দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ:ভি ভি লেনিন
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ। একজন ব্যারিষ্টার, একজন বিখ্যাত আইনজীবী, একজন বাঙ্গালী রাজনীতিবিদ, ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামী, কবি ও লেখক। স্বরাজ্য পার্টির প্রতিষ্ঠাতা। বৃটিশ আমলে বৃহৎ অঙ্কের আয় অর্জনকারী ব্যারিষ্টারী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর সম্পদ সাহায্যপ্রার্থীদের কাছে বিলিয়ে দিয়ে বাংলার ইতিহাসে দানবীর হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন, দেওয়ানী ও ফৌজদারী উভয় আইনেই দক্ষ ছিলেন। বিশ শতকের বাংলার সবচেয়ে প্রগতিশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। চাকুরীর ক্ষেত্রে অবহেলিত মুসলমানদের অধিকহারে সুযোগদানের নীতি গ্রহন করেন।।"দেশবন্ধু" উপাধি নিয়ে বিশ্ব বিখ্যাত হয়ে গেছেন।
১৮৭০ সালের ৫ নভেম্বর দেশবন্ধুচিত্তরঞ্জন দাশ বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরের তেলিরবাগ গ্রামে এক উচ্চবিত্ত কায়স্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।তার পিতা ভুবন মোহন দাস কলকাতা হাইকোর্টের এটর্নী ছিলেন। তাঁর পিতামহ ছিলেন সরকারি আইনজীবী,দুই কাকা ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী,তাঁর পরিবারের তিনজন ছিলেন জেলা জজ,তাঁর ভাই সুধীর রঞ্জন দাশ ছিলেন প্রধান বিচারপতি। পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায় হলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের নাতি।
১৮৯৩ সালে ইংল্যান্ড থেকে ব্যারিষ্টার পাশ করেন।
১৮৯৪ সালে কলকাতা হাইকোর্টে আইন পেশায় যোগ দেন।
১৮৯৭ সালের ডিসেম্বর মাসে বিজনী রাজকোর্টের কন্যা বাসন্তী দেবীকে বিয়ে করেন।
১৯০৮ সালে অরবিন্দ ঘোষের বিচার তাঁকে পেশাগত মঞ্চের সম্মুখ সারিতে নিয়ে আসে। এত সুনিপুণ দক্ষতায় মামলাটিতে বিবাদী পক্ষ সমর্থন করেন যে অরবিন্দ ঘোষকে শেষ পর্যন্ত বেকসুর খালাস দেয়া হয়।
১৯১০ সালে " ঢাকা ষড়যন্ত্র মামলা" বিবাদী পক্ষের কৌশলী ছিলেন।
১৯১৪ সালে " দিল্লীর ষড়যন্ত্র মামলা" পরিচালনা করেন।
১৯২১ সালে বৃটিশ আইন অমান্য আন্দোলন করায় কারাগারে দন্ডিত হন।
১৯২৪ সালে কলকাতার মেয়র নির্বাচিত হন।
১৯২৫ সালে দ্বিতীয়বার কলকাতার মেয়র নির্বাচিত হন।
১৯২৫ সালের ১৬ জুন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ দার্জিলিং শহরে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে পৈতৃক বসতবাড়ীটি জনসাধারনের জন্য দান করে যান। সেখানে চিত্তরঞ্জন " সেবাসদন" প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
উদার মতবাদ ও দেশের প্রতি দরদের কারণে হিন্দু মুসলমান সকলের শ্রদ্ধা ও ভালবাসা অর্জন করেন। উদার মতবাদের জন্য জনগণ তাকে "দেশবন্ধু" খেতাবে ভূষিত করেন।
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের মৃত্যুর খবরে শোকার্ত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার সম্বন্ধে বলেনঃ
এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ।
মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান।।
0 মন্তব্যসমূহ