতিয়াছিলিস নেচে গেয়ে।

কলেজ উইকের দিনগুলো জাস্ট আর কয়েকটা দিন বাকি।
আয় তোরা ফিরে আয়।

জানিস পেয়ারা গাছটার পেয়ারা পাখিরা একা খেয়ে শেষ করতে পারছে না,
আয় তোরা আয় আবার ফিরে আয় আগের মতন।

কোরনা নাশ হোক,
আমাদের আবার ক্লাসরুমেই দেখা হোক।
চকের আবীর আবার আমার মাথার চুল সাদা হোক।


শিক্ষক দিবস
সম্পা বৈদ্য 
#
৫ ই সেপ্টেম্বর হলেই ঘটা করে পালন হয় শিক্ষক দিবস।
স্কুল কলেজে সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জন্মদিনে তার ফটোতে মাল্যদান!
বক্তৃতা দেওয়া হয় লম্বাচওড়া 
শিক্ষক দৃঢ়চেতা, উত্তম নৈতিক চরিত্রের অধিকারী, নিরপেক্ষ, অকুতোভয়, সত্যবাদী। 
৫ই সেপ্টেম্বর মনে পড়ে শিক্ষক জাতির মেরুদণ্ড!
শিক্ষকেই গড়েন শিক্ষক  অধ্যাপক, ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার,শিল্পী,খেলোয়াড়!
শিক্ষকেই গড়েন মান আর হুস মিশ্রিত মানুষ।

বাকি ৩৬৪দিনেই মনে থাকে না তাদের এতো গুনের কথা।
তখন কিন্তু হিসেব কষি তার এক পিরিয়ড ক্লাসের পরিশ্রমের কথা।
লকডাউনে তারা নাকি বসে বসে বেতন পান!
একবার নোটস বানালেই নাকি কাফি!
শিক্ষক হওয়া নাকি সবচেয়ে সহজ কাজ!


নাকফুল 
স ম্পা বৈদ্য
#
অলস দুপুরে চিকমিক করে ওঠা মায়ের নাকের নাকফুল!
সে তখন থেকে আমার নোলক পরার ভীষণ শখ!
বায়না ধরলাম অনেকবার।
নাকফুল চাই!
নাকফুল চাই।

তবে নিত্য আমার লেগে থাকে সর্দির কাশীর ব্যামো। 
নাক ফোঁড়ানোর কথা শুনলেই ভয়ে হাত পা থরথর।

তবু শখ তো মনে জাগে।
অবশেষে সাহস রেখে মনে
নাকটাকে করলাম ফুটো। 

ভাগ্য দেখো আমার!
কোরোনার জন্যের মাস্কটা আমার নাকটাকেই দিল ঢেকে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ