কথোপকথন কবি মিলনকান্তি দত্ত ও কবি স্বপ্না নাথ

কথোপকথন কবি মিলনকান্তি দত্ত ও কবি স্বপ্না নাথ
(৫)
এজরা পাউন্ড  একসময় বলেছিলেন, কবিতাকেও  গদ্যের মতো  সুলিখিত হতে হবে, অর্থাৎ কবিতার  মধ্যে ভালো গদ্যের গুণাবলী  থাকা প্রয়োজন, এলিয়ট যাকে বলেছেন--' virtues of good prose'
 কিছু বলুন?


হ্যাঁ,এলিয়টও এরকম বলেছেন। 
অর্থাৎ কবিতা শুধু আবেগের
উচ্চারণ বলে ছেড়ে দিলে হবে
না। শক্তি তো কবিতা সংস্কারেও
বিশ্বাস করতেন না,যা একটানা
এসে পড়েছে, তা'ই খাঁটি। হয়তো 
কথাটি অসত্য নয়। তবু, নির্মাণের একটা ব্যাপার আছে তো! "গদ্যের মতো সুলিখিত"
মানে সংহত, এলিয়ে পড়া
ভাষাকে নিয়ন্ত্রণ, কম কথা,
শব্দের মেদবর্জন ইত্যাদি
বিষয়। এটা মানি,তাই
সুধীন্দ্রনাথ আমার প্রিয় হয়ে
উঠেন। রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দে
বিষয়টা নেই। বড়ো উচ্ছ্বসিত,
আলুথালু ভাষা যেন, অবশ্যই
সবক্ষেত্রে নয়,তবে অনেকক্ষেত্রে

এখন তুমি পাঠিও না গোবিন্দ


 আমার গণ্ডগোল  হয়ে যাবে


আমি যখনই  সময় পাব  যতগুলো পারি পাঠাব
  দশ- বারো দিনেই হয়ে যাবে


আমারও  তাই মনে হল, এটাই বলতে চেয়েছেন। শক্তি চট্টোপাধ্যায় তো বলেছিলেন--'সুধীন বাবুর কাজ ছিল ভাস্করের কাজ--- একেবারে কবিতা লিখতে বসে যেন ছেনী-বাটালি নিয়ে বসতেন। কম কথায় কাজ করেছেন বাঁধুনি শক্ত করে। কবিত্ব ছিল কিন্ত  excess ছিল না।'


নজরুলেও আছে


ঠিক।


আপনি সেদিন মালার্মের কথা বলেছিলেন।  সুধীন্দ্রনাথে তাঁর প্রভাব খুব বেশি জানতে পারলাম, অথচ  মালার্মে নাকি  তথাকথিত  বাস্তবকে কোনোদিন  স্বীকার  করেননি, প্লেটনিক  দৃষ্টিভঙ্গিতে বাস্তবকে দেখেছেন। কী মনে হয় আপনার?


এটি হয়। কবির কাছে
বাস্তবতা অন্যরকম
অনুভূতির জিনিশ। 
এক-একজনের একেকরকম
ভাবনা। বস্তুজগৎ এক। কিন্তু
ভাবনার জগতে অজস্র বিশ্ব।


বিষ্ণু দে-র লেখায় এলিয়টের প্রভাব  খুব বেশি। তাঁর  কবিতাকে   সম্ভবত  রবীন্দ্রনাথ  একসময় দুর্বোধ্য  বলেছিলেন।  অনেকেই বলেন,  তাঁর  অনেক লেখায়  বৈদগ্ধ্যের  বাহুল্য  এত বেশি যে,  তিনি কাব্যকে  সেভাবে  সংহতি  দিতে পারেননি। তাঁর কোনও কোনও   কবিতা তাই--' a rag-bag to stuff all its thought in'
  আপনার কী মনে হয় কবি?


হ্যাঁ। বৈদগ্ধ্যের বহুলতা আছে। 
বিষ্ণু দে যামিনী রায়ের চিত্রকলার অনুরাগী ছিলেন। 
যামিনী রায়ের ছবিকলা নিয়ে
লিখেছেনও। তার একটা কাব্যের প্রচ্ছদ যামিনী রায়ের
আঁকা। কিন্তু বিষ্ণু দে' আলোচনা
ছিল আর্টের ফর্মভিত্তিক। যামিনী-চিত্রের লোকায়ত দিক
খুব একটা স্পর্শ করেননি। হয়তো এদিকটা স্পর্শ করলে
তার কাব্যকবিতা এতোটা
এলিট হত না। অথচ তিনি
গণকবি হতেও চেয়েছিলেন!


সৃজনজগতে প্রভাব ব্যাপারটি 
জলচল আছে। কিন্তু নকল
চলে না। প্রভাব মানে ভাব থেকে
ভাব। কিন্তু আঙ্গিক থেকে
আঙ্গিক নয়। ফর্ম দিয়ে কনটেন্টকে নতুন করে নিতে হয়। এ ভাবেই তো চলছে কাব্যের সংসার।


হ্যাঁ,  অসামান্য  বৈদগ্ধ্য  ছিল তাঁর। প্রকরণের ওপর  ঝোঁক ছিল  বেশি।


তিরিশের কাব্যযুগটিই ছিল
বিদগ্ধতার। কাব্যনিয়তি হয়তো 
এটা চাইছিলেন। রাবীন্দ্রিক-
আবেগতারল্য থেকে বাংলাকাব্যকে মুক্ত করতে
বিষ্ণু-অমিয়-বুদ্ধ-সুধীন্দ্র-
জীবনানন্দ এই পথেই হেঁটেছেন। 
তাছাড়া আরেকটি বিষয়, 
নিখিলকাব্যে দুটি নিয়তপ্রবাহ
সমান্তরাল বহমান। ক্লাসিক এবং
রোমান্টিক। কখনো ধ্রুপদীস্তরে
উঠে যায় অর্থাৎ লোকোত্তরে,
কখনো নেমে আসে লোকায়তে
অর্থাৎ রোমান্টিসিজমে। 
কবির যাপিত জীবনবোধিও
এ বিষয়ে একটা ফ্যাক্টর!


ঠিক বলেছেন  কবি-- 'কাব্যনিয়তি হয়তো এটা চাইছিলেন।'
 বিষ্ণু দে কিন্ত   প্রথম থেকেই  অন্যান্য কবিদের মতো  মানে  তাঁদের সময়ের কথা বলছি,  রবীন্দ্র অনুসরণ করেননি, কিন্ত  তারপরে দেখা গেল 'টপ্পা-ঠুংরি'  কবিতায়  'ওরে বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ  মোর',  'হে বিরাট নদী' ইত্যাদি  কিছু  রবীন্দ্র উচ্চারণ ব্যবহার করেছেন  অন্যরকম অনুষঙ্গে।
 তারপর  দেখুন,  চল্লিশের  দশকে কবি সুভাষ  মুখোপাধ্যায়ের  'বধূ'  কবিতাটি  রবীন্দ্রনাথের  'মানসী' কাব্যগ্রন্থের  'বধূ'  কবিতার মতোই।


আপনার কথায় সে-ই  'প্রভাব মানে ভাব থেকে ভাব।'


ঠিক তাই। তবে তিরিশের
কবিদের একটা উল্লেখ্য গুণ 
হল,তারা রবীন্দ্রনাথকে স্বীকার 
করে অস্বীকার করেছেন। কালাপাহাড়ি আক্রমণ করেননি। 
কেননা,রবীন্দ্রনাথ তো ঐতিহ্য,
সেই ঐতিহ্যের মান্যতা নিয়েই
নতুন পথের সন্ধানী হয়েছেন।


হ্যাঁ, খুব ঐতিহ্য  সচেতন ছিলেন তারা।


তবে  জানলাম বিষ্ণু দে-র  ঐতিহ্য সচেতনতা  নাকি ছিল  অন্যান্যদের থেকে কিছুটা ভিন্ন।


মাইকেলের কথা ভাবুন, তিনি তো  হোমার, ভার্জিল, দান্তে, মিল্টন, পেত্রার্কের আশ্রয় নিয়েছিলেন।


হ্যাঁ। ভিন্ন। তার ঐতিহ্যবোধ
দেশকালাতীত। তাই তিনি
কাব্যের প্রকরণে বিচিত্রপথগামী।


 হ্যাঁ, বিষ্ণু দে-র ঐতিহ্য  কোনও বিশেষ দেশ-কালে সীমাবদ্ধ  ছিল না।


 আপনি যখন তুলেছেন  ক্লাসিক ও রোমান্টিক  দুটো প্রবাহের কথা, কাল যতটুকু পারি বলব কবি।: 

মোহিতলালের ভাষায়---- "ক্লাসিক্যাল লেখা রোমান্টিক  হইয়া উঠিতে  বেশিক্ষণ লাগে না,   রোমান্টিক  লেখার মধ্যে  ক্লাসিক্যাল লক্ষণ একেবারে  অবিদ্যমান নাই।"
  কী বলতে  চাইবেন  কবি?


অর্থাৎ ক্লাসিক্যালই রোমান্টিক
হয়,রোমান্টিকও ক্লাসিক্যাল
হয়। ক্লাসিকের বাংলা করেছিলেন সুধীন্দ্রনাথ,


ক্লাসিক যেন চিরকেলে। 
রোমান্টিক খেয়ালি,সমকালী। 
তবে এ বিষয় খুব অল্পসংখ্যক
কবির ক্ষেত্রেই ঘটে।


হ্যাঁ, সুধীন্দ্রনাথের  "ধ্রুপদী"
   সুধীন্দ্রনাথ রোমান্টিকবিরোধী ছিলেন, অথচ  ক্লাসিক আদর্শও  তিনি সেভাবে  মানতে পারেননি, যতটা জানলাম।

 সত্যিই  রোমান্টিক  যেন বাঁধনহারা একেবারে  উন্মুক্ত  চিন্তা, হৃদয় যা চাইবে  তা-ই যেন, কোনও  অনুশাসন নেই 
  হ্যাঁ, 'ক্লাসিক যেন  চিরকেলে।'
  ঠিক সব কবিদের ক্ষেত্রে এরকম ঘটে না। তবে অনেক কবিদের  ক্ষেত্রেই  উভয়ের চিহ্ন   ফুটে ওঠে, আসলে   উভয়ের  উৎস  তো সে-ই  মানুষের  হৃদয়।


একটা সময়ে  রোমান্টিক  কবিরা  প্রেমের  যে  অতীন্দ্রিয়  আদর্শ স্থাপন করেছিলেন, পরবর্তী  সময়ে  আধুনিক  কবিরা এসে সে-ই প্রেমের  মূলে দেখলেন  লিবিডো, আপনার কী মনে হয় এর পেছনে  ফ্রয়েডের মনস্তত্ত্বের  অবদান রয়েছে?


হ্যাঁ। ফ্রয়েডীয় প্রভাব আছে। 
যদিও কথাটি অনেকটা যান্ত্রিক। 
জীবনের মৃৎমূলে পৌঁছেও
এ বিষয় অধিগত করেছেন
অনেক কবি। এতটা ফ্রয়েড 
না জেনেও, জৈবিক জীবনকে
ভালোবেসে। যেমন গল্পে
জগদীশ গুপ্ত। কবিতায়
গোবিন্দচন্দ্র দাস। কামনার
কালীদহে কেলি করেছেন!


 ঠিক ঠিক  'ফ্রয়েড না জেনেও জৈবিক জীবনকে ভালোবেসে।'


একটি অন্যরকম ব্যক্তিগত প্রশ্ন,
  আপনি  উত্তর  না-দিলেও জোর করব না। 

 আপনার অবিবাহিত  থাকার পেছনে কী কবিতার কোনও  সম্পর্ক  আছে?


না। বন্ধনে জড়াতে চাইনি,
এটিই কারণ। কেননা আমি
খুব বিষয়বুদ্ধিহীন মানুষ। 
"তুমি যতো ভার
 দিয়াছ সে ভার
 করিয়া দিয়াছ সোজা,
 আমি যতো ভার
 জমিয়ে তুলেছি
 সকলই হয়েছে বোঝা। 
 এ বোঝা আমার
 নামাও প্রভু নামাও..."
ঈশ্বর শুনেছেন আমার আকুতি,
তাই বোঝা বাড়াইনি। 😊

র‌্যাঁবো, বোদলেয়ার, ভালেরি, মালার্মে, লাফর্গ  তাঁদের অনেকেই কাব্যের  সংগীতধর্মের  উপর জোর দিয়েছিলেন। ভেরলেন 'Art poetique'  নামক কবিতায় ঘোষণা করেছিলেন---"De la musique avant toute chose", অর্থাৎ সবার উপর সংগীত সত্য।
অনেক ইংরেজ  রোমান্টিক  কবিরা   কাব্যকে বস্তুজগত থেকে বিচ্ছিন্ন  করে  কাব্যে সংগীতধর্মকেই আশ্রয় করেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল--" we are the music makers, we are the dreamers of dreams."
   কাব্যসংগীত  বা সংগীতকাব্য নিয়ে কিছু বলুন?

আমি যে তাঁদের  সবাইকে পড়েছি তা কিন্ত  নয়, টুকরো-টুকরো, খুচরো-খুচরো পড়া থেকেই জানা।


সংগীত শ্রেষ্ঠ নিঃসন্দেহে। 
সংগীতই বিশুদ্ধ ধ্বনিশিল্প। 
সংগীতের মধ্যে আবার
যন্ত্রসংগীত। রবীন্দ্রনাথও
বলেছেন, বাক্য যেখানে শেষ, 
সেখানেই সংগীতের শুরু। 
বাণী উল্টোলেই বীণা। কিন্তু
কবিতা ঠিক সে অর্থে
বিশুদ্ধ ধ্বনিশিল্প হয়ে উঠেনি। 
কবিতা হচ্ছে শব্দগুণ,অর্থগুণ,
চিত্রগুণ এবং ধ্বনিগুণের
সমবায়। এরকমই আমি মনে
করি।

রবীন্দ্রনাথের  অনেক কাব্যে সংগীত, চিত্র ও  ভাবের  অসামান্য সমন্বয় লক্ষ করা যায়।

এটাই কবিতার নির্দিষ্ট ফর্ম। সে
সংগীত হয়ে উঠতে চাইলে
কবিতা আর থাকবে। কবিতা
এই অব্দিই যেতে পারে। 
এটা কবিতার অক্ষমতা নয়। 
কবিতার স্বক্ষেত্রের কথা। 
বিশুদ্ধশিল্প হয়ে ওঠার দায়
তার নেই।


সত্যিই, সবার একটা স্বক্ষেত্র রয়েছে।


আপনাকে যদি বলা হয় কবিতার জন্য একদিন  না-খেয়ে একটা ঘরে  দরজা  বন্ধ করে  শুধু কবিতাকে নিয়েই  থাকুন, পারবেন কবি? হঠাৎ মনে হল তাই😄


আপনার ভালোলাগার কবিতাগুলো কোনও  কবির কণ্ঠে সারাদিন বসে-বসে শুনতে পারবেন?😄

হ্যাঁ। পারব। তবে আমার ভালো 
লাগা কবিতাগুলো কোনও 
কবির কণ্ঠে শুনব না। নিজের
কবিতাগুলো নিজেই মনে মনে
পড়ব। নিজের কবিতাগুলো 
পড়লে সেগুলোর ইতিহাস,
কোথা থেকে চিত্রকল্প এল,
কার কথা থেকে এল, এসব
ইতিহাস কবি ছাড়া তো আর
কেউ বলতে পারবে না? 
তখন অন্যরকম আস্বাদন হয়।

না-খেয়ে  আমি থাকতে পারব না একদম, আমি কখনও  উপোস থাকিনি। সকাল এগারোটা বা বারোটা পর্যন্ত  পারব, আর দরজা বন্ধ  করে থাকতে পারব তবে জানালা খোলা থাকতে হবে😄

 আমি পারি। শারীরিক শ্রম
কম করি। তাই খিদে পায়
না। তবে ধর্মীয় কোনো 
উপবাসের অভিজ্ঞতা নেই।


হ্যাঁ, আমি শুনতে পারব, তবে শুয়ে-বসে,  আড্ডার  সঙ্গে😄
অন্তত দেড়-দুদিন শুধু জল
অথবা ফলটল খেয়ে পারি।


আমি কিছু না কিছু খেয়েই  পুজো দিই


ভালো। সমর্থনযোগ্য।


ধরুন,  একই দিনে একই  সময়ে আপনার একজন ঘনিষ্ঠ  আত্মীয়র বিয়ে, যেখানে না-গেলে  আত্মীয়রা কষ্ট পাবেন, আবার  কবিসম্মেলন যেখানে  আপনার  একটা  বিশেষ ভূমিকা  নির্দিষ্ট  করা আছে, সেখানে অনেকক্ষণ  থাকতে হবে, যেখানে না-গেলে  আপনি কষ্ট  পাবেন, কোথায় যাবেন তখন?😄

এ সমস্যায় কোত্থাও যাব না!: 

কবিতার জন্য আপনার প্রিয় কী ত্যাগ  করতে  পারেন?


কবিতা-চিত্র-গান-নাটক
ইত্যাদি চর্চা এবং চর্যায়
আনন্দ পাওয়া যায়,ঠিক,
কিন্তু জীবন তো এ সব কিছুরই
চেয়ে মহৎ। মানিকের গল্পচরিত্র
কুমুদ বলেছিল,ঠিকমতো 
বাঁচতেই জানি না, কবিতা লিখব? আসলে বেঁচে থাকার
সঙ্গে যদি শিল্পচর্চার আনন্দ
মিলে যায়,সেক্ষেত্রে স্বর্ণে
সোহাগা। কিন্তু মিলে কি? 
মিলে না। এই বিয়োগান্তক
যাপনে জীবনের চেয়ে প্রিয়
আর কী থাকতে পারে বলুন? 
তা তো ত্যাগ করা যায় না! 
বিষ্ণু দে বলেছিলেন, "বাঁচাই
কবিতা"!


 ঠিক কবি
  কবিতাই জীবন বা জীবনই কবিতা হলেও  অনেকসময়  জীবন ও কবিতা মেলে না।  
  কবিতার  জন্য আমি প্রিয় কবিতাকেই ত্যাগ করতে পারি।


কবিতাকে  নিয়ে  কারও সঙ্গে ঝগড়া করেছেন কবি  কখনও?😄


হ্যাঁ। তা কিছু কিছু ক্ষেত্রে
হয়েছে বই কি! কেননা
আমি মার্ক্সিস্ট বা হাংরি এসব
কিছু নই। তবে মতমালিন্য
মনমালিন্যে পৌঁছোয়নি। এই
যা!


কবি নকুল রায়ের সঙ্গে  ঝগড়া হয়েছিল দুবার,  তাঁর হয়তো মনে নেই। তবে বেশিদূর এগোতে  পারেনি, আমি অবোধ বলেই  হয়তো তিনিই  চুপ করে  গিয়েছিলেন, আমিও ঝগড়ায় তেমন  পারদর্শী নই, নিজের মত নিয়ে  নিজেই  নিঃশব্দ থেকে যাই অনেকসময়। আর একজন কবি একদিন বলেছিলেন-- আমার লেখা    touch  করে না,  সে-ই কবির সঙ্গে অনেকবছর  আগে মনে-মনে খুব ঝগড়া করেছিলাম 😄

 Swapna Nath: 

আপনাকে যদি বলা হয় -- আবার যদি পৃথিবীতে আসেন, কবি হিসেবেই আসতে চান?


 প্রথম বা দ্বিতীয় বই বিষয়ে
কবির একটা মমতা থাকে। 
এই বইটি একেবারেই যদি
আপনার কপি না থাকে,তবে
আমাকে দেওয়া কপিটি নিতে
পারেন। আমি তো পড়েছি। 

অবশ্য,কবি হিসেবেই আসতে
চাইব।

এখানে শুধু  শেষ লাইনটা টাইপ হবে গোবিন্দ


আমারও  খুব  ইচ্ছে   পরজন্মে যেন কবি হয়েই আসি। এ-জন্মে কিছুই  করা হল না।


সেদিন  কাব্যসংগীত নিয়ে আরও  কিছু বলার ছিল। "গীতাঞ্জলি" কী পুরোপুরি  কাব্য মনে হয় আপনার?   রবীন্দ্রনাথ  গানকেও  ধরতেন কাব্য হিসেবে। হিরণকুমার   সান্যালের  লেখাতেই  পেয়েছি  রবীন্দ্রনাথের  এ-কথাটি---"আমার গান আমার ছোট গল্প  আর  ছবি এ তিনের মধ্যেই  আমি বেঁচে থাকব।"
  কবিতার  কথা তিনি বলেননি।  কিছু বলুন কবি?


সুরারোপ করার আগে গান তো
কবিতাই। রবীন্দ্রনাথের গান
কথাপ্রধান। "গীতবিতান" ভূমিকায় কবি বলেছিলেন
"...সুরের সহযোগিতা না পেলেও,পাঠকেরা গীতিকাব্যরূপে এই গানগুলির
অনুসরণ করতে পারবেন।"
সম্ভবত সেই সাহসেই সুনীল
গাঙ্গুলি, আবু সয়িদ আইয়ুব
গীতবিতানকেই রবীন্দ্রনাথের 
শ্রেষ্ঠ কবিতার বই বলেছিলেন। 
কবি বলেছিলেন,প্রাচ্যকে দিলাম
আমার গান আর পাশ্চাত্যকে
দিলাম আমার ছবি। কবি
কবিতার কথা আলাদা করে
বলেননি, এজন্য যে,তাঁর গান
তো গীতিকবিতাই। তাই অনেক
কবিতাকে তিনি গানে পরিণত
করেছেন,যেমন দুই পাখি,কৃষ্ণকলি, ভারততীর্থ
ইত্যাদি।


কেউ কেউ মনে করতেন বা এখনও  করেন যে, রবীন্দ্রসঙ্গীতের পরিণতি  ঘটেছিল  রবীন্দ্রকাব্যের  বেশ  কিছু আগে, আপনার  মতামত?


আমার মনে হয়,কবিতা এবং
গান সমান্তরাল সৃজন করে
গেছেন,কবি। যদিও বলেছেন,
গানের ভেতর দিয়ে ভুবন চেনার
পথ তিনি পেয়েছেন। বলেছেন,
গান রচনা করতে গিয়ে যতটা 
আনন্দ পেয়েছেন,অন্য সৃজনে
ততটা পাননি। এবং তবু,
"পরিণতি" কথাটা আমার কাছে
স্পষ্ট নয়!


আসলে  কথাটা পরিণত অর্থাৎ matured রূপ। আপনার কথা  আমিও মানি।  কবি না-হলে সংগীতের জন্ম  হত  কীভাবে!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ