কবি ইলা লিপি
মুখোমুখি
কবি ও কথাশ্রমিক গোবিন্দ ধর
পরিচিতি দিন
প্রশ্ন :১
প্রতিটি শুরুরও শুরু থাকে সেই শুরুর দিনগুলো শুনবো?
ইলা লিপি:১
শুরুর শুরু বলতে গেলে একদম গোপন এবং খুব গোপন। তখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি, কারোর প্রতি ভালোলাগা থেকে কবিতার হাতে খড়ি। এছাড়া নিজের মধ্যে একপ্রকার দুঃখবোধ কাজ করতো, ইমোশনাল থাকতাম, আপনজন বলতে যা বোঝায় সেটা আমার কোনোকালেই ছিল না, যেমন এখনও নেই, এইসব না বলা কথা মূলত কবিতা এবং গল্পে চিরায়ত হয়।
প্রশ্ন :২
পারিবারিক কোন চাপিয়ে দেওয়া ছিলো না নিজস্ব নির্বাচন এই শিল্পকে আপন করে নেওয়ার সময় ছিলো?
ইলা লিপি:২
বাংলাদেশের নারীদের অবস্থা শোচনীয়। এখানে পারিবারিক আবহে শিল্প সংস্কৃতির চর্চা কোনো পরিবারে হয়না। নাচগান সাহিত্য রচনা এবং অন্যান্যতে কখনো বাচ্চাদের শেখানো হয়না, বরং ধর্মীয় শিক্ষায় বড়ো করায় বেশি মনোযোগী থাকে। তাই শিল্পকে সবসময় নিরুৎসাহিত করা হয়। চাপিয়ে দেওয়ার প্রশ্ন আসেনা। বরং আমার শিল্পবোধ হচ্ছে রাস্তার পাশে অযত্নে অবহেলায় ফোঁটা সেই নাম না জানা ফুলের মতো, যাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রতিটি দিন সংগ্রাম করতে হয়।
প্রশ্ন :৩
আপনার কলেজ জীবনের গল্প বলুন?তখনকার বিশেষ স্মৃতি?
ইলা লিপি:৩
কলেজ জীবনের স্মৃতি বড্ড মর্মান্তিক। এসএসসি পাশ করার পর বাড়ি থেকে কোনোমতে কলেজে ভর্তি হতে দেবেনা, এরপর নানান চড়াই উৎরাই পেরিয়ে কলেজে ভর্তিহই।
প্রশ্ন :৪
এ অঞ্চলের সাহিত্যে ভিন্ন সুর আমরা অনুভব করছি।বৃহৎ বাংলার বাংলা সাহিত্যের সাথে সুর মিললেও তার আছে নিজস্ব স্বর।আপনি কেমন দেখেন?
ইলা লিপি:৪
আপনি ঠিকই বলেছেন, কারণ আমরা প্রত্যকেই নিজস্বতা তৈরি করতে চেষ্টা করছি।
প্রশ্ন :৫
একটি গ্রন্থ নির্মানে বইয়ের বিষয়ের সাথে প্রচ্ছদ কতটুকু একে অন্যের পরিপূরক?
ইলা লিপি:৫
আসলে প্রচ্ছদের সাথে বইয়ের বিষয়বস্তুর এক অবিচ্ছেদ্য মিল পাওয়া যায়। তাছাড়া প্রচ্ছদ শিল্পীরা প্রচ্ছদ করার আগে পান্ডুলিপির কিছু অংশ পড়তে চায়, এবং তারউপর ভিত্তি করে মূলত প্রচ্ছদ শিল্পী প্রচ্ছদ করেন।
প্রশ্ন :৬
কোন পথে আমাদের সময়।কোন পরামর্শ কিংবা আমাদেরকে পথ বাৎলে দেবেন?
ইলা লিপি:৬
আমাদের সময় এখন আমাদের অনুকূলে নেই। সবকিছু কেমন লাগামছাড়া। এখন শিক্ষার মাঝে অশিক্ষা গোঁড়ামি চেপেছে, এখানে কারোরই পরামর্শ বা অনুরোধ উপদেশ যা বলেন কেউ শুনবেনা। অতএব সংশোধন হতে গেলে গোটা সিস্টেমের উপর আঘাত করতে হবে, তাতে যদি লোকের হুঁশ আসে। আমি একজন ক্ষুদ্র মানুষ, পথ বাতলে দেওয়ার যোগ্যতা এখনো ঠিক হয়ে ওঠেনি। তবে যুগে যুগে যা হবার সেটাই হচ্ছে, শুধু আমাদের থাকতে হবে আঁশ বিহীন মাছের মতো, কাদার মধ্যে থেকেও গায়ে কাদা লাগানো চলবেনা।
প্রশ্ন :৭
প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি বিষয়ে কোন আক্ষেপ আছে?
ইলা লিপি:৭
জীবনটাই অপ্রাপ্তিতে ঠাসা। প্রাপ্তির মধ্যে আমি মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছি এটাই সৌভাগ্য।
প্রশ্ন :৮
কি রেখে যেতে চান?যা ১০০ বছর পর চর্চা হবে?
ইলা লিপি:৮
আমি আমার কর্মগুলেকে রেখে যেতে চাই, যা প্রতিটি মানুষের আর্দশ হয়ে থাকবে।
প্রশ্ন :৯
নিরন্তর সাধনারও আপনার দীর্ঘ জার্নি।এত প্রাণ কি করে পান?
ইলা লিপি:৯
ছোটবেলা থেকেই অভাব আর দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত, চেষ্টা করেছি নিজের গ্রহণ যোগ্যতা তৈরি করার। আমার আত্নসম্মানবোধ আমাকে সবসময় সাহস যোগায়। তাছাড়া একা চলতে চলতে একাকী জীবন যাপনে অভ্যস্থ হয়ে গেছি, তাছাড়া আমি সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত,খুব কাছে থেকে মানুষের জীবনকে দেখতে পাই আর এ-সব আবহই আমার বেঁচে থাকার রসদ জোগায়।
প্রশ্ন :১০
তরুণদের জন্য কিছু বলবেন?
ইলা লিপি:১০
অনেক কথাই বলার আছে আমার। প্রথম যে কথাটা বলবো সেটা হলো একা চলার সাহস অর্জন করতে হবে, জীবনে ঝুঁকি নিতে হবে, আর ঝুঁকি নিতে না পারলে নিজের লক্ষ্য পৌঁছানো একদম অসম্ভব।
প্রশ্ন :১১
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে রবীন্দ্রনাথ কতটুকু প্রাসঙ্গিক?
ইলা লিপি:১১
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের ব্যক্তিজীবনের সমগ্রতা দখল করে আছেন, তবে পরিতাপের বিষয় হলো, সাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী এখনকার তরুণ সমাজ, এরা সবক্ষেত্রেই ধর্মের উপস্থিতি দেখতে পায়, অথচ এরা ধর্ম সম্পর্কে। মোটেই ওয়াকিবহাল নয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের বাংলা সাহিত্যের সকল শাখায় সিদ্ধহস্ত ছিলেন এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ করেছেন। তার অবদান বাংলা সাহিত্যেকে বিশ্বদরবারে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
প্রশ্ন :১২
দেশভাগের যন্ত্রণা একজন কবিকে পীড়িত করে।আপনার পরিবার কি এমন কোন পরিস্থিতির শিকার?
ইলা লিপি:১২
দেশভাগ আমাকে পীড়া দেয় খুব। আমরা একই ভাষাভাষী মানুষেরা আলাদা আলাদা দেশে বসবাস করছি, আমার পরিবার এখনকার স্থানীয়, তাদের এমন কোনো ইতিহাস সম্পর্কে জানিনা, তাছাড়া স্বাধীনতার অনেক পরে আমার জন্ম হয়েছে।
প্রশ্ন :১৩
কী লিখি কেন লিখি?
ইলা লিপি:১৩
আমি আসলে আমার অব্যক্ত কষ্ট গুলোকে শব্দের সুতোয় গেছে রাখি, যে কথা কাউকে বলা যায়না। আর লিখি নারীদের ঠকে যাওয়ার বিরুদ্ধে। নারী স্বাধীনতা যার সবচেয়ে বড়ো অনুষঙ্গ।
প্রশ্ন :১৪
আপনার কবিতাসংকলনগুলোর নাম নির্মানের গোপন জিয়নকাটি কিরকম?
ইলা লিপি:১৪
কবিতা সংকলনের নামের ব্যাপারে ভাবতে হয়, কারণ আমার পরিবার অনুকূলে নয় আমার, এদের মানসিকতা সেক্স ফ্যান্টাসিতে ভরপুর, তাই শব্দের গতরেও যৌনতার গন্ধ পায়, এক্ষেত্রে আমাকে যথেষ্ট ভেবেচিন্তে নাম নির্ধারণ করতে হয়।
প্রশ্ন :১৫
শিল্পীর ইচ্ছা অনিচ্ছায় একটি শিল্প রূপ পায়? নাকি আরো কোনো অতিভৌতিক কোন বিষয় প্রতিটি ছবির ঘরনা তৈরী করে?
ইলা লিপি:১৫
অনিচ্ছায় শিল্প পায় কিনা জানিনা। তবে একপ্রকার আত্মপ্রত্যয় তৈরি হয়, অনিচ্ছার বিরুদ্ধে, আর ইচ্ছে ও সহযোগিতায় শিল্পীত রুপ আসে তবে প্রাণ থাকেনা, অতএব যত বাধা আসবে লেখায় ততই ভেতর নিংড়ে সেরাটা বের হয়।
প্রশ্ন :১৬
আপনার সাথে তেমন আড্ডা আমার নেই। আপনি আড্ডারু সে আমি জানি।আড্ডা কি শিল্প সৃষ্টির উৎস মনে করেন?
ইলা লিপি:১৬
আমি আসলেই আড্ডাবাজ মানুষ। আপনার সাথে আমার আড্ডায় বসা হয়নি তবে একে অপরকে চিনি তো বহুদিন। ইদানীং আড্ডায় বসা হয়না, বিশেষ করে করোনা পরিস্থিতিতে। সমমনা বন্ধু না হলে আড্ডা জমেনা। এছাড়া আমার ব্লক আছে, সেটা হাসবেন্ড, উনি সাহিত্যে সম্পর্কে কিছু জানেননা, বলতে গেলে সেই সব মৌলবাদের মতো ধর্ম সম্পর্কে জানেনা অথচ সেটা নিয়ে হইচই করে।
প্রশ্ন :১৭
কবিতা তো একটি স্বতন্ত্রশিল্প ছবিও স্বতন্ত্র। একটি রেখা একটি বিন্দু কিংবা তুলির কতটুকু স্বাধীনতা এই সমাজ এই সংবিধান আমাদেরকে দিয়েছে?যদিও বাকস্বাধীনতা যেখানে এসে থমকে যায় শিল্প কি তেমন কোন আটকে পড়ার সম্ভাবনায় দমে যায়?
ইলা লিপি:১৭
বাকস্বাধীনতা নেই মোটেই, সত্যি কথা বললে সরকার ডিজিটাল আইনে মামলা করে শারীরিক মানসিক হেনস্তা করে, আর বাকস্বাধীনতা না থাকলে শিল্প সংস্কৃতির বিকাশ কীভাবে সম্ভব?
কবিতা হচ্ছে সেই ফিলোসোফি যা গোটা দুনিয়াকে একটি লাইনে এনে দাঁড় করিয়ে দেয়, একটি বিন্দুতে মিলন ঘটায়।
প্রশ্ন :১৮
আপনার পারিবারিক পরিবেশ শিল্প ও শিল্পীর।এই সম্মেলন কেমন লাগে?
ইলা লিপি:১৮
একজন লেখকের জন্য পারিবারিক আবহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আবহ কল্পনা করা অন্তত আমার জন্য আকাশ কুসুমের মতো।
সাহিত্য রচনার জন্য পারিবারিক সার্পোট পেলে লেখায় গতিময় হতো।
প্রশ্ন :১৯
আপনার নিজস্ব ঘরনায় লৌকিক সংস্কৃতি কতটুকু আনতে পেরেছেন?আপনি কি সচেতনতার এই বিষয়টিকে এড়িয়ে গেছেন?
ইলা লিপি:১৯
নিজস্ব ঘরনায় লৌকিক সংস্কৃতি আনতে চেষ্টা করিনা, কারণ পুরো পরিবার আমার বিরুদ্ধে এখনো। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া অগণিত ঘটনা নিয়ে কাজ করার মানসিকতা প্রবল। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য, পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে মাঝেমধ্যে হতাশায় নিমজ্জিত হই, সেক্ষেত্রে আমার চিন্তাকে প্রসারিত করার সুযোগ হয়না।
প্রশ্ন :২০
জীবন কেউ কেউ নেশা বলেন।কেউ কেউ উৎসব। কেউ কেউ একটি নাটক।আবার কারো কারো নিকট জীবনে কবিতাই জীবন।আপনি কোন নিজস্ব জীবনচেতনায় তাড়িত নিশ্চয়ই। ব্যাখ্যা চাই।
ইলা লিপি :২০
বেঁচে থাকার নামই জীবন। আমার মতে যতটা সময় বাঁচো ততটা সময় নিজের জীবন যাপন নিয়ে উপভোগ করেই বাঁচতে হবে। এইজীবন আর কখনোই ফিরে আসবেনা, আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্মের একেকটা প্লট একেকটা দিনই নাটক। জীবন কখনো উৎসব মুখর হয়না, প্রতিদিন নানা টানাপোড়নের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। আর বাংলাদেশের মানুষ কবিতা বোঝে কম, এরা পুরুষ তান্ত্রিক মানসিকতা লালন করে, এদের আচারন পক্ষপাতমূলক, তাই কবিতাই জীবন হতে পারেনা।
আমি বরাবরই স্বাধীনচেতা। কারো অধীনতা অসহ্য। একটা স্বাধীন জীবন পেতে আমাকে দীর্ঘ সময় পরাধীন থাকতে হয়েছে। কম বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়া, এরপর একের পর এক বাচ্চার জন্ম দেওয়া, তাদের ভরনপোষণের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া। এগুলো আমাকে করতে হয়েছে। একটা সময় পরিবার সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে ছিল, বিশেষ করে শশুর বাড়ির লোকজন, তাদের চক্ষুশুল হয় জীবন যাপন করা, বাবার বাড়ির আর্থিক অসচ্ছলতা, জীবনকে বেঁধে ফেলেছিল। এসব থেকে বেরিয়ে আসতে খুব যুদ্ধ করেছি। একজন মানুষকেও পাশে পায়নি এসময়, সবাই কেমন মুখফিরিয়ে থেকেছে, আর এখন আমি ইচ্ছে করে কারো সাথে যোগাযোগ রাখিনা,
আর না রাখার বড়ো কারণ হলো ফেসবুক আইডিটা একদম ওপেন, ব্যক্তিগত বলতে আসলে কিছু থাকছেনা আর। এটা আমাকে পীড়াদেয় খুব।
আমি আমার মতো করেই লাইফ হোল্ড করতে চাই, তারজন্য প্রতিনিয়ত একটু একটু করে তৈরি করতে হচ্ছে।
প্রশ্ন :২১
কি রেখে যেতে চান?কিংবা কালখণ্ডে থেকে যাবে কিছু?
ইলা লিপি:২১
কর্মের মাঝে বেঁচে থাকতে কেনা চায় বলুন! আমিও চাই।
প্রশ্ন :২২
কবি আর সংসার দুটো এক লাইনে চলে না মনে হয়।দুই ভিন্ন স্টেশনের যাত্রী। তাহলে কবির সংসার কেমন হবে?
ইলা লিপি:২২
কবিদের সংসার হয়না এটা যেমন সত্য, তবে এটাও সত্য কবিরা সংসারের মধ্যে থেকেই কবিতা চর্চা করেন। এখন আর আগের দিন নেই, সময় পাল্টেছে, সাহিত্যে এখন রাঘব বোয়াল দের পদচারণায় মুখর। পুঁজিবাদ ও রাজনীতির ময়দান ছেড়ে সাহিত্যে কনভার্ট হতে চাচ্ছে। এতে অবশ্য কোনোটাই হচ্ছে না, বরং যারা আসলেই কবিতা লেখেন তারা চাপা পড়ে যাচ্ছেন, আর ওইসব স্বঘোষিত কবিরা দাপটের সাথে ঘুরছেন, মিডিয়া, সংবাদপত্রের সম্পাদকরা তাদের ঘাসপাতা লেখা নিয়ে ফলাও করে প্রচার করছেন। কে কবি আর কে কবি নয় আলাদা করে চেনা যাচ্ছেনা। কারণ এখনকার সময়ে সংসার সামলিয়ে দাপটের সাথে সাহিত্য রচনা করছেন অনেকেই।
প্রশ্ন :২৩
মানবসভ্যতা ক্রমশই বিপন্নতার আবর্তে চলে যাবে?
ইলা লিপি:২৩
আমার এটা কখনোই মনে হয়না। কারণ আদি থেকে ভাঙ্গা গড়ার মধ্যে দিয়ে মানব সভ্যতা অতিক্রম করছে। এখানে কালের বিবর্তনে এবং সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে যারা চলবে তারাই টিকে থাকবে।
প্রশ্ন :২৪
বাংলাদেশের সেরা লেখক সম্পর্কে জানবো?কেন তিনি সেরা?
ইলা লিপি :২৪
বাংলাদেশের অনেকেই খুব ভালো লেখেন, তাদের তালিকাও দীর্ঘ। তবে তসলিমা নাসরিন অন্যান্য। এই একজন মাত্র মানুষ পুরো সিস্টেমকে ভেঙ্গে টুকরো করে দিয়েছেন। নারীদের বিরুদ্ধে হওয়া অন্যায়, ধর্মীয় গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্যকে মূলতঃ তিনিই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তাকে আমরা খুব মিস করি। আবার এটা ভেবেও সান্ত্বনা পাই তিনি দূরে আছেন খুব ভালো আছেন, কারণ আমরা, হুমায়ুন আজাদ, অভিজিৎ রায়ের মতো অনেক প্রথাবিরোধী লেখককে হারিয়েছি।
প্রশ্ন :২৫
কেন আপনার তসলিমাকেই শ্রেষ্ঠ মনে করেন?
ইলা লিপি :২৫
বাংলাদেশে তসলিমা নাসরিন হচ্ছেন নারীবাদের জননী। তার লেখায় উঠে এসেছে মূলত নারী শিশুদের যৌন নির্যাতনের কথা, তিনিই প্রথম বলেছেন একটি মেয়ে সেক্সচুয়াল হ্যারেজমেন্টের শিকার হয় পরিবারের বাবা, কাকা, অন্যান্য সম্পর্কের ভাইদের দ্বারা। আরও সব খুটিনাটি বিষয় সামনে এনেছেন, নারীদের সামগ্রিক চিত্রটা অত্যন্ত সুচারু ভাবে উপস্থাপন করেছেন একমাত্র তসলিমা নাসরিনই।
প্রশ্ন :২৬
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নারীযোদ্ধাদের অবদান বলবেন?
ইলা লিপি :২৬
রিসেন্ট সরকার একষট্টি জন নারী মুক্তিযোদ্ধার গেজেট প্রকাশ করেছে। ততকালীন সময়ে নারীদের যুদ্ধ করার মানসিকতা অতটা মসৃণ ছিলোনা। বাংলাদেশ এবং ভারতীয় নারীদের অবস্থা আকাশ পাতাল তফাৎ রয়েছে। তখনকার সময় যে যেভাবে পেরেছে সহায়তা করেছে। যুদ্ধকালীন সময়ে যারা শত্রুদের সহায়তা করেছে তাদের মাধ্যমে নারীদের সম্ভমহানি ঘটেছে। সে যেনো ভয়ংকর সময় পার করেছে আমাদের দেশের মানুষ।
প্রশ্ন :২৭
শেষ প্রশ্ন পৃথিবীকে কিরকম দেখলে কবিতাময় হবে এই বিশ্বচরাচর?
ইলা লিপি :২৭
আমি স্বপ্ন দেখি পৃথিবীতে সীমানার কোনো কাটাতার থাকবেনা, ধর্মীয় বিশ্বাস মানুষের মধ্যে বিভেদের দেওয়াল তুলতে পারবেনা, আমরা সবাই মানুষ, আমাদের সম্পর্কে গড়ার জন্য স্থান কাল পাত্র গোত্র কোনোটাই বাধা হবেনা, সবদিকে মানবতার জয় হোক এমন এক পৃথিবীর কল্পনা করি সব সময়।
৩০:০৮:২০২১
0 মন্তব্যসমূহ