আক্ষেপ // শিমুল পারভীন

ভালোবাসা তো দূর্ঘটনা নয়।স্বেচ্ছারোপিত ব্যথার ফুল। যার অবয়ব নেই। শুধু নড়লে চড়লে ঝুমঝুমিয়ে বাজে।  বন্দুক উঁচালেও সে ভয় পায়না। 
গভীরভাবে ভালোবাসলে কাছে থেকেও দূরে, দূরে থেকেও কাছে কিভাবে থাকতে হয় তা শিখে নিতে হয় বোধহয়। না হলে যে আক্ষেপ আজন্মের। আমি তা পারিনি বলেই আমাদের কফির কাপের প্রেমটা, কেমন যেন চড়ুইভাতির মতোই,কেমন যেন কাঠ কয়লায় খিচুড়ির ঘ্রাণেই ডুবে থাকলো জীবনভোর। চার দেয়ালে বন্দি হওয়া আর হলো না, হলোনা দেখা সুখের করিডোর! 
  তবুও সেই ভালোবাসাটাকে দূর্যোগের সাইক্লোনের মধ্যে আড়াল করা চারাগাছের প্লানটেশানের মতোই বাঁচিয়ে রেখেছি কেন যে, জানিনা। 
আক্ষেপ তাই থেকেই গেলো মনে। 
শ্রাবণের এমন বৃষ্টিতে আবদার ছিলো একবার ভেজবার। সাঁতার না জানা নাবিকের মতো দু-চোখের সমুদ্রে অসহায় আনন্দে ডুবে যাবার। তা আর হলোনা কোনদিন।
শেষরাতের স্বপ্নের মতো ধূসর, হালকা নরম আলতো বেগুনিরঙা জ্যাকারান্ডার ফুলের মতো সে ফিকে হয়ে গেলো একদিন। তাকে আর রাখা হলোনা ফুলদানিতে। দ্বিধা, সংকোচের বেড়া ডিঙিয়ে বুকের মধ্যের অন্তর্মুখি মানুষটাকে বাইরে আনার সাহস হলোনা বলেই বলা হলোনা , ভালোবাসি।
 সেই আক্ষেপ তাড়া করে ফেরে আজও এই রেডিমেড জীবনের বাঁকে বাঁকে। ঝকঝকে তকতকে জামাকাপড়, ঘরদোর ছাড়াও স্নিগ্ধ, নরম, সাধারণ কিছু যে চাইবার থাকে মানুষের তা যেন টের পাই আজকাল খুব। 
অাক্ষেপ তাই আজন্মের। 
ভেবে অবাক হই এতোকিছু প্রাপ্তির মাঝেও একটি না পাওয়া কেন গভীর ভাবে আজও বাজে?
ভালোবাসা বুঝি এমনই-অংসখ্য আক্ষেপে আর গভীর দীর্ঘশ্বাসে এমন করেই বাঁচে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ