কবি ঈশিতা ভাদুড়ী মুখোমুখি কবি ও কথাশ্রমিক গোবিন্দ ধর

কবি ঈশিতা ভাদুড়ী 
মুখোমুখি 
কবি ও কথাশ্রমিক গোবিন্দ ধর 

 

পরিচিতি দিন

 

জন্ম -  ৪মে ১৯৬১, দক্ষিণ কোলকাতায়। প্রমাতামহ কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচীর বাড়ী ‘ইলাবাস’-এ কিশোরীবেলা।

সাহিত্যকৃতি - আটের দশকে লেখালিখির শুরু। কবিতা গদ্য সম্পাদনা মিলিয়ে গ্রন্থ-সংখ্যা ৩৫টি। ই-বুক ‘গালিব অস্ফুটে’ বিশেষ উল্লেখযোগ্য। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে একাধিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়েছেন, ২০০৮ সালে ভারতীয় দূতাবাস আয়োজিত অনুষ্ঠানে বেজিং-এ (চিন) একক কবিতা-সন্ধ্যায় অংশগ্রহন করেছেন।

পুরস্কার ও সম্মাননা - পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি পুরস্কার , কবি বিষ্ণু দে পুরস্কার, কবি গৌরাঙ্গ ভৌমিক স্মৃতি পুরস্কার, শান্তিলতা দেবী স্মৃতি পুরস্কার, কিঞ্জল পত্রিকা সম্মাননা, বাংলাদেশ রাইটার্স ফাউন্ডেশন সম্মাননা ইত্যাদি বিভিন্ন পুরস্কারে সম্মানিত।

 

প্রশ্ন :১) প্রতিটি শুরুরও শুরু থাকে সেই শুরুর দিনগুলো শুনবো? 

কবিতা যে কবে কখন এলো সাল-তারিখ মনে নেই। কিভাবে এলো সেকথাও স্পষ্ট করে বলতে পারি না। আমি কিন্তু কবিতা লিখবো ভেবে কবিতা লেখা শুরু করি নি। কবিতা-চর্চা আমার পেশাও নয়।

... বাবা রেকর্ড কিনতেন প্রচুর। সেই রেকর্ডে যখন কাজী সব্যসাচী বা শম্ভু মিত্র বা দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় বা উৎপল দত্তের কণ্ঠে একে একে বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শঙ্খ ঘোষ, শামসুর রাহমান, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আবৃত্তি হতো, হয়তো তখনই মনের মধ্যে কবিতার বীজ বপন হয়ে গিয়েছিল।

... আমাদের সময় শৈশব-কৈশোরে রবীন্দ্রনাথ-নজরুল পড়া হতো বেশী। তবে যে বইটি পড়ে আমার কবিতা লিখতে ইচ্ছে হয়েছিল সেটি হলো পূর্ণেন্দু পত্রীর ‘তুমি এলে সূর্যোদয় হয়’। পাঠ্যবইয়ের বাইরে রবীন্দ্রনাথকে সরিয়ে রেখে বলি যদি, তবে এই কবিতার বইটিই আমি প্রথম পড়েছিলাম। এই বইটিই সম্ভবত জাগিয়েছিল কিশোরীর কবিসত্তা।

 

প্রশ্ন :২) পারিবারিক কোন চাপিয়ে দেওয়া ছিলো না নিজস্ব নির্বাচন এই শিল্পকে আপন করে নেওয়ার সময় ছিলো?

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর হয় না। যদি আপনি প্রশ্ন করেন আমার খাওয়া, ঘুম, জেগে-ওঠার ওপর কোনও পারিবারিক চাপ আছে কিনা সে প্রশ্নের যেমন জবাব হয় না, সেরকমই এই প্রশ্নেরও কোনও অর্থ হয় না। কোনো চাপেই শিল্প আসে না শিল্পীর কাছে।

ইলাবাসের দেওয়ালে টাঙানো ‘সপ্তাশ্ব বাহিত সূর্য’ ছবিটি অপার বিস্ময়ে দেখতাম, বিশ্বকবি ছাড়াও সাত সাতজন কবি-লেখক একসঙ্গে, তাঁদের মধ্যে একজন আবার আমার পিতামহও, সেও খুব আশর্যের ছিল সেই বয়সে, তবে যতীন্দ্রমোহন বাগচী যে রবীন্দ্রোত্তর যুগের অন্যতম উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক ছিলেন, সেই কথা বুঝতে আরও অনেক সময় লেগেছিল।

তবে একটা কথা বলা প্রয়োজন, মায়ের অপার উৎসাহই আমাকে ক্রমশ সাহিত্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে। শিশু-বয়স থেকে বিভিন্ন সময় বই উপহার দিয়ে প্রাথমিকভাবে মননের বিকাশ গটতে সাহায্য করেছেন অবশ্যই মা। আমার মায়ের শৈশব অনেক বিখ্যাত কবি-সাহিত্যিকের সংস্পর্শে গড়ে ওঠায় অথবা কবির পৌত্রী বলেই হয়তো সাহিত্যের প্রতি তাঁর এমন নীরব দায়বদ্ধতা।

 

প্রশ্ন :৩) আপনার কলেজ জীবনের গল্প বলুন? তখনকার বিশেষ স্মৃতি?

দক্ষিন কলকাতায় হিন্দুস্তান পার্কে ‘ইলাবাস’ যতীন্দ্রমোহন বাগচীর বাড়ি, দিদিমা থাকতেন সেখানে। বইয়ের আলমারিতে রবীন্দ্র রচনাবলীর প্রথম সংস্করণ ছিল, যতীন্দ্রমোহন বাগচীর ব্যক্তিগত সংগ্রহ, পরবর্তীকালে দিদিমার তত্ত্বাবধানে, এখন আমার বইএর আলমারিতে। আমার কলেজ-জীবন ইলাবাসে কেটেছে।

ইলাবাসের পাশেই সুনীলমাধব সেনের বাড়ী। উলটো দিকে  ‘ভালো-বাসা’, রাধারাণী দেবী নরেন্দ্র দেবের বাড়ী। কয়েক পা হাঁটলেই সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ী। এসবই খুব বিস্ময়ের ছিল। তবে যে দুটির প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল আমার বেড়ে ওঠায় সেই দুটি হলো বালিগঞ্জ ইন্সটিট্যুট লাইব্রেরী আর আইডিয়াল বুক স্টোর, দুটোই গড়িয়াহাটে।

বাড়িতে স্থানাভাবের কারণে দিদিমা কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচীর পুরো বইয়ের ভাণ্ডার বালিগঞ্জ ইন্সটিট্যুট লাইব্রেরীকে দিয়ে দিয়েছিলেন, এবং আজীবন সদস্য ছিলেন সেই লাইব্রেরীর। আমি ওই সদস্যকার্ডে প্রতি একদিন অন্তর বিকেলবেলায় একটি করে বই নিয়ে আসতাম, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, প্রতিভা বসু, হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়, রমাপদ চৌধুরী, দিব্যেন্দু পালিত ও আরও অনেককে প্রতিদিন আবিষ্কার করতাম। আমার দিদিমার খুব পড়ার অভ্যেস ছিল। ওই লাইব্রেরীতে বসে বইও পড়া যেতো। আমি সেখানে বসে অনেক কবিতার বই পড়েছি। সেই লাইব্রেরি নতুন দরজা খুলে দিয়েছিল আমার সামনে।

আর, আইডিয়াল বুক স্টোরে দাঁড়িয়ে কত যে কবিতার বই পড়েছি ভাবা যায় না। পাবলো নেরুদা পড়েছি। সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই একে একে তখন বুদ্ধদেব বসু, কবিতা সিংহ, শঙ্খ ঘোষ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, দিব্যেন্দু পালিত, শামসুর রাহমান, বিনয় মজুমদার, আল মাহমুদ, শরৎকুমার মুখোপাধ্যায়, বিজয়া মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার পরিচয়। মানুষ নবনীতা দেবসেনকে ‘ভালো-বাসা’য় এবং গদ্যকারকে পত্রিকার পৃষ্ঠায় চিনলেও কবিকে কিন্তু আমি ওই বইয়ের দোকানেই চিনেছিলাম। সেই দোকানের কর্মচারীরা এবং ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত মালিক আমার হৃদয়ে অনেকখানি রয়ে গেছেন আজও। সব সময় ত বই কিনতামও না, পড়ে চলে আসতাম, পরের দিন আবার যেতাম, তাঁরা পরম আদরেই বই বার করে দিতেন। রক্তের মধ্যে কবিতার শিরশিরানি ওই আইডিয়াল বুক স্টোর থেকেই…

 

 প্রশ্ন :৪) একটি গ্রন্থ নির্মানে বইয়ের বিষয়ের সাথে প্রচ্ছদ কতটুকু একে অন্যের পরিপূরক?

একটি বইয়ের প্রথম পরিচয় তো প্রচ্ছদের সঙ্গেই হয়। তাই একটি বইয়ের ক্ষেত্রে প্রচ্ছদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই আমি মনে করি।

 

প্রশ্ন :৫) কোন পথে আমাদের সময়। কোন পরামর্শ কিংবা আমাদেরকে পথ বাৎলে দেবেন?

একটা টানেলের মধ্যে দিয়ে আমরা হাঁটছি। অন্ধকার রয়েছে সেখানে। খুব এবরো খেবরো পথ।  অনেক দূরে এক চিলতে আলো। সেই আলোর কাছে পৌঁছাতে হবে আমাদের।

 

প্রশ্ন :৬) প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি বিষয়ে কোন আক্ষেপ আছে?

না। কারণ কবিতার জন্যেই কবিতার নির্মাণ। এর মধ্যে প্রাপ্তি বা অপ্রাপ্তির কোন স্থান নেই।

প্রশ্ন :৭) কি রেখে যেতে চান? যা ১০০ বছর পর চর্চা হবে?

যতীন্দ্রমোহন বাগচীর কাজলাদিদি গানটির প্রসঙ্গে নবনীতা দেবসেন লিখেছিলেন “এই যে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ছোটদের চোখে জল আনছে, জীবনে এরকম একটি মাত্র কবিতাও লিখতে পারা কবির পক্ষে কম কীর্তি নয়। আমি তো এরকম হলে কবি-জীবন সার্থক মনে করবো।” একদম ঠিক। এরকম লিখে রেখে যাওয়া বিরাট বিষয়। কিন্তু পারবো কী?

 

প্রশ্ন :৮) নিরন্তর সাধনারও আপনার দীর্ঘ জার্নি।এত প্রাণ কি করে পান?

যখন নির্জন রাতে শীত ভাঙে নদীর জলে আর নদীর বাঁকে উপুড় চাঁদ, যখন কোন রাত ডুবে যায় কান্নাভেজা মেঘে আর হৃদয়ে শূন্যতা বাজে ভীষণ, যখন বিষাদ থেকে উড়ে যায় পালক বিষাদে আরও, অথবা পার্পল রঙের কোন আলো যখন জ্বলে ওঠে বুকে আর চোখের পাতা কেঁপে ওঠে তিরতির, ঝাউগাছে বেজে ওঠে যখন মালকোষ আর জেগে ওঠে আষাঢ় শ্রাবণ, সেইসব স্তব্ধতা সেইসব নিঃশব্দতা, সেইসব চাঁদের আলো থেকেই ফুটে ওঠে শিরীষ অথবা কদম্বফুল, সেইখান থেকেই কবিতার জন্ম।  

 

প্রশ্ন :৯) তরুণদের জন্য কিছু বলবেন?

না। তরুণরা আমাদের চেয়ে ভালো জানে সব কিছুই, ওরা নতুন প্রজন্ম। তবে নিজেকে কবিতার কাছে যথার্থ এবং সম্পূর্ণভাবে সমর্পণ এবং অন্তর্মুখী ভাবনাকে সঠিক শব্দ-প্রয়োগে ব্যক্ত যেন করতে পারে। নিপুণ চিত্রশিল্পীর দক্ষতায় যেন একের পর এক চিত্রকল্প বা রূপকল্প তৈরী করতে পারে।

 

প্রশ্ন :১০) আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে রবীন্দ্রনাথ কতটুকু প্রাসঙ্গিক?

আমার একটি কবিতা বলি এখানে –

ঘাসফুল ভিজে যায় অশ্রুপাতে যখন

অথবা পূর্ণিমা রাতে যখন খসে পড়ে নক্ষত্র

তুমিই তো তখন দাঁড়াও হাতে আলো

অমোঘ নদী আর জুঁইফুলে

 

বৃষ্টি তখন হলুদ বনে

কৃষ্ণচূড়া রাতে তখন

বসন্ত ঝুঁকে পড়ে

 

ক্ষুব্ধ জলে অথবা বিষ-রাতে

হীরেকুচি দুপুরে কোনও

কমা সেমিকোলোন আর যতিচিহ্নে

তুমিই তো রবীন্দ্রনাথ প্রতিপদে

 

(১১) দেশভাগের যন্ত্রণা একজন কবিকে পীড়িত করে। আপনার পরিবার কি এমন কোন পরিস্থিতির শিকার?

আমাকে বা আমার পরিবারকে এরকম দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে পড়তে হয় নি। কিন্তু আমি জানি, কেননা আমার অনেক পরিচিত মানুষকেই এর সম্মুখীন হতে হয়েছে।

 

(১২)কী লিখি কেন লিখি?

খুব শক্ত প্রশ্ন।

 

(১৩)আপনার কবিতাসংকলনগুলোর নাম নির্মানের গোপন জিয়নকাটি কিরকম?

এই প্রশ্নটির সৎ উত্তর যদি দিই, তবে একথা ঠিক আমি বই-এর নামকরণে খুবই অপটু।

 

প্রশ্ন :১৪) শিল্পীর ইচ্ছা অনিচ্ছায় একটি শিল্প রূপ পায়? নাকি আরো কোনো অতিভৌতিক কোন বিষয় প্রতিটি ছবির ঘরনা তৈরী করে?

সচেতন অন্তর্মুখীতাই কবিকে দিতে পারে উত্তরণ।

 

প্রশ্ন :১৫) আপনার সাথে তেমন আড্ডা আমার নেই। আপনি আড্ডারু সে আমি জানি।আড্ডা কি শিল্প সৃষ্টির উৎস মনে করেন?

মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ পারস্পরিক প্রভাব বিস্তার করে। সেইখান থেকেও শিল্পের জন্ম হতে পারে।

 

প্রশ্ন :১৬) কবিতা তো একটি স্বতন্ত্রশিল্প ছবিও স্বতন্ত্র। একটি রেখা একটি বিন্দু কিংবা তুলির কতটুকু স্বাধীনতা এই সমাজ এই সংবিধান আমাদেরকে দিয়েছে?যদিও বাকস্বাধীনতা যেখানে এসে থমকে যায় শিল্প কি তেমন কোন আটকে পড়ার সম্ভাবনায় দমে যায়?

মানুষের প্রতি মানুষের অপমান আমাকে পীড়া দেয় অত্যন্ত। যে ঘটনা মানুষকে মানুষের থেকে দূরে সরায়, মানুষে মানুষে যুদ্ধ বাধায় সেইসব ঘটনার থেকে আমার মধ্যে প্রচণ্ড রক্তপাত হয়। যেখানে অসামঞ্জস্য শব্দটা প্রকট হয়ে দাঁড়ায় সেইখানে আমি ছিন্নভিন্ন হয়ে যাই। এবং সেই সব বিন্দু থেকেই আমার বোধে কবিতার জন্ম।

 

প্রশ্ন  :১৭) আপনার পারিবারিক পরিবেশ শিল্প ও শিল্পীর।এই সম্মেলন কেমন লাগে?

ভালোই তো। আমি আমার অল্পবয়স থেকে কবি-লেখক-শিল্পীর সংস্পর্শে এসেছি, আমার ভালোই লেগেছে।

 

প্রশ্ন  :১৮) আপনার নিজস্ব ঘরনায় লৌকিক সংস্কৃতি কতটুকু আনতে পেরেছেন?আপনি কি সচেতনতার এই বিষয়টিকে এড়িয়ে গেছেন?

এরকম ভাবে এত গভীর প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায় না।  আমার লেখা থেকেই বুঝে নিতে হবে পাঠককে  সে’কথা।

 

প্রশ্ন  :১৯) জীবন কেউ কেউ নেশা বলেন। কেউ কেউ উৎসব। কেউ কেউ একটি নাটক।আবার কারো কারো নিকট জীবনে কবিতাই জীবন। আপনি কোন নিজস্ব জীবনচেতনায় তাড়িত নিশ্চয়ই। ব্যাখ্যা চাই।

 

আমার কাছে কবিতা হল একটি উচ্চারণ-মাধ্যম, সঠিক শব্দ-প্রয়োগে এবং ভাষার সুব্যবহারে একটি চিত্রকল্পের নির্মাণ, একটি ক্যানভাস, যেখানে কল্পনার রঙ লেগে থাকবে, অন্তরের বোধ বা বিশুদ্ধ আবেগ এবং পারিপার্শ্বিক অভিজ্ঞতার কাহিনী সুস্পষ্ট থাকবে সেখানে, কিন্তু কোনো আতিশয্য বা চিৎকার থাকবে না। একটি রহস্যের আঁচলও কখনও কখনও থাকা দরকার। মূলত সূক্ষ অনুভূতি এবং তীব্র অনুভব নিয়েই তো কবিতা, মনন-ধর্মের অসীম ব্যাপ্তিতেই তো কবিতার সৃষ্টি। এই আমার জীবনচেতনা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ