রেস্টুরেন্ট ইচ-আদার ||মূল অসমিয়া : নীলিম কুমার ||বাংলা অনুবাদ : সত্যজিৎ চৌধুরী

রেস্টুরেন্ট ইচ-আদার
মূল অসমিয়া : নীলিম কুমার
বাংলা অনুবাদ : সত্যজিৎ চৌধুরী

কাঁচের ভারী দরজা ঠেলে
ভিতরে ঢুকেই দেখতে পেলাম -
মানুষে ভর্তি হয়ে আছে রেস্টুরেন্টটি

একটিও খালি চেয়ার নেই
সবাই একই টেবিলের সামনে বসে
দূর থেকেই খেয়ে যাচ্ছে একজন অপরজনের কিছু!

কেউ যদি খাচ্ছে
দূরে বসে থাকা ব্যক্তির ভেজা ভেজা আঙ্গুলগুলি,
অন্যজন খাচ্ছে
অন্য কারুর চোখের আলো!
কেউ যদি খাচ্ছে
কারুর ক্লান্ত শিরা-উপশিরা,
অন্যজন খাচ্ছে
অপর একজনের কণ্ঠনালী

কেউ যদি খাচ্ছে কারুর গলার স্বর
অন্যজন খাচ্ছে কারুর অশ্রুধারা
কেউ বা খাচ্ছে কারুর বিষাদ
কেউ বা খাচ্ছে কারুর হাসি
কেউ বা খাচ্ছে কারুর শরীরের সুবাস
কেউ বা খাচ্ছে কারুর শীতল হতাশ
কেউ বা আবার নুডলসের স্টিকে জড়িয়ে
মুখে ভরিয়ে দিয়েছে কারুর চুলের উচ্ছৃংখলতা
কাউকে যদি আপনি দেখেছেন - কফি খেতে থাকা
জানবেন - সেটা কফি নয়, এইমাত্র ঢেলে নেওয়া
কারুর সন্ধ্যার জলীয় স্বপ্নের পেয়ালা
কাউকে যদি দেখেছেন - স্যুপ খেতে
নিশ্চিত জানবেন স্যুপের বাটিতে ভেসে আছে
কারুর আংটি না পরা আঙ্গুল.....
কেউ খাচ্ছে কারুর পরিশ্রম
কেউ খাচ্ছে কারুর উদাস ভাবনা
কেউ খাচ্ছে কারুর ঘুম
কেউ খাচ্ছে কারুর অনিদ্রা
কেউ কারুর নিঃসঙ্গতা
এবং কেউ কাঁটা চামচ দিয়ে ভেঙে ভেঙে খাচ্ছে
কারুর স্বপ্নের দীর্ঘ নক্সা

সবাই নিমগ্ন খাওয়াতে
রেস্টুরেন্ট ইচ্-আদার
বসার একটিও চেয়ার খালি নেই আমার জন্য

রেস্টুরেন্টের পরিচালিকা মহোদয়া নিকটে এসে বললেন -
আপনি শুধু শুধু দাঁড়িয়ে থাকবেন না
বরং দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কিছু খান

রেস্টুরেন্ট ইচ্-আদার
কি অদ্ভুত! কি অদ্ভুত ¡
আমি দেখতে লাগলাম দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে
দেখতেই লাগলাম, দেখতেই লাগলাম এই অপলক দৃশ্য
এমনি ভাবে আমি অনুভব করলাম -
আমাকে কেউ খেতে আরম্ভ করেছে
আমার কাঁধের নীচে কাঁটা-চামচ বিঁধছে.....

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ