বাপী ভট্টাচার্যের গতকিছুবছরের লেখা
ঘর
শিস দিয়ে কারা যেন ভেঙে দেয় ঘর
দুস্থ যারা প্রেম দেয় ঘুমের ভিতর ।।
মাতালের দুপুর
এই দেশটা তোমার থেকে আমার চেনা
এই দেশের মানুষগুলো তোমার কেনা ?
আজ নিজেকে বেচতে চাই না
মাঝে মাঝে খেপে যায় জলের কাছিম।
কেউ কিছু বুঝেনা জানেনা
তলদেশে মৌন হিম জলে
সবাই ভাসেনা
পা ডুবিয়ে রাখতে চায় হাজার বছর
তুমি যে মাতালের গায়ে ঢলে পড়ছ
মাঝে মাঝে মাতালের দুপুর দেখে যায়
স্বয়ং ঈশ্বর
লোভাতুর নেশা, বয়সের ভেতর
শৈশব খেলে বাতাসের ভেতর ধুলো
মিনিট খানেক বৃষ্টি তবু
কেন ভিজিয়ে ভিজিয়ে নিল ।
টাইম লাইন
রোজ সেই গল্পের নিশ্বাস ফেলে গেছো
প্রতিদিন আসা যাওয়ার পথে
তোমাদের রোজ দেখি উড়ে যেতে
এলোমেলো হাতের ভাঁজে
প্রতিদিন দেয়ালে পাখি বসে
সেও উড়ে যায়
সমস্ত সময় খারাপ যায় না কারোর
সমস্ত দিন ভাল যায় না তাদের
এই ভেবে সব মিলিয়ে গভীর আত্মবিশ্বাসে
ভবিষ্যতে ছুটি
নতুন কিছু লিখব ভেবে
দেয়ালে পাখি উড়ালাম ।
ডায়েরি
এক
ডায়েরির পৃষ্টায় শুয়ে আছে
হাসপাতালের দীর্ঘ ছায়া
ঝড়ের বাতাসে আছড়ে পড়ে ঘর।
নিস্পলক নদীর জল
বুক জলে ভেসে যায়
সাজানো অক্ষর।
দুই
ডায়েরির পৃষ্টায় শুয়ে আছে
অক্সিজেনের নল, হাসপাতাল ভিজিটিং আওয়ার
হাতে টিপে দেখি নাড়ি। শেষ ঠিকানা অব্দি যদি যেতে পারি ।
শরীরে অনুপ্রবেশ করল হাইপোডামিক
সিরিঞ্জ । রাতের আঁধার । নার্সের চলাচল।
তিন
ডায়েরির পৃষ্টায় শুয়ে আছে হাসপাতাল,
নদী,
শুয়ে আছে উপন্যাস
ওই গ্রীবার ভিতর
তাণ্ডব
প্রার্থনা সঙ্গীত।
অর্থনীতি
অর্থনীতি তোমার ফক্কা পকেটের ভিতর বেড়ে ওঠা
আর কেউ দেখে না গৃহস্থালীর ভিতর , হঠাৎ থমকে যাওয়া
দেখে না পাশের বাড়ির লোক দেখে না দর্শনের ভাড়ে দুম মেরে
একটা লোক হেঁটে যায় । শুধু
হেঁটেই চলে।
এটাই তার সাময়িক অর্থনীতি।
ব্যক্তিগত
স্বেচ্ছায় মৃত্যুর জন্য পরিচিত
ব্যক্তির থেকে ধার করে আনি
পয়েন্ট থ্রী রিভলভার
এবার একটি উপন্যাস লেখা হবে ব্যক্তিগত ।
যেখানে খেলা করে চুপ থাকার কমপ্লেক্স
সীমার অতীত।
হেমন্ত
পাতালপুরে যখন বিকেল কাটাই
দেবদূত সদা স্কেল দিয়ে
মেপে মেপে দেয়
ঝলসানো হলুদ পাতা
খসে যায় গাছ হতে
পাতালপুরে।
গল্প
গল্পের ভিতর গল্প । পুরনো ম্যাসেজ খুলে পড়ি
খুঁজে চলি একটা প্রাত্যহিক বিষাদ ।
উড়ে আসে গল্পের ভিতর
তোমার পাশের বাড়ির ঘরটাতে বাস করি
এই নিয়ে আরেকটা গল্পের ভিতর উড়ে আসা
আরেকটা গল্প তাড়িয়ে চলে আমাকে
ঠোঁটের লিপস্টিক গাঢ় লাল রং উড়ে আসে
গল্পের ভিতর।
গল্প এই ভাবেই তৈরি হয়।
চৈত্রের দুপুর
এক
রোদ্দুরে মেলে রাখি পুরনো কাপড় - জামা
মোহ ঝড়ে যায় মৃদু তাপ, পোড়ে ইশারায়
খসে পড়া বিক্ষিপ্ত দৃশ্যে
এই চৈত্রের দুপুরে
গুনগুন গান নিয়ে
কে যেন আসে।
দুই
ঘুমের ভেতর রঙের খেলা শেষে
নাজেহাল চৈত্রের দুপুর
শিয়রের পাশে নীরবতা
ভিজলো অর্ধশিয়র ।
দেখা পেলে
চিক চিক জল, বুকে জমে আছে মেঘ
তোমার চিঠিতে কোনো ডাকটিকিট নেই
বুকের চারপাশে পাক খায়
বর্ষার দিন। বুঝে উঠার আগে
হাওয়া বুকে করেছে রঙিন ।
এই ভেবে তুমিও যাও। এই পারাপারে
বাবার বুকে সন্তান।
টেনশন ঘরে
মা ছুটেছে মামার বাড়ি
পেছনে গেলো ভাই
বৃষ্টি পড়ে নদীর জলে
একটু দেখে যাই
এই ভেবে দাঁড়িয়ে থাকি
বুকের দরজা খুলে
বৃষ্টি যদি হবে আবার
তোর দেখা পেলে ।
উর্বশী
ছুঁয়ে যা ভাঙা মন
বিরহ কাতর জীবন,
ভ্রমে উর্বশী
ছুঁয়ে যা আজীবন।
জন্ম
দেহ ক্লিশে হয়ে যায়, জন্মদিন পালনে।
বন
মনের ভিতরে পাখি হাঁটে, বনদপ্তর।
আবেগতাড়িত সন্ধ্যায়
আজ বহু রং বেঁচে আছে
আমাদের কাছে
কিছু রং তবু জলে মুছে গেছে,
সূর্য ডুবে গেছে আজ সন্ধ্যায়।
সুজন বলেছে কাল যাবে
কিছু বৃষ্টির ছিটে এসে গায়ে লাগে
আবেগতাড়ির সন্ধ্যায় ।
প্রেমিক আমার
হাজার প্রজাপতি ঘরে আসে
এখানে ওখানে, চির ধরে
এই তো প্রেমিক আমার।
মননও দগ্ধ করে
আমি তো ভাবিনি উল্লাস
হাতে ভিতর তামাকগন্ধ লাগে,
আলতো ঘুমের।
প্রয়োজন
সমুদ্র দেখিনি এখনো
প্রয়োজন ছিল দেখার,
ছোঁবার সাহস
হয় না কখনো,
প্রয়োজন ছিল
ছুঁয়ে ফেলবার।
সদ্য
ঘুমন্ত নদীর কাছে গেলে তিক্ত হতাশার জন্ম হয়,
বিতর্ক হাঁটে পাশে পাশে দূরে বসে চেয়ে দেখি
চাঞ্চল্যকর রাত,এই শহরে মনে পড়ে মন্থর গতি
দেখে যাও পথে পথে, ভয় পেতে পারে সদ্য যুবতী।
শ্রীমুখ
এক আশ্চর্য ঘটনা যার পরদিন ভাবি
তার জন্য দায়ি এক আশ্চর্য বেড়াল
আমার কাছে এসে বসে
তার কাছে আমি
ক্রমশ একা আঁকা তার ও আমার
নিজস্ব পৃথিবী।
কামিনী কুটির
সেই বাড়ি কামিনী কুটির
সেখানে বাস করে না কেউ
সেখানে সূর্যোদয় হতো
এখানেও হয়
এক আঙুলে বৃও আঁকে
অসংখ্য সন্তান।
ভাষা
ফুলে ফুলে সাজাও ঘর
বাসি ফুল ছোঁয়ালে জ্বর।
বলে দিও, আছি বড় সুখে
আমার ভাষা তোমার ভাষা
বাংলা ভাষায় মেশে।
আরশোলা
একদিন ফিরে যাব বলে
ঘর ছেড়েছি
অবাক হই, চোখে দেখি ।
একদিন বলেছিল দাদা সাহেব,
মেয়েরা আরশোলা দেখার ভয়ে
গলায় জাপটে ধরে,
আমি বিশ্বস্ত থাকবো
তার প্রতি,
সে কোনদিন আরশোলা দেখলো না,
গলাও জাপটে ধরলো না
ভেবে অবাক হই -
বখে যেতে হলে
মেয়েদের অনুমতি লাগে না।
একটা বিশ্বস্ত পুতুল
দেখে রাতে ছেলেদের ভয়ংকর
অনুভূতি হয়।
ভ্রান্তি
শহরে আছো
আড়ম্বরে,
কর্মহীন ভেজা হাত
কাল্পনিক শূন্য ভাসে
আমার কন্নার।
গবেষণা
সামনে আসবে যুদ্ধের মুহুর্তে
সান্ধ্য সভায়
চুম্বন
দরকার হবে তখনই
গবেষণায়।
রবিবার
হাঁ করে দাঁড়িয়ে আছে রাস্তার মোড়ে
আজ রবিবার পথ দেখছি যে যার
মিলিয়ে যেতে দেখি নিঃসঙ্গতায় শুধু।
কেটে রাখে
উপচার নিয়ে ঈগল পাখিদের রাজা
অতর্কিত ডুবে যায়,
পাখিদের সাম্রাজ্যে বিরুদ্ধতা করে
রাজা দেখা দিক,
নেমে গিয়ে তাস বন্টন করে দুঃস্থ তরুন
ধূর্ত, অতর্কিতে নক্ষএ খসে
বাতাসতাড়িত সন্ধ্যায়।
ঈগলদের অপবাদ দুধের সন্তান
উদ্ধার করে রাখে।
ভ্রম
ক্ষতে ভরা আমার অসুখ
তোমার নূপুর জলে ভেজা।
ছিটকে যাই যে বহূদূরে,
ঘুমের ভেতর অচিনপুরে।
প্রেত
অবশেষে রাখি পা,
রাখি হাত কোথায় ?
বছর ঘুরে আবার যেন
শুধু দূরে চলে গেছি।
প্রেত আমি শহরে জন্মিয়েছি।
অশ্ব
দাঁড়াবে আমার এই তো সেই শহর,
হালকা বাতাসে মন ঘুমে থর থর।
ফের জেদি ঘোড়া প্রতিবাদের ভ্রমে,
রোজ সূর্য চলে যায় দেখি পশ্চিমে।
গতকিছুবছরের লেখা
0 মন্তব্যসমূহ