'জোনাকি'র জন্মকথা/পীযূষ রাউত
ত্রিপুরার প্রথম কবিতা পত্র জোনাকির জন্মকথা বর্ণনারও একটা পূর্বকথা রয়েছে। পঞ্চাশ দশকের শেষের দিকে শহর শিলচরের বসবাস থেকে ছিন্নমূল হয়ে মাইল পনেরো দূরে গ্রামের স্কুলে ক্লাস টেনে ভর্তি হলাম। পি.সি.বড়জালেঙ্গা হাইস্কুল। সাকুল্যে ২২/২৩ জন ছাত্রের মধ্যে দু তিন জন লেখালেখি করে।অনূকূল পরিবেশ আমার ভিতরের সুপ্ত লেখক -সত্তাকে এক অনাস্বাদিত জগতে পা রাখার সুযোগ করে দিলো। স্কুলের বাইরে এক বিস্তীর্ণ অঞ্চলে, ধোয়ারবন্দ, ছোটজালেঙ্গা,কালাছড়া,বড়জালেঙ্গা হয়ে আইরংমারা পর্যন্ত চা-বাগান অধ্যুষিত গ্রাম -গ্রামান্তরে সমকালীন সাহিত্যের যে উন্নত পরিবেশ পেয়েছিলাম, তার বিকল্প ৭০/৭৫ বছর পর আজও কোথাও আছে কিনা ঘোর সন্দেহ। আমার সমবয়সী বন্ধু শীতাংশু পাল তখন শিলচরের জি.সি.কলেজের ছাত্র। কাছাড়ের অন্যতম পরিচিত কবি। বস্তুত,শীতাংশুর কুশলি নেতৃত্বে এই অঞ্চলে সাহিত্যের এমত সমুন্নত পরিবেশ গড়ে উঠেছিল। ' নবভারত' নামে একটা হাতে লেখা পত্রিকা সম্পাদনা করতেন শীতাংশু।একবার পশ্চিমবাংলা থেকে দেখতে অনেকটা কার্তিকের মতো একজন বাংলার মাস্টার মশাই আবির্ভূত হলেন। তিনি আবার সমকালীন আধুনিক সাহিত্যের নিষ্ঠুর সমালোচক। আমরা কয়েকজন গল্পকবিতা লিখি এই ভয়ংকর খবর শোনা মাত্রই তিনি খেপে গিয়ে অকাতর ব্যঙ্গবিদ্রুপ শুরু করলেন। শীতাংশু পালের সম্পাদনায় সেই বাংলার স্যারকে নিয়ে বেরুল একটা সচিত্র বিশেষ সংখ্যা। সে কী কাণ্ড! আসলে 'নবভারত' ছিল ' জোনাকি' প্রকাশের মূল উৎস।
ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করে কলেজে পড়ার জন্য চলে এলাম ত্রিপুরার কৈলাসহরে। আমার স্বনামধন্য মামা কমলাকান্ত দত্তপুরকায়স্থের সৌজন্যে তার বাড়িতে থাকার সুযোগও পেয়েগেলাম।
গ্রাম গ্রাম গন্ধমাখা ছোট্ট শহর কৈলাসহর।ভালোলাগার পবিত্র অনুভূতি প্রথম বেশ কিছুদিন আচ্ছন্ন করে রাখল। কলেজে নোতুন কয়েকজন বন্ধুও জুটে গেল। দুতিন জন কলেজে ঊন আমার সিনিয়রও বটে। যেমন -সুধীরেন্দ্র নারায়ণ চক্রবর্তী, মানিকচক্রবর্তী, ও শ্রীকান্ত ভট্টাচার্য। মামার বহির্বাড়িতে ছনবাঁশের একটা ঘরে পেয়িংগেস্ট থাকতেন কলেজের ইতিহাসের অধ্যাপক দেবব্রত সেন। বাড়ি শিলচর। স্যার আমাকে খুব পছন্দ করতেন। নিজে থেকেই ডেকে নানা বিষয়ে গল্প করতেন। সাহিত্যের একজন বোদ্ধা পাঠকও ছিলেন। সেই সময় প্রতিনিয়ত আমার ভাবনায় 'নবভারত' এর অনিবার্য প্রভাবে হাতে লেখা সাহিত্য পত্র প্রকাশের একটা তাড়না আমাকে অস্থির করে তুলছিল। বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করলাম। ইতোমধ্যে সিনিয়র ছাত্র কৌশিক ভট্টাচার্যের (সাংবাদিক কৌস্তুভ ভট্টাচার্যের বাবা)ভাড়া বাড়িতে 'কৈলাসহর সাহিত্য আলোচনা চক্র' নামে সাপ্তাহিক সাহিত্য -আড্ডার উন্মোচন অনুষ্ঠান হয়ে গেছে। বলা দরকার যে,পরবর্তী সময়ে প্রায় শ'তিনেক আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়ে ছিল। অনেকেই স্ব স্ব ক্ষেত্রে কৃতবিদ্য। যেমন-সুধীরেন্দ্রনারায়ণ চক্রবর্তী, গল্পকার মানিক চক্রবর্তী, প্রাবন্ধিক অরবিন্দ ভট্টাচার্য, চিত্রশিল্পী-সাহিত্যিক বিমল দেব, কবি প্রদীপবিকাশ রায়,নাট্যকার চন্দন সেনগুপ্ত, কবি হিমাদ্রি দেব, কবি সমরজিৎ সিংহ,কবি বিধু দেব, কবি জনেশ চাকমা, কবি দিলীপ কুমার বসুএবং আরো আরো অনেকে।
পূর্বে উল্লিখিত স্যার দেবব্রত সেনের ঘরে বসে আমরা সকলে মিলে হাতে লেখা 'জোনাকি' প্রকাশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলাম।এবং হাতে লেখা (আমারই হস্তাক্ষর এবং অলংকরণ) জোনাকি বেরুলো ১৯৬০ সালে।
সেই সময় আমাদের পরিবার এক ভয়ংকর দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করে চলেছে। আই.এ.পাশ করে ন'জনের সংসার প্রতিপালনের জন্য প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি নিতে বাধ্য হলাম। এমত ঝড়জলের মধ্যে পড়েও একদিকে যেমন লেখালেখি বন্ধ করিনি, তেমনি ছাপার অক্ষরে 'জোনাকি' প্রকাশের ভাবনাকেও ত্যাগ করিনি। বন্ধু সুধীরেন্দ্র নারায়ণ চক্রবর্তী ও মানিক চক্রবর্তী আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন।
শিল্পী বন্ধু বিমল দেব নিলেন অলংকরণের দায়িত্ব। রামকৃষ্ণ মহাবিদ্যালয় সংলগ্ন শ্রী প্রেস থেকে সমবেত প্রচেষ্টা য় ১৯৬৩ সালের ২৫ শে বৈশাখ ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হলো 'জোনাকি '।সে যে কী উচ্ছ্বাস কী আনন্দ! সেদিন কিন্তু ভুলেও কারোর মনে হয়নি একটা ইতিহাস সৃষ্টি হয়ে গেল।যে জটিল সমস্যার মুখোমুখি হলাম,সেটা হলো কবিতা সংগ্রহ। ষাটের দশকের শুরুর দিকে পাঠ্যবইয়ের বাইরে যে অন্যরকম (আধুনিক) কবিতা আছে, এই ব্যাপারটা অনেকরই জানা ছিলনা। কৈলাসহরের মতো অতি ক্ষুদ্র শহরে এটা কিন্তু অস্বাভাবিক ছিলনা মোটেই। চেনা মহলের কোন কোন তরুণ-তরুণীকে সমকালীন কবিতা পড়ার সুযোগ করে দিয়ে কবিতা লিখতে প্রাণীত করলাম। সুতরাং 'জোনাকি'র শুরুর দিকে দুর্বল কবিতার ছড়াছড়ি ছিল।
বিশেষ করে প্রথম দুই সংখ্যায় কবিতা নির্বাচনের দুর্বলতা সবচেয়ে বেশি ছিল। একটা চিঠি আমাকে সচেতন করে তোলার মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ত্রিপুরা সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরে চিকিৎসক হিসেবে যোগ দিলেন কবি -গল্পকার বিশ্বজিৎ চৌধুরী। শিলচর নরসিং হাই স্কুলে আমার সহপাঠী। বিশ্বজিৎ ষাটের দশকে গৌহাটি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র এবং 'সময়'নামের একটা অসাধারণ লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদক। জোনাকি প্রথম দু'সংখ্যা পড়ে আমাকে সতর্ক করে দিয়ে জানালো কবিতা নির্বাচনে কঠিন না হলে জোনাকি এবং সম্পাদক কোন দিনই কৃতিত্ব দাবি করতে পারবেনা। চোখ খুলে গেল। ঠিক করলাম ত্রিপুরা, আসাম এবং কলকাতাসহ পশ্চিমবাংলার কবিদের একত্রিত করে ' জোনাকি ' প্রকাশ করবো। ঠিকানা জোগাড় করে, যোগাযোগ করতে শুরু করলাম। ব্যর্থ হইনি। তৃতীয় সংখ্যাই পুজোসংখ্যা। সেই বিশেষ সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য কবি ছিলেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়, শিবশম্ভু পাল,সুবন্ধু ভট্টাচার্য, প্রণব বন্দ্যোপাধ্যায়, শিশির সামন্ত,শংকর চক্রবর্তী, দীপেন রায়।সকলেই কলকাতার প্রখ্যাত কবি। ছিলেন আসামের শক্তিপদব্রহ্মচারী, মণীন্দ্র রায়,শীতাংশু পাল ও কালীকুসুম চৌধুরী এবং ত্রিপুরার কল্যাণব্রত চক্রবর্তী, স্বপন সেনগুপ্ত, প্রদীপবিকাশ রায় এবং তাপস শীল।বাকিদের আর নামোল্লেখ করলামনা।বস্তুত এই সংখ্যা থেকেই 'জোনাকি 'র উত্তরণ শুরু হলো এবং পূর্বোত্তরে সাড়া জাগাতে সক্ষম হলো।
অল্প সময়ের মধ্যে 'জোনাকি ' ছোট্ট শহর কৈলাসহরে রীতিমতো সাড়া জাগাতে সক্ষম হলো। অবশ্য এর নেপথ্যে এই শহরের শিক্ষিত ও সমুন্নত সাধারণ মানুষের ভূমিকাই মুখ্য বলে মনে হয়।নচেৎ সম্পূর্ণ নোতুন ও অভিনব কবিতা আন্দোলনের পথ ততটা মসৃণ হতোনা।
লিটল ম্যাগাজিনের অন্যতম চরিত্রধর্মের কারণে ঘোষণামতো জোনাকি প্রকাশ ক্রম বিলম্বিত হতে লাগলো।
এর পশ্চাতে প্রধান কারণ ছিলো আর্থিক দুর্বলতা।১৯৬৯সালে কল্যাণপুর উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে বদলি হয়ে গেলাম।সেখানেও শুরুর দিকে কবিতা ও পত্রিকা প্রকাশের পরিবেশ অনুকূল ছিলনা।তবু বিরতি দিইনি। যুগ্মভাবে কৈলাসহর ও কল্যাণপুর থেকে প্রকাশিত হতে লাগলো। অবশ্য অনতিকালের মধ্যেই সেখানকার পরিবেশ যথেষ্ট উন্নত হয়ে উঠল। আগরতলার সঙ্গে আমার যোগাযোগ হলো সুলভ ও সহজ।সরকারি বিজ্ঞাপনও পত্রিকা প্রকাশে সামান্য সহায়ক হলো।বর্তমানে 'দেশ' পত্রিকার অবনমন ঘটলেও সেই সময়ে তার আভিজাত্য বিষয়ে কোনো সন্দেহ ছিলনা। বার দুয়েক ' দেশ' পত্রিকায় 'জোনাকির 'সংক্ষিপ্ত সপ্রশংস সমালোচনাও বেরিয়েছিল।
চাকরি করা সত্ত্বেও 'জোনাকি'প্রকাশের ব্যয়ভার বহন করা আমার কাছে সহজসাধ্য ছিলনা।তা'ই পত্রিকা কাটিং বাঁধাই ইত্যাদি স্বহস্তে করতে হতো। ভালো লেখা সংগ্রহ করার জন্য নিয়মিত চিঠিপত্র লেখা, এমনকি ঠিকানা জোগাড় করাও ছিল যথেষ্ট ঝামেলার ব্যাপার। মাসে ডাক -ব্যয় নিতান্ত কম ছিলনা।সেই সময় যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যমই ছিল চিঠিপত্র।বাড়ির জ্যেষ্ঠপুত্র হওয়ায় সংসার প্রতিপালনের সমান্তরালে নিজের শখ মেটানোর সেই প্রয়াস অনেকের কাছেই সমালোচিত হতো।ভাগ্যি ভালো বিবাহের পরে স্ত্রী সান্ত্বনার আনুকূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হয়নি।
গতকাল সন্ধ্যায় একটা সাহিত্য অনুষ্ঠানে এই সময়ের প্রখ্যাত কবি সুমন গুণ বলেছিলেন সন্দীপ দত্তও আপনার 'জোনাকি ' র সপ্রশংস উল্লেখ করেছেন।
আমি কিন্তু পত্রিকা স্থানীয় ভাবে বিলি করার আগেই লেখকদের প্রাপ্য সংখ্যা ডাকঘরে পোস্ট করে দিতাম। এই কালচারটা বর্তমানে কিছুটা হলেও বিনাশপ্রাপ্ত। শুরুর দিকে প্রকাশের প্রথম দিনেই বেশ কয়েকটা কপি কাঁধের ঝোলানো ব্যাগে ঢুকিয়ে শহর পরিক্রমায় বেরিয়ে পড়তাম। কৈলাসহর ছোট শহর।কমবেশি অনেকেই পরিচিত। পত্রিকার কথা নাবলে আট আনা পয়সা চেয়ে নিতাম। সঙ্গে সঙ্গে ঝোলা থেকে এক কপি 'জোনাকি 'বের করে উদ্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে দিয়েই হন্ হন্ করে এগিয়ে যেতাম।তাছাড়া দু একটা বিজ্ঞাপনও কষ্ট করে জোগাড় করে নিতাম। এভাবেই পরবর্তী সংখ্যার ব্যয়ভার খানিকটা হলেও নির্বাহ করা সম্ভবপর হতো।
ততদিনে জোনাকির প্রভাব পড়ে গেছে উত্তরত্রিপুরার বিভিন্ন জনপদে। পরবর্তী এক দশকে যে বিপুল সংখ্যায় লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়েছে, তা এ যুগে কল্পনা করা যায়না। ১৯৭৬ সালে ডেপুটি ডিরেক্টর বিখ্যাত কবি অপরাজিতা রায়ের সৌজন্যে কৈলাসহর থেকে ধর্মনগর বি.বি.আই.এ বদলি হয়ে এলাম। সেই সময় ধর্মনগরের সাহিত্য পরিবেশকে শাসন করছিলেন যে কয়েকজন বেকার যুবক, তারা ছিলেন কিশোর রঞ্জন দে,দীপক দেব,দীপক চক্রবর্তী, রণজিৎ রায় এবং সেলিম মুস্তাফা। আমি শেষ সংখ্যা 'জোনাকি' সম্পাদনার দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলাম কবি দীপক চক্রবর্তীর হাতে। কেন জানি তারপর পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনাকর্ম থেকে নিজেকে চিরতরে গুটিয়ে নিলাম।
১৯৬৩ থেকে ১৯৭৮ সাকুল্যে ১৫ বছরে ১৫টি সংখ্যা। কিছুই নয়। তবু জোনাকি ইতিহাস হয়ে গেল। সর্বমোট ১১৩ জন কবি লেখকের রচনায় সমৃদ্ধ। একমাত্র তাদেরই নামোল্লেখ করে 'জোনাকি'র জন্মকথা শেষ করবো যারা বাংলা কাব্যভুবনে কমবেশি প্রতিষ্ঠিত এবং যাদের আঞ্চলিক খ্যাতিও যথেষ্ট। প্রথমেই স্বরাজ্য ত্রিপুরার প্রতিষ্ঠিত কবিদের নামোল্লেখ করি। কল্যাণব্রত চক্রবর্তী, কার্তিক লাহিড়ী (কলকাতা),বিজন কৃষ্ণ চৌধুরী, প্রদীপবিকাশ রায়,দিলীপকুমার বসু,অজিত কুমার ভৌমিক, তাপস শীল,স্বপন সেনগুপ্ত, কাজল পুরকায়স্থ (কলকাতা),হিমাদ্রি দেব,শংকর বসু,কল্যাণ গুপ্ত, সিরাজউদ্দিন আহমেদ, জনেশ চাকমা, পান্নালাল রায়,বিশ্বজিৎ চৌধুরী, কমল রায়চৌধুরী, দীপক চক্রবর্তী (শিলচর), সেলিম মুস্তাফা এবং৷ সমরজিৎ সিংহ (কলকাতা)
এবার বরাক তথা আসাম ঃ
শক্তিপদ ব্রহ্মচারী, শীতাংশু পাল,মণীন্দ্র রায় (অনুজ), কালীকুসুম চৌধুরী, অতীন দাশ,উদয়ন ঘোষ(কলকাতা), শান্তনু ঘোষ,বিজিৎকুমার ভট্টাচার্য, জিতেন নাগ,রণজিৎ দাশ(কলকাতা),মনোতোষ চক্রবর্তী (মুম্বাই), বিজয়কুমার ভট্টাচার্য, দীপংকর নাথ,তপোধীর ভট্টাচার্য, শংকরজ্যোতি দেব,দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য এবং করুণাকান্তি দাশ(শিলং)।
সর্বশেষ কলকাতা ঃ
শক্তি চট্টোপাধ্যায়,সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, তারাপদ রায়,ভাস্কর চক্রবর্তী, মৃণাল বসু চৌধুরী, গৌরশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়,সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত, শম্ভু রক্ষিত,শংকর চট্টোপাধ্যায়, বিনোদ বেরা,রামেন্দ্র দেশমুখ্য,কবিরুল ইসলাম,অজিত বাইরী,শামসুল হক,দীপেন রায়,কালীপদ কোঙার,শিশির সামন্ত,শুদ্ধসত্ব বসু,সমীর রক্ষিত,পরেশ মন্ডল, রবীন সুর,মনোরমা সিংহরায়,শম্ভুনাথ চট্টোপাধ্যায়, শংকর দে,প্রণব বন্দ্যোপাধ্যায়,অজিত কুমার মুখোপাধ্যায়, অমরনাথ বসু এবং হরিশংকর প্রামাণিক।
গোবিন্দ ধর সম্পাদিত জোনাকি সমগ্র :পাঠ প্রতিক্রিয়া
ত্রিপুরার প্রথম কবিতাপত্র
'জোনাকি সমগ্র '
সংকলন ও সম্পাদনা গোবিন্দ ধর
প্রথম প্রকাশ :জানুয়ারি 2011
ISBN : 13-978-81-907097-4-3
মূল্য : তিনশ টাকা
আলোচনা:চিরশ্রী দেবনাথ
তেরশো সত্তর বাংলা (1960 খ্রীষ্টাব্দ) সনের পঁচিশে বৈশাখ তারিখে ত্রিপুরার মহকুমা কৈলাসহর থেকে 'জোনাকি 'নামে কবিতা - সাময়িকী প্রকাশিত হয়েছিল। এর সম্পাদক ছিলেন পীযূষ রাউত। প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন শিল্পী বিমল দেব। পত্রিকাটি ছিল হাতে লেখা। অবশেষে 1963 এর মে মাসে ত্রিপুরার প্রথম
কবিতাপত্র 'জোনাকির 'মুদ্রিত প্রকাশ ঘটল। প্রথম সংখ্যায় সম্পাদকের প্রতিবেদনের পরিবর্তে কৈলাসহর রামকৃষ্ণ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সচ্চিদানন্দ ধর সম্পাদকীয় লিখে দিয়েছিলেন, যেখান থেকে জানা যায় এভাবে "শনিবারের বিকালে কয়েকজন যুবক কবিতার আলোচনা করতে একত্র মিলিত হতো, নিজেদের হাতে লিখা পত্রিকা 'জোনাকি 'নিয়ে "।
মোটামুটি ভাবে ষোল বছর ধরে জোনাকি প্রকাশিত হয়, সময়ের ধারাবাহিক ব্যবধান বজায় না রেখে এবং আরেকটি পঁচিশে বৈশাখে এসে জোনাকির যাত্রা শেষ হয়। জোনাকির প্রতিটি সংখ্যাকে একত্রিত করে এই সংকলন প্রকাশ করেছে 'স্রোত প্রকাশনা। সেইসময় ত্রিপুরা, আসাম পশ্চিমবঙ্গের বহু লেখক লেখিকার
সৃষ্টির স্বাক্ষর বহন করে এই সংকলনটি ত্রিপুরার সাহিত্য জগতের একটি ইতিহাস হয়ে থাকবে।
0 মন্তব্যসমূহ