মেয়েলি ব্রতকথা চোরাগোপ্তা প্রেম যৌনতা
কথোপকথন :গোবিন্দ ধর
প্রশ্ন :৪ ইটালীনি গংসে ব্ৰতকথা বা উপবাস শুধু মেয়েদের কৱাৱ কাৱণ কি?
উত্তর : এটি সংস্কার ও কুসংস্কারের বেড়াজালে আবদ্ধ এমন একটি দৃষ্টান্ত যেটিকে পৌরাণিক পরম্পরার সাথে নূতনের আবদ্ধিকরণ বলা যেতে পারে । এই ব্রতের মধ্যে দিয়ে মেয়েরা সন্তানলাভের এক বিশেষ পরিণতি নির্ধারণ করত । এটি উপবাস থেকে করতে হত আর নিষ্ঠার দ্বারা পালন করতে হত । এটি বিভিন্ন ধর্মশাস্ত্রের মধ্যে সমানভাবে নিজের প্রভাবকে অক্ষুণ্ণ রেখেছিল । কোন কোন শাস্ত্রে আবার এটি বিচিত্রধর্মী চিন্তাধারার আলেখ্য দেখতে পাওয়া যায় । সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টান্ত বলা যেতে পারে । ফলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই ভাবধারার প্রভাবটা একেবারেই আলাদা বলা যেতে পারে । খ্রিস্টান ও হিন্দু উভয়ের প্রজাতির মধ্যেই সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন সাধিত হয়েছিল । এই বঙ্গদেশের মাটিতে বিশেষ করে কলিকাতার মাটিতে এই দুইয়ের সংযোগ সাধিত হতে দেখা গিয়েছিল । সংস্কৃতির মিল মানেই পরম্পরা আর রুচির মিল । আর এই মিলনস্থলকে খুবই উন্নীত দৃষ্টিভঙ্গির সাথে গ্রহণ করেছিল বাঙালিরা , সেই খান থেকেই আমাদের ব্রতকথার প্রতি খ্রিস্টান পরম্পরার নারীদের আগ্রহ লক্ষ্য করা যায় । একে ওপরের প্রতি বিশ্বাস রেখেই তারা এগিয়েছিল । সংস্কার ও কুসংস্কারের বেড়াজাল অতিক্রম করে যখন আমাদের মানসিকতা কেবল বিশ্বাসের নিরিখে নিঃশ্বাস নিতে থাকে তখন সেটি অনেক যোগ্য ও সৌন্দর্যের আবরণ তৈরিতে সক্ষম হয় । এক্ষেত্রেও তেমনটাই দেখতে পাওয়া গিয়েছিল । এই বিশেষ ব্রতটিও নারীরা জাতি , ধর্ম , বর্ণ নির্বিশেষে সন্তান লাভের মাধ্যম হিসাবেই কার্যকরী করতে শুরু করেছিলেন । কালক্রমে এটি সমাজে আরও বিপুল চাহিদা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছিল । মানুষের মধ্যে এটির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি একে ওপরের ধর্মের প্রতি বিশ্বাস ও ভরসাও বৃদ্ধি পেয়েছিল ।
প্রশ্ন :৫
মেয়েদের চোরাগোপ্তা স্লেং যৌনতা আদৌ আছে?
উত্তর : এ দেশে যৌনতা নিয়ে সব কিছু হয়, শুধু আলোচনাটাই হয় না। ফলে শঙ্কা থাকে হাজার রকম। বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে। অধিকাংশ পুরুষই অবশ্য এ বিষয়ে অনেকটা এগিয়ে। কৈশোরে পা দেওয়া মাত্রই, রতিলীলা সংক্রান্ত নানাবিধ প্রশ্ন দূর করতে তাঁদের গোপন প্রয়াস অনেক কিছুর উত্তর এনে দেয়। কিন্তু পিছিয়ে পড়ে নারীকুল। অনেকেই মনের কথা প্রকাশ করতে পারেন না । আবার অনেকে করেও ফেলেন । আধুনিকা হওয়ার পরেও অনেকেই এই বিষয়ে পিছিয়ে রয়েছেন আবার বলতে পারেন পিছিয়ে থাকতেই পছন্দ করেন । কারণ স্বভাব ভেদে মানুষের আকর্ষণ আলাদা আলাদা মাত্রায় কাজ করে । যেটি আপনার বা আমার কাছে শুধুই যৌনতা সেটি হয়ত অন্যের কাছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে , এমনকি ব্যস্ত জীবনের হাত থেকে বাঁচার রসদও বলতে পারেন । ফলে অনেক নারীই রয়েছেন যারা গোপনে হলেও নিজেদের শারীরিক চাহিদাকে মেটানোর উদ্দেশ্যে এমন গোপন সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে পড়েন আবার অনেকে বিষয়গুলিকে প্রকাশ্যেও করেন , কারণ তাঁদের কাছে নগ্নতা আর হৃদ্যতা বিষয় দুটি একই পৃষ্ঠার দুটি দিক মাত্র । তাই এটি নারী ভেদে ভিন্ন । আবার সকলেই যে এটিকেই নিজের আগ্রাসী শক্তি বানিয়ে ব্যবহার করতে চাইছেন , এমনটাও কিন্তু নয় । অনেকের কাছে এটি চাহিদা , অনেকের কাছে এটি অনুভূতি আবার অনেকের কাছে এটি প্লেসার অর্থাৎ সময় অতিবাহিত করবার একটা মাধ্যম বলতে পারেন । কিন্তু গোপন লিপ্সা বা গোপন চাহিদা , নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে কমবেশি সকলের মনেই বিদ্যমান । এই চাহিদার মাত্রা কেবল কমবেশি থাকে মাত্র । সবটাই মস্তিষ্কের খেলা , যিনি নিজেকে সংযত বলে দাবী করেন তার কাছে গোপন যৌনতা আলাদা অর্থ বহন করে আবার যিনি নিজেকে স্পষ্টবাদী বলে দাবী করেন , তাঁদের কাছে গোপনীয়তার প্রয়োজন ততোটাও অনুভূত হয়না । কিন্তু মনের অন্দরে অনেকেই অন্য পুরুষকে পাওয়ার আকাঙ্খা নিয়ে ঠিকই বেঁচে থাকেন , আবার একইভাবে পুরুষের মনের মধ্যেও চাহিদার বিষয়টি শারীরিক স্বকীয়তা ও গঠন বৈচিত্রের দ্বারা বিবেচিত হয়ে থাকে । অর্থাৎ আকর্ষণ । আকর্ষণীয় বস্তুকে কাছে পেলে কার না ভালো লাগবে । কিন্তু সেটি সেই আকর্ষণের ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদী হবে নাকি হবে ক্ষণস্থায়ী সেটিই মানুশভেদে ভিন্ন । ভাবনার তারতম্যই আমাদেরকে যোগ্য ও অযোগ্যের মাপকাঠিতে তুল্যমূল্য করতে শেখায় । তাই গোপনীয়তা অনেক ক্ষেত্রেই নারীদের চাহিদা কিমবা তাঁদের আচরণের মধ্যে দিয়েই সবিশেষ অধিকমাত্রায় প্রকাশ পেতে দেখা যায় । তবে যুগ পরিবর্তিত হয়েছে আর সেই পরিবর্তনের সাথে সাথে নারীদের গোপনীয়তার বৈচিত্রও পালটেছে বৈকি ! হয়ত আগামীতে এই গোপনীয় সংজ্ঞাটিরই আর কোন প্রয়োজন থাকবেনা । সেটা কে বলতে পারে ? সবই যে ভবিষ্যতের গর্ভে আছন্ন , নীতিশিক্ষা অথবা সমাজবদ্ধ মানসিকতার তারতম্যই সেটির দৃষ্টিভঙ্গি রুপায়নের একমাত্র রূপকার বলা চলে ।
প্রশ্ন :৬সামাজিক বিভিন্ন স্লেং পরিবেশে কাজের সাথে যুক্ত মেয়েদের নারীদের গোপন ভাষাকোড স্লেং চোরাগোপ্তা যৌনতা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ণ শুনবো?
উত্তর : বাংলা ভাষায় অধিকাংশ হয়রানিমূলক কথা, গালি, তিরস্কারমূলক শব্দই সাধারণত নারীকে অবমাননা অথবা হয়রানি করার জন্য ব্যবহার হয়। একই সঙ্গে শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি নারীকে যে নানা ধরনের মানসিক নিগ্রহের শিকার হতে হয়, এর একটি বড় অংশ হয় নেতিবাচক নানা শব্দের মাধ্যমে। হয়তো খেয়াল করেছেন, আপনার আশপাশে প্রচলিত বেশিরভাগ গালির সঙ্গে স্ত্রী লিঙ্গের সম্পর্ক রয়েছে। অনেক তিরস্কারমূলক শব্দের পুরুষবাচক কিছুই নেই। শহরাঞ্চলে পথচারী কর্তৃক আপত্তিকর মন্তব্যের শিকার হন ৮৮ শতাংশ নারী। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাষার মাধ্যমে নারীকে হেয় করা বা হয়রানি করার প্রভাব পড়ে সমাজের প্রায় সব ক্ষেত্রে। সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়, মেয়েদের মেয়ে হয়ে ও ছেলেদের ছেলে হয়ে উঠতে শেখানো হয়। লিঙ্গভিত্তিক এ বিভাজনই সহিংসতার একটি বড় কারণ। আমরা দেখেছি, ছেলেদের সমাজে শেখানো হয় ছেলেরা কাঁদবে না অর্থাৎ তারা আবেগ প্রকাশ করতে শেখে না। এ কারণে তারা সহিংস একটি প্রকাশের মাধ্যমে তারা আবেগ প্রদর্শন করে। মানুষের জন্মলগ্ন থেকেই পুরুষরা ভেবে এসেছেন, নারীর সৃষ্টি শুধু পুরুষের কামনা-বাসনা মেটানোর সামগ্রী হিসেবে। নারীও যে মানুষ, তার আলাদা সত্তা আছে- এটি এখনো অনেকে ভাবতেই পারেন না। এবার আসি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অসামাজিক ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের সম্পর্কে প্রায়ই এমনসব মন্তব্য ও জঘন্য কথাবার্তা নজরে আসে যে, অবাক হয়ে ভাবি- তারা কোন পরিবেশে বড় হওয়া মানুষ! নারীকে যৌন ইঙ্গিত করে এমন অশ্লীল কথাবার্তা বলে যে, মনে হয়- তারা কোনোদিন কোনো মায়ের গর্ভে জন্ম নেয়নি, কোনো নারীর স্তন্যও পান করেনি। অনলাইন পত্রিকায় একেকটি নিউজের নিচে পাঠকদের কাছ থেকে কী সব জঘন্য গালাগাল ও মন্তব্য আসে। বিকৃত এ মানসিকতার ব্যক্তিরাই ভিড়ের মধ্যে নারীকে যৌন নিগ্রহ করে। তারাই সুযোগ পেলে ধর্ষকের ভূমিকায় আত্মপ্রকাশ করে। আমাদের প্রবাদ, বাগধারা, এমনকি সম্বোধনসহ নারীবাচক প্রায় প্রতিটি শব্দই প্রবল যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ। এসব কি আদৌ বদলাবে? সেটি বদলানোর লড়াই কঠিন। আর এটি বদলাতে সমাজে সবস্তরের মানুষকে হতে হবে সচেতন ও শালীন।
আজ এসবের হাত থেকে বাঁচতেই বহু নারী এটিকেই নিজের শক্তিমত্তার হাতিয়ার বানিয়ে ফেলেছেন । সেখান থেকেই জন্ম নিয়েছে চোরাগোপ্তা যৌনতা । এখন নারী কেবল পুরুষের কথার জালে জড়িয়ে তাঁকে দুটো অশ্রাব্য গালিগালাজ করেই চলে আসেনা , অনেকে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যে এই সকল পুরুষের চাহিদাকেও হাতিয়ার বানিয়ে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি করে চলেছে । তাঁদের কাছে এটাই ঐ সকল পুরুষদের মুখে চুনকালি দেওয়ার উপযুক্ত উপায় বলা চলে । এটির মাধ্যমেই নিজেদের স্বার্থকে চরিতার্থ করে চলেছেন অনেক নারীরাই । আগে কেবল কটূক্তির শিকার হওয়ার নারীরা আজ নিজেদের অবস্থানকে সম্পূর্ণরূপে বদলে ফেলেছেন । তাঁদের কাছে এখন এগুলি দুর্বলতার মাধ্যম নয় বরং এগুলিকেই তারা শক্তিমত্তার আসল হাতিয়ার বানিয়ে ঐ সকল নোংরা ইতরদের উপরেই কার্যকরী করে চলেছে । এটিই সমাজের বিবর্তন আর নারী শক্তির উদযাপনের প্রাক ক্রিয়া বলতে পারেন ।
প্রশ্ন :৭মেয়েলী স্লেং শব্দ তালিকা হোক।আপনিও আপনার জানা শব্দগুলো লিখুন?
উত্তর : ধরুন, পথ চলতে গিয়ে হঠাৎ বেখেয়ালে আপনার পা আটকে গেল, আপনি একটা তীব্র হোঁচট খেলেন। তখন কী হয়? তীব্র যন্ত্রণাবোধের সাথে সাথেই সবচেয়ে নম্র-ভদ্র লোকটির মুখ থেকেও বেরিয়ে আসে একটা গালি। এটা প্রায় মানুষের রিফ্লেক্স বা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার মতই হয়ে গেছে। কিন্তু কেউ কি ভেবে দেখেছেন, একটা অশিষ্ট গালি দিয়ে আমরা এত আরাম বোধ করি কেন? বন্ধুদের মাঝে বা ইনফর্মাল আড্ডায় ‘শালা’, ‘গাধা’, ‘কুত্তা’ এ-জাতিয় শব্দ গালি মনে না হলেও বড়দের মাঝে বা ফর্মাল বৈঠকে তা ব্যবহার করা হলে গালি হিসেবে গণ্য করা হবে। আবার সমাজের অশিক্ষিত মানুষের কাছে যা বুলি তা অনেকসময় শিক্ষিত মানুষের কাছে গালি হিসেবে চিহ্নিত হয়। যেমন, নিম্নশ্রেণির মানুষেরা ‘মাগি’, ‘ভাতার’, ‘মিনসে’ শব্দগুলো সাধারণ অর্থেই হরহামেশা ব্যবহার করে কিন্তু এই শব্দগুলো শিক্ষিত সমাজে বা মান-ভাষায় (Standard variety of language) গালি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। জেন্ডারভেদেও গালির ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। পুরুষদের সাধারণ আড্ডায় অনেক শব্দ ব্যবহার করা হয় যা নারী মহলে গালি হিসেবে চিহ্নিত। যেমন- হুদায়, চোঁদনা, বাড়া, বকচোদ ইত্যাদি।
গালি হিসেবে যে শব্দগুলো ব্যবহার করা হয় লক্ষ্য করলে দেখা যাবে সেগুলোর অধিকাংশ এসেছে জীবজন্তু বা যাকে আমরা নিম্নশ্রেণির জীব বলে থাকি সেসব থেকে; যেমন- উল্লুক, কুত্তা, গাধা, ছাগল, পাঁঠা, শুয়োর, ছুঁচো, পেঁচা, মষ (মহিষ), ভাম, বান্দর ইত্যাদি। কিছু এসেছে নেতিবাচক বা তুচ্ছার্থে ব্যবহৃত শব্দ থেকে; যেমন- ফাল্তু, রোগা, মূর্খ, বোকা, হাঁদা, মরণ, পচা, পাজি ইত্যাদি। কিছু এসেছে রোগের নাম এবং শারীরিক ত্রুটি থেকে; যেমন- পাগল, কলেরা, যক্ষ্মা, বসন্ত, মৃগী, জিনেধরা, কানা, খোড়া, কালা ইত্যাদি। কিছু এসেছে নিম্নশ্রেণির বা অস্বীকৃত পেশা থেকে; যেমন- চোর, ডাকাত, কুলি, মুটে, মুচি, মেথর ইত্যাদি। কিছু এসেছে সম্পর্ক থেকে; যেমন- শালা, শালী, সুমুন্দি, সতীন, মাগ, ভাতার, শালার/হালার পোত/পুত, নাঙ, ভাই-ভাতারি ইত্যাদি। কিছু এসেছে মানুষের যৌনাঙ্গ থেকে; যেমন- বাল, বাড়া, ভোদা ইত্যাদি। বাংলা ভাষায় অন্য ভাষার শব্দ থেকেও বেশ কিছু গালি এসেছে; যেমন- মাদার-ফাকার, হেল, বাস্টার্ড, ফ্রড, ড্যাম্, হারাম, কাফের, শয়তান, কামিনে প্রভৃতি। ইতিহাস, সাহিত্য কিংবা মিথের অনেক নেতিবাচক বা খলচরিত্রের নাম গালি হিসেবে ব্যবহৃত হয়; যেমন- মীরজাফর, গোলাম আজম, হিটলার ইত্যাদি। অনেক সময় নাম বিকৃত করে বা মূল ধ্বনির রূপান্তর ঘটিয়ে গালি তৈরি করা হয়, যেমন- রত্ না (রত্মা), পট্ লা (পটল), খগা (খগেন)। আবার নতুন শব্দ তৈরি (coinage)’র মাধ্যমে কোনো কোনো সাহিত্যিক গালি নিয়ে আসেন; যেমনটি শেক্সপিয়ার করেছেন। আবার অনেক শব্দ ব্যুৎপত্তিগত অর্থে অশালীন না হলেও প্রয়োগের কারণে গালি হিসেবে গণ্য করা হয়; যেমন, মাগী, চাষা ইত্যাদি। ‘মাগী’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে নারী। কিন্তু ব্যবহারিক অর্থে বা মানভাষাতে খারাপ স্বভাবের নারী বা বেশ্যার সমার্থক হিসেবে গণ্য করা হয়। ‘চাষা’ শব্দটির অর্থ যারা চাষ করে, অর্থাৎ কৃষক, কিন্তু শব্দটি মূর্খ অর্থে গালি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাক্যে শব্দগঠনের মধ্য দিয়ে গালি তৈরি করা হয়; যেমন, আমি তোর টাকায় পেচ্ছাব করবো, তোর টাকায় লাথি মারি/ নিকুচি করি। আবার অভিশাপ দিতে কোনো কোনো শব্দ গালি হিসেবে ব্যবহৃত হয়; যেমন- তুই নির্বংশ হ’, তোর ভিটেয় ঘুঘু চরুক, তুই আমার মরণ। মহিলারা এ ধরনের গালিগালাজ বেশি করে থাকেন।
প্রশ্ন :৪ ইটালীনি গংসে ব্ৰতকথা বা উপবাস শুধু মেয়েদের কৱাৱ কাৱণ কি?
উত্তর : এটি সংস্কার ও কুসংস্কারের বেড়াজালে আবদ্ধ এমন একটি দৃষ্টান্ত যেটিকে পৌরাণিক পরম্পরার সাথে নূতনের আবদ্ধিকরণ বলা যেতে পারে । এই ব্রতের মধ্যে দিয়ে মেয়েরা সন্তানলাভের এক বিশেষ পরিণতি নির্ধারণ করত । এটি উপবাস থেকে করতে হত আর নিষ্ঠার দ্বারা পালন করতে হত । এটি বিভিন্ন ধর্মশাস্ত্রের মধ্যে সমানভাবে নিজের প্রভাবকে অক্ষুণ্ণ রেখেছিল । কোন কোন শাস্ত্রে আবার এটি বিচিত্রধর্মী চিন্তাধারার আলেখ্য দেখতে পাওয়া যায় । সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টান্ত বলা যেতে পারে । ফলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই ভাবধারার প্রভাবটা একেবারেই আলাদা বলা যেতে পারে । খ্রিস্টান ও হিন্দু উভয়ের প্রজাতির মধ্যেই সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন সাধিত হয়েছিল । এই বঙ্গদেশের মাটিতে বিশেষ করে কলিকাতার মাটিতে এই দুইয়ের সংযোগ সাধিত হতে দেখা গিয়েছিল । সংস্কৃতির মিল মানেই পরম্পরা আর রুচির মিল । আর এই মিলনস্থলকে খুবই উন্নীত দৃষ্টিভঙ্গির সাথে গ্রহণ করেছিল বাঙালিরা , সেই খান থেকেই আমাদের ব্রতকথার প্রতি খ্রিস্টান পরম্পরার নারীদের আগ্রহ লক্ষ্য করা যায় । একে ওপরের প্রতি বিশ্বাস রেখেই তারা এগিয়েছিল । সংস্কার ও কুসংস্কারের বেড়াজাল অতিক্রম করে যখন আমাদের মানসিকতা কেবল বিশ্বাসের নিরিখে নিঃশ্বাস নিতে থাকে তখন সেটি অনেক যোগ্য ও সৌন্দর্যের আবরণ তৈরিতে সক্ষম হয় । এক্ষেত্রেও তেমনটাই দেখতে পাওয়া গিয়েছিল । এই বিশেষ ব্রতটিও নারীরা জাতি , ধর্ম , বর্ণ নির্বিশেষে সন্তান লাভের মাধ্যম হিসাবেই কার্যকরী করতে শুরু করেছিলেন । কালক্রমে এটি সমাজে আরও বিপুল চাহিদা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছিল । মানুষের মধ্যে এটির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি একে ওপরের ধর্মের প্রতি বিশ্বাস ও ভরসাও বৃদ্ধি পেয়েছিল ।
প্রশ্ন :৫
মেয়েদের চোরাগোপ্তা স্লেং যৌনতা আদৌ আছে?
উত্তর : এ দেশে যৌনতা নিয়ে সব কিছু হয়, শুধু আলোচনাটাই হয় না। ফলে শঙ্কা থাকে হাজার রকম। বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে। অধিকাংশ পুরুষই অবশ্য এ বিষয়ে অনেকটা এগিয়ে। কৈশোরে পা দেওয়া মাত্রই, রতিলীলা সংক্রান্ত নানাবিধ প্রশ্ন দূর করতে তাঁদের গোপন প্রয়াস অনেক কিছুর উত্তর এনে দেয়। কিন্তু পিছিয়ে পড়ে নারীকুল। অনেকেই মনের কথা প্রকাশ করতে পারেন না । আবার অনেকে করেও ফেলেন । আধুনিকা হওয়ার পরেও অনেকেই এই বিষয়ে পিছিয়ে রয়েছেন আবার বলতে পারেন পিছিয়ে থাকতেই পছন্দ করেন । কারণ স্বভাব ভেদে মানুষের আকর্ষণ আলাদা আলাদা মাত্রায় কাজ করে । যেটি আপনার বা আমার কাছে শুধুই যৌনতা সেটি হয়ত অন্যের কাছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে , এমনকি ব্যস্ত জীবনের হাত থেকে বাঁচার রসদও বলতে পারেন । ফলে অনেক নারীই রয়েছেন যারা গোপনে হলেও নিজেদের শারীরিক চাহিদাকে মেটানোর উদ্দেশ্যে এমন গোপন সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে পড়েন আবার অনেকে বিষয়গুলিকে প্রকাশ্যেও করেন , কারণ তাঁদের কাছে নগ্নতা আর হৃদ্যতা বিষয় দুটি একই পৃষ্ঠার দুটি দিক মাত্র । তাই এটি নারী ভেদে ভিন্ন । আবার সকলেই যে এটিকেই নিজের আগ্রাসী শক্তি বানিয়ে ব্যবহার করতে চাইছেন , এমনটাও কিন্তু নয় । অনেকের কাছে এটি চাহিদা , অনেকের কাছে এটি অনুভূতি আবার অনেকের কাছে এটি প্লেসার অর্থাৎ সময় অতিবাহিত করবার একটা মাধ্যম বলতে পারেন । কিন্তু গোপন লিপ্সা বা গোপন চাহিদা , নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে কমবেশি সকলের মনেই বিদ্যমান । এই চাহিদার মাত্রা কেবল কমবেশি থাকে মাত্র । সবটাই মস্তিষ্কের খেলা , যিনি নিজেকে সংযত বলে দাবী করেন তার কাছে গোপন যৌনতা আলাদা অর্থ বহন করে আবার যিনি নিজেকে স্পষ্টবাদী বলে দাবী করেন , তাঁদের কাছে গোপনীয়তার প্রয়োজন ততোটাও অনুভূত হয়না । কিন্তু মনের অন্দরে অনেকেই অন্য পুরুষকে পাওয়ার আকাঙ্খা নিয়ে ঠিকই বেঁচে থাকেন , আবার একইভাবে পুরুষের মনের মধ্যেও চাহিদার বিষয়টি শারীরিক স্বকীয়তা ও গঠন বৈচিত্রের দ্বারা বিবেচিত হয়ে থাকে । অর্থাৎ আকর্ষণ । আকর্ষণীয় বস্তুকে কাছে পেলে কার না ভালো লাগবে । কিন্তু সেটি সেই আকর্ষণের ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদী হবে নাকি হবে ক্ষণস্থায়ী সেটিই মানুশভেদে ভিন্ন । ভাবনার তারতম্যই আমাদেরকে যোগ্য ও অযোগ্যের মাপকাঠিতে তুল্যমূল্য করতে শেখায় । তাই গোপনীয়তা অনেক ক্ষেত্রেই নারীদের চাহিদা কিমবা তাঁদের আচরণের মধ্যে দিয়েই সবিশেষ অধিকমাত্রায় প্রকাশ পেতে দেখা যায় । তবে যুগ পরিবর্তিত হয়েছে আর সেই পরিবর্তনের সাথে সাথে নারীদের গোপনীয়তার বৈচিত্রও পালটেছে বৈকি ! হয়ত আগামীতে এই গোপনীয় সংজ্ঞাটিরই আর কোন প্রয়োজন থাকবেনা । সেটা কে বলতে পারে ? সবই যে ভবিষ্যতের গর্ভে আছন্ন , নীতিশিক্ষা অথবা সমাজবদ্ধ মানসিকতার তারতম্যই সেটির দৃষ্টিভঙ্গি রুপায়নের একমাত্র রূপকার বলা চলে ।
প্রশ্ন :৬সামাজিক বিভিন্ন স্লেং পরিবেশে কাজের সাথে যুক্ত মেয়েদের নারীদের গোপন ভাষাকোড স্লেং চোরাগোপ্তা যৌনতা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ণ শুনবো?
উত্তর : বাংলা ভাষায় অধিকাংশ হয়রানিমূলক কথা, গালি, তিরস্কারমূলক শব্দই সাধারণত নারীকে অবমাননা অথবা হয়রানি করার জন্য ব্যবহার হয়। একই সঙ্গে শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি নারীকে যে নানা ধরনের মানসিক নিগ্রহের শিকার হতে হয়, এর একটি বড় অংশ হয় নেতিবাচক নানা শব্দের মাধ্যমে। হয়তো খেয়াল করেছেন, আপনার আশপাশে প্রচলিত বেশিরভাগ গালির সঙ্গে স্ত্রী লিঙ্গের সম্পর্ক রয়েছে। অনেক তিরস্কারমূলক শব্দের পুরুষবাচক কিছুই নেই। শহরাঞ্চলে পথচারী কর্তৃক আপত্তিকর মন্তব্যের শিকার হন ৮৮ শতাংশ নারী। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাষার মাধ্যমে নারীকে হেয় করা বা হয়রানি করার প্রভাব পড়ে সমাজের প্রায় সব ক্ষেত্রে। সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়, মেয়েদের মেয়ে হয়ে ও ছেলেদের ছেলে হয়ে উঠতে শেখানো হয়। লিঙ্গভিত্তিক এ বিভাজনই সহিংসতার একটি বড় কারণ। আমরা দেখেছি, ছেলেদের সমাজে শেখানো হয় ছেলেরা কাঁদবে না অর্থাৎ তারা আবেগ প্রকাশ করতে শেখে না। এ কারণে তারা সহিংস একটি প্রকাশের মাধ্যমে তারা আবেগ প্রদর্শন করে। মানুষের জন্মলগ্ন থেকেই পুরুষরা ভেবে এসেছেন, নারীর সৃষ্টি শুধু পুরুষের কামনা-বাসনা মেটানোর সামগ্রী হিসেবে। নারীও যে মানুষ, তার আলাদা সত্তা আছে- এটি এখনো অনেকে ভাবতেই পারেন না। এবার আসি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অসামাজিক ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের সম্পর্কে প্রায়ই এমনসব মন্তব্য ও জঘন্য কথাবার্তা নজরে আসে যে, অবাক হয়ে ভাবি- তারা কোন পরিবেশে বড় হওয়া মানুষ! নারীকে যৌন ইঙ্গিত করে এমন অশ্লীল কথাবার্তা বলে যে, মনে হয়- তারা কোনোদিন কোনো মায়ের গর্ভে জন্ম নেয়নি, কোনো নারীর স্তন্যও পান করেনি। অনলাইন পত্রিকায় একেকটি নিউজের নিচে পাঠকদের কাছ থেকে কী সব জঘন্য গালাগাল ও মন্তব্য আসে। বিকৃত এ মানসিকতার ব্যক্তিরাই ভিড়ের মধ্যে নারীকে যৌন নিগ্রহ করে। তারাই সুযোগ পেলে ধর্ষকের ভূমিকায় আত্মপ্রকাশ করে। আমাদের প্রবাদ, বাগধারা, এমনকি সম্বোধনসহ নারীবাচক প্রায় প্রতিটি শব্দই প্রবল যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ। এসব কি আদৌ বদলাবে? সেটি বদলানোর লড়াই কঠিন। আর এটি বদলাতে সমাজে সবস্তরের মানুষকে হতে হবে সচেতন ও শালীন।
আজ এসবের হাত থেকে বাঁচতেই বহু নারী এটিকেই নিজের শক্তিমত্তার হাতিয়ার বানিয়ে ফেলেছেন । সেখান থেকেই জন্ম নিয়েছে চোরাগোপ্তা যৌনতা । এখন নারী কেবল পুরুষের কথার জালে জড়িয়ে তাঁকে দুটো অশ্রাব্য গালিগালাজ করেই চলে আসেনা , অনেকে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যে এই সকল পুরুষের চাহিদাকেও হাতিয়ার বানিয়ে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি করে চলেছে । তাঁদের কাছে এটাই ঐ সকল পুরুষদের মুখে চুনকালি দেওয়ার উপযুক্ত উপায় বলা চলে । এটির মাধ্যমেই নিজেদের স্বার্থকে চরিতার্থ করে চলেছেন অনেক নারীরাই । আগে কেবল কটূক্তির শিকার হওয়ার নারীরা আজ নিজেদের অবস্থানকে সম্পূর্ণরূপে বদলে ফেলেছেন । তাঁদের কাছে এখন এগুলি দুর্বলতার মাধ্যম নয় বরং এগুলিকেই তারা শক্তিমত্তার আসল হাতিয়ার বানিয়ে ঐ সকল নোংরা ইতরদের উপরেই কার্যকরী করে চলেছে । এটিই সমাজের বিবর্তন আর নারী শক্তির উদযাপনের প্রাক ক্রিয়া বলতে পারেন ।
প্রশ্ন :৭মেয়েলী স্লেং শব্দ তালিকা হোক।আপনিও আপনার জানা শব্দগুলো লিখুন?
উত্তর : ধরুন, পথ চলতে গিয়ে হঠাৎ বেখেয়ালে আপনার পা আটকে গেল, আপনি একটা তীব্র হোঁচট খেলেন। তখন কী হয়? তীব্র যন্ত্রণাবোধের সাথে সাথেই সবচেয়ে নম্র-ভদ্র লোকটির মুখ থেকেও বেরিয়ে আসে একটা গালি। এটা প্রায় মানুষের রিফ্লেক্স বা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার মতই হয়ে গেছে। কিন্তু কেউ কি ভেবে দেখেছেন, একটা অশিষ্ট গালি দিয়ে আমরা এত আরাম বোধ করি কেন? বন্ধুদের মাঝে বা ইনফর্মাল আড্ডায় ‘শালা’, ‘গাধা’, ‘কুত্তা’ এ-জাতিয় শব্দ গালি মনে না হলেও বড়দের মাঝে বা ফর্মাল বৈঠকে তা ব্যবহার করা হলে গালি হিসেবে গণ্য করা হবে। আবার সমাজের অশিক্ষিত মানুষের কাছে যা বুলি তা অনেকসময় শিক্ষিত মানুষের কাছে গালি হিসেবে চিহ্নিত হয়। যেমন, নিম্নশ্রেণির মানুষেরা ‘মাগি’, ‘ভাতার’, ‘মিনসে’ শব্দগুলো সাধারণ অর্থেই হরহামেশা ব্যবহার করে কিন্তু এই শব্দগুলো শিক্ষিত সমাজে বা মান-ভাষায় (Standard variety of language) গালি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। জেন্ডারভেদেও গালির ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। পুরুষদের সাধারণ আড্ডায় অনেক শব্দ ব্যবহার করা হয় যা নারী মহলে গালি হিসেবে চিহ্নিত। যেমন- হুদায়, চোঁদনা, বাড়া, বকচোদ ইত্যাদি।
গালি হিসেবে যে শব্দগুলো ব্যবহার করা হয় লক্ষ্য করলে দেখা যাবে সেগুলোর অধিকাংশ এসেছে জীবজন্তু বা যাকে আমরা নিম্নশ্রেণির জীব বলে থাকি সেসব থেকে; যেমন- উল্লুক, কুত্তা, গাধা, ছাগল, পাঁঠা, শুয়োর, ছুঁচো, পেঁচা, মষ (মহিষ), ভাম, বান্দর ইত্যাদি। কিছু এসেছে নেতিবাচক বা তুচ্ছার্থে ব্যবহৃত শব্দ থেকে; যেমন- ফাল্তু, রোগা, মূর্খ, বোকা, হাঁদা, মরণ, পচা, পাজি ইত্যাদি। কিছু এসেছে রোগের নাম এবং শারীরিক ত্রুটি থেকে; যেমন- পাগল, কলেরা, যক্ষ্মা, বসন্ত, মৃগী, জিনেধরা, কানা, খোড়া, কালা ইত্যাদি। কিছু এসেছে নিম্নশ্রেণির বা অস্বীকৃত পেশা থেকে; যেমন- চোর, ডাকাত, কুলি, মুটে, মুচি, মেথর ইত্যাদি। কিছু এসেছে সম্পর্ক থেকে; যেমন- শালা, শালী, সুমুন্দি, সতীন, মাগ, ভাতার, শালার/হালার পোত/পুত, নাঙ, ভাই-ভাতারি ইত্যাদি। কিছু এসেছে মানুষের যৌনাঙ্গ থেকে; যেমন- বাল, বাড়া, ভোদা ইত্যাদি। বাংলা ভাষায় অন্য ভাষার শব্দ থেকেও বেশ কিছু গালি এসেছে; যেমন- মাদার-ফাকার, হেল, বাস্টার্ড, ফ্রড, ড্যাম্, হারাম, কাফের, শয়তান, কামিনে প্রভৃতি। ইতিহাস, সাহিত্য কিংবা মিথের অনেক নেতিবাচক বা খলচরিত্রের নাম গালি হিসেবে ব্যবহৃত হয়; যেমন- মীরজাফর, গোলাম আজম, হিটলার ইত্যাদি। অনেক সময় নাম বিকৃত করে বা মূল ধ্বনির রূপান্তর ঘটিয়ে গালি তৈরি করা হয়, যেমন- রত্ না (রত্মা), পট্ লা (পটল), খগা (খগেন)। আবার নতুন শব্দ তৈরি (coinage)’র মাধ্যমে কোনো কোনো সাহিত্যিক গালি নিয়ে আসেন; যেমনটি শেক্সপিয়ার করেছেন। আবার অনেক শব্দ ব্যুৎপত্তিগত অর্থে অশালীন না হলেও প্রয়োগের কারণে গালি হিসেবে গণ্য করা হয়; যেমন, মাগী, চাষা ইত্যাদি। ‘মাগী’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে নারী। কিন্তু ব্যবহারিক অর্থে বা মানভাষাতে খারাপ স্বভাবের নারী বা বেশ্যার সমার্থক হিসেবে গণ্য করা হয়। ‘চাষা’ শব্দটির অর্থ যারা চাষ করে, অর্থাৎ কৃষক, কিন্তু শব্দটি মূর্খ অর্থে গালি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাক্যে শব্দগঠনের মধ্য দিয়ে গালি তৈরি করা হয়; যেমন, আমি তোর টাকায় পেচ্ছাব করবো, তোর টাকায় লাথি মারি/ নিকুচি করি। আবার অভিশাপ দিতে কোনো কোনো শব্দ গালি হিসেবে ব্যবহৃত হয়; যেমন- তুই নির্বংশ হ’, তোর ভিটেয় ঘুঘু চরুক, তুই আমার মরণ। মহিলারা এ ধরনের গালিগালাজ বেশি করে থাকেন।
0 মন্তব্যসমূহ