নীচে রইলো প্রিয়তমার কিছু কবিতা

নীচে রইলো প্রিয়তমার কিছু কবিতা 

প্রচণ্ড বৃষ্টিতে পায়ের পাতা যেমন সাদা হয়ে যায় আর তুমি তা লক্ষ্য করো, আমি লিখতে গিয়ে বানান ভুল করি তা দেখে তুমি জ্ঞানের অহংকারে ছট্ফট্ করো - এসব তোমার কাজ তুমি করো! এভাবে কথা বলা যায় না। আজকে যার কথা লিখতে যাচ্ছি সে আমার বন্ধু, প্রিয়তমা দত্ত! খুব কম লিখে বলে ওকে সাইড লাইন করা হলেও সে এক অন্য সুরের পাঠক আলোর মতো স্পষ্ট একজন ব্যক্তি এবং ওকে দেখলে সাহসের সঙ্গে আমি বলতে পারি, কবিতা না লিখলেও এই কবি এমনই এক দুর্দান্ত মানুষ ! যার থেকে অনেক কিছু শেখা যায়, এবং সে ছায়ার মতো আশ্রয়ের মতো নীরব হেসে, বাস্তবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে এবং জীবনের মহত্ব দেখে নির্দ্বিধায় বিশ্বাসের সঙ্গে সে লিখে যেতে পারে, সমস্ত ভন্ড মানসিক ভারসাম্যহীনতা ও মন খারাপের বেড়াজাল টপকে সে আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দিতে পারে, দূরে ব্রীজের নীচে অকাতরে ঝুলে থাকা কারো ড্রাগ অ্যাডিক্ট শরীর তার পচনশীল পা এবং তাকে দেখতে 'না-যাওয়া' তার বাবার একমাত্র দীর্ঘশ্বাস অথচ সেই দেহ ঘিরে থাকা পুলিশ গ্রামের মানুষ আর হলুদ নদীর নিষ্কলঙ্ক বয়ে চলা, এইসব জীবনের গল্প ডার্ক পোয়েট্রি, যেসব ল্যান্ডস্কেপে অন্তত কোনো এস্কেপ্ নেই! যেখানে সকল পাঠ্যক্রমই বিস্তৃত-উন্মুক্ত এবং একই সঙ্গে বাতিল। জীবনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দত্ত আমাকে বলে, এরপরও কবিতা লেখার কি প্রয়োজন,লিখতে যদি চাও ঠিক কি লিখবে যা লেখা প্রয়োজন, কার জন্য লিখবে , এই দৃশ্যে এই কবিতা কাকে উদ্ধার করতে পারবে ! যা লেখার জন্য নির্বাচিত প্রার্থী তুমি নিজেকে ভেবেছো, নাকি বুঝে গেছো তুমি নিজেই নিজের একমাত্র ভরসা? সবসময় খেলা চলে, কানা মাছির  ভোঁ ভোঁ রসিকতা, যেনো কোনো দেওলা বাতাস নিজেই নিজের নাম না জানা অন্ধ মাছি ঘটনা চক্রে ধ্বংস কোনো বেসামাল কিছুর সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে খাদের নীচে পড়ে যায় - চোখের সামনে তাস উল্টে যায় মাছির বদলে সে হয়ে যায় কোনো মানুষ সে কি আর উড়তে জানে, জীবনের অনির্দেশ্য মেটাফোরের কবলে পড়লে আর হুটহাট কিছুই বলার মতো থাকবে না হয়তো, অকৃত্তিম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাকেও গিলে খেয়ে নেবে, সূর্যাস্তের ঠিক পরে আগরের বনে পুনরায় ডাকবে ঝিঁঝিঁর অব্যর্থ মিছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই বোধহয় মহাশূন্য তোমাকে প্রশ্ন করবে '' কে তুই , কই যাস?'' প্রিয়তমা হয়তো এভাবে সিনেমার মতো ভাবে বা ভাবে না ; অন্তত আমি এভাবেই দেখি ওর নিরপেক্ষ চরিত্রটিকে এবং ওকে ঘিরে থাকা রহস্যময় কাব্যজগৎকে। যে কখনো নিজেকে গুরুত্ব দেয় না, সে হঠাৎ বলে "কান্নার থেকে পবিত্র আর তো কিচ্ছু নাই " যদি দিতো তাহলে তার রচিত লেখার সংখ্যা এতো কম হতো না। কিন্তু সে এই দুনিয়ার রহস্য ও প্রজ্ঞার কাছে, পৃথিবীর নির্ধারিত নিয়মের কাছে, মানুষের অসহায়ত্বের সম্মুখে সে নিজেকে কিছুই ভাবে না , তাই বলেই হয়তো সে কিছু না বলে বন্ধু হতে পেরেছে দিন ও রাতের, কান পাততে পেরেছে আত্মার কাছে ছড়িয়ে পড়া সব গানের কাছে, জীবন থেকে সুর নিয়ে সে জীবনের জন্য উৎসর্গিত প্রার্থনার ঘনত্ব বোঝার চেষ্টা করে, এটা ওর নিজস্ব শিপ অফ থিসিয়াস ! নিজস্ব জীবন মানচিত্র....
নীচে রইলো প্রিয়তমার কিছু কবিতা 
ফেলে চলে যায়

গাছেদের নুইয়ে রেখে দেয় গোলাপি আকাশ
কারা বলেছিলো?
তুমি ছলনা জানো না ,
ছাগলরা মশারির বাওন্ডারি ছিঁড়ে মুখে দেয় শিশু কৃষ্ণচুড়া  -
১.৩৬ এর ট্রেন আমাকে ফেলে চলে যায় -
আমি তোমার সঙ্গে ,
জন্মের কথা, 
মৃত্যুর কথা,
ফিরে আসার কথা ভাবি।

কোনো ফুল আমার সঙ্গে যাবে না 

এই দুঃখে আমায় চিতায় তুলে দাও  
পেছনে কোনো কীর্তন হবে না   
 নীরবে তুলে রেখেছ বাতাসা 
পিতাদের ছাতি ভেদ করে ঢুকছে ভাদ্রের রোদ 
কোনো ফুল আমার সঙ্গে যাবে না জানি
টিলার বাচ্চাদের মুক্তির কথা ভেবে ।

দারুচিনির গন্ধ 

দারুচিনির গন্ধ সব শুকে তুলি 
তুমি যেতে যেতে বলে যাও নি কিছুই
আমাদের পাশ কেটে নিমিশেই মিলিয়ে  যায় বাশির সুর
কোনো নাইটিংগেল পাখি বাবাকে ঘুম পাড়াতে পারেনি
 আমি শুনতে পাই বাবার গাছেদের জন্য আর্ত নাদ
যারা স্বপ্নে বলে গেছিল আধভাঙ্গা বাড়ীদের আগলে রাখতে হয়।

মশা 
এক ঘাতক মাকরশা
আর একদল মশা
আমাকে শিকিয়েছে চোখের পলকের হিসাব
মিথ্যা কথা, গোঙানির সুর
স্বপ্নের এক ভাঁজ থেকে ঝাপ দেই পাশ ফিরিয়ে  
ওরা ঘিরে ধরেছে আমায়, উরতে পারছে না শুধু
অতিভূজন ! অতিভূজন  !
শরীর ভারী হয়ে আশে,
অমি  হাত চালাতে  থাকি  কপালে 
আর  প্রতিশোধে সব লাল হয়ে উঠে ।

আমাকে একটা ধাক্কা দাও 
 কেউ আসুক গান শুনিয়ে যাক
কোনো পাহাড়ের গান
না ঘুম নয় 
কোনো ঘুমের  ভাব নয়
আগের কথা ,পরের কথা
 সবাই বলে চলে গেছে
আমাকে একটা ধাক্কা দাও 

পুরনো ধুলোর মতো 

এভাবে চলে যাবে? 
তোমার কাশির কারণ তো কেউ গল্প করলো না 
কোন্ ঘুমের রেশে তোমারে পাইসে 
মুদির দোকান, মহাজনের কারবার ,
নাকি কুয়োর বালতি দেখে ডুব দেওয়ার লোভ করবে ?
না
এক বৃদ্ধের হাতের লাঠি আর
ছোটো বালতি নিয়ে বেরিয়ে পড়বে ?
না মিলিয়ে যাবে পিচ ঢালাইয়ের রাস্তায় পুরনো ধুলোর মতো!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ