কী লিখি কেন লিখি বিল্লাল হোসেন



কী লিখি কেন লিখি
বিল্লাল হোসেন 

কী লিখি কেন লিখি 
বিল্লাল হোসেন 

কেবলি কি মানুষ ! 
বোধ-ব্যঞ্জনার শৈল্পিক কিম্বা সৃষ্টিশীল  বিস্তার সমস্ত প্রাণীকুলকেইতো বিশেষিত করেছে।সমস্ত প্রাণী মিলে-মিশে বর্ণময় করে তুলেছে জল,মাটি।
কেবলই কি প্রানীকুল! 
তাও বিশ্বাস করিনা।জড় জগতেরও গত আছে,ছন্দ আছে, যদিও তার কোন সেল নেই।তবু তার ভেতরেও যেন আজব এক সৃষ্টিশীলতা আছে।ফোর্স প্রয়োগ করলে সেও তার সৃষ্টিশীলতা বিকশিত করে।ন্যাচার  বিষ্ময়কর এক দায় বর্তে দিয়েছে সবার পরতে-পরতে।সবকটি বস্তুই যেন অগাধ প্রাণের কেলি।যখন বৃষ্টি পতিত হয় অনিবার্য এক ছন্দে, আবেগে,মায়ায় এবং অবশ্যই নিপুণ এক শিল্পের ছায়া রেখে পৃথিবীকে সিক্ত করে। ঘোরপ্রেম এক যেন প্রণয়ীকে সিক্ত করে সৃষ্টির দায় নিয়ে।পাথর গড়িয়ে যায়।ছন্দে -ছন্দে,মর্মে-মর্মে মাটিতে সে ছাপ রেখে যায় । সেই ছাপে নতুন ভূমিরূপ হয়;সৃষ্টি সুখ।বৃক্ষ- জারুল তার ডানা-শিশু ছড়িয়ে দেয় বাতাস যতটা যায়।অসাধারণ এক শিল্পবোধে জমিদখল এবং বংশ বিস্তারের চঞ্চলতা। সৃষ্টি তার পরম ধর্ম।

জানিনা তবু কেন লিখি!

মানুষ একদিন তার যাবতীয় মায়া দিয়ে, তুখোড় শিল্পবোধ ছড়িয়ে আবিষ্কার করেছিল  আগুন;সভ্যতার সদর্থক অগ্রযাত্রা। চেতনার সব রঙ মিশিয়ে গড়েছিল চাকা।একদিন সেই চাকায় নকশা করে নিজেকে অমর রাখার বৃথা চেষ্টা করেছিল মানুষ।

জানিনা কেন লিখি!

চেতনার বোধ পৃথিবীতে রেখে যাবার জন্য পাথরের শক্ত বুকে একদিন চিহ্ন এঁকেছিল যাঁরা ;লিপি,
নিশ্চিতভাবে তারাই কোটি বছরের কালজয়ী,মৃত্যুঞ্জয়ী লেখক। কীসের নেশায় বুঁদ জানিনা! বুকে কিসের এতো মেঘ জানিনা!কিসের এতো উল্লাস জানিনা।

জানিনা কেন লিখি!

আমার ঠাকুমা কেন নাড়ু গড়ে পাড়াৃয় সব্বাইকে খাওয়াতেন জানিনা।আমার বাগানে শত ফুল, কেন তবু আমার মেয়ে রোজ নতুন-নতুন ফুল ফোটাতে ব্যগ্র জানিনা।

জানিনা কেন লিখি!

মাঝেমধ্যে মনে হয় লিখবনা।কি হবে লিখে?মানুষ তো পড়তে চায়না! হতাশায় ভেতরটা খাঁখাঁ করে। কার জন্য লিখব! এই প্রশ্নের মীমাংসা করতে-করতে রাত বাড়ে।চাঁদ মাথার ওপর এসে স্থির হয়ে দাঁড়ায়। কয়েকটা পেঁচা বেরোয়। পেঁচক চোখে আমাকে বিদ্রূপ করে কিম্বা প্রেম নিবেদন করে। অতিচঞ্চল চামচিকেগুলো চোখের পলকে গাঢাকা দেয়।পেয়ারা গাছে বাদুড়ের ঝাঁক। বৃক্ষগুলো একপায়ে দাঁড়িয়ে নিভৃতে ঘুমোয়। আমি জেগে থাকি অনন্ত মহাকালের মতো।পৃথিবীর বিরামহীন নির্মম চঞ্চলতার মতো কী যেন খুঁজি আমি হৃদয়ে, কী যেন খুঁজি আমি মস্তিষ্কে। একটা কিছু লিখতে চাই যা জয় করবে পৃথিবীর যাবতীয়  বোধ।একটা কিছু লিখতে চাই যা পৃথিবীর তাবদ পরাজিত মানুষকে জয় এনে দেবে।একটা কিছু লিখতে চাই যা ক্ষুধাক্লান্ত মানুষের পাতে ভাতের সংস্থান করবে।একটা কিছু লিখতে চাই যা পরাজিত,ক্লান্ত,ব্যর্থ,অনাকাঙ্খী,অনাগ্রহী মস্তিষ্কগুলিতে আগুন জ্বালিয়ে দেবে।এই একটাই তো বোধ,রোজ লিপায়িত করতে চাই।রোজ ওই একটাই তো লেখা!নানা ভাবনায় রাঙিয়ে।সেই আদিম মানুষের মতো আগুন আবিষ্কার করতে চাই।মাথায়মাথায় আগুন জ্বালাব বলে।

কেন চাই? কীসের এতো জেদ? কীসের এতো অহংকার? জানিনা........।

তবু লিখি।।
 
৩/৬/২১
অরবিন্দনগর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ