প্রকাশনা মঞ্চের সপ্তম বার্ষিক সাধারণ সভা
স্থান:আগরতলা প্রেসক্লাব || তারিখ:৩১.০৩.২০২৪||সময়:১১.৩০ ঘটিকা
৩১.০৩.২০২৪ রবিবার বেলা ১১.৩০ ঘটিকায় প্রেসক্লাবে (ভূমিতল) প্রকাশনা মঞ্চের ৭ম বার্ষিক সাধারন সভা অনুষ্ঠিত হয়। আজকের এই সাধারণ সভার সভাপতির আসন অলংকৃত করেন প্রকাশনা মঞ্চের সভাপতি নিয়তি রায় বর্মন।
উদ্ভোধনী সংগীত পরিবেশন করেন শাশ্বতী দাস, সুচিত্রা দাস ও অন্যান্যরা। সভার শুরুতেই স্বাগত ভাষন রাখেন কথাসাহিত্যিক বিমল চক্রবর্তী মহাশয়।
বিমল চক্রবর্তী: ছিলোমিলো ভাষা কিংবা পিছিয়ে পড়া তথা চাকমা বা মগ ভাষায় আরও উপন্যাস প্রকাশ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ভাষার লেখকদের প্রতি প্রয়াসী হতে জোর আহবান রাখেন।
বিজন বোস, (সম্পাদক, প্রকাশনা মঙ্গ): প্রথমেই তিনি প্রকাশনা মঞ্চ গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। বর্তমান সময়ে এই মঞ্চের প্রাসঙ্গিকতা বিশেষ করে লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকার কথা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি বার্ষিক কর্মসূচির বিষয়গুলিও বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেন। এবার থেকে বইমেলায় লিটল ম্যাগাজিনের উপর পুরস্কার প্রদানের দাবী তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর কর্তৃক মান্যতা পাওয়া, মঞ্চের নামের নিজস্ব খাতা অর্থাৎ এস. বি. একাউন্ট খোলার কাজ সম্পন্ন করার বিষয়গুলি উল্লেখযোগ্য।
জহর দেবনাথ (সহসভাপতি, প্রকাশনা মঞ্চ): বর্তমান সময়ে এই প্রকাশনা মঞ্চ সরকার কর্তৃক অধিক সমালোচিত হওয়ার বিষয়টির উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। প্রকাশনা মঙ্গের সার্বিক উন্নতিকল্পে প্রকাশকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে মাথায় রেখে লিটল ম্যাগাজিনের প্রকাশকসহ এই মঞ্চের সমস্ত প্রকাশকদের আরও জোরদার হতে বলেন।
মধুমঙ্গল সিনহা (সদস্য, প্রকাশনা মঙ্গ): ককবরক ও পিছিয়ে পড়া ভাষায় আরও লিটল ম্যাগাজিন বা বই প্রকাশে দৃষ্টি দিতে তিনি প্রকাশনা মঞ্চের প্রতি আহবান রাখেন। এস সি আর টি যাতে গুরত্ব সহকারে দেখে এমন বই প্রকাশে মঞ্চকে উদ্যোগী হতেও আহ্বান করেন। নতুন কার্যকরী কমিটি যেন আরও কার্যকরী ভূমিকা নিয়ে কাজ করেন এই বিষয়টি তার আলোচনায় উঠে আসে।
আলোচনার ফাঁকে কবিতাপাঠ করেন ড: ঝর্না বনিক ও অনিতা ভট্টাচার্য।
সনজিত বণিক (বরিষ্ঠ সদস্য ও উপদেষ্টা, প্রকাশনা মঞ্চ): তিনি তাঁর বক্তব্যে প্রকাশনা মঞ্চের সার্বিক উন্নতির আশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি এই প্ল্যাটফর্মে ত্রিপুরার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও প্রকাশক তুলে আনার আহ্বান রাখেন।
ভুলুকুমার দেববর্মা (সদস্য, প্রকাশনা মঞ্চ): তিনি ককবরক ও পিছিয়ে পড়া ভাষায় উন্নতমানের বই প্রকাশের জন্য আরও লেখক তুলে আনার জন্য মঞ্চের প্রতি আহবান রাখেন।
এরপর আলোচনার বিরতির সময়ে কবিতাপাঠ করেন সুচিত্রা দাস ও রীতা ঘোষ।
কামনা দেব (সদস্য, প্রকাশনা মঞ্চ): আজকাল বই এর পাঠক খুবই কম বলে তিনি তার আলোচনায় দুঃখ প্রকাশ করেন এবং পাঠকবৃদ্ধিতে সহায়ক বই ও লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশে মঙ্গকে উদ্যোগী হতে বলেন। এরপর গান পরিবেশন করেন শুক্লারানী দাস। কবিতা পাঠ করেন জবা পাল দত্ত ।
প্রগতি চাকমা (নতুন সদস্য, প্রকাশনা মঞ্চ): সদ্য সদস্যপদ প্রাপ্ত হিসাবে প্রকাশনা মঞ্চের সদস্যপদপ্রার্থী বিশেষ করে ধলাই জেলায় আরও থাকার সম্ভাবনা ব্যক্ত করেন। তিনি একটি কবিতাও পাঠ করেন।
এরপর কবিতাপাঠ করেন কল্যানী ভট্টাচার্য। গান পরিবেশন করেন শাশ্বতি দাস।
শ্রুতিনাটক পরিবেশন করেন ডক্টর শ্যামোৎপল বিশ্বাস, শাশ্বতি দাস ও শ্যামলকান্তি দে প্রমুখরা।
ক্রাইরি মগ চৌধুরী (অন্যতম সদস্যা, প্রকাশনা মঞ্চ): পিছিয়ে পড়া ভাষা নিয়ে আশির দশক থেকেই লেখালেখির দায়িত্ব নিয়ে আজও মঞ্চের পাশে থাকার কথা বলেন তিনি। সরকারী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকার পাশাপাশি প্রকাশনা মঞ্চের জন্য যথাসম্ভব সময় দেবেন বলে তাঁর আলোচনায় উল্লেখ করেন। আলোচনা পর্বের বিরতিতে গান পরিবেশন করেন গৌরব ধর।
ডক্টর শ্যামোৎপল বিশ্বাস (কোষাধ্যক্ষ, প্রকাশনা মঞ্চ): আয় ব্যয়ের হিসাব পেশ করেন শ্যামলোৎপল বিশ্বাস মহোদয়।
এরপর শুরু হয় ভোট পর্ব। পুরো প্রক্রিয়াটিতে রিটার্নিং অফিসার হিসাবে পরিচালনা করেন বিমল চক্রবর্তী মহাশয়। প্রথমে ভোটার লিস্ট চুড়ান্ত করে প্রত্যেককে ভোট প্রদানের পেপার বন্টন করা হয়। মোট ২৮ জন সদস্য ভোট প্রদান করেন। গণনার কাজ চলাকালীনের মাঝামাঝি সময়ে কবিতা পাঠ করেন আশীষকান্তি সাহা, দীপেন নাথশর্মা, সুবীর সেন ঘোষ এবং শিবানী ভট্টাচার্য।
প্রকাশনা মঞ্চের পক্ষে আনীত প্রস্তাব পাঠ করেন জহর দেবনাথ। মোট সাতটি প্রস্তাব স্থান পায়। তার মধ্যে মুদ্রণ ও বাঁধাই সম্পর্কিত একটি উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব।
এই প্রস্তাব সমর্থন করেন গোবিন্দ ধর। গোবিন্দ ধর তাঁর সমর্থনসূচক বক্তব্যে আরও বলেন প্রত্যেক প্রকাশককে বছরে অন্তত: একটি করে বই প্রকাশ করার প্রয়াসী হতে হবে সে হোক নিজের লেখা কিংবা সম্পাদিত। তিনি প্রকাশনা মঞ্চের পক্ষ থেকে লিটল ম্যাগাজিনগুলির নাম নথিভুক্ত করার বিষয় নিয়ে তথ্য সংস্কৃতি দন্তরের কাছে দাবী রাখার প্রস্তাবও রাখেন।
এরপর কবিতাপাঠ করেন সিমলী চৌধুরী। ঝর্ণা সাহা তার বক্তব্যে বলেন সম্পাদকীয় প্রতিবেদন ও আয় ব্যয়ের হিসাব লিখিত আকারে প্রকাশিত হলে ভালো হতো। তারপর কবিতা পাঠ করেন শিপ্রা রায়, শ্যামলকান্তি দে এবং সঞ্চালিকার দায়িত্বে থাকা নন্দিতা ভট্টাচার্য।
এরপরেই সভার সভাপতি নিয়তি রায় বর্মন গোবিন্দ ধরের প্রস্তাবকে জোর দিয়ে প্রকাশনা মঞ্চ অন্যকোন সাংস্কৃতিক সংস্থার মতো নয় এর আলাদা গুরুত্ব রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। বাংলা একাডেমীর বানান বিধি অনুসরণ করা জরুরী বলে জানান। এর সাথে সাথেই তিনি পুরানো কমিটি বাতিল বলে ঘোষনা করেন।
ভোট গ্রহণের প্রায় ৪৫ মিনিট অতিক্রান্ত হওয়ার পর গণনার কাজ সম্পন্ন হয়। ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার হিসাবে নিযুক্ত বিমল চক্রবর্তী মহাশয়।
নির্বাচিত ৯ (নয়) জন সদস্য এবং ৮(আট) জন আমন্ত্রিত সদস্য যারা নতুন কার্যকরী কমিটি হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন তারা হলেন:
নির্বাচিত কার্যকরী কমিটি
১. বিজন বোস- সভাপতি
২.ক্রাইরি মগ চৌধুরী- সহ সভাপতি
৩. জহর দেবনাথ- সম্পাদক
৪. স্বাশতী দাস- সহ সম্পাদক
৫.দীপেন নাথশর্মা- কোষাধ্যক্ষ
৬.গোবিন্দ ধর সদস্য
৭.নিয়তি রায় বর্মন-সদস্য
৮.শ্যামোৎপল বিশ্বাস-সদস্য
৯. মধুমঙ্গল সিনহা- সদস্য
আমন্ত্রিত কার্যকরী কমিটির সদস্য
১। ভুলুকুমার দেববর্মা
২। অনিতা ভট্টাচার্য
৩। সবীর সেন ঘোষ
৪। আশিষকান্তি সাহা
৫। ডা: ঝর্না বনিক
৬। সিমলী চৌধুরী
৭। কল্যানী ভট্টাচার্য
৮। শ্যামলকান্তি দে
নবাগত সম্পাদক ও সভাপতির আলোচনার মাধ্যমে সভা সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
0 মন্তব্যসমূহ