কবি ফাল্গুনী চক্রবর্তী মুখোমুখি কবি ও কথাশ্রমিক গোবিন্দ ধর

কবি ফাল্গুনী চক্রবর্তী 
মুখোমুখি 
কবি ও কথাশ্রমিক গোবিন্দ ধর 

পরিচিতি 


পিতার নাম:দিবাকর চক্রবর্তী।

মাতার নাম:শিখা চক্রবর্তী।

জন্ম:ত্রিপুরা কৈলাশহ‌র।


সংকলন

১।ম্যাগনলিয়া ।

২।।মেঘ উড়াল।

৩।আলবেলী।(ঊদু হিন্দী  গজল এর বূই।)

৪।খুবলেই শিলং। চতুর্থ কাব্য সংকলন প্রকাশের পথে।



৪।পুরস্কার এর নাম


১।লেভী অফ্ হোপ,দক্ষিণ, আফ্রিকা।কেপটাউন।

  ২।সংঘমিত্রা অফ‍‌ দ এজ।(শ্রীলংকা,কলম্বো)অল ইনডিয়া পয়েটেস কনফারেন্স 

৩।সুলভ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার।

লোপামুদ্রা গুজরাট বদোধরা।

৪।ইতিহাস ও গবেষণা‌ কেন্দ্র চট্টগ্রাম বাংলাদেশ।

সম্মাননা

১।অন্যধারা সাহিত্য সম্মান ঢাকা ইনস্টিটিউট অফ্ ইনজিনিয়ারিং কলেজে দেওয়া হয়েছে।

২।সাপ্তাহিক বজরোকথা সমমান পীরগঞ্জ রংপুর বাংলাদেশ।

৩।সমিধ সাহিত্য সম্মান সমিধ পত্রিকা বহরমপুর মুরশিদাবাদ দারা আয়োজিত ।পুরস্কার বিতরণ সভা হয়  পশচিম বংগ বাংলা একাডেমি।

৪।জনানতর সম্মান ।বহরমপুর মুরশিদাবাদ।পুরস্কার বিতরণ করা হয় পশ্চিমবঙ্গ বাংলা একাডেমি।

৫।কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় কমিটি দারা আগরতলায় সম্মান।

৬।আনন্দমুখর সাহিত্য সম্মান কলকাতা ।

৭।কলম সাহিত্য সৈনিক সম্মান কলকাতা।

৮।বিশ্ব ‌কবিমনচো দারা ‌কলকাতা সিলেটে সম্মান।

৯।সাংস্কৃতিক জোট সিলেট দারা সম্মান।

১০!সাহিত্য সংসদ পাবনা দারা সম্মান।

১১!জাতীয় কবিতা উৎসবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মান ২০২০ফেবরয়ারী ।

১২।হিন্দী সাহিত্য সম্মান_হরিয়াণা বিবানী।

১৩।হিন্দী ‌সাহিত্য সম্মান মুরাদাবাদ উত্তরপ্রদেশ।

১৪।উমরাও জান আদা পুরস্কার কর্ণাটক গূলবাগ (অল ইনডিয়া পয়েটেস কনফারেন্স।

১৫। এ আই পিসি special award Dibrugarh Assam

১৬।Ai pc Tezpur State award.

16।বঙ্গবন্ধু সাহিত্য সম্মান।কলকাতা।

১৭।স্বপ্ন সিঁড়ি সাহিত্য সম্মান ।বহরমপুর মুরশিদাবাদ।

১৮।এবিপি ফিল্ম পুরস্কার।কলকাতা

১৯।অণুকৃতী সম্মান।কলকাতা বাংলা একাডেমি।

২০।আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মান,কলকাতা।

২১।স্রোত সাহিত্যে সম্মান ।আগরতলা ইত্যাদি।


‌শিক্ষা-এম এ Philosophy and Hindi with B.Ed.

পেশা-Shillong Laitumkhrah Bengali Secondary School এর শিক্ষিকা।

সংস্থা ও পদ


১।শিলং বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কাযকরী  সমিতির সদস্য। Prakton সম্পাদক করমোশালা বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ শিলং।

২।সদস্য নিখিল বঙ্গ কলকাতা।

৩।সভাপতি এসোসিয়েশন ফর সাউথ এশিয়ান কালচার এন্ড লিটারেচার ।

৪।সহ সভাপতি আনন্দ মুখর সাহিত্য  পত্রিকা।

৫।উপদেষ্টা সবুজের দল শিলং।

৬।সদস্য অভিব্যক্তি দিল্লী।

৭।সদস্য অল ইন্ডিয়া পয়েটেস কনফারেন্স।

৮।সদস্য মেঘালয় অল ইন্ডিয়া পয়েটেস কনফারেন্স।

৯।সদস্য পূরবোতর হিন্দী একাডেমি শিলং।


১০।উপদেষ্টা মেঠোসুর, সিলেট।


১১।বিশ্ব বাংলা কবিতা উৎসব হলদিয়া তে প্রতি বছর কবি তাই পাঠ।



প্রশ্ন:১

মেঘালয়ের শিলং রাজধানী।শৈল শহর।তুমি কবিতা চর্চায় ভিন্ন সুর এনেছো।এটাই আমরা জানি।চর্চার শুরুর দিনগুলো শুনবো?


ফাল্গুনী চক্রবর্তী :১

শিলং বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ এর ত্রই মাসিক পত্র,কর্মশালার রবি বাসরীয় আসর থেকেই আমার ব্যক্তিগত জীবনে কবিতা নিয়ে একটি বিপ্লব   তৈরী হয়,কারণ এই আসরের বিশেষ দিক হল যে কোন ধরণের লেখা পাঠের পরই তার আলোচনা ও সমালোচনা।এই পরিসরে যেমন একজন কবি লেখকের খামতি ধরা পড়ত অনুরূপ ভাবে তার সৃজন শীলতার নান্দনিক সৃষ্টি ও।

কবিতার ক্ষেত্রে তার আঙ্গিক,শব্দ চয়ন,শীর্ষক ইত্যাদি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আমার কবিতা চর্চাকে এক নূতন  দিগন্তের  দিকে নিয়ে যায়।

 তাছাড়া আমার বাংলায় কবিতা চর্চার সাথে ঊরধু ও হিন্দী তে গজল লেখার পরিশীলন চেতনার‌ জগতকে আর ও প্রশস্থ করে।এই গজলের প্রভাব বাংলা কবিতায় ও পড়ে।যেমন একটি লাইন তুলে ধরছি

,'একসময় জীবনকে দেখি

কবরের পাশাপাশি হেঁটে যেতে'


পাঁজর যখন ভেঙ্গে আসে

রা........ম ধনু  তখন তীর ।


ইত্যাদি।


প্রশ্ন :২

অপূরন্ত প্রাণ তোমার মধ্যে। কোথা থেকে পাও?


ফাল্গুনী চক্রবর্তী :২

"আজ জীবন খুঁজে পাবি 

 ছুটে ছুটে আয়

ভালবাসার দিগন্তে সব

ছুটে ছুটে আয়।"

  

  আমার দৃষ্টি সবসময়ই জীবনমুখী.........আর জীবন মানেই প্রাণ।



প্রশ্ন :৩

টিপ টিপ সারাক্ষণ বৃষ্টি। বৃষ্টি নৃত্য করে শৈল শহর মেঘালয়ে।পাশাপাশি শীতও ঝাঁকিয়ে থাকে।এই বৈচিত্র্য নিয়ে তোমার অনুভূতি জানবো।শৈলশহরের প্রকৃতি কতটুকু তোমার কবিতায় ধরতে পেরেছো?


ফাল্গুনী চক্রবর্তী :৩


উওর৩-বৃষটি ও পাশাপাশি শীত শিলং এর পটভূমির এ এক বিচিত্র অনুভূতি।শিলং কে নিয়ে লেখা কবিতার সংকলন প্রকাশের পথের "!তার থেকে দুচার টি লাইন তুলে ধরছি।যেমন শিলং ফাইল-৯৫

নীলের হ্যারিকেন নীলে নীলে 

আখরো.........ট হয়ে আসে

একসময় মেঘের মিনার ও'।

         

          শিলং ফাইল-৯৪

মেঘের আল্পনায় মেঘালয়ের

                   জুটি নেই।

এখানে রোদভাষা ঘিরে আছে

ঝিরি ঝিরি চুম..............কি।


           শিলং ফাইল-৯২

মেঘের ঝিনুক বাটিতে

এবেলা মেঘ সুকতো

                হয়ে আছে..............

         শিলং ফাইল-৮৪

নীলে ছাপা আকাশ

বেলার বেলনীতে একসময়

জমে উঠে পাউডার স্রোত

দিগন্তের সাঁওতা.........ল

বৃষ্টির পনিটেইল খুলে আনে ।

          শিলং ফাইল ৭৫

ফড়িং ছটছে মেঘের ‌তালে‌ তালে

           শিলং ফাইল-৫৩

শিল্ং এর‌ স্বপ্ন এ নামছে

বৃষ্টি........... র  রেল......গাড়ি

            


        শিলং ফাইল-৪৫

একটি ছায়াঘন রাস্তার 

খোলাপণ ডা.......কছে

তঁার গায়ে লেগে থাকা

বৃষ্টির জমায়ে...........ত

যেন গুজে রা................খা

মোহাবতে.........র   মে,....ইল।।



শিলং ফাইল-৩৭

চুরমার নামছে পাহাড়ের

কল,........তলায়

নবা......বই  ঝড়ে........র দুষ্ট ু চাল

কিছু পাইনের খড়কুটো আর

বা ঁধানো সড়কের দুধা........র

ঘেষে বাদাম ঢাল........ছে

মাটির স্তূপ...........

সাতমাইল এ রোজা ভাঙছে মেঘ.....

একজন কবি হিসাবে শৈলশহরের শীত বৃষ্টি কে যেটুকু তত্ত্ব দিয়ে সাজিয়েছি তঁার সম্পূর্ণটা এখানে তুলে ধরা সম্ভব নয়,তবে আশা করি একটি ছবি পাঠকমহলের কাছে তুলে ধরতে পেরেছি।


প্রশ্ন :৪

চেরাপুঞ্জি গেছো নিশ্চয়ই। বেশ কয়েকবার শিলং যাওয়া হলো আমার।কিন্তু চেরাপুঞ্জি যেতে পারিনি।এ আক্ষেপ কবে পূরণ হবে কে জানে।শুনেছি চেরাপুঞ্জির নানা মিথ।যারা চেরাপুঞ্জি বেড়াতে যান কবিতা এমনিতেই ধরা দেয়।প্রকৃতির এই সুন্দর চেরাপুঞ্জি নিয়ে তোমার স্মৃতি শুনবো।


ফাল্গুনী চক্রবর্তী :৪

উওর৪_চেরাপুঞ্জির নানা মিত কথাটি সত্য আর ঝরণার মত নেমে আসে কবিতায় ককোকলায় এ ও সত্য।

একবার আমি গাড়ি নিয়ে ছুটলাম চেরাপুঞ্জি প্রকৃতির সাথে একা গা ভাসিয়ে দিতে তাই।তখন পাহাড়ের কার্পেট ঝিরি ঝিরি বৃষ্টিতে ভেজা ।অবিরত পড়ছে গাড়ির সামনের কাচের জানালা দিয়ে ভালো ভাবে কিছুই দেখা যাচছিল না ।ওয়াকাভ্আ ফলসের আগে একটি গুমটি দোকানর সামনে গাড়ি থামাতে বাধ্য হলাম।বৃষ্টি শুরু হল ঝমঝম সঙ্গে তেজ হাওয়া শিলাবৃষ্টি মনে হচ্ছিল এখনূই গাড়ির জানালার কাচ ভাঙবে।তখন দুপুর ১টা।আমি মাঝে মাঝে আবার একটু জানালা খুলে চারপাশ দেখার চেষ্টা করছিলাম।কপাল থেকে নেমে আসা চুলের লট ভিজে যাচছিল।তার মধ্যে গ্রাস করছিল শীত তখন সেপ্টেম্বর মাস। প্রায় একঘন্টা পর বৃষ্টি থেমে এল।আমি ওয়াকাভা পৌছালাম ।সে কি অপরূপ দৃশ্য ঝরণা আর পাহাড়ের আলিঙ্গনে কূয়াশা কেটে গিয়ে লাল টুকটুকে সূয্যি র তেজ।   এই প্রসঙ্গে বলা মুশকিল প্রকৃতির কোন দিক টা বেশী সুন্দর ছিল লাল সূর্য না শিলাবৃষ্টি? কিন্তু দুয়ের মিশ্রণে আমার স্মৃতিপট আজ ও রঙ ঝরায়।

   ২০১৪সালে কবি কৃত্তিবাস চক্রবর্তী,কবি কাকুলী চক্রবর্তী।ও তাদের মেয়ে গূনগূনের সাথে কাটানো বিকেল সন্ধার সন্ধি ক্ষনে     চেরাপুঞ্জির সেভেন সিস্টার ফলস চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  এই সফরের মূল্যবান উপহার আমাকে নিয়ে লেখা কাকুলী বৌদির কবিতা । শুধু একটি লাইন মনে আছে

"সুন্দরীর হাতের স্টিয়ারিং"।

                 জীবনের এই তো পাওয়া।

       এই সুন্দরী চেরাপুঞ্জির বুকে যারা আমার স্মৃতিপটে রয়েছেন তারা হলেন কবি দেবব্রত সরকার মুরশিদাবাদ, কবি শামসুল আলম সেলিম সিলেট বাংলা দেশ, টেলিভিশন ও বেতার শিল্পী ইকবাল সাই ও রুবি দাস।

      এবং লিটলম্যাগাজিনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শ্রী সন্দীপ দত্ত।গল্পকার তন্ময় বীর।


প্রশ্ন :৫

দু"বার উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলন আয়োজনঋ হয়েছিল শিলং বঙ্গীয় পরিষদের আয়োজনে।প্রথম সম্মেলনে তুমি ও সংযুক্তাদির লিটল ম্যাগাজিনের জন্য উন্মাদনা টগবগে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস আবেগ দেখেছি।দ্বিতীয়বার ২০১৫ সাল।দুটো সম্মেলনের মধ্যে নিশ্চয়ই উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের সূচনার অহংকার শিলং শহরপর।লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদকদের নিকট শিলং এর এই অবদান মনে থাকবে।তুমি ঠিক কিরকম দেখছো এই সম্মেলনকে?



প্রশ্ন :৫

তোমার কবিতা লেখার শুরু কখন?


ফাল্গুনী চক্রবর্তী :৫


উওর৫_আমার দেখার ভঙ্গী সবসময় একটু অন্যরকম।এই সম্মেলন অবশ্যই একটি মহতী প্রয়াস।ডক্টর শ্যামানন্দ ভট্টাচার্য  এর প্রথম উদ্যোগে এই সম্মেলন শিলং বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদে অনুষ্ঠিত হয় ২০০৫সালে।তারপর ২০১৫সালে।

         বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ সহ সমগ্র শিলং বাসী দের জন্যে এ এক গর্ব এর বিষয় যে এই সূচনা লগ্নের পরম্পরা কে অব্যাহত রেখে এই লিটলম্যাগ সম্মেলন গৌহাটি, শিলচর, তীনসুকীয়া ও আগরতলায় অনুষ্ঠিত হয়।

     আর এই অনুষ্ঠান এর পরম প্রাপ্তি ,আপনারা যারা লিটলম্যাগ এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তাদের সঙ্গে আলাপ ও সাহিত্যের মত বিনিময়ে আনন্দের সেতু উন্মোচন।

      ২০১৫সালে যখন লিটলম্যাগাজিনের সম্মেলন হয় তখন আমি কর্মশালা পত্রিকার সম্পাদক ছিলাম। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র গবেষক ডক্টর ঊষা রঞ্জন ভট্টাচার্য ,লিটলম্যাগাজিনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছাড়া আর ও অনেকে।

      সাহিত্যের সাথে সাথে এই সম্মেলন কবিতাপাঠে, গানে,ভাষণে,আলোচনায় এক সফল সম্মেলন ছিল ।এমন


 সম্মেলনে কিছু না হলে ও সম্পাদকদের মনোবল বাড়ে ও কবি লেখক দের উৎসাহ বাড়ে।যোগসূত্র সৃষ্টি হয়।

      আমি ২০১৫র সম্মেলনে আসাম ত্রিপুরা সহ প্রতি টি শহর থেকে কবি লেখক দের লেখা ছাপাই।এবং বইটি ছাপার অসংখ্য ভুল সত্তে ও একটি সার্থক সংকলন মনে করি কারণ এখানে সম্মলিত প্রয়াস পরিলক্ষিত।

          এবং শিলং এর সম্মেলনে সকলের জন্যে অবারিত দার খোলা ছিল।যাতে প্রাপ্তির আনন্দ ‌নিয়ে সবাই বাড়ি ফেরে। নিজে শিলং এর হলে ও এটুকু বলতে পারি সবাই মনচে বলার সুযোগ পেয়েছি লেন ,যা একটি কলম ,ব্যাগ ,ফাইল ও স্মারক,সার্টিফিকেট থেকে অনেক বেশী। এখানে সবাই এক হওয়া উচিত।কাউকে ছোট করে বড় হওয়া যায় না।

  শিলং এর সম্মেলন একটি সফল সম্মেলন ছিল কারণ দুইবারই তিন দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানে একটি স সক্রিয় সাহিত্য আদান প্রদানের পীঠস্থান হয়ে উঠে ছিল শিলং বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ।

  যদি ও শিলং এর রাজনৈতিক পরিবেশে দ্বিতীয় বার আয়োজন করা সম্ভব ছিল না।


যখন আমি অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি।

প্রশ্ন :৬

শুরুর দিনগুলো শুনবো?


ফাল্গুনী চক্রবর্তী :৬

যখন আমি অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি তখন থেকেই গজল শুনতে খুব‌ ভালবাসতাম বিশেষত গুলাম আলী তার থেকে ঊরধু ভাষার প্রতি আমার এক বিশেষ আকর্ষণ এবং অনুরাগের সৃষ্টি হয়।প্রথম লিখতে আসা গজল নিয়ে।

যে রকম

'শামে দাসতা কিসী শিয়াহ মে উলঝ গয়ী।

দিলকি ফলক পে অভী ভী বরসাত হে।'

'বিকেলের ইতিহাস কোন রাতে জড়িয়ে গেছে

হৃদয়ের আকাশ এখন ও বর্ষণ মুখর'।


এর পিছনে নূতন ভাবে লিখার আগ্রহ শব্দের অভিধানিক মুক্তি নিয়ে বরাবর চিন্তা ভাবনা ,নূতন শব্দের সৃষ্টি সময় সাপেক্ষ হয়ে উঠে।অনেক কবিদের বই বিভিন্ন্ সময়ে সহযোগী হয়ে উঠে।তাদের লেখার কৌশলকে অনুধাবন করার চেষ্টা করি।

 এই ক্ষেত্রে কিছু কবির কবিতার লাইন তুলে ধরছি।

যেমন-

 "হাত ফসকে পড়ে যাচছে ভানাকাটা পরী

বাজুবন্ধ ঘাঘরা সালীশী

এর সবই সভা"!


" নক্ষএ পতনের আগে

হেরে উঠে অস্বীকার

এত জল নোঙর ছুত পারছি না "/


'এভাবেই আলাদা খতিয়ান বৃষ্টি

সিথিটাকে ও ভাসিয়ে দিচ্ছে নূতন নদীতে।'

কারো কারো বন্ধুর নাম বিজন 

বিজনের এই আলো বাতাসের নাম ও বিজন'(কবি বারীন ঘোষাল)




প্রশ্ন :৭

তোমার কবিতায় বুদ্ধি ও হৃদয়ের নির্যাস পরিলক্ষিত। আছে প্রকৃতিও।তোমার এই যে হয়ে ওঠার বিষয়টি কেমন রসায়ন?


ফাল্গুনী চক্রবর্তী :৭

এর পিছনে নূতন ভাবে লিখার আগ্রহ শব্দের অভিধানিক মুক্তি নিয়ে বরাবর চিন্তা ভাবনা ,নূতন শব্দের সৃষ্টি সময় সাপেক্ষ হয়ে উঠে।অনেক কবিদের বই বিভিন্ন্ সময়ে সহযোগী হয়ে উঠে।তাদের লেখার কৌশলকে অনুধাবন করার চেষ্টা করি।

 এই ক্ষেত্রে কিছু কবির কবিতার লাইন তুলে ধরছি।

যেমন-

 "হাত ফসকে পড়ে যাচছে ভানাকাটা পরী

বাজুবন্ধ ঘাঘরা সালীশী

এর সবই সভা"!


" নক্ষএ পতনের আগে

হেরে উঠে অস্বীকার

এত জল নোঙর ছুত পারছি না "/

 'এভাবেই আলাদা খতিয়ান বৃষ্টি

সিথিটাকে ও ভাসিয়ে দিচ্ছে নূতন নদীতে।'

কারো কারো বন্ধুর নাম বিজন 

বিজনের এই আলো বাতাসের নাম ও বিজন'(কবি বারীন ঘোষাল)



প্রশ্ন :৮

কবিতা তো এক সাধনা।টই সাধনা নিজেকে সফল মনে করো?


ফাল্গুনী চক্রবর্তী :৮

উওর৮_সাধনা মানেই সাধক এবং সাধনের মধ্যে অটুট সম্পর্ক।যে সম্পর্কের মাঝে আর কিছুই থাকতে পারে না।এক অলৌকিক বন্ধন।যা বস্তবাদ এবং ব্যক্তিবাদের সীমা অতিক্রম করে অবিনশ্বর।কবিতার ক্ষেত্রে ও সাধনা অভিনব কিছু নয় একুই ।তাই নিজেকে সম্পূর্ণ সফল মনে করতে পারছি না।



প্রশ্ন :৯

কবিতার নানা বাঁক।এই বাঁকগুলো পেরিয়ে আজকের সময় কবিতা ঠিক কোন জায়গায়?


ফাল্গুনী চক্রবর্তী :৯

এই বিষয়টি গবেষণা মূলক ক্ষানিক শব্দের ব্যাখ্যায় হয় তো অনেক না বলা প্রসঙ্গ থেকে যেতে পারে আশা করি পাঠকেরা এই খামতি কে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। 

          গীতিকবিতা, চর্যা পদ আখ্যান মূলক।

               কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ছিলেন ছন্দের যাদুগর।অর্থাত কবিতায় ছন্দের প্রাধান্যে র বিষয়টি ছিল জোরালো।

               কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত কবিতার ছন্দে এক -দারূণ পরিবর্তন আনলেন।তিনি অমিতা অক্ষর ছন্দের আবিষ্কার করে চমকে দিলেন।এখানে মাত্রা মিলানোর ব্যাপার ছিল না।

           কবি জীবনানন্দ ছিলেন সুর রিয়াল ।তার "বনলতা সেন" সবার মুখে মুখে ধবনিত হয় 'পাখির নীড়ের মত চোখ "।

       তারপর কবি সুনীল, শক্তি,সন্দীপন যারা তাদের কবিতায় আধুনিক তাকে বিশেষ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

         কবিতায় যারা চিরাচরিত



 প্রথাকে নসাৎ করেছেন তারা কবি মলয় রায়চৌধুরী, সুবিমল বসাক,সমীর,তুষার,ফালগুনী, অজিত‌,দেবজ্যোতি।

          সংহত কবিতায় শ্যামল সিংহ ও প্রবীর রায় বাংলা সাহিত্যের দুটি বিশেষ নাম।

         যেমন-" দুটি টমেটো টেবিলে র উপর ঝলঝল করছে ওরা কি বিবাহিত "!,(কবি শ্যামল সিংহ)

            এবারে নিম সাহিত্য নিয়ে না বল লে লেখা অনেক টাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

           নিম সাহিত্য আন্দোলন শুরু করেন রবীন্দ্র গুহ সাথে ছিলেন মৃণাল বণিক ও বিমান চট্টোপাধ্যায়।

         নিম সাহিত্য মানে সাহিত্যের রসকে নিংড়ে নেওয়ার চেষ্টা।এই সাহিত্য কে না সাহিত্য ,অল্প সাহিত্য, তিক্ত বিরক্ত সাহিত্য বল লে ভুল হবে না।এর মধ্যে অশ্লীল সাহিত্য রস ও বিরাজমান।

           ৮০র দশকে কবিতায় আঙ্গিক ভেঙ্গে কবি বারীন ঘোষাল এক বিশেষ নাম।

      ৯০দশকের বেশীর ভাগই শূন্য ও শূন্যতরের লেখা।


প্রশ্ন :১০

তোমার সাহিত্য সংস্কৃতি বিষয়ে আরো অনেক অবদান আমরা জানি।একজন গল্পকার তুমি।শুনবো গল্প লেখায় এলে কেন?



ফাল্গুনী চক্রবর্তী :১০

আমার মনে হয় গদ্য না লিখলে উত্তরণ হয় না।কারণ কবিতার ভাষা তো রহস্যের ভাষা।কখন ও বা টুকরো টুকরো ছবি।তাছাড়া যে রকম সহজভাবে মনের ভাবকে গদ্যে ব্যক্ত করা যায় কবিতায় ঠিক সেরকম নয়।

               আমি গল্প লিখতে ও ভালবাসি।সেরকম তো কোন কথা নয় একজন কবি গল্প লিখতে পারবেন না।কখন কখন ও কবিতা থেকে গল্পের প্লট চলে আসে।

       এছাড়া গল্প ও দীর্ঘ কিছু লিখলে বোধের জন্ম হয়।


প্রশ্ন :১১

তুমি তো সংগঠকও।শিলং বঙ্গীয় পরিষদের তুমি দায়িত্বও সামলেছো।একটু শুনবো সে সময়ের অভিজ্ঞতা?


ফাল্গুনী চক্রবর্তী :১১


উওর১১_মূলত শিলং  বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের রবি বাসরীয় কর্মশালায় আমার যাতায়াত শুরু হয়েছিল ২০০৩সালে।২০১৪ সালে শ্রীমতী সং যুক্তা দাস্ পুরকায়স্থ যখন সভায় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত হন তখন,আমাকে সহ সম্পাদক এবং বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সাহিত্য পত্রিকা করমোশালার দায়িত্ব ন্যাস্ত করা হয়।

      একটি সভার মাধ্যমে আমি প্রথমে কর্মশালায় শিশুবিভাগ রাখি।

  প্রথমবারের মত কর্মশালাকে কলকাতা বাংলা একাডেমি দ্বারা আয়োজিত লিটলম্যাগাজিন মেলায় নন্দন নিয়ে যাই এবং সেখানে পত্রিকা বহু প্রশংসিত হয়।

   এছাড়া ২০১৫তে যখন দীতিয় বার‌ উত্তর পূর্ব লিটলম্যাগাজিন সম্মিলন হয় তখন আমাকেই পত্রিকার প্রকাশের কাজে গৌহাটি যেতে হয় শুধু তাই নয় রাত ১১টা পর্যন্ত প্রুফরীডিং এর পর ও বই এ অনেক প্রিন্টিংয়ের ভুল থেকে যায় সেদিন নি জেকে অসফল বলে মনে হয়।যদি ও আমার নিষ্ঠায় কোন ভুল ছিল না।


প্রশ্ন :১২

তোমার গল্প কবিতা অনুবাদও হয়েছে।এ বিষয়ে তুমি খুশি?

ফাল্গুনী চক্রবর্তী :১২

উওর১২_হ্যাঁ এটা আমার পরম সৌভাগ্য।অনুভব করলাম রচনার  ক্ষেত্রে ব্যাপ্তির আনন্দ অসীম।


প্রশ্ন :১৩

তুমি কবিতা নিয়ে পরবর্তী সময় আর কি করতে চাও?


ফাল্গুনী চক্রবর্তী :১৩

কবিতাকে কেন্দ্র করে যদি সমাজ সেবামূলক কিছু করা যায় সেরকম ভাবনা রয়েছে।এবং সেটা খুব শীঘ্রই করতে চাইছি।


প্রশ্ন :১৪

প্রায় সকল শিলংবাসীরই কলকাতায় আরো এক বাসস্থান। তোমারও নিশ্চয়ই?


ফাল্গুনী চক্রবর্তী :১৪

হ্যাঁ ।



প্রশ্ন :১৫

কলকাতা কেন তোমার পরবর্তী ভালো লাগার শহর?হতে পারতো গুয়াহাটি কিংবা অন্য কোন শহরও তো হতে পারতো।উত্তর পূর্বাঞ্চলের মাটির গন্ধ কবিতার সেই আকুলতা মুথ নিজস্ব স্থানিক শব্দ কি আর কোথাও পাওয়া যাবে?


ফাল্গুনী চক্রবর্তী :১৫

উওর১৫-আমার পরবর্তী ভাল লাগার শহর কলকাতা কারণ  এটি একটি মেট্রোপলিটন শহর আর বাংলা সাহিত্যের হাব।আমি সেখানে সাহিত্যের সাথে বিভিন্ন্ সংস্থার সাথে যুক্ত হতে পেরেছি।শুধু তাই নয় এই কলকাতা শহরে হলদিয়া বিশ্ব বাংলা কবিতা উৎসবে উওর পূর্বের কবি হিসাবে ২০১৮সাল থেকে স্বীকৃতি পেয়ে আসছি।এই পরম প্রাপ্তি আমায় মাটির গন্ধ থেকে দূরে থাকলে ও আর ও কাছাকাছি  নিয়ে আসে।

       পাহাড় আমার স্বপ্ন পাহাড় আমার বাস্তব দুটোই।অত এব একে নিয়ে আকুলতা সর্বত্রই বিরাজমান।

     গুয়াহাটি  আমার পরবর্তী ভাল লাগার শহর নয় ঠিক তা বলব না।কারণ ওখানের জলবায়ু আমার পছন্দের তাছাড়া আমার পরিবারের আপনজনেরা ও ওখানে রয়েছেন।

    ‌‌‌‌       কিন্তু ওখানে সাহিত্যের বিশাল পরিসর থাকা সত্তে ও কোনদিনই কোনকিছু তে ডাক পাই নি।এমন কি গৌহাটি থেকে আমার দুটো কাব্যগ্রন্থ ও প্রকাশ পেয়েছে।শুধু তাই নয় ফেসবুকে ও দেখলাম কবি কথাসাহিত্যিক দের নামের তালিকায় এমন সব কবি লেখকের নাম বাতিলের খাতায় যাদের কোন পরিচিতির দরকার নেই।সাহিত্য মানে সংকীর্ণ তা নয়।

      আর একবার কোন এক কবি যুগ শঙ্খ তে বললেন উওর পূর্বে লেখালেখি তে কোন দীপ্তি কারো লেখা তে নেই।উনার পর উনি আর কাউকে ঠিক দেখতে পাচ্ছেন না।

   সে যাই হউক আপনি আগরতলা থেকে বেরিয়ে ও আমাদের কথা ভেবেছেন তার জন্যে আপনাকে সাধবাদ জানাই।


প্রশ্ন :১৬

সাহিত্যে তোমার জার্নির জন্য পেয়েছো নানা সম্মান।এতে সন্তুষ্ট?


ফাল্গুনী চক্রবর্তী :১৬

সম্মান মানে তো স্বীকৃতি ।স্বীকৃতি পেলে তো ভাল লাগে।এটা সকলের ক্ষেত্রেই বাস্তবিক সত্য।


প্রশ্ন :১৭

মেঘালয়ের বাঙালিরা বাংলা ভাষা রক্ষার জন্য কোন পদক্ষেপ নিয়েছেন?


ফাল্গুনী চক্রবর্তী :১৭

না সেরকম‌ কোন সূচনা বইয়ে ও নেই আন্তর জালে ও।আমি ব্যক্তিগত ভাবে ও জনি কোন পদক্ষেপ সে সময়‌ নেওয়া হয় নি।

সম্মান মানে তো স্বীকৃতি ।স্বীকৃতি পেলে তো ভাল লাগে।এটা সকলের ক্ষেত্রেই বাস্তবিক সত্য।মাণুষ ভালবেসে  আমার সৃষ্টি কে সমমান জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে ও জানাবে এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।


প্রশ্ন :১৮

রবীন্দ্রনাথের প্রিয় শহরে এখন কেমন চর্চা হোন রবীন্দ্রনাথ?


ফাল্গুনী চক্রবর্তী :১৮


প্রশ্ন :১৯

পরবর্তী সময় শিলং এ জন্ম হোক চাও?যদিও তুমি আমার মতোই জন্মান্তরবাদে বিশ্বাস করো না।তাও জানতে চাইলাম।বলবে?



ফাল্গুনী চক্রবর্তী :১৯

আমি পরজনমে বিশ্বাসী নই কর্মে বিশ্বাসী।তবু শৈলশহর শিলং এ আমার শৈশব যৌবনের অনেক স্মৃতি ভালবাসা ।স্কুল কলেজের দিনগুলো ভাবলে এখন ও নস্টালজিক হয়ে পড়ি।প্রকৃতির অবারিত দার আমি ঈশ্বরকে বলব যদি জনমানতর বাদ থেকে থাকে তবে আমার জন্ম যেন শিলং এ হয়।


প্রশ্ন :২০

কি রেখে যেতে চাও?যা ১০০ বছর পর চর্চা হবে?


ফাল্গুনী চক্রবর্তী :২০

নিজস্ব সৃষ্টি ও কর্ম ।


প্রশ্ন :২১

প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি বিষয়ে কোন আক্ষেপ আছে?


ফাল্গুনী চক্রবর্তী :২১


প্রাপ্তি মানে শেষ আর অপ্রাপ্তি মানে অশেষ।এরমধ্যেই আমরা সাধারণ মানুষ।এই বিষয়ে আক্ষেপ না থাকার কথা কোন সংসারী সহজে বলতে পারেন না।এর জন্যে সত্ত গুণের অধিকারী হতে হবে।

          অতোএব আমি মনে করি প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি বিষয়ে নির্লিপ্ত থাকলে সংসারী হিসাবে জীবনে সংগ্রাম থেমে যাবে।


অসংখ্য ধন্যবাদ।


০৪:০৯:২০২১

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ