কথোপকথন
কবি মিলনকান্তি দত্ত ও কবি স্বপ্না নাথ
সুধীন্দ্রনাথের মতোই intellectualism আপনার কাব্যের প্রধান অবলম্বন আর তাকে কেন্দ্র করেই শব্দ-শরীরের ঠাসা বাঁধুনি
আমার তা-ই মনে হয়
ঠিক ধরেছেন।
একদম।
তিরিশের কবিদের
মধ্যে জীবনানন্দ
সুধীন্দ্রনাথকেই
পছন্দ করতেন,
সুধীন্দ্রের নিখিলনাস্তিদর্শন
জীবনানন্দেও
ছায়া ফেলেছিল।
সবচেয়ে নিরাশা-
করোজ্জ্বলচেতনা।
কোথাও কোথাও আঙ্গিকের পরীক্ষা-নিরীক্ষা খুবই লক্ষণীয়
হ্যাঁ।আঙ্গিক।
আঙ্গিকই
আধুনিকতা।
কনটেন্ট বা
বিষয় তো
নতুন কিছু
নেই। নিত্যই
নতুন হয়ে
আসে আঙ্গিকের
মাধ্যমে।
এজন্য আমরা
বলি,
নিত্য-নতুন।
হ্যাঁ, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঠিক
কবি,
প্রাচীনাবীত
শব্দটা অর্থ :
পুরোহিতরা
শ্রাদ্ধকার্য,
তর্পণকার্যে
পৈতেটি ডানকাঁধে
রেখে ক্রিয়াকর্ম
করান। সেই
পৈতেধারীকে
বলা হয়,
প্রাচীনাবীত।
শুভবাদ।
আমার কবিতায়
সবসময় একটা
বিষাদযোগ থাকে!
হ্যাঁ, তবে আমার মনে হয় সে-বিষাদযোগ আপনার অন্তরের সচ্ছলতা যা আপনার কাব্যভাষার চরিত্রকে রক্ষা করে, আপনাকে দমন করে না বা আপনি ডুব দিলেও তলিয়ে যান না কবি।
কী জানি!
চেতনা।
হয়তো আপনি
ঠিক ধরেছেন।
আপনি বিষাদের আঘ্রাণে, আস্বাদে বারবার নিজের মতো করে আবিষ্কার করেন বিষাদ, কী জানি! আমি ঠিক নাও হতে পারি
'কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে'
আপনি ভালোবাসেন
হয়ত এতেই আপনার আনন্দ
ঠিক। বেদনাই
বেদ। জীবনের
সত্যটা কী?
জানি না কেউ।
আমাদের চেতনাই
আমাদের হন্তারক! চূড়ান্ত
কোনো ধ্রুপদ নেই,
এই বোধ থেকে
একটা মগ্নতা আসে আর মনের
ভেতর ঘনিয়ে
আসে বিষাদ!
এ কী জীবনেরই
প্রবল স্পৃহা?
এভাবেই আর্ত হই!
আমার মুকেশপ্রিয়তা তাই
আকস্মিক নয়,
যেমন নয় সুধীন্দ্রীয় নাস্তিমগ্নতা।
দুঃখ-বিষাদ আমাদের খুব স্পষ্ট করে তোলে, রবীন্দ্রনাথ বহু আগেই বলে গেছেন সে-কথা, অথচ দেখুন কবিতায় দঃখ-বিষাদ লিখলে অনেক পাঠক কেমন মানতেই চান না, যদিও পাঠকের কথা ভেবে কবি তো লিখবেন না! প্রতিটি মানুষের মধ্যেই তো কিছু না কিছু দুঃখ বহমান, এখন কেউ কেউ সে-ই জমাট বাঁধা বরফ গলিয়ে নিতে জানেন, কেউ কেউ পারেন না।
কোথায় যেন পড়েছিলাম ইউরোপের একজন কবি সম্ভবত হেবর্ট ( নামটা আমি পরে দেখে নেব) একসময় শুধু বিষাদ লিখে-লিখে পাঠকদের অশ্রুপ্লাবনে ভাসিয়েছিলেন, সে-ই কবিই পরবর্তী সময়ে কত আনন্দের কবিতা লিখে পাঠকবন্ধুদের মাতিয়ে দিয়েছিলেন, তবে আমার মনে হয়, সে-ই কবি কী দুঃখকে জয় করেছিলেন, তা না-ও হতে পারে, হতে পারে দুঃখকে অতিক্রম করতে চেয়েছিলেন।
শোক থেকে শ্লোক। মিলটন
বলেছিলেন, সরো
ইজ নলেজ। দুঃখই কবিতার
জননী। আসলে
কবিদের জীবন ও
যাপন তো ভিন্ন ভিন্ন। কেউ
আনন্দজাতক।
আনন্দ থেকে প্রারম্ভ। পরিণতবোধে
বিয়োগান্ত। কেউ
ব্যথায় আর্ত। কিন্তু
শেষে আনন্দে
সমর্পিত। কথা হল
জীবনসত্যই সুন্দর, বোদলেয়রও সুন্দর,কিটস্
শেলিও সুন্দর।
সে অর্থে বিশ্বাস
করি। দুঃখ মানুষ
চায় না। অথচ
আশ্চর্য, বিশ্বের
শ্রেষ্ঠ সৃজনগুলো
আর্ততার প্রকাশ।
দুঃখানুভব এবং
দুঃখবিলাস, দুটি
জিনিস।
আমার ঠিকভাবে গুছিয়ে বলতে পারি না। আপনি অনেক সংযত, পরিমিত, মৌখিক ও শিল্পিত উভয়রূপেই, কাব্যে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। আমার কথা ভালো না লাগলে ছেড়ে দেবেন, কিছু মনে করব না
না,ব্যক্তিক সংলাপ,আন্তরিক।
এটিই মূলকথা।
Beauty is truth, Truth is beaty-- সেটা তো অনেক অনেকবার শুনেছি, শুনছি, কিন্ত-- Beauty includes good-- এটা নিয়ে আপনার থেকে একটু পরিষ্কারভাবে জানতে চেয়েছিলাম।
কবিতা কবিতা-
শূন্যতার দিকে
যাত্রা করে।কবিতা-শূন্যতার
সঙ্গে মেশার পূর্বেই
সে থেমে যায়। এই
অব্দি সে স্বপ্রকাশ। কবিতা
ভণিতা চৈব। প্রকৃত কবিতা তখন লেখা হবে
যখন সত্যের
একানুভবে আমরা
তীর্ণ হব। তার আগে সবই ভণিতা। শ্রোয়েডিংগারের
ক্যাটস্ কমপ্লেক্সের মতো।
কবি যশোধরা
সুন্দর বলেছিলেন : এক
কবি থেকে আর
এক কবির কাছে
কবিতার সংজ্ঞার
কোনও মিল নেই
অথচ আমরা সমবেতভাবে কবিতা ব্যাপারটা
কী তা বুঝি,অকবিতা
থেকে তাকে আলাদা করে নিতে পারি।
কবিতার সংজ্ঞা
হয় না। কবিতাই
সংজ্ঞা অর্থাৎ
চেতনা। কবিতা
অব্যর্থজীবনপদ্ধতি,আবার ব্যর্থ
জীবনপদ্ধতিও।
বোধের বার্ধ্যক্য
আবার বোধাতীত
সম্বোধি।
প্রথানুগ কোনো দর্শনগত বিশ্বাস
আমার নেই। এমনকি কাব্যেও।
যখন যে মানবিক অভিঘাতে
মন ভাষা পায়,তা'ই আমার মন্ত্র।
"আমার লেখালেখি" কবিতায় যা
বলেছিলাম : "লেখা আমার লেখা যখন যেমন তখন তেমন
লিখি /কবিতা লিখি প্রবন্ধের
মতো, প্রবন্ধ লিখি কবিতার মতো।"
ভারতচন্দ্রের কথাটাও বিশ্বাস
করি : "ভাষা হোক যথাতথা/
কাব্য রস লয়ে।"
তা প্রেম হোক,প্রতিবাদ হোক,
প্রতিবোধ হোক অথবা
পরানুভব কিছু।
আমার কেন জানি মনে হয় সমস্ত সৃষ্টির মূলে প্রেম, এই যে আপনি অনেকবার 'পতাকা' শব্দটিকে ব্যবহার করে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ-কৌতুক-প্রতিবাদ যা-ই করতে চেয়েছেন সবকিছুর মূলে পতাকা প্রেম, মানে পতাকার প্রতি অবিচার আপনি মানতে পারছেন না বলেই প্রতিবাদ। অন্যান্য কবিরাও যাঁরা বিদ্রোহ-প্রতিবাদ করেন, সবকিছুর উৎসমূলেই প্রেম মনে হয় আমার। প্রেম না থাকলে প্রতিবাদ সম্ভব হত না, হ্যাঁ সেটাকেও আপনার ভাষায় বলা যায় এক 'বোধাতীত সম্বোধি।'
'কবিতা লিখি প্রবন্ধের মতো, প্রবন্ধ লিখি কবিতার মতো' ---খুব সুন্দর বলেছেন কবি।
হ্যাঁ। ঠিক বলেছেন। প্রেমিকই তো প্রতিবাদী হয়। এবং প্রতিবাদীও প্রেমের কাছে
দায়বদ্ধ।
সৃষ্টির মূলে দ্বৈত। দ্বৈতেরই প্রেম
হয়। এই প্রেম সৃষ্টির সংগীত।
কিন্তু কবি আরও এগোবেন,
দ্বৈতের পূর্বে তো প্রেম নেই।
তবে আরও কিছু? কী জানি!
সেই অজানা-অচেনা-অদেখা
তো কবিকে আর্ত করে?
সত্যিই 'কী জানি!'
কত অজানা-অচেনা-অদেখা কবিকে আর্ত করেই যাবে।
একসময় জীবনানন্দের বিশ্বাস ছিল-- উপমাই কবিত্ব। সেজন্য তাঁর কবিতায় উপমার উদাহরণ প্রচুর। একজন সমালোচক বলেছিলেন, নাম মনে পড়ছে না, প্রবল ইন্দ্রিয়বোধের কবিদের লেখাতেই নাকি উপমা দেখা যায় বেশি। এ বিষয়ে কিছু বলবেন?
মন্তব্যটি খুব আবেগঘন। উপমা
চমৎকার এবং তবু,উপমাই
কবিত্ব নয়! জীবনানন্দের
প্রবল অস্তিত্বটি হল, তার কবিতায় ইন্দ্রিয়সচেতনা।
তিনি চোখ দিয়ে শুনেছেন,
কান দিয়ে দেখেছেন। অভ্যস্থ
ইন্দ্রিয়ের কাজকে বিপর্যস্ত
করে অপূর্ব এক আস্বাদনের
বার্তা দিয়েছেন পাঠককে,
আর এজন্যই উপমাপ্রয়োগ।
কিন্তু শেষ অব্দি উপমেয়
উপমানকে ছাড়িয়ে যায়,
তখন হয়তো উপমা নিছক
কবিত্ব নয়। একটা আপেক্ষিক
অর্থেই জীবনানন্দের কথাটি
ধার্য।
আপনার কবিজন্মে কখনও কষ্ট হয় আপনার?
কবিতা তো কষ্টের কলা,
আল মাহমুদ বলেছিলেন।
কবিজন্ম কষ্ট দেয়,আবার
কবিতাই অভ্যুত্থান শেখায়।
কবিদের খুব কষ্ট
কষ্ট হয় তাঁদের জন্য
কবিতাই রোগ, কবিতাই ঔষধ
তবুও কষ্ট হয়
একটা কবিতায় বলেছিলাম,
কবিকে সঙ্গম থেকে তুলে
শ্মশানের দিকে নিয়ে যায়
কবিতা।
আবার আরেকটা কবিতায়
বলেছি,
জয় ছাড়া কবি বৃথা নয়!
একটা কবিতায় বলেছিলাম,
কবিকে সঙ্গম থেকে তুলে
শ্মশানের দিকে নিয়ে যায়
কবিতা।
আবার আরেকটা কবিতায়
বলেছি,
জয় ছাড়া কবি বৃথা নয়!
এটা ঠিক, আপনার কবিতা ভাবাবেগকে অতিক্রম করে বৈদগ্ধ্যের ফসল এবং সেটা বহুমুখী, বৈচিত্র্যে ভরপুর, কবি সুধীন্দ্রনাথ সম্পর্কে এলিয়টের ভাষা আপনার সম্পর্কেও বলা চলে--'variety and complexity, playing upon a refined sensibility' তবে মাঝেমাঝে বেশ বিরক্তির দ্যোতনা প্রকাশিত হয়, সেটা কী শুধু যুগের অসুস্থতার জন্য?
আমার মনে হওয়াটুকুই বলা
অনেকসময় মনে হয় সুধীন্দ্রনাথ, বিষ্ণু দে যদি আপনার কবিতার পাঠক হতে পারতেন
হ্যাঁ,আমরা তো সময়ের নাগরিক। তাই সভ্যতার চাপে
ক্লান্তি, বিরক্তি আসে।
ঔপনিবেশিক আধুনিকতা
অনেকদিন আমরা লালন
করেছি। কিছুটা উৎকর্ষ যুক্ত
হয়েছে বাংলা কবিতা চর্চা ও
চর্যায়। কিন্তু আর কতোকাল?
জাপানি,রুশ বা লাতিন আমেরিকার তো নিজস্ব
আধুনিকতা আছে। নিকানোর
পারা বা মার্কেজের সাহিত্য-
কাব্য আমাদের আত্মীয়।
আমাদেরও নিজস্ব আধুনিকতার
সন্ধানযাত্রা করা উচিত। উত্তর-
আধুনিক বা আধুনিকোত্তর
এসব ডগমার কথা বলব না।
আমার কবিতায় এরকম একটা
সন্ধান আছে,তাই নানান
অভিঘাত হয়তো উঠে আসে।
সিদ্ধ কল্পনা থেকে কবিতাকে
মুক্তি দিতে গিয়ে উদ্ভট স্বপ্নসূত্র
অনেকসময় ব্যবহার করি,বা
আনপোয়েটিক ইমেজারি! এটি
ঠিক সুররিয়ালিস্টিক বা
ডাডাবাদী সঠিক অর্থে নয়
বোধহয়। হাঁ-কবিতা এবং
না-কবিতার মাঝামাঝি
অবস্থান।
'হাঁ-কবিতা এবং না-কবিতার মাঝামাঝি অবস্থান।'---ঠিক বলেছেন।
কবির প্রকৃতি আসলে সামগ্রিকভাবে তো বিশ্লেষণ করা যায় না, শুধু খণ্ড খণ্ড নিয়ে কিছু বলা, যা একদিকে সমর্থন করা যায়, আবার খণ্ডন করাও যায়।
সুধীন্দ্রনাথের কথা---'প্রেরণাতে অলৌকিকের আভাস আছে বলে, সাহিত্যসৃষ্টির উক্ত উপকরণ আমি সাধ্যপক্ষে মানতে চাইনি, তার বদলে আঁকড়ে ধরেছিলুম অভিজ্ঞতাকে।'
আপনি সুধীন্দ্রনাথকে ভালোবাসলেও দেখলাম-- প্রেরণাতেও আপনার যথেষ্ট বিশ্বাস রয়েছে, যদিও ভালোবাসলেই সবকিছুতেই বিশ্বাস রাখা অপরিহার্য নয়, তবু বললাম।
প্রথম দিকে প্রেরণাকে মানতে
চাননি সুধীন্দ্রনাথ। মনে হয়
রাবীন্দ্রিক ঐশীবিশ্বাসের
প্রভাবমুক্ত হওয়ার জন্য এটি
সচেতপ্রয়াস। কিন্তু সুধীন্দ্রনাথ
যখন "দশমী" কাব্যে বলেন
"তথাপি পাবো না আমি
আপনার দেখা কি?"
বিরূপ বিশ্বে মানুষ নিয়ত
একাকী, বলার পর...
তখন মনে হয় লোকোত্তর
একটা চেতনাকে তিনি
স্বীকার করতে চেয়েছেন,
তা না হলে,লোকায়তকে
উপলব্ধি করা যায় না!
আপনি "প্রেমভাজা" শব্দটা
বলেছিলেন। শব্দটা আমার
মৌলিক নয়। এটা বাউলসাধনার
পরিভাষায় অতিগুপ্ত একটা
বিষয়। ইচ্ছে করেই বাউলদের
গুপ্তিপাড়ার কথা ব্যাখ্যা
করছি না। তবে আমি শব্দটাই
নিয়েছি। ব্যাখ্যাটি আমার
কবিতার জন্য প্রয়োজন নেই
বলে, কবিতায় বলিনি।
হ্যাঁ-কবিতা এবং না-কবিতা
বলতে আমি কবিতা এবং
প্রতিকবিতাকে বোঝাতে
চেয়েছি,মূলত।
বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাশ ও অমিয় চক্রবর্তীর মতো সুধীন্দ্রনাথেরও প্রথম পর্ব ছিল রবীন্দ্রানুসরণ। 'তন্বী'-তে---
'অধুনা-আনীত নব অলিখিত
লেখনী মোর,
কি জানি কেমন ভাগ্য লিখন
আছে রে তোর!
মুখাগ্রে তোর ছুটিবে কি গান?
পাবি লাঞ্ছনা? মিলিবে কি মান?'
আপনি যে বললেন লোকোত্তর একটা চেতনাকে স্বীকার করতে চেয়েছেন, এটাই ঠিক মনে হয়-- ওই যে তিনি বলেছেন--'সাধ্যপক্ষে', এটাই।
একটা জায়গায় আবার পেলাম সুধীন্দ্রনাথ বলেছেন--'আধুনিক কবি প্রেরণা মানে বটে, কিন্ত প্রেরণা বলতে সে বোঝে পরিশ্রমের পুরস্কার।'
তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়াল এই যে, স্বতঃস্ফূর্ত ভাবধারা বা প্রেরণাকে ভেঙে পরিশ্রম বা সাধনার দ্বারা তাকে নিজস্ব ভাবধারায় শৃঙ্খলিত করা।
'প্রেমভাজা' বাউলদের গুপ্তিপাড়ার কথা-- এটা জানতাম না কবি।
সুধীন্দ্রনাথের স্বক্ষেত্রে
হয়তো কথাটা ঠিক। কিন্তু
তবু, অমীমাংসিত রয়ে যায়
কথাটা,প্রেরণা কি সত্যই
পরিশ্রমের ফল!
সুধীন্দ্রনাথের স্বক্ষেত্রে
হয়তো কথাটা ঠিক। কিন্তু
তবু, অমীমাংসিত রয়ে যায়
কথাটা,প্রেরণা কি সত্যই
পরিশ্রমের ফল!
তবে কবিতায় প্রয়োজন না-হলেও এখন যে আপনি বলেছেন এখানেই তো আপনার সততা কবি।
তাহলে,মা নিষাদ শ্লোকরচনার
পর বাল্মিকী কেন বলেছিলেন,
কিমিদং ব্যাহৃত ময়া : এ আমি
কি বললাম? অথবা এ আমি
"কী" বললাম?
কী জানি!
ভাবি শুধু
কবিতার ক্ষেত্রে কোনও কথাই তো শেষ কথা নয় কবি।
এটিই সারকথাটি বলে
দিলেন!
কবিদের নিজেদের মধ্যেই অনেক স্ব-বিরোধিতা রয়েছে কবি
এই স্ববিরোধিতা আছে বলেই
কবিতা হয়।
হুম
অনেকে সেটা স্বীকার করতেও চান না
সম্ভবত কবি বিনয় মজুমদারের একটা কথা পড়েছিলাম-- সৌন্দর্যতত্ত্বের একটা বড়ো সূত্রই হল এলিমিনেশন- বর্জন, যার ফলে কবিতার রহস্যময়তা বাড়ে, পাঠকও হয়ে উঠেন সৃষ্টিশীল।' বিশ্বাস করেন কবি?
যতদিন দ্বৈতের জগৎ,
ততদিনই স্ববিরোধ থাকবে।
আর্ততাও থাকবে সেজন্য।
শ্রোয়েডিংগারের ক্যাটকমপ্লেক্সের মত। বাক্সের
ভেতর বিড়ালটা জীবিত আছে,
না মৃত? দুটোরই সম্ভবনা আছে,
বাক্সটা খুললে বলা যেতে পারে
কোনটা সত্য। যেদিন মানুষ
অদ্বৈতের সন্ধান পাবে,সেদিনই
স্ববিরোধহীন সত্যকে জানা যাবে,তাই বলেছিলাম হয়তো
কবিতা ভণিতাচৈব। প্রকৃত
কবিতা শুরুই হয়নি!
হ্যাঁ,সত্যতা আছে বিনয়
মজুমদারের কথায়।
'যেদিন মানুষ অদ্বৈতের সন্ধান পাবে, সেদিনই সত্যকে জানা যাবে'-- সত্যকে আদৌ সত্যের মতো করে পায় কিনা একজন মানুষ তাঁর সমগ্র জীবনে! আসলে সন্ধান চলতেই থাকে।
হ্যাঁ। সন্ধান। আমি কোথায় পাব
তারে...
শরৎচন্দ্র বলেছিলেন-- 'কি লিখতে হবে তা আমরা জানি, কি লিখতে হবে না তা জানি না।'
অনেকে বিশ্বাস করেন, যাঁরা বড়ো মাপের স্রষ্টা তাঁরা নিঃসন্দেহে জানেন--কি লিখতে হবে না। কোন শব্দটা শৈল্পিক কারণে জরুরি বা কোন পঙ্'ক্তিটি না-হলে কবিতাটি গুরুত্ব পাবে না। আপনার কী মনে হয় কবি? শক্তিশালী কবি হলেই কী তিনি সবসময় এমন নিঃসংশয় হতে পারেন?
শক্তিশালী কবি হলে তিনি
নিঃসংশয় হতে পারেন,আমি
তা'ই মনে হয়। তবে কথাটি
একজন কবির অধিক অংশের
কবিতাবিষয়জ,যা তার বোধিতৃপ্ত লেখা। ব্যতিক্রম তো
থাকবে, কিন্তু তা আলোচ্য নয়।
চারপাশে কত কী হচ্ছে কবি!
ভালো লাগে না
ঠিক বলেছেন, চারপাশটা যেন
অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে দিনদিন!
কবি প্রদীপবিকাশ রায় বলেছিলেন,
"কবিরাও আর রইল না কবির
মতো।"
ঠিক কবি, 'কথাটি একজন কবির অধিক অংশের কবিতাবিষয়জ' একজন কবির সব কবিতা সম্পর্কে কথাটি প্রযোজ্য নয়। ব্যতিক্রম আছেই।
" কবিরাও আর রইল না কবির মতো।'
বিশ্বাস করুন কবি, ঠিক এই কথাটিই আমি কাল ভাবছিলাম, কিন্ত আপনাকে মেসেজ করে পাঠাইনি। আসলে অনেক জায়গাতেই আমাদের কিছু না কিছু ভাবনা মিলে যায় একদম।
যখন প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থাকি, প্রতি মুহূর্তেই মনে হয়-- ঈশ্বরের মতো শ্রেষ্ঠ শিল্পী আর কেউ নয়। যখন মানুষের কাছে ফিরে আসি, তখন কিছু মানুষের কিছু অসম্পূর্ণতা দেখে খুব কষ্ট হয়। অন্ধ, খোঁড়া, বোবা-কালা , আরও কত মানুষদের দেখে ভাবি-- স্বয়ং ঈশ্বরও নিঁখুত শিল্পী নন। বিভিন্ন তত্ত্ব যা-ই ব্যাখ্যা করুক, খুব কষ্ট হয়।
অধ্যাত্মদর্শনে তাই ঈশ্বরও
সর্বোচ্চ তত্ত্ব নয়। ঈশ্বরের এই
অসম্পূর্ণতা বিষয়ে জ্ঞানীরা
জানতেন। তাই কপিল সাংখ্য-
দর্শনে বলেছেন, "ঈশ্বরঃ অসিদ্ধেঃ।" ঈশ্বর সিদ্ধতত্ত্ব নয়।
যদিও দোষেগুণে ভরা মানুষের
সত্যচিন্তা ঈশ্বরে গিয়ে শেষ হয়ে
যায়! হয়তো এই যন্ত্রণায় নজরুল বলেছিলেন "মম চরণের
তলে মরণের মার, খেয়ে মরে
ভগবান!" আমি ওয়ানলাইনারে
বলেছিলাম তির্যক, শয়তানের
সঙ্গে হামেশাই ধাক্কা লাগে,
শয়তান আমাকে বলে,ঈশ্! সর্!
এসব অসম্পূর্ণতা সত্ত্বেও আমি ঈশ্বরে বিশ্বাসী কবি। অনেকসময় মনে হয় ঈশ্বরের এরকম কিছু অসম্পূর্ণতা হয়ত আমাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য, না-হলে এতকিছু মানুষ জানত কীভাবে! আমার বাবা স্নান করে গীতা না-পড়ে কখনও ভাত খেতেন না। সে পরিবেশ থেকে বড়ো হয়ে কখনও অবিশ্বাসী হতে পারিনি, তবে অভিমান, রাগ হয় কখনও কখনও, অভিযোগও করি।
আপনার ওয়ানলাইনারের লেখাটা 'শয়তানের সঙ্গে হামেশাই ধাক্কা লাগে, শয়তান আমাকে বলে, ঈশ্! সর!'
আমার বোধে এভাবে এসেছিল-- আপনার ভেতরের ভালো- মন্দের দ্বন্দ্বে অর্থাৎ আপনার শুভ শক্তিকে অশুভ শক্তি ধাক্কা দিয়ে নিজে ওপরে উঠতে চাইছে।
এমন কিছু সময় তো আমাদের জীবনে আসে, শুভ-অশুভর অন্তর্দ্বন্দ্বেও আক্রান্ত হয় মানুষ
প্রতিটি মানুষের ভেতরেই শুভ-অশুভর বসবাস, কারও একটা বেশি, কারও একটা কম।
সেজন্যই বলেছি
আপনি আবার আমার অবুঝ বোধে রাগ করবেন না যেন😄
না-হতে পারলাম কবি
না -হতে পারলাম কবিতার পাঠক
না, একটা দোকানে ছিলাম,
তাই ম্যাসেজ দিতে পারিনি।
সত্য যা'ই হোক, মানুষ তো বেদনার সন্তান। আল মাহমুদ
বলেছিলেন, ভুলেভরা মানুষের
একটা কান্নার জায়গা থাকা
চাই। সে জায়গাটিই কবিতা।
ঈশ্বর বলুন,আপত্তি নেই।
সত্য-সুন্দর-শিবের একটা বিশ্বাস থাকতে হয়। এজন্য
পাতঞ্জলদর্শন বলেছেন,
ঈশ্বরঃ প্রণিধানশ্চ। কবির
আধ্যাত্মিকতা এই।
ব্যাপারটি মানতে হয়,মননের
একটা স্তর পর্যন্ত।
গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন,
উদ্ধরেৎ আত্মনা আত্মনাম্।
নাবসায়েৎ। নিজেকে নিজের
দ্বারা উদ্ধার কর,অবসাদগ্রস্ত
হয়ো না। (অভ্যাসযোগ)
কিন্তু এ বড়ো উচ্চকোটির কথা।
সাধারণমানুষের জন্য এ কথাটিই ভালো, সর্বধর্মান্
পরিত্যাজ্য মামেকং শরণং ব্রজ।
হ্যাঁ, নিজেকে নিজের দ্বারা উদ্ধার কর, অবসাদগ্রস্ত হয়ো না। আমরা অনেক জায়গাতেই বড়ো জ্ঞানপাপী কবি, জেনে-শুনেও অবুঝ।
হ্যাঁ, নিজেকে নিজের দ্বারা উদ্ধার কর, অবসাদগ্রস্ত হয়ো না। আমরা অনেক জায়গাতেই বড়ো জ্ঞানপাপী কবি, জেনে-শুনেও অবুঝ।
কতকিছু যে আপনি অনায়াসে স্মরণে রাখতে পারেন, বারবার অবাক হই।🙏
মনে কে যে জুগিয়ে দেন কথা।
বোধহয় তিনিই জীবনদেবতা!
বঙ্কিমচন্দ্র বলেছিলেন --"যখন বহিঃপ্রকৃতি বর্ণনীয়, তখন অন্তঃপ্রকৃতির সেই ছায়া সহিত চিত্রিত করাই কাব্যের উদ্দেশ্য। যখন অন্তঃপ্রকৃতি বর্ণনীয়, তখন বহিঃপ্রকৃতির ছায়াসমেত বর্ণনা তাহার উদ্দেশ্য। যিনি পারেন, তিনিই সুকবি।"
কোনও অক্ষম কবি যদি এই উদ্দেশ্যের সঠিক তাৎপর্য অনুধাবন করতে ব্যর্থ হন তাহলে তাঁর সৃষ্টিকর্মে একাধিক ইন্দ্রিয়পরতা, অপরদিকে আধ্যাত্মিকতা দোষ জন্মাবে বলে মনে করেছেন তিনি। এই ইন্দ্রিয়পরতা ও আধ্যাত্মিকতা দোষের উদাহরণ হিসেবে তিনি জয়দেব ও ওয়ার্ডসওয়ার্থ এর নাম উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে সহমত পোষণ করেন কবি?
খুব সুন্দর কথামাত্রই নয়। খুব
জরুরি কথা। আমি আমার
নানান লেখায়,আলোচনায়
অনেকবার এই কথাটি বলেছি।
বঙ্কিমের এই কথাটি মান্য।
তিনি এও বলেছেন,...কবিরা
ধর্মের সহায়।
আজ যে কবিতাটি পোস্ট
করেছি, তা-তে "উকুলেলে"
বলে একটা শব্দ আছে। এটি
হল একরকমের পর্তুগিজ
ছোট গিটার। যা আজকাল
খুব চলছে। দুহাজার টাকা দাম
মাত্র। আপনি একটি কিনে
বাজান,অবশ্য শিখতে হবে।
সময় কাটবে। খুব আদুরে
বাদ্যটি।
আপনি যা পারেন, আমি কি পারব কবি! অনেক বিদ্যা শিখলেও হয় না কবি, তবে আপনার হাতে আপনার 'খুব আদুরে বাদ্যটি' শুনব একদিন।
'চৈতন্য যেমন আশ্রয় দেয় তেমনি দেয় জানার যন্ত্রণাও।' কী মনে হয় কবি আপনার?
বেদ মানে জ্ঞান। বেদনা
শব্দটার মধ্যেই বেদ আছে।
তাই যোগীবর বরদাচরণ
মজুমদার বলেছিলেন,যাহা
জানাইয়া দেয়, তাহাই বেদনা।
বরদাচরণ নজরুলের গুরু।
নজরুলকে সূক্ষ্মদেহে তার পুত্র
বুলবুলকে তিনি দেখিয়েছিলেন।
বাদ্যটি আমার ভাতিজা বাজায়,
আমিও শিখিনি।
শুভবাদ।
'বেদনা শব্দটার মধ্যেই বেদ আছে'-- খুব সুন্দর বললেন কবি।
মনে পড়ল--'জ্ঞানের বিহনে প্রেম নেই।'
একটা কথা বললে কিছু মনে করবেন না তো কবি?
বলুন।
কেউ কেউ কবিতার চেয়ে মানুষটিকে চেনেন বলে কবিতার খুব প্রশংসা করেন, অবশ্য অনেকদিন আগে থেকেই চলছে এসব, কবিতা প্রিয় থেকেও কবি প্রিয়-- এসব ব্যাপার, ভালো লাগে না।
কেউ কেউ এত দলান্ধ, তাঁর দলের বাইরে কারও কবিতা পড়তে চান না
হ্যাঁ,এটা ঘটনা। এরকম হয়,
সবসময়ই। না হওয়াই বিহিত,
কিন্তু হয়। কবি মানুষ তো,তার
মানুষোচিত কিছু ব্যাপার
থেকে যায়। আবার মানুষোচিত
কিছু ব্যাপারে মন বিরুদ্ধ হয়ে
পড়লে পূর্বশংসিত কবিতার
বিপক্ষে কথা বলেন।
হ্যাঁ, সেটাই
আগেও হয়েছে
এখনও চলছে, তবে খারাপ লাগে ঠিক
ভালো, সুপ্রিয় দু'একজন
নিষ্ঠপাঠক থাকলেই যথেষ্ট।
বাকি কাণ্ডকলাপ চলবেই।
আমার লেখা নিয়ে বলিনি কবি।
কিছু ভালো লেখা নিয়ে অনেকেই খুব উদাসীন, তবে আমার ভালো লেগেছে বলে তাঁদেরও ভালো লাগবে এমনও নয়, তবু কোনও কোনও জায়গায় মনে হয়, তাই বললাম।
আমি আমার লেখালেখি নিয়ে একদম ভাবি না এখন।
জানি, পাঠককে টানার মতো কিছুই লিখতে পারিনি, চারপাশের কিছু চিত্র দেখেই বলেছি কবি।
(২)একটা অন্যরকম প্রশ্ন
আপনাকে যদি কখনও একজন নারী তাঁর জন্য একটি কবিতা প্রার্থনা করেন, আর অপর একজন নারী যদি তাঁকে নিয়ে একটি চিত্রশিল্প প্রার্থনা করেন, আপনি কি সে-ই প্রার্থনা শুনবেন? কিংবা শুনলে কোন কাজটা প্রথমেই করতে চাইবেন?
একটা অন্যরকম প্রশ্ন
আপনাকে যদি কখনও একজন নারী তাঁর জন্য একটি কবিতা প্রার্থনা করেন, আর অপর একজন নারী যদি তাঁকে নিয়ে একটি চিত্রশিল্প প্রার্থনা করেন, আপনি কি সে-ই প্রার্থনা শুনবেন? কিংবা শুনলে কোন কাজটা প্রথমেই করতে চাইবেন?
অন্যরকম প্রশ্নই বটে! 😃
কবিতা তো নিজেই নারী।
কবিতাই নিরাপদ।
কাব্য পুরুষ আর কবিতা নারী😄
কবিতা, সঙ্গীত, নৃত্য, চিত্রকলা, নাটক ইত্যাদি সবই তো শিল্প, তবু কবিতাকে কেমন শিল্প মনে হয়?
( যদি এ-বিষয়ে আগে কিছু বলে থাকেন, না-বললে চলবে)
কবিতা, গল্প, উপন্যাসে স্থানিকতার বিষয়ে অনেকেই বেশ গুরত্বারোপ করেন, আপনি কিছু বলুন কবি?
হ্যাঁ,সবই শিল্প। তবু কবিতাকে
শব্দশিল্প বলা যেতে পারে।
যদিও পিকাসোর একটা কথা
মনে রাখা ভালো, মিথ্যা দিয়ে
সত্যকে চেনার পদ্ধতি হচ্ছে
শিল্প। কাজেই শিল্প শব্দটাও
তর্কিত। তথাকথিত শিল্প হচ্ছে
মায়া,এই মায়ার ভিতর দিয়ে
যখন সত্যের বোধ হয়,তখন
শিল্পের নির্মোক খসে পড়ে।
হোয়াট ইজ আর্ট? অন্নদাশংকর
খুব সুন্দর বুঝিয়েছেন তার
বইটিতে।
গোটা বিশ্বই তো একটা স্থানিকতা। তবু স্থানিকতার
একটা আপেক্ষিক মানে আছে।
উত্তর ঔপনিবেশিককালের
কাব্যসাহিত্যে আজকাল
স্থানিকতা খুব গুরুত্ব পাচ্ছে।
এমন নয় যে,ঔপনিবেশিককালে
স্থানিকতা ছিল না। দেবেশ রায়,
অদ্বৈত, তারাশংকর, মহাশ্বেতার
লেখালেখিতে ছিল। আমি
গুরুত্ব আরোপের কথা বলব না,
তবে স্থানিকতার কিছু ভাব,
মানুষজনের যাপিত জীবনকৃষ্টি,
যদি চিরায়ত মানবভাবনার
সঙ্গে সাযুজ্যময় হয়,তবে
সেই স্থানিকতা স্বাগত। চেষ্টাকৃত
স্থানিকতা, নিছক কিছু
স্থান-নাম-পাত্র এবং উপভাষার
প্রয়োগমাত্রে আটকা পড়ে গেলে
চিরায়তপাঠকের কদর থেকে
তা বঞ্চিত হয়।
'গোটা বিশ্বই তো একটা স্থানিকতা'--ভালো বলেছেন কবি।
আমিও ভাবি, যে-স্থানের কথাই বলা হোক, সে-ই তো মানুষ আর প্রকৃতির কথাই। শুধু ভাবে-স্বভাবে যা কিছু পার্থক্য।
ঠিক।
অনেকবছর আগে নকুলদা আমাকে বলেছিলেন, কবিতায় ক্রিয়াপদের ব্যবহার কম হলেই ভালো। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় তো বহু ক্রিয়াপদের ব্যবহার রয়েছে। কাব্যরস গ্রহণে তো কোনও বিঘ্ন ঘটে না বলেই মনে হয় আমার। আপনি সেদিন বলছিলেন-- আপনার কবিতায়ও সহজ ক্রিয়াপদের ব্যবহার রয়েছে, আপনার কী মনে হয় না যে, কোনও কোনও সময় ক্রিয়াপদগুলোই কবিতার মূল বাহন হবে ওঠে? বা ক্রিয়াপদগুলোই কবির ভাবনায়-কাব্যভাষায় একটা অন্যরকম তরঙ্গের সৃষ্টি করে?
আসলে ক্রিয়াপদে বাক্য
কিছুটা শিথিল হয়। কিন্তু
কবিতায় আবেগ বা
আবৃত্তিধর্মিতার জন্য
অনেকে ক্রিয়াপদের
ব্যবহার করেন। কবির
মনোজগতের লীলাই
মূলকথা।
দাদাকে আমার শুভেচ্ছা
জানাবেন। কাল নীহারিকার
স্বজনসমাগমে ধর্মনগর
যাচ্ছি।
ঠিক বলেছেন কবি--'কবির মনোজগতের লীলাই মূলকথা'
ভাবলীলা
খুব ভালো খবর কবি
যান, যান কবি
আনন্দে থাকুন
দুদিন তাহলে আর আনন্দে ভাঁটা হব না
নমস্কার কবি
কাব্যভাষায় কোনও কোনও শব্দের প্রতি বা কোনও কোনও ক্রিয়াবিশেষণের প্রতি আপনার কী একটু বেশি আসক্তি আছে?
না। তেমন কোনো শব্দমুদ্রা
তো নেই। বা হয়তো
সহৃদয়পাঠকের চোখে
তা ধরা পড়তে পারে।
খুব একটা খেয়াল করিনি।
তবে কবিদের ভাষাগত শৈলীর
কারণে এমন শব্দাসক্তি তো
থাকে। যেমন,মাইকেলের
যথা,যেমতি। জীবনানন্দের
'মতো'।
হ্যাঁ কবি, থাকে
জীবনানন্দের তো 'অনেক', 'ঢের', 'কত', 'মতো'-র প্রতি বেশ আকর্ষণ দেখা যায়। রবীন্দ্রনাথেরও ছিল। আপনারও ব্যঙ্গাত্মক কিছু শব্দের প্রতি দুর্বলতা বা প্রীতি আছে। আমি যখন লিখতে চেষ্টা করি, 'অথচ', 'কিন্ত', 'তেমন', 'তবুও' খুব এসে যায়। আসলে এও কোনও কবির কাব্যভাষার আর এক লক্ষণ যা সে-ই কবির কাব্যভাষাকে অন্যভাবে চিহ্নিত করে।
এবং তবু,
অথচ,
তবুও,
হ্যাঁ এসব নৈয়ায়িক শব্দ
আমারও কবিতায় আছে।
ঠিক বলেছেন।
সব কবিতারই সামাজিক ব্যাখ্যা হয় , বিশ্বাস করেন তো কবি?
হ্যাঁ। ভালো আছি। আপনি
ভালো তো? কলকাতা থেকে
এলেন? বইগুলো পেলেন?
হ্যাঁ,কবিতার সামাজিক ব্যাখ্যা
তো হয়। "জনগণের কবি" যারা
তারা তো সামাজিক ব্যাপারেই
লিখেন এবং তবু,প্রচল সমাজকে অস্বীকার করে কবি
তার মানসসমাজের কথাও
বলেন। সচেত কবির লেখা
প্রপ্যাগান্ডা নয়, সাবলীলভাবেই
তা মানুষের পক্ষে যায়।
শুভবাদ।
আমি বিশ্বাস করি
একজন কবি যখন প্রচলিত সমাজকে অস্বীকার করে তাঁর মানসসমাজের কথা লেখেন সেও সমাজের মধ্যে থেকেই আর স্বীকার-অস্বীকার সব তো সে-ই সমাজের আশেপাশের মানুষগুলো নিয়েই।
ঠিক বলেছেন--'সচেত কবির লেখা প্রপাগ্যান্ডা নয়, সাবলীলভাবেই তা মানুষের পক্ষেই যায়।'
কবি শব্দের অর্থ :
আকুতিবহনকারী।
পিতৃপুরুষ।
ক্রান্তদর্শী।
জ্ঞানী।
কবিতারচয়িতা।
অগ্নি।
প্রজাপতি ব্রহ্মা।
ঈশ্বর।
ঋষি।
যিনি দর্শন এবং
বর্ণন করেন।
কবি মানে পিতৃপুরুষ।
পিতৃপুরুষকে প্রদত্ত
অন্ন,খাদ্য, আহুতিকে বলে
কব্য। অগ্নির নাম হব্যবাহন।
কব্যমূলক যা, তা কাব্য।
দেবতাকে প্রদত্ত খাদ্য,আহুতিকে
বলে হব্য। তাই অগ্নির এক নাম
হব্যবাহন।
আচ্ছা কবি, আপনি যদি কোনও পাঠকের কাছে খুব স্পষ্ট হয়ে ওঠেন তখন কেমন লাগে আপনার? না কিছুটা রহস্যময় কিংবা আবছা-আবছা থাকতেই পছন্দ করেন?
বিষয়টি তো শুধু কবির
ক্ষেত্রে নয়,সব মানুষের
ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। মানুষ
কি সম্পূর্ণ প্রকাশিত?
কিছুটা সে মনের ভেতর
অপ্রকাশিত। কবির ক্ষেত্রে
তো আরও রহস্য! আর
সেই কবির পাঠকও কবিকে
এভাবে বোঝার একটা দৃষ্টি
পেয়ে যান।
আমি আপনার কাব্যের ক্ষেত্রে আপনার পছন্দের দিকটাই জানতে চেয়েছিলাম কবি।
একজন মানুষ বা একজন
কবির তো কিছু মনোমুদ্রা
থেকেই যায়। সে ক্ষেত্রে
নিজের সম্পর্কে বলব,হ্যাঁ,
কিছুটা অন্তর্মুখী আমি।
মীনরাশির জাতক তো,সব সময়
দ্বিধার দ্বৈতে সে সন্তরণ
করে। কাজেই স্বীকার করে
নিই সেই সত্য।
কবি, আমারও মীন রাশি😄
রবীন্দ্রনাথেরও মীনরাশি,
সে জন্য মানুষটার এত
দ্বন্দ্বকাতরতা।
দ্বিধার দ্বৈতে মনোমুদ্রা-- খুব সুন্দর বলেছেন
তাই নাকি? বাহ্!
মীনরাশি শ্রেষ্ঠ রাশি।
সবরাশির শেষ, তাই সব
রাশির বিশেষতা তার মধ্যে
আছে। এই রাশির অধিপতি
বৃহস্পতি। শুভরঙ হলুদ।
আমার মীনরাশি,দেবগণ,
বিপ্রবর্ণ,রেবতী নক্ষত্র।
এই রাশি বিদ্বান হয়,কিন্তু
বিষয়ী হয় না। ব্রাহ্মণগুণ পায়।
কিন্তু জীবনে আটকায় না।
জনপ্রিয় হয়,কিন্তু ইন্ট্রোভার্ট
হয়।
যে রবীন্দ্রনাথ একবার বলেছেন- 'কবিকে পাবে না তাঁর জীবনচরিতে', সে-ই রবীন্দ্রনাথই আবার স্বীকার করেছেন, রচনায় রচয়িতা প্রকাশিত না হয়ে পারেন না। অবশ্য কোন কথাটি আগে বা পরে, সেটি আমি জানি না।
আমি আপনাকে এই কথাটিই এক্ষুনি বলতে চাইছিলাম যে, মীন রাশির লোকেরা বিদ্বান হয়, তা-ই আপনার মতো একজন বিদ্বান কবি পাঠকেরা পেল, তবে ব্যতিক্রম তো কিছু থাকেই, যেমন আমি, কোনও কিছুতেই কিছু করতে পারলাম না।
আমি আপনাকে এই কথাটিই এক্ষুনি বলতে চাইছিলাম যে, মীন রাশির লোকেরা বিদ্বান হয়, তা-ই আপনার মতো একজন বিদ্বান কবি পাঠকেরা পেল, তবে ব্যতিক্রম তো কিছু থাকেই, যেমন আমি, কোনও কিছুতেই কিছু করতে পারলাম না।
হ্যাঁ, মীন রাশির লোকেরা বিষয়ী হয় না। ইন্ট্রোভার্ট হয়।
হতে পারে আমি মীন রাশি,নরগণ
বলে
সেই যে রবিবাবুর কথাটি
বললেন,দেখুন মীনের স্বভাব,
দ্বৈতের দ্বন্দ্ব! না,না, আপনি
বিদ্যাবতী না হলে কি
দুটো বিষয়ে স্নাতকোত্তর হতে
পারতেন? যদিও বিষয়গতভাবে
মনোবেদনা আছে। আমি শিক্ষক
হতে চেয়েছিলাম। সামান্য স্নাতকবিদ্যাই ছিল সম্বল,কিন্তু
রাজনীতি জিনিসটা অন্তরের
ধন করতে পারিনি বলে, কিছু
হল না। যদিও আমি আমার
পারিপার্শ্বিকে শিক্ষকেরই কাজ
করছি। তথাকথিত স্থানিক
শিক্ষকরাও মান্যতা দেয়।
আমার ছোট দুটি ভাই শিক্ষক।
ভ্রাতৃবধূও।
আমার মনে হয় কী জানেন-- আমাদের কিছু কিছু অনুভূতি তাৎক্ষণিক হয়, যদিও রবীন্দ্রনাথ তাৎক্ষণিক অনুভূতিকে কাব্যে ততটা গুরুত্ব দিতে চাননি, তবুও আমাদের এমন কিছু অনুভব থাকে যা আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে ততটা নিবিড়ভাবে জড়িত নয়। সাময়িক আসে, যায়। যেখানে কবিই তখন সে-ই অনুভব সম্পর্কে বলে ওঠেন-- তখন কী অনুভবে বলেছিলাম, এখন মনে নেই--- সেখানেই মনে হয় 'কবিকে পাবে না তাঁর জীবনচরিতে', এজন্যই Ronald Berth তাঁর আত্মজীবনী 'Ronald Berths by Ronald Berth'-- বইটিতে বলেছেন-- লেখা শেষ হওয়ার পরেই--'Author is dead' আর যেখানে আমাদের অনুভব আমাদের দৈনন্দিন যাপনের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত বা আমাদের অস্তিত্ব যেখানে আমাদের অনুভবের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন, সেখানেই রচয়িতা ধরা পড়ে যান রচনায়, এবার হোক সেটা কিছুটা প্রকাশিত, কিছুটা অস্পষ্ট।
আর আপনি যেটা বললেন-- দুটো- তিনটে বিষয়ে স্নাতকোত্তর হতে গেলে বিদ্যাবতী হওয়ার প্রয়োজন আছে বলে সেরকম মনে হয় না, পড়ে পরীক্ষায় পাশ করা আর জ্ঞানার্জন দুটো ভিন্ন বিষয়-- একথা আমার চাইতে আপনি অনেক বেশি জানেন। আবার রাগ করবেন না যেন, জানার তো শেষ নেই, তবুও আপনার জানার পরিধি অবাক করে দেয়।
আমিও শিক্ষক হতে চেয়েছিলাম। কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতি কোনও দিনই কোনওরকম আনুগত্য ছিল না বলে চাকরি পেয়েও হাতছাড়া হয়ে গেছিল দুবার।
সত্যিই আপনি সৎ শিক্ষক,
আপনার কাছ থেকে অনেককিছু শেখার আছে আর শিক্ষকতার জন্য প্রতিষ্ঠানের কোনও প্রয়োজন নেই।
কবি, এখন পর্যন্ত আপনার সৃষ্টিকর্মে অনেক ফসল ফলানোর সময় কোনটি?
সব কবিদের কাব্যজীবনেই এমন কিছু সময় আসে, আবার ভাবের স্রোত কখনও কখনও মন্দাও হয়ে যায়, রবীন্দ্রনাথ নিজেই একথা বিশ্বাস করতেন, তাই জিজ্ঞেস করছি।
আমার সৃষ্টিকাল
রাত্রিবেলা।
যদিও সারাদিন ধরে কিছু
মগ্নতার তিমির জমা হতে
থাকে,রাত্রিকালেই তা
অক্ষরায়িত হয়।
আমার প্রশ্ন ছিল, এ পর্যন্ত আপনার অধিকাংশ কবিতার জন্ম কোন সাল? আপনার ভাবের স্রোতে ভাঁটা পড়েছিল কখনও? মানে অনেকদিন ধরেই কবিতাকে প্রকাশ করতে পারছিলেন না এমন কোনও সময়?
প্রশ্নটি ঠিক বুঝিনি প্রথম।
ভাবের স্রোতে ভাঁটা পড়েনি
কখনও। ভালোমন্দ যা'ইহোক
অবিচ্ছিন্নধারায় লিখে গেছি।
মোটামুটিভাবে আট এবং নয়ের
দশকেই লিখেছি অধিকাংশ
কবিতা। প্রকাশিতও হয়েছে
এই সময়ে অনেক কবিতা এবং
ছোট ছোট বই।
2007-- এ আমার এত কবিতা এসেছিল কবি, আমি ধরে রাখতে পারিনি, অপচয় করেছি। স্বপ্নেও এসেছিল কিছু কবিতা, কিন্তু পরে লিখব বলে আর আসেনি। এখন খুব কষ্ট হয়।
আপনার প্রিয় কবিদের দু-চারটে পঙ্'ক্তি বলুন কবি, যেগুলো আপনার হৃদয়ে মিশে থাকে সবসময়, মনে মনে বহন করেন, মনে করতে হয় না।
"রাত কত হ'লো?
উত্তর মেলে না।"__
রবীন্দ্রনাথ।
" আর্তনাদ ছাড়া আজ
নৈবেদ্যের যোগ্য কিছু নেই।"
__সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।
"যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ
চোখে দ্যাখে তারা"
__ জীবনানন্দ দাশ।
"এক অসুখে দু'জন অন্ধ"
__শক্তি চট্টোপাধ্যায়।
"ছন্দের ভিতরে এত অন্ধকার
জেনেছ কি আগে?"
__ শঙ্খ ঘোষ।
"বাক-প্রবদ্ধো হি সংসার।"
সংসার বাক্যবদ্ধ।
__ বেদব্যাস।
"দিস ইজ দা ডেডল্যান্ড
দিস ইজ ক্যাকটাসল্যান্ড"
__এলিয়ট।
সেই কবিতাকেই আমি কবিতা
ভাবি, যা পাঠের পর মনে হয়,
চেতনা বা বোধে অন্যরকম
অভিজ্ঞতার জন্ম হয়। যা অন্য
কোনো কবি লিখতেই পারবেন
না, যা সেই কবিরই একান্ত।
জীবনকে দেখার অনন্য এক
দৃষ্টি এবং ভঙ্গি লাভ করা যায়।
আর কিছু কবিতা আছে, পড়ে
মনে হয়,এই কবি যদি এই কবিতা না-ও লিখতেন,ক্ষতি
নেই, অন্য কবি হয়তো লিখে
নেবেন। এগুলো গড়পরতা
কবিতা। যদিও এগুলো পড়ারও
একটা সুখ আছে। এরকম
কবিতা লেখা হচ্ছে প্রচুর। কবিও
প্রচুর। এতে অসুবিধে কিছু নেই।
সেই কবিতাকেই আমি কবিতা
ভাবি, যা পাঠের পর মনে হয়,
চেতনা বা বোধে অন্যরকম
অভিজ্ঞতার জন্ম হয়। যা অন্য
কোনো কবি লিখতেই পারবেন
না, যা সেই কবিরই একান্ত।
জীবনকে দেখার অনন্য এক
দৃষ্টি এবং ভঙ্গি লাভ করা যায়।
আর কিছু কবিতা আছে, পড়ে
মনে হয়,এই কবি যদি এই কবিতা না-ও লিখতেন,ক্ষতি
নেই, অন্য কবি হয়তো লিখে
নেবেন। এগুলো গড়পরতা
কবিতা। যদিও এগুলো পড়ারও
একটা সুখ আছে। এরকম
কবিতা লেখা হচ্ছে প্রচুর। কবিও
প্রচুর। এতে অসুবিধে কিছু নেই।
নিজের পছন্দকে খুশি করে
লেখা কবিতা এক জিনিস এবং
নিজের বোধকে পরিতৃপ্ত করে
লেখা আরেক জিনিস। এটা
তারাই পারেন,যারা কবি হয়ে
কবিতা লিখেন। যারা কবিতা
লিখে কবি হন,তারা পারেন না।
দুটো বিষয়ই সমান্তরাল চলবে।
নান্যং পন্থা।।
সব কবিই যে ব্যতিক্রমী কিছু লিখতে পারবেন তা তো নয়, এটা ঠিক। কোনও কোনও কবি নিজের অনুভবকে প্রকাশ করেই এক ধরনের সুখ পান, সেটা অন্যের দৃষ্টিতে কবিতা হোক বা না-হোক, শান্তি বলব না, লিখে কখনও শান্তি পাওয়া যায় না। আর কোনও কোনও কবির আবেগের পরাগে মেধা মেশানো থাকে বলেই হয়ত তাঁরা ব্যতিক্রমী কিছু করতে পারেন, কেউ কেউ একটা অনুভূতিতেই ঘুরতে থাকেন বিভিন্ন অনুভূতিকে ঘিরে, আবার কেউ কেউ বিভিন্ন অনুভূতির ভিন্ন ভিন্ন নবায়নে অনুভূতির বৈচিত্র্যে মেতে উঠতে পারেন। হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন- 'দুটো বিষয়ই সমান্তরাল চলবে।'
ঠিক তাই।
আচ্ছা। খুব ভালো লাগল।
এগুলির মধ্যে সার্বিকতা আছে
তো, তাই মিলে যায়।
আপনাকে অনেকেই সন্তকবি বলেন, যদিও সে-উত্তর তাঁরাই জানেন, তবুও আপনার মতামত জানতে চাইছি, সেটা কী ব্যক্তি মানুষ হিসেবে আপনি আধ্যাত্মিকমনন নির্ভর বলে? ঈশ্বরবোধই যে আপনার কাব্যজীবনের প্রকৃত চালিকাশক্তি সেরকম তো মনে হয় না।
আন্তর্জাতিক কবিতাউৎসব,
আগরতলায় অনুষ্ঠিত সেমিনার
২০১২তে,আমি ছিলাম
আমন্ত্রিত বক্তা। বিষয় ছিল
ত্রিপুরার কবিতায় আঞ্চলিকতা।
আরেকজন বক্তা ছিলেন
বাংলাদেশের শান্তনু কায়সার
সম্ভবত। তার বিষয় ছিল,
বাংলাকবিতায় আন্তর্জাতিকতা।
সেই মঞ্চে আমার পরিচিতিদান
করতে গিয়ে সঞ্চালক রামেশ্বর
ভট্টাচার্য "সন্তকবি" বলেছিলেন,
তারপর তা প্রচার পেয়ে যায়।
এটি অনুজের প্রতি অগ্রজের
স্নেহ। আমি সন্তটন্ত নই,এরকম
পরিচিতিরও পক্ষপাতী নই।
আমি কবিওশিল্পীচিত্রীমাত্র।
ধর্মদর্শন নিয়ে ভাবি,অবশ্য
অস্বীকার করি না। আসলে
হয়তো আমার লেখালেখিতে
ভারতীয় সন্তধারার অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য,তন্ত্র,
ভাষাতত্ত্ব, পুরাণচিত্রকল্পের
বিনির্মাণ লক্ষ্য করেই রামেশ্বর
বলেছিলেন,যা অন্য কবিদের
থেকে ফর্ম এবং কনটেন্টের
ক্ষেত্রে আমাকে স্বাতন্ত্র্য
দিয়েছে। এই যা বলতে পারি।
আমার লেখালেখি যারা ভালোবাসেন, তারাও হয়তো
মেনে নিয়েছেন।
সত্য সম্পর্কে আমি অজ্ঞেয়তাবাদী। শুধু
সন্ধান। নাচিকেতজিজ্ঞাসায়
আমি আর্ত। ঈশ্বরবাদী নই,
কিন্তু আধ্যাত্মিক। অধি+আত্মা,
আত্মনের সন্ধান করে যাচ্ছি।
আধ্যাত্মিকতা অন্য জিনিস।
এটি কবির থাকতে হয়।
সন্মাত্রানন্দ বলেছিলেন,
কবিতাই প্রথম আধ্যাত্মিকতা।
রবীন্দ্রনাথও তাই,শ্রীঅরবিন্দও
তাই,এলিয়টও তাই।
হ্যাঁ, আপনার লেখায় ভারতীয় সন্তধারার কিছু ঐতিহ্য, ভাষাতত্ত্ব, পুরাণচিত্রকল্পের বিনির্মাণ রয়েছে। এটা আপনার কাব্যভাষার স্বতন্ত্র ভঙ্গি।
আপনি যে বললেন--'ধর্মদর্শন নিয়ে ভাবি, অস্বীকার করি না।' সেখানেই আপনি আধ্যাত্মিকমনোধর্মী। আর 'ঈশ্বরবাদী' নই, সেটাও মনে হয় ঠিক নয় একথা ভাবলে যে, কবিতাই তো প্রথম ঈশ্বর, মানে কবিতাবাদী 😄, কবিও আমার কাছে ঈশ্বরের মতোই।
আপনার প্রশ্রয়ে কতকিছুই বলছি আপনাকে, মনে কিছু করবেন না যেন।
শুধু ফেসবুকে আপনার কবিতার পাঠকসংখ্যা দেখে বলছি, যদিও এভাবে পাঠকপ্রিয়তা বোঝা যায় না, বা কবিতার গুণগত দিক বিচার করা যায় না, সেটা আমি জানি, তবুও বলছি-- আপনার কবিতার পাঠকসংখ্যা খুব একটা বেশি নয়, এতে কী মনে কোনও কষ্ট হয় আপনার? বা নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন এই ভেবে যে-- শত-শত আগাছার চেয়ে দু-তিনটে গাছ হলেও ভালো?
কবি শব্দের একটি অর্থই
হচ্ছে ঈশ্বর।
রবীন্দ্রনাথ গানে বলেছিলেন তো, ",তুমি আদিকবি হে!"
আমার বন্ধুসংখ্যা খুব সীমিত।
১৮০জনের মতো হবে। কাজেই
স্বাভাবিককারণে ফেসবুকে
পাঠকসংখ্যা কম হবে। অনেক
ফ্রেন্ডরিকুয়েষ্ট পাই, অনেক অনেক! কিন্তু সাড়া দিই না।
সীমিতদের নিয়েই অসীমিত
আছি। কষ্ট হয় না। অবশ্য
কাউকে আগাছা মনে করছি
না। তারাও যথাস্থানে সুযোগ্য।
তবু এ এক মনোমুদ্রা আমার,
এখন তো খুব প্রচার আর
তর্কবাদের যুগ, এসব ভাল্লাগে
না,এই আর কি!
হ্যাঁ, ঠিক
"তুমি আদিকবি হে!"
'সীমিতদের নিয়েই অসীমিত আছি'-- সেটাই খুব ভালো কবি।
আমি আপনার সঙ্গে তুলনা করে বলছি না, এমনিতেই বলছি-- আগে ভাবতাম কিছুদিনের জীবন, থাকুক না বহু বন্ধু, আমার তো কোনও ক্ষতি নেই, কিন্ত এখন দেখছি, এমন বহু বন্ধু আছেন যাঁদের কাছে আমি পৌঁছুতেই পারছি না, আবার কেউ কেউ এমন আছেন, তাঁদের সঙ্গে বন্ধুত্বে আমার নিজেকে বড়ো ছোটো মনে হয়, আবার এমন বহু আছেন, বন্ধুত্ব গ্রহণ করার পরে বুঝেছি তাঁদের রুচি অতি নিম্নমানের, একটা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই তাঁরা অনুরোধ পাঠান, তাঁদের নিশ্চয়ই অন্য কোনও ভালো গুণ রয়েছে, কিন্ত সে-ই মন্দ দিকটি আমার সহ্যসীমার বাইরে বলে অনেককেই ব্লকড করেছি, আর অনুরোধ গ্রহণ করছি না বহুজনের।
ঠিক বলেছেন কবি। সবাই খুব প্রচারের পেছনে ছোটে, ভালো লাগে না।
ঠিক বলেছেন--'কাউকে আগাছা মনে করছি না। তারাও যথাস্থানে সুযোগ্য।' অনেকে অনেককে আগাছা মনে করেন।
কবি, অনেকদিন আগে একটা বইয়ে পড়েছিলাম, কবি অমিয় চক্রবর্তীর 'পার্থিব' কবিতা প্রসঙ্গে কবি লীলা মজুমদার বলেছিলেন-- 'আমি আবার মানে না বুঝলে রস উপভোগ করতে পারি না।'
যদিও সব কবিতাই পাঠক নিজের মতো করে অনুভব করেন, তবুও বলছি আপনার কী সেরকম কিছু মনে হয়?
কবিতা বোঝার জিনিস নয়,
বাজার জিনিস। কিন্তু না বুঝে
বাজব কী করে? সে অর্থে
লীলা মজুমদার ঠিকই বলেছেন।
যদিও কবিতা শুধু আভিধানিক
মানে খোঁজার বিষয় নয়। কবিতা
বাচ্যার্থ অতিক্রম করতে চায়,
তাই আধুনিক কবিতার লাইনে-
লাইনে মানে অনেকসময় না-ও
থাকতে পারে। ধ্বনিগত রসও
একটা ব্যাপার। আমার "বংশীখণ্ড" এ ধরনের কবিতা।
তবে "সম্পূর্ণ বোঝা" মানে
বাচ্যার্থ এবং ব্যঞ্জনার্থ উভয়।
কবি যখন ভাষাশিল্পী, তখন
পাঠকের উপলব্ধিকে
কমিউনিকেট করার দায়
কবিকর্মের।
আপনার কথা শুনে রবীন্দ্রনাথের কথা মনে পড়ল, সম্ভবত 'ফাল্গুনী'তে নিজের রচনা সম্পর্কে বলেছিলেন-- 'কবিতা বোঝবার জন্যে নয়, বাজবার জন্যে।' হাতের কাছে বইটা থাকলে আর একটু বলা যেত। তবে আমার কী মনে হয় জানেন-- সব কবি সম্পর্কে কথাটা প্রযোজ্য নয়। জীবনানন্দ সম্পর্কে যতটা প্রযোজ্য ততটা বিষ্ণু দে, সুধীন্দ্রনাথ সম্পর্কে নয়, অমিয় চক্রবর্তী সম্পর্কে নয়।
যেমন আপনার কবিতা সম্পর্কে পাঠক হিসেবে আমার মনে হয় -- বোঝবার জন্য, কিন্ত তার জন্য রসগ্রহণে বিঘ্ন ঘটে না। বিভিন্ন পাঠকের মধ্যে বোধের তারতম্য থাকেই। আমি যে-সকল কবিতার ভেতরে ঢুকতে পারি না অন্তত কবির মতো করে, সেখানে কোনও পঙ্'ক্তি বা কোনও শব্দ আমাকে সে-রস দিয়ে দেয়।
এটা ঠিক বলেছেন-- 'কবিতা শুধু আভিধানিক মানে খোঁজার বিষয় নয়। কবিতা বাচ্যার্থ অতিক্রম করতে চায়।'
মূলত কবিতা সৃষ্টি, কবিতাপাঠ সবই ব্যক্তিমনের ব্যাপার।
'পতাকা' শব্দটি মনে হয় আপনি সযত্নে লালন করেন। অনেক কবিতায় এর ব্যবহার দেখেছি ভিন্ন ভিন্ন অর্থে, যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ হিসেবে আমার যতদূর মনে হয়। আপনার কী কখনও মনে হয়েছে--যে-সকল কবি জীবন-জগতের ক্লিন্নতা, দৈন্য নিয়ে এত বেশি নির্দ্বন্দ্ব থাকেন যে , তাঁরা জীবনের ইতিবাচক দিকটির প্রতি দিন-দিন আস্থা হারিয়ে ফেলছেন?
হ্যাঁ, আমাদের প্রচলসমাজ তো
পতাকা-মিছিল-শ্লোগান দ্বারা
শাসিত এবং নিয়ন্ত্রিত। স্বাভাবিকভাবেই এতে অনুভবে
অভিঘাত সৃষ্টি হয়। ইতিবাচক
এবং নেতিবাচক উভয়ত
অন্তর্ঘাত থেকেই এই শব্দগুলো
আমার কবিতায় আসে।
জীবনের অতিরেক ক্লেদাক্ত
চেহারা দেখে কেউ কেউ
অন্তর্মুখী, আত্মঘাতী হয়ে পড়েন,
সত্যকথা। "আত্মঘাতী ক্লান্তি"
জীবনানন্দের কবিতাবিষয়ে
নীরেন্দ্রনাথ যা বলেছিলেন!
এই আস্থাহীনতার ছাপ আমার
লেখায় আছে, আবার চেতনার
অভ্যুদয়ও আছে।
ঠিক
'জীবনের অতিরেক ক্লেদাক্ত চেহারা দেখে কেউ কেউ অন্তর্মুখী, আত্মঘাতী হয়ে পড়েন।'
অনেকসময় এতটাই নেতিবাচক হয়ে পড়েন যে, আমার খুব খারাপ লাগে, ক্ষুধার্ত কবিদের অনেক কবিতা তাই আমি পড়তে পারি না।
হ্যাঁ, জীবনানন্দ সম্পর্কে নীরেন্দ্রনাথের "আত্মঘাতী ক্লান্তি" কথাটি অপরিবর্তিতই ছিল।
আপনার তির্যক ভাষা সম্পর্কে একটা কথাই বলব-- সেগুলো প্রকাশে ততটা বীভৎস নয়। জীবনের পঙ্কিল, বেদনাদগ্ধ, বিশৃঙ্খল রূপটিকে আপনি অনেকসময় গুপ্ত কৌতুকের মাধ্যমেও প্রকাশ করেন।
সেদিন দ্বন্দ্বের কথায় একটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম, আজ বলছি। কিছু কথা মনে গেঁথে গেলে একদম ভুলি না, এটাও সেরকম।
রবীন্দ্রনাথের "গীতাঞ্জলি" নিয়ে একসময় খুব উচ্ছ্বসিত ছিলেন ইয়েটস। "গীতাঞ্জলি"-র পাণ্ডুলিপি সঙ্গে নিয়ে রেলওয়ে স্টেশনে, রেস্তোরাঁতে ঘুরতেন, পরবর্তী সময়ে তিনিই ম্যাকমিলান কোম্পানীকে চিঠি লিখে রবীন্দ্রনাথের অনুবাদ প্রকাশে বাধা দেন।
সেদিন দ্বন্দ্বের কথায় একটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম, আজ বলছি। কিছু কথা মনে গেঁথে গেলে একদম ভুলি না, এটাও সেরকম।
রবীন্দ্রনাথের "গীতাঞ্জলি" নিয়ে একসময় খুব উচ্ছ্বসিত ছিলেন ইয়েটস। "গীতাঞ্জলি"-র পাণ্ডুলিপি সঙ্গে নিয়ে রেলওয়ে স্টেশনে, রেস্তোরাঁতে ঘুরতেন, পরবর্তী সময়ে তিনিই ম্যাকমিলান কোম্পানীকে চিঠি লিখে রবীন্দ্রনাথের অনুবাদ প্রকাশে বাধা দেন।
আসলে কেউ কেউ জীবনের ইতিবাচক দিক নিয়েও দ্বন্দ্বে থাকেন, আবার কেউ কেউ নেতিবাচক দিকে থাকেন নির্দ্বন্দ্ব।
হ্যাঁ, বীভৎস নয়। ব্যাপারটা
আমার বোধানুভবে আছে,
থাকতে হয়। কিন্তু জীবনাচরণে
আমি খুব নিয়ন্ত্রিত,তথাকথিত
মর্বিড মোটেই নই। চমৎকার
বলেছেন "গুপ্ত কৌতুক"!
ইয়েটস উত্তরকালে খুব
রবীন্দ্রবিরোধী হয়ে যান।
এটি ভাবাদর্শগত নয়,
কিছুটা ব্যক্তিক। কেননা,
নোবেলপ্রাপ্তির পর রবীন্দ্রনাথ
ইয়েটস সম্পর্কে কিছুটা
মৌন হয়ে গেলে সেটি ইয়েটসের
পক্ষে খুব বিদারক হয়ে
উঠেছিল। কবিরাজ স্বামী
নামক এক কবিকে তখন
য়ুরোপীয় সমাজে রবীন্দ্রনাথের
বিকল্প হিসেবে তুলে ধরতে
উঠেপড়ে লেগে যান ইয়েটস।
কবিদের ব্যক্তিকজীবনে
এরকম কাণ্ড হয়।
সৌরিন মিত্রের
"খ্যাতি-অখ্যাতির নেপথ্যে"
বইতে তথ্য পাবেন।
হ্যাঁ, এটা পড়েছিলাম, রবীন্দ্রনাথের নোবেল প্রাপ্তির পর, যখন সন্তকবি হিসেবে রবীন্দ্রনাথ আন্তর্জাতিক খ্যাতির উচ্চশিখরে, তখন ইয়েটসের উচ্ছ্বাস কমে গিয়েছিল। ইয়েটস তখন ঔপনিষদিক মোহমুক্তির কথা বলেছিলেন।
আপনি যে বইটির কথা বললেন পড়ার আগ্রহ রইল খুব।
একজন কবিই তাঁর কাব্যপাঠে কবিতার জন্মমুহূর্তের ব্যাপারটা যেভাবে শ্রোতার কানে বহন করে নিয়ে যেতে পারেন বা শ্রোতার হৃদয়ে সঞ্চারিত করতে পারেন, অন্য কেউ তেমন পারেন না, এ বিষয়ে কী বলতে চাইবেন?
কবি তার কবিতায় বোধ বা
অনুভবটুকুর সমগ্র পৌঁছে দিতে
হয়তো পারেন না, বোধে কবিতার জননমুহূর্ত যেভাবে
ধরা দেয়,লেখার পর বা পাঠের
পর তা অনেকটাই খণ্ডিত বা
সীমিত হয়ে আসে। সেই ঘোর
থাকে না,আমার মনে হয়।
তাছাড়া শ্রোতা বা পাঠকও
কবিতার একজন বোদ্ধা তো,
তার বোধে কবি হয়তো কবির
মনোগত না-ও ধরা পড়তে পারেন অথবা হয়তো পারেন
কখনও কখনও।
কবিতার ভাব,প্রকরণ এইসব
বিষয়ে কিছু হয়তো কবি বলতে
পারেন,কিন্তু একেবারে কবিতা
জন্মমুহূর্তের ব্যাপারটি বলা
যায় কি? সে যে বড়ো অধরাগহন!
সৈয়দ মুজতবা আলি একবার
মজা করে বলেছিলেন,সন্তানটি
কেমন,কিছু বলা যায়,কিন্তু
সন্তান কীভাবে সৃষ্টি হল, সে তো
আর বলা যায় না!
আমারও মনে হয় কোনও পাঠক বা শ্রোতা কবির কবিতার জন্মমুহূর্তে পৌঁছুতে পারেন না, তবে কবি যখন তাঁর নিজের কবিতা পাঠ করেন, তখন কবির মন-মেজাজ যদি ভালো থাকে, তখন তিনি তাঁর পাঠে কবিতার মনোভূমিকে যেভাবে শ্রোতার কানে বা হৃদয়ে বাহিত করতে পারেন, অন্য কেউ সেভাবে পারেন না। হ্যাঁ, এটা ঠিক, সৃষ্টির পর সে-ই ঘোর থাকে না, কিছুটা খণ্ডিত হয়।
আপনার মধ্যে একটা জিনিস লক্ষ করেছি যে, যা আপনি যেখান থেকে গ্রহণ করছেন ( অবশ্যই সেটা সচেতনভাবে, আপনার কথায় যতদূর বুঝেছি) সেটা মুক্তভাবে স্বীকার করছেন, এবার সেটা কবিতায় হোক বা চিত্রশিল্পে।
অনেকদিন আগে থেকেই জানতাম এ কথাটি, তবে আপনি যে বইটির কথা বলেছিলেন দীপ্তি ত্রিপাঠী-র 'আধুনিক বাংলা কাব্য পরিচয়' সেটা এখন সামনে আছে বলেই লিখতে পারছি। এলিয়ট থেকে বিষ্ণু দে-র সচেতন গ্রহণ প্রসঙ্গে এলিয়টেরই একটি উল্লেখযোগ্য উক্তি--'Immature poets imitate; mature poets steal; bad poets deface what they take, and ' good poets make it into something better, or at least something different.'
শুধু 'mature poets steal'-- এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করছি-- আপনার কী মনে হয়, সত্যিই কী সেটা চুরি না রায় বাহাদুর রমণীমোহন ঘোষের ভাষায়-- 'unconscious celebration of admirer?'
জমিদার রায় বাহাদুর রমণীমোহন ঘোষ যখন রবীন্দ্রনাথ পড়ে পড়ে নিজে কিছু লেখার চেষ্টা করেছিলেন, তখন যদুনাথ সরকার বলেছিলেন চুরির কথা, সে-ই সময় রমণীমোহন বলেছিলেন-- 'এটা চুরি নয়।'
তাই জিজ্ঞেস করছি কী মনে হয় আপনার যাঁরা স্বীকার করেন না?
কবিদের মন এবং মনন বিচিত্র।
মানুষমন মাত্রেই বিচিত্র।কবি যেহেতু
খুব গভীর ভাবেই মনোজীবী,
সেহেতু তাদের বিচিত্রতা অনেক
সময় ব্যাখ্যাতীত এক রহস্য!
অনেক কবিই চান,তাদের
কিছু অধমর্ণ হোক,অনুভাবক-
অনুগামী বা প্রভাবসংকুল
কিছু কবিতাকৃৎ হোক, আবার
এমনসংখ্যক হয়ে গেলে তখন
আবার বিরুদ্ধতা করেন।
তিরিশের কবিরা,শুধু বিষ্ণু দে
কেন, জীবনানন্দ থেকে বুদ্ধদেব,
সুধীন্দ্র থেকে অমিয় অনেকেই
পশ্চিমের কাব্য থেকে লুটেপুটে
গ্রহণ করেছেন। তখন কাব্যসাহিত্যে যে ঔপনিবেশিকযুগ চলছিল,এটি
হয়তো তারই স্বাভাবিক ফল।
তবে ঠিক "চুরি" বলতে চাই না।
কেননা অভিনব নতুন বলে তো
কিছু নেই? কাব্যজগতে এটি
হয়। একজন কবির একটি
সত্য বোধ,আরেকজন কবির
বোধতন্ত্রীতে যখন কোলাহল
তোলে, তখন এরকম হতে পারে।
তবে,"কুম্ভীলকবৃত্তি" বলে প্রচল
কথা আছে না? সেটি অবশ্য
অগ্রহণীয়। কবিরের একটি
দোঁহা পড়ে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন,কবির দেখি আমাকে নকল করে বসে আছেন! এটি সেই নিত্য
সত্যানুভব থেকে বলা।
আমি 'unconscious celebration of admirer'-- এ বিশ্বাসী।
হ্যাঁ, শুধু বিষ্ণু দে কেন, অনেকেই করেছেন, আমি এলিয়টের কথাটি নিয়ে প্রশ্ন রাখব বলে বেশি কিছু বলিনি।
ঠিক বলেছেন-- 'একজন কবির একটি সত্যবোধ, আরেকজন কবির বোধতন্ত্রীতে যখন কোলাহল তোলে, তখন এরকম হতে পারে।'
আপনার অনেক কবিতায় কিছু চমৎকার শব্দ রয়েছে, যেগুলোর ইঙ্গিতে আলাদা মূল্য রয়েছে অর্থাৎ ভাবনাকে বাদ দিলেও যেন স্বয়ংসম্পূর্ণ , অন্তত আমার যেটুকু মনে হল, যেমন-- 'প্রেমভাজা', 'প্রেমতলা রোড', 'কলমের ঝরনাদোষে'--- এমন আরও অনেককিছু।
বোঝা যায়-- আপনার শব্দব্যবহারে সবসময়ই হয়ত একটা সচেতন চিন্তা কাজ করে। আপনি তো সুধীন্দ্রনাথের শব্দের ব্যবহার নিয়ে অনেককিছু জানেন, কাল পড়তে গিয়ে সুধীন্দ্রনাথের একটা কথা পেলাম--'শব্দের স্বভাব টাকার মতো; বহু ব্যবহারে তা ক্ষয়ে যায়, হস্তান্তরে তাতে কলঙ্ক জমে, বয়স তাকে অচল করে, আবার কালে সে স্থান পায় জাদুঘরের গ্লাসকেসে।'
এ বিষয়ে কী বলতে চাইবেন?
সত্যিই কী 'শব্দের স্বভাব টাকার মতো?' নাকি শব্দের ব্যঞ্জনার সৌন্দর্যেও গুরুত্ব দেন?
সুধীন্দ্রনাথ ঠিকই বলেছেন।
সুধীন্দ্রনাথ খুব সচেতশাব্দিক।
তিনি নিজেও অপূর্ব শব্দনির্মিতির খেলায় মজেছেন।
কথাটা হল,আভিধানিক শব্দ
বা কাব্যের পরাভাষিক শব্দও
অধিক ব্যবহার করতে নেই,
তখনই কবি নব্যশব্দসৃষ্টির জন্য
আর্ত হন,যখন তার ভাবানুযায়ী
শব্দ পান না। তবে কিছু শব্দের
প্রতি কবির সহৃদয়প্রণোদনা
থাকে, যে শব্দগুলো কবির ভাবের
বিশেষ মুদ্রা চিহ্নিত করে।
কবির কিছু শব্দ নির্মিত হয়,
কিছু শব্দ সৃষ্টির উৎসমুখে
ধরা দেয়। নতুন ব্যঞ্জনায়,নতুন
অর্থে।
ঠিক
'কবির কিছু শব্দ নির্মিত হয়, কিছু শব্দ সৃষ্টির উৎসমুখে ধরা দেয়।'
প্রচলভাষাকে শক্তিশালী করতে
হলে ভাষা-শব্দ নিয়ে কবিকে
ভাবতে হয় বই কি! কনট্রাস্ট বা
ফর্মের প্রয়োজনে। তা না হলে
পাঠক যে আধমরা হয়ে আছে
ভাষাসংস্কারে বদ্ধ হয়ে,তাকে
ঘা মেরে বাঁচানোর প্রয়োজন
হয় কবির!
তবে শঙখ ঘোষের কথাটিও
মনে রাখতে হবে, নতুন শব্দসৃষ্টি
কেবলমাত্র নয়,শব্দের নতুনসৃষ্টির দিকে খেয়াল রাখতে
হবে। কবিতা তো শুধু শব্দের
জাগলারি নয়?
আপনি এ বিষয়ে অত্যন্ত অন্বিষ্ট কবি। এ কথা বলেছিলেন কিছুদিন আগে।
আপনি এ বিষয়ে অত্যন্ত অন্বিষ্ট কবি। এ কথা বলেছিলেন কিছুদিন আগে।
'শব্দের নতুন সৃষ্টির কথা'
তার কারণ হল,আধুনিককবিতার দাবি
শুধু হৃদয়ের কাছে নয়,খানিকটা
মেধার কাছেও।
যেমন দেখুন,নারী শব্দটা কতবার আমরা পড়েছি,কিন্তু
কেঁপে উঠিনি। কিন্তু জীবনানন্দ
যখন বললেন "সবকিছু নিয়ে
যায়, নারীকেও নিয়ে যায় "
তখন শিহরিত হই। সবকিছু
বলার পর "নারীকেও" তখন
নারী এতটা শরীরী হয়ে ওঠে যে,
জীবনানন্দের আগে অমনভাবে
কেউ বলেননি। এটিই শব্দের
নতুনসৃষ্টি!
অথবা,সুকান্তের "লাল" শব্দটা।
লাল খুব ধার কমে যাওয়া শব্দ।
কিন্তু সুকান্ত যখন বললেন,
"রক্তে আনো লাল" কী ব্যঞ্জনা
সৃষ্টি হল।
তবে শব্দকে অভিধানগত অর্থ থেকে মুক্তি দেবার প্রয়াস যাঁদের থাকে না, তাঁদের ভাবনা যদি ব্যতিক্রম হয়, শব্দে আমরা নীরব থাকি না? কিছু উদাসীন কী আমরা থাকি না?
আমার মনে হয় এটুকু ঔদার্য আমাদের থাকে
কবিতার প্রকৃত পাঠক অনেককিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেন
এটা ঠিক যে, আভিধানিক
শব্দ এবং অর্থ পুরোপুরি
এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়,
উচিতও নয়। এবং তবু,কবিতার
কবিতা থাকে কিছু কিছু শব্দে,
যে শব্দেরা কবির একান্ত।
হ্যাঁ, এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
শব্দ মানে কী? অর্থাৎ যা শোনা
যায়। শব্দ মানে ইংরেজিতে বললে দাঁড়ায়, ওয়ার্ড এবং
সাউন্ড। শব্দ এবং ধ্বনি।
এদুটো নিয়েই কবির কাব্যকর্ম।
আজকাল ধ্বনি নিয়ে খুব কম কবিই
ভাবেন।
যেমন ধ্বনির ব্যাপারটি দেখুন,
সুরঞ্জনা,তুমি বলোনাকো কথা
ওই যুবকের সাথে,
কী কথা তাহার সাথে? তার সাথে?
স্মৃতি থেকে বললাম, তাহার এবং তার, অর্থ একই, কিন্তু
ধ্বনির জন্য ভাব পাল্টে গেল!
অথবা,শক্তি যখন একটি
কবিতায় "চলচ্ছক্তিহীন"
এমন শব্দ ব্যবহার করেন,
যা গদ্যে ব্যবহার করতেও
ভয় হয়,কিন্তু অনায়াসদক্ষতায়
শক্তি যখন বললেন,শব্দের
আশ্চর্য জোরের জন্য যেন
চলার শক্তিটা ভেঙে পড়ার
ভাবটি এসে গেল।
আমার এমন একটা কবিতার
নাম : কতিপয় অতিশয়জল
এবং দেবারিগণ, কতিপয়
অতিশয়জল, ধ্বনির একটা দিক
রয়ে গেছে।
এটা ঠিক বলেছেন,
আজকাল ধ্বনি নিয়ে খুব কম কবিই ভাবেন।
জীবনানন্দের 'নারীকেও' কথাটি বললেন যখন, মনে পড়ল বুদ্ধদেব বসুর একটি কথা-- 'মৌখিক ভাষায় প্রচলিত তৎসম শব্দের ব্যবহারজাত মালিন্য ঘুচিয়ে তাতে কাব্যের স্পন্দন তিনি এনেছিলেন; 'তোমার শরীর--- তা--ই নিয়ে এসেছিলে একদিন', এবং পঙ্'ক্তিটি পড়ে আমি 'শরীর ' কথাটাকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছিলাম। তার আগে নায়িকাদের কোনো শরীরের অস্তিত্ব আমরা শুনিনি, শুনেছি 'দেহ', 'দেহলতা', 'তনুলতা', 'দেহবল্লরী'। এই উদাহরণ আমাদেরও রচনার সাহস বাড়িয়ে দিয়েছিল।'
কবিতার প্রথম ও শেষ পরিচয় কবিতা-ই। কবিতার কোনও শ্রেণিবিভাগ নেই। তবুও কবিদের ভাবনা অনুযায়ী আমরা পাঠকেরা এটা প্রেমের কবিতা, এটা মৃত্যুচেতনার কবিতা, এটা প্রতিবাদের কবিতা ইত্যাদি --এরকম বলতে অভ্যস্ত। সেক্ষেত্রে আপনার কী মনে হয় যে, 'প্রেমের কবিতাই সবচাইতে বেশি প্রতিপত্তিশালী'---?
কিংবা আমি যদি অন্যভাবে বলি যে, সমস্ত সৃষ্টির মূলেই প্রেম, তাহলে কীভাবে ব্যাখ্যা করতে চাইবেন কবি?
"কবিতা, শব্দটিই একটি কবিতা।"
"কবিতা কবির আত্মজীবনী নয়,
বরং আত্মার জীবনী।"
"কবিতা মানে ঠিসারা।
ঠেস এবং ইসারা।"
"কবিতা অর্থাৎ কবি তা,
যা তিনি লিখেছেন,
যা তিনি লিখবেন,
যা তিনি লিখছেন।"
"কবিতার কোনো সংজ্ঞা হয় না,
কেননা কবিতাই সংজ্ঞা,
অর্থাৎ চেতনা।"
"প্রকৃত কবিতা শুরুই হয়নি,
যা লিখি সবই কবিতা ভণিতাশ্চৈব।"
"প্রত্যেকের ভেতরেই কবি আছেন,কিন্তু কবিকে জাগিয়ে
তুলতে হয়।"
"কবিতা যুক্ত করে,আবার
বিযুক্তও করে। সত্যের সঙ্গে যোগ এবং অসত্য থেকে বিয়োগ। তাই কবিরাও যোগী,
কবিতাযোগী।"
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লেখালেখি
এবং আলোচনায় এই কথাগুলো
বলেছিলাম। যখন বলেছি,
সত্যানুভব থেকেই বলেছি। এই
কথাগুলো থেকে হয়তো একটা
স্পষ্টতা বেরিয়ে আসতে পারে,যা
আমার অন্তর্যামী উচ্চারণ। না,
কবিতার কোনো প্রকারভেদ
হয় না। কবিতা কবিতাই। প্রতিবাদ বলব না। প্রেমও বলব
না। সে এক বোধাতীত সম্বোধি!
প্রথানুগ কোনো দর্শনগত বিশ্বাস
আমার নেই। এমনকি কাব্যেও।
যখন যে মানবিক অভিঘাতে
মন ভাষা পায়,তা'ই আমার মন্ত্র।
"আমার লেখালেখি" কবিতায় যা
বলেছিলাম : "লেখা আমার লেখা যখন যেমন তখন তেমন
লিখি /কবিতা লিখি প্রবন্ধের
মতো, প্রবন্ধ লিখি কবিতার মতো।"
ভারতচন্দ্রের কথাটাও বিশ্বাস
করি : "ভাষা হোক যথাতথা/
কাব্য রস লয়ে।"
তা প্রেম হোক,প্রতিবাদ হোক,
প্রতিবোধ হোক অথবা
পরানুভব কিছু।
আমার কেন জানি মনে হয় সমস্ত সৃষ্টির মূলে প্রেম, এই যে আপনি অনেকবার 'পতাকা' শব্দটিকে ব্যবহার করে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ-কৌতুক-প্রতিবাদ যা-ই করতে চেয়েছেন সবকিছুর মূলে পতাকা প্রেম, মানে পতাকার প্রতি অবিচার আপনি মানতে পারছেন না বলেই প্রতিবাদ। অন্যান্য কবিরাও যাঁরা বিদ্রোহ-প্রতিবাদ করেন, সবকিছুর উৎসমূলেই প্রেম মনে হয় আমার। প্রেম না থাকলে প্রতিবাদ সম্ভব হত না, হ্যাঁ সেটাকেও আপনার ভাষায় বলা যায় এক 'বোধাতীত সম্বোধি।'
'কবিতা লিখি প্রবন্ধের মতো, প্রবন্ধ লিখি কবিতার মতো' ---খুব সুন্দর বলেছেন কবি।
হ্যাঁ। ঠিক বলেছেন। প্রেমিকই তো প্রতিবাদী হয়। এবং প্রতিবাদীও প্রেমের কাছে
দায়বদ্ধ।
সৃষ্টির মূলে দ্বৈত। দ্বৈতেরই প্রেম
হয়। এই প্রেম সৃষ্টির সংগীত।
কিন্তু কবি আরও এগোবেন,
দ্বৈতের পূর্বে তো প্রেম নেই।
তবে আরও কিছু? কী জানি!
সেই অজানা-অচেনা-অদেখা
তো কবিকে আর্ত করে?
সত্যিই 'কী জানি!'
কত অজানা-অচেনা-অদেখা কবিকে আর্ত করেই যাবে।
একসময় জীবনানন্দের বিশ্বাস ছিল-- উপমাই কবিত্ব। সেজন্য তাঁর কবিতায় উপমার উদাহরণ প্রচুর। একজন সমালোচক বলেছিলেন, নাম মনে পড়ছে না, প্রবল ইন্দ্রিয়বোধের কবিদের লেখাতেই নাকি উপমা দেখা যায় বেশি। এ বিষয়ে কিছু বলবেন?
মন্তব্যটি খুব আবেগঘন। উপমা
চমৎকার এবং তবু,উপমাই
কবিত্ব নয়! জীবনানন্দের
প্রবল অস্তিত্বটি হল, তার কবিতায় ইন্দ্রিয়সচেতনা।
তিনি চোখ দিয়ে শুনেছেন,
কান দিয়ে দেখেছেন। অভ্যস্থ
ইন্দ্রিয়ের কাজকে বিপর্যস্ত
করে অপূর্ব এক আস্বাদনের
বার্তা দিয়েছেন পাঠককে,
আর এজন্যই উপমাপ্রয়োগ।
কিন্তু শেষ অব্দি উপমেয়
উপমানকে ছাড়িয়ে যায়,
তখন হয়তো উপমা নিছক
কবিত্ব নয়। একটা আপেক্ষিক
অর্থেই জীবনানন্দের কথাটি
ধার্য।
আপনার কবিজন্মে কখনও কষ্ট হয় আপনার?
কবিতা তো কষ্টের কলা,
আল মাহমুদ বলেছিলেন।
কবিজন্ম কষ্ট দেয়,আবার
কবিতাই অভ্যুত্থান শেখায়।
কবিদের খুব কষ্ট
কষ্ট হয় তাঁদের জন্য
কবিতাই রোগ, কবিতাই ঔষধ
তবুও কষ্ট হয়
একটা কবিতায় বলেছিলাম,
কবিকে সঙ্গম থেকে তুলে
শ্মশানের দিকে নিয়ে যায়
কবিতা।
আবার আরেকটা কবিতায়
বলেছি,
জয় ছাড়া কবি বৃথা নয়!
একটা কবিতায় বলেছিলাম,
কবিকে সঙ্গম থেকে তুলে
শ্মশানের দিকে নিয়ে যায়
কবিতা।
আবার আরেকটা কবিতায়
বলেছি,
জয় ছাড়া কবি বৃথা নয়!
এটা ঠিক, আপনার কবিতা ভাবাবেগকে অতিক্রম করে বৈদগ্ধ্যের ফসল এবং সেটা বহুমুখী, বৈচিত্র্যে ভরপুর, কবি সুধীন্দ্রনাথ সম্পর্কে এলিয়টের ভাষা আপনার সম্পর্কেও বলা চলে--'variety and complexity, playing upon a refined sensibility' তবে মাঝেমাঝে বেশ বিরক্তির দ্যোতনা প্রকাশিত হয়, সেটা কী শুধু যুগের অসুস্থতার জন্য?
আমার মনে হওয়াটুকুই বলা
অনেকসময় মনে হয় সুধীন্দ্রনাথ, বিষ্ণু দে যদি আপনার কবিতার পাঠক হতে পারতেন
হ্যাঁ,আমরা তো সময়ের নাগরিক। তাই সভ্যতার চাপে
ক্লান্তি, বিরক্তি আসে।
ঔপনিবেশিক আধুনিকতা
অনেকদিন আমরা লালন
করেছি। কিছুটা উৎকর্ষ যুক্ত
হয়েছে বাংলা কবিতা চর্চা ও
চর্যায়। কিন্তু আর কতোকাল?
জাপানি,রুশ বা লাতিন আমেরিকার তো নিজস্ব
আধুনিকতা আছে। নিকানোর
পারা বা মার্কেজের সাহিত্য-
কাব্য আমাদের আত্মীয়।
আমাদেরও নিজস্ব আধুনিকতার
সন্ধানযাত্রা করা উচিত। উত্তর-
আধুনিক বা আধুনিকোত্তর
এসব ডগমার কথা বলব না।
আমার কবিতায় এরকম একটা
সন্ধান আছে,তাই নানান
অভিঘাত হয়তো উঠে আসে।
সিদ্ধ কল্পনা থেকে কবিতাকে
মুক্তি দিতে গিয়ে উদ্ভট স্বপ্নসূত্র
অনেকসময় ব্যবহার করি,বা
আনপোয়েটিক ইমেজারি! এটি
ঠিক সুররিয়ালিস্টিক বা
ডাডাবাদী সঠিক অর্থে নয়
বোধহয়। হাঁ-কবিতা এবং
না-কবিতার মাঝামাঝি
অবস্থান।
'হাঁ-কবিতা এবং না-কবিতার মাঝামাঝি অবস্থান।'---ঠিক বলেছেন।
কবির প্রকৃতি আসলে সামগ্রিকভাবে তো বিশ্লেষণ করা যায় না, শুধু খণ্ড খণ্ড নিয়ে কিছু বলা, যা একদিকে সমর্থন করা যায়, আবার খণ্ডন করাও যায়।
সুধীন্দ্রনাথের কথা---'প্রেরণাতে অলৌকিকের আভাস আছে বলে, সাহিত্যসৃষ্টির উক্ত উপকরণ আমি সাধ্যপক্ষে মানতে চাইনি, তার বদলে আঁকড়ে ধরেছিলুম অভিজ্ঞতাকে।'
আপনি সুধীন্দ্রনাথকে ভালোবাসলেও দেখলাম-- প্রেরণাতেও আপনার যথেষ্ট বিশ্বাস রয়েছে, যদিও ভালোবাসলেই সবকিছুতেই বিশ্বাস রাখা অপরিহার্য নয়, তবু বললাম।
প্রথম দিকে প্রেরণাকে মানতে
চাননি সুধীন্দ্রনাথ। মনে হয়
রাবীন্দ্রিক ঐশীবিশ্বাসের
প্রভাবমুক্ত হওয়ার জন্য এটি
সচেতপ্রয়াস। কিন্তু সুধীন্দ্রনাথ
যখন "দশমী" কাব্যে বলেন
"তথাপি পাবো না আমি
আপনার দেখা কি?"
বিরূপ বিশ্বে মানুষ নিয়ত
একাকী, বলার পর...
তখন মনে হয় লোকোত্তর
একটা চেতনাকে তিনি
স্বীকার করতে চেয়েছেন,
তা না হলে,লোকায়তকে
উপলব্ধি করা যায় না!
আপনি "প্রেমভাজা" শব্দটা
বলেছিলেন। শব্দটা আমার
মৌলিক নয়। এটা বাউলসাধনার
পরিভাষায় অতিগুপ্ত একটা
বিষয়। ইচ্ছে করেই বাউলদের
গুপ্তিপাড়ার কথা ব্যাখ্যা
করছি না। তবে আমি শব্দটাই
নিয়েছি। ব্যাখ্যাটি আমার
কবিতার জন্য প্রয়োজন নেই
বলে, কবিতায় বলিনি।
হ্যাঁ-কবিতা এবং না-কবিতা
বলতে আমি কবিতা এবং
প্রতিকবিতাকে বোঝাতে
চেয়েছি,মূলত।
বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাশ ও অমিয় চক্রবর্তীর মতো সুধীন্দ্রনাথেরও প্রথম পর্ব ছিল রবীন্দ্রানুসরণ। 'তন্বী'-তে---
'অধুনা-আনীত নব অলিখিত
লেখনী মোর,
কি জানি কেমন ভাগ্য লিখন
আছে রে তোর!
মুখাগ্রে তোর ছুটিবে কি গান?
পাবি লাঞ্ছনা? মিলিবে কি মান?'
আপনি যে বললেন লোকোত্তর একটা চেতনাকে স্বীকার করতে চেয়েছেন, এটাই ঠিক মনে হয়-- ওই যে তিনি বলেছেন--'সাধ্যপক্ষে', এটাই।
একটা জায়গায় আবার পেলাম সুধীন্দ্রনাথ বলেছেন--'আধুনিক কবি প্রেরণা মানে বটে, কিন্ত প্রেরণা বলতে সে বোঝে পরিশ্রমের পুরস্কার।'
তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়াল এই যে, স্বতঃস্ফূর্ত ভাবধারা বা প্রেরণাকে ভেঙে পরিশ্রম বা সাধনার দ্বারা তাকে নিজস্ব ভাবধারায় শৃঙ্খলিত করা।
'প্রেমভাজা' বাউলদের গুপ্তিপাড়ার কথা-- এটা জানতাম না কবি।
সুধীন্দ্রনাথের স্বক্ষেত্রে
হয়তো কথাটা ঠিক। কিন্তু
তবু, অমীমাংসিত রয়ে যায়
কথাটা,প্রেরণা কি সত্যই
পরিশ্রমের ফল!
সুধীন্দ্রনাথের স্বক্ষেত্রে
হয়তো কথাটা ঠিক। কিন্তু
তবু, অমীমাংসিত রয়ে যায়
কথাটা,প্রেরণা কি সত্যই
পরিশ্রমের ফল!
তবে কবিতায় প্রয়োজন না-হলেও এখন যে আপনি বলেছেন এখানেই তো আপনার সততা কবি।
তাহলে,মা নিষাদ শ্লোকরচনার
পর বাল্মিকী কেন বলেছিলেন,
কিমিদং ব্যাহৃত ময়া : এ আমি
কি বললাম? অথবা এ আমি
"কী" বললাম?
কী জানি!
ভাবি শুধু
কবিতার ক্ষেত্রে কোনও কথাই তো শেষ কথা নয় কবি।
এটিই সারকথাটি বলে
দিলেন!
কবিদের নিজেদের মধ্যেই অনেক স্ব-বিরোধিতা রয়েছে কবি
এই স্ববিরোধিতা আছে বলেই
কবিতা হয়।
হুম
অনেকে সেটা স্বীকার করতেও চান না
সম্ভবত কবি বিনয় মজুমদারের একটা কথা পড়েছিলাম-- সৌন্দর্যতত্ত্বের একটা বড়ো সূত্রই হল এলিমিনেশন- বর্জন, যার ফলে কবিতার রহস্যময়তা বাড়ে, পাঠকও হয়ে উঠেন সৃষ্টিশীল।' বিশ্বাস করেন কবি?
যতদিন দ্বৈতের জগৎ,
ততদিনই স্ববিরোধ থাকবে।
আর্ততাও থাকবে সেজন্য।
শ্রোয়েডিংগারের ক্যাটকমপ্লেক্সের মত। বাক্সের
ভেতর বিড়ালটা জীবিত আছে,
না মৃত? দুটোরই সম্ভবনা আছে,
বাক্সটা খুললে বলা যেতে পারে
কোনটা সত্য। যেদিন মানুষ
অদ্বৈতের সন্ধান পাবে,সেদিনই
স্ববিরোধহীন সত্যকে জানা যাবে,তাই বলেছিলাম হয়তো
কবিতা ভণিতাচৈব। প্রকৃত
কবিতা শুরুই হয়নি!
হ্যাঁ,সত্যতা আছে বিনয়
মজুমদারের কথায়।
'যেদিন মানুষ অদ্বৈতের সন্ধান পাবে, সেদিনই সত্যকে জানা যাবে'-- সত্যকে আদৌ সত্যের মতো করে পায় কিনা একজন মানুষ তাঁর সমগ্র জীবনে! আসলে সন্ধান চলতেই থাকে।
হ্যাঁ। সন্ধান। আমি কোথায় পাব
তারে...
শরৎচন্দ্র বলেছিলেন-- 'কি লিখতে হবে তা আমরা জানি, কি লিখতে হবে না তা জানি না।'
অনেকে বিশ্বাস করেন, যাঁরা বড়ো মাপের স্রষ্টা তাঁরা নিঃসন্দেহে জানেন--কি লিখতে হবে না। কোন শব্দটা শৈল্পিক কারণে জরুরি বা কোন পঙ্'ক্তিটি না-হলে কবিতাটি গুরুত্ব পাবে না। আপনার কী মনে হয় কবি? শক্তিশালী কবি হলেই কী তিনি সবসময় এমন নিঃসংশয় হতে পারেন?
শক্তিশালী কবি হলে তিনি
নিঃসংশয় হতে পারেন,আমি
তা'ই মনে হয়। তবে কথাটি
একজন কবির অধিক অংশের
কবিতাবিষয়জ,যা তার বোধিতৃপ্ত লেখা। ব্যতিক্রম তো
থাকবে, কিন্তু তা আলোচ্য নয়।
(৩)চারপাশে কত কী হচ্ছে কবি!
ভালো লাগে না
ঠিক বলেছেন, চারপাশটা যেন
অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে দিনদিন!
কবি প্রদীপবিকাশ রায় বলেছিলেন,
"কবিরাও আর রইল না কবির
মতো।"
ঠিক কবি, 'কথাটি একজন কবির অধিক অংশের কবিতাবিষয়জ' একজন কবির সব কবিতা সম্পর্কে কথাটি প্রযোজ্য নয়। ব্যতিক্রম আছেই।
" কবিরাও আর রইল না কবির মতো।'
বিশ্বাস করুন কবি, ঠিক এই কথাটিই আমি কাল ভাবছিলাম, কিন্ত আপনাকে মেসেজ করে পাঠাইনি। আসলে অনেক জায়গাতেই আমাদের কিছু না কিছু ভাবনা মিলে যায় একদম।
যখন প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থাকি, প্রতি মুহূর্তেই মনে হয়-- ঈশ্বরের মতো শ্রেষ্ঠ শিল্পী আর কেউ নয়। যখন মানুষের কাছে ফিরে আসি, তখন কিছু মানুষের কিছু অসম্পূর্ণতা দেখে খুব কষ্ট হয়। অন্ধ, খোঁড়া, বোবা-কালা , আরও কত মানুষদের দেখে ভাবি-- স্বয়ং ঈশ্বরও নিঁখুত শিল্পী নন। বিভিন্ন তত্ত্ব যা-ই ব্যাখ্যা করুক, খুব কষ্ট হয়।
অধ্যাত্মদর্শনে তাই ঈশ্বরও
সর্বোচ্চ তত্ত্ব নয়। ঈশ্বরের এই
অসম্পূর্ণতা বিষয়ে জ্ঞানীরা
জানতেন। তাই কপিল সাংখ্য-
দর্শনে বলেছেন, "ঈশ্বরঃ অসিদ্ধেঃ।" ঈশ্বর সিদ্ধতত্ত্ব নয়।
যদিও দোষেগুণে ভরা মানুষের
সত্যচিন্তা ঈশ্বরে গিয়ে শেষ হয়ে
যায়! হয়তো এই যন্ত্রণায় নজরুল বলেছিলেন "মম চরণের
তলে মরণের মার, খেয়ে মরে
ভগবান!" আমি ওয়ানলাইনারে
বলেছিলাম তির্যক, শয়তানের
সঙ্গে হামেশাই ধাক্কা লাগে,
শয়তান আমাকে বলে,ঈশ্! সর্!
এসব অসম্পূর্ণতা সত্ত্বেও আমি ঈশ্বরে বিশ্বাসী কবি। অনেকসময় মনে হয় ঈশ্বরের এরকম কিছু অসম্পূর্ণতা হয়ত আমাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য, না-হলে এতকিছু মানুষ জানত কীভাবে! আমার বাবা স্নান করে গীতা না-পড়ে কখনও ভাত খেতেন না। সে পরিবেশ থেকে বড়ো হয়ে কখনও অবিশ্বাসী হতে পারিনি, তবে অভিমান, রাগ হয় কখনও কখনও, অভিযোগও করি।
আপনার ওয়ানলাইনারের লেখাটা 'শয়তানের সঙ্গে হামেশাই ধাক্কা লাগে, শয়তান আমাকে বলে, ঈশ্! সর!'
আমার বোধে এভাবে এসেছিল-- আপনার ভেতরের ভালো- মন্দের দ্বন্দ্বে অর্থাৎ আপনার শুভ শক্তিকে অশুভ শক্তি ধাক্কা দিয়ে নিজে ওপরে উঠতে চাইছে।
এমন কিছু সময় তো আমাদের জীবনে আসে, শুভ-অশুভর অন্তর্দ্বন্দ্বেও আক্রান্ত হয় মানুষ
প্রতিটি মানুষের ভেতরেই শুভ-অশুভর বসবাস, কারও একটা বেশি, কারও একটা কম।
সেজন্যই বলেছি
আপনি আবার আমার অবুঝ বোধে রাগ করবেন না যেন😄
না-হতে পারলাম কবি
না -হতে পারলাম কবিতার পাঠক
না, একটা দোকানে ছিলাম,
তাই ম্যাসেজ দিতে পারিনি।
সত্য যা'ই হোক, মানুষ তো বেদনার সন্তান। আল মাহমুদ
বলেছিলেন, ভুলেভরা মানুষের
একটা কান্নার জায়গা থাকা
চাই। সে জায়গাটিই কবিতা।
ঈশ্বর বলুন,আপত্তি নেই।
সত্য-সুন্দর-শিবের একটা বিশ্বাস থাকতে হয়। এজন্য
পাতঞ্জলদর্শন বলেছেন,
ঈশ্বরঃ প্রণিধানশ্চ। কবির
আধ্যাত্মিকতা এই।
ব্যাপারটি মানতে হয়,মননের
একটা স্তর পর্যন্ত।
গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন,
উদ্ধরেৎ আত্মনা আত্মনাম্।
নাবসায়েৎ। নিজেকে নিজের
দ্বারা উদ্ধার কর,অবসাদগ্রস্ত
হয়ো না। (অভ্যাসযোগ)
কিন্তু এ বড়ো উচ্চকোটির কথা।
সাধারণমানুষের জন্য এ কথাটিই ভালো, সর্বধর্মান্
পরিত্যাজ্য মামেকং শরণং ব্রজ।
হ্যাঁ, নিজেকে নিজের দ্বারা উদ্ধার কর, অবসাদগ্রস্ত হয়ো না। আমরা অনেক জায়গাতেই বড়ো জ্ঞানপাপী কবি, জেনে-শুনেও অবুঝ।
কতকিছু যে আপনি অনায়াসে স্মরণে রাখতে পারেন, বারবার অবাক হই।🙏
মনে কে যে জুগিয়ে দেন কথা।
বোধহয় তিনিই জীবনদেবতা!
বঙ্কিমচন্দ্র বলেছিলেন --"যখন বহিঃপ্রকৃতি বর্ণনীয়, তখন অন্তঃপ্রকৃতির সেই ছায়া সহিত চিত্রিত করাই কাব্যের উদ্দেশ্য। যখন অন্তঃপ্রকৃতি বর্ণনীয়, তখন বহিঃপ্রকৃতির ছায়াসমেত বর্ণনা তাহার উদ্দেশ্য। যিনি পারেন, তিনিই সুকবি।"
কোনও অক্ষম কবি যদি এই উদ্দেশ্যের সঠিক তাৎপর্য অনুধাবন করতে ব্যর্থ হন তাহলে তাঁর সৃষ্টিকর্মে একাধিক ইন্দ্রিয়পরতা, অপরদিকে আধ্যাত্মিকতা দোষ জন্মাবে বলে মনে করেছেন তিনি। এই ইন্দ্রিয়পরতা ও আধ্যাত্মিকতা দোষের উদাহরণ হিসেবে তিনি জয়দেব ও ওয়ার্ডসওয়ার্থ এর নাম উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে সহমত পোষণ করেন কবি?
খুব সুন্দর কথামাত্রই নয়। খুব
জরুরি কথা। আমি আমার
নানান লেখায়,আলোচনায়
অনেকবার এই কথাটি বলেছি।
বঙ্কিমের এই কথাটি মান্য।
তিনি এও বলেছেন,...কবিরা
ধর্মের সহায়।
আজ যে কবিতাটি পোস্ট
করেছি, তা-তে "উকুলেলে"
বলে একটা শব্দ আছে। এটি
হল একরকমের পর্তুগিজ
ছোট গিটার। যা আজকাল
খুব চলছে। দুহাজার টাকা দাম
মাত্র। আপনি একটি কিনে
বাজান,অবশ্য শিখতে হবে।
সময় কাটবে। খুব আদুরে
বাদ্যটি।
আপনি যা পারেন, আমি কি পারব কবি! অনেক বিদ্যা শিখলেও হয় না কবি, তবে আপনার হাতে আপনার 'খুব আদুরে বাদ্যটি' শুনব একদিন।
'চৈতন্য যেমন আশ্রয় দেয় তেমনি দেয় জানার যন্ত্রণাও।' কী মনে হয় কবি আপনার?
বেদ মানে জ্ঞান। বেদনা
শব্দটার মধ্যেই বেদ আছে।
তাই যোগীবর বরদাচরণ
মজুমদার বলেছিলেন,যাহা
জানাইয়া দেয়, তাহাই বেদনা।
বরদাচরণ নজরুলের গুরু।
নজরুলকে সূক্ষ্মদেহে তার পুত্র
বুলবুলকে তিনি দেখিয়েছিলেন।
বাদ্যটি আমার ভাতিজা বাজায়,
আমিও শিখিনি।
শুভবাদ।
'বেদনা শব্দটার মধ্যেই বেদ আছে'-- খুব সুন্দর বললেন কবি।
মনে পড়ল--'জ্ঞানের বিহনে প্রেম নেই।'
একটা কথা বললে কিছু মনে করবেন না তো কবি?
বলুন।
কেউ কেউ কবিতার চেয়ে মানুষটিকে চেনেন বলে কবিতার খুব প্রশংসা করেন, অবশ্য অনেকদিন আগে থেকেই চলছে এসব, কবিতা প্রিয় থেকেও কবি প্রিয়-- এসব ব্যাপার, ভালো লাগে না।
কেউ কেউ এত দলান্ধ, তাঁর দলের বাইরে কারও কবিতা পড়তে চান না
আবার কেউ কেউ নিজের জানার অহংকারে এত বেশি মত্ত যে, অন্যেও যে কিছু জানেন তাঁর মতো করে, সেটাও মানতে চান না
হ্যাঁ,এটা ঘটনা। এরকম হয়,
সবসময়ই। না হওয়াই বিহিত,
কিন্তু হয়। কবি মানুষ তো,তার
মানুষোচিত কিছু ব্যাপার
থেকে যায়। আবার মানুষোচিত
কিছু ব্যাপারে মন বিরুদ্ধ হয়ে
পড়লে পূর্বশংসিত কবিতার
বিপক্ষে কথা বলেন।
হ্যাঁ, সেটাই
আগেও হয়েছে
এখনও চলছে, তবে খারাপ লাগে ঠিক
ভালো, সুপ্রিয় দু'একজন
নিষ্ঠপাঠক থাকলেই যথেষ্ট।
বাকি কাণ্ডকলাপ চলবেই।
আমার লেখা নিয়ে বলিনি কবি।
কিছু ভালো লেখা নিয়ে অনেকেই খুব উদাসীন, তবে আমার ভালো লেগেছে বলে তাঁদেরও ভালো লাগবে এমনও নয়, তবু কোনও কোনও জায়গায় মনে হয়, তাই বললাম।
আমি আমার লেখালেখি নিয়ে একদম ভাবি না এখন।
জানি, পাঠককে টানার মতো কিছুই লিখতে পারিনি, চারপাশের কিছু চিত্র দেখেই বলেছি কবি।
একটা অন্যরকম প্রশ্ন
আপনাকে যদি কখনও একজন নারী তাঁর জন্য একটি কবিতা প্রার্থনা করেন, আর অপর একজন নারী যদি তাঁকে নিয়ে একটি চিত্রশিল্প প্রার্থনা করেন, আপনি কি সে-ই প্রার্থনা শুনবেন? কিংবা শুনলে কোন কাজটা প্রথমেই করতে চাইবেন?
অন্যরকম প্রশ্নই বটে! 😃
কবিতা তো নিজেই নারী।
কবিতাই নিরাপদ।
কাব্য পুরুষ আর কবিতা নারী😄
কবিতা, সঙ্গীত, নৃত্য, চিত্রকলা, নাটক ইত্যাদি সবই তো শিল্প, তবু কবিতাকে কেমন শিল্প মনে হয়?
( যদি এ-বিষয়ে আগে কিছু বলে থাকেন, না-বললে চলবে)
কবিতা, গল্প, উপন্যাসে স্থানিকতার বিষয়ে অনেকেই বেশ গুরত্বারোপ করেন, আপনি কিছু বলুন কবি?
হ্যাঁ,সবই শিল্প। তবু কবিতাকে
শব্দশিল্প বলা যেতে পারে।
যদিও পিকাসোর একটা কথা
মনে রাখা ভালো, মিথ্যা দিয়ে
সত্যকে চেনার পদ্ধতি হচ্ছে
শিল্প। কাজেই শিল্প শব্দটাও
তর্কিত। তথাকথিত শিল্প হচ্ছে
মায়া,এই মায়ার ভিতর দিয়ে
যখন সত্যের বোধ হয়,তখন
শিল্পের নির্মোক খসে পড়ে।
হোয়াট ইজ আর্ট? অন্নদাশংকর
খুব সুন্দর বুঝিয়েছেন তার
বইটিতে।
গোটা বিশ্বই তো একটা স্থানিকতা। তবু স্থানিকতার
একটা আপেক্ষিক মানে আছে।
উত্তর ঔপনিবেশিককালের
কাব্যসাহিত্যে আজকাল
স্থানিকতা খুব গুরুত্ব পাচ্ছে।
এমন নয় যে,ঔপনিবেশিককালে
স্থানিকতা ছিল না। দেবেশ রায়,
অদ্বৈত, তারাশংকর, মহাশ্বেতার
লেখালেখিতে ছিল। আমি
গুরুত্ব আরোপের কথা বলব না,
তবে স্থানিকতার কিছু ভাব,
মানুষজনের যাপিত জীবনকৃষ্টি,
যদি চিরায়ত মানবভাবনার
সঙ্গে সাযুজ্যময় হয়,তবে
সেই স্থানিকতা স্বাগত। চেষ্টাকৃত
স্থানিকতা, নিছক কিছু
স্থান-নাম-পাত্র এবং উপভাষার
প্রয়োগমাত্রে আটকা পড়ে গেলে
চিরায়তপাঠকের কদর থেকে
তা বঞ্চিত হয়।
'গোটা বিশ্বই তো একটা স্থানিকতা'--ভালো বলেছেন কবি।
আমিও ভাবি, যে-স্থানের কথাই বলা হোক, সে-ই তো মানুষ আর প্রকৃতির কথাই। শুধু ভাবে-স্বভাবে যা কিছু পার্থক্য।
ঠিক।
এলিয়ট বলেছিলেন--'মধ্যবয়সে পৌঁছে কবিদের সামনে তিনটি পথ খোলা থাকে--কবিতা রচনা বন্ধ করা, অধিকতর শৈল্পিক দক্ষতার সঙ্গে পুনরাবৃত্তি করা, প্রৌঢ়ত্বের সঙ্গে সন্ধি করে এক নতুন পথের অন্বেষণ করা।' এ বিষয়ে আপনার ধারণা জানতে চাইছি?
ঠিক বলেছেন বলে মনে করি।
কিছুদিন আগে ফেসবুকে
একটা গদ্যে এই কথাটি
আমি মনে করিয়ে দিয়েছি
রাজ্যের তথাকথিত প্রবীণকবিদের। কে কতোখানি
বুঝেছেন, কে জানে!
আমি পড়েছি কিনা মনে পড়ছে না,
আর পড়লেও পাঠক হিসেবে বুঝেছি কিনা সেটাও প্রশ্ন।
গদ্যটির নাম ছিল
"কবিতা লিখে কবি হওয়া নয়"
মনে পড়েছে
পড়েছিলাম
রবীন্দ্রনাথ প্রেমে বিরহ-বিচ্ছেদের অনুভূতিতেও এক নতুন সম্পদের সন্ধান পেয়েছিলেন, বলেছিলেন ---'চিত্ত ভরিয়া রবে ক্ষণিক মিলন চিরবিচ্ছেদ করি জয়।' কিন্ত জীবনানন্দকে সেদিক থেকে বলা হয় অচরিতার্থ প্রেমিক, কারণ বিচ্ছেদের বিষয়ে তাঁর রোমান্টিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল না। আপনার মতামত কবি?
আসলে দু'জন কবি দু'টি
ভিন্ন সময়বোধের কবি। দু'টি
ভিন্ন সময়সংক্রান্তির নাগরিক।
রবীন্দ্রনাথের ক্লান্তি ক্ষমা
করার একজন 'প্রভু' ছিলেন।
কিন্তু জীবনানন্দ ছিলেন এক
বিচলিত নাস্তিক্যের কবি,তার
সামনে শুধু ক্লান্তিই ছিল,'প্রভু'
ছিলেন না। যদিও আনন্দসন্তান
রবীন্দ্রনাথ চিত্রকলায় এসে
যেন বিপর্যস্ত চৈতন্যে আত্মঘাতী
হয়ে উঠেছিলেন। যদিও ধূসর
জীবনানন্দও একসময় একটা
তীর্ণলোকে পৌঁছে বলেছিলেন,
"এখনও নারীর মানে তুমি
কতো রাধিকা ফুরালো।"
তার একজন বনলতা ছিলেন
আলো দ্বারা গঠিত। আরেকজন
বনলতা ছিলেন অন্ধকার,
"মুখোমুখি বসিবার"। কাজেই
দু'জন কবিই রোম্যান্টিক। দু'জনই প্রেমিক।
ঠিক বলেছেন কবি, 'আনন্দসন্তান রবীন্দ্রনাথ চিত্রকলায় এসে যেন বিপর্যস্ত চৈতন্যে আত্মঘাতী হয়ে উঠেছিলেন।'
জীবনানন্দের ক্লান্তি জীবনানন্দের ভাষায় 'বিপন্ন বিস্ময়'।
আমার মনে হয়-- রবীন্দ্রনাথের প্রেমে সেরকম প্রত্যাশা ছিল না, তাই বিরহেও নিজেকে শূন্য মনে করতেন না আর জীবনানন্দ প্রত্যাশার আঘাতে নিজেই বিধ্বস্ত হয়েছেন কখনও কখনও।
একদম ঠিক। খুব সুন্দর
ধরেছেন। আলোঅন্ধকার
জীবনের দুটো দিক নিয়েই
রবীন্দ্রনাথ ছিলেন আত্মসমাহিত,জীবনানন্দের
চেয়ে তার দুঃখ, বিপর্যয় কম
ছিল না। জীবনানন্দ দুঃখজয়ের
সুযোগ পেয়েছিলেন,কিন্তু
গ্রহণ করেননি। ইচ্ছাকৃত
একটা সাইকোসিস ধরে রাখতে
চাইতেন। হয়তো এটি কবিতাগত, জীবনগত নয়।
আর সময়ের কথায় বলব, প্রেমের স্বভাব চিরকাল একইরকম, শুধু পরিবেশের সঙ্গে মানুষের ভাবভঙ্গি পালটে যায়।
এটা হতে পারে 'কবিতাগত, জীবনগত নয়।'
যদি তা না হত,তবে
ঝরা পালক,ধূসর পাণ্ডুলিপির
মাঝখানে রূপসী বাংলা লিখতে
গেলেন কেন? এবং লিখে কেন
লুকিয়ে রাখলেন? আমার
ধারণা, এটি যে তার কবিতাবোধগত ছন্দপতন, তিনি
হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন!
লিখে লুকিয়ে রাখার কথাটা জানতাম না কবি। একজন কবির মধ্যে যে কত বিস্ময় লুকিয়ে আছে, কবি নিজেও তা জানতে পারেন না। 'কবিতাবোধগত ছন্দপতন'-- ঠিক বলেছেন, অনেক কবিদের মধ্যেই সেটা দেখা যায় কবি।
মাঝে মাঝে আমার মনে হয়, রূপসী বাংলা না-লিখলে জীবনানন্দ জীবনানন্দ হয়ে উঠতে পারতেন না, এও এক শৈল্পিক বিস্ময়।
প্রেমের ব্যাপারে যে কথাটি আমি ঠিক বুঝিয়ে বলতে পারিনি আপনার সময়ের কথায়, সেটা হল--
'তবু দেখো সেই কটাক্ষ
আঁখির কোণে দিচ্ছে সাক্ষ্য
যেমনটি ঠিক দেখা যেত
কালিদাসের কালে।'
'আমি যদি কবি হই তাহলে কবি হিসেবে আমার কর্তব্য ভালো কবিতা লেখা, তাছাড়া কিছু নয়, জীবনের সঙ্গে সেই আমার যোগসূত্র। আমি যদি বাণিজ্য কি রাজনীতি সম্বন্ধে মূঢ় হই, ফুটবল কি ঘোড়দৌড়ের খবর না রাখি, তাহলে ক্ষতি কি? আমি বরং বলবো, ভালো কবিতা লেখার জন্য যে-রকম জীবন আমার নিজের পক্ষে সব চেয়ে অনুকূল বলে জানি, আমি চাইবো আমার জীবনকে সেভাবেই গড়তে, সেটা এস্কেপিজম নয়, সেটা শুভবুদ্ধি।'
আপনার কী মনে হয় বুদ্ধদেব বসুর এই আত্মসমর্থন এস্কেপিজম?
বুদ্ধদেব বসু বলেছিলেন
"যা কিছু লিখেছি,সব,সবই
ভালোবাসার কবিতা,
কথা বুনে,ছন্দ গেঁথে,শব্দ ছেনে
আমি শুধু ভালোই বেসেছি
সবচেয়ে তীব্র,মত্ত,সত্য করে।"
প্রকৃত সবই ভালোবাসার
কবিতা। তা'তে চাই
১. কথা বোনা।
২. ছন্দ গাঁথা।
৩. শব্দ ছানা।
৪. তীব্র,মত্ত,সত্য।
শেষ কথাটি সত্য। কেননা,সত্য
বলা ছাড়া কবিতার অন্য কোনো
কাজ নেই,বলেছেন তো
শঙ্খ ঘোষ।
কিন্তু এই সত্যউপলব্ধির
মানুষজীবন ভিন্ন ভিন্ন,কিন্তু
কবিজীবন অনন্য।
কাজেই বুদ্ধদেবের কথাটি
এস্কেপিজম মনে হল না!
একদম ঠিক বলেছেন কবি।
আমিও বিশ্বাস করি বুদ্ধদেব বসু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত শিল্পসাধনায় বিশ্বাসী না হলেও তাঁর মধ্যে সমাজচেতনা ফল্গুধারার মতো প্রবাহিত ছিল।
এলিয়টের মতে, যখন আর নতুন কিছু দেওয়ার থাকে না, তখন কবির একমাত্র পরিত্রাণ প্রতীক গ্রহণে।
এ ব্যাপারে আপনি কী সহমত কবি?
কথাটি আমার কাছে বেশ
কঠিন মনে হচ্ছে,কবির নতুন
কিছু দেওয়ার না থাকলে
প্রতীকগ্রহণেও কি হবে? হয়তো
প্রতীকবাদী কবিদের কটাক্ষ
করেও বলতে পারেন!
ঠিক
এতকিছু ভেবে কী আর কবি কবিতা লেখেন!
অবশ্যই প্রকাশক বিপণন
এবং প্রচারের দায়িত্ব নেবেন,
সেজন্যই তো প্রকাশক। তবে
লেখককবিও তো উদাসীন
থাকতে পারেন না,নিজের
লেখাবইটির প্রচার বা
প্রকাশকের সন্ধান দেওয়া,
এরকম কিছু কর্তব্য
লেখককবির রয়েছে বই কি!
সত্যিই, একজন কবি-লেখক তো সেক্ষেত্রে কাউকে জোর করছেন না, তিনি বলতেই পারেন। কেনা, না-কেনা সেটা পাঠকই ঠিক করবেন।
আপনার কোনও প্রিয় কবির সঙ্গে কাটানো স্মরণীয় মুহূর্তের কথা বলুন?
একজন কবির কাব্যপ্রকাশ বা কবিখ্যাতি দিয়ে কবিদের দশকবিচারের রেওয়াজ আমাদের মধ্যে রয়েছে, সে-বিষয়ে কিছু বলুন?
প্রিয় কবি ঠিক বলব না। তবে
শঙ্খপল্লব আদিত্যের সঙ্গে
কিছুটা সময় আলাপচারিতায়
ব্যয় করেছিলাম,বছরদশেক
আগে স্যন্দনঅফিসে। কবিতা
নয়,তন্ত্রবিষয়েই কথা হয়েছিল।
উনি নাকি প্রবুদ্ধকে বলেছিলেন,
এই প্রথম মদ্য ও নারীবর্জিত
এক তান্ত্রিকের সঙ্গে কথা হল! 😃
দশকবিচার খুব একটা ভালো
পন্থা নয়। কবিদের পক্ষে তো
নয়ই। তবে যারা আলোচক,
তারা একটা সময়খণ্ড ধরতে
গিয়ে দশকানুযায়ী উল্লেখ
করেন। মজার কথা উল্লেখ্য
কবিতা কম হয়,কিন্তু সকল
সময়খণ্ডেই কবির সংখ্যা
প্রতুল। আলোচকরা সমস্যায়
পড়েন তাই!
আমিও দশকে বিশ্বাসী নই, তবু আলোচনার খাতিরে এসে যায়।
প্রিয়কবি বা শ্রেষ্ঠকবি কেউ
নেই আমার পছন্দে। আমি
সাধ্যমতো সকলের কবিতাই
পড়ার চেষ্টা করি বা পড়ি।
সততসহসা কারো কারো
লেখা পড়ে প্রাণন্ত হই,বাউলা
করে দেয় কারো কারো লেখা।
অবশ্যি সব লেখা নয়। আমার
নিজের কবিতা সম্পর্কেও
একই বিশ্বাস। রবীন্দ্রনাথের কথা
আলাদা। রবীন্দ্রনাথ আমাদের
এই নীলগ্রহে একটি জীবনদায়ী
ঔষধের নাম, যার গায়ে
এক্সপায়ার্ড ডেট লেখা নেই।
শেষ লাইন খুব সুন্দর বলেছেন কবি। আসলে কোনও কবির অনেক পঙ্'ক্তি যখন খুব ভালো লেগে যায় তখন 'প্রিয়' কথাটি অজান্তেই এসে যায়, অথচ এটা তো সত্য একজন সফল কবিরও কিছু অসফল অভিযানও রয়েছে।
সকলকবিরই কিছু ভালো
লেখা থাকে। তাই এইবিষয়ে
কবিরা হন শংসাকাতর এবং
অন্যশ্রীকাতরও। আবার কিছু
ভালো না-লাগা লেখাও থাকে,
তাই এই জায়গায় গড়ে ওঠে
পারস্পরিক চুলোচুলি!
হ্যাঁ, এমন কিছু লেখা আছে যেগুলো পাঠকের ভালো লাগে, অথচ কবির নিজের ভালো লাগে না। আবার এমনও লেখা আছে যা পাঠকের ভালো লাগে না, কিন্ত ওই দুর্বল লেখাটির প্রতি কবির খুব দুর্বলতা থাকে না।
আপনার কবিতার কোনও পাঠক, যিনি আপনাকে ভালোবাসেন, বলেন যে--কবি, আপনি ওই কবিতার একটি শব্দ যদি পালটে দিতেন বা পঙ্'ক্তিটা যদি এভাবে না-হয়ে ওভাবে হত, তাহলে কি আপনি পাঠকের দিকে তাকিয়ে সেভাবে করে দিতেন?
এমন ব্যাপার ঘটেনি এখনও।
তবে,আলোকবান পাঠকের
পরামর্শকে অবশ্যই মান্যতা
দেব,যদি আমার বোধকে স্পর্শ
করে।
কেননা,কবির সকল অনুভব
কবির না-ও হতে পারে! কবি
অনেকের অনুভবকে আত্তীকরণ
বা আত্মীকরণ করতে জানেন।
তাই,কবি যখন কবিতা লিখেন,
বলা যায়,খানিকটা তো পাঠককেও লিখেন।
হুম
যদি আপনার বোধকে স্পর্শ করে
লিরিক্যাল কবিতা কী আপনার কাছে রক্ষণশীল কবিতা বলে মনে হয়?
ইতিহাসচেতনার ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে এলিয়ট একসময় বলেছিলেন--'a perception not only of the pastness of the past, but of it's presence'
আপনার কবিতায় অনেকসময় সেই চেতনা লক্ষ করেছি, আপনারও কী মনে হয় যে, ইতিহাস চেতনা কাব্যকে ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করে সমৃদ্ধ ও প্রাণবান করে?
লিরিক্যাল কবিতা
রক্ষণশীল বলে মনে হয় না।
তাছাড়া কবিতার ক্ষেত্রে
রক্ষণশীল শব্দটাও অর্থহীন
নয় কি?
হ্যাঁ,কবি তো ইতিহাসযানের
পান্থ। ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত এবং
প্রাণবান থাকা জরুরি। যদিও
সকল ঐতিহ্যই গ্রাহ্য নয়,
যে ঐতিহ্যে মানবমন-সমাজমনের একটা
চিরমূল্যের নিহিত পাতালছায়া
রয়েছে।
শুভবাদ।।
একটা লেখায় পেলাম লিরিক্যাল কবিতা নিয়ে এরকম ধরনের একটা কথা, তাই মনে হল। যদিও আমার কাছে কোনও কবিতাই পুরনো নয়, তবুও মনে হল পুরনো ধারা অর্থে হয়ত লেখক কথাটি ব্যবহার করে থাকবেন।
আপনি কি একটা চেতনাকে অতিক্রম করতে গিয়ে ইতিহাসচেতনা বা ঐতিহ্যের আশ্রয় নেন?
অখণ্ডচেতনা।
কিন্তু সময়জীবীমানুষ
বিচিত্র জীবনখণ্ডে
হেঁটে হেঁটে ক্লান্ত বা অক্লান্ত
প্রাণ এক! এটিই কবিতায়
আত্মানুসন্ধান। আমি তা'ই
দিশা থেকে দিশায়,অথচ
মৃত্যু একটা ইজ্জত,
জীবনই তাকে বেইজ্জত
করে বারবার।
হ্যাঁ, অখণ্ড চেতনা। কিন্ত ওই যে বললেন বিচিত্র জীবনখণ্ড, সেখানেই খণ্ড ভাবনা। খণ্ড খণ্ড নিয়েই অখণ্ড। হ্যাঁ, আত্মখোঁজ-আত্মখনন- আত্মানুসন্ধান-আত্মবিদ্রোহ- আত্মবিশ্লেষণ....আরও কিছু বলার ইচ্ছে ছিল অখণ্ড চৈতন্য নিয়ে, মনে এলে বলব।
আপনার এ পঙ্'ক্তিটি বড়ো ভালো লাগে--'মৃত্যু একটা ইজ্জত,
জীবনই তাকে বেইজ্জত করে বারবার।'
আপনি সৃষ্টিকর্মে কবিতাতেই নিজেকে অসীমভাবে সীমান্ত দিয়ে রাখেননি, অণুগল্প, প্রবন্ধেও নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন বা ছড়িয়ে দিয়েছেন, সেটা কী বহুমুখী সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা থেকে ? না পরীক্ষামূলক মনোস্বভাব থেকে প্রথম যাত্রা শুরু করেছিলেন?
না। পরীক্ষামূলক মনোস্বভাব
থেকে নয়। আমার এসব বিষয়ে
কিছু মনোমৈত্রী আছে। অর্থাৎ
আঁকতে পারি,বলতে পারি,
ভাবতে পারি এমন সব অভিজ্ঞতা। অখণ্ডের সন্ধিৎসু
হতে এই অভিজ্ঞতাগুলো সঙ্গী হয়, এইমাত্র।
অখণ্ড সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের যে কথাটি বলতে চেয়েছিলাম, পেলাম।
"আমাদের আত্মার মধ্যে অখণ্ড ঐক্যের আদর্শ আছে। আমরা
যা-কিছু জানি কোনো-না-কোনো ঐক্যসূত্রে জানি। কোনো জানা আপনাতেই একান্ত স্বতন্ত্র নয়।... আমাদের আত্মার মধ্যে জ্ঞানে ভাবে এই -যে একের বিহার, সেই এক যখন লীলাময় হয়, যখন সে সৃষ্টির দ্বারা আনন্দ পেতে চায়, সে তখন এককে বাহিরে সুপরিস্ফুট ক'রে তুলতে চায়। তখন বিষয়কে উপলক্ষ ক'রে উপাদানকে আশ্রয় ক'রে এক অখণ্ড এক ব্যক্ত হয়ে ওঠে।"
কেউ কবি বললে খুশি হন কবি?
কবি হিসেবে নিজেকে সেলিব্রেটি ভাবেন?
হ্যাঁ। কবি বললে তো সকল
কবিই খুশি হন। সুন্দর গুছিয়ে
কেউ কথা বললে আমরা
টিপ্পনী কাটি, 'কাব্যি' করছে!
কবি শব্দের একটা অর্থ তো
ঈশ্বর। সেই রবীন্দ্রকথিত
'অখণ্ডতা'। তাই শব্দটা বড়ো
ভারী। কঠিন। অথচ সত্য।
সেই সত্যে কি উপনীত হতে
পারি? এজন্য কবি হিসেবে
নিজেকে সেলিব্রেটি ভাবতে
বিনম্রতা আসে! কেউ কবি
বললে নিশ্চয়ই প্রীত হই,অন্তত
এই কথা ভেবে যে, যাই হোক
অমানুষ তো বলছে না! 😊
কেউ কেউ কবি বললে আমার খুব লজ্জা লাগে, আবার কেউ কেউ বললে খুশি হই।
কবিতা তো মুখস্থ নয়, মনস্থের ব্যাপার, তবু ছোটোবেলায় কিছু কবিতা আমাদের বেশ মুখস্থ ছিল, আপনার এমন কিছু মুখস্থ কবিতা থাকলে নাম বলুন কবি?
কবি তো কবিই, সেখানে পুরুষ কী আর মহিলা কী, কিন্ত তবু পুংলিঙ্গ-স্ত্রীলিঙ্গের অস্তিত্ব যখন রয়েছে, আপনার কী মনে হয় যে, কিছু কিছু মহিলা কবিদের পারিবারিক দিক থেকে না-হোক অন্তত বাইরের জগতে কিছুটা হলেও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়?
মুখস্থ আমারও ছিল।
এখন সেই স্মৃতিশক্তি নেই।
উল্লেখ্য কিছু পঙক্তি মনে
থাকে মাত্র।
হ্যাঁ,কবি তো কবিই। তবু
লিঙ্গভেদে জীবনানুভূতি
ভিন্ন ভিন্ন হতে বাধ্য। নারীর
অনুভব এবং পুরুষের অনুভব
অনেকক্ষেত্রেই ভিন্ন, অভিন্নতা
শুধু জীবনের সদর্থক বোধে।
কথালাপগুলি আপাতত
সংগ্রহে রেখে দিন। পরে না হয়
পেপারব্যাক একটা বই করে
নিতে পারবেন। বেশি পৃষ্ঠা তো
হবে না।
যে-সকল কবি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন না, লিরিকেই আটকে থাকেন, সমাজ ও শাসকের সান্নিধ্য হারাতে চান না, তাঁরা ব্যতিক্রমী কবিতা লিখতে পারেন না? এ বিষয়ে কী বলতে চাইবেন?
না, এরা ডগম্যাটিক।
ব্যতিক্রমী কবিতা যে
লিখতেই হবে,এমন নয়,
কথাটি হল, কবি নিজেকেই
অভিন্ন অন্বেষায় অতিক্রম
করে যাচ্ছেন কি না।
অনেকটা নিবাতনিকম্পদীপশিখাবৎ
প্রতিটি মুহূর্তে নতুন দিশালোকে
তীর্ণ হচ্ছেন কি না!
জীবনবিষয়ে তার বোধি
মণ্ডূকের কূপে নিরাশ্রয় হয়ে
উঠলে তো সমস্যা।
হ্যাঁ, কবি
ব্যতিক্রমী কবিতা লিখতেই হবে, এমন কোনও কথা নেই। এসব ধরনের কথা আমার কাছে কঠিন মনে না-হলেও জটিল মনে হয়।
কল্লোল যুগের প্রথমদিকে আধুনিকতার অর্থ ছিল বিরোধিতা। পরবর্তী সময়ে বলা হল-- রবীন্দ্রপ্রভাবমুক্ত সাহিত্য। দীর্ঘকাল আধুনিক কথাটিকে অরাবীন্দ্রিক সাহিত্যের ক্ষেত্রেই, বিশেষ করে কবিতার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে। আপনার কী মনে হয় আধুনিকতার অর্থই কী বিরোধিতা?
না। মোটেই তা নয়। বুদ্ধদেব
বসু তো বলেছিলেন,রবীন্দ্রনাথের পর
রবীন্দ্রনাথই আধুনিক।
আধুনিকতা প্রকৃতপক্ষে কোনো
মতবাদ নয়। বিশেষ বিশেষ
কালখণ্ডের দৃষ্টি এবং ভঙ্গি,
তার মধ্যে একটা চিরায়ত
ব্যাপার থাকে বলে, অতীতের
কিছু কবিকে একেবারেই
সাম্প্রতিক মনে হয় এবং এটি
না থাকার ফলে সাম্প্রতিক কিছু
কবিকে সেকেলে মনে হয়।
ঠিক 'আধুনিকতা প্রকৃতপক্ষে কোনো মতবাদ নয়।'
একটা বইয়ে যেভাবে পেলাম, সেভাবেই তুলে ধরছি, ষাট দশকের প্রতীকবাদী কবি অশোক চট্টোপাধ্যায় লিখে জানালেন----'তোমার ভাষা তোমার ভাবের বাহন নয়। তা তোমার ব্যবহারিক প্রয়োজন মেটানোর উপায়। প্রয়োজনের বাইরে অর্থাৎ সীমা ছাড়ালেই বাক্য হয়ে যায় ভাষা--- বিষয়ের ভাষা, ঘটনার বা অবস্থার ভাষা--- কবিতার ভাষা।'
আপনার অভিমত?
রবীন্দ্রনাথের কথারই
কালোপযোগী ব্যাখ্যান।
নতুন কথা নয় তো! এবং
সত্যি কথা। তথাকথিত
বাক্য উল্টো করে দেখলেই
কাব্য। প্রয়োজনের জগতে
গড়পড়তা মানুষ তো একই।
ভাব এবং প্রকাশের জগতেই
সে স্রষ্টা। স্বতন্ত্র। অন্য থেকে
ভিন্ন।
কোনও কবির কোনও পঙ্'ক্তি বা শব্দ নিয়ে, কিংবা কোনও কবিতা নিয়ে আপনার মনে কখনও কি প্রশ্ন জেগেছে?
শক্তি চট্টোপাধ্যায় একসময় বলেছিলেন 'এত কবি কেন?'
কী বলতে চাইবেন?
না। তেমন কোনো প্রশ্ন জাগেনি।
তবে লেখালেখির গোড়াসময়ে
শক্তির এই লেখাটি আনন্দবাজারে পড়েছিলাম,
তখন ততোটা বুঝিনি। এখন
বুঝেছি,তিনি অসংগত কিছু
বলেননি। শক্তি প্রকৃতই কবি
ছিলেন। কিন্তু বলতেন,সুনীলই
বড়োকবি। সুনীল কিছু
এলেবেলে পদ্য বিশেষ করে
মেয়েদের,দেশে ছাপিয়ে দিতেন।
শক্তি ছন্দটা ভালো বুঝতেন,
তরুণদের বলতেন,আগে
সেক্সপিয়ারের একটা সনেট
অনুবাদ করে নিয়ে এস, তারপর
পদ্য লিখো। কাজেই সেই প্রেক্ষিতে বলেছিলেন "এত কবি
কেন" অর্থাৎ এত অকবি কেন!
আপনি কখনও সনেট লিখেছেন কবি?
হ্যাঁ,লিখেছি। পড়ুয়াজীবনে
খুব মাইকেলভক্ত ছিলাম।
সেভেন-এইটে পড়ার সময়ই
৮+৬,১৪ মাত্রায় সনেট লিখতাম,
অবশ্য প্রচুর মাইকেলপ্রভাব
থাকত। আমার প্রথম ছাপা
কবিতাই একটি সনেট। কলকাতার সাহিত্যরূপা ম্যাগাজিনে প্রকাশ পেয়েছিল।
পরে অবশ্য আধুনিক কবিতা
দু'একটা লিখেছি। সনেটের
আঙ্গিকে। মজার কথা,
আমার ভাগ্নের ছেলের নাম
রেখেছি "সনেট"।
পুরো সংকলনখানা কালের
গর্ভে চলে গেছে। অনেক
বছর আগেকার তো! তবে
প্রথম প্রকাশিত কবিতা বলে
পেজটি এখনও সংগ্রহে আছে।
জননী নামক সনেট। তখন
নাম লিখতাম মিলনকুমার দত্ত।
এখন পড়তে ও দেখাতে লজ্জা
হয়।
(৪)রবীন্দ্রপ্রেমে আমারও কিছু লেখা ছিল, অনেক লেখা জল নিয়ে গেছে, বাঁচাতে পারিনি।
যতদূর জেনেছি, মধুসূদন লঘু কথ্যরীতিকে সাহিত্যবাহন হবার যোগ্য বলে মনে করতেন না। সংস্কৃত ভাষা থেকে শব্দ আমদানি এবং সংস্কৃতের উদাত্ত গম্ভীর ধ্বনিসঙ্গীত সঞ্চার না করলে বাংলাভাষা কখনও ধনী হবে না, এরকম একটা ধারণা তাঁর ছিল। আপনার কী মনে হয়?
কথাটি মাইকেলের কাব্যের ক্ষেত্রে সত্য। কেননা বিষয়
অনুসারে ভাষা হয় তো!
অন্নদামঙ্গলের ভাষায় তো
মেঘনাদ বধকাব্য লেখা
যায় না। আবার লক্ষ্য করবেন,
মাইকেল যখন, একেই কি বলে
সভ্যতা এবং বুড়ো শালিকের
ঘাড়ে রোঁ, এই দুটো প্রহসনে
সংলাপে লঘু কথ্যরীতি ব্যবহার
করেছেন।
হ্যাঁ, কাব্যের কথাই বলতে চেয়েছিলাম। সংস্কৃত ভাষার প্রতি মধুসূদনের বেশ দুর্বলতা ছিল, আলালী ভাষাকে জেলেদের ভাষা মনে করতেন বলে জেনেছি।
খ্রিষ্টান ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসার জন্য নয়, কিংবা হিন্দুধর্মের প্রতি বিদ্বেষের জন্যও নয়, শুধু বিলেত যাবার জন্য আর মহাকবি হওয়ার সুযোগলাভের জন্য ধর্মান্তরগ্রহণ, সত্যিই মধুসূদনের এ ধরনের যশোপ্রীতি-খ্যাতিপ্রীতি অবাক লাগে অনেকসময়, তাই না কবি? পারিবারিক কিছু চাপও ছিল, তবুও পড়তে পড়তে অনেককিছু ভাবি।
ভারতচন্দ্র সম্পর্কে মধুসূদনের ভাব অনুকূল ছিল না, তবুও তাঁর কাব্যের শিল্পসৌন্দর্য এবং ধ্বনিগৌরব মধুসূদনকে কোথাও কোথাও আকৃষ্ট করেছে।
ঠিক। মাইকেলের মধ্যে
অঘটনঘটনপটিয়সী প্রতিভা
ছিল, সকল প্রতিভারই চূড়ান্ত
রকম একটা বিশ্বাস থাকে,এঁরা
গতানুগতিকতা ভাঙার জন্য
আসেন,তাই তাঁদের কবিযশোপ্রার্থনা থাকে,মাইকেলেরও ছিল।
মাইকেল খ্রিস্টধর্মের পুরাণ
থেকে হেকটর বধ গদ্যে লিখেছেন,কিন্তু অধিক
লিখেছেন হিন্দুপুরাণ থেকে।
তাঁর সমাধিলিপিতেও "শ্রীমধুসূদন" পরিচিতি ছিল।
কবিতার জন্যই তাঁর ধর্মান্তর।
তা না হলে পাশ্চাত্যকাব্যসাহিত্যের সঙ্গে
পরিচিতি হত না। ভারতচন্দ্র
ক্লাসিকস্তরের কবি নন। কিন্তু
শ্রীমন্তের টোপর ইত্যাদি সনেটে
মঙ্গলকাব্যের ঐতিহ্যকে সশ্রদ্ধ
স্মরণ করেছেন।
ঠিক বলেছেন কবি
মধুসূদন বাল্মীকির কাহিনি গ্রহণ করেছেন, কোথাও কৃত্তিবাসকে অনুসরণ করেছেন। আবার একটা লেখায় দেখেছি তিনি মাঝেমাঝে বিহার প্রদেশের আরা জেলায় যেতেন, উর্দুতে 'চাহার দরবেশ' অধ্যয়ন করতেন, অমিত্রাক্ষর ছন্দ রচনায় তারই প্রভাব, অথচ দেখুন ব্যতিক্রমী উপস্থাপনায় মহাকাব্য রচিত হয়ে গেল। বাংলা কাব্যসাহিত্যে প্রথম আধুনিক। প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস ছিল তাঁর। মেঘনাদবধ কাব্য সম্পর্কে বন্ধু রাজনারায়ণ বসুকে একদিন নিজেই বলেছিলেন--' My dear Raj, this will surely make me immortal'
অনেকে বলেন মধুসূদন আত্মশ্লাঘা দোষে দূষিত, যেমন জয়দেব বলেছিলেন--'মধুর কোমল কান্ত পদাবলীং
শৃণু তদা জয়দেব সরস্বতীং।।'
আপনার কী মনে হয়?
মধুসূদনের প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস ছিল নিজের কাব্য সম্পর্কে।
জয়দেবের বৈষ্ণবব্যক্তিত্ব,
মাইকেলের য়ুরোপীয় রেনেসাঁ-
প্রভাবিত মানবতাবাদ,তাই
তাঁর অস্মিতাবোধ ছিল
স্বভাবজ।
মাইকেলের এই অস্মিতা যেন
তাঁকে মানায়। যা বিবেকানন্দে
ছিল,রবীন্দ্রনাথেও ছিল।
ঠিক বলেছেন কবি
এ যেন মাইকেলের আলাদা একটা সৌন্দর্য, তাঁকে মানায়।
কবিতার আক্ষরিক অনুবাদ আর ভাবানুবাদ নিয়ে কিছু বলুন?
( আগে বলেছেন কিনা মনে পড়ছে না, বলে থাকলে ছেড়ে দেবেন, আপনার স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত প্রখর তাই বলছি )
অনুবাদ মানে ভাষান্তরকরণ।
পেছনে কথা বলাকেও অনুবাদ
বলা হয়। আক্ষরিক অনুবাদ ও
ভাবানুবাদ। দুই রকম অনুবাদ।
গদ্য আক্ষরিক অনুবাদ হয়তো
সম্ভব। কিন্তু কবিতার সেরকম
আক্ষরিক অনুবাদ করা যায় কি? মূল কবিতার ছন্দ-ধ্বনিমধুরতা প্রকাশ করা
যায় না বলেই অনেক কবিতার
ভাবানুবাদ হয়। বা সারানুবাদ।
কাশীদাসী মহাভারত, কৃত্তিবাসী
রামায়ণ তো ভাবানুবাদই।
রবীন্দ্রনাথ নিজের কবিতা
"সং অফারিংস্" ভাবানুবাদ করেছেন। জীবনানন্দ বনলতা সেন ভাবানুবাদ করেছেন।
বাংলার মতো ইংরেজিতে সেই
ব্যঞ্জনা আসেনি। অথবা
সুধীন্দ্রনাথ সেক্সপিয়ারের
সনেট,মালার্মে, হাইনের কবিতা
অনুবাদ করেছেন,কিন্তু সেগুলি
হয়ে উঠেছে স্বকীয় সৃষ্টি। তবে,
তবু অনুবাদের জন্যই আমরা
বাঙালিরা বোদলেয়ার,নাজিম
হিকমতের কবিতা পড়তে পেরেছি। এটি কম কথা নয়।
মজার বিষয়ও আছে,রবীন্দ্রনাথ
লিখেছিলেন "দা চাইল্ড" ইংরেজি
কবিতা। বাংলায় নিজেই অনুবাদ
করেছেন, "শিশুতীর্থ"। এটি হয়ে
উঠেছে স্বয়ংপূর্ণ একটা কবিতা।
আবু সয়িদ আইয়ুব বলেছেন,
কবির শ্রেষ্ঠ গদ্যকবিতা। এই
মন্তব্য মেনে নিই।
ত্রিপুরার উল্লেখ্য কবিতাও
অনুবাদ প্রয়োজন। এতে
দেশ-বিদেশে রাজ্যের কবিতা-
বিষয়ে পরিচিতিপ্রসার বাড়বে।
ঠিক আছে একটু বিরতি নিয়ে
আবার কথালাপ হবে।
শুভবাদ।
"সং অফারিংস"-- এর কথায় নোবেল নিয়ে লেখক হিরণকুমার সান্যালের একটি কথা মনে পড়ল--'বিদেশীরা এই সম্মান দিয়েছে আমাদের রবীন্দ্রনাথকে নয়, তাদের মনগড়া রবীন্দ্রনাথকে। হয়তো সেই রবীন্দ্রনাথ সামগ্রিক রবীন্দ্রনাথেরই একটা অংশ। এমনকি মূল্যবান অংশ। কিন্ত অত্যন্ত আংশিক বলেই তা সম্পূর্ণ সত্য নয়।'
আর একটি কথা বলতে ইচ্ছে করছে। শরৎচন্দ্রের কিছু গ্রন্থ এন্ডারসন অনুবাদ করবেন এরকম কথা হচ্ছিল একদিন, তখন লেখক সরোজরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় শরৎচন্দ্রকে বললেন--'আপনার 'অরক্ষণীয়া'-র যদি ইংরেজী অনুবাদ হয়, তাহা হইলে 'পোড়া কাঠে'-র রূপ ও গোবর ঘাঁটার গন্ধেই ইংরেজ পাঠক গ্রন্থ ছাড়িয়া পালাইবেন।'
হ্যাঁ, আপনি ঠিক বলেছেন।
অনুবাদের কাছে আমাদের না-গিয়ে উপায় নেই। ভাবের সর্বজনীন ব্যাপার সকলকেই কোনো না কোনোভাবে আকৃষ্ট করে।
হিরণ সান্যালের মন্তব্যে বলি,
রবীন্দ্রনাথের দেশবাসীই কি
রবীন্দ্রনাথকে সামগ্রিকভাবে
সম্মান দিয়েছে?
"রবীন্দ্রনাথকে চুরি করে ইদানীং
আমরাই পদক!"
ঠিক বলেছেন কবি
বিপিনচন্দ্র পাল একসময় ইংরেজি একটা প্রবন্ধে মন্তব্য করেছিলেন যে, 'রবীন্দ্রনাথ যতদিন Hallmark of European approbation পাননি ততদিন দেশের লোক পুরোপুরি তাঁকে গ্রহণ করেনি।'
কিন্ত তারপরও রবীন্দ্রনাথ অনেকের কাছেই আদর পাননি।
গত বছর শেষ করলাম গোবিন্দ
হয়তো দু-একটা কথা বাদ যেতে পারে
পরে মিলিয়ে নেব
৫)
এজরা পাউন্ড একসময় বলেছিলেন, কবিতাকেও গদ্যের মতো সুলিখিত হতে হবে, অর্থাৎ কবিতার মধ্যে ভালো গদ্যের গুণাবলী থাকা প্রয়োজন, এলিয়ট যাকে বলেছেন--' virtues of good prose'
কিছু বলুন?
হ্যাঁ,এলিয়টও এরকম বলেছেন।
অর্থাৎ কবিতা শুধু আবেগের
উচ্চারণ বলে ছেড়ে দিলে হবে
না। শক্তি তো কবিতা সংস্কারেও
বিশ্বাস করতেন না,যা একটানা
এসে পড়েছে, তা'ই খাঁটি। হয়তো
কথাটি অসত্য নয়। তবু, নির্মাণের একটা ব্যাপার আছে তো! "গদ্যের মতো সুলিখিত"
মানে সংহত, এলিয়ে পড়া
ভাষাকে নিয়ন্ত্রণ, কম কথা,
শব্দের মেদবর্জন ইত্যাদি
বিষয়। এটা মানি,তাই
সুধীন্দ্রনাথ আমার প্রিয় হয়ে
উঠেন। রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দে
বিষয়টা নেই। বড়ো উচ্ছ্বসিত,
আলুথালু ভাষা যেন, অবশ্যই
সবক্ষেত্রে নয়,তবে অনেকক্ষেত্রে
এখন তুমি পাঠিও না গোবিন্দ
আমার গণ্ডগোল হয়ে যাবে
আমি যখনই সময় পাব যতগুলো পারি পাঠাব
দশ- বারো দিনেই হয়ে যাবে
আমারও তাই মনে হল, এটাই বলতে চেয়েছেন। শক্তি চট্টোপাধ্যায় তো বলেছিলেন--'সুধীন বাবুর কাজ ছিল ভাস্করের কাজ--- একেবারে কবিতা লিখতে বসে যেন ছেনী-বাটালি নিয়ে বসতেন। কম কথায় কাজ করেছেন বাঁধুনি শক্ত করে। কবিত্ব ছিল কিন্ত excess ছিল না।'
নজরুলেও আছে
ঠিক।
আপনি সেদিন মালার্মের কথা বলেছিলেন। সুধীন্দ্রনাথে তাঁর প্রভাব খুব বেশি জানতে পারলাম, অথচ মালার্মে নাকি তথাকথিত বাস্তবকে কোনোদিন স্বীকার করেননি, প্লেটনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বাস্তবকে দেখেছেন। কী মনে হয় আপনার?
এটি হয়। কবির কাছে
বাস্তবতা অন্যরকম
অনুভূতির জিনিশ।
এক-একজনের একেকরকম
ভাবনা। বস্তুজগৎ এক। কিন্তু
ভাবনার জগতে অজস্র বিশ্ব।
বিষ্ণু দে-র লেখায় এলিয়টের প্রভাব খুব বেশি। তাঁর কবিতাকে সম্ভবত রবীন্দ্রনাথ একসময় দুর্বোধ্য বলেছিলেন। অনেকেই বলেন, তাঁর অনেক লেখায় বৈদগ্ধ্যের বাহুল্য এত বেশি যে, তিনি কাব্যকে সেভাবে সংহতি দিতে পারেননি। তাঁর কোনও কোনও কবিতা তাই--' a rag-bag to stuff all its thought in'
আপনার কী মনে হয় কবি?
হ্যাঁ। বৈদগ্ধ্যের বহুলতা আছে।
বিষ্ণু দে যামিনী রায়ের চিত্রকলার অনুরাগী ছিলেন।
যামিনী রায়ের ছবিকলা নিয়ে
লিখেছেনও। তার একটা কাব্যের প্রচ্ছদ যামিনী রায়ের
আঁকা। কিন্তু বিষ্ণু দে' আলোচনা
ছিল আর্টের ফর্মভিত্তিক। যামিনী-চিত্রের লোকায়ত দিক
খুব একটা স্পর্শ করেননি। হয়তো এদিকটা স্পর্শ করলে
তার কাব্যকবিতা এতোটা
এলিট হত না। অথচ তিনি
গণকবি হতেও চেয়েছিলেন!
সৃজনজগতে প্রভাব ব্যাপারটি
জলচল আছে। কিন্তু নকল
চলে না। প্রভাব মানে ভাব থেকে
ভাব। কিন্তু আঙ্গিক থেকে
আঙ্গিক নয়। ফর্ম দিয়ে কনটেন্টকে নতুন করে নিতে হয়। এ ভাবেই তো চলছে কাব্যের সংসার।
হ্যাঁ, অসামান্য বৈদগ্ধ্য ছিল তাঁর। প্রকরণের ওপর ঝোঁক ছিল বেশি।
তিরিশের কাব্যযুগটিই ছিল
বিদগ্ধতার। কাব্যনিয়তি হয়তো
এটা চাইছিলেন। রাবীন্দ্রিক-
আবেগতারল্য থেকে বাংলাকাব্যকে মুক্ত করতে
বিষ্ণু-অমিয়-বুদ্ধ-সুধীন্দ্র-
জীবনানন্দ এই পথেই হেঁটেছেন।
তাছাড়া আরেকটি বিষয়,
নিখিলকাব্যে দুটি নিয়তপ্রবাহ
সমান্তরাল বহমান। ক্লাসিক এবং
রোমান্টিক। কখনো ধ্রুপদীস্তরে
উঠে যায় অর্থাৎ লোকোত্তরে,
কখনো নেমে আসে লোকায়তে
অর্থাৎ রোমান্টিসিজমে।
কবির যাপিত জীবনবোধিও
এ বিষয়ে একটা ফ্যাক্টর!
ঠিক বলেছেন কবি-- 'কাব্যনিয়তি হয়তো এটা চাইছিলেন।'
বিষ্ণু দে কিন্ত প্রথম থেকেই অন্যান্য কবিদের মতো মানে তাঁদের সময়ের কথা বলছি, রবীন্দ্র অনুসরণ করেননি, কিন্ত তারপরে দেখা গেল 'টপ্পা-ঠুংরি' কবিতায় 'ওরে বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর', 'হে বিরাট নদী' ইত্যাদি কিছু রবীন্দ্র উচ্চারণ ব্যবহার করেছেন অন্যরকম অনুষঙ্গে।
তারপর দেখুন, চল্লিশের দশকে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের 'বধূ' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের 'মানসী' কাব্যগ্রন্থের 'বধূ' কবিতার মতোই।
আপনার কথায় সে-ই 'প্রভাব মানে ভাব থেকে ভাব।'
ঠিক তাই। তবে তিরিশের
কবিদের একটা উল্লেখ্য গুণ
হল,তারা রবীন্দ্রনাথকে স্বীকার
করে অস্বীকার করেছেন। কালাপাহাড়ি আক্রমণ করেননি।
কেননা,রবীন্দ্রনাথ তো ঐতিহ্য,
সেই ঐতিহ্যের মান্যতা নিয়েই
নতুন পথের সন্ধানী হয়েছেন।
হ্যাঁ, খুব ঐতিহ্য সচেতন ছিলেন তারা।
তবে জানলাম বিষ্ণু দে-র ঐতিহ্য সচেতনতা নাকি ছিল অন্যান্যদের থেকে কিছুটা ভিন্ন।
মাইকেলের কথা ভাবুন, তিনি তো হোমার, ভার্জিল, দান্তে, মিল্টন, পেত্রার্কের আশ্রয় নিয়েছিলেন।
হ্যাঁ। ভিন্ন। তার ঐতিহ্যবোধ
দেশকালাতীত। তাই তিনি
কাব্যের প্রকরণে বিচিত্রপথগামী।
হ্যাঁ, বিষ্ণু দে-র ঐতিহ্য কোনও বিশেষ দেশ-কালে সীমাবদ্ধ ছিল না।
আপনি যখন তুলেছেন ক্লাসিক ও রোমান্টিক দুটো প্রবাহের কথা, কাল যতটুকু পারি বলব কবি।:
মোহিতলালের ভাষায়---- "ক্লাসিক্যাল লেখা রোমান্টিক হইয়া উঠিতে বেশিক্ষণ লাগে না, রোমান্টিক লেখার মধ্যে ক্লাসিক্যাল লক্ষণ একেবারে অবিদ্যমান নাই।"
কী বলতে চাইবেন কবি?
অর্থাৎ ক্লাসিক্যালই রোমান্টিক
হয়,রোমান্টিকও ক্লাসিক্যাল
হয়। ক্লাসিকের বাংলা করেছিলেন সুধীন্দ্রনাথ,
ক্লাসিক যেন চিরকেলে।
রোমান্টিক খেয়ালি,সমকালী।
তবে এ বিষয় খুব অল্পসংখ্যক
কবির ক্ষেত্রেই ঘটে।
হ্যাঁ, সুধীন্দ্রনাথের "ধ্রুপদী"
সুধীন্দ্রনাথ রোমান্টিকবিরোধী ছিলেন, অথচ ক্লাসিক আদর্শও তিনি সেভাবে মানতে পারেননি, যতটা জানলাম।
সত্যিই রোমান্টিক যেন বাঁধনহারা একেবারে উন্মুক্ত চিন্তা, হৃদয় যা চাইবে তা-ই যেন, কোনও অনুশাসন নেই
হ্যাঁ, 'ক্লাসিক যেন চিরকেলে।'
ঠিক সব কবিদের ক্ষেত্রে এরকম ঘটে না। তবে অনেক কবিদের ক্ষেত্রেই উভয়ের চিহ্ন ফুটে ওঠে, আসলে উভয়ের উৎস তো সে-ই মানুষের হৃদয়।
একটা সময়ে রোমান্টিক কবিরা প্রেমের যে অতীন্দ্রিয় আদর্শ স্থাপন করেছিলেন, পরবর্তী সময়ে আধুনিক কবিরা এসে সে-ই প্রেমের মূলে দেখলেন লিবিডো, আপনার কী মনে হয় এর পেছনে ফ্রয়েডের মনস্তত্ত্বের অবদান রয়েছে?
হ্যাঁ। ফ্রয়েডীয় প্রভাব আছে।
যদিও কথাটি অনেকটা যান্ত্রিক।
জীবনের মৃৎমূলে পৌঁছেও
এ বিষয় অধিগত করেছেন
অনেক কবি। এতটা ফ্রয়েড
না জেনেও, জৈবিক জীবনকে
ভালোবেসে। যেমন গল্পে
জগদীশ গুপ্ত। কবিতায়
গোবিন্দচন্দ্র দাস। কামনার
কালীদহে কেলি করেছেন!
ঠিক ঠিক 'ফ্রয়েড না জেনেও জৈবিক জীবনকে ভালোবেসে।'
একটি অন্যরকম ব্যক্তিগত প্রশ্ন,
আপনি উত্তর না-দিলেও জোর করব না।
আপনার অবিবাহিত থাকার পেছনে কী কবিতার কোনও সম্পর্ক আছে?
না। বন্ধনে জড়াতে চাইনি,
এটিই কারণ। কেননা আমি
খুব বিষয়বুদ্ধিহীন মানুষ।
"তুমি যতো ভার
দিয়াছ সে ভার
করিয়া দিয়াছ সোজা,
আমি যতো ভার
জমিয়ে তুলেছি
সকলই হয়েছে বোঝা।
এ বোঝা আমার
নামাও প্রভু নামাও..."
ঈশ্বর শুনেছেন আমার আকুতি,
তাই বোঝা বাড়াইনি। 😊
র্যাঁবো, বোদলেয়ার, ভালেরি, মালার্মে, লাফর্গ তাঁদের অনেকেই কাব্যের সংগীতধর্মের উপর জোর দিয়েছিলেন। ভেরলেন 'Art poetique' নামক কবিতায় ঘোষণা করেছিলেন---"De la musique avant toute chose", অর্থাৎ সবার উপর সংগীত সত্য।
অনেক ইংরেজ রোমান্টিক কবিরা কাব্যকে বস্তুজগত থেকে বিচ্ছিন্ন করে কাব্যে সংগীতধর্মকেই আশ্রয় করেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল--" we are the music makers, we are the dreamers of dreams."
কাব্যসংগীত বা সংগীতকাব্য নিয়ে কিছু বলুন?
আমি যে তাঁদের সবাইকে পড়েছি তা কিন্ত নয়, টুকরো-টুকরো, খুচরো-খুচরো পড়া থেকেই জানা।
সংগীত শ্রেষ্ঠ নিঃসন্দেহে।
সংগীতই বিশুদ্ধ ধ্বনিশিল্প।
সংগীতের মধ্যে আবার
যন্ত্রসংগীত। রবীন্দ্রনাথও
বলেছেন, বাক্য যেখানে শেষ,
সেখানেই সংগীতের শুরু।
বাণী উল্টোলেই বীণা। কিন্তু
কবিতা ঠিক সে অর্থে
বিশুদ্ধ ধ্বনিশিল্প হয়ে উঠেনি।
কবিতা হচ্ছে শব্দগুণ,অর্থগুণ,
চিত্রগুণ এবং ধ্বনিগুণের
সমবায়। এরকমই আমি মনে
করি।
রবীন্দ্রনাথের অনেক কাব্যে সংগীত, চিত্র ও ভাবের অসামান্য সমন্বয় লক্ষ করা যায়।
এটাই কবিতার নির্দিষ্ট ফর্ম। সে
সংগীত হয়ে উঠতে চাইলে
কবিতা আর থাকবে। কবিতা
এই অব্দিই যেতে পারে।
এটা কবিতার অক্ষমতা নয়।
কবিতার স্বক্ষেত্রের কথা।
বিশুদ্ধশিল্প হয়ে ওঠার দায়
তার নেই।
সত্যিই, সবার একটা স্বক্ষেত্র রয়েছে।
আপনাকে যদি বলা হয় কবিতার জন্য একদিন না-খেয়ে একটা ঘরে দরজা বন্ধ করে শুধু কবিতাকে নিয়েই থাকুন, পারবেন কবি? হঠাৎ মনে হল তাই😄
আপনার ভালোলাগার কবিতাগুলো কোনও কবির কণ্ঠে সারাদিন বসে-বসে শুনতে পারবেন?😄
হ্যাঁ। পারব। তবে আমার ভালো
লাগা কবিতাগুলো কোনও
কবির কণ্ঠে শুনব না। নিজের
কবিতাগুলো নিজেই মনে মনে
পড়ব। নিজের কবিতাগুলো
পড়লে সেগুলোর ইতিহাস,
কোথা থেকে চিত্রকল্প এল,
কার কথা থেকে এল, এসব
ইতিহাস কবি ছাড়া তো আর
কেউ বলতে পারবে না?
তখন অন্যরকম আস্বাদন হয়।
না-খেয়ে আমি থাকতে পারব না একদম, আমি কখনও উপোস থাকিনি। সকাল এগারোটা বা বারোটা পর্যন্ত পারব, আর দরজা বন্ধ করে থাকতে পারব তবে জানালা খোলা থাকতে হবে😄
আমি পারি। শারীরিক শ্রম
কম করি। তাই খিদে পায়
না। তবে ধর্মীয় কোনো
উপবাসের অভিজ্ঞতা নেই।
হ্যাঁ, আমি শুনতে পারব, তবে শুয়ে-বসে, আড্ডার সঙ্গে😄
অন্তত দেড়-দুদিন শুধু জল
অথবা ফলটল খেয়ে পারি।
আমি কিছু না কিছু খেয়েই পুজো দিই
ভালো। সমর্থনযোগ্য।
ধরুন, একই দিনে একই সময়ে আপনার একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়র বিয়ে, যেখানে না-গেলে আত্মীয়রা কষ্ট পাবেন, আবার কবিসম্মেলন যেখানে আপনার একটা বিশেষ ভূমিকা নির্দিষ্ট করা আছে, সেখানে অনেকক্ষণ থাকতে হবে, যেখানে না-গেলে আপনি কষ্ট পাবেন, কোথায় যাবেন তখন?😄
এ সমস্যায় কোত্থাও যাব না!:
কবিতার জন্য আপনার প্রিয় কী ত্যাগ করতে পারেন?
কবিতা-চিত্র-গান-নাটক
ইত্যাদি চর্চা এবং চর্যায়
আনন্দ পাওয়া যায়,ঠিক,
কিন্তু জীবন তো এ সব কিছুরই
চেয়ে মহৎ। মানিকের গল্পচরিত্র
কুমুদ বলেছিল,ঠিকমতো
বাঁচতেই জানি না, কবিতা লিখব? আসলে বেঁচে থাকার
সঙ্গে যদি শিল্পচর্চার আনন্দ
মিলে যায়,সেক্ষেত্রে স্বর্ণে
সোহাগা। কিন্তু মিলে কি?
মিলে না। এই বিয়োগান্তক
যাপনে জীবনের চেয়ে প্রিয়
আর কী থাকতে পারে বলুন?
তা তো ত্যাগ করা যায় না!
বিষ্ণু দে বলেছিলেন, "বাঁচাই
কবিতা"!
ঠিক কবি
কবিতাই জীবন বা জীবনই কবিতা হলেও অনেকসময় জীবন ও কবিতা মেলে না।
কবিতার জন্য আমি প্রিয় কবিতাকেই ত্যাগ করতে পারি।
কবিতাকে নিয়ে কারও সঙ্গে ঝগড়া করেছেন কবি কখনও?😄
হ্যাঁ। তা কিছু কিছু ক্ষেত্রে
হয়েছে বই কি! কেননা
আমি মার্ক্সিস্ট বা হাংরি এসব
কিছু নই। তবে মতমালিন্য
মনমালিন্যে পৌঁছোয়নি। এই
যা!
কবি নকুল রায়ের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল দুবার, তাঁর হয়তো মনে নেই। তবে বেশিদূর এগোতে পারেনি, আমি অবোধ বলেই হয়তো তিনিই চুপ করে গিয়েছিলেন, আমিও ঝগড়ায় তেমন পারদর্শী নই, নিজের মত নিয়ে নিজেই নিঃশব্দ থেকে যাই অনেকসময়। আর একজন কবি একদিন বলেছিলেন-- আমার লেখা touch করে না, সে-ই কবির সঙ্গে অনেকবছর আগে মনে-মনে খুব ঝগড়া করেছিলাম 😄
Swapna Nath:
আপনাকে যদি বলা হয় -- আবার যদি পৃথিবীতে আসেন, কবি হিসেবেই আসতে চান?
প্রথম বা দ্বিতীয় বই বিষয়ে
কবির একটা মমতা থাকে।
এই বইটি একেবারেই যদি
আপনার কপি না থাকে,তবে
আমাকে দেওয়া কপিটি নিতে
পারেন। আমি তো পড়েছি।
অবশ্য,কবি হিসেবেই আসতে
চাইব।
এখানে শুধু শেষ লাইনটা টাইপ হবে গোবিন্দ
আমারও খুব ইচ্ছে পরজন্মে যেন কবি হয়েই আসি। এ-জন্মে কিছুই করা হল না।
সেদিন কাব্যসংগীত নিয়ে আরও কিছু বলার ছিল। "গীতাঞ্জলি" কী পুরোপুরি কাব্য মনে হয় আপনার? রবীন্দ্রনাথ গানকেও ধরতেন কাব্য হিসেবে। হিরণকুমার সান্যালের লেখাতেই পেয়েছি রবীন্দ্রনাথের এ-কথাটি---"আমার গান আমার ছোট গল্প আর ছবি এ তিনের মধ্যেই আমি বেঁচে থাকব।"
কবিতার কথা তিনি বলেননি। কিছু বলুন কবি?
সুরারোপ করার আগে গান তো
কবিতাই। রবীন্দ্রনাথের গান
কথাপ্রধান। "গীতবিতান" ভূমিকায় কবি বলেছিলেন
"...সুরের সহযোগিতা না পেলেও,পাঠকেরা গীতিকাব্যরূপে এই গানগুলির
অনুসরণ করতে পারবেন।"
সম্ভবত সেই সাহসেই সুনীল
গাঙ্গুলি, আবু সয়িদ আইয়ুব
গীতবিতানকেই রবীন্দ্রনাথের
শ্রেষ্ঠ কবিতার বই বলেছিলেন।
কবি বলেছিলেন,প্রাচ্যকে দিলাম
আমার গান আর পাশ্চাত্যকে
দিলাম আমার ছবি। কবি
কবিতার কথা আলাদা করে
বলেননি, এজন্য যে,তাঁর গান
তো গীতিকবিতাই। তাই অনেক
কবিতাকে তিনি গানে পরিণত
করেছেন,যেমন দুই পাখি,কৃষ্ণকলি, ভারততীর্থ
ইত্যাদি।
কেউ কেউ মনে করতেন বা এখনও করেন যে, রবীন্দ্রসঙ্গীতের পরিণতি ঘটেছিল রবীন্দ্রকাব্যের বেশ কিছু আগে, আপনার মতামত?
আমার মনে হয়,কবিতা এবং
গান সমান্তরাল সৃজন করে
গেছেন,কবি। যদিও বলেছেন,
গানের ভেতর দিয়ে ভুবন চেনার
পথ তিনি পেয়েছেন। বলেছেন,
গান রচনা করতে গিয়ে যতটা
আনন্দ পেয়েছেন,অন্য সৃজনে
ততটা পাননি। এবং তবু,
"পরিণতি" কথাটা আমার কাছে
স্পষ্ট নয়!
আসলে কথাটা পরিণত অর্থাৎ matured রূপ। আপনার কথা আমিও মানি। কবি না-হলে সংগীতের জন্ম হত কীভাবে!
(৬)
রবীন্দ্র পরবর্তী আধুনিক কবিদের মধ্যে কবি অমিয় চক্রবর্তীর মতো আর কোনও কবি বিজ্ঞানের ভাবনা দ্বারা এতটা প্রভাবিত হননি, আবার রবীন্দ্রনাথের মিষ্টিক চেতনা বা আধ্যাত্মিক প্রবণতাও তাঁর মধ্যে ছিল। একটা কবিতা আমি একসময় খুব মনে রেখেছিলাম, এ-মুহূর্তে সেভাবে মনে পড়ছে না, সম্ভবত এরকম একটা লাইন সেখানে ছিল-- "মেলাবেন তিনি মেলাবেন
পোড়ো বাড়ির ভাঙা দরজাটা তিনি মেলাবেন।"
কিছু বলুন কবি?
অমিয় চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথের
সচিব ছিলেন। রবীন্দ্রনাথকে
সর্বদা আন্তর্জাতিক কাব্যসাহিত্য
বিষয়ে খবরাখবরও দিতেন।
অথচ আশ্চর্য, তিনি রবীন্দ্রপ্রভাববিমুক্ত। অমিয়
হপকিন্সের স্প্রাং রিদম দ্বারা
প্রভাবিত ছিলেন। যে কবিতাপদের উল্লেখ করেছেন,
তা বাংলাকবিতায় চিরস্থায়ী
অনন্য একটি উচ্চারণ।
রিলকের দ্বারাও প্রভাবিত ছিলেন খানিকটা। মূলত তিনি
মিস্টিকধারার কবি। আমার
ব্যক্তিগত ভালো লাগা কবিতা
তাঁর "চেতনস্যাঁকরা"!
হ্যাঁ, পড়েছি।
হপকিন্স আর স্টীভেন্সের সঙ্গে মিল থাকলেও কবিধর্মে রিলকের সমগোত্রীয়।
"চেতনস্যাকরা" পড়েছি।
যতদূর জেনেছি অমিয় চক্রবর্তীর মিষ্টিক চেতনা বা এক ধ্যানগম্ভীর প্রশান্তির আড়ালে ছিল এক দ্বন্দ্বজর্জর মানস। রবীন্দ্রনাথের সচিব ছিলেন, এটা জানতাম না।
বিষ্ণু দে-র কাব্যেও বিজ্ঞানের পরিভাষা রয়েছে, তবে যন্ত্রের চিত্রকল্প তিনিই ব্যবহার করেছেন।
"অন্ধকারে উঠে দেখি হাত-ঘড়ি
হাতে নয়, খোলা আকাশে।
রেডিয়ম জ্বালা সময়
দপ দপ করছে শূন্য জুড়ি
চক্রে চক্রে কাঁটায় চলছে নেচে
কালের ডায়ালে, ঘূর্ণনায়।
সুইস মেক নয়, শব্দ নেই
সেকেণ্ড মিনিটের অনুপ্রাসে।"
ভালো লেগেছে।
সুভাষ মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে এরকম বলা হয় যে, বামপন্থী আন্দোলনের প্রচারকে কীকরে সাহিত্যিক রূপ দেওয়া যায় সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের 'পদাতিক' তারই উদাহরণ, সমর সেন সম্পর্কেও এরকম ধারণ রয়েছে কারও কারও। বলা হয়, এই দুই কবিই বিষয়বস্তুর দিক থেকে একদেশদর্শী। আপনার কী মনে হয় কবি?
সমর এবং সুভাষ একদেশদর্শী।
সহমত। সমর সেন বাবুকমিউনিস্ট। অনেক
বিপ্লবিয়ানা করে মাঝপথে
চুপ মেরে যান! সুভাষ মুখোপাধ্যায় শ্রদ্ধেয়, এ কারণে
যে,তিনি তাঁর ভাবনার সীমাবদ্ধতা বুঝতে পেরেছিলেন
এবং 'হে কমরেড কথা কও'
নামে বইও লিখেছিলেন।
সুভাষের অনুবাদের জন্যই
বাঙালি কবিতাপাঠক নাজিম
হিকমত,পাবলো নেরুদা,লোরকা, মায়াকোভস্কির
সঙ্গে পরিচিতি লাভ করতে
পেরেছে।
সমর সেন-কে নাগরিক কবি, শহুরে কবি বলেছেন অনেকেই দেখলাম।
তবে আমার মনে হয়-- এগুলো খণ্ড সত্য। জীবনানন্দ-কে যখন 'নির্জন' কবি, 'সিম্বলিক' বা 'সুররিয়ালিস্ট' এসব বলা হত, তখন কবির নিজের বক্তব্য ছিল এমন --"এরা প্রায় সবই আংশিকভাবে সত্য, কোনো কোনো কবিতা বা কাব্যের কোনো অধ্যায় সম্পর্কে--- সমগ্র কাব্যের ব্যাখ্যা হিসেবে নয়।"
এইসব অভিধা কবির মূল
প্রবণতাকে বুঝতে সাহায্য
করে মাত্র।
সুকান্ত সম্পর্কে বলা হয়, শিল্পে ধ্যানস্থ হওয়ার সুযোগ পাননি সুকান্ত, তার আগেই চলে গেলেন। সুকান্ত-র ভাবপ্রবণতা কোথাও কোথাও কাব্যরসে রূপান্তরিত হতে পারেনি। সোজাসুজি বলা, ঘোষণার মতো করে বলা, এসব বিষয় নিয়ে ভাবার সুযোগ পাননি তিনি, কী বলতে চাইবেন কবি?
হ্যাঁ। কথাটি ঠিক। বিশেষত
ছাড়পত্রের কবিতাগুলি সম্পর্কে
তা বলা যায়। যদিও এই কাব্যের
কবিতাগুলিই অধিক জনপ্রিয়।
তবে আমার মনে হয়েছে,
"পূর্বাভাস" কাব্যেই একান্ত কবি
সুকান্তকে পাওয়া যায়। আর কী
আশ্চর্য, সুধীন্দ্রনাথের মতো
একজন জটিল শব্দন্যাসের
কবির প্রভাব বেশ টের পাওয়া
যায়। সুকান্তপ্রেমী গবেষকরা
কেন যে বলেন না কথাগুলি,
ভেবে অবাক হই।
দেখুন, "সহসা" কবিতার শেষ
স্তবকে সুকান্ত কী লিখেছেন__
"সন্ধ্যাবেলা, আজ সন্ধ্যাবেলা
নিষ্ঠুর তমিস্রা ঘনাল কী!
মরণ পশ্চাতে বুঝি ছিল
সহসা উদার চোখাচোখি।।"
অথবা
"স্মারক" কবিতার ১ম স্তবকটি
পড়ুন__
"আজ রাতে যদি শ্রাবণের মেঘ
হঠাৎ ফিরিয়া যায়
তবুও পড়িবে মনে,
চঞ্চল হাওয়া যদি ফেরে কভু
হৃদয়ের আঙিনায়
রজনীগন্ধা বনে,
তবুও পড়িবে মনে।"
আহা!
হ্যাঁ, "পূর্বাভাস" পড়েছি
অনেকদিন আগে আমি ফেসবুকে রোমান্টিক সুকান্ত-কে নিয়ে দু-চারটে কথা লিখেছিলাম।
আপনি যে দুটো কবিতার কথা বললেন আমার খুব ভালোলাগার কবিতা। ঠিক বলেছেন, অনেক কবি, সমালোচকেরা এসব লেখা এড়িয়ে যান। সুকান্ত-র সোজা-সরল, তপ্ত আবেগের লেখাগুলোরও একটা অন্যরকম আবেদন রয়েছে।
সম্ভবত "রাখাল ছেলে" নামে একটি গীতি নাটিকার লেখা, যেখানে রাখাল ছেলে বনের হরিণীকে ডেকে বলছে--"ওগো বনহরিণী---
আমি তো পাশে এসে বসতে তোমায়
নিষেধ করিনি "
এখনও মনে আছে।
হ্যাঁ। ঠিক।
কত মূল্যায়ন যে বাকি,
আর কতকিছু অসমাপিকা।
[30/11, 10:41] Swapna Nath: রবীন্দ্র পরবর্তী আধুনিক কবিদের মধ্যে কবি অমিয় চক্রবর্তীর মতো আর কোনও কবি বিজ্ঞানের ভাবনা দ্বারা এতটা প্রভাবিত হননি, আবার রবীন্দ্রনাথের মিষ্টিক চেতনা বা আধ্যাত্মিক প্রবণতাও তাঁর মধ্যে ছিল। একটা কবিতা আমি একসময় খুব মনে রেখেছিলাম, এ-মুহূর্তে সেভাবে মনে পড়ছে না, সম্ভবত এরকম একটা লাইন সেখানে ছিল-- "মেলাবেন তিনি মেলাবেন
পোড়ো বাড়ির ভাঙা দরজাটা তিনি মেলাবেন।"
কিছু বলুন কবি?
[30/11, 10:43] Swapna Nath: অমিয় চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথের
সচিব ছিলেন। রবীন্দ্রনাথকে
সর্বদা আন্তর্জাতিক কাব্যসাহিত্য
বিষয়ে খবরাখবরও দিতেন।
অথচ আশ্চর্য, তিনি রবীন্দ্রপ্রভাববিমুক্ত। অমিয়
হপকিন্সের স্প্রাং রিদম দ্বারা
প্রভাবিত ছিলেন। যে কবিতাপদের উল্লেখ করেছেন,
তা বাংলাকবিতায় চিরস্থায়ী
অনন্য একটি উচ্চারণ।
রিলকের দ্বারাও প্রভাবিত ছিলেন খানিকটা। মূলত তিনি
মিস্টিকধারার কবি। আমার
ব্যক্তিগত ভালো লাগা কবিতা
তাঁর "চেতনস্যাঁকরা"!
[30/11, 10:44] Swapna Nath: হ্যাঁ, পড়েছি।
হপকিন্স আর স্টীভেন্সের সঙ্গে মিল থাকলেও কবিধর্মে রিলকের সমগোত্রীয়।
"চেতনস্যাকরা" পড়েছি।
যতদূর জেনেছি অমিয় চক্রবর্তীর মিষ্টিক চেতনা বা এক ধ্যানগম্ভীর প্রশান্তির আড়ালে ছিল এক দ্বন্দ্বজর্জর মানস। রবীন্দ্রনাথের সচিব ছিলেন, এটা জানতাম না।
বিষ্ণু দে-র কাব্যেও বিজ্ঞানের পরিভাষা রয়েছে, তবে যন্ত্রের চিত্রকল্প তিনিই ব্যবহার করেছেন।
"অন্ধকারে উঠে দেখি হাত-ঘড়ি
হাতে নয়, খোলা আকাশে।
রেডিয়ম জ্বালা সময়
দপ দপ করছে শূন্য জুড়ি
চক্রে চক্রে কাঁটায় চলছে নেচে
কালের ডায়ালে, ঘূর্ণনায়।
সুইস মেক নয়, শব্দ নেই
সেকেণ্ড মিনিটের অনুপ্রাসে।"
ভালো লেগেছে।
[30/11, 10:46] Swapna Nath: সুভাষ মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে এরকম বলা হয় যে, বামপন্থী আন্দোলনের প্রচারকে কীকরে সাহিত্যিক রূপ দেওয়া যায় সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের 'পদাতিক' তারই উদাহরণ, সমর সেন সম্পর্কেও এরকম ধারণ রয়েছে কারও কারও। বলা হয়, এই দুই কবিই বিষয়বস্তুর দিক থেকে একদেশদর্শী। আপনার কী মনে হয় কবি?
[30/11, 10:47] Swapna Nath: সমর এবং সুভাষ একদেশদর্শী।
সহমত। সমর সেন বাবুকমিউনিস্ট। অনেক
বিপ্লবিয়ানা করে মাঝপথে
চুপ মেরে যান! সুভাষ মুখোপাধ্যায় শ্রদ্ধেয়, এ কারণে
যে,তিনি তাঁর ভাবনার সীমাবদ্ধতা বুঝতে পেরেছিলেন
এবং 'হে কমরেড কথা কও'
নামে বইও লিখেছিলেন।
সুভাষের অনুবাদের জন্যই
বাঙালি কবিতাপাঠক নাজিম
হিকমত,পাবলো নেরুদা,লোরকা, মায়াকোভস্কির
সঙ্গে পরিচিতি লাভ করতে
পেরেছে।
[30/11, 10:49] Swapna Nath: সমর সেন-কে নাগরিক কবি, শহুরে কবি বলেছেন অনেকেই দেখলাম।
তবে আমার মনে হয়-- এগুলো খণ্ড সত্য। জীবনানন্দ-কে যখন 'নির্জন' কবি, 'সিম্বলিক' বা 'সুররিয়ালিস্ট' এসব বলা হত, তখন কবির নিজের বক্তব্য ছিল এমন --"এরা প্রায় সবই আংশিকভাবে সত্য, কোনো কোনো কবিতা বা কাব্যের কোনো অধ্যায় সম্পর্কে--- সমগ্র কাব্যের ব্যাখ্যা হিসেবে নয়।"
[30/11, 10:50] Swapna Nath: এইসব অভিধা কবির মূল
প্রবণতাকে বুঝতে সাহায্য
করে মাত্র।
[30/11, 10:53] Swapna Nath: সুকান্ত সম্পর্কে বলা হয়, শিল্পে ধ্যানস্থ হওয়ার সুযোগ পাননি সুকান্ত, তার আগেই চলে গেলেন। সুকান্ত-র ভাবপ্রবণতা কোথাও কোথাও কাব্যরসে রূপান্তরিত হতে পারেনি। সোজাসুজি বলা, ঘোষণার মতো করে বলা, এসব বিষয় নিয়ে ভাবার সুযোগ পাননি তিনি, কী বলতে চাইবেন কবি?
[30/11, 10:54] Swapna Nath: হ্যাঁ। কথাটি ঠিক। বিশেষত
ছাড়পত্রের কবিতাগুলি সম্পর্কে
তা বলা যায়। যদিও এই কাব্যের
কবিতাগুলিই অধিক জনপ্রিয়।
তবে আমার মনে হয়েছে,
"পূর্বাভাস" কাব্যেই একান্ত কবি
সুকান্তকে পাওয়া যায়। আর কী
আশ্চর্য, সুধীন্দ্রনাথের মতো
একজন জটিল শব্দন্যাসের
কবির প্রভাব বেশ টের পাওয়া
যায়। সুকান্তপ্রেমী গবেষকরা
কেন যে বলেন না কথাগুলি,
ভেবে অবাক হই।
দেখুন, "সহসা" কবিতার শেষ
স্তবকে সুকান্ত কী লিখেছেন__
"সন্ধ্যাবেলা, আজ সন্ধ্যাবেলা
নিষ্ঠুর তমিস্রা ঘনাল কী!
মরণ পশ্চাতে বুঝি ছিল
সহসা উদার চোখাচোখি।।"
অথবা
"স্মারক" কবিতার ১ম স্তবকটি
পড়ুন__
"আজ রাতে যদি শ্রাবণের মেঘ
হঠাৎ ফিরিয়া যায়
তবুও পড়িবে মনে,
চঞ্চল হাওয়া যদি ফেরে কভু
হৃদয়ের আঙিনায়
রজনীগন্ধা বনে,
তবুও পড়িবে মনে।"
আহা!
[30/11, 10:56] Swapna Nath: হ্যাঁ, "পূর্বাভাস" পড়েছি
অনেকদিন আগে আমি ফেসবুকে রোমান্টিক সুকান্ত-কে নিয়ে দু-চারটে কথা লিখেছিলাম।
আপনি যে দুটো কবিতার কথা বললেন আমার খুব ভালোলাগার কবিতা। ঠিক বলেছেন, অনেক কবি, সমালোচকেরা এসব লেখা এড়িয়ে যান। সুকান্ত-র সোজা-সরল, তপ্ত আবেগের লেখাগুলোরও একটা অন্যরকম আবেদন রয়েছে।
[30/11, 10:57] Swapna Nath: সম্ভবত "রাখাল ছেলে" নামে একটি গীতি নাটিকার লেখা, যেখানে রাখাল ছেলে বনের হরিণীকে ডেকে বলছে--"ওগো বনহরিণী---
আমি তো পাশে এসে বসতে তোমায়
নিষেধ করিনি "
এখনও মনে আছে।
[30/11, 10:58] Swapna Nath: হ্যাঁ। ঠিক।
কত মূল্যায়ন যে বাকি,
আর কতকিছু অসমাপিকা।
[30/11, 11:02] Swapna Nath: ঠিক ঠিক
[30/11, 12:06] Swapna Nath: এখানে এখন পাঠিও না প্লিজ গোবিন্দ
[30/11, 12:07] Swapna Nath: আমি কোথা থেকে আবার পাঠাব-- এটা দেখতে অসুবিধে হয়
[30/11, 12:08] Swapna Nath: এত তাড়াতাড়ি কীভাবে যে করছ তুমি!!
[30/11, 19:09] Swapna Nath: 'কবিতার কোনো মূর্তি বা প্রতিমা হয় না, তা বিমূর্ত, নিরাকার।' কিছুদিন আগে একটা সাক্ষাৎকারে কবি সেলিম মুস্তাফাও বলেছিলেন--' 'কবিতা প্রতিমা নয়----'
এ বিষয়ে আপনার মতামত?
[30/11, 19:10] Swapna Nath: কবিতাও প্রতিমা। ভাবের
প্রতিম। কবিতা মূলত ভাবমূর্তি।
সীমার দ্বারা অসীমকে অনুভব
করার অধরা মাধুরী!
বিমূর্ত নিরাকার বলে কোনো
শিল্প হয় না। "আত্মসংস্কৃতির্বাব
শিল্পানি" আত্মাকে সংস্কৃত করার
নামই শিল্প। শিল্পী আত্মাকে
ধরতে চান,পরশ পেতে চান,
তার সঙ্গে কথা বলতে চান,
এই চাওয়াতেই তার আনন্দরস।
আমি তা'ই মনে করি।
[30/11, 19:11] Swapna Nath: যেভাবে পিকাসো বলেছিলেন,
এবস্ট্রাকট আর্ট বলে কিছু
হয় না। বিমূর্ত নিরাকারকে
ধরতে গেলে কবিকেও বিমূর্ত
নিরাকার হতে হয়। কবি কি
আদৌ তা চান? কবির কাজ
তো চোখ বন্ধ করে ধ্যান নয়?
বরং চোখ খোলা রেখে ধ্যান।
[30/11, 19:13] Swapna Nath: আমিও তা-ই বিশ্বাস করি। ভাব প্রতিমা, এখন যিনি যেভাবে গড়ে তোলেন। মূর্তির শিল্পীকে তাঁর ভাবের রূপকে একটা স্পষ্ট আকারে বা একটা সীমার মধ্যে বেঁধে দিতে হয়, সেখানে রহস্যসৃষ্টির সেরকম সুযোগ নেই বলে অসীমের ব্যঞ্জনা থাকে না। আর যাঁর কাছে আকারের কোনও দায় নেই, তিনি সীমা ছাড়িয়ে অসীমে পৌঁছুতে পারেন। একজন শিল্পী তো, এবার তিনি কবি হোন বা চিত্রশিল্পী একটা জিনিসকে দুভাবেই দেখতে পারেন, এক চোখের দেখায়, দুই মনের দেখায়। তবে তার মানে এই নয় যে, ধ্যান মানেই চোখ বন্ধ করার বিষয়।
"আত্মসংস্কৃতির্বাব শিল্পানি"--তে আমিও বিশ্বাসী।
[30/11, 19:14] Swapna Nath: চোখের দেখা ছাড়া
মনের দেখা সম্পূর্ণ হতে
পারে না। আসলে, মনের
দেখা, চোখের দেখারই
সাবলিমেশন। অর্থাৎ
রিয়ালিস্টিকই স্যুররিয়ালিস্টিক
হয়।
[30/11, 19:16] Swapna Nath: কী জানি!
অনেককিছু ভেবে কুলকিনারা পাই না।
চোখে না-দেখেও মনে মনে অনেককিছু দেখি। হ্যাঁ, অনেক ক্ষেত্রে রিয়েলিস্টিকই সুরলিয়েলিস্টিক হয়, আবার কোথাও দেখি হয় না।
আসলে অনেককিছু বলেও শান্তি পাই না। মনে হয় কী যেন রয়ে গেল!
[30/11, 19:17] Swapna Nath: আসলে নিরাকার ব্যাপারটা কী?
আকারের যখন আকার থাকে না,তখনই নিরাকার! বিশুদ্ধ
নির্গুণ নিরাকার তো মানুষ
ধারণা করতে পারে না। নিরাকার বোঝার আগে
আকারের সংস্কারই তাকে
বুঝতে সাহায্য করে। কেননা
মানুষের মন তো নিরাকার নয়,
সে আকারযুক্ত। বিজ্ঞান বলে,
মনও বস্তু, মন কণাময়।
[30/11, 19:19] Swapna Nath: ভাবছি
[30/11, 19:21] Swapna Nath: সেলিম কমার্সের মানুষ।
আমি দর্শনের ছাত্র। তাই
বোধহয় এমন জটিল করে
ভাবি। 🙃
[30/11, 19:23] Swapna Nath: সবার ভাবনার জগৎ এক হবে তা তো নয়
[30/11, 19:24] Swapna Nath: নিশ্চয়ই। আমরা একই বস্তুবিশ্বে
বাস করছি। কিন্তু ভাববিশ্ব
অসংখ্য। একই ব্যক্তির মধ্যে
যেমন সত্য, সমষ্টির মধ্যেও
সত্য। আর এখানেই শিল্পের
আনন্দ। শিল্পীর একটা ভাববিশ্ব
যদি রসগ্রাহীর ভাববিশ্বের সাথে
মিলে যায়, তবেই স্বস্তি।
[30/11, 19:25] Swapna Nath: প্রতি বছর বইমেলা এলে বা বইমেলা ছাড়াও বহু কবিতার বই বেরোচ্ছে, এ-নিয়ে অনেকেই খুব অসন্তোষ প্রকাশ করেন, আপনি খুশি হন?
[30/11, 19:26] Swapna Nath: না,আমিও খুশি নই।
[30/11, 19:29] Swapna Nath: কবিতার প্রতি এরকম অনুরাগ আমার খারাপ লাগে না। মনে হয় কবিতার আকাঙ্ক্ষাই তো, মন্দ কিছু তো নয়।
তবে মাঝেমাঝে কবিতার মঙ্গল-অমঙ্গলের কথা ভেবে বিচলিত যে হইনি তা নয়, তখন আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের একটা লেখা আমাকে বড়ো সান্ত্বনা দেয়।
হাতের কাছে পেয়েছি বলে তুলে ধরছি।
"যখন বান আসে তখন অনেক আবর্জনাও তাহাতে ভাসাইয়া আনে সত্য, কিন্ত সেই আবর্জনারাশি তটিনীর উভয় তটেই জমিয়া জমিয়া ক্রমে মাটিতে পরিণত হয়। তদ্রূপ বর্তমান সময়ে অবশ্য বঙ্গভাষার এই নবীন বন্যায় অনেক আবর্জনাও আসিতেছে, অনেক অপাঠ্য-কুপাঠ্য গ্রন্থ বা প্রবন্ধাদি বিরচিত হইতেছে সত্য, কিন্ত সেগুলি কদাচ দীর্ঘকাল স্থায়ী হইতে পারিবে না। যাহা উত্তম, সৎ, যাহা নির্মল, নিষ্পাপ, তাহাই থাকিয়া যায়, অন্য সমস্ত কালের অতলগর্ভে অচিরেই বিলয়প্রাপ্ত হয়। সুতরাং ঐ সকল অপাঠ্য-কুপাঠ্য বিষয়ের জন্য বঙ্গভাষার হিতৈষীবৃন্দের তত চিন্তার কারণ নাই।"
তবে পুরস্কার-সংবর্ধনা, আলো-মঞ্চ-- এসব ব্যাপারে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি বিরক্ত করে ঠিক।
[30/11, 19:31] Swapna Nath: সৃষ্টিজগতটাই দ্বন্দ্বাত্মক।
সেজন্য শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছেন,
সকল সমাসের মধ্যে আমিই
দ্বন্দ্বসমাস। অর্থাৎ যে সমাসে
দুই'কে সমান স্বীকৃতি দেয়।
দার্শনিক হেগেলের ভাষায়
ডায়ালেকটিকস্! কাজেই
ভালো লেখার তুল্যমূল্যের জন্য
অদক্ষ লেখারও সহাবস্থান
থাকবে। চিরকালই ছিল,থাকবে।
আশুতোষ ঠিকই বলেছেন।
[30/11, 19:32] Swapna Nath: ঠিক ঠিক
এসব ব্যাপার নিত্যসঙ্গী।
[30/11, 19:33] Swapna Nath: এমনকি,একজন কবিলেখকের
মধ্যেও ভালোলেখা-মন্দলেখার
সহস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ভালো
কম। অভালোই অধিক। এই
অধিকন্তুই ভালোকে তৃপ্তি দেয়।
[30/11, 19:36] Swapna Nath: আশুতোষ অনেক লিখেছেন,
কিন্তু সবগুলোই কি
"কাল তুমি আলেয়া" হয়েছে?
তবু লিখেছেন। লিখে যেতে হবে।
[30/11, 19:37] Swapna Nath: এটাই ঠিক
যতক্ষণ কলম চলে লিখে যেতে হয়
[30/11, 19:39] Swapna Nath: হ্যাঁ। নকুল রায় গৌহাটির
একটা কাগজে আমার
কবিতা বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা
করেছেন। ভালো লিখেছেন।
আজ ডাকে কাগজটা এল।
[30/11, 19:40] Swapna Nath: খুব ভালো খবর
পাঠাবেন কবি, পড়ব
[30/11, 19:42] Swapna Nath: এ পর্যন্ত কোন কোন কবির বাড়িতে গিয়ে কবিতার আড্ডা দিয়েছেন কবি?
[30/11, 19:44] Swapna Nath: কবিদের মধ্যে যাঁরা বেশি কথা বলেন ( কবিতায় নয়) এমনিতে, তাঁদের ভালো লাগে না যাঁরা সংক্ষিপ্ত তাঁদের ভালো লাগে?
[30/11, 19:45] Swapna Nath: অনেকের বাড়িতেই তো গেছি।
কার নাম বলব!
এক এক কবির মনোমুদ্রা
এক এক রকম। আমিও তো
একরকম। ভালো লাগে
সকলের সান্নিধ্য। সমৃদ্ধ হই।
আপনার বাড়িতে বা গোবিন্দ
ধর,বিশ্বজিৎ, প্রবুদ্ধ, জ্যোতির্ময়
রায়,সেলিম,পীযূষ রাউত,
সন্তোষ রায়,দিলীপকান্তি লস্কর
অনেকের ভদ্রাসনেই গেছি।
[30/11, 19:47] Swapna Nath: ঠিক
মনোভূমি সবার সমান নয়
আমারও বেশি শুনতেও খারাপ লাগে না, কম শুনতেও ভালো লাগে
[30/11, 19:49] Swapna Nath: আমি কবি নকুল রায়, রামেশ্বর ভট্টাচার্য, কৃত্তিবাস চক্রবর্তী, দিলীপ দাস, প্রবুদ্ধ সুন্দর কর, আলপনা দেবনাথ, কল্যাণ গুপ্ত, মানস পাল, আরও দু-চারজন কবির বাড়িতে গেছি, নাম মনে পড়ছে না এখন।
[30/11, 19:50] Swapna Nath: অনেক দূর থেকে যদি কবি সম্মেলনে যাওয়ার আমন্ত্রণ আসে আপনার এবং প্লেনে বা ট্রেনে যাওয়ার টিকিট কেটে দিতে চান উদ্যোক্তারা, তখন আপনি কীভাবে যেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন?
[30/11, 19:53] Swapna Nath: সুস্থ থাকুন আপনি
[30/11, 19:54] Swapna Nath: অনেক কবিদের কবিতার হাতেখড়ি প্রেমের কবিতা দিয়েই মানে নারী-পুরুষের প্রেমের কথা বলছি, আপনারও কি সে-রকম ?
[30/11, 19:56] Swapna Nath: বায়না দিয়ে কবিতা হয় না-- এ বিষয়ে আপনার মতামত?
[30/11, 19:57] Swapna Nath: এটা ঠিক। ফরমায়েশি কবিতা
হয় না।
[30/11, 20:00] Swapna Nath: অনেকে তো বিষয়ভিত্তিক কবিতার প্রতিও বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন, যেমন আমি টাকা-পয়সা নিয়ে নৈবেদ্য করেছিলাম যখন অনেক কথা শুনতে হয়েছিল। আপনি কী বলতে চাইবেন?
[30/11, 20:01] Swapna Nath: একজন কবির কাছে একটি কবিতার জন্মই সবচাইতে বড়ো ঘটনা, আপনি কি সহমত পোষণ করেন?
[30/11, 20:05] Swapna Nath: সাময়িকীতে এরকম বিষয়
বেঁধে দেওয়া হয়। এটা রীতি
আছে। সেই বিষয় লেখকের
রুচির সঙ্গে মিলে গেলে সেই
লেখা হয়তো ভালোও হয়ে
যায়। হ্যাঁ,কবির কাছে একটা
কবিতার জন্মই তো বড়ো
ঘটনা। সন্দেহ নেই। আসলে
কবিরই পুনর্জন্ম হয়।
[30/11, 20:08] Swapna Nath: ঠিক বলেছেন কবি
আমি পরীক্ষামূলকভাবে করেছি, তবে দেখেছি যাঁদের প্রতিভা আছে, মেধাবী , তাঁরা বিষয় বেঁধে দিলেও লিখতে পারেন।
দু-তিনটে লিটল ম্যাগাজিন থেকে বিষয় বেঁধে আমাকে বলা হয়েছিল লিখতে, আমি ভেবেও লিখতে পারিনি, আর একবার একটা লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়ে যাওয়ার পরে লেখাটা এসেছিল😄
[30/11, 20:09] Swapna Nath: হ্যাঁ, প্রতিটি কবিতার জন্মই আমার কাছে কবির জন্মদিন মনে হয়।
[30/11, 20:10] Swapna Nath: ঠিক। আমিও একটা কবিতায়
বলেছিলাম,যেদিন কবিতা লিখি
সেদিনই আমার জন্মদিন। অবশ্য এটি কবিরই অনুভব।
[30/11, 20:18] Swapna Nath: আপনার সামনে যদি দুজন কবি খুব ঝগড়া করতে থাকেন, আপনি কি তাঁদের থামানোর চেষ্টা করবেন না উপভোগ করবেন না চুপচাপ চলে যাবেন? এটার উত্তর মনে হয় দেওয়া যায়😄
[30/11, 20:20] Swapna Nath: দুজন কবি ঝগড়া করলে
উপভোগ করব। কেননা, কবির
ঝগড়া। আলুপটল নিয়ে নিশ্চয়
নয়। উপভোগ করব। বেসুরো
হলে চুপ থাকব। আমাকে নাক
গলাতে বললে বিনম্র মুখ গলাব।
নকুলদার রাগ এক্ষেত্রে ঠিক।
[30/11, 20:21] Swapna Nath: একবার একটা কবিসম্মেলনে বসার চেয়ার না পেয়ে নকুলদা খুব রাগ করেছিলেন, উদ্যোক্তাদের বকতে শুরু করলেন, কী মেজাজ! ভুলিনি।
[30/11, 20:23] Swapna Nath: আমিও ঝগড়া শুনব, তবে দুজনেই উগ্র হয়ে গেলে বিনম্র অনুরোধ রাখব, তবে কেন জানি মনে হয় সব কবিদের ক্ষেত্রে অনুরোধ করতে পারব না, শ্রোতা হওয়া ছাড়া উপায় নেই। ধরুন আপনি আর রামেশ্বরদা ঝগড়া করছেন, আমি চুপচাপ শুনব😄
[30/11, 20:25] Swapna Nath: 'কেউ কেউ ভাবেন ভাষার ইতিহাসই কবিতার ইতিহাস, অপরাপর কেউ কেউ ভাবেন ফর্ম -এর ইতিহাসই কবিতার ইতিহাস। অতি সাহসীরা দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে বাইনারি শর্তদুটোর মিলন ঘটান।' কিছু বলুন?
[30/11, 20:26] Swapna Nath: ভাষাটা ফর্মের মধ্যেই।
ভাষা এবং ফর্ম,তারপরও
একটা বিষয় আছে কবির
ব্যক্তিবোধি। এসব নিয়েই
কবিতার কথা। 'ইতিহাস'
শব্দটা সচেত এড়িয়ে গেলাম।
[30/11, 20:27] Swapna Nath: মানলাম 'ভাষাটা ফর্মের মধ্যেই'
তবে কবির ব্যক্তিবোধি কি কোথাও না কোথাও ভাষা আর ফর্মকে চালিত করছে না?
[30/11, 20:28] Swapna Nath: করছে। এজন্যই ব্যক্তিবোধির
কথা বললাম।
[30/11, 20:31] Swapna Nath: বারীন ঘোষালের একটা লেখায় পেলাম, প্রমথ চৌধুরী লিখেছিলেন--- পাঠক দুইরকম, একদল বর্ণপরিচয়ের গোপালের মতো, অন্যদল রাখালের মতো। কেউ যা পায় তা-ই পড়, আর অন্যরা কিছুই পড়ে না। মুশকিল হল গোপালদের নিয়ে। এইসব পাঠকের ভালোলাগা মন্দলাগার ওপর লেখকের বাণিজ্যিক উত্থান-পতন নির্ভরশীল। এদের কোনও কৃতজ্ঞতাবোধ না থাকায় প্রিয় লেখকরা দ্রুত পালটে যান। গোপালদের খুশি করা যাদের কাজ তারা শিল্পী নন। কিছু বলুন?
[30/11, 20:32] Swapna Nath: অন্যরা যারা কিছুই পড়ে না,
তারা পাঠক হল কী রকম?
চৌধুরীমশাই জানেন! আমরা
জানি না। লেখক তো বাণিজ্যিক
সফলতা চান। চান না? তাদের
জন্য না হয় গোপালরা থাকুন।
স্বয়ং রবিঠাকুরও নিজের বইয়ের হিসেবনিকেশটা,অর্থাৎ
ম্যানেজমেন্ট ভালোই বুঝতেন!
প্রিয় লেখকরা পাল্টাবেন কেন?
বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় লেখক
হলে তিনি শিল্পী নন, অসফল
শিল্পীই লেখক,বোধহয় বড্ড
সরলীকৃত হয়ে গেল ব্যাপারটা!
[30/11, 20:34] Swapna Nath: আসলে লেখাটায় ইনভার্টেড কমা ছিল না, মনে হচ্ছে বারীন ঘোষালের কিছু মন্তব্যও এখানে জড়িত। যাই হোক, আমিও ভাবছিলাম। তবে সব কবি-লেখকই যে বাণিজ্যিক সফলতা চান, তা আমার মনে হয় না।
[30/11, 20:36] Swapna Nath: এমন অনেক শিল্পীও তো আছেন যাঁরা নিজের শিল্পেই নিজে বুঁদ হয়ে থাকেন, চারপাশের ব্যাপার নিয়ে তাঁদের কোনও মাথা ঘামানো নেই, বাণিজ্যিক বিষয় তো অনেক দূরের কথা, তাঁদের কথাও ভাবি।
'বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় লেখক হলে তিনি শিল্পী নন'-- এটা মানা যায় না।
[30/11, 20:39] Swapna Nath: জনপ্রিয় বা বাণিজ্যিকভাবে
সফল হওয়াও একটা প্রতিভার
বিষয়। এটাও শিল্পের মধ্যেই
পড়ে। হ্যাঁ,সব কবি-লেখকই
অবশ্য বাণিজ্যিক সফলতা
চান না,সত্যিকথা। তাছাড়া
আরও একটা কথা,জীবন কিন্তু
শিল্পের চেয়েও মহৎ।
[30/11, 20:40] Swapna Nath: 'জনপ্রিয় বা বাণিজ্যিকভাবে সফল হওয়াও একটা প্রতিভার বিষয়'
আপনার এ-কথাটি কি সব প্রতিভাধারী কবি-লেখকদের জন্য ঠিক? তাহলে যাঁদের প্রতিভা আছে , ভালো লিখছেন সবাই কেন বাণিজ্যিক সফলতা বা জনপ্রিয়তা পান না? এমন কি কেউ কেউ নেই?
[01/12, 09:17] Swapna Nath: হয়তো সফলতা বা জনপ্রিয়তা
লাভের প্রতিভা নেই বলে। এটি
অন্য এক রকমের রসায়ন।
যা সুনীল ভালো বুঝতেন।
সমরেশ বুঝতেন।
[01/12, 09:19] Swapna Nath: এটা কী প্রতিভা না ভাগ্য?
কী জানি!
[01/12, 09:20] Swapna Nath: আমিও জানি না। সাহিত্যে
এই খেলা আছে। চলবে।
[01/12, 09:22] Swapna Nath: ঠিক ঠিক
[01/12, 09:23] Swapna Nath: সিনেমা, গান, নাটকের মতো কবিতারও তো রিমেক বা রিমিক্স হচ্ছে, কিছু বলুন?
[01/12, 09:24] Swapna Nath: এমন তো চোখে পড়েনি।
[01/12, 09:26] Swapna Nath: কবিতায় বিনির্মাণের কথা আপনিই একদিন বলেছিলেন, সেটা কি কিছুটা রিমেক নয়?
[01/12, 09:27] Swapna Nath: খ্যাতির মোহে বা প্রাতিষ্ঠানিক দাক্ষিণ্যের মোহে কোনও কোনও কবির মধ্যে রিমেকের প্রবণতা দেখা যায় বলে শুনেছি।
[01/12, 09:30] Swapna Nath: অবশ্যই। কোনো কোনো কবি
এমন চাইছেন। সুবোধ সরকার
কবিতার শরীর থেকে সমস্ত
অলঙ্কার খুলে নিতে চেয়েছিলেন। পেরেছেন কি?
প্রতিকবিতার কবিরা এমন
চান। কিছু কিছু কবিতায়
আমারও এরকম ব্যাপার আসে।
বিনির্মাণ স্বাগত। ঠিক রিমেক
বলতে চাই না। গানের মতো
রিমেক কবিতায় হয় না।
বিষয়টাই বাহ্যিক। হ্যাঁ,প্রাতিষ্ঠানিক দাক্ষিণ্যের জন্য
অনেকে তা করতে পারেন!
[01/12, 09:40] Swapna Nath: জানলাম রবীন্দ্রনাথের "পুনশ্চ" আধুনিক কবিদের মনকে বিশেষভাবে নাড়া দিয়েছিল। সুধীন্দ্রনাথ " ছন্দোমুক্তি ও রবীন্দ্রনাথ" নামে একটি বিস্তৃত প্রবন্ধ লিখলেন, যেখানে তিনি এই নব্যরীতির ভূয়সী প্রশংসা করে আধুনিক কবিদের সাবধান করে দিলেন, 'তপস্যা-কঠিন রবীন্দ্রনাথের পক্ষে যেটা মোক্ষ, আমাদের ক্ষেত্রে তা হয়তো সর্বনাশের সূত্রপাত।' কেন বললেন সুধীন্দ্রনাথ একথা? কী মনে হয় আপনার? যেখানে তাঁরা নিজেরাই তো উৎসাহিত হয়েছিলেন এই ভেবে যে, তাঁদের প্রভাব রবীন্দ্রনাথের ওপর পড়তে শুরু করেছে।
[01/12, 09:41] Swapna Nath: পদ্যরীতি থেকে গদ্যরীতিতে
কবিতার উত্তরণ খুব অনায়াসসাধ্য ব্যাপার নয়,রবীন্দ্রনাথ নিজে এ বিষয়ে
উদ্যোগ না নিয়ে ছন্দসরস্বতীর
বরপুত্র সত্যেন্দ্রনাথকে বলেছিলেন। কিন্তু সত্যেন্দ্রনাথেরও সেই সাহস এবং প্রতিভা ছিল না। তখন কবি নিজেই সচেষ্ট হন। তারই
ফল "পুনশ্চ" কাব্য।
কিন্তু এ কাব্য গদ্যরীতির হলেও
ক্রিয়াপদে পদ্যের দোলুনি ছিল,
ভাষাও যথেষ্ট সংহত ছিল না,
গদ্যের গ্র্যানাইট রূপটি যেন
দানা বাঁধেনি। কিছুটা গীতিধর্মিতায় মেদবহুল। সুধীন্দ্রের ভাষা খুব তৎসমসঙ্কুল
এবং সংহত,সংযমী। হয়তো
একারণে সুধীন্দ্রনাথ বলেছিলেন। যা রবীন্দ্রনাথের পক্ষে এতোদূর সম্ভব হয়েছে,তা
অপটু অন্য কবি না বুঝে অনুসরণ বা অনুকরণ করলে
"সর্বনাশের সূত্রপাত"!
[01/12, 09:42] Swapna Nath: হতে পারে তাই, গদ্যরীতির সপক্ষে রবীন্দ্রনাথের বক্তব্য---"নাচের জন্য যেমন বিশেষ কায়দা চাই, চাই আলো, মালা, মৃদঙ্গের বোলে উপযুক্ত সমারোহ, কাব্যেও তেমনি দরকার ছন্দের, অলংকার প্রাচুর্য। কিন্ত সাধারণ জীবনের আটপৌরে চলায় এ বিশেষ সমারোহের দরকার নেই। গদ্যকবিতা হচ্ছে -- সেই চলন নদীর ঘাট থেকে আরম্ভ করে রান্নাঘর, বাসরঘর পর্যন্ত। তার জন্য মালমসলা বাছাই করে বিশেষ ঠাট বানাতে হয় না। সে নাচে না, সে চলে। সে সহজে চলে বলেই তার গতি সর্বত্র। সেই গতিভঙ্গি আবাঁধা। ভিড়ের ছোঁয়া বাঁচিয়ে পোষাকী শাড়ির প্রান্ত তুলে ধরা আধঘোমটা- টানা সাবধান চাল তার নয় "
আপনার জানা, তবু বললাম।
[01/12, 09:48] Swapna Nath: একটা সময়ে রবীন্দ্রনাথ শব্দ সম্বন্ধে শুচিবায়ু অনেকখানিই বর্জন করেছিলেন, কিন্ত অনেকের মতে আধুনিক কাব্যধর্মকে তিনি হৃদয় দিয়ে মেনে নিতে পারেননি, যদিও বুদ্ধির দিক থেকে তাকে স্বাগত জানাতে দ্বিধা করেননি। আপনার কী মনে হয়? ( রবীন্দ্রনাথের পরে রবীন্দ্রনাথই প্রথম আধুনিক সে-কথায় যাচ্ছি না।)
[01/12, 09:49] Swapna Nath: হ্যাঁ। রবীন্দ্রনাথ প্রধানত
রসকাব্যের কবি। চূড়ান্তরকম
ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী। তাঁর কাছে
বাস্তবতা হচ্ছে ভাববাস্তবতা।
অন্তর থেকে তিনি তাঁর ভাবসত্যের কাছেই খাঁটি
থাকতে চেয়েছেন। তাঁর আনন্দময় সত্যসুন্দরের কাছে।
[01/12, 09:51] Swapna Nath: আমিও তাই বিশ্বাস করি।
রবীন্দ্রনাথ একসময় লোকসাহিত্যের ছড়া সংগ্রহের কাজে ব্যাপৃত ছিলেন। সেখানে তিনি নিজের রস, রুচি ও সৌন্দর্যবোধ অনুযায়ীই সংগ্রহ করেছিলেন, অন্যান্যদের মতো ব্যক্তিগত রস-বিচারবোধের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেননি।
রবীন্দ্রনাথের সংগৃহীত একটি ছড়া দেখলাম এভাবে--
"বোন কাঁদেন বোন কাঁদেন খাটের খুরো ধরে।
সেই যে বোন--"
তার পরে যে গ্রাম্য শব্দটি ছিল রবীন্দ্রনাথ লিখতে কুণ্ঠাবোধ করেছিলেন। কিন্ত তিনি অনুভব করেছিলেন যে, সেখানে কিছু ইতর ভাষা থাকলেও অনেক বেশি পরিমাণে করুণ রস আছে। পরবর্তী সময়ে পরিবর্তন করেছিলেন এভাবে--"বোন কাঁদেন বোন কাঁদেন খাটের খুরো ধরে।
সেই যে বোন গাল দিয়েছেন স্বামীখাকী বলে।।"
সত্যিই রবীন্দ্রনাথের সমগ্র কাব্যজীবন নিয়ন্ত্রিত হয়েছে সেই সংযম আর সৌন্দর্যে।
আপনাকে বলছি কবি, একথাটা বই করলে হয়তো দেব না, তবুও আপনাকে বলছি, লিখতে তো আর পারিনি কিছুই, তবু সামান্য পাঠক হিসেবে বলছি, আমি হৃদয় দিয়ে অনেককিছুই মেনে নিতে পারি না, কিন্ত যেটুকু মেধাই আছে, তার কাছে হেরে যাই অনেকসময়।
[01/12, 09:54] Swapna Nath: ইয়েটস একসময় বলেছিলেন, 'Man can embody truth but he can not know it.
'জীবনানন্দের কাব্য যেন তারই উজ্জ্বল উদাহরণ। সত্যের অন্বেষায় তাঁর সমগ্র জীবন উৎসর্গিত কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে তিনি লাভ করেননি।'
আপনার মতামত বলুন?
[01/12, 09:55] Swapna Nath: হ্যাঁ। রবীন্দ্রনাথবিষয়ে এই
অব্যর্থ কথাটিই আমি বলছিলাম,আপনি যা বললেন।
আসলে সত্য সবসময়ই এক
অধরামাধুরী। সোনার হরিণ।
দারুচিনিদ্বীপ। এর অন্বেষাই
মানুষের নিয়তি। বাঁধনবিহীন
সে বাঁধন। শিবনারায়ণ রায়ের
ভাষায় "নাচিকেত জিজ্ঞাসা"!
না। রাগের বিষয়ই নয়।
[01/12, 11:03] Swapna Nath: কিছুদিন ধরেই ভাবছিলাম আপনাকে জিজ্ঞেস করব কবি, কথাটি হল-- আপনার লেখা পাঠের জন্য পূর্বপ্রস্তুতির প্রয়োজন, যখন-তখন, যেমন-তেমনভাবে পড়া যায় না, আপনার কী কখনও এমন মনে হয়েছে যে, আপনার কবিতা বোদ্ধা পাঠক দাবি করে বা সাধারণ পাঠকের জন্য নয় ? ( পাঠকের শ্রেণিবিভাগ করতে চাইছি না, কিন্ত বোধের একটা ব্যাপার যখন রয়েছে, তাই)
[01/12, 11:04] Swapna Nath: শুধু আমার ক্ষেত্রে নয়,
যে কোনো কবিরই ক্ষেত্রেও,
কবির জীবন,মনোমুদ্রা,
বোধির রাজ্যবিষয়ে জানলে
ভালো। না জানলে যে তিনি
কবিতার রসবোদ্ধা নন,এমনও
নয়। কেননা, কবিতা তো
কবিতাই। এ বিষয়টা ধরতে
পারলেই হল।
[01/12, 11:06] Swapna Nath: ঠিক
কবিতা তো কবিতাই, যে পাঠক যেমনভাবে নেবেন।
[01/12, 11:07] Swapna Nath: কবিতার সব রসিক কিন্ত
রসবোদ্ধা হন না
[01/12, 11:09] Swapna Nath: তবে,
চাঁদ ছুঁয়ে যাওয়া মেঘকে
অনেকেই দেখেছেন,চিত্রশিল্পী
থেকে কবি,অনেকেই মুগ্ধতা
বর্ণনা করেছেন। কিন্তু মেঘ
যে বডিবিল্ডার নারীর বাইসেপ্সের মতো, এমন
উপমা বোধহয় "মিলনীয়"!
😊
[01/12, 11:11] Swapna Nath: 'ছোঁয়াছুঁয়ি খেলাটা' যেন স্বচক্ষে দেখলাম
[01/12, 11:12] Swapna Nath: বডিবিল্ডার নারীর বাইসেপ্স তো
পুরুষের মতো হয় না,যা হয় তা
নমনীয়, ভয় উদ্রেক করে না।
কবির উপমাটি এই কথা বলছে।
[01/12, 11:13] Swapna Nath: আর 'বডিবিল্ডার নারীর---'
'মিলনীয়', এভাবে আপনিই পারেন, তবে রস এখানে নমনীয় বা কোমল নয়, আমার কাছে রুক্ষ।
[01/12, 11:14] Swapna Nath: টেসলাকোড,জেনসার্কেল,
টেরোটকার্ড এসব কথা
আধুনিক ফর্মের বিষয়। শুধু
রসিক নয়,একটু বোদ্ধা হয়ে
কেউ যদি জানেন,তবে কবিতাটি
সহজগম্য। না জানলে ক্ষতি
নেই কবিতার। এগুলি কয়েকটি
রহস্যবিদ্যার নাম।
[01/12, 11:15] Swapna Nath: নারী যেহেতু আজকাল
বডিবিল্ডারও হচ্ছেন(মহম্মদ
আলির মেয়ে,মেরিকম)
কাজেই কবির ইমাজিন তো
রুক্ষ হবে।
[01/12, 11:17] Swapna Nath: ঠিক বলেছেন
না জানলে ক্ষতি নেই কবিতার।
আর এটা তো সত্যি, রস সবসময়ই নরম হবেই না কেন!
বিষয়ভাবনায় রুক্ষরস হতেই পারে।
[01/12, 11:19] Swapna Nath: আপনার সব লেখা আমি যে আপনার মতো করেই সম্পূর্ণভাবে দেখতে পাব সেটা তো নয়,( যে কোনও পাঠকের ক্ষেত্রেও একই কথা) যেটুকু দেখছি, অনুভব করছি সেটাই স্বস্তি। আপনার নতুন নতুন অভিযান, শব্দের অভিনবত্বের চমক রয়েছে। সবচেয়ে বড়ো কথা কোনও যথার্থ কবি তো আর পাঠকের প্রশ্রয় আর সমর্থনের লোভে লিখবেন না, তিনি তাঁর মতো করেই লিখবেন।
[01/12, 11:20] Swapna Nath: জীবনানন্দ দাশ তাঁর একটি প্রবন্ধে তিরস্কার করে বলেছিলেন--"বিদেশে বুর্জোয়া শ্রেণীদের ভিতরেও এমন অজস্র খাঁটি রসবোদ্ধা আছে যার হীন ভগ্নাংশও আমাদের মধ্যবিত্ত
সমাজে নেই; এ দেশে রসবোধ যে হৃদয়হীনভাবে বিরল, কবির কোনও শিথিল মুহূর্তের নিকট এর তিক্ততাও কম নয়।"
আমি "খাঁটি রসবোদ্ধা" নই, এটা আমারই অক্ষমতা।
[01/12, 11:21] Swapna Nath: খাঁটি রসবোদ্ধা : সত্যি বড়ো
কঠিন এমন হয়ে ওঠা।
আমি নিজেও এমন অক্ষম,
বিনম্র বললাম।
[01/12, 11:22] Swapna Nath: হ্যাঁ, সত্যিই বড়ো কঠিন। তবে আপনার সক্ষমতা সম্পর্কে আমার তেমন সন্দেহ নেই।🙏
[01/12, 17:34] Swapna Nath: সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত সম্পর্কে বুদ্ধদেব বসু-র একটি কথা, আমি পুরোটা তুলে ধরছি না, একটু বলছি।
" ----তাঁর কবিতা পড়ে অনেক সময়ই আমাদের সন্দেহ হয় যে তাঁর "অনুভূতি" টাই কৃত্রিম, কবিতা লেখারই জন্য ফেনিয়ে তোলা।"
আপনার কী মনে হয় কবি?
[01/12, 17:35] Swapna Nath: আমারও তাই মনে হয়।
একটু যেন সাংবাদিকতা বা
তথ্যধর্মী। তার অনেক শব্দ
বা ছবিকল্প গ্রহণ করেছেন
জীবনানন্দ। আতার ক্ষীর,
ঘাস, রূপশালী ধান ইত্যাদি
বিষয় রূপসী বাংলাকে প্রভাবিত
করেছে। ছন্দের টুংটাং-এ
মজে গেছেন সত্যেন্দ্রনাথ।
তার মধ
[01/12, 17:36] Swapna Nath: তার মধ্যে ভাবনা ছিল,ছবি
ছিল,রবীন্দ্রনাথের প্রভাবমুক্তির
প্রতিভা ছিল,কিন্তু তিনি সচেত
ছিলেন না।
[01/12, 17:37] Swapna Nath: হ্যাঁ, তাই তো দেখলাম।
জীবনানন্দ "ঝরা পালক"- এর সময়ে সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত দ্বারা খুব প্রভাবিত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনিই বলেছিলেন‐-"তাঁর কবিতায় মননধর্মের অভাব অত্যন্ত শোকাবহভাবে আমাদের আঘাত করে। কিন্ত আঙ্গিকের দিকেও সত্যেন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রম করে যেতে পেরেছেন বলে মনে হয় না।"
[01/12, 17:39] Swapna Nath: বুদ্ধদেব বসুই সত্যেন্দ্রনাথ-কে রবীন্দ্র-সমসাময়িক কবিদের 'কুলপ্রদীপ' বলে চিহ্নিত করেছিলেন। সেটা কি তাহলে ভাষা ও ছন্দের পারিপাট্যের জন্য?
[01/12, 17:39] Swapna Nath: হতে পারে। বুদ্ধদেব ভাষাভাবুক।
তিনি হয়তো দেখেছিলেন,সত্যেন্দ্রনাথের কবিতায় আরবি,ফার্সি,দেশি
শব্দ, হস্ ধ্বনিবহুল শব্দের
প্রচলন, যা নজরুলেরও পূর্বজ।
নানান ছন্দনিরীক্ষা তো আছেই।
তাছাড়া অনুবাদকবিতা
একটা সম্পদ।
[01/12, 17:40] Swapna Nath: হুম, তা-ই মনে হয়।
যে ছন্দের জন্য সত্যেন্দ্রনাথ স্বনামধন্য, বুদ্ধদেব বসু-র মতে, তা হল -- 'তন্দ্রাভরা নেশা' বা 'বেলোয়ারি আওয়াজের জাদু'।
[01/12, 17:42] Swapna Nath: আপনি ঠিক বলেছেন 'ছন্দের টুংটাং-এ মজে গেছেন সত্যেন্দ্রনাথ।'
মোহিতলাল মজুমদারের কথাটা মনে হল--'ছন্দকলাকুতুহল তাঁহার অধিকাংশ কবিতার কাব্যস্ফূর্তির প্রধান প্রেরণা হইয়াছে।'
[01/12, 17:43] Swapna Nath: রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে বুদ্ধদেব বসু-র একটি কথা ছিল এরকম-- "তাঁর কাব্যে বাস্তবের ঘনিষ্ঠতা নেই, সংরাগের তীব্রতা নেই, নেই জীবনের জ্বালা-যন্ত্রণার চিহ্ন, মনে হ'লো তাঁর জীবনদর্শনে মানুষের অনস্বীকার্য শরীরটাকে তিনি অন্যায়ভাবে উপেক্ষা করে গেছেন।"
কিন্তু দেখা গেল প্রেমের দেহরূপে বা দেহজ কামনা-বাসনাকে মর্যাদা দিলেও কামনার জাল থেকে মুক্তিলাভের জন্যও বুদ্ধদেব বসু ব্যাকুল ছিলেন, "বন্দীর বন্দনা" তা-ই বলে।
"বিধাতা, জানো না তুমি কী অপার পিপাসা আমার
অমৃতের তরে"
তাহলে দেখা যাচ্ছে, রবীন্দ্রনাথের যেখানে দেহকে বাদ দিয়ে দেহাতীত বোধ, বুদ্ধদেব বসু-র সেখানে দেহকে আশ্রয় করেই দেহাতীত উপলব্ধি, অন্তত বুদ্ধদেব বসু-র ভাষা ধরলে তা-ই তো মনে হয়। আপনার কী মনে হয় কবি?
[01/12, 17:45] Swapna Nath: রবীন্দ্রনাথ দেহকে বাদ দিয়ে
দেহাতীতবোধের কথা সত্যি
বলেছেন? মনে হয় না। তাঁর
বিজয়িনী কবিতা বা কড়ি ও
কোমল কাব্যে স্তন,চুম্বন ইত্যাদি
নামাঙ্কিত কবিতা সেই কথা বলে? অথবা ল্যাবরেটরি গল্পে
সোহিনী চরিত্রটি?
আসলে দেহাতীতকে তো দেহ
দিয়েই জানতে হয়। কিন্তু সেই
দেহ কামনার ঘিনঘিনে রক্তমাংসের স্তূপ হিসেবে তিনি
দেখেননি। এখানেই পার্থক্যটা!
শরীর তিনি উপেক্ষা করেননি।
তিনি নিজেই তো ছিলেন শরীর-
সচেত সুন্দর মানুষ। তাঁর প্রিয়
মানুষীরাও ছিলেন সুন্দর।
কথাটা হল 'সুন্দর' শব্দটা নিয়ে।
সুন্দরের মাত্রাজ্ঞান তিনি হারাতে
চাননি। তিনি কি জীবনের
অনন্দিত দিকটা বুঝতেন না?
তাঁর আঁকা নারীচিত্রগুলো দেখুন
কী ভীষণ শরীরী! কোথাও লাবণ্য নেই। অদ্ভুত রাফনেস!
[01/12, 17:46] Swapna Nath: আমিই আপনাকে বলতাম "কড়ি ও কোমল" আর "মানসী"র কথা।
"প্রতি অঙ্গ কাঁদে তব প্রতি অঙ্গ তরে।
প্রাণের মিলন মাগে দেহের মিলন।
হৃদয়ে আচ্ছন্ন দেহ হৃদয়ের ভরে
মুরছি পড়িতে চায় তব দেহ-'পরে।
কিন্তু সেটা তো যতদূর মনে হচ্ছে ব্যক্তিজীবনে নারীর দেহ-মনকে নিবিড় করে জানার সময়। কিছু রচনায় যে অসংযম যদি বলা হয়, তাহলে এই সময় রবীন্দ্রসৃষ্টির সংযমের স্বল্পকালীন সংকটের সময় ধরা যেতে পারে, অন্তত কিছু সমালোচক তা-ই বলেন।
আপনি যে বলেছেন স্তনের কথা, শুনেছি রবীন্দ্রনাথ "চিত্রা" পর্যন্ত শব্দটি ব্যবহার করলেও শব্দটি নিয়ে তাঁর কুণ্ঠা ছিল, 'স্তনিত' শব্দটি তাঁর বেশ প্রিয় ছিল। আর চুম্বনের কথা, সেটা যে সবসময় আশ্লেষের দেহভাষা হবে তাও তো নয়।
পাশাপাশি এটাও মানছি যৌনতাপ বিষয়ক শব্দ বা পঙ্'ক্তি না থাকলেই যে দৈহিক আর্তি বা শারীরিক ভাষা হয় না, সেটাও নয়।
হ্যাঁ, এটা আপনি ঠিক বলেছেন, শরীর মানেই রক্তমাংসের স্তূপ নয়, মূল কথা হচ্ছে সৌন্দর্য।
[01/12, 17:47] Swapna Nath: দেখুন কবি, রবীন্দ্রনাথেও কিছু অসংগতি রয়েছে, তবে আমার কাছে এ অনৈক্য অস্বাভাবিক কিছু মনে হয় না। বাস্তবতা সম্পর্কে তিনি বলেছেন--"এক টুকরো কাঁকর আমার কাছে কিছুই নয়, একটি পদ্ম আমার কাছে সুনিশ্চিত। অথচ কাঁকর পদে পদে ঠেলে ঠেলে নিজেকে স্মরণ করিয়ে দেয়, ভাতে পড়লে দাঁতগুলো আঁতকে ওঠে; তবু তার সত্যে পূর্ণতা আমার কাছে নেই। পদ্ম কনুই দিয়ে বা কটাক্ষ দিয়ে ঠেলাঠেলির উপদ্রব একটুও করে না, তবু আমার সমস্ত মন তাকে আপনি এগিয়ে গিয়ে স্বীকার করে। যে-মন বরণীয়কে বরণ করে তার শুচিবায়ুর পরিচয় দিই। সজনেফুলে সৌন্দর্যের অভাব নেই। তবু ঋতুরাজের রাজ্যাভিষেকের মন্ত্রপাঠে কবিরা সজনেফুলের নাম করেন না। ও যে আমাদের খাদ্য এই খর্বতায় কবির কাছেও সজনে আপন ফুলের যাথার্থ্য হারাল।"
কিন্ত একই প্রবন্ধে তিনি বলেছেন--" যে কবির সাহস আছে সুন্দরের সমাজে তিনি জাত বিচার করেন না। তাই কালিদাসের কাব্যে কদম্ববনের একশ্রেণীতে দাঁড়িয়ে শ্যামজম্বুবনান্তও আষাঢ়ের অভ্যর্থনাভার নিল।"
যতদূর জানা যায় এ দুটো কথার মধ্যে তিনি ঐক্য স্থাপন করতে পারেননি। আপনার কী অভিমত?
[01/12, 17:48] Swapna Nath: কবি কোনো ছক মেনে গদ্য
লিখতেন না। চিন্তার অনুবর্তন
অনুসারে লিখতেন। প্রথমদিকে
অর্থাৎ তরুণকালে তাঁর সৌন্দর্যধ্যান ছিল এরকম যে,
সুন্দর হচ্ছে আটপৌরে প্রয়োজনের অতিরিক্ত একটা
আস্বাদনের বস্তু। যা আমাদের
দৈনন্দিন কাজে লাগে এবং যা
আমরা খাই,তা দেখতে সুন্দর
হলেও কাব্যের বিষয় হতে পারে
না। নান্দনিকতার বিষয় হতে
পারে না। যদিও পরিণত বয়সে
তিনি গদ্যকবিতায় অনেক
অপাঙতেয় ফুল যা গাছের কথা
লিখেছেন। হয়তো আধুনিককালের দাবি মেটাতে।
কিন্তু তাঁর নন্দনবিশ্বাস থেকে
খুব একটা সরে যাননি। এ বিষয়ে কবির মত মানেননি
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। তিনি কুক্কুট
নামে কবিতায় শব্দশুচিবায়ুগ্রস্ত
রবীন্দ্রনাথকে কটাক্ষ করেছিলেন। পরে অবশ্য রবীন্দ্রনাথকে তিনি মেনে নিয়েছেন।
[01/12, 17:49] Swapna Nath: যদি বলা হয়, বুদ্ধদেব কবিতার মধ্যে এনেছেন সংগীতের হিল্লোল, কিছুটা নাটকের প্রাণময় প্রবাহ। কী বলতে চাইবেন?
[01/12, 17:50] Swapna Nath: জানলাম এই সংগীতের হিল্লোল রচনার জন্য তিনি অনেকক্ষেত্রে Pre- raphaelite কাব্যধারা থেকে চিত্রকল্প গ্রহণ করেছেন, কিছু বলুন?
[01/12, 17:51] Swapna Nath: হ্যাঁ,বুদ্ধদেবের এ বিষয়ে
আগ্রহ ছিল। তাঁর "তপস্বী ও
তরঙ্গিনী" অপূর্ব একটি নাটক।
কম্পারেটিভ লিটারেচারের
অধ্যাপক ছিলেন বলে
বিশ্বসংস্কৃতি থেকে আঁজলা ভরে
সম্পদ এনে বাংলাকাব্যকে
ঋদ্ধ করেছেন। পাশ্চাত্যসংগীতও ভালো বুঝতেন। স্ত্রী প্রতিভা সোম বা
প্রতিভা বসু তো সুগায়িকা
ছিলেন।
[01/12, 17:53] Swapna Nath: ঠিক ঠিক
"মাঝরাতে আজ বাতাস জেগেছে, শুনতে পাও?
কঙ্কাবতী!
এলো এলোমেলো ব্যাকুল বাউল উত্তর বাও
কঙ্কাবতী!
-----------
হাহাকার করে বেহায়া হাওয়ার বেহালাখানি,
কঙ্কাবতী!
মধ্যযুগীয় ইতালীতে প্রেমিকার জানালার নীচে প্রেমিকের গান গাইবার প্রথা, ইংরেজীতে যাকে বলা হয় 'serenad', তারই সুর, কথাটা জেনে খুব ভালো লাগল কবি।
[01/12, 17:54] Swapna Nath: কবিতার লাইন কবির মতো লিখতে পারিনি
[01/12, 17:55] Swapna Nath: এটি তাঁর বিখ্যাত কবিতা।
বুদ্ধদেবের মেয়ের নামও
বোধহয় কঙ্কাবতী দত্ত।
স্বামী কবি ও প্রবন্ধকার
জ্যোতির্ময় দত্ত।
[01/12, 17:56] Swapna Nath: কতকিছু যে জানেন আপনি!🙏
মেয়ের নাম, স্বামীর নাম জানা ছিল না।
[01/12, 17:57] Swapna Nath: তবে "কঙ্কাবতী"--তে বৈষ্ণব পদাবলীর মতো নামজপও রয়েছে দেখলাম, কিছু বলুন?
[01/12, 17:58] Swapna Nath: বুদ্ধদেব প্রেমের কবিই মূলত।
প্রেমের দুটো দিক। পূর্বরাগ ও
মিলন। বুদ্ধদেবের কঙ্কাবতী
য়ুরোপীয় কল্পনাপ্রতিভা এবং
ভারতীয় কাব্যলক্ষ্মীর অন্বয়ে
মূর্তিমতী। তাই বৈষ্ণবীয় আঙ্গিক
কিছু ক্ষেত্রে হয়তো ব্যবহৃত
হয়েছে।
[01/12, 18:00] Swapna Nath: দীপ্তি ত্রিপাঠি বলেছেন-- এ যেন প্রেমের Pentheism, খুব ভালো লাগল কথাটি।
"ফাঁকা আকাশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঝরে পড়ে সুর-- কঙ্কা! কঙ্কা! কঙ্কাবতী!
---------------------
আকাশ ফাটায়ে লাল বিদ্যুৎ বজ্র বাজায়-- কঙ্কা! কঙ্কা! কঙ্কাবতী!
[01/12, 18:01] Swapna Nath: ঠিক।
[01/12, 18:02] Swapna Nath: ধরুন, একজন অপরিচিত ব্যক্তি( যিনি শুধু আপনার লেখার সঙ্গেই পরিচিত) আপনাকে সামনে পেয়ে আপনাকেই জিজ্ঞেস করল-- কবি মিলনকান্তি-র বাড়ি কোথায়? আপনি কি বলবেন তখন?
[01/12, 18:03] Swapna Nath: এমন যদি হয়, কয়েকজন কবি মিলে আপনার লেখালেখি নিয়ে খুব নিন্দে করছেন, তাঁরাও আপনাকে কখনও দেখেননি, আপনি কী করবেন তখন? চুপচাপ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুনবেন?
[01/12, 18:04] Swapna Nath: প্রথম প্রশ্নের উত্তরে সহজ উত্তর
যা স্বাভাবিক,ব্যক্তিকে বাড়ি নিয়ে আসব,পরিচয় দেব।
দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে
অগত্যা বাকসংযম!
[01/12, 18:11] Swapna Nath: আমাকে যদিও এরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে না কখনও জানি, তবুও বলছি, আমি একটু মজা করতাম। বলতাম না, পরে বাড়িতে গেলে মুখোমুখি হতাম।
আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে আপনার মতই।
[01/12, 18:12] Swapna Nath: যদিও আপনি বিয়ে করেননি, তবু জিজ্ঞেস করছি কবি, রাগ করবেন না। যদি বিয়ে করতেন আর বিয়ের পর আপনার ভাবুক স্বভাবের জন্য আপনার স্ত্রী প্রচণ্ড বিরক্ত হচ্ছেন দিন-দিন, একদিন যদি খুব রাগ করে বলতেন-- হয় কবিতা ছাড়ো, না -হয় সংসার ছাড়ো, কী করতেন বা বলতেন আপনার স্ত্রীকে?😄
[01/12, 18:14] Swapna Nath: কঠিন প্রশ্ন। নিরুত্তর।
[01/12, 22:52] Swapna Nath: আমাকে বললে আমি বলতাম, সংসার ছাড়া কোথায় যাব! যেখানেই যাব, সেখানেই তো ছোটো হোক , বড়ো হোক সংসার হয়ে যায়। এক-একবার ভাবি, আশ্রমে চলে গেলেই ভালো, কিন্ত সেখানেও সংসার, কবিতাও তো একটা সংসার, কারও কাছে গোছানো, কারও কাছে অগোছালো।😄
[01/12, 22:53] Swapna Nath: হ্যাঁ। সুন্দর বলেছেন,
কবিতাও তো একটা
সংসার। কারও কাছে সঙ,
কারও কাছে সার!
তাত্ত্বিক কথা আমার মুখে
যতোটা অনায়াস,বাস্তব
বিবেচনার কথা ততোটা
অনায়াস মুখে আসে না,
বোকা বনে যাই। 😃
[01/12, 22:55] Swapna Nath: আমিও মাঝে মাঝে বড়ো হালকা হয়ে যাই, গভীরে যেতে ইচ্ছে করে না তখন, তবে হালকা থাকলেই দেখেছি হৃদয়ের ওজন কম হয়, এত ভার বইতে হয় না।😄
[01/12, 22:56] Swapna Nath: ঠিক বলেছেন কবি
কারও কাছে সঙ, কারও কাছে সার।
[01/12, 22:57] Swapna Nath: আপনি কিন্ত কখনও ভাববেন না কবি, আপনার সঙ্গে তুলনা করে করে এসব বলছি, আসলে এখানে বলার মতো সুযোগ এসে যাচ্ছে বলে বলছি।
[01/12, 22:58] Swapna Nath: আপনার কী মনে হয় কবি, কবিতার জন্য মাঝেমাঝে বেরিয়ে পড়া দরকার? নাকি ঘরে বসে বই পড়লে, চিন্তার সাধনাতে ব্যাপৃত থাকলেই কাব্যের প্রেরণা অফুরন্ত থাকে?
[01/12, 22:59] Swapna Nath: বিষয়টা ব্যক্তিমুদ্রার ব্যাপার।
যে যেভাবে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
তবে নতুন নতুন জায়গায়
বেরিয়ে পড়া,প্রকৃতির নিকটে
আসা,লোকজীবনকে প্রত্যক্ষ
করা, তার তো একটা সুফল
আছে। মনে নানান অনুভূতির
উদয় হয়। তা হয়তো কবিতার
কাজে লাগে। আর একজন
গল্পকার বা ঔপন্যাসিকের ক্ষেত্রে অবশ্য জোর দিয়েই বলব,মাঝেমাঝে বেরিয়ে পড়া
দরকার। যেমন,শরৎচন্দ্র-বিভূতি-সমরেশ
বা আরও অন্যান্য, তাঁরা খুব
ঘুরতেন।
[01/12, 23:01] Swapna Nath: ঠিক বলেছেন কবি
বিষয়টা ব্যক্তিমুদ্রার ব্যাপার।
[01/12, 23:02] Swapna Nath: একজন কবি বৃদ্ধ বয়সেও প্রেমে পড়েন,( প্রেমের কোনও বয়স নেই, সে-কথায় যাচ্ছি না) বলতে চাইছি, কবিদের প্রেমে আকুল হওয়াটা কী শুধুই ইন্দ্রিয়জ কামনা, নাকি নতুন সৃষ্টির জন্য অর্থাৎ শিল্পের জন্য প্রেমের বীণা বাজে? যদিও এ বিষয়টাও আমার কাছে আপনার ব্যক্তিমুদ্রার ব্যাপারই মনে হয়। আপনার কথা শুনতে চাইছি।
[01/12, 23:03] Swapna Nath: সেই বৃদ্ধবয়সের কবিই বলতে
পারেন,প্রেমবিষয়ে তার
অনুভবটা কীরকম। এখানেও
সেই ব্যক্তিমুদ্রার মনোমৈত্রীর
ব্যাপার! কোনো সিদ্ধান্ত দিয়ে
বলা যায় না। এখন তো প্রেম
লিঙ্গভেদ ঘুচিয়ে দিতে চায়,
সার্বিক মানবপ্রেমের কথা
বলছি না। এখন সমলিঙ্গের
ভালোবাসাও কাব্যসাহিত্য-
ছায়াচিত্রে এসে পড়েছে।
জগদীশ গুপ্তের গল্পে,কমলকুমারের গল্পে এর
প্রথম ছায়াপাত!
[01/12, 23:04] Swapna Nath: অথবা ঋতুপর্ণ ঘোষের সিনেমায়। বিদেশে এসেছে
অনেক আগেই।
[01/12, 23:05] Swapna Nath: আমি সমলিঙ্গের কথা বলতে চাইনি। স্বাভাবিক নারী-পুরুষের কথা বলতে চেয়েছি, তবে সমলিঙ্গের বিষয়টিকে অস্বাভাবিক বলছি না, তবে সেখানে একটা কৃত্রিম ব্যাপার রয়েছে। এটা মানছি এখানেও ব্যক্তির মনোমুদ্রার ব্যাপার।
আমার বলার অর্থ ছিল-- অনেকসময় আমরা তো বলি যে, আগুন শেষ হলেও তো ফুলকি থেকে যায়, বা কেউ বলেন--পাখি উড়ে গেলেও ডানার হাওয়া থাকে, তবে কী বৃদ্ধ কবির প্রেমের ক্ষেত্রেও কী সেরকম কিছু কাজ করে বলে আপনার মনে হয়?
[01/12, 23:06] Swapna Nath: হ্যাঁ। তাই হয়তো। মনস্তাত্ত্বিক
ভাবেও তা বলা যায়,মানুষ
তার পশ্চিমবেলায় সেই স্মৃতির
জগতেই থাকতে পছন্দ করে,
যা তাকে একদা আনন্দ দিয়েছিল।
[01/12, 23:07] Swapna Nath: সত্যিই মনস্তাত্ত্বিক বিষয়।
কাব্যসৃষ্টির প্রেরণার স্বরূপ নিয়ে মাঝেমাঝে খুব প্রশ্ন জাগে।
[01/12, 23:10] Swapna Nath: রবীন্দ্রনাথ একদা খুব চমৎকার
একটা কথা বলেছিলেন,কবি
একটি বিশেষ জাতের মানুষ।
এই বিশেষ জাতটাই কাব্যসৃষ্টির
প্রেরণা। কবিতা এবং ল্যাজ
টেনে বার করা যায় না,ওটা
ভেতরে থাকতে হয়। এই বস্তুটি
ভেতরে থাকলে লেখা আসবেই,
এটিই প্রেরণা।
[01/12, 23:11] Swapna Nath: বিশেষ অদ্ভুত জাত😄
রবিঠাকুরের এ কথাটি জানা ছিল না🙏
[01/12, 23:12] Swapna Nath: ছিল,ছিল। নিজে তো ঝগড়াটে
চঞ্চুবিশিষ্ট কবিলেখকদের দ্বারা
ঠোকর কম খাননি? স্বাভাবিক
রুচিগত কারণে হয়তো বলেননি
সে কথা! 😊
[01/12, 23:13] Swapna Nath: আমি আমার অজানার কথা বলেছি কবি। রবিবাবু জানতেন, রুচিগত কারণে বলেননি, এটাই ঠিক। জীবনানন্দও অনেক ধাক্কা খেয়েছেন , তবু বলেননি।
[01/12, 23:14] Swapna Nath: মাঝেমাঝে খুব ভিন্ন এক পরিণত মানস ফুটে ওঠে আপনার লেখায়, আপনি এমনিতেই পরিণত, তবু বলছি এই কারণে যে, অনেকসময় বহির্জগৎ আপনার অন্তর্জগতকে এতটাই ব্যাপ্ত করে, পঙ্'ক্তির সুনিপুণ প্রয়োগে অবাক হতে হয়।
[01/12, 23:16] Swapna Nath: 'ছন্দ নিজেও জানে না
কতোটা পাগল হলে তবে তার মাত্রা বজায় থাকে।'
[01/12, 23:17] Swapna Nath: 'কয়লা তুলে দাঁত মাজে
নিমতলার কবি'
'আমাকে জ্বর লেলিয়ে দিয়ে'
এভাবে আপনিই বলতে পারেন।
'স্বপ্ন দেখার তো কোনও চশমা নেই?'
[01/12, 23:18] Swapna Nath: হ্যাঁ,কখন কী ভাব যে আসে...
[01/12, 23:18] Swapna Nath: তেমন কোনও প্রশ্ন আসছে না কবি।
আপনাকে রাগিয়ে দেওয়ার জন্য হঠাৎই একটা প্রশ্ন এল মনে।
যদি কোনও পাঠক বলেন যে, আপনার কবিতা আবেগ ও যুক্তির যথার্থ সম্মেলন কিংবা আপনার কবিতা প্রেরণায় শুরু হলেও আপনি নিজস্ব ভাবধারায় মেধা-অধ্যবসায় যা-ই বলুন তা দিয়ে সংগঠিত করেন, তবে কিছু কিছু লেখা যেন ধাঁধার মতো, কী বলবেন? ( গতকালের লেখা নিয়ে বলছি না)
[01/12, 23:19] Swapna Nath: পাঠক যা ভাবেন,স্বাগত।
তবে ধাঁধা নিশ্চয়ই নন। হয়তো
কবিতাটি খুব অন্তর্গূঢ় হয়ে
একেবারেই ব্যক্তিক হয়ে
পড়লে এমন মনে হতে পারে,
এমন কবিতা অনেক কবিরই
থাকে,য
[01/12, 23:21] Swapna Nath: যা কবির নিজের বোধিকে
পরিতৃপ্ত করে লেখা। এই হল
কথা।
[02/12, 09:27] Swapna Nath: হ্যাঁ, ঠিক
এমন কিছু কবিতা অনেক কবিরই থাকে। সুধীন্দ্রনাথের কিছু লেখাও ধাঁধার মতো, আপনি তো জানেন।
[02/12, 09:30] Swapna Nath: পাবলো নেরুদা-র একটা কথা পেলাম-- "poetry doesn't belong to those who write it, but those who need it"
কিছু বলুন কবি?
[02/12, 09:31] Swapna Nath: এমন কবির বক্তব্যে কোনো
মন্তব্য করা যায় কি? এগুলো
মেমোরেবল্ স্পিচ্!
সহমত।
[02/12, 09:32] Swapna Nath: আমার কেন জানি প্রশ্ন জাগল, যাঁরা কবিতা লেখেন তাঁরা কবিতা 'belong' না-করলেও কবিতায় তাঁদের প্রয়োজন নেই, সেটা নিয়ে একটু ভাবছি, কী জানি আমার বোধ হয়তো সেখানে পৌঁছতে পারছে না!
[02/12, 09:33] Swapna Nath: কবিতা লেখার পর কবির
কবিতার প্রতি স্বাধিকার থাকে
না। কিন্তু কবিতায় কবির
প্রয়োজন নেই,তা হয়তো বলা
যায় না!
[02/12, 09:34] Swapna Nath: সেটাই তো ভাবছি
[02/12, 09:35] Swapna Nath: 1971--এ পাবলো নেরুদা নোবেল পুরস্কার পান, আপনি জানেন সে-কথা। নোবেল ভাষণে কবি, কবিতা ও কবিতার দায়বোধ সম্পর্কে যে-কথাগুলো বলেছিলেন তার কিছুটা তুলে ধরছি---'আমার মতে, যে আমাদের রুটি জোগায় সে-ই সবচেয়ে বড় কবি। সে নিজেকে ভগবান ভাবে না, মন দিয়ে নিজের কর্তব্য পালন করে শুধু। লেখার সময়ও যদি এরকম সহজ সজ্ঞানতা বজায় থাকে, তাহলে তা এক সময় প্রবল হয়ে উঠতে পারে, আর তৈরি হতে পারে এক মহান কবিতা, যেভাবে তৈরি হয় রুটি, সত্য, মদ, স্বপ্ন। কবিকে সবার দিকে হাত বাড়াতে হলে সবার সাথে মিশতে হবে, ঘাম ঝরাতে হবে, রুটি বানানোর প্রক্রিয়ায়, মদ বানানোর প্রক্রিয়ায়, স্বপ্ন বানানোর প্রক্রিয়ায় ঢুকে পড়তে হবে। ভাল কবিতা লিখতে হলে অবশ্যই সাধারণ মানুষ হতে হবে, যা এত বছর আমরা হইনি, নিজেদের ভগবান ভেবে এসেছি।'
এ-বিষয়ে কিছু কথা হয়তো অন্যভাবে বলেছেন কোথাও, তবু এ-বক্তব্যে কিছু বলুন?
[02/12, 09:37] Swapna Nath: নেরুদার এই বক্তব্যগুলি
বিশেষ প্রেক্ষিতে। সকল কবির
জন্য মোক্ষবার্তা না-ও হতে
পারে। আমাদের মনে রাখতে
হবে,বিদেশের কবিরা তাদের
সময়ে রাষ্ট্রে ও রাজনীতিতে
বিজড়িত ছিলেন। নেরুদা,নাজিম হিকমত,লোরকা,
মায়াকোভস্কি। তাই আপাত
মনে হয়,তাদের মন্তব্যে কবিতার
পাগলপারা সূক্ষ্মতাটুকু নেই।
কারণ অন্যকিছু নয়,তাদের
পারিপার্শ্বিকতা তা'ই দাবি করছিল।
[02/12, 09:38] Swapna Nath: একদম আমার মনের কথাটি বলেছেন কবি। 'তাঁদের মন্তব্যে কবিতার পাগলপারা সূক্ষতাটুকু নেই--- দাবি করছিল।'
[02/12, 09:39] Swapna Nath: আগে বলেছি কিনা মনে পড়ছে না, তবুও বলছি।
কোলরিজ বলেছিলেন যে-- ছন্দ আবেগময় ভাষা দাবি করে এবং তার মধ্যে স্রষ্টার একটি অভিপ্রায়ও প্রকাশ পায়। এই দুইটির যোগাযোগেই কাব্যের ভাষার জন্ম।
' There must be not only a partnership, but a union; an interpretation of passion and of will, of spontaneous impulse and of voluntary purpose'.
আবেগ ও মননের সংগমে যে-ভাষা ও রূপের জন্ম হয় সাধারণের বাক্'রীতি থেকে তা স্বভাববতই পৃথক। সুধীন্দ্রনাথও বিশ্বাস করতেন-- দৈনন্দিন ভাষা আর কাব্যের ভাষা বস্তুতই বিভিন্ন।
এ বিষয়ে আপনি কী বলতে চান?
[02/12, 09:42] Swapna Nath: কাল বিদ্যুৎ ছিল না, তাই
কথা বলতে পারিনি।
হ্যাঁ, দৈনন্দিন ভাষা ও কাব্যভাষা
বিভিন্ন। অনন্য। পায়েলের বইয়ের আলোচনাকালে
এ কথাটি বলেছিলাম।
তবে কাব্যভাষাসৃষ্টির ক্ষেত্রে
নির্মাণের কিঞ্চিৎ ভূমিকা থাকলেও কাব্যিক বোধ এবং
প্রেরণার একটা জায়গা থেকে
যায়,তা বিশ্বাস করি। যেমন
কোলরিজ বলেছেন,স্রষ্টার একটি অভিপ্রায়!
[02/12, 09:50] Swapna Nath: দারুণ আপনার হাতের লেখা
[02/12, 09:51] Swapna Nath: আমার মনে হয় একজন প্রকৃত কবি কোথাও না কোথাও বাউলই
[02/12, 09:53] Swapna Nath: যশোধরা আজ ম্যাসেঞ্জারে
কথা বললেন!
[02/12, 09:55] Swapna Nath: প্রকৃত কবিরা নিবিড় অনুভবে কবিতা ব্যাপারটা কী তা বোঝেন, অকবিতা থেকে তাকে আলাদা করে নিতে পারেন বলেই মনে হয়। আমি আমার কথা ভাবছিলাম, মাঝেমাঝে অনেক বড়ো বড়ো কথা তো বলে দিই, আসলে পারি কী কবিতা ব্যাপারটা বুঝতে! কবিতা ব্যাপারটাই তো এখনও অধরা, তবে কীভাবে অকবিতা থেকে আলাদা করে নিতে পারব!
[02/12, 09:56] Swapna Nath: ঠিক। কবিতা বিষয়ে সবসময়ই
একটা অতৃপ্তি থেকেই যায়!
যশোধরা তো আমার লেখা দেখে উচ্ছ্বসিত।
উনি গদ্য-পদ্য-প্রবন্ধের একজন
বহুপ্রজ সাহিত্যকর্মী। নানান
বিষয়ে লেখা বিস্তর বইয়ের
প্রসূতি।
[02/12, 09:57] Swapna Nath: আপনি তো কিছুটা হলেও ব্যতিক্রমী, উচ্ছ্বসিত হওয়ারই কথা।
[02/12, 09:58] Swapna Nath: তাই!
[02/12, 09:59] Swapna Nath: প্রবুদ্ধের স্ত্রীর বোধহয় সহপাঠিনী। প্রবুদ্ধের বাড়িতে
এসেছিলেন। অশোকের সঙ্গেও
ভালো পরিচিতি আছে। বোধহয়
পুববাংলার মানুষ। সে যা'ই হোক
তবে বাংলাসাহিত্যে তিনি
প্রতিষ্ঠিত। নবনীতা দেবসেনের
পর বর্তমানে উল্লেখ্য।
[02/12, 10:04] Swapna Nath: আপনার কী এমন হয়েছে কখনও, কবিতা এসেছে, পরে লিখবেন বলে ভুলে গেলেন, আর আসেনি সে-ই কবিতা?
[02/12, 10:06] Swapna Nath: হ্যাঁ। এমন আমারও হয়!
[02/12, 10:07] Swapna Nath: আমার অনেকবার হয়েছে এমন
[02/12, 10:10] Swapna Nath: কবি অরুণ মিত্র-র ভাষায়-- 'আসলে সমস্ত বিদ্যা ও বৈদগ্ধ্য প্রদর্শন থেকে বহু দূরে অনুভৃতিপ্রবণ মনের একান্তে জন্ম নেয় সার্থক কবিতা।'
কী বলতে চাইবেন কবি?
[02/12, 10:11] Swapna Nath: সব কবির অনুভব তো এক নয়,
হওয়া বিহিতও নয়। "লাল ইস্তাহার"- এর কবির এ অনুভব
তাঁর একান্ত। এ মন্তব্যের সঙ্গে
কিছুদূর অব্দি যেতে পারি। কিন্তু
একজন আধুনিক কবির বিদ্যা ও বৈদগ্ধ্যে স্নাত হওয়া জরুরি,
সেটির তুমুল ছাপ কবিতায়
থাকবে, দৃঢ়ভাবে নয়,প্রচ্ছন্নভাবে। কবিতার
আকাঙ্ক্ষা মেনে।
[02/12, 10:13] Swapna Nath: 'সার্থক' শব্দটি নিয়ে আমি ভাবছিলাম, শুধু বিশুদ্ধ প্রেরণাজাত কবিতাই সার্থক হয়? সার্থক হলেও কার কাছে? কবির কাছে? সেটা তো কখনও সম্ভব নয়, আর যদি ধরা হয় পাঠকের কাছে তাহলেও তো পাঠকভেদে সার্থকতার অর্থ বিভিন্ন হতে পারে।
এটা ঠিক বলেছেন-- একজন আধুনিক কবির বিদ্যা ও বৈদগ্ধ্যে স্নাত হওয়া জরুরি।
কবি অরুণ মিত্র চল্লিশের দশকের 'কবিতা ভবন' কে এড়িয়ে চলতেন।
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত-র বাসভবনে 'পরিচয়' পত্রিকার বৈঠকেও তিনি একবার গিয়ে আর যাননি। তত্ত্ব ও পাণ্ডিত্যের বিদগ্ধ আবহাওয়ায় মাপা কথার আসরে তাঁর দম আটকে আসছিল। এসব কথা জীবনানন্দ সম্পর্কে লিখতে গিয়ে তিনি নিজেই বলেছেন। সেটা পড়েই জেনেছি।
তবে এটা ঠিক, বিদ্যা ও বৈদগ্ধ্যের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলেও তার হাওয়া সবসময় মেনে নেওয়া বা গ্রহণ করার মানসিকতা সবসময় থাকে না।
[02/12, 10:14] Swapna Nath: এটাই আসল কথা-- 'সব কবির অনুভব তো এক নয়, হওয়া বিহিতও নয়।'
[02/12, 10:15] Swapna Nath: কবিতাভবন বা পরিচয়পত্রিকা
এড়িয়ে চলতেন এ জন্য যে
অরুণ মিত্র নিজেও বিদগ্ধ
ছিলেন। এক খাঁচায় একাধিক
সিংহ তো থাকবে না,স্বাভাবিক
কারণেই। অরুণ মিত্রের ফরাসি
কাব্যের প্রভাবে লেখা যথার্থ গদ্যকবিতাগুলি তো যথেষ্ট
বিদগ্ধই। কথাটি হয়তো সাময়িক কোনো মানসিকতা
থেকে বলা।
[02/12, 10:16] Swapna Nath: হতে পারে কবি
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া থেকে বলা
কবিরা তো সত্যিই অদ্ভুত
[02/12, 13:06] Swapna Nath: অন্নদাশঙ্কর রায়ের কবিতা ও ছড়া সম্পর্কে আপনার কী মনে হয় কবি? দেখলাম তাঁর খ্যাতির সূচনা প্রধানত ওড়িয়া সাহিত্যের ক্ষেত্রেই। পরবর্তী সময়ে বাংলায় লিখতে শুরু করেছিলেন, যদিও সেটা কোনও ব্যাপার নয়, তবু জানতে চাইছি অন্নদাশঙ্কর-কে আপনার কী মনে হয়? মরমী কবি, বলিষ্ঠ ঔপন্যাসিক, মননশীল প্রাবন্ধিক না
কৌতুকে- কটাক্ষে মনস্বী ছড়াকার? যদিও একজন কবি , ঔপন্যাসিক বা প্রাবন্ধিক হলে বিপরীত দিক থেকে অন্যটি হতে পারবেন না, বিষয়টি তা নয়, তবুও আপনার অভিমত জানতে চাইছি?
[02/12, 13:07] Swapna Nath: অন্নদাশংকর আমার কাছে খুব
শ্রদ্ধেয় একটি নাম।
রবীন্দ্র ও গান্ধী স্নেহধন্য এই
মানুষটি মননজীবী বাঙালির
কাছে লেখকদের লেখক।
বিশেষ করে তাঁর ছড়া এবং
প্রবন্ধের আমি নিষ্ঠ পাঠক।
কর্মজীবন ওড়িশা থেকেই শুরু
করেছিলেন,খুব বড়ো প্রশাসক
ছিলেন। তাই হয়তো ওড়িয়াসাহিত্যের সঙ্গে তাঁর
ঘনিষ্ঠতা। শত সমালোচনা সত্বেও গান্ধীবাদে তাঁর নিটুট
শ্রদ্ধা ও ভরসা ছিল। এ বিষয়ে
লিখেছেনও। রবীন্দ্রনাথের
সমালোচনা যাঁরা করেছিলেন,
ক্ষুরধার কলম চালিয়ে একা
সামলেছেন সেইসব বিরুদ্ধতা।
শনিবারের চিঠি'র সজনীকান্ত
দাশ অন্নদাশংকরকে "খোকাহাকিম" বলে কটাক্ষ
করেছিল। তবে,তাঁর উপন্যাস-
গল্প-কবিতা আমাকে ততোটা
টানে না। হয়তো তাঁর এইসব
লেখায় জীবনের উত্তাপ ততোটা
ছিল না,যতোটা ছিল মেধাবী
দিগন্তের ভার!
তাঁর "আর্ট" বইটি পড়লেই বুঝতে
পারবেন,কোনো বিখ্যাত মনীষীর
উদ্ধৃতি ব্যবহার না করে, এতো
সহজভাষায় গম্ভীরগুরু নিবন্ধ
যে কী করে লেখা সম্ভব।
শুভবাদ।
[02/12, 13:08] Swapna Nath: তাঁর প্রবন্ধ খুব ভালো লাগে আমার। তবে তাঁর ওই সর্বজনবিদিত ছড়াটি ভালো লাগে খুব-- 'তেলের শিশি ভাঙল বলে
খোকার পরে রাগ করো---'য জেনেছি রবীন্দ্রনাথই তাঁকে ছড়া লিখতে বলেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ-কে খুব ভালোবাসতেন তিনি। হ্যাঁ, খুব বড়ো প্রশাসক ছিলেন তিনি।
ওড়িশার ঢেঙ্কানালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পুরী ,কটকেই পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। যতদূর জেনেছি ওড়িয়া ভাষাতেই প্রথম কবিতা লিখেছিলেন।
টুকরো-টুকরো পড়া থেকে দুটো ওড়িয়া কবিতা দিচ্ছি, দেখুন।
'কহুছি সত শুন গো মিত
ধ্বংসে মোর মন নাহিঁ ত
সে নুহেঁ মোর ব্যসন।
মো কেতু নুহেঁ ধ্বান্ত ধূম
মো কেতু সজ শুচি কুসুম
ফুটে যা প্রাণ পুলকে।'
আর একটার কিছু অংশ--
'আহা যউবন থরে গেলে
আর আসে না!
বৃথা বিধুর পরানপুরে
ঝুরে বাসনা!
------
যউবন সাথে যাউ
জীবন মোর
জরা-চোর সাথে আসু
মরণ-চোর।'
[02/12, 13:12] Swapna Nath: আর্ট বইটি সংগ্রহ করুন।
হ্যাঁ,যা বলেছেন ঠিক।
[02/12, 13:12] Swapna Nath: মানসদাকেও জিজ্ঞেস করেছিলাম আবার, নেই বললেন।
[02/12, 13:14] Swapna Nath: এখন খুব অলস হয়ে পড়েছি কবি, কোনও কাজই ভালো লাগে না। টাইপ করতেও বিরক্ত লাগে। পরে বলব আবার।
[02/12, 13:15] Swapna Nath: দুরন্ত দাবের কাল!
আলস্য তার ভূষণ।
মাঝেমাঝে বিরতি ভালো।
[02/12, 13:16] Swapna Nath: খুব সুন্দর হয়েছে
আপনার দুটো লাইন দেখে এই মুহূর্তে তাৎক্ষণিক যা মনে হল তা-ই লিখছি-
যতই ঠাণ্ডা খাই
হুমড়ি খেয়ে পড়ে তাপ
আলস্য গড়ের মাঠ
মাত্রাহীন বিষাক্ত সাপ
[02/12, 13:24] Swapna Nath: সিগারেটও জানে আপনার বৈদগ্ধ্য শোষণ করলে লেখার ক্ষতি হতে পারে
[02/12, 13:25] Swapna Nath: রাগ করবেন না কবি
একটু মজা করলাম
[02/12, 13:26] Swapna Nath: 😃
এটি গুগল থেকে সংগ্রহ
একটা ফানি আর্ট। মূল ছবিটি
বিখ্যাত, অনেকেই দেখেছেন,
ক্লাসিক ছবি। মিকিলাঞ্জেলোর
আঁকা "ক্রিয়েশন অফ এডাম"।
এডামকে সৃষ্টি করার পর
ঈশ্বর একটি আঙুল বাড়িয়ে
রেখেছেন। এডামও একটি
আঙুল বাড়িয়ে রেখেছেন
ঈশ্বরের দিকে। দুটো আঙুল
মেলে না,এই বেদনাই চিরন্তন।
আমিও ছবিটি পোস্ট করে
মজা করলাম। আর বলতে
চেয়েছি,আমি কিন্তু ধূমপান
করি না। বিখ্যাত আর্টিস্টদের
ছবি নিয়ে এরকম মজা করেছেন
বিদেশের শিল্পীরা।
[02/12, 13:27] Swapna Nath: দারুণ ব্যাপার
জানা ছিল না
[02/12, 13:28] Swapna Nath: আমারও মনে হচ্ছিল আপনার তো সে-ই অভ্যাস নেই
[02/12, 13:29] Swapna Nath: ক্রিয়েশন অফ এডাম
ছবিটি দেখেছেন? বিশ্বখ্যাত
ছবি। অনেক ব্যাখ্যা হয়েছে
ছবিটির। না দেখে থাকলে
গুগল সার্চ করে দেখবেন।
মাস্টারপিসগুলো দেখলে
কবিতার জন্ম হয়। বিশেষ করে
সালভাদর দালি,পিকাসো,
মাতিস, ভিঞ্চি,র্যাফেল,
মাইকেল এঞ্জেলো। আপনি
তো চিত্ররসিক। এঁদের শ্রেষ্ঠ
কাজগুলো দেখবেন।
[02/12, 13:30] Swapna Nath: তাঁদের কিছু কাজ দেখেছি
[02/12, 13:31] Swapna Nath: আপনি যখন বলছেন, গুগল সার্চ করে আরও দেখব। ভালো থাকুন কবি।
[02/12, 20:21] Swapna Nath: কবির আমি তো যতদূর অনুভব করি, কখনও কবির-ই আত্মগত আমি যা কথা বলে কবির নিজের সঙ্গে, আবার কখনও পাঠকদের সঙ্গে, কখনও বা একটা নাটকীয় চরিত্র।
অনেক কবির কবিতায় আমি বহুবচনে ব্যবহৃত হয়, আবার দেখা যায় আমরা কথাটি একবচনে। ভাব অনুযায়ী সেটা হতেই পারে।
জানলাম, বিষ্ণু দে-র 'আমি'-তে ছিল
'আমরা'-র আভা, সুধীন্দ্রনাথের 'আমি' কখনও 'আমি', কখনও 'আমরা'। আবার জীবনানন্দের প্রথমদিকের 'আমরা'-তে ছিল 'আমি'-রই নির্যাস।
আপনি কাল লিখেছিলেন-- 'আমি সাধু থেকে চলিত হয়ে যাই'
তারপর লিখলেন 'চাঁদ নিরামিষাশী। তাই চুম্বনের আগে মাংস খাওয়া ছেড়েছি' বা আ 'আমি' দিয়ে আরও কিছু। সে কোন আমি? আপনার আপত্তি না-থাকলে জানতে চাইব?
[02/12, 20:22] Swapna Nath: যদিও সেটা পাঠকের অনুভবের বিষয়, তবু আপনি কিছু বললে শুনতে ভালো লাগবে।
[02/12, 20:23] Swapna Nath: কবির ন্যারেটিভে যে "আমি"
সে ব্যক্তিআমি হতে পারে,
সামাজিকআমি হতে পারে,
আবার কবিসত্তার আমি
হতে পারে। কবিও ব্যক্তিমানুষ
তো, সকল অনুভবই প্রথম
ব্যক্তিঅস্মিতার অনুভব থেকে
বৈশ্বিকতার অভিমুখে যাত্রা
করে। "আমরা"ও এক সমষ্টিগত
আমি। সে যা'ই হোক, মনস্ক
কবিতাপাঠক একটা সার্বিক
বোধেই অধিষ্ঠিত হন,কবির
উচ্চারণেও কোথাও স্পষ্ট ভাবে,
কোথাও প্রচ্ছন্নভাবে সেই বার্তার
ইশারা থেকে যায়।
[02/12, 20:24] Swapna Nath: ব্যক্তিকবির কবিতালেখা
শেষ হয়ে যাওয়া মাত্রই
একজন পাঠকতুমি এসে
ব্যক্তিকে বড়ো প্রেক্ষিতে
ব্যক্ত করে তোলে। কবিতা
লেখার সময় কবির মধ্যেই
যেন বহুব্যক্তিক বহুবাচনতা
সুপ্ত থাকে, সেই যে রামপ্রসাদের
ভাষায় "মাগির আপ্তভাবে
গুপ্তলীলা!" আপ্ত অথচ গুপ্ত।
আমার অনুভবটি বললাম,কবি!
[02/12, 20:25] Swapna Nath: ঠিক বলেছেন কবি
'কবিতা লেখার সময় কবির মধ্যেই যেন বহুব্যক্তিক বহুবাচনতা সুপ্ত থাকে'।
রবীন্দ্রনাথের একটি কথা মনে পড়ছে--" I am, I know, I express.
মানুষের এই তিন দিক এবং এই তিন নিয়েই একটি অখণ্ড সত্য। সত্যের এই তিন ভাব আমাদের নানা কাজে ও প্রবর্তনায় নিয়ত উদ্যত করে।"
তাই আমারও বিশ্বাস 'আমি'- তেই আমরা, আবার 'আমরা'-তেই আমি।
শুধু কখনও সেটা স্পষ্ট, কখনও অস্পষ্ট বা সুপ্ত।
[02/12, 20:26] Swapna Nath: আমি অনেকসময় ভাবি অনেকসময় পাঠকরা যে বলেন, কবির আত্মজৈবনিক লেখা, মূলত আত্মভাবও তো কবির চারপাশ ছাড়া নয়। সেখানেই তো ভাব নির্দিষ্ট ভূগোল ছাড়িয়ে যায়।
[02/12, 20:27] Swapna Nath: আমি অনেকসময় ভাবি অনেকসময় পাঠকরা যে বলেন, কবির আত্মজৈবনিক লেখা, মূলত আত্মভাবও তো কবির চারপাশ ছাড়া নয়। সেখানেই তো ভাব নির্দিষ্ট ভূগোল ছাড়িয়ে যায়।
[02/12, 20:28] Swapna Nath: কতকিছুই মনে হয়, আসলে কবিতাকথার কোনও সমাধান নেই।
[02/12, 20:29] Swapna Nath: হ্যাঁ। একদম। কবিতাকথার
সমাধান নেই।
সত্যি সবই তো আত্মজৈবনিক।
আমরা যা লিখি,গদ্যপদ্য সমস্তই
মন লিখি,মন পড়ি, মন অনুভব
করি। মনই ঐশ্বরিক গোয়েন্দা
[02/12, 20:30] Swapna Nath: কী সুন্দর বললেন!
'মনই ঐশ্বরিক গোয়েন্দা'
[02/12, 20:31] Swapna Nath: একদম ঠিক
সবই আত্মজৈবনিক
সবই সামাজিক
[02/12, 20:32] Swapna Nath: কথাটি অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তের,তিনি আরেকটা
সুন্দর কথা বলেছিলেন,
কবি ভগবানের গুপ্তচর।
[02/12, 20:33] Swapna Nath: আর শেষপর্যন্ত কবিতা আত্মকথাই
[02/12, 20:35] Swapna Nath: দারুণ কথা
'কবি ভগবানের গুপ্তচর'
জানতাম না
[02/12, 20:35] Swapna Nath: আই এম,আই নো,আই এক্সপ্রেস
বাক্যটি হয়তো রবীন্দ্রনাথের নয়,
দার্শনিক দেকার্তের।
[02/12, 20:36] Swapna Nath: ঠিক আছে কবি
আমি বইটি খুলে দেখব তাহলে
[02/12, 20:38] Swapna Nath: ঠিক আছে কবি
আমি বইটি খুলে দেখব তাহলে
[02/12, 20:39] Swapna Nath: হতে পারে কবি
রবীন্দ্রনাথ হয়ত উল্লেখ করেননি সেভাবে।
[02/12, 20:40] Swapna Nath: আমি তো পড়ি অনেককিছু, কিন্ত
মনে রাখতে পারি না।
[02/12, 20:41] Swapna Nath: হ্যাঁ। হতে পারে।
[02/12, 20:43] Swapna Nath: "কবিতা লিখেছি বলেই তার মানে সম্পূর্ণ বুঝেছি এমন কথা মনে করবার কোনো হেতু নেই"-- রবীন্দ্রনাথের এ কথাটি নিয়ে কিছু বলুন?
[02/12, 20:45] Swapna Nath: হ্যাঁ। তাই তো। সকল কবির
মনের কথাটিই বলেছেন
গুরুকবি। দ্বিমত নেই।
কবিতা অধরামাধুরী। যেটুকু
ধরা দেয়,তা-তে অধরারই
ইঙ্গিত অধিক।
[02/12, 20:46] Swapna Nath: শঙ্খ ঘোষের একটা বই পড়েই আপনাকে আজ প্রশ্নটি করেছিলাম।
[02/12, 20:47] Swapna Nath: শঙ্খ ঘোষ কবিদের কবি।
তাঁর গদ্যের বই পড়বেন।
অল্প কথায় কীভাবে অধিক
বলা যায়,তা শেখা যায় তাঁর
লেখা পড়ে।
[02/12, 20:49] Swapna Nath: একদম ঠিক বলেছেন।
জানলাম, 'শাজাহান' কবিতাটির এক আপাতদুর্বোধ অংশ বুঝে নিতে চেয়েছিলেন বলে প্রমথনাথ বিশীকে লিখেছিলেন তিনি-- "এখন বাইরে থেকে আমাকে মানে ভেবে বের করতে হবে-- সেই বাইরের দেউড়িতে যেমন আমি আছি, তেমনি তুমিও আছ এবং আরো দশজন আছে।"
[02/12, 20:49] Swapna Nath: আপনি যা লিখেছেন সব কথাই কবি ও কবিতার ক্ষেত্রে কোথাও না কোথাও গিয়ে সত্যই, শুধু 'সভ্যতার দস্তুর মেনে অসভ্যকে কবি হতে হয়'-- এটা আমি কখনও মানতে পারিনি।
[02/12, 20:51] Swapna Nath: যদিও এটা আমার সমস্যা, হতেই পারে, তবু আপনাকে বললাম।
[02/12, 20:54] Swapna Nath: সব কথা মনের মিলে যাবে,
এমন কথা নয়,তাই তো
বললাম,ডেলিরিয়াম! 😃
আপনি যে পঙক্তিটির কথা
বললেন,প্রথমপাঠে সকলেরই
এরকম মনে হতেই পারে! একটু
তলিয়ে ভাবলে দেখা যায়,
কবিকে অসভ্য হতে হয়,কাদের
কাছে? এই তথাকথিত সভ্যসমাজই তো অসভ্য। কবি
সত্য বলেন,প্রতিবাদ করেন বলেই তথাকথিত সভ্যদের কাছে
কবি অসভ্য। মূর্খ বড়ো, সামাজিক নয়। সভ্যতার এই
ভণ্ডামোর কথা জেনেই সমাজনির্ধারিত "অসভ্য"কেই
কবি হতে হয়। এটিই আমার বলার কথা ছিল।
[02/12, 20:55] Swapna Nath: সব মানুষের মধ্যেই কবিতা আছে, এটা মানলেও সব মানুষই কবি, এটা আমি মানিনি, মানতেও পারব না কখনও, হ্যাঁ, এটা স্বীকার করি ঈশ্বর সব মানুষকেই কোনো না কোনো গুণ দিয়ে অবশ্যই পাঠিয়েছেন, সে-গুণকে কেউ আবিষ্কার করতে পারেন, কেউ পারেন না-- আমি বিষয়টিকে এভাবে ভেবেছিলাম বলেই হয়তো দ্বন্দ্ব এসেছে।
[02/12, 20:56] Swapna Nath: কবি, আপনি কি কোনও কবির কবিতার ভাবনা বা কোনও পঙ্'ক্তি আপনার মনের সঙ্গে মিলে গেলেই ভালো বলেন নাকি বিপরীত হলেও ভালো বলেন?
[02/12, 20:57] Swapna Nath: কবিতাবিষয়ে কবিদের
ব্যক্তিগত অনুভব থাকে।
প্রত্যেকের ব্যক্তিগত বোধ,
যার যে তন্মাত্রাতেই থাকুক,
আমি শ্রদ্ধা করি। কারো কোনো
পঙক্তি বা কবিতাভাবনা
আমার বোধের সঙ্গে মিলে
গেলে ভালো লাগতেই পারে,
তবে,না-ভালোলাগাটা মন্দ
লাগা এমনটা নয়। এবং আমার
এ কথাটি সকল কবির ক্ষেত্রেই
সমান।
[02/12, 20:59] Swapna Nath: ঠিক
আমি তো কোনও কবির কবিতাভাবনা বা পঙ্'ক্তি আমার মনের সঙ্গে না-মিললেও কবির দৃষ্টিতে অনুভব করার চেষ্টা করি, আমার অনুভবশক্তি যতদূর আমাকে নিয়ে যায়।
[02/12, 21:00] Swapna Nath: ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে বোধের তো
পার্থক্য থাকে,এটি স্বাভাবিক।
স্বাভাবিক বলেই এতো-এতো
কবিতা লেখা হচ্ছে।
বোধের তারুণ্য এবং বোধের
বার্ধক্য দুটো জিনিশ! অনেক
বৃদ্ধকবির কবিতায় আমি
বোধের তারুণ্য দেখি। আবার
অনেক তরুণকবির কবিতায়
বোধের বার্ধক্য দেখে গভীর
হয়ে যাই।
[02/12, 21:00] Swapna Nath: শঙ্খ ঘোষের ভাষণমালা থেকে পড়ে বলছি। সুনীলের একটি আলোচনা পড়ে অলোকরঞ্জনের মনে হয়েছিল: 'স্বভাবী একজন পাঠক যেমন নিজের আবেগ/ বাসনা/ সংস্কারের সঙ্গে কবিকে মিলিয়ে নিতে চেষ্টা করেন, এক্ষেত্রে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তার বেশি কিছু করেননি।'
এর উত্তরে সুনীল লিখেছিলেন, 'আমি বদ্ধমূল অবাক হয়ে প্রশ্ন করি, তাতে দোষ করেছি কি? অপরের কবিতা পাঠ করার সময় আমি শুধুই একজন বিনীত, নম্র ও উদগ্রীব পাঠক, এবং নিজস্ব আবেগ ও বাসনার সঙ্গেই কবিতাকে মিলিয়ে নিতে চাই।' ভুল কি এই পদ্ধতি? প্রশ্ন করেছিলেন তিনি।
[02/12, 21:01] Swapna Nath: কিছু বলবেন?
[02/12, 21:02] Swapna Nath: ঠিক ঠিক
'বোধের তারুণ্য' আর 'বোধের বার্ধক্য' সব কবিদের মধ্যে সমভাবে ক্রিয়াশীল নয়, হওয়া সম্ভবও নয়।
[02/12, 21:03] Swapna Nath: শঙ্খ-সুনীল-অলোকরঞ্জন
আমাদের আলোচনার মূলসুরে
আছেন। আলাদা বলার নেই
কিছু।
[02/12, 21:06] Swapna Nath: আমি বলতে চেয়েছিলাম আপনার আগের কথায়, অনেকসময় দেখা যায় একই কবির মধ্যেই কখনও বোধের তারুণ্য, কখনও বোধের বার্ধক্যও দেখা যায়।
[02/12, 21:06] Swapna Nath: হ্যাঁ,তা-ও দেখা যায়। আমি
বিশেষ প্রবণতা ধরে বলেছি।
ঠিক বলেছেন।
[02/12, 21:06] Swapna Nath: আসলে কবি, একটা আমির ভেতরে তো অসংখ্য আমি আর সে-ই টুকরো-টুকরো আমিগুলোই তো শিল্পে-সাহিত্যে কথা বলে। এক-একটা সময়ে এক-একটা বিশেষ প্রবণতাও অনেকদিন ধরে প্রবহমান, সেটাও দেখা যায়, ঠিক বলেছেন।
[02/12, 21:08] Swapna Nath: আপনি যে-বলেছেন-- 'কবিতা কবিকে সঙ্গম থেকে তুলে শ্মশানে নিয়ে যায়', কতটা কঠোর ও বেদনাদায়ক সত্য, অন্তত আমার কাছে, আবার দেখুন এটাও হয়, কবিতা কবিকে শ্মশান ছেড়ে সঙ্গমে টেনে নিয়ে যায়।
[02/12, 21:09] Swapna Nath: একদম ঠিক।
আপনার উপলব্ধির গভীরতার
প্রশংসা করছি।
[02/12, 21:09] Swapna Nath: নমস্কার কবি
আপনি সেদিন যতিচিহ্নের ব্যঞ্জনার কথা বলছিলেন, কথাটি ঠিক। নকুলদা একদিন নিজের কবিতা বা অন্য কোনও কবির কবিতা নিয়ে হয়তো বলেছিলেন, মনে নেই। একটা লিটল ম্যাগাজিনে কমার ব্যবহারে ছাপার ভুল হয়েছিল, তিনি রাগ করে বলেছিলেন-- 'এটা কী হল!
এতে তো কবিতার ভাবনাই অন্যরকম হয়ে গেল।
তবে অনেক কবিরা যতিচিহ্নের ব্যবহার কম করেন, এটা কোনও কোনও কবির নিজস্ব style বলা যায়, আবার কেউ কেউ এড়িয়েই চলতে চান, এটাও আজকালকার কবিতার fashion, তাই-না কবি?
[02/12, 21:10] Swapna Nath: নমস্কার।
যতি কখনো এড়িয়ে চলা যায় না, হয়তো চিহ্ন এড়িয়ে চলেন
অনেকে। কেন? যতি হল
কথার ছন্দ,বিরাম,ব্যঞ্জনা।
এ জিনিসটা না থাকলে চলে না।
চিহ্নের ব্যবহার কম হতে পারে
বা চিহ্ন ব্যবহার না-ও হতে পারে,
কিন্তু যতি কোথাও না কোথাও
থেকেই যায়। তা না হলে কবির
কথার ভাব বা আবেগ অনুযায়ী
ব্যঞ্জনাই আসবে না, আর এটাই
তো ছন্দ।
[02/12, 21:11] Swapna Nath: যতিচিহ্ন মানে কী? মানে
সন্ন্যাসীর চিহ্ন। যতি মানে সন্ন্যাসী অর্থাৎ যিনি যত,
সংযত। বাক্যে ভাবানুযায়ী
সংযম রক্ষা করাই যতি,আর
এটি বোঝাতে আমরা কয়েকটা
চিহ্ন ব্যবহার করি। চিহ্ন ব্যবহার
না করেও বাক্য বিন্যাসের দ্বারা
যদি কেউ সেই সংযম দেখাতে
পারেন,আপত্তি নেই।
[02/12, 21:11] Swapna Nath: এ-কথাটিই আপনার কাছ থেকে শুনতে চেয়েছিলাম। 'চিহ্ন ব্যবহার না করেও বাক্য বিন্যাসের দ্বারা যদি কেউ সেই সংযম দেখাতে পারেন, আপত্তি নেই।'
[02/12, 21:12] Swapna Nath: শুধু চিহ্ন দিয়েও অসীম কথা
বলা যায়। ভিকটর হুগো
তার প্রকাশককে চিঠি লিখেছিলেন। '?'।
প্রকাশক উত্তর দিয়েছিলেন,
'!'।
আমাদের জীবনটাও '?'
মৃত্যু হল '!'।
[02/12, 21:14] Swapna Nath: ঠিক
[02/12, 21:14] Swapna Nath: আমাদের কবিরাও '?'
কবিতা হচ্ছে '!'
[02/12, 21:15] Swapna Nath: জীবনটা '!' হয়
আবার মৃত্যুও '?' হয়
[02/12, 21:16] Swapna Nath: হ্যাঁ, তা-ও হয়।
তবে একটা ইন্টারপ্রিটেশন
বাস্তবিক। একটা আধ্যাত্মিক।
[02/12, 21:17] Swapna Nath: কিন্ত এটাও তো সত্য যে, একজন কবির মধ্যে সে-সব সত্তাও রয়েছে।
[02/12, 21:19] Swapna Nath: একটু আগে যে বলেছেন-- আমাদের কবিরাও '?'
কবিতা হচ্ছে '!'
কোথাও কোথাও গিয়ে, কারও কারও কাছে এরও তো বিপরীত হয়।
[03/12, 11:32] Swapna Nath: আমার মনে হওয়াটুকুই বলছি কবি।
[03/12, 11:33] Swapna Nath: এক্ষেত্রে আমার কথাটি সার্বিক।
কারও কারও কাছে বিপরীত
হওয়ার কথা নয়। কেননা
কথাটির গভীরতা বোঝানো
যাবে না।
[03/12, 11:33] Swapna Nath: কোনো কবিই শেষ নির্ণয়ে
নিজেকে কবি বলতে চায় না,
সংকোচ বোধ করবে। তাই
কবিরা '?'। কারণ কবিতা তো
বোধাতীত এক সম্বোধি।
অধরামাধুরী। তাই কবিতা
চিরকালই '!'।
[03/12, 11:35] Swapna Nath: আমি কবিদের ভেতরের বহু সত্তার দৃষ্টিভঙ্গিতে বলতে চেয়েছিলাম, আপনি যেভাবে বলতে চেয়েছেন সেটা তো সবসময়ই সত্য, সে- কথা আমরা দুজনে আগেও বলেছি।🙏
[03/12, 11:36] Swapna Nath: খুব বেশি কবিতা পড়েছি তা একদম নয়, আবার কিছু যে পড়েনি তা-ও নয়। কবিতার শ্রেণিবিভাগ নেই , একথা আমরা আগেও বলেছিলাম। তবুও যাঁরা খিদের কবিতা বলে চেঁচান, তাঁরা তাঁদের লেখায় অনেকসময় যে-নেতিবাচক নিষ্প্রাণ কণ্ঠে steam roller চালান, সে-ই বিষয়ের ভাবনায় আপনি লিখলেও আপনার মধ্যে আন্তরিক বোধ রয়েছে। 'ভাতের রঙ ফর্সা। অন্ধকারেও ভাত খিদে দেখতে পায়।' আমার খুব ভালো লেগেছে কবি।
( steam roller কথাটি একজন লেখক থেকে ধার করেছি😄)
[03/12, 11:36] Swapna Nath: 'লণ্ঠনে রোদ্দুর ভরে রাখি। পাওয়ার কাট হলে রোদ্দুর ফুটিয়ে রাত্তিরে ভাত খাই।' খুব সুন্দর
[03/12, 11:37] Swapna Nath: হ্যাঁ,জীবনবাদ তো আছে। আমার কবিতায় প্রতিবাদ,
প্রতিবোধ আছে। কিন্তু তা
আমার ভাষায়,অনুভবে।
হাউলিং নেই অথবা প্রাণহীন
কোনো ডগম্যাটিক ক্যাকাফোনি!
মজার কথা,আমার একটা
সৌরলণ্ঠন বা চার্জলাইট আছে,
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই এটা রৌদ্রে রাখি। রোদ্দুর
ভরে রাখতে হয়,কেরোসিন ভরার মতো, এই ভাবনাটা মাথায় কিলবিল করতে করতে
গোটা কবিতারই জন্ম হয়ে গেল!
শুভবাদ,কবি।
[03/12, 11:38] Swapna Nath: কবিতাটি অনেকেরই ভালো লেগেছে। এটিই কবির আনন্দ।
[03/12, 11:40] Swapna Nath: 'লণ্ঠনে রোদ্দুর ভরে রাখি। পাওয়ার কাট হলে রোদ্দুর ফুটিয়ে রাত্তিরে ভাত খাই।' খুব সুন্দর
[03/12, 12:40] Swapna Nath: সেটাই বলতে চেয়েছিলাম, প্রতিবাদ-প্রতিরোধে জোরে জোরে চিৎকার নেই।
[03/12, 12:41] Swapna Nath: অবশ্য যাঁরা বলেন, তাঁদের ভাবনাকে অসম্মান করছি না, তবে আমার কাছে কেমন যেন ধ্বংসাত্মক মনে হয়।
[03/12, 12:41] Swapna Nath: কেউ কেউ চিৎকার করে
এজন্য যে,তারা একটা দলকে
ক্ষমতায় আনতে চেয়ে পদ্য লেখে। গভীর জীবনজিজ্ঞাসা
থেকে নয়।
[03/12, 12:42] Swapna Nath: সে-সম্ভাবনাকেও একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আর গভীর জীবনজিজ্ঞাসা সবার মধ্যে নেই, থাকার কথাও নয়।
[03/12, 12:43] Swapna Nath: অনেকেই বলেন, অনুভূতি গভীর হতে পারে ঠিক, কিন্ত চিন্তার গতিবেগ না-থাকলে সৃষ্টিতে বৈচিত্র্য, পরিবর্তন আসে না। অনুভূতি আর চিন্তার ভালো সংযোগ হলেই বা একটা আর একটাকে বাধা না-দিলেই সৃষ্টি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে না, শুধু এগিয়ে যেতে থাকে। কিছু বলুন?
[03/12, 12:44] Swapna Nath: বলার কিছু নেই। সত্যকথা।
রবীন্দ্রকাব্যগুরু বিহারীলালের
অনুভূতি গভীর ছিল,কিন্তু
সেই যে চিন্তার গতিবেগ এবং
শৈল্পিক নির্মাণচেতনা না থাকার
কারণে অধিক এগিয়ে যেতে
পারেননি।
[03/12, 12:45] Swapna Nath: লোকে যে-বলেন, কূপ গভীর থেকে গভীরতম হতে পারে, কিন্ত নদীর মতো বৈচিত্র্য সৃষ্টি তার দ্বারা সম্ভব নয়, লিখতে পারি না-বলে আজকাল কথাটি খুব বিশ্বাস করছি। তবে অনুভবেরও যে নবায়ন হয় অনেক কবির ক্ষেত্রেই, সেটা অস্বীকার করছি না।
[03/12, 12:47] Swapna Nath: শনিবারের চিঠি পড়ছি।
আগে যেগুলো পড়েছি, সেগুলো ছিল টুকরো-টুকরো, খুচরো-খুচরো কিছু পড়া যখন যেভাবে পেয়েছি। এখন জেনে খুব অবাক লাগছে যে, সজনীকান্ত শনিবারের চিঠি-তে জীবনানন্দকে তাঁর নামের বিকৃত উচ্চারণে নঞর্থক ইঙ্গিতে 'জীবানন্দ নহে' বা 'জিহ্বানন্দ নহে' বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি মনে করতেন বুদ্ধদেব- সুধীন্দ্রনাথের মতো কবিরা কবিতা লিখতেই জানেন না। সজনীকান্ত-কে কেউ কেউ জীবনানন্দের হত্যাকারী ও সফল নিন্দুক বলেন। কিছু বলবেন?
[03/12, 12:48] Swapna Nath: না। আমার মনে হয়, সজনীকান্ত
ভেতরে ভেতরে অত্যন্ত সিরিয়াস
একজন কাব্যবোদ্ধা মানুষ। তাঁর
"পথ চলতে ঘাসের ফুল" একটি
উল্লেখ্য কবিতার বই। যদিও অধুনা পাওয়া যায় কি না,বলতে
পারছি না। তাঁর একটা কবিতা
সুরারোপ করে গেয়েছিলেন
হেমন্ত। কথা মনে করতে পারছি
না। যক্ষ্মারোগীর কাতরতা এবং
আরও অনেক আর্ত বর্ণনা ছিল।
শনিবারের চিঠিতে তিনি যে জাতীয় শ্লেষ বা আক্রমণ করেছেন,আমার মনে হয়,সবই
কাগজের পাঠকবৃদ্ধির জন্য।
অধিকসংখ্যক স্থূলপাঠক এইসব
খিস্তিখেউড় খুব পছন্দ করত।
রবীন্দ্রনাথকে এতো কটাক্ষ করার পরও কবি তাঁর রচনাবলির অন্যতম সম্পাদকপদে
সজনীকান্তকেই দায়িত্ব দেন।
শুভবাদ,কবি।
[03/12, 12:49] Swapna Nath: আপনার শেষের কথাটা এখন পড়ছিলাম। আসলে এটাই সত্য, শনিবারের চিঠি-র কুখ্যাতির জন্য তাঁর অনেক গুণ ঢাকা পড়ে গিয়েছিল।
[03/12, 12:50] Swapna Nath: "আমি" কবিতায় কবির খেদোক্তি এখন পড়লাম।
'কেহ করিয়াছে ঘৃণা, কেহ মোরে বাসিয়াছে ভাল
কেহ আসিয়াছে কাছে, দূরে কেহ রহে পরিহার---
তাহাদের ঘৃণা আর ভালবাসা রূপ, রস, রঙ
আমারে করেছে সৃষ্টি, সেই আমি সংসারের জীব;
সত্য পরিচয় মোর গোপন রহিয়া গেল
হবে না প্রকাশ কোনদিন।'
[03/12, 12:51] Swapna Nath: ঠিক, ঠিক। বড়ো সহৃদয় এই
কথন।
[03/12, 12:51] Swapna Nath: জীবনানন্দ লেকচারার,কিন্তু
ভালো বলতে পারতেন না,
জিভ দিয়ে ঘন ঘন ঠোঁট ভেজাতেন। ঠোঁট শুকিয়ে যেত।
সেই দিকটা ইংগিত করে সজনীকান্ত বলতেন 'জিহ্বানন্দ'!
কবি ইনিসিয়াল লিখতেন জে.ডি.__স্টুডেন্টরা পুববাংলার
উচ্চারণে টিপ্পনী কাটত,'জেডিমা' বলে!
[03/12, 12:52] Swapna Nath: ও তা-ই!
আপনি যে কাল বলছিলেন "পথ চলতে ঘাসের ফুল" এটা পেয়েছি।
[03/12, 12:53] Swapna Nath: কবি, আপনি কি সজনীকান্ত দাসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যঙ্গ কবিতা " মাইকেল বধ কাব্য" পড়েছেন?
[03/12, 12:54] Swapna Nath: দেখলাম, প্রথম জীবনের কাব্যসাধনায় সজনীকান্ত প্রথম শ্রেণির প্যারডিস্ট ছিলেন। 'অঙ্গুষ্ঠ' কাব্যগ্রন্থ ছিল প্যারডি কবিতার শ্রেষ্ঠ সংকলন, যেখানে রবীন্দ্রনাথের বহু কবিতার প্যারডি রয়েছে। তবে সেগুলো ছিল সব বিশুদ্ধ কৌতুক। কৌতুহল জাগে পড়ার, পড়তে-পড়তে ভাবছি এমন একজন সাহিত্যিক অথচ তেমনভাবে চর্চিত নন, বা এমনও হতে পারে অনেক গ্রন্থই হয়তো রয়েছে কিন্ত পাঠকদের আগ্রহ নেই। আপনার কী মনে হয়?
[03/12, 12:55] Swapna Nath: হ্যাঁ। ঠিক তাই। এমন অনেক কবিই আছেন,যাঁরা কম পঠিত,
কম চর্চিত। সম্প্রতি কবি দেবারতি দে জগদীশ ভট্টাচার্যকে নিয়ে গবেষণা করছেন। সজনীকান্ত,নিশিকান্ত,
পরমানন্দ সরস্বতী, অজিত দত্ত,
সঞ্জয় ভট্টাচার্য, হুমায়ুন কবির,
কায়কোবাদ, প্রিয়ংবদা দেবী,
কবিতা সিংহ এঁদের কাব্যধারা
নিয়ে খুব সীমিত আলোচনা হয়
বা হয়ই না! এবং চিত্তরঞ্জন দাশ।
[03/12, 12:56] Swapna Nath: হ্যাঁ। ঠিক তাই। এমন অনেক কবিই আছেন,যাঁরা কম পঠিত,
কম চর্চিত। সম্প্রতি কবি দেবারতি দে জগদীশ ভট্টাচার্যকে নিয়ে গবেষণা করছেন। সজনীকান্ত,নিশিকান্ত,
পরমানন্দ সরস্বতী, অজিত দত্ত,
সঞ্জয় ভট্টাচার্য, হুমায়ুন কবির,
কায়কোবাদ, প্রিয়ংবদা দেবী,
কবিতা সিংহ এঁদের কাব্যধারা
নিয়ে খুব সীমিত আলোচনা হয়
বা হয়ই না! এবং চিত্তরঞ্জন দাশ।
[03/12, 12:57] Swapna Nath: ঠিক বলেছেন।
জগদীশ ভট্টাচার্য-র লেখা কিছু প্রবন্ধ পড়তে গিয়ে পড়েছি, সজনীকান্ত-কে নিয়ে তাঁর লেখা আজ পড়লাম, খুব ভালো লিখেছেন। তবে কায়কোবাদ-- এর নাম আজই শুনলাম কবি।
[03/12, 12:57] Swapna Nath: কায়কোবাদের বিখ্যাত কাব্য
"মহাশ্মশান"। তাই তাকে বলা
হয় শ্মশানকাব্যের কবি।
আমি পড়িনি যদিও।
অসিতকুমারের বাংলাসাহিত্যের
ইতিবৃত্ত, বইতে উল্লেখ আছে।
[03/12, 12:58] Swapna Nath: যদি কখনও পাই পড়ব কবি
[03/12, 12:59] Swapna Nath: আপনাকে যে সজনীকান্তের "মাইকেলবধ" কাব্যের কথা বলেছিলাম, আসলে খুব কৌতুহল হয়েছিল জানতে, সত্যি কথা বলতে গেলে আপনার পাঠের পরিধি তো বহু-বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত, আমরা অধিকাংশই সে-ই সীমানার কাছে কখনও পৌঁছুতেই পারব না, প্রবেশ করা তো দূরের কথা। জানলাম, বাংলা ছন্দের বিবর্তনে এটি একটি ঐতিহাসিক দলিল, রবীন্দ্রনাথও খুব প্রশংসা করেছিলেন।
সজনীকান্ত লিখেছেন রবীন্দ্রনাথের কথা-- মাইকেলবধ- কাব্যে তুমি যে মুন্সীয়ানা দেখাইয়াছ তাহাতে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত ছিল তোমাকে পুরস্কৃত করা, সে সম্ভাবনাও যখন নাই, তখন পুস্তাকাকারে প্রকাশের সময় আমি ইহার ভূমিকা লিখিয়া দিয়া তোমাকে পুরস্কার দিব।... নিতান্ত দুঃখের বিষয়, এত বড় আশ্বাস সত্ত্বেও কবির জীবিতকালে ইহা পুস্তকাকারে প্রকাশ করা হয় নাই। আজ অহমিকার মতো শুনাইলেও কথাটার উল্লেখ না করিয়া পারিলাম না।'
এখন এসব বই পাওয়া যায় কিনা কে জানে!
[03/12, 12:59] Swapna Nath: হ্যাঁ। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
এখন এসব আর পাওয়া যায় না।
[03/12, 13:00] Swapna Nath: ঠিকই, পাওয়া যায় না।
অন্নদাশংকরের আর্ট বইটিও আর পেলাম না, আপনি যে বলেছিলেন।
[03/12, 13:01] Swapna Nath: এ পর্যন্ত আপনি যত কবিতা লিখেছেন, সব লেখার উৎসভূমি আপনার মনে আছে বা কবিতা দেখে কোনও আগ্রহী পাঠককে বলে দিতে পারবেন কবি?
[03/12, 13:02] Swapna Nath: কবিতা পড়ে অনেক পাঠক প্রশংসামূলক নানারকমের মন্তব্য করেন, অনেকসময় মাত্রাতিরিক্ত মনে হয় অনেকের কাছেই। আপনার কী মনে হয়, এতে কবিতার ক্ষতি হচ্ছে না উপকারই হচ্ছে?
[03/12, 13:03] Swapna Nath: কবিতা লেখার পর সম্পদটা
পাঠকের হয়ে যায়। সব লেখার
তো একটা উৎস থাকে,কিন্তু
কবির পক্ষে সেটি বলা বা
স্মৃতি থেকে বলাও বোধহয়
একটা সমস্যা। তাছাড়া, রসিক
মুজতবা আলির একটা কথা
মনে পড়ে যায়, সন্তানটা
সুন্দর হল,না অসুন্দর হল,
তা হয়তো কাউকে দেখানো যায়,
কিন্তু সন্তানের সৃষ্টিপ্রক্রিয়ার
কথা তো আর বলা যায় না?
আমার ব্যক্তিগত অভিমত
জানালাম। অন্য কবিদের কথা
নয়।
দ্বিতীয় জিজ্ঞাসার উত্তরে কিছু
বলব না।
[03/12, 13:04] Swapna Nath: হ্যাঁ, এটা তো ঠিক, কবির পক্ষে উৎস বলা বা স্মৃতি থেকে বলা একটা সমস্যা। আমারও তা-ই মনে হয় কারণ, একটি কবিতার জন্মমুহূর্তে তো কবি আর পরবর্তী সময়ে সে-ই ভাবে ফিরে যেতে পারেন না। একদিন আপনি বলেছিলেন, আপনাদের বাড়িতে একটি সৌরলণ্ঠন বা চার্জলাইট আছে, প্রতিদিন রোদ্দুরে দিতে হয়, সেখান থেকে আপনার একটি কবিতার জন্ম হয়েছিল, তা-ই অনেকদিন পর প্রশ্নটি করতে ইচ্ছে হল।
[03/12, 13:05] Swapna Nath: আর দ্বিতীয়ত প্রশ্নটির বিষয়ে আপনার কাছ থেকে কিছু শুনলে ভালো লাগত। আমার মনে হয় প্রশংসায় কার্পণ্য বা উদারতা দেখালে কবিতার কোনও ক্ষতি হয় না, যা থাকার এমনিতেই থাকবে।
[03/12, 13:06] Swapna Nath: কবিতায় 'তুমি' নিয়ে কিছু বলতে চাইছি। দেখুন কবি, কোনও কবিতায় 'তুমি' দেখলেই আমরা অনেকেই ভেবে নিই কবির কোনও প্রিয় বা প্রিয়া কিংবা ভাবনা অনুযায়ী বিশেষ কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলতে চাওয়া। অথচ বিষয়টা তা নয়, আমার মনে হয় ধরার মধ্যে অধরাকে ধরা, দৃশ্যের মধ্যে অদৃশ্যকে দেখা, রূপের মধ্য অরূপকে দেখা। মোট কথা 'তুমি' কোনও সীমায় সীমায়িত নয়। লালনের একটি লাইন পেলাম, বলছি।
'দিল-দরিয়ার মাঝে দেখলাম আজব কারখানা।
ডুবলে পরে রতন পাবে ভাসলে পরে পাবে না।।
কিছু বলবেন কবি?
প্রশ্নটা পরিচিত, তবু করলাম।
[03/12, 13:07] Swapna Nath: কথাগুলোও অতি পরিচিত
আপনার কাছে কিছু শুনতে চাওয়ার জন্যই বললাম।
[03/12, 13:08] Swapna Nath: বলার কিছু নেই। আপনার
অনুভবে যা ধরা পড়েছে,তা'র
যাথার্থ্য সমর্থন করছি।
কবির 'তুমি' কখনও তার
প্রিয়জন কেউ হতে পারেন,তবে
কবিতার গহনে সেই 'তুমি'
ব্যাপক এক 'আমি' ছাড়া কেউ
নন।
[03/12, 13:08] Swapna Nath: কবিতায় কবির নিজের নাম উচ্চারণের অনেক উদাহরণ রয়েছে, যেমন ধরুন এ-মুহূর্তে মনে পড়ছে কবি অলোকরঞ্জনের -- 'শহরতলিতে আর কতদিন থাকবে অলোক', আবার ধরুন তারাপদ রায়ের-- 'এই যে আবার তারাপদ, কী খবর, পথ ভুলে।'
আপনার ক্ষেত্রেও যতদূর মনে পড়ছে দু-চারবার দেখেছি, কিছুদিন আগে একটা লেখা, যেখানে ছিল-- 'মিলনপণ্ডিত বলেছেন, ভাত মানে ভক্ত।'
কোনও কোনও কবি তাঁদের লেখায় নিজের নাম টেনে আনেন অনেকসময় নিজেকে খুব ভালোবেসে, অনেকসময় নিজেকে তিরস্কার করতে গিয়ে কিংবা ধরুন কখনও কবির মনের অহং ভাব যখন জেগে ওঠে সে-ই মুহূর্তে, আবার ভিত্তিহীন নাটকীয় ভঙ্গিতেও কখনও কবির নিজের নাম চলে আসে। পাঠক তাঁর নিজের মতো করেই ভাববে, কিন্ত এ বিষয়ে আপনার ভাবনা?
[03/12, 13:09] Swapna Nath: কবির নিজের নাম ব্যবহার
মধ্যযুগের কাব্যে ভণিতা হিসেবে,
ফার্সি গজল বা শায়রিতেও
দেখা যায়। বিষয়টা পুরনো।
তবে আধুনিক বাংলাকবিতায়
এই প্রবণতাটি নতুন। অনেকেই
এই প্রবণতার প্রভাবে পড়েন না।
তবে যারা স্বনাম সহসা পদ্যে
ব্যবহার করেন,বেশ মানিয়ে
যায় তাদের লেখার সঙ্গে। আর
আপনি যে অনুমানগুলি উল্লেখ
করেছেন,তা-ও হতে পারে। তবে
কবিমহিলাদের লেখায় এই
প্রবণতা খুব একটা মেলে না।
হয়তো কবিতায় প্রয়োজন পড়েনি অথবা স্বভাবজাত নম্রতা
বা সংকোচ এর কারণ হতে পারে। হ্যাঁ,এতে কোনো সংশয় নেই,পাঠক তার নিজের মতো
করে ভাববে। কবিও তার নিজের মতো করে ভাববেন!
[03/12, 13:11] Swapna Nath: হ্যাঁ, মধ্যযুগীয় ভণিতা দেবার ধরন তো নয়, তবে এটা ঠিক, এতে কবির স্বতন্ত্র একটি ব্যক্তিত্বের নির্মাণ হয়, বেশ ভালো লাগে আমার।
ঠিক বলেছেন কবিমহিলাদের লেখায় সে-ই প্রবণতা কম, আমি অনেকদিন আগে দু-তিনটে লাইন লিখতে গিয়ে নিজের নাম লিখেছিলাম নিজের ওপর প্রচণ্ড বিরক্ত হয়ে, লেখাটা কাছে থাকলে দেখাতে পারতাম, যদিও দেখাবার মতো কিছুই নয়।,
[03/12, 13:12] Swapna Nath: কবি আবু হাসান শাহরিয়ারের একটা লেখায় পেলাম--'কবিতার নতুনত্বের সঙ্গে কবির নবায়নের নিবিড় সম্পর্ক আছে। ফিরে ফিরে আত্মনবায়ন না থাকলে কবিসত্তার মৃত্যু ঘটে।'
আপনি হয়তো আগে বলেছেন অন্যভাবে, মনে পড়ছে না, কিছু বলবেন?
[03/12, 13:13] Swapna Nath: কবি আবু হাসান শাহরিয়ারের লেখাতেই আর একটি কথা পেলাম--'অভূতপূর্ব দেখাদেখির অকৃতপূর্ব শাব্দিক প্রকাশই কবিতার প্রাণকথা; কবিতার নতুনত্বেরও; যার উপস্থিতিতে 'অচ্ছ্যুৎ' শব্দও ছত্রিশ ব্যঞ্জনে ঝংকৃত হয়; অনুপস্থিতিতে 'অভিজাত' শব্দও ছেঁদোভাষ।'
কিছু বলুন কবি?
[03/12, 13:14] Swapna Nath: হ্যাঁ,এ বিষয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। কবির
সংস্কারে কিছু ফলিত শব্দ
থেকেই যায়। তাছাড়া কিছু
নতুন চাষাবাদে নতুন শব্দের
ফলনও কবি করেন। কথা
হল কবিতার প্রয়োজনে
কবি শব্দে শব্দে নিঃশব্দে
কথা বলেন, সেই নৈশব্দ্যের
শব্দ ধরতে পারাটা বড়ো কথা!
ধার কমে যাওয়া শব্দকে
কবি নতুন ধার দেন,নতুন
শব্দ হতে পারে,আবার শব্দের
নতুন সৃষ্টি হতে পারে। এক্ষেত্রে
কবি মুক্ত,আবার মুক্ত ননও।
কিছু শব্দ কবিকে বিচিহ্নিত
করে, সেই কিছু শব্দের প্রতি
কবির প্রিয়প্রবণতা থাকাও
বিচিত্র নয়।
[03/12, 13:15] Swapna Nath: সেটা ঠিক আছে
বলছিলাম যে, 'ফিরে ফিরে আত্মনবায়ন না থাকলে কবিসত্তার মৃত্যু ঘটে'-- বিশ্বাস করেন?
[03/12, 13:16] Swapna Nath: কবি তো সবসময়ই আত্মবিনির্মাণ করে চলেছেন।
রবীন্দ্রনাথ নিজেই তার
সর্বোচ্চ প্রমাণ। কবিসত্তার
মৃত্যু হয় না। হয়তো তিনি
নিজেকে পুনরাবৃত্ত করেন বা
বলার কিছু না থাকলে
আত্মসংবরণ করেন, বাজেমালের দোকান চালিয়ে
যান না! কথাটা এই।
[03/12, 13:17] Swapna Nath: হ্যাঁ, আমারও বিশ্বাস কোনও কবির কবিসত্তার কখনও মৃত্যু হয় না। আপনার কথায় 'বলার কিছু না থাকলে আত্মসংবরণ করেন' বা আমি বলব কবিসত্তা ঘুমিয়ে থাকে মাত্র।
[03/12, 13:17] Swapna Nath: না,কবিসত্তা ঘুমিয়ে থাকে না,
অন্য সৃজনে তিনি হয়তো নিমগ্ন
হন,অথবা কবিতার বই পড়ে
নিজেকে নন্দিত রাখেন, এটাও
তো এক নান্দনিককৃত্য।
[03/12, 13:18] Swapna Nath: আমি বলতে চেয়েছি লেখালেখি থেকে নিজেকে ঘুম পাড়িয়ে রাখেন। আপনি যেটা বলেছেন সেটা অবশ্যই ঠিক, কবি কখনও কবিতা থেকে দূরে থাকতে পারেন না, কোনও না কোনওভাবে তিনি জড়িয়েই থাকেন।
[03/12, 13:19] Swapna Nath: কোনও কবিতা পড়ে খুব আনন্দ পেলেন, তখন সেটি অন্যেরা পড়েও আনন্দিত হোক, এরকম তাড়নায় ফেসবুকে শেয়ার করা ছাড়া আর কিছু করেছেন কখনও?
[03/12, 13:20] Swapna Nath: আপনার কোনও কবিতা কোনও কবি যদি কিছু এদিক-সেদিক করে নিজের নামে ছাপিয়ে দেন, প্রচণ্ড রাগ হবে আপনার? কী করবেন তখন?
[03/12, 13:20] Swapna Nath: ফেসবুক তো কিছু কবিতা
ফিরিয়ে আনে,যে কবিতাগুলো
নিজের কাছে ভালো লাগে
ফেসবুকের নতুন বন্ধুদের জন্য
তা শেয়ার করি। সব কবিতা নয়। আমার কবিতা কেউ
এরকম নিজের নামে ছাপিয়েছেন কি না,জানা নেই।
ছেপে দিলে কিছু করার নেই।
রেগে লাভ নেই। নীরব থাকব।
[03/12, 13:21] Swapna Nath: যে কবিতাগুলো পড়ে আমি খুব আনন্দ পাই, আমি আপনার দাদাকে শোনাই, মনে হয় আরও কয়েকজনকে পড়ে শোনাই, কিন্ত কাউকে কাছে পাই না😄
[03/12, 13:22] Swapna Nath: আমার লেখা যদি এমন কেউ করেন, যা খুশি লেখা হোক, তবুও খুব কষ্ট পাব, কাঁদব খুব।
[03/12, 13:22] Swapna Nath: তাই নাকি? আজকাল আমার
কবিতা খুব সরল হয়ে আসছে।
এবং সহজ। কবিতার জন্য
নির্ধারিত পরাভাষা খুব একটা
থাকে না।
[03/12, 13:23] Swapna Nath: সরল, সহজই ভালো, তার মানে বলছি না বিপরীত হলে ভালো নয়।
তারাপদ রায়ের লেখা দেখুন, কত সহজ, সরল, তবুও খুব টানে।
[03/12, 13:30] Swapna Nath: আপনার প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের অনুভূতি নিয়ে কিছু বলবেন কবি?
[03/12, 13:31] Swapna Nath: কবিতা নিয়ে কোনও আন্দোলন সম্ভব বলে হয় আপনার?
আন্দোলন না সমাপতন কোনটা বলতে চাইবেন?
[03/12, 13:31] Swapna Nath: দুটো পাগলের প্রশ্ন
[03/12, 13:32] Swapna Nath: ঈশ্বর না-করুন, তবু ধরুন, আপনার এমন অবস্থা হল, আপনি খেতে- পরতে পারছেন না, আশ্রয় নেই, এখন কেউ এসে বলল-- আপনার অপ্রকাশিত সব কবিতা আমার কাছে বিক্রি করে দিন, দেবেন কবি?
[03/12, 13:33] Swapna Nath: যদি আপনাকে কেউ এক কোটি টাকা দিয়ে বলে, অনুগ্রহ করে আপনি আর কবিতা লিখবেন না কবি, মানবেন?
[03/12, 13:34] Swapna Nath: বিক্রি বলতে অন্যের নামে বিক্রি বলতে চেয়েছি
[03/12, 13:34] Swapna Nath: ১.প্রথম কাব্য : দুধবরন ত্রিপুরার
বাড়ি ও অন্যান্য কবিতা(আটের
দশক) সে এক রাতজাগানিয়া
শিহরণ! যদিও একটা পুস্তিকামাত্র। ১২পৃষ্ঠা। কিন্তু যেন
মনে হয়েছিল দিব্য একযুগের
সাধনার ফল।
২.কবিতা নিয়ে কোনো আন্দোলন বা সমাপতনের কথা
নয়। তবে বিশেষ কালখণ্ডে বিশেষ কোনো কবি বা কবিগণের উজ্জ্বল উপস্থিতি
সম্পর্কে একজন কবির কবিতাবেদ সচেত থাকা জরুরি।
জরুরি এজন্য যে,তাকে আত্তীকরণ বা অস্বীকার (কবিতারই প্রয়োজনে)আমাকে
করতে হবে। উত্তরকালের কবির
এই দায়টি থেকেই যায়।
৩.কোটিটাকার বিনিময়ে কবিতা
লেখা ছাড়তে পারব না। এমন
প্রস্তাব মানব না!
৪.না,কোনো আর্তঅবস্থায় কবিতা অন্যের নামে বিক্রি
করব না। প্রয়োজনই বা কী, আজকাল সকলেই লিখতে
পারে, কেন কেউ কবিতা কিনবে
অথবা বিক্রি করবে! তবে
গ্রন্থপ্রকাশের জন্য কোনো
অনুরাগী অর্থদান করতে চাইলে
গ্রহণ করতে আপত্তি নেই তো!
[03/12, 18:36] Swapna Nath: 2006-এ কল্যাণদা ( কবি কল্যাণ গুপ্ত) যখন বললেন, এখন আপনার একটা বই বের করুন। সিদ্ধান্ত নিলাম বই করব, ত্রিপুরা দর্পণ থেকে নিজের খরচে বেরোল-- প্রত্যাশার একটু আলো। কল্যাণদা বললেন এক কপি কবি অনিল সরকারকে দিয়ে আসুন, খুব খুশি হবেন তিনি। কল্যাণদার কথা রাখতে গিয়েছিলাম কবির বাড়ি। সেদিন কবিতার জন্য অনেক মানুষের মধ্যে আমাকেই তাড়াতাড়ি দেখা করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। ( প্রসঙ্গত উল্লেখ্য মন্ত্রী অনিল সরকারের কাছে এর আগে দু-তিনবার চাকরির ব্যাপারে গিয়েছিলাম, কিন্ত কথা বলা দূরে থাক, দেখা করারও সুযোগ পাইনি।) যাই হোক সেদিন কবি আমার কিছু কবিতা শুনলেন, আনন্দে কবি ফোন করে আলপনা দেবনাথকে নিজে পড়ে শোনালেন তিনটে কবিতা, এমন আনন্দবোধ আমি প্রকাশ করতে পারব না। পরে কল্যাণদা বললেন, বইমেলার মঞ্চে আরও কিছু বইয়ের সঙ্গে আপনার বইয়েরও উদ্বোধন হবে। কবিতা নিয়ে এত উন্মাদনা ছিল তখন ভালো করে ঘুমোতে পারিনি দু-তিন রাত। কথাটা অনেকের মধ্যেই ছড়িয়ে গিয়েছিল, কবিদের মধ্যে কেউ কেউ আমাকে বলছিলেন-- ওরে বাবা! তুমি তো এখন বড়ো কবি হয়ে গেছো ! মন্ত্রী তোমার বই উদ্বোধন করবেন! এগুলো যে-শ্লেষ ছিল, বুঝতে পারিনি তখন, আমি নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে বসে রইলাম। সময় চলে গেল, আমার বই আর উদ্বোধন হল না, কষ্ট হল খুব। কল্যাণদা-কে আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। কিছুদিন পরে একটা কবি সম্মেলনে দু-একজন কবি বললেন, ভালো হয়েছে কবিমন্ত্রীর হাতে তোমার বই উদ্বোধন হয়নি।
দুটোর উত্তর জানতে পারিনি কখনও। এখনও যে কবিতা নিয়ে অন্যরকম পাগলামি নেই, তা নয়, তবে এটা ঠিক এখন অনেককিছু বুঝতে শিখে গেছি। আর সবচেয়ে বড়ো কথা কবিতা ছাপানো, বই প্রকাশ, বই উদ্বোধন এসব নিয়ে আর সে-ই আবেগ নেই। এসব কথা এখানে না-বললে আর কোথাও বলার সুযোগ পাব না বলে বললাম।
[03/12, 18:37] Swapna Nath: কবিতা নিয়ে কোনও আন্দোলন বা সমাপতন, এ-ব্যাপারে আমি পুরোপুরি নিশ্চিত নই। একটা লেখা পড়ে মনে হল, তা-ই আপনাকে প্রশ্নটা করলাম।
[03/12, 18:38] Swapna Nath: কবিতার কখনও গাণিতিক মূল্য হয় না, ঠিক বলেছেন। কবিতা ছাড়ব না।
[03/12, 18:40] Swapna Nath: অনেকদিন আগে ফেসবুকে আমি একটি পোস্ট দিয়েছিলাম, মনে নেই এখন, তবে সম্ভবত এরকম ছিল-- কখনও জীবনের পাত্র থেকে শিল্প বড়ো হয়ে ওঠে, কখনও শিল্প থেকে জীবন।
আপনি সেদিন মন্তব্য করেছিলেন শিল্প থেকে জীবন অনেক বড়ো। তাহলে দেখা যাচ্ছে, আপনি খুব দুঃসহ অবস্থায় আছেন, খেতে-পরতে পারছেন না, থাকার জায়গা নেই, তার পরেও কবিতা অন্যের নামে বিক্রি করবেন না এক মুঠো ভাতের বিনিময়েও, স্বীকার করছেন তাহলে, শিল্পও জীবন থেকে বড়ো হয়?
[03/12, 18:41] Swapna Nath: সকলেই কী লিখতে পারে কবি!
আমার মনে হয় না, আমি কেন লিখতে পারি না তবে!
[03/12, 18:43] Swapna Nath: আপনার কথা আলাদা। গ্রন্থপ্রকাশের জন্য অর্থদানের কথা ভাবতেই পারি না, বিনামূল্যে গ্রন্থপ্রকাশের জন্য অনেক লেখক -কবি প্রকাশক খুঁজে পান না, তবে প্রকাশকদেরও দোষ নেই, তাঁদেরও তো সংসার আছে।
[03/12, 18:46] Swapna Nath: জীবন নিঃসন্দেহে শিল্পের চেয়ে
মহৎ। জীবন এবং শিল্প যদি কেউ অন্বিত করে নিতে পারেন
তবে সেই জীবনকে সস্তা করা
চলে না। এটিই বলার কথা।
[03/12, 18:46] Swapna Nath: জীবন এবং শিল্পের অন্বয় সব শিল্পীর পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না, আমার যতদূর মনে হয়। এটাও মনে হয় যেখানে জীবনের চেয়ে শিল্প বড়ো হয়ে ওঠে, সেখানেও অন্য এক জীবনের জন্যই শিল্পের মহত্ত্ব।
[03/12, 18:47] Swapna Nath: কবি দিলীপ দাসের একটি লাইন-- 'ভুল করে বড়ো আগে
চলে এসেছি---'
আপনার কি তা-ই মনে হয় কবি?
[03/12, 18:48] Swapna Nath: উক্ত কবির ভাব তাঁর আপনানুভব। তুলনামূলকভাবে
কিছু বলছি না।
[03/12, 18:49] Swapna Nath: অনেকসময় কবির ভাবনার সঙ্গে পাঠকের ভাবনাও মিলে যায় তো, তাই বলছিলাম, আমারও মনে হয়-- আর কিছুদিন পরে এলে কী এমন হতো!
[03/12, 18:51] Swapna Nath: এমন কোনও কবিতা, যা পড়ে আপনার চোখে জল এসে গিয়েছিল, মনে আছে কবি?
[03/12, 18:51] Swapna Nath: কিছু কবিতা আমার মনে-প্রাণে এমন জোরে ধাক্কা দিয়েছিল যে, তার ঢেউ আপনা-আপনি চোখে এসে আছড়ে পড়েছিল। স্মৃতিশক্তি দুর্বল বলে লাইনগুলো ঠিকভাবে মনে পড়ছে না।
[03/12, 18:52] Swapna Nath: একটি বহুজনবিদিত কথা, তবু বলছি। প্লেটোর কথা-- 'Art must serve politics, morals, religion' সাহিত্যের ওপর হোক, কবিতার ওপর হোক, এগুলো অভিভাবকত্ব নয় বলুন? এগুলো কি সুস্থ, স্বাভাবিক মানসিকতা, বলুন কবি?
[03/12, 18:54] Swapna Nath: অভিভাবকত্ব সবসময়
অসুস্থতা হবে কেন?
গ্রহণ-বর্জনের অধিকারই
ব্যক্তিত্বের স্বাভাবিকতা।
[03/12, 18:54] Swapna Nath: অভিভাবকত্ব সবসময় অসুস্থ -- তা তো বলিনি কবি! বলতে চেয়েছি এসব দিয়ে সাহিত্য-কবিতাকে দাঁড়িপাল্লায় তোলা নিয়ে, আমি বলছি না যে, রাজনীতি- ধর্ম-নৈতিকতা এসব জীবনের অঙ্গ নয়, কিন্ত এগুলো তো সাহিত্যের রসাস্বাদনের মানদণ্ড হতে পারে না।
[03/12, 18:56] Swapna Nath: আপনি শব্দ খুব নেড়েচেড়ে দেখেন, খুব ভালো লাগে আমার।
'ভাতকেন্দ্র' বেশ ভালো লাগল। কিছু শব্দের আধিপত্য ভেঙে দেন, কিছুর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন, কিছু শব্দকে বিদ্রূপ করে তাড়িয়ে দেন, বেশ একটা আঁকাবাঁকা শব্দপ্রবাহ, মনে রাখার মতো, সব আমার সবসময় মনে থাকে না, অনুভবটুকুই মনে থাকে, একান্তই আমার অভিমত।
[03/12, 18:57] Swapna Nath: মনে হয় শব্দকে বেশ সময় দেন কবি, তাই না?
[03/12, 18:58] Swapna Nath: সাহিত্যের রসাস্বাদনের মানদণ্ড
সাহিত্যই,আর কিছু নয়।
হ্যাঁ। শব্দ নিয়ে ভাবি। শব্দের
সৃষ্টিমূল নিয়েও ভাবি। শব্দের
ধ্বনাত্মক সৌন্দর্য নিয়েও ভাবি।
তাই কবিতায় বলেছিলাম
"মাটির মৃত্তিকা"। শব্দ নিয়ে
ভাবি এজন্য যে, কবিতা তো
শব্দশিল্প! নৈঃশব্দের কথাও
শব্দ দিয়েই বলতে হয়। অন্য একটা এবং জরুরি কারণ হচ্ছে,
আজকাল অধিকাংশ কবি-লেখক শব্দ-বানান-ব্যুৎপত্তি নিয়ে ভাবেন না। তাছাড়া দীর্ঘদিন
একই রকম, একই ধাঁচের শব্দ
দিয়ে পদ্য লিখে যাচ্ছেন,পাঠককে ভাবাতে বা
আলাদারকম উদ্দীপনা দিতে
পারছেন না। ভাষাকে আক্রমণ
না করলে নতুন সময়ের ভাষা
কীভাবে সৃষ্টি হবে! এ ব্যাপারগুলো আমাকে ভাবায়।
সিনেমায় সত্যজিৎ এটি করেননি, এটি করেছিলেন ঋত্বিক। আমি ঋত্বিকের ভাবাদর্শের কথা বলছি না।
বলছি তাঁর ভাষার কথা।
[03/12, 18:59] Swapna Nath: আমার শব্দব্যবহার সম্পর্কে
আপনি যা বললেন,বড্ড খুশি
হয়েছি। এমন তলিয়ে হয়তো
আমাকে কেউ ভাবেননি। প্রত্যেকটি কথা যথাতথ বলেছেন।
শুভনবমী।
[03/12, 18:59] Swapna Nath: আপনার অনেক শব্দ-পঙ্'ক্তি নিয়ে বলতে ইচ্ছে করে, কিন্ত সেটুকু শুধুই প্রশস্তিবাক্য, প্রশ্ন জাগায় না, তাই এখানে বলতে পারি না সেভাবে।
[03/12, 19:01] Swapna Nath: আপনার অনেক কবিতা অনুভব করতে হলে পাঠককে পড়তে হবে, জানতে হবে, স্বীকার করেন তো?
যেমন ধরুন 'কবিতাভবনের সিঁড়ি', যে -পাঠক 202- এর কবিতাভবনের কথা পড়েনি, 'এক পয়সায় একটি সিরিজ' বা আর যা-কিছু বলেছেন--- জানতে পারেনি, সে কীভাবে অনুভব করবে!
প্রসঙ্গত বলছি--'ঘ্রাণের দ্রাঘিমা', 'ঘ্রাণপ্রস্থ' ক্ষমতাশীল শব্দ, ভালো লাগল।
[03/12, 19:02] Swapna Nath: কবি বুদ্ধদেব বসু-ই প্রথম তুলনামূলক সাহিত্যের ধারণা এনেছিলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছিলেন, অথচ দেখুন নিউ ইয়র্ক যাবার আমন্ত্রণ যখন পান তখন বিরোধীরা 'বিশুদ্ধ ঈর্ষা' বা গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে কবির বিদেশযাত্রা বন্ধ করতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন, যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, জানা যায় তাঁদের কাউকে কাউকে কবি-ই যাদবপুরে এনেছিলেন, এমন ধরনের কত ঘটনা তখনও ঘটত, এখনও কবিতাকে কেন্দ্র করে কত কবিদের মধ্যে ঘটে, জানলেও অবাক লাগে মাঝেমাঝে, কষ্ট হয়, তাই না কবি?
[03/12, 19:03] Swapna Nath: বিদেশযাত্রা বন্ধ করতে বা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাড়াতে
[03/12, 19:03] Swapna Nath: কবিতা নিয়ে আপনি কখনও কোনওরকম ঈর্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন অন্য কোনও কবির দ্বারা, যা আপনাকে কষ্ট দিয়েছিল?
[03/12, 19:04] Swapna Nath: যেখানে কৃতী এবং কৃতিত্বের
ব্যাপার থাকে সেখানে এই
দ্বান্দ্বিকতা থাকে। সর্বকালেই
ব্যাপারটা মনুষ্যের চরিত্রোচিত।
এই স্বাভাবিকতা মেনে নিয়েই
কৃতীকে চলতে হয়। কখনো জয়
আসে, কখনো পরাজয়। কখনো
সময় সেই জয়কে ত্বরান্বিত করে,
কখনো সময়ই সেই পরাজয়কে
মূল্যায়িত করে।
হ্যাঁ,আমিও এরকম ঈর্ষার শিকার হয়েছি।
[03/12, 19:06] Swapna Nath: ঠিক, তবে মাঝেমাঝে কষ্ট হয়, হাসিও পায়।
আমি তো লিখতেই পারি না, তবুও দুবার সম্মুখীন হয়েছিলাম। একবার এক কবি সামনাসামনি বলেছিলেন-- তোমাকে খুব ঈর্ষা করি। কেন জানি মনে হয়েছিল এটা ভালোবাসা থেকেই সেদিন হয়তো বলেছিলেন।
[03/12, 19:07] Swapna Nath: সব কবিরা-ই যদি কবিপত্নী বা কবিস্বামী নিয়ে সংসার করত, কেমন হতো বলে মনে হয় আপনার কবি?😄
অধিকাংশ কবি-ই তাঁদের মনের মতো স্বামী বা স্ত্রী পায় না বলে কবিতা লেখে, আপনার অভিমত?
(কে যেন বলছিল সেদিন তা-ই মনে হল)
[03/12, 19:08] Swapna Nath: কবিদের স্ত্রীকবি হয় না।
কবিস্বামী হয় না। কবি
স্বতন্ত্র একটা মানুষসত্তা।
কাজেই কবি মনের মতো
স্ত্রী বা স্বামী না পেলে কবিতা
লেখে,এমন অভিমতে আস্থা
পাই না!
[03/12, 19:08] Swapna Nath: স্ত্রীকবি, কবিস্বামী হয় না-- সেটা তো আমিও জানি! একথা আগেও বলেছি আমরা অন্যপ্রশ্নে, অন্যভাবে। আমি বলতে চেয়েছিলাম ঘটনাক্রমে যখন আমরা আলোচনা করি স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কবি, বা কোনও ঘটনা হলে বলি না একজন মহিলা কবি!, সেভাবেই বলতে চাওয়া।
[03/12, 19:09] Swapna Nath: আমার মনে হয় স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কবি হলে দারুণ ব্যাপার
[03/12, 19:10] Swapna Nath: আর দ্বিতীয় প্রশ্নে বলব যিনি কবি তিনি মনের মতো স্বামী বা স্ত্রী পেলেও লিখবেন, না-পেলেও লিখবেন। তবে না-পেলে কবিতা কবির পুরো অবলম্বন বা আশ্রয় হয়ে ওঠে হয়তো।
[03/12, 19:11] Swapna Nath: কাফকা-র একটা লেখা পড়লাম আজ, কাফকা-র নিবিড় সঙ্গিনী ফেলিস, যাঁর জন্য তিনি খুব ব্যাকুলতা বোধ করেন, সেই সঙ্গিনী যখন চেয়েছিলেন তাঁর লেখার সময়ে থাকবেন তাঁর পাশে, একটি চিঠিতে কাফকা জানিয়েছিলেন তাহলে তিনি কিছুতেই লিখতে পারবেন না আর। বলেছিলেন, লেখা মানে হল নিজের কাছে নিজেকে সম্পূর্ণ উদ্'ঘাটন করা, যেখানে অন্য কিছু বা অন্য কেউ থাকলে মনে হবে নিজেকে হারিয়ে ফেলা।
এখন ধরুন আপনার কোনও প্রিয় সঙ্গী বা পাঠক আপনার কবিতা লেখার সময় আপনার পাশে থাকতে ইচ্ছা প্রকাশ করলেন, কী বলবেন তাঁকে?
[03/12, 19:12] Swapna Nath: না। কবিতা সম্পূর্ণ একামনের
শিল্প। কেউ পাশে থাকলে
আমার কবিতা লেখা হবে না।
কেননা,মগ্নভাবনার একাংশে
কারও উপস্থিতি মন নিতে চায়
না। মনও মনের ভেতর একা হয়ে
গেলে তবে কবিতা হয়। অবশ্য
এটা কবির ব্যক্তিক অভিরুচির
ব্যাপার। কবি শিলার তো পচা
আপেল টেবিলের ওপর রেখে
কবিতা লিখতেন,এমন গল্প আছে। পচাআপেলের ঘ্রাণে তিনি হয়তো একটা উদ্দীপনা
পেতেন!
[03/12, 19:13] Swapna Nath: আমিও তা-ই মনে করি।
আমি তো এমনিতেই পারি না
কেউ পাশে থাকলে আরও পারব না।
অনেক বছর আগে দু-একজন কবিকে দেখেছিলাম একেবারে দলবল নিয়ে ঘড়ঘড় করে কবিতা লিখে দিচ্ছেন ম্যাগাজিনের জন্য, বলছিলেন-- এক্ষুনি ভাবনাটা এল, এক্ষুনি লিখে ফেললাম। হতে পারে ভাবনাটা আগে থেকেই কাজ করছিল, সে-ই সময়ে সেটা সম্পূর্ণ হল। জানি না, সম্ভাবনার কথা বলছি।
[03/12, 19:14] Swapna Nath: কবি শিলারের কথাটা পড়েছি, হতে পারে উদ্দীপনা পেতেন, আমারও তাই মনে হয়।
[03/12, 19:15] Swapna Nath: কবিদের রুচিপছন্দ তো
নিজের মতো।
[03/12, 19:15] Swapna Nath: ঠিক
[03/12, 19:17] Swapna Nath: কখনও এপিটাফ লিখেছেন কবি?
[03/12, 19:18] Swapna Nath: না। তবে এপিটাফধর্মী কিছু
পঙক্তি নানান কবিতার ভেতর
হয়তো সুপ্ত হয়ে থাকতে পারে।
আসলে রীতিটি পাশ্চাত্যের।
বাংলাভাষায় একমাত্র মাইকেল
ছাড়া কেউ সার্থক এপিটাফ
লিখেছেন বলে মনে হয় না।
[03/12, 19:19] Swapna Nath: মাইকেলকে নিয়ে যেটা বলেছেন হতে পারে আপনার কথাই ঠিক, অন্যান্য যাঁরা লিখেছেন সব তো আর পড়তে পারিনি।
আমি চেষ্টা করেছিলাম, মৃত্যু আমার কণ্ঠে ভাষা পায়নি সেভাবে, তাই কলমেও আসেনি তেমন করে। জীবনে এতদূর হেঁটে এসেও মৃত্যুকে কখনও ভালোবাসতে পারিনি, অথচ অনেক বার্ধক্যের তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তির জন্য মৃত্যু কামনা করেছি।
[03/12, 19:21] Swapna Nath: জীবনানন্দের সে-ই বহুপরিচিত গদ্যলাইন 'সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি', এটাকে ঘুরিয়ে নিয়ে সঞ্জয় ভট্টাচার্য লিখেছিলেন-- -'সকলেই পাঠক নয়, কেউ কেউ পাঠক।'
যদিও জীবনানন্দ একথাও বলেছিলেন 'কবিতা সকলের জন্যে নয়।'
কিছু বলবেন কবি?
[03/12, 19:21] Swapna Nath: হ্যাঁ,আপনার অনুভবের সব কথাই ঠিক।
কবিতা সকলের জন্যই। কিন্তু
সকলে তো কবিতার দীক্ষিত
পাঠক নন? সেই অর্থে আমিও
মনে করি,কেউ কেউ যারা
কবিতার মনস্কপাঠক,কবিতা
তাদেরই জন্য। বিদ্যাপতি
বলেছিলেন :
কতো বিদগধজন
রস অনুমানই
অনুভব কাহুক না পেখ।
ভনই বিদ্যাপতি
হিয়া জুড়াইতে
লাখ না মিলিল এক।।
কথাটা আজও প্রাসঙ্গিক।
[04/12, 08:38] Swapna Nath: বিদ্যাপতির কথাটা জানতাম না
[04/12, 08:39] Swapna Nath: ঠিক, কবিতা সবার জন্য হলেও সবাইকে স্পর্শ করে না।
[04/12, 08:40] Swapna Nath: 'দীক্ষিত পাঠক' কথাটি আমরা খুব ব্যবহার করছি অনেকেই। আপনার কাছে জানতে চাইছি কোন পাঠকদের বলব 'দীক্ষিত পাঠক?'
যাঁরা আবেগপ্রবণ বা হৃদয়বান?, যাঁরা বুদ্ধিমান? বা যাঁদের আবেগ- বুদ্ধি দুটোই আছে? নাকি যাঁরা তাঁদের ছকবাঁধা জীবনের বাইরে এসে কখনও কখনও নিজের মুখোমুখি দাঁড়ায়, চারপাশের অস্তিত্বের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে চায়, তাঁরা?
একটু পরিষ্কার করে বলুন কবি?
[04/12, 08:40] Swapna Nath: (নাকি)--এর পরে হবে আবেগ বা বুদ্ধি থাকাই যথেষ্ট নয়, যাঁরা তাঁদের ছকবাঁধা-----
[04/12, 08:41] Swapna Nath: অধিক পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলোচনায়
না গিয়ে মূল বক্তব্যটি সংক্ষেপে
বলছি,দীক্ষিত পাঠক বলতে
যারা কবিতা বিষয়টা উপলব্ধি
করতে পারেন। উপলব্ধি বিষয়টা
যে-কোনো রকমই হোক। এবং
এদের সংখ্যা কমই থাকে।
সাহিত্যের পাঠক ক'জন?
সামান্যসংখ্যক সাহিত্যের পাঠকের মধ্যে কবিতার পাঠক
আরও কম। সেই কমসংখ্যক
কবিতাপাঠকের মধ্যে প্রকৃত
কবিতারসিক আরও কম। তবু
কবিতা লেখা হয়। হবে।
[04/12, 08:41] Swapna Nath: ঠিক বলেছেন কবি, প্রকৃত কবিতারসিক আরও কম।
আমারও মনে হয় কবিতামন্ত্রকে যিনি অনুভব করতে পারেন, তিনিই দীক্ষিত পাঠক।
[04/12, 08:43] Swapna Nath: বারবার বিদ্যাপতিকে মনে পড়ে :
কতো বিদগধজন
রস অনুমানই
অনুভব কাহুক না পেখ।
ভণই বিদ্যাপতি
হিয়া জুড়াইতে
লাখে না মিলল এক।।
[04/12, 08:43] Swapna Nath: সেদিন ফেসবুকে কোথায় যেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটা কথা পেলাম, কথাটি যথাযথভাবে মনে পড়ছে না, তবে সম্ভবত এরকম ছিল -- যে কবিতা পড়ে না, সে দুর্ভাগা, কিন্ত সে জানে না।
আপনার অভিমত কবি?
[04/12, 08:44] Swapna Nath: মনে পড়েছে কবি
মনবিতান-- এ দেখেছি
যে কবিতা পড়ে না, সে বড়ো দুর্ভাগা, কিন্ত সে নিজে তা জানে না।
[04/12, 08:45] Swapna Nath: সুনীল যে আপেক্ষিক অর্থে
কথাটি তা'তে আমার দ্বিমত নেই। তবে যে কবিতা পড়ে না
সে 'দুর্ভাগা' এমন আলটিমেটাম
মানা যায় কি? কেননা, আমার
বিশ্বাসে 'কবিতা' আরও বিশদ
এক তন্মাত্র। আমার লেখা পুস্তিকা "কবিতার ডেলিরিয়াম"
থেকে বিষয়টা স্পষ্ট করছি।
[04/12, 08:47] Swapna Nath: অতএব, কবিতা না-পড়েও
মানুষ কবিতার মধ্যেই আছে।
কবিতা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো
উপায় নেই।
[04/12, 08:48] Swapna Nath: হ্যাঁ, আমারও তা-ই মনে হচ্ছে আপেক্ষিক অর্থেই বলা। 'দুর্ভাগা'-তে আমারও আপত্তি। আমি তো সংগীত, চিত্রকলা, নৃত্য, ভাস্কর্য ইত্যাদি সবকিছুতেই কবিতাকে দেখি, আবার কবিতার মধ্যেও সে-সব দেখি।
[04/12, 08:49] Swapna Nath: আপনি সেদিন বিদ্যাপতির কথা বলছিলেন, তাই একটা কথা মনে পড়ল। বঙ্কিমচন্দ্র বিদ্যাপতিকে নিয়ে বলেছিলেন ( গীতিকাব্য লেখকদের স্বরূপ বোঝাতে গিয়ে) "বিদ্যাপতি যে শ্রেণীর কবি, তাঁহাদিগের কাজে বাহ্য প্রকৃতির সম্বন্ধ নাই, এমত নহে--- বাহ্য প্রকৃতির সঙ্গে মানবহৃদয়ের নিত্য সম্বন্ধ, সুতরাং কাব্যেরও নিত্য সম্বন্ধ; কিন্ত তাঁহাদিগের কাব্যে বাহ্য প্রকৃতির অপেক্ষাকৃত অস্পষ্টতা লক্ষিত হয়, তৎপরিবর্তে মনুষ্যহৃদয়ের গূঢ় তলচারী ভাবসকল প্রধান স্থান গ্রহণ করে।"
কিছু বলুন কবি?
[04/12, 08:50] Swapna Nath: বঙ্কিমের অনুভবটি যথাতথ।
বাহ্যপ্রকৃতি দিয়ে অন্তঃপ্রকৃতি
এবং অন্তঃপ্রকৃতি দিয়ে বাহ্যপ্রকৃতিকে একান্ত করে
জানা ও অনুভবের কাজ
কবিতা নয় শুধু, সমস্ত কলারই
মর্মকথা।
[04/12, 08:50] Swapna Nath: তবে চণ্ডীদাসের কথাটি মনে
রাখা চাই।
মরম না জানে
ধরম বাখানে
এমত আছয়ে যারা।
কাজ নাই সখি
তাদের কথায়
বাইরে রহুক তারা।।
মর্মে অনুভব চাই।
[04/12, 08:51] Swapna Nath: ঠিক কবি
মর্মে অনুভব চাই
[04/12, 08:51] Swapna Nath: কবিতা সবসময় জীবনকেই অনুকরণ করবে, বিশ্বাস করেন কবি?
[04/12, 08:52] Swapna Nath: জীবন ছাড়িয়ে তো কিছু হতে
পারে না! জীবন এক যাপিত
অনুভব। যাপনের মূল্যেই সে
অর্থবহ। জীবন একস্বৈরিক,
একমাত্রিক নয়। বহুস্বৈরিক,
বহুমাত্রিক এক অবাক বিস্ময়।
তাই অনুকরণ-অনুসরণের
ব্যাপারটা থেকেই যায়। তবে
কবিতার ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটা
অন্যরকম,অনন্যরকম। কবির
ব্যক্তিবোধির সৃষ্টি একটা জীবন
আছে,তা বোধহয় সবসময়
আমাদের গড়পড়তা জীবনকে
অনুকরণ করে না।
[04/12, 08:53] Swapna Nath: খুব সুন্দর বলেছেন কবি
একদম আমার মনের মতো
[04/12, 08:54] Swapna Nath: ফেসবুকে আইনস্টাইনের একটি কথা পেলাম-- 'Mathematics is the poetry of logic and the music of reason'.
কিছু বলুন কবি?
[04/12, 08:55] Swapna Nath: বিশ্বরহস্য একটা গাণিতিকশৃঙ্খলায় চলছে।
কার্যকারণসূত্র। এটি আইনস্টাইনের বিজ্ঞানবিশ্বাস।
তাঁর তত্ত্ববিশ্ব চতুর্মাত্রিক।
টাইম-স্পেস-কজ এন্ড ম্যাটার।
গণিতকে তিনি এতটাই ভালোবেসেছেন যে, এটাই
তাঁর কাছে তর্কের কবিতা,
সংগীতের যুক্তি। কবিতাকে
যদি ছন্দের দিক থেকে ভাবি,
সংগীতকে যদি তাল-মাত্রা-লয়ের দিক থেকে
ভাবি,তবে আইনস্টাইনের ভাবনা
উড়িয়ে দেওয়া যায় না,এবং তবু
বলব, কবিতা এক বোধাতীত
সম্বোধ, তার সবটুকুতে হয়তো
গণিতের নিয়ম খাটে না।
[04/12, 08:55] Swapna Nath: ঠিক বলেছেন কবি
আমিও বিশ্বাস করি কবিতায় গণিত আসতেই পারে, কিন্ত সবটুকুতে যুক্তি বা গণিতের নিয়ম খাটে না।
[04/12, 19:03] Swapna Nath: আপনি কি কখনও ছদ্মনামে কবিতা লিখেছেন কবি? যদি না-লিখে থাকেন, যাঁরা লেখেন, সে-বিষয়ে আপনার অনুভব?
[04/12, 19:03] Swapna Nath: একজন সৃজনীব্যক্তিত্ব, তা চিত্রী,
কবি,সাহিত্যিক,নাট্যকর্মী যা'ই
হোন,নানাবিধ ব্যক্তিগত কারণে
ছদ্মনাম গ্রহণ করেন। আবার কেউ-কেউ স্বনামেই প্রতিষ্ঠিতি
লাভ করেন। আমারও ছদ্মনাম
ছিল। একদা "কবিতা দেবরায়"
নামে ছড়া এবং বিভিন্ন লিটলম্যাগের আলোচনা করেছি। তাছাড়া,কিছু বইয়ের
প্রচ্ছদশিল্পী হিসেবে "কমলায়ন
পরাশর" ছদ্মনাম ব্যবহার করেছি। তবে কবিতা কখনই
ছদ্মনামে লিখিনি। ছদ্মনামে
যাঁরা লিখেন,হয়তো তাদের মতো করে কিছু নেপথ্য কারণ
থাকতে পারে।
[04/12, 19:04] Swapna Nath: আপনার ছদ্মনাম দুটো খুব সুন্দর কবি। ছদ্মনামে যাঁরা লেখেন, আমার ভালোই লাগে, বেশ একটা লুকনো-অবগুণ্ঠিত ব্যক্তিত্ব, তবে শেষ পর্যন্ত অনেক পাঠকের কাছেই জানাজানি তো হয়েই যায়।
[04/12, 19:05] Swapna Nath: সম্প্রতি আপনি জলজ সম্মানে সম্মানিত হলেন, এর আগেও নানা সাহিত্যসম্মাননায় সম্মানিত-সংবর্ধিত হয়েছেন। পুরস্কার-সংবর্ধনা নিয়ে আপনার অনুভব শুনতে চাইছি বা ধরুন কখনও কী মনে হয়েছে, আপনার প্রাপ্য থেকে আপনি বেশি পেয়েছেন বা এসব সম্মাননা আরও আগে পাওয়া উচিত ছিল?
[04/12, 19:06] Swapna Nath: আমার পিতামহের নাম কমল দত্ত। আমাদের গোত্র পরাশর।
তাই ঔপনিষদিক নাম নিয়েছি,
কমলায়ন পরাশর। এটি শুধু
প্রচ্ছদচিত্রী হিসেবেই মাত্র
দু-একটি ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছি।
[04/12, 19:07] Swapna Nath: সম্প্রতি আপনি জলজ সম্মানে সম্মানিত হলেন, এর আগেও নানা সাহিত্যসম্মাননায় সম্মানিত-সংবর্ধিত হয়েছেন। পুরস্কার-সংবর্ধনা নিয়ে আপনার অনুভব শুনতে চাইছি বা ধরুন কখনও কী মনে হয়েছে, আপনার প্রাপ্য থেকে আপনি বেশি পেয়েছেন বা এসব সম্মাননা আরও আগে পাওয়া উচিত ছিল?
[04/12, 19:08] Swapna Nath: না। পুরস্কার-সংবর্ধনা বিষয়ে
আমার বৈপ্লবিক কোনো
মতামত নেই। কেউ বা কোনো
সংস্থা তাদের দৃষ্টি ও বিচার থেকে যদি ভালোবেসে কাউকে
সম্মান জানাতে চায়, তাহলে
কেন বলব "এরে পরতে গেলে
লাগে, এরে ছিঁড়তে গেলে বাজে!" তবে এসব নিয়ে আমার
বিশেষ কোনো ভাবনা বা তৎপরতা নেই। আমি শুধু লিখে
গেছি। কবিতা লিখে গেছি প্রবন্ধের মতো, প্রবন্ধ লিখে গেছি কবিতার মতো। ধর্ম
লিখে গেছি গণ্ডারের বেদগুহ্য
শিশ্নের মতো।
[04/12, 19:10] Swapna Nath: না,কবিতা না-লেখার চরম কোনো সাধনা আছে কি?
যদি থাকে,সে সাধনা করব না।
তবে আমার কাছে কবিতা তো
সর্বত্র। শুধু কবির সাধনায় নয়,
চিত্রে,সংগীতে,ভাস্কর্যে,বক্তব্যে
সর্বত্র। কোনো না কোনোভাবে
শেষঅব্দি কবিতায় থেকে যেতে
চাই। আপনাকে শুভবাদ জানাই,
দীর্ঘদিন কবিতাবিষয়ে চর্চা ও
চর্যার সাথে আমাকে সংযুক্ত
রেখেছেন বলে। 🙏
[04/12, 19:11] Swapna Nath: বুদ্ধদেব বসু একবার 'কবিতা' পত্রিকার জন্য পত্রিকাটি রবীন্দ্রনাথের কাছে পাঠিয়ে কবির একটি কবিতা প্রার্থনা করেছিলেন।
রবীন্দ্রনাথ 'কবিতা' পত্রিকা নিয়ে কিছু আলোচনা করে শেষে লিখেছিলেন--"আমার কাছে কবিতা চেয়েছ। জান না আমার কলমটাকে পিঁজরাপোলে পাঠাবার সময় এসেছে। অন্তর্যামী জানেন এখন না-লেখার চর্চা করাই আমার চরম সাধনা। অনেকদিন লেখা চালিয়েছি। এখন যদি পরের দাবিতে ও অভ্যাসের নেশায় লেখা থামাতে না পারি, তাহলে অপঘাত ধ্রুব। এই যে তোমাকে চিঠিখানা লিখলুম এটা উজান ঠেলে। শরীর আমার নিরতিশয় ক্লান্ত, মন তাই কর্মবিমুখ। তোমাদের তো সম্বল কম নেই দেখতে পাচ্ছি--- আমার কাছে প্রার্থনা করে লজ্জায় ফেলো না।"
যদিও কবি শরীর-মনে তখন খুব ক্লান্ত ছিলেন বলে বলেছিলেন। কিন্ত 'না-লেখার সাধনা'- র কথা বলেছিলেন, সেটা দেখেই আপনাকে একটু ঘুরিয়ে প্রশ্নটা করেছিলাম, শুধুমাত্র লেখার বিষয়টিকে ধরে।
আমি আমার বিষয়ে এখানে কিছু বলার যোগ্য নই, তবুও বলছি অনেকদিন অনেক কবিতা এসেছিল, তবুও আমি কিছুই লিখিনি, প্রতিজ্ঞা করেছিলাম নিজের কাছেই লিখব না।
[04/12, 19:17] Swapna Nath: শেষে হবে-- কবিতাকথা আপাতত এখানেই শেষ করছি কবি, হয়তো কোনওদিন আবারও কিছু প্রশ্ন নিয়ে আপনার সঙ্গে হাঁটার চেষ্টা করব।
[04/12, 19:30] Swapna Nath: এখানে কবির শেষ কথাটি এভাবে টাইপ হবে (গোবিন্দ)
0 মন্তব্যসমূহ