হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তিনটি কবিতা


হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তিনটি কবিতা

পুনরুত্থিত 
ব্যাকরণ আর  গণিত জানতে জানতে দিন চলে গেল
চণ্ডীমঙ্গল থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পদমালা ভেসে গেল
শিখর সন্ধিতে ঘন্টা বেজে উঠলো 
আড়ালে রয়ে গেল অগোছালো বিজ্ঞাপনের দেয়ালগুলি, নীল লাল সুর ছড়িয়ে রোদ উঠলো মাথার উপর, বৃষ্টির দিনে তবু সম্পর্ক সাধনা হল না
কবিতার আধুনিকতা যদি এতদূর ডালপালা মেলতে পারে পরমার্থ ও সলমাজরি. ..
আজ আসছি মল্লিকডাঙার মাঠে,থেকো
মেঘে মেঘে কত জিজ্ঞাসা 
পোস্টমডার্ন পোর্টফলিও 
সাপলুডো খেলতে খেলতে দস্তানা ভরে উঠেছে 
কৃষ্ণচূড়ার ফুলে ,বহুদিন পর কুঁড়ির ভারে আনত 
জীবনানন্দের ধূসর পান্ডুলিপি 
দিনের পর দিন রাতের পর রাত বাড়লে যাওয়া নেই আসা নেই বর্ষা শরৎ হেমন্ত ...
বিনির্মাণে মাটি ভিজে যায় 
সবই আসলে সুখ অসুখের দিনলিপি, এই স্মৃতি স্তম্ভ 
এই মনোবাঞ্ছা এই সিনেসথেসিয়া দেহী বিদেহী সংঘাত সাফল্যের পথে পুনরুত্থান .......

উৎসব

এই অন্ধকার গলিতে এসে উৎসব বানিয়েছি
অতল মিলনের জন্য বাক‍্যহারা
যে যার অঞ্জলি দিয়ে ফিরে যাবো
মুদ্রিত হরফে রক্তবিন্দু যুগযুগান্তর
যত দিন যায় অক্ষর প্রবাহে কেন এত অন্ধকার
আমার এ রত্নাকর জন্মের আগে কেউ কি বসেছিল সব সাধনায়
জলে ডুবে থেকেছি ইজলি মাছের সাথে
এবার জলের গভীরে যেতে হবে
দেখবো জলঝাঝিদের প্রার্থনা
বনশ‍্যাওলার কান্না
শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ করে এ প্রত‍্যক্ষ অভিজ্ঞতা
যদিও বড়ো মর্মান্তিক...

যে যার আপন সুখে

ঘরবাড়ি ভিজে যায় শিকড়ের টানে
রাত্রি শুধু জেগে থাকে অন্ধ অভিমানে
সীমান্ত পেরিয়ে যায় খুঁটে খায় দানা
চিৎকার করে বলে নো নো। না না ...

তার মধ্যে খুঁজে পাবে কৃপণ আঙুলে
বীজ ধরে থাকে জল জীবনের মূলে
সফল কীর্তি ভেবে এতো যে শরীরপাত
এসব কিছুই নয় ভেবেছো নির্ঘাত

এখনো রয়েছে তাই অবুঝের টান
সমস্ত  ব‍্যসন কাম স্রোতের উজান
যে যার আপন সুখে চলে যায়

সময় এগিয়ে শুধু বলে, আয় আয়... 


অন্তরালে 

...রাহুল অরুণোদয়  সমীপেষু. ..

মানুষ যখন কাঁদে, একাকী, এই নিষিদ্ধ যাত্রা পথে 
আগ্নেয় শ্বাসাঘাতে স্পষ্ট হয় চাপা বাতাসের শব্দ 
তখন নিজেদের অহংকার মদ চাকু অগ্নিদানব ক্ষণিকের জন্য হলেও পাথরের নিচে লুকিয়ে রাখে 

কখন যে নিয়তির অট্টহাসি হো হো করে হেসে উঠবে 
আপনমনে, তালসারির ঘূর্ণির মাথায় উঠেছে চাঁদ 
তখন তুই ভার্জিনিয়া উলফের কথা মনে করলি 
সহজের কথা মনে পড়ল না ,প্রিয়াঙ্কার কথা অথচ
একদিন তোরা দুঃখকে সুখের মতো ব্যবহার করত
 শিখেছিলি ,কী সাংঘাতিক সমুদ্রগামী ঢেউ 
চৈত্র তুফান খনি গর্ভের সোনা ,কিছুই তোর মনে এলো না ...
একটা মানুষ এত কিছু পারে এটা পারলি না 

এখন বামপন্থা ডানপন্থা মার্কস হেগেল কান্ট নিয়ে টিভির সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে সকলে 
কী ই বা করার আছে, এত নিরানন্দ মানুষের সংসারে. ..
মৃত্যুর পর একটা অদ্ভুত পরিবর্তন ঘটে যায় 
কিন্তু এই প্রথম দেখলাম বিশ্বাস কর
ছোট বড় ঢ্যাঙা খাটো সব একসঙ্গে দাঁড়িয়ে 
টুপি খুলে স্যালুট করছে তোকে ...


হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচিতি :

বাংলা কবিতার আশির দশকের অন্যতম প্রধান কবি  হীরক বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন নিঃসঙ্গ মানুষের অনন্ত জিজ্ঞাসাই হল কবিতা ।পরিচয়  দেশ থেকে শুরু করে নন্দন অনুষ্টুপ চতুরঙ্গ এবং মুশায়েরা ইত্যাদি ছোট বড়ো সকল শ্রেণির পত্রিকা তার লেখনভূমি ।সাদা রঙের ট্রাপিজ , নীল আলোর গল্প
 ,বসন্ত অপেরা,নিরালম্ব ঘুঙুর,অসহনীয়, ছায়া ফেলি ছবি হয়, গাগরি ভরে না,বিধিবদ্ধ উপত্যকা ইত্যাদি 
তার সৃষ্ট  কয়েকটি  ধ্রুপদী কাব্য ।তিনি প্রতিশ্রুতি, ঢেউ, অরণি, চিলার ইত্যাদি পত্রিকা সম্পাদনা করেন।তার নিরলস সাহিত্য সাধনার ফসল হিসেবে ইতিমধ্যেই পঞ্চাশটিরও বেশি পুরস্কারে পুরস্কৃত ও সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ