মেঘ অদিতি'র ও অদৃশ্যতা হে অনিশ্চিতি
১
কনফেশন
সন্ন্যাস নেবার আগে
কনফেশন নির্যাস মেখে দেখেছি
মগ্নতায় ব্যাঘাত ঘটে না খুব
শুধু ভাসমান কথা থেকে সরে যায় কেউ
স্তব্ধ মগজ
আমি কাউকে ছুঁতে পারি না...
ইশারা-মাত্র অভিমান খুলে যায় জেনেও মিলিয়ে গেল এক স্ফুলিঙ্গ...
সেই থেকে ভাষা ভুলে বসে আছি অন্ধকারে
২
নীহারিকা
তুমি সেই সম্মোহক, যার শূন্যতায় উড়তে উড়তে
দ্রুত আলিঙ্গন করছি তোমাকেই
আমি ও এক গমরঙা বিকেল
আমাদের গোপনীয়তার মৌন চিত্রপটে যার উপস্থিতি
তাকে সরিয়ে এখন বলতে পারি... নিস্তব্ধতা।
কখনো তুষারপাত, কখনো জলবিন্দু
ঝর ঝর ভাসমান পুষ্পরেণু আর
ভারসাম্যহীনতার যে নামহীন পথ
সেখানে ঝরে অনন্ত পরিতাপ
আঁকতে শিখেছি তবু, মৃত্যুর দস্তানা…
৩
সমকোণে বিষণ্ণ শুকতারা
তুমি তো রুমাল কারুকাজ প্রিয় দেসদিমোনা
বাদাম ত্বকে রমণ শেষে, মেখে নাও
অস্থির সম্ভাষণ, দেখাও বিভা
অধিক অন্ধকার তবু মরুভূমি উড়ানে
সিঁড়ি ভেঙে আমিও কি পৌঁছে যাচ্ছি না চাঁদে
ভাঙা ভাস্কর্যের পাশে, বাঘবন্দি খেলা
বাক-চাতুর্যে পেরেক গাঁথার অতি কৌশলে
আসমান ফুঁড়ে উঠছে এখন লৌকিক দৃশ্যপট
আর ওথেলোর শেষ চুম্বন....
বুকে বিঁধে যাচ্ছে লুপ্ত হাওয়ার দিন
৪
মেঘ জমেছে কিছু
জ্যোতির বদলে যত যতিচিহ্ন চাই
সেখানে ঠিকরে ওঠে জেল্লা তোমার
জ্বলে ওঠে সমস্ত নূর, আহ কোহিনূর....
এখন সপ্তর্ষিসীমা
ডুবতে চাওয়া সান্দ্র এই মেঘসন্ধ্যায়
ছোট হতে হতে আমাদের শরীর ক্রমে বালুকণা
মিশে যায় আধখানা পৃথিবীসমগ্রে
তবু গভীরে যত ধ্যানের বাদামি পালক ভাবি
তার চেয়ে দ্রুতগামি প্রতিটি শ্বাস
ঈশ্বরের বদলে নেয় তোমার নাম....
মেঘ জমেছে কিছু, বুঝি এই বপনের কাল!
৫
স্মৃতিবিন্দু
যা কিছু গভীর তার সবটুকু দিয়েছি তোমাকে
মাছরাঙা নাভিতল নিভৃতের হরিতকি বন
তবু খোঁজো স্মৃতিবিন্দু, সঙ্গোপনে দেরাজে যখন
হৃদয় আগলে রাখি অর্থহীন অপার বিষাদে
নিজেকে সরিয়ে ভাবি এই বেশ লুকোচুরি খেলা
ছেঁড়াখোঁড়া ধারাপাতে থেকে যাব এমন ভ্রমণে
এ তো সেই তুমি নও, যাকে আমি অনিরুদ্ধ জানি
চেতনার কোন স্তরে ভালোবাসা নিজেকে চেনায়?
উত্তর অজ্ঞাত তাই লক্ষ্যভেদী সে শিকার আমি
তুমি যাকে প্রেম বলো তাকে আমি স্পর্শ বলে জানি...
ও অদৃশ্যতা হে অনিশ্চিতি
২০১৪
0 মন্তব্যসমূহ