সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত কবি-প্রকাশক বিজন বোস প্রয়াত

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত কবি-প্রকাশক বিজন বোস প্রয়াত

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ত্রিপুরার সাহিত্য ও প্রকাশনা জগতে অপূরণীয় ক্ষতি। প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট কবি, লিটল ম্যাগাজিন 'মনু থেকে ফেনী'র সম্পাদক এবং প্রকাশনা মঞ্চের সভাপতি ও সম্পাদক বিজন বোস (৫৬)। আজ শুক্রবার বেলা ১২টা নাগাদ আগরতলার শ্যামলীবাজারস্থিত ড. রেড্ডির নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর প্রয়াণে প্রকাশনা মঞ্চ ও স্রোত প্রকাশনা পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

বাড়ির সামনেই দুর্ঘটনা, স্ত্রীর সামনে লুটিয়ে পড়েন:

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর সকালে নিজ গ্রাম চালিতাছড়ি থেকে হরিণা বাজারে নিজের কৃষি ও সারের দোকানে যাওয়ার জন্য বাইক স্টার্ট করতে যাচ্ছিলেন বিজন বোস। তখনই পেছন থেকে একটি টমটম এসে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কায় কোমরের উপরে আঘাত পেয়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান। মাথার পেছনে কানের পাশে গুরুতর আঘাত লাগে এবং সাথে সাথে কান দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ঘটনাটি ঘটে তাঁর স্ত্রীর চোখের সামনেই।

প্রথমে তাঁকে মনু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জিবি হাসপাতালে রেফার করা হয়। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ চিকিৎসা শুরু হয়। সিটি স্ক্যানে ধরা পড়ে, মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে এবং কানের পেছনের হাড় ফ্র্যাকচার হয়েছে।

পরে পরিবারের লোকেরা আরও ভালো চিকিৎসার জন্য তাঁকে ড. রেড্ডির হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিকভাবে ওষুধে সাড়া মেলায় ২-৩ দিন তিনি সুস্থ ছিলেন। আইসিইউ থেকে তাঁকে জেনারেল ওয়ার্ডেও স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা শুরু হওয়ায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর জরুরি ভিত্তিতে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। তারপর থেকেই তিনি আইসিইউতে ছিলেন।

কে ছিলেন বিজন বোস:

বিজন বোসের পিতা অমৃত বোস, মাতা গীতা বোস। বাড়ি দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুমের হরিণা বাজারের চালিতাছড়ি গ্রামে। সম্ভ্রান্ত কৃষক পরিবারে জন্ম ২০ জানুয়ারি ১৯৭০ সালে। ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এমএ পাশ। পেশায় তিনি ছিলেন এগ্রোকেমিক্যালস ও ফার্টিলাইজার ব্যবসায়ী, পাশাপাশি আধুনিক কৃষির শিক্ষক।

তিনি ছিলেন প্রকাশনা মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, বর্তমান সম্পাদক। স্রোত প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ 'এক চিলতে রোদ্দুর' ও 'মধ্য রাতের ইন্দ্রধনু' পাঠকমহলে বিশেষভাবে সমাদৃত। ত্রিপুরার লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের অন্যতম অগ্রণী সৈনিক ছিলেন তিনি।

তাঁর সম্পর্কে এক ঘনিষ্ঠের কথায়, "বড়ো সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। গত বইমেলাতেও তাঁর বুকস্টলে আড্ডা দিয়েছি। কবিতার কাজে যেখানেই ডাকা হতো, ছুটে যেতেন।"

শোকের ছায়া:

তাঁর অকাল প্রয়াণে 'শতদল', 'কিচিরমিচির' সহ — কুটুমবাড়ি, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় লিটল ম্যাগাজিন পুঁথি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র, স্রোত পরিবার, শ্রীহট্টীয় সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ, বইবাড়ি ফাউন্ডেশন, স্রোত, প্রতিদিন বাংলাভাষা, কুসুম, কবিতাঘর, দোলনা, অন্যপাঠ, চিত্রযাপন সহ সকল লিটল ম্যাগাজিন ও প্রকাশনা সংস্থা গভীর শোক ও বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছে।

আজ প্রকাশনা মঞ্চের পক্ষ থেকে তাঁর মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ