তরুণদের কবিতা লিসা বিশ্বাস


তরুণদের কবিতা 
লিসা বিশ্বাস 


তরুণদের কবিতা 
লিসা বিশ্বাস 

 লিসা বিশ্বাস: নাম লিসা বিশ্বাস, জন্ম হুগলী চন্দননগরে, পড়াশোনা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়  বি. এস. সি জীববিদ্যায়, সংগীতে এম.এ রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পড়াশোনা, সংগীত চর্চা ছাড়াও  অঙ্কন,নৃত্য জীবনের বিশেষ সঙ্গী। সময় কাটানোর জন্য না ভালোবাসার জন্যই বই পড়া, বই জীবনের অন্যতম সঙ্গী, বাল্য কাল থেকেই লেখালেখি শুরু, সেটাও নিজের সখ থেকে , বিদ্যালয়ের পত্রিকাতে প্রথম কবিতা প্রকাশ পায় তখন প্রথম শ্রেণীতে ,তারপর কিছু পত্রপত্রিকায় লেখা প্রকাশ হতে শুরু করে। জীবনের অনেক
ওঠানামা, বন্ধু হীনতা, বিচ্ছেদের আগুনে জীবনের খাতা ভরা। বাবামা সব পরিস্থিতিতে সাথে থেকে উৎসাহ দিলে জীবনের মর্ম বুঝতে অসুবিধা হয় না, তাই বহু শূন্যতাই ও সব পূর্ণ । এখানে কেবল কিছু বিরহের কবিতা রইল, যা এই সমাজের নির্মম কিছু সত্য প্রকাশ করে, কারোর জীবনের সাথে মিলে গেলে দুঃখিত ।



ভ্রম


জীবন পথের নাটকে, 
রঙ্গ মঞ্চে; কেবল হাসির পাঠ তোর ...।
হা নিষ্ঠুর পাষাণী ,
কান্না ছেড়ে হাসছিস যে ভারী আজ ও ..!
ওই দেখ,দেখ চেয়ে ,
যন্ত্রণা উপভোগ করছিস??
তোর হৃদপিন্ড উপরে নিয়ে গেলো যে সে। 
কষ্ট হচ্ছে না !!!
পাষাণী ....। 
এখনো তুই হাসছিস ....! 
কতো রক্ত কতো রক্ত, 
সারা শরীর ভিজে যাচ্ছে ,
এখন যে নাটকে তুই মৃত ,
ভালোবাসার ধর্ষণ ,
প্রেমের জোরে খুন,
তোর হৃদপিন্ড উপরে নিয়ে গেছে সে ..।
তুই দিয়েছিস ও বটে ..!
শরীর মনন ছিড়ে খুঁড়ে দিলো সে; 
পাষাণী কাঁদ তুই ...।
আহা! কাঁদবি কেমনে ??
বিশ্বাস ভরসা ভেঙে,সে যে;
লাশ করে গেছে তোকে,
তোর সব শেষ; জীবিত শব তুই ...।
কাঁদরে, কাঁদ পাগলী...। 
আহা,   কাঁদবি কেমনে?
লেখক তোর দেওয়া হৃদয় টা যে,
 কুপিয়ে, কবর দিয়ে দিয়েছে।
ওরে পাগলী....!
বৈজ্ঞানিক মতে তুই জীবিত,
কাঁদ কাঁদ...,
সব শেষ ...,
এখন ও যে হাসছিস ভারী...!!!
ভ্রমে আছিস ....!!!
তুই আর মননে জীবিত নাই ...,
জীবিত একটি লাশ ..,
হৃদপিন্ড তোর উপরে নেওয়া হয়ে গেছে  ...। 
শরীর এর মাঝে অশরীরী তুই ..।।


আমার জঠর যন্ত্রণা উপভোগ করা হয়নি, 
তার আগেই বারংবার উৎখাত,
ঐ সাইরেন বাজছে, 
সবার তারা ফিরে যাবার, 
ঐ সাইরেন বাজছে, 
ঘন অন্ধকার, 
আমি বেমানান প্রেমিকা,
নষ্টের চেয়ে ও নষ্ট ,
অনেক জল যে,
লেখক আমি সাঁতার জানি না, 
সাইরেন বাজছে, 
বড্ড তারা, ঘরে সবাই আছে,
ভরা সংসার,
আমি ভুল, 
আমি সাঁতার জানি না লেখক, 
তবু তুমি যখন চাইলে, 
যাও গৃহিনীর কাছে, 
সাইরেন বাজছে, 
জলটা বড্ড গভীর ।

এক বিশাল জগৎ বক্ষে
ছোট্ট একটা খুপরি 
অক্লান্ত পরিশ্রমে ডানা ঝাপটায় সে
এক চিলতে আলো পেতে,
নিঃসঙ্গ জীবন
ভালো না লাগা থেকে বেরনোর সখে,
একটুকরো আনন্দ ,
একটু সুখের তরে,
অক্লান্ত পরিশ্রমে কখন গিয়েছে ডানা ভাঙি,
আর ঝাপটাবার উপায় ও নাই,
একটু ভালো থাকার লোভে শেষ হয়ে গেছে জীবন, 
কেবল নিঃসঙ্গতা, 
একাকীত্ব, 
অন্ধকার অন্ধকার 
গাঢ় অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়ার যন্ত্রণা ।

আজও এক রাশ দুঃখ নিয়ে এলাম 
তোমাদের সামনে বলতে,
তোমাদের কাছে দুঃখ বিলাপে খুব শান্তি পাই,
তাই শত বিরক্তি ও কটূক্তির পরে ও চলে আসি,
জানি শুনবেনা কেউ, 
কেনই বা শুনতে যাবে?
এ দুঃখ তো আমার কেবলই আমার , 
তবুও ফিরে ফিরে আসি একটু শান্তির লোভে,
একটু ভালো থাকতে ইচ্ছে হয়যে ,
জানি আমার সব ভুলে আমি দুঃখি, 
জানি আমি দোষী কেবল আমি, 
তা বলে তোমরাও একা করে দেবে?
আর দেবে নাই বা কেন?
রোজই ভাঙা রেকর্ড এর মতো একই কথা কার ভালো লাগে?
কোনো কথাই তো শুনতে চাই না মন,
তাই তোমাদের কেবল দুঃখ শোনাতে ইচ্ছে করে, 
কি করে বোঝাই বলোতো ?
ভীষণ রকম কষ্টে মাথাটা ছিড়ে যায়, 
ভীষণ শূন্যতায় হাঁফ ধরে, 
ভীষণ ভীষণ প্রতারণায় আমি ক্লান্ত, 
অবুঝ না কেবল একটু ভালো থাকার ইচ্ছায়,
কেউ বুঝতে পারবে না জানি,
তাও ফিরে আসি, 
সত্যি কোনো পরামর্শ নিয়ে সব ভুলে আনন্দ দেখাতে আমি অক্ষম, 
আমি যে প্রতারক নয়,
প্রতারিত জীবনের হাতে।


এক জীবিত দুঃখ বাস করত,
সুখো সমুদ্র তীরে,
এক গোধূলিতে সুখের ঢেউ এলো,
অনুমতি না নিয়েই, 
টেনে নিয়ে গেল গভীরে;
দুঃখ কিছু বোঝার আগেই,
খাবি খাওয়ানোর খেলায় মাতল সুখের ঢেউ ;
অতঃপর ঢেউয়ের মন ভরে উঠল,
আধমরা দুঃখের, ছটফটানি শান্ত হয়েছে দেখে;
আবার ও অনুমতি না নিয়েই,
ফেরত দিয়ে গেল আধমরা দুঃখকে ,
সুখের সাধ পূরণ হয়ে গেছে যে,
দুঃখ কেবল জীবিত ছিল,
সুখ তারে আধমরার যন্ত্রণায়,
 ছটফট করতে ছেড়ে দিল,
আর দূর হতে ব্যাঙ্গের হাসিতে মত্ত হয়ে,
অপেক্ষা করতে লাগল;
দুঃখের তড়পে তড়পে মৃত্যু আসা দেখার;
দুঃখ একা ছিল, কিন্তু জীবিত অবস্থায়,
সুখ তাকে আধমরা করে দিল,
উপরি উপহার দিয়ে গেল যন্ত্রণা,
সুখ বড়ই কাঙাল ছিল,
তার লোভের ক্রোশে শেষ হয়ে গেল,
দুঃখের কষ্ট করে জীবিত থাকার শখ;
সে এখন আধমরা;
যন্ত্রণায় ছটফট করে সদা;
তবুও শান্তি পাইনা ।


কৃষ্ণপক্ষের চাঁদের চাওয়া 
বড্ড মলিন হল,
হঠাৎ কেমনে আজই যেন 
অমাবস্যা এল,
এতোএতো কালো 
জ্বলে না যে আলো,
হাতড়ে দেখি; সব শূণ্য,
আঁধারের ঘরা অল্প বয়সেই, 
করে ফেললি পূর্ণ;
যতই চাই চোখে চোখ রেখে,
আগের মতো বলতে,
কৃষ্ণ গহ্বরে হারিয়ে গেলি,
পারলো না কেউই তুলতে,
বন্ধু মহলে আঁধার ঘনালো,
এক অধ্যায়ের আজ শেষ,
বুকের মাঝে রক্তক্ষয় করে;
তুই চলে গেলি অবশেষ ।

কবে ও গো খুলিবে যে দ্বার, 
সুখো শান্তিরো পারাবার ,
লইয়া যাইবে মোরে!
আর কত তপস্যা পর?
তুষ্ট হবে তাঁহার অন্তর,
পাঠাবে স্বর্ণের রথ,
লইয়া যাইবে মোরে!

জীবন কতটা পেল মুক্তি;
বুঝে উঠি না তা,
লোকে বলে সুখ;
বন্ধন হতে মুক্তি পেয়ে যাওয়া ,
জানি না সে সব,
বুঝি কেবল, এতটা পথ হেঁটে;
কেবল,
সুখই আমাকে মুক্তি দিয়েছে,
তার বেড়াজাল হতে;
এটুকুই আমার মুক্তি ঘটছে,
এ জীবনে বেঁচে থেকে।


তরণী খানি বহেই চলি,
পৌঁছায় না; ওই দুয়ারে,
ভীষণ রকম প্রতীক্ষায়,
বিফল যে হই বারে বারে ।
দুয়ার খানি একটু খোলো,
ভ্রমর খানির প্রহর গোনা 
হৌক না শেষ এ বারের তরে,
ভীষণ রকম ক্লান্তি যে তার,
স্থান করে দাও তোমার দারে ।


গ্রাস

তুমি নারী দেহে পাহাড় দেখেছ প্রথমে ,
শিহরণ জেগেছে শরীরের মাঝে, 
থামতে চাওনি তুমি ...। 
ঝাঁপিয়ে পড়ে হাতড়ে,খামচে,কামড়ে, 
উঠতে চেয়েছ পাহাড়ে ..! 
উঠেছো,ছুঁয়েছ, শান্তি মেটেনি তোমার ...।
তুমি আরও খোঁজ শুরু করেছো ,
নারী দেহে তুমি সন্ধানে পেয়েছ গুহা। 
তোমার খিদে বেড়ে গিয়েছে।
তুমি আরও সন্ধানে ব্যস্ত হয়েছ।
পথ টা কে তোমার সরু আল মনে হয়েছে, 
তুমি তাতে প্রবেশ করতে চেয়েছ, 
গুহা পথে পারি দিয়েও আস মেটে নি তোমার, 
পথ কে নিজের মতো করতে চেয়েছ ,
ছিঁড়েছ,কেটেছ ,পথ কে বড় করেছো ।
তুমি নারী দেহে সন্ধান পেয়েছ, 
গুহা পথ হতে রক্ত নদীর, 
তাতে স্নান করে তৃপ্তি মেটাতে চেয়েছ,
তাতে ও শান্ত হয়নি তোমার উত্তেজনার, 
তুমি হাতড়ে, হাতড়ে আরো চেয়েছ, 
তুমি নারী রূপে কেবল লালায়িত হয়েছ ,
ভক্তি ,স্নেহ, ভালবাসা জাগেনি তোমার মনে।
যে পথে তোমার পৃথিবী দর্শন ,
সে পথের সন্ধানে তুমি শেষ করে ফেলেছ; 
নারী জাতির পৃথিবী দর্শন, 
তাকে লাশ করে ও তুমি শান্তি পাওনি ,
আরো আরো ক্ষুধা তোমাকে টেনেছে,
ওই পবিত্র গুহা পথ কে তুমি চিরে ফালি করেছো।
তাও তুমি এ পৃথিবীতে সম্মান পেয়ে জীবিত। 
আরো পাহাড় আর গুহার সন্ধানে ....। 
যা আবার ও শেষ হবে তোমার, 
তোমাদের মতোদের হাতে।

আজকের রাত মায়াবী,
আজকের চাঁদ মায়াবী।
নেশা লাগছে;
সঙ্গী হারা অতৃপ্ত মনে।
ভাঙা হৃদয়ের আর্তনাদ,
বাতাসের সাথে,
মায়াবী আলোর সাথে,
মাখামাখি হয়ে যাচ্ছে,
শিহরণ জাগছে ।
মর্মর ধ্বনি অস্থির করছে,
প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাচ্ছি,
চাঁদের যাদু বশ করছে 
ক্লান্ত শরীর মন,
আমি ক্রমশঃআবিষ্ট হয়ে পরছি,
এ আমিকে ছিলাম বেঁধে তোমার তরে,
এ ভাবনায় টেনে ছিলাম ইতি,
সবার মাঝে থাকার আশা নিয়ে,
এ আমি কে  পাল্টে ছিলাম আমি,
তুমি আবার পাল্টে দিলে সব,
আজ তাই অন্য রকম রব,
পূর্ণিমা আবার আমায় ডাকে,
রাতের নেশা,
আলোর নেশা,
আবারো আমায়,
বশ করে রাখে।

বিশ্বাস

নক্ষত্র দেখা হল কত,
স্নেহের আলিঙ্গন,
আদুরে আলাপ, 
জ্বলন্ত নক্ষত্ররা সব,
কতই না আপন,
বেমানান ধুলিকণা ,
কতই না চেষ্টা করে,
আপন করতে,
তবু হয়ে ও হয় না,
পার্থক্যের কাঠিটা,
বৈজ্ঞানিক সত্য;
যদিও নক্ষত্রের থেকে,
ধূলির বড্ড আপন,
ধূমকেতু,
ধূমকেতু হতে পারবে???? 
পারবে?????

ইচ্ছে
     
চেতন আমিটা কতো দিন হল, 
 দেখতে পাইনা তোমায়,
অবচেতনাই রোজই আমি ,
 খুঁজে পেয়ে যায় তোমায়...;

তখন তোমায় দেখার তরে, 
 গুনতে হতো প্রহর, 
এখন তোমায় রোজ ছুঁতে পারি, 
 গুনতে হয় না প্রহর; 

জাগতে যে আর ভালোই লাগেনা ,
 মনে পড়ে সব কথা;
প্রতারক হয়ে ব্যথা দেবে এত ,
 ছিল না যে সে কথা; 

এর চেয়ে ভালো ঘুমিয়ে পড়ি, 
 চিরদিনের তরে ......,
তোমার আমার সুখের সংসার, 
 গড়বো সঠিক করে , 

সেথায় যে তুমি আমার লেখক, 
ভালোবেসে কাছেই রাখবে;,
লোক জনের নোংরা  কথা, 
দূরে সরিয়ে ও থাকবে; 

সেথায় গড়বো, মোদের বাড়ি, 
থাকবেনা বাঁধা কিছু ,
তোমার,আমার সুখের মিলন,
দূরে যাক সব কিছু; 

সত্যি আমি, সে ঘুম কেই চাই ;
যা ভাঙবে না মোটেই;
ঘুমিয়ে গেলেই প্রতি দিন দেখি,
 তুমিটায় ফুটে ওঠে!

ঘুমই যদি,মোদের মিলনের ,
 পথ হয় এক মাত্র ,
চির তরে আমি, ঘুম কেই চাবো ;
 এ চেতনার নাই অর্থ  ..।


স্বপ্নেরা সব হারিয়ে গেছে, 
আমিটা পুরো ই গচ্ছিত, 
ভালো থাকাটা কবিকে দিলাম,
ব্যথাতেই হবো সজ্জিত, 
আর লাগে না বাঁচতে ভালো, 
তবু নাটকে বেঁচে থাকা, 
মতাদর্শের বিপরীত,তাই , 
আত্মহত্যা বাজে কথা,
মরছি রোজই দগ্ধে দগ্ধে, 
তখন কোথাও কষ্ট নেই, 
শান্তি চাইলেই,সকলের মুখে,
ঞ্জানের কোন কমতি নেই, 
আমিটা পুরো হাঁপিয়ে গেছি,
জীবন যুদ্ধ বড় কঠিন, 
প্রতারণাটা যতটা সহজ ,
প্রতারিত হয়ে বাঁচা কঠিন।

এ জীবন বসন্তের সম্বল 
কেবলই ঝরাপাতা,
বাসন্তী রঙ খুব প্রিয় ছিল, 
তাই প্রিয় তোমাকে করিনু অর্পণ, 
কমলা বেগুনি লাল শত শত রঙ,
রঙিন করুক তোমার বসন্ত, 
আমার ভাগে থাক কেবলই ধুলো, 
ধূসর কালচে আঁধারের মেলা,
আমার বসন্তের অনুভূতি,
এক রাশ অশ্রু হয়েই ঝরে পরুক,
বসন্তের প্রেমের রবে- ,
আমার বিরহ যন্ত্রণা বাড়ুক আরো আরো,
আমার ভগ্ন হৃদয়ের একটি কামনায় শেষ, 
ভালো থেকো কবি,
শত বসন্ত পার কোরো তুমি, 
নিয়ে সুখের পরিবেশ ।


★কখনো বা ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে, 
কখনো বা রাস্তায় কোথাও হিচড়ে নিয়ে গিয়ে, 
ছিড়ে খুঁড়ে খায় ওরা দেহ ও মন,
খুবই দুঃখজনক সত্য হল ,
এর পরও সমাজের চোখে;
অপরাধী হয় নির্যাতিতা,
আর মাথা উঁচু করে,
স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারে,
হিংস্র অসভ্য লোভী প্রতারক গুলো,
ভেঙেযায় কিছু স্বপ্ন,
শেষ হয় কিছু ভালো থাকা,
প্রতিবাদের ভাষা মুখে আনলে,
সমাজ একঘরে করে,
ভালো থাকা গুলো অসভ্য বর্বর গুলোর,
থলে ভর্তি হয়ে যায়, 
দগ্ধে মরতে হয় নৃশংস ভাবে অত্যাচারের শিকার হওয়ার,
বিশ্বাস ভরসা করে এগিয়ে চলা নিষ্পাপটিকে,
সমাজ মারে অবুঝের মতো,
ভাবে না তার সাথেও হতে পারে, 
আসলে এটাই স্বাভাবিক, 
যারা যত ঘৃণ্য,নোংরা, 
তারাই সম্মান পায়।
 

বাহ্ রে কলিযুগের দুষ্মন্ত, 
ভরতকে আসতে দিলে না কোনো ভাবেই, 
পাছে শকুন্তলাকে ঘরে তুলতে হয়!
বারেবারে ছক কষে গেলে,
জিতেও গেলে এযুগে, 
বড্ড বেশি চালাক কি না!
শকুন্তলা এখনো বোকাই রয়ে গেছে।
প্রকৃতি সাক্ষী রেখে বউ স্বীকৃতিকে ,
সত্যি ভেবে আছে সে,
কাগজ ছাড়া,সামাজিক নিতি ছাড়া ও,
নিজেকে বিবাহিত বলে বাঁচে সে, 
ও দুষ্মন্ত শকুন্তলা আজও তোমায় ভালোবাসে,
এযুগেও সে তোমাতে মত্ত, 
অভিশাপ কুড়োয় রোজ, 
ভরত ও নেই তোমার চতুরতাতে,
অভিশাপ খন্ডনও নিখোঁজ!
তুমি রোজ বলতে,
সুবিধার লোক নও তুমি,
অবুঝ মন তা মানতে নারাজ,
তুমি কলমবাস না করলে,
এ যুগের চতুর দুষ্মন্ত আর
বোকা শকুন্তলা সামনেই আসত না,
কত যে কবিতা, গল্প, 
খাতা ভরে গেছে তোমার শকুন্তলার,
ব্যথায় ব্যথায় 
তোমার ধ্যানে, ভ্রমে,
অঞ্জাত অভিশাপ কুড়িয়ে ।
 

সবই কালো,তাও আলো,
মনের মাঝে জ্বলছে,
সলতের মতো পোড়া এ জীবন,
আলো বিকিরণ করছে।

ভেঙেছো তুমি, পেরেছো যত,
ভাঙতে দিয়েছি আমি ।
ভাঙতে ভাঙতে গুঁড়িয়ে দিয়েছো,
সহ্য করেছি আমি ।

আজ ধুলো সব, নেই কলরব,
হয়তো বোঝেনি তুমি ।
ভাঙা যে আর সম্ভবই না,
ধুলো হয়ে গেছি আমি।

বড় জোর তুমি ফুঁ দিতে পারো,
ধুলো উড়ে যাবে সব।
ভাঙনের খেলায় ধুলো জিতে যাবে, 
রটে যাবে কথা সব।

ছড়িয়ে দিলে ছড়িয়ে যাবে,
ধুলো হয়ে গেছে যে।
তারায় তারায় ও রটিয়ে যাবে,
গোপন গল্প সে।

আমি নিশি জাগি,
সাথে রয় মলিন চন্দ্রমা,
নব বিকশিত শিউলির সুভাষও ,
বিষন্নতা ভাঙতে পারে না ....; 
এক রাস অন্ধকার ছেয়ে রয় গভীরে ,
কেউ দেখতে পাইনা, 
অনুভবে পাই কেবল আমি, আমি, 
হলুদ ফুলে ভরা গাছটাও, 
রাতে ব্যঙ্গ করে ,
আগুন লাগে অন্তরে ,
স্মৃতি জড়িত গাছ,দেওয়াল ;
পথ আমাকে টেনে নিয়ে চলে, 
গভীর ক্ষত হয় ,
বিবেচনা শক্তি পঙ্গু হয়ে যায় ,
ক্ষত হতে রক্ত ঝড়ে ,
মন বারংবার কেঁদে ওঠে ,
না পাওয়ারে পাওয়ার তরে, 
মধুর স্মৃতি গুলো তির্যক ভাবে তাকিয়ে হাসে ,
ওরা ও ব্যঙ্গ করে ,
মধুর তো আর কিছু নাই, 
ভাবতে গেলেই ব্যঙ্গের হাসিটা   ধরা পড়ে, 
আমি উন্মাদী হয়ে; ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকি, 
সব বিদ্রুপ উপেক্ষা করে ও স্মৃতি কে আঁকড়ায়, 
আমি বেঁচে থাকি, 
আরো এক রাত পার হয়ে ভোর দেখি, 
আমি জীবিত শব হয়ে বেঁচে থাকি ......।

★ 
তারে বলো না, আর কিছু ,
কপাল দোষে হয়েছি একা ,
তার যায় আসে না কিছু ,
মরিচিকা আজ তব প্রেম সুখ ,
তবু ধায় পিছে একা, 
পাওয়া না পাওয়ার ঊর্ধ্বে যে প্রেম ,
না হয় না হোক দেখা, 
মেনে নিয়েছে আমিই দোষী,
স্বার্থ হীনতার ফল, 
মনের তো আর দোষ ছিলো না , 
তাই আজও অবিচল,
অন্তরে তাই আজ ও প্রিয় মোর, 
একই ভাবে ঠাঁই পায় ,
দূরে গিয়ে যদি সুখী হয় সে, 
হোক তাহে ক্ষতি নাই, 
আমি হেথা রব, 
চাহি পথ পানে,
যদি ফিরে আসে সে,
যদি নাও আসে,
আমি যে তার,
মরণোত্তর সাথী হে।

হাসতে হবে আমায় আবার,
ঝাড়তে হবে দুখ্;
তোমার স্মৃতি মাথায় রেখেই,
আনতে হবে সুখ,
ভুলে যাওয়ার;বৃথা চেষ্টা,
করব নাকো আমি,
মনে চেপে ভীষণ ব্যথা;
থামাবো পাগলামি,
জ্বলে পুড়ে অঙ্গার হব,
ব্যথা দেবে না দুখ্,
যন্ত্রণাকে জয় করে নিয়ে,
জীবনে আনব সুখ,
যে স্মৃতি দুখের; তা হতে আমি,
নিংড়ে আনব মুক্তি ,
জীবন যুদ্ধে আবার জিতব,
হতাশাকে করে শক্তি ।


একটা গোধূলিতে চাঁদ দেখে প্রেমে পড়েছিলাম,
বুঝতেই পারিনি ঐ সৌন্দর্য আসলে ফাঁদ,
পিছনে তার গভীর খাদ ,
না বুঝে ঝাঁপ দিয়েছিলাম,
তলিয়ে গেছি।
তবু কি পরম শান্তি এমন তর মৃত্যুতে,
তার পর থেকে খাদ দেখলেই ঝাঁপিয়ে মরি,
সুখ খুঁজে চলি!
হায়! পাইনা ।
শান্তি অনুভব করি; 
ভগ্ন হৃদয়ের মাঝে ও চিন চিন যন্ত্রণার আভাস পেলেই।
ত্যাগের মাঝেই তাই অপার শান্তি পাই,
কিছু পাবার আশা না রেখেই এখন বারবার মরে যায়,
না পাওয়ার মাঝে পেয়ে ।


অপ্রত্যাশিত

ভালোবাসার ঔরসে প্রাপ্ত কুড়িটি,
 যখন ,
ফুল হয়ে ওঠার আগেই ,
'অবৈধ' তকমা পেয়ে অকালে ঝড়ে পরে, 
তখন তাকে মৃত্যু না; হত্যা বলে , 
কিন্তু!
হত্যাকারী কে? ভালোবাসার সম্পর্ক ??
না কি সম্পর্কের মাঝে অবৈধতা আবিষ্কারকারী সমাজ ?
এই বিশ্বে অবৈধ যে কিছুই নয় ,
সমাজ বড্ড কুটীল তোমার চিন্তা, 
তুমি আসল খুনি ,
তুমি হাজারো না ফোঁটা ফুলের আসামী ,
পাল্টাতে কি বড্ড কষ্ট হয়? 
লোকের চিন্তা কম করে, যদি 
নিজে কে নিয়ে ভাবো ,
হ্যাঁ নিজেকে,
তখন দেখবে পাল্টে যাওয়া বিশেষ কঠিন নয়. .।

অপেক্ষা করি 
        অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় না,
প্রহর ফাঁকি দিয়ে যায়,
       প্রত্যহ অন্ধকার আবিষ্ট করে।
অন্ধকারের আবেশে আচ্ছন্ন হতেই 
       নিদ্রাদেবী আবিষ্ট করে ।
অপেক্ষা স্বপ্ন দেখে, 
    শুধুই.......
          অবৈধ প্রহরের ।

কী লিখি কেন লিখি 

কী লিখি বলতে গেলে ভীষণ জটিল হয়ে যাবে, এটুকু বলতে পারি সবার জন্য লিখি,আর সব থেকে বেশী নিজের জন্য লিখি, হ্যাঁ লেখা আমার সখ,আমার আমিটাকে ভরিয়ে দেয় লেখা, আমাকে বাঁচতে সাহায্য করে লেখা , লেখার মাঝে কত না পাওয়া , পাওয়া হয়ে যায়, কত স্মৃতি জীবিত থেকে যায় , শেষ হয়েও যেন কিছুই শেষ হয় না, তাই তো আমি লিখি, লেখার মাঝে কত প্রতিবাদ সহজে করা যায়, লেখার মাঝে কত বেদনা গোপন করা যায়, কত না বলা কথা,আনন্দ,যন্ত্রণা সহজে প্রকাশ করা যায়, কাগজের মত সহন শক্তি আর যে কারোর নেই তাই আমি সাদা পাতা ভরি লিখি লিখি লিখি ।।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ