একগুচ্ছ কবিতা
বিপ্লব উরাং
একগুচ্ছ কবিতা
বিপ্লব উরাং
ত্রিপুরা রাজ্যে ছিলোমিলো ভাষা বিকাশে সম্প্রতি আপসহীন সংগ্রামীচেতনায় এক ঝড়ের নাম বিপ্লব উরাং।এই রাজ্যের সাহিত্য মহলে টনিদা নামে একবাক্যে যাকে সবাই চিনেন তিনিই বিপ্লব উরাং। টনিদা মানে টনিলাল পাঁড়ে।তাঁর স্বপ্ন চা শ্রমিকসহ হিন্দুস্থানী সমাজের বিকাশ।ছিলোমিলো ভাষার প্রসার।নতুন সমাজ গঠনে নিজেকে নিয়োজিত করে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
ত্রিপুরার প্রকাশনা ও লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনেও তাঁর স্বাক্ষর রেখেছেন।তিনি গঠন করেন ১৯৮৭ সালে
ঝুমুর সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ ও ১৯৮৪ সালে উত্তরবার্তা সাহিত্য সাময়িকীর। তাঁর প্রকাশিত দুইটি কবিতার বই :এক বিঘত জমিন ও ঝুমরী।
জন্ম ঈশানপুরে।পূর্ব পুরুষকে আনা হয়েছিল বিহারের হাজারীবাঘ জেলা থেকে ত্রিপুরার চা বাগানে কাজ করার জন্য আসেন।
বিপ্লব উরাং এর জন্ম ১৯৬১ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারী সদর মহকুমার(বর্তমানে মোহনপুর মহকুমা)ঈশানপুর গ্রামে।বাবা প্রয়াত মদন পাঁড়ে।মা প্রয়াত মালতি পাঁড়ে।তাঁর জীবনসঙ্গী কথাসাহিত্যিক জয়া গোয়ালা প্রয়াত।দুই মেয়ে রেশমা,রোশনী।এক ছেলে উত্তরণ।
সরকারী কাগজ পত্রে নাম টনিলাল পাঁড়ে।
কি লিখি কেন লিখি
কী লিখি কেন লিখি প্রশ্ন গুলোর উত্তর দিতে গেলে স্বাভাবিক ভাবেই চলে আসবে কখন থেকে,কেনইবা,কাদের জন্য।
এই গুলোকে আশ্রয় করে লিখতে হবে বৈকি।
আশির দশকে সদর উত্তরাঞ্চলের সিমনার কিছু যুবক একটি ম্যাগাজিন বের করার চিন্তা করেন।প্রশ্ন ম্যাগজিনই বা বের করবেন কেন?যুব বয়সের উন্মাদনায় প্রেম পত্র লিখতে লিখতে,রবীন্দ্রজয়ন্তী,নজরুলজয়ন্তীতে কবিতা আবৃত্তি করতে করতে দুটি এক লাইন কবিতাও লিখে ফেলছেন।
একে অপরকে দেখাচ্ছেন।মাথায় পরিকল্পনা এ গুলোকে তো প্রকাশ করতে একটা মাধ্যম লাগবে।সেইটা ম্যাগাজিনকেই ম্যাধম করে শুরু হল লেখা লেখি।কিন্তু তখন কি লিখব,কেন লিখব কার জন্য লিখব এমন ভাবনা হয়নি।ধীরেধীরে বয়সবাড়ছে পড়ার বই ছাড়াও
অন্যান বই পত্র পড়া হচ্ছে।কম বেশ লেখা লেখি হচ্ছে।
গ্রাম,নদী,আকাশ,চাঁদ নিয়ে কবিতা লিখছি।আর এগিয়ে
ছোট ছোট ফিচার।সমসাময়ীক কালের ঘটনা বলী।পত্র
পত্রিকাতে বের হত।উৎসাহিত হতাম।মাথায় ঘুরপাক
খাচ্ছে কি লিখব।ধীরেধীরে চিন্তার বিকাশ ঘঠছে।সঙ্গী
পেলাম।আলোচনা হত।সাথীর লেখা লেখি চলত।আমি
লিখতাম না।কিন্তু কি নিয়ে লিখবে কাদের জন্য লিখবে।
সে বিষয়ে আলোচনা হত।ঋদ্ধ হতাম।ধারাবাহিক ভাবে
নয়।মাঝে মাঝে লিখা হত ফিচার ধর্মী লেখা।বয়সের শেষ
সীমায় এসে বছর তিনেক আগে ধারাবাহিক ভাবে লিখছি
চা বাগানে প্রচলিত ছিলো মিলো ভাষায় কবিতা।এই ভাষা
বিকাশও কেন লিখছির একটি উত্তর।এই ভাষায় কথা বলে
চা শ্রমিক সহ হিন্দূস্হানী জনগুষ্টী।যাদের ইতিহাস,ভাষা,সংস্কৃতি তেমন ভাবে লেখা হয়নি।অকথীত
জীবন সংগ্রাম,ভিন ভিন রাজ্য থেকে প্রলুভধীত হয়ে আসা
মানুষের জীবন যন্ত্রণাও লেখা হয়নি এখনও।এগুলোকে
সামনে রেখে আাঁধার আক্রান্ত সময়ে মানুষের জীবন যন্ত্রণার কথা লিখার চেষ্টা করছি।
একগুচ্ছ কবিতা
(সম্প্রতি উনকোটি জেলার কালি শাষন চা বাগানের কৃঞ্চা নায়েক নামে এক একুশ বছরের যুবতিকে ধর্ষণ করে খুন করে
একদল নরপিশাচ।তার প্রতিবাদে আমার এই কবিতা।)
কৃঞ্চা
হামার বহিন কৃঞ্চা নায়েকের ইজ্জত লুট
করে-খুন করে---
এক দল নরপিশাচ কালি শাষন চা বাগানে।
হামার দেশের আইনি মানুষরা
আইনি দন্ড লিয়ে চুপ করে বসে থাকে।
সরকার বাহাদুর কান দুইটা বনধ করে রাখে।
টগবগে জোয়ান মরদরা দুই চখ বনধ করে থাকে।
দিন পরতি দিন এমন খুন হয়
কখন আসামে কখন উত্তর প্রদেশে,
কখন তিরপুরায়।
কৃঞ্চা নামে বহিনটা-
এক আন্জালা ভাত ফুটাবেক বলে
লাকড়ি আনতে জঙ্গলে গেলে---
খূবলায়,খুবলায় ভরখর জোয়ানীকে
লুটে পুটে খাইয়ে লেয় নরপিশাচরা।
খোলা আকাশের নিচে গিরে থাকে
হামার বহিন কৃঞ্চা--
আধ ল্যাংটা লাশ হয়ে।
হামি ভালে থাকি আকাশের দিকে
বোবা হয়ে--
ভিতরে জ্বলতে থাকে আগুন।
(1921সালে আসামের চরগোলার চাঁদ পুরে ব্রিটীষ মালিকের হাতে
মেয়ের ইজ্জত রক্ষা করতে গিয়ে চাশ্রমিক গঙ্গাধর গোয়ালা মৃত্যবরণ করেন-তাঁকেে মনে রেখে)
গঙ্গাধর
নিজের বিটির ইজ্জত বাঁচাতে যাইয়ে-
ব্রিটীশ মালিকের হাতে জান দিলি গঙ্গাধর।
একশ বছর পিছেও তর কথা হামরা ভুলতে নাই পারি।
ভুলব ক্যামনে যে বিটিকে ছোট্টোলে
লালন করেছিস লাল চালপানি আর মার ভাত খাওয়াই।
আদর করে বড় করেছিলি।
নরপিশাচরা তর বিটির ইজ্জত ছিনাবেক
আর তুই চুপ করে বসে থাকবি?
ইটা ক্যামনে হয়?
তুইত বাপ,তর চখের সামনে ইজ্জত লুট হবেক-
তুইত ভালে থাকতে নাই পারবি।
ঐজনেই গর্জে ওঠেছিলি।
পরতিবাদ করতে যাইয়ে জান দিলি।
চরগোলার চাঁদপুরের মানুষ দেখেছে,
মনে রাখেছে-এখনঅ ভুলতে নাই পারে।
এখন গরব করে বলতে পারে--
গঙ্গাধর জান দিয়েছে বিটির ইজ্জত বাঁচাতে যাইয়ে।
কি দিন আইলরে বাপ
কি দিন আইলরে বাপ
নিজের নাতিকেও দেখতে নাই পারি।
কি রোগ করোনা ন সরোনা।
মহি হামার নাতি--
হামার বিটির বেটা।
মোটে তিন সাল হয়েছে।
থরা থরা ও আ করতে পারে।
যখনই যাইতম
ফিক করে হাসে দিত।
আসতে নাই দিত
হাত ধরে বসাই দিত।
এখন হাত ধরবেকত দুরের কথা
দুই হপ্তা ধরে যাইতেই নাই পারছি।
ওয়ার কথা মনে হইলে-
পেরানটা কান্দে ওঠে।
বিটি বলে ভিডিও কল কর।
ঐটাও ঠিক মত করতে নাই পারি।
যদিও করি----
কাঁহা ওয়াকে দেখবি।
এই দিকলে ঐদিকে যায়-
তিড়িং বিড়িং নাচে।
কি দিন আইলরে বাপ।
চালের দাম বাড়ছে,ডাইলের দাম বাড়ছে,বাড়ছে তেলের দাম।
বাড়ছে নাই হামদের ঘামের দাম।
ভোটের আগে কত্ত কথা
মজুরী হবেক 340 টাকা।
সাড়ে তিন বছরে হামদের মজরী
কত বাড়ল জানিস বাবুরা--
মোট্টে 26 টাকাআটআনা।
ক্যামনে চলে,বলত হামদের সংসার?
ছিল 105এখন 130টাকা আটআনা।
সরকার বলছে চাপাতার দাম বাড়েছে
পাতা বিদেশ যাছে,তবে হামদের মজরী
বাড়ছে নাই ক্যানে?
শুনে ছিলম আগের সরকার
সিদ্ধান্ত লিয়েছিল 176টাকা মজরী দিবেক।
কাগজে কলমে সইও হয়ে যাইয়েছিল।
ঐটাও নাই হইল।
আশায় আশায় বসে আছি-
340টাকা কবে হবেক কে জানে?
ভোটত আবার চলে আসছে--
আবার শুনব---বলবেক ভোট দে
মজরী বাড়বেক 680টাকা!
হাত বনধ ত পেট বনধ
এখন একটা সময় বটে হামদের সামনে-
যাদের সম্বল দুইটা হাত।
হাত বনধ ত পেট বনধ-
হাত নাই চালাইলে-ভাতের জোগাড় হবেক ক্যামনে?
কি যে শতরু আসেছে দেশে
কেউ নাই বাঁচবেক--
বড়লোকেই হোক আর গরীব লোকেই হউক।
এমন একটা শতরুলে বাঁচতে হলে নকি
থাকতে হবেক ঘরে বসে।
মিশতে নাই পারবি মানুষের সঙ্গে।
ত হাত বনধ।
হাত বনধত পেট বনধ।
যাদের পয়সা আছে অদেরত চলে থরা বহুত-
মিন্তুক হামরা যাব কাঁহা?
কখন সখন এমন কঠিন সময় আসে হামদের
সামনে-
যাদের হাত দুইটা সম্বল।
দেশে খরা হইল কি ঝড়া হইল-
তখনও হাত দুইটা বনধ।
কখনঅ আবার জঙ্গলের মানুষের যন্ত্রণা -জঙ্গলের মানুষ চিনিস তরা?
ঐ যে তরা বলিস উগ্রপন্থী।
অদের ধরার নামে পাহাড়ে চলে অত্যাচার-
রাত বিরাত বুট জোতার আওয়াজ
রেহায় নাই পায় মা বহিনরাও।
ঘরলে বাহির হইতে নাই পারবি।
ত হাত বনধ-
হাত বনধ ত পেট বনধ।
সত্যকে সত্য মিথ্যাকে মিথ্যা
সত্যকে সত্য মিথ্যাকে মিথ্যা বলা যাবে না-
এ কেমন কথা?
গঙ্গা দিয়ে মরালাশ ভেসে যায়
বলা যাবে না।
ভুখা মানুষের লাইন বাড়ছে
বলা যাবে না
জিনেষের দাম বাড়ছে
বলা যাবে না।
বিনা চিকিৎসায় মরছে মানুষ
বলতে পারবে না।
চোখের সামনে যুবতি বোন ধর্ষিতা হলেও
বলা যাবে না।
এক সঙ্গে হাজার কন্ঠ সত্য কথাটা বললেও
বিশ্বাস করে না শাষক।
এ কেমন কথা?
এমনকি প্রতিবাদী স্বদলীয় লোকের উপর
হামলা হলেও বলা যাবে না।
এ কেমন কথা?
তবে কি সত্যকে সত্য,মিথ্যাকে মিথ্যা বলা যাবে না?
না ও খবর লিখত না
(ত্রিপুরা দর্পণ পত্রিকার নিরলস কর্মী শংকরকে মনে রেখে)
শংকর খবরের কাগজে কাজ করত
না----ও-খবর লিখত না।
কী ভাবে খবর তৈরী হয়-----
সাদা কাগজে ছাপার অক্ষরে ছাপা হয়ে
বের হওয়ার পদ্বতি
ওর নখ দর্পণে
না--------ও খবর লিখত না।
ভোর চারটা থেকে কাজ শুরু
রাত বারটা-------
সকালে পত্রিকা গুলো
কোথায় কোথায় যাবে
ওর নখদর্পণে।
না-----ও খবর লিখত না।
চা দেওয়া মুড়ি দেওয়া---
বাবুদের রাতের খাবার দেওয়া
ও সব করত।
না----ওখবর লিখত না।
খবর না লিখলেও
আজ ও খবর হল।
বুধনী
ক্যামন জানি আছে বুধনী-
পরধান মনতিরী জওহরলাল নেহেরুর বউ।
হঁঃ গো,হামদের দেশের পরধান মনতিরীর বউ।
নাই জানিস তরা?
আইজলে পেরায় 62 বছর আগে
রাবন মাঝির বেটি বুধনীর সাদি হয়েছিল পরধান মনতিরীর সঙ্গে।
হঁ সাদিই, পরধান মনতিরীর গলায় যখন মালা পিন্ধাইছে,তখনত ওয়ার বউই ন।
ঐটাই ছিল হামদের সমাজের নিয়ম
কন জোয়ান ছকরী যদি কন মরদের গলায় মালা
পিন্ধায় তবে ও ঐ মরদের বউ হয়ে যায়।
ভাবছিস এইটা ক্যামন কথা?
হঁ গ হঁ---দামোদর নদী ওপরে পাঞ্চেত বানধের উদ্বোধনের দিনে সনমান জানাতে করপোরেশনের মালিকের হুকুমে মালা
পিন্ধাই ছিল বুধনী।
পরধান মনতিরী খুশি হয়ে বুধনীকে দিয়ে সুইচ টিপায় উদ্বোধন করাইল বানধের।হাত লাগাইল পরধান মনতিরীও।
চাইর দিকে তালিয়া আর তালিয়া।
চলে গেল পরধান মনতিরী দিল্লী
আর গেরামছাড়া সমাজছাড়া হইল বুধনী।
মিন্তক ক্যানে?-দোষ বুধনীর,ও দোসরা মরদের গলায় মালা দিয়েছে ক্যানে?
ঐ দোষে মান্জির(মোড়লের) আদেশে সমাজছাড়া-গেরামছাড়া।
এইটাই সমাজের নিয়ম।
দুই বছর আগেও বুধনী ছিল ঝাড়গ্রামে।
এখন আছে কি নাই কে জানে।
থাকলেও ভুখা পেটে দিন কাটাছে
নেহেরুর বউ বুধনী।
কৃতজ্ঞতা স্বীকার
সাহিত্যপ্রেমী শুক্লা ধরের নিকট।গৌহাটি।
কোথাও জানি আটকে আছি আমরা
পাশের ঘরে মুমূর্ষু রোগীটাকে ছটফটানো অবস্থায় দেখেও
ছুটে যেতে দ্ধিধাবোধ করি।
চোখের সামনে প্রতিবাদী যুবককে
মারধোর করে একদল বখাটে যুবক-
দেখেও না দেখার ভান করে
বাড়ি চলে আসি।
কোথাও যেন আটকে আছি আমরা।
যুবতীবোন ধর্ষিতা হয়
স্বাক্ষীর অভাবে খালাস হয়ে যায় আসামী।
ধর্ষকের পরিচয় জেনেও মুখ খোলে পুলিশকে বলতে পারি না।
কোথাও যেন আটকে আছি আমরা।
নেতারা সত্যকে মিথ্যা,মিথ্যাকে সত্য বলে
লম্বা চৌড়া ভাষন দিয়ে যায়--
ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকি নেতার মুখের দিকে
মুখ খোলে কিছু বলতে পারি না।
কোথাও যেন আটকে আছি আমরা।
আইনের রক্ষক টাকার বিনিময়েআইন ভঙ্গকারীকে ছেড়ে দেয়-
বিনাঅপরাধে গোবেচারাকে গারদে ঢুকিয়ে দিলেও
কিছু বলতে পারিনা আমরা।
সবাই সব জানি সব বোঝি
তবু না বোঝার ভান করে
আকাশের দিকে চেয়ে থাকি।
কোথাও যেন আটকে আছি আমরা।
মনটা পুড়বেক নাই ক্যানে?
সারাক্ষনেই তুই হামার সারা শরীর-মনে থাকিস
তবু ক্যানে জানি জুন মাসটা আসলেই
ভিতরটা জ্বলতে থাকে পুড়তে থাকে।
মনটা পুড়বেক নাই ক্যানে?
কতদিন দুই পাতা আর এক কলির বাগানে ঘুরেছি-
বটগাছ,শিরীষগাছের নিচে বসে
ঘন্টার পর ঘন্টা গপ করেছি।
মনটা পুড়বেক নাই ক্যানে?
কতদিন গাঙের কিনারে বসে
দুজনায় আসছে দিনের সপন দেখেছি।
তুই গাঙের জলে এঁড়ি ডুবায় বসে থাকতিস।
পিছ দিকলে আসে হামি
তর লম্বা চুল গিলানে হাত বুলাই দিতম।
মনটা পুড়বেক নাই ক্যানে?
পরথম যখন তর হাতের লেখা গল্প
পাইলম ক্যালেন্ডারের উল্টা দিকে।
কি যে খুশ হয়ে ছিলাম হামি-
তুই হয়ত ডাগর চখ দিয়ে দেখেছিলি।
তর গল্প ম্যাগাজিনে ছাপাব বললে
তুই যে কি রকম সুন্দর ভঙ্গি-এ
ঘরলে বাহির হয়ে গেলি-
হামি হাঁ করে ভালে রইলম।
মনটা পুড়বেক নাই ক্যানে?
তুই লিখতিস রাত জাগে-
হামি সজাগ থাকতম।
লেখা লিয়ে কথা হইত
কখন সখন তর্ক হইত
তুই লিখতিস-হামি ভালে থাকতম।
মনটা পুড়বেক নাই ক্যানে?
হামার খামখেয়ালী-এ
সংসারে অশান্তি থাকলেও
কখনও কাজিয়া-ঝগড়া নাই হয়েছে।
হঁ,তবে হয়েছে তর বিমারী শরীল লিয়ে
যখন লিখতে নাই পারতিস-তখন হামি গোঁসা হয়ে তকে গালিয়াতম।
এই কথা গিলা মনে হইলে মনটা জ্বলতে থাকে।
মনটা পুড়বেক নাই ক্যানে?-----বলত।
ধামসা মাদল ঝুমুর নাচ
তিন কুড়ি ওমরে ভাবছি বসে--
সব কিছু জানি ক্যামন হয়ে যাছে
সব কিছু হারায় যাছে।
ধামসা মাদল ঝুমুর নাচ
ঝাপসা চখে ভাসে উঠছে
করম নাচের কথা-
মাইন,সমবারি,ফুলমনিরা কমর দোলায় নাচত।
বুগু বাজাইত বাঁশী,মাংরা মাদল।
সব কিছু হারায় যাছে।
সাত দিনলে করম নাচে
মাংরার ঘরের আঙনা কাদা হয়ে যাইত
দশ বারটা ঝুমুর নাচের দল নাচত।
হাড়িয়া খাইয়ে গান ধরতম---
হামার দিদি পাতি তোলে------।
সব কিছু হারায় যাছে।
সমবারি ফুলমতিয়া মিতিন পাতত।
মিতিন মানে সহেলী
মিতিন পাতনের দিনে রাত ভর ঝুমুর হইত
হাড়িয়া খাইয়ে নাচতম।
সব কিছু হারায় যাছে।
শাওন মাসে দুর্লভ কাকার ঘরে
মনসা পুজা হইত।
পদ্মা পড়ত পদ্মপুরান,জয়া,মোহন
সমবারী গলা মিলাইত।
সব কিছু হারায় যাছে।
দুর্গাপুজার চার দিন
রাতভর হইত যাত্রাগান।
ছট্টু বেলায় চানা বুট খাইয়ে যাত্রা
দেখতম-কি মজা হইত।
সব কিছু জানি ক্যামন হয়ে যাছে।
সব কিছু হারায় যাছে।
হরিয়ালী চা বাগান
হরিয়ালি চা বাগানকে
দেখেছি ছট্টু বেলালেই
কবে কখন- কারা লাগাইছিল চা গাছ
বলতে নাই পারব।
মিন্তুক এই চা ঘেরাণে হামার ঘুম ভাঙ্গে
ফজির হয়,দুপুর হয়,রাত হয়।
সারা দিনেই হামি চা ঘেরাণ লেই।
ছানা বয়স শেষ হয়ে জোয়ানী চলছে এখন।
এক পাতা দুই কলির বাগান --
হামকে শ্বাস দেয়, বাচনের খোরাখ দেয়
পিরীত শিখায়, সপন দেখায়।
ছট্টুবেলায় লুকলুকানি খেলতম
সমবারি ফুলমনি মাংরা রামরতনকে লিয়ে।
জোয়ান হয়েছি এখন হামি।
রামরতনকে লিয়ে ঘণ চা বাগানে বসে
গপকরি,হাসি,খেলি-
আদর করে রামরতন হামার কানধে
হাত রাখে গালে চুমা খায়-
আড়াল রাখে চা বাগান।
বীরষা ভগবান
(বীরষা মুন্ডার শহীদ দিবসে,তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আমার অনুভব)
ভগবান কে লাগে কাঁহা থাকে
বলতে নাই পারি।
তবে হঃঁ,ভগবান বলে যাকে মনে করে মানুষ।
ওতো এমন এক মানুষ---
যে বিপদে আপদে বাঁচায় দেয়।
ভগবান নামে কাঁহাও এমন মানুষ
নাই দেখেছি-।
তবে মানতে হবেক বীরষাকে ভগবান বলে
যে নিজের জানকে--মানুষের জনে
দান করে বাঁচনের সপন দেখাইছে।
জল,জঙ্গলের লড়াই,ইজ্জৎ রক্ষার লড়াই
করে শহীদ হয়েছে।
মাথা নাই নোয়াইছে--
মাথা উঁচা করে ব্রিটীশের সঙ্গে
লড়াই করে জান দিয়েছে।
মানুষের জনে জান দিয়ে প্রমান
করেছে--ও--ভগবান।
এ জনেই মানুষ বীরষাকে
ভগবান বলে।
সাদা মন
লালটিলালে সাদা মাটি আনে-
ঘর লেশি,
মাটিয়া রঙের দেয়ালকে সাদা করি।
সাদা মনে ঘর লেশি ঝুমুর গাই
ফুর্তি থাকে মনে।
সাদা মনে,হরিয়ার বেটা
রামযতনকে ভাল বাসে ছিলম-
কত সপন দেখেছিলম।
দগলার বেটা হামার সাদা মনে
কাদা দিয়ে রামরতিয়ার সঙ্গে
ঘর করছে।
কখন সখন মনে মনে ভাবি--
সাদামনের সঙ্গে, ক্যানে যে মানুষ বেইমানি করে!
উলগুলান-হুলের মাস
সমবারিনানী মাটির দেয়ালে
লতা পাতা আাঁকত
আঁকত তীর ধনুক ধামসা মাদল।
তিনকুড়িছয় ওমরে ঝাপসা চখে
ভাসে উঠছে সব।
ম্যান্জার-বাবুরা বলত
সমবারি-তুইত দেখি
একজন ভাল শিল্পী।
শিল্পী কি সমবারি নাই জানত।
সমবারি হাসত-
এখনও মনে করে ফোকলা দাঁতে হাসে-
সমবারি ভাবে এখনকার ছকরীগিলান
জানি ক্যামন?
তীর ধনুক ধামসা মাদলের কথা ভুলায় গেছে।
এইমাসটা আইলেই বেশি করে
ধামসা মাদল তীর ধনুকের কথা মনে পড়ে সমবারির।
এইমাসটা উলগুলানের মাস
হুলের মাস।
বীরষা মুন্ডার উলগুলান
সিদু কানহুর হুল
এখনও শেষ নাই হয়েছে।
নাই,নাই শেষ নাই হয়েছে
এই ভিখমাঙ্গা হাত উঁচা করে বলবেক।
ফিরায় দে ফিরায় দে জল জঙ্গল জমিনের হক।
(১৯৫৯ চনৰ ৬ ডিচেম্বৰ তাৰিখে দামোদৰ ভেলী কৰ্পৰেচনৰ উদ্যোগত দামোদৰ নদীৰ ওপৰত পাঞ্চেত বান্ধৰ উদ্বোধন কৰা হৈছিল। উদ্বোধক আছিল তদানীন্তন প্ৰধানমন্ত্ৰী জৱাহৰলাল নেহৰু। সেইদিনা ৰাৱণ মাঝিৰ জীয়ৰী বুধনী মাঝিয়ে তেখেতক মালা পিন্ধাই আদৰিছিল। মালা পিন্ধোৱাৰ অপৰাধতে চাওঁতাল সমাজে বুধনীক এঘৰীয়া কৰি গাঁৱৰ বাহিৰ কৰি দিছিল। সেই বুধনীক লৈয়ে বিপ্লৱ উৰাঙৰ এই কবিতা। মূল কবিতা ছিলোমিলো ভাষাত লিখা হৈছে। আমাৰ সাদ্ৰী ভাষাৰ সৈতে বহু পৰিমাণে সাদৃশ্য থকা এই ভাষা ত্ৰিপুৰাৰ চাহ শ্ৰমিকসকলৰ মাজত প্ৰচলিত। )
বুধনী
মূল :- বিপ্লৱ উৰাং
অনুবাদ :- ময়ূৰী শৰ্মা বৰুৱা
কেনে আছে বা বুধনী -
প্ৰধানমন্ত্ৰী জৱাহৰলাল নেহৰুৰ ঘৈণীয়েক।
অঁতো, আমাৰ দেশৰ প্ৰধানমন্ত্ৰীৰ ঘৈণীয়েক।
তহঁতে হ'বলা নাজান ?
আজিৰ পৰা প্ৰায় ৬২ বছৰ আগেয়ে
ৰাৱণ মাঝিৰ বেটী বুধনীৰ বিয়া হৈছিল
প্ৰধানমন্ত্ৰীৰ লগত।
অঁ, বিয়াই আছিল, প্ৰধানমন্ত্ৰীৰ ডিঙিত মালা পিন্ধাইছে যেতিয়া,
তেওঁৰ ঘৈণীয়েকেইতো হ'ল ন।
সেইটোৱেই আছিল আমাৰ সমাজৰ নিয়ম
কোনো গাভৰু ছোৱালীয়ে যদি কোনো পুৰুষৰ ডিঙিত মালা পিন্ধায় তেন্তে তাই সেই মানুহটোৰ ঘৈণীয়েক হৈ যায়।
ভাবিছ চাগে এইটো আকৌ কেনেকুৱা কথা?
হয় হেৰৌ হয় - দামোদৰ নদীৰ ওপৰত পাঞ্চেত বান্ধৰ উদ্বোধনৰ দিনা সন্মান জনাবলৈ কৰ্পৰেচনৰ মালিকৰ হুকুম মানি মালা পিন্ধাইছিলে বুধনীয়ে।
প্ৰধানমন্ত্ৰীয়ে আনন্দমনে বুধনীৰ হতুৱাই চুইচ টিপাই উদ্বোধন কৰালে বান্ধৰ। হাত লগালে প্ৰধানমন্ত্ৰীজনেও।
চাৰিওপিনে হাততালি আৰু হাততালি।
গুচি গ'ল প্ৰধানমন্ত্ৰী দিল্লীলৈ
আৰু এঘৰীয়া হ'ল বুধনী।
কিন্তু কিয়? দোষটো বুধনীৰ, তাইনো কিয় বেলেগ মতাৰ ডিঙিত মালা পিন্ধালে?
সেই দোষতে গাওঁবুঢ়াৰ আদেশত
সমাজচ্যুত - গাঁৱৰ পৰা বিতাড়িত।
এইটোৱেই সমাজৰ নিয়ম।
দুবছৰ আগতেও বুধনী আছিল ঝাড়গ্ৰামত।
এতিয়া আছে নে নাই নাজানো।
থাকিলেও খালী পেটে দিন কটাইছে
নেহৰুৰ ঘৈণীয়েক বুধনীয়ে।
মূল কবিতাটো
বুধনী
(1959 সালে 6ডিসেম্বর দামোদর ভ্যলী কর্পোরেশনের উদ্যোগে দামোদর নদীর উপর পাঞ্চেত বাঁধের উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী জওহর লাল নেহেরু।তাঁকে মালা পরিয়ে স্বাগত জানান রাবন মাঝির মেয়ে বুধনী মাঝি। মালা পরানোর অপরাধে সাঁওতাল সমাজ গ্রাম ছাড়া সমাজ ছাড়া করেন।তাকে নিয়েই এই কবিতা।
ক্যামন জানি আছে বুধনী-
পরধান মনতিরী জওহরলাল নেহেরুর বউ।
হঁঃ গো,হামদের দেশের পরধান মনতিরীর বউ।
নাই জানিস তরা?
আইজলে পেরায় 62 বছর আগে
রাবন মাঝির বেটি বুধনীর সাদি হয়েছিল পরধান মনতিরীর সঙ্গে।
হঁ সাদিই, পরধান মনতিরীর গলায় যখন মালা পিন্ধাইছে,তখনত ওয়ার বউই ন।
ঐটাই ছিল হামদের সমাজের নিয়ম
কন জোয়ান ছকরী যদি কন মরদের গলায় মালা
পিন্ধায় তবে ও ঐ মরদের বউ হয়ে যায়।
ভাবছিস এইটা ক্যামন কথা?
হঁ গ হঁ---দামোদর নদী ওপরে পাঞ্চেত বানধের উদ্বোধনের দিনে সনমান জানাতে করপোরেশনের মালিকের হুকুমে মালা পিন্ধাই ছিল বুধনী।
পরধান মনতিরী খুশি হয়ে বুধনীকে দিয়ে সুইচ টিপায় উদ্বোধন করাইল বানধের।হাত লাগাইল পরধান মনতিরীও।
চাইর দিকে তালিয়া আর তালিয়া।
চলে গেল পরধান মনতিরী দিল্লী
আর গেরামছাড়া সমাজছাড়া হইল বুধনী।
মিন্তক ক্যানে?-দোষ বুধনীর,ও দোসরা মরদের গলায় মালা দিয়েছে ক্যানে?
ঐ দোষে মান্জির(মোড়লের) আদেশে সমাজছাড়া-গেরামছাড়া।
এইটাই সমাজের নিয়ম।
দুই বছর আগেও বুধনী ছিল ঝাড়গ্রামে।
এখন আছে কি নাই কে জানে।
থাকলেও ভুখা পেটে দিন কাটাছে
নেহেরুর বউ বুধনী।
কৃতজ্ঞতা স্বীকার
সাহিত্যপ্রেমী শুক্লা ধরের নিকট।গৌহাটি।
তুইও সুখে নাই থাকবি
তুইও সুখে নাই থাকবি বেচারাম--
বলেছিলাম ফিচকা কথায় ভুলবি নাই
তর সনার সংসার ছাড়খাড় করে দিবেক
টের পাছিসত বাবুরা।
লোভ দেখাইছিল---তর মজরী হবেক340টাকা।
হইল কি বাবু?----নাই।
মজরী বাদ দে
কথায় ত ঠিক মত বলতে নাই পারছিস।
আগেত মালিকের বাংলোর সামনে মাথা উঁচা করে হাঁটতে পারতিস
এখন নিচা করে হাটছিস।
খবর রাখছিস কী?
ক্যামন আছে তর বন্ধুরা?
এক সঙ্গে তিনজন বসে কথা বলতে নাই পারছে।
কি জানি বলে ইউনিয়ন অফিস ন সংগঠন অফিস
সব পুড়াইদিয়েছে,কথাও ভাঙ্গে দিয়েছে।
তদের মজরীর কথা লিয়ে বাতচিত করবেক কথায়?
মালিক ম্যানজারের জিব লকলক করছে
টেরায় টেরায় মা-বহিনদের দিকে ভালছে।
সাধু সাবধান!
আবার ফিরে আসছে দাদুদের দিন।
বেটি বহিনের ইজ্জত বাঁচাতে পারবি কি?
মাথা উঁচা করে খাড়া হতে পারবি কি?
সজাগ থাক --চখ কান খোলা রাখ--
সোজা হয়ে খাড়া হয়ে-আগের পাওনা অধিকার রক্ষা কর
চুপ করে বসে থাকলে তুইও সুখে নাই থাকবি।
(একশ)
(1921 সনের 20মে অখন্ড ভারতের সিলেট জেলার চুনারু ঘাট রেল স্টেশন চত্বরে মূল্লুকে
ফিরে যাওয়ার অপেক্ষমান চাশ্রমিকদের গভীররাতে গোর্খাসেনা বাহিনী গুলিকরে হত্যা করে।চা শ্রমিকের সংখ্যা ছিল প্রায় 3000 ।তাঁদের স্মৃতিতে এই কবিতা।)
একশ,হঁঃ--এই সংখ্যা টার কথা মনে হইলে
মনে হবেক চাঁদপুর জিলার চুনারুঘাট রেল স্টেশনের কথা।
একশ সংখ্যা টা মনে হইলে মনে হবেক
স্টিমারের কথা।
একশ সংখ্যা টা মনে হইলে মনে হবেক
1921এর20 মের রাতের কথা।
3000 চা শরমিককে গুলি করে মারনের কথা।
16লে18 ঘন্টা কাম---
ভুখা পেট,সর্দার বাবু,সাহেবদের লাঠি চাবুক--
মা---বহিনদের ইজ্জত লুট।
একদিন নাই পরতিদিন।
আওয়াজ উঠল-----
নাই-নাই হামরা থাকব নাই এইখিনে।
হামরা যাব মুল্লুকে।
হাজার শরমিকের গলার আওয়াজ
আন্ধার রাতে গুলি করে জাঁজরা করেদিল
নর পিশাচ গোর্খা সেনাবাহিনী-
ব্রিটিশের পাচাটা গোলামরা।
অরা ভাবে ছিল শেষ-সব শেষ।
নাই,নাই শেষ নাই।
আইজও মনে রাখেছি হামরা
একশ বছর আগের কালাদিনের কথা।
জোহার,সালাম তরাকে----
আসছে দিনে হকের লড়াইয়ে
তরা হামদের দিশারী।
মিছিল
প্রতিদিন মিছিলে লোক বাড়ছে।
কে যে কখন এই মিছিলে
সামিল হয় কে জানে।
এ মিছিল ভয়ংকর মিছিল
এ যে মৃত্যর মিছিল!
পতাকাহীন এ মিছিলে
কেউ যেতে চায় না-
তবু যেতে হয়।
সারি সারি লাশ গঙ্গার জলে
ভেসে সমুদ্র পানে ছুটে যায়
লম্বা মিছিল হয়ে।
মিছিল দেখে অভ্যস্হ আমরা
দাঁড়িয়ে দেখে উপভোগ করি-
অভিবাদন জানায়--খাদ্যের দাবির মিছিলকে
কর্মের দাবির মিছিলকে।
কিন্তু এখানে এসে থমকে যায়
এ বিভীষিকাময় মিছিল দেখে।
না-----আমরা চাই না এই ভয়ংকর মিছিল।
ওরা নিরুত্তাপ থাকে
সমরা উরাং বাগানে কাম করে।
হরিচরন দাস জমিনে হাল চাষ করে।
নারু শীল সেলুনে চুল কাটে।
সারা বছর ঘাম ঝরায়
দুটো ভাতে জন্য
রাজনিতীর উত্তাপ ওদের গায়ে লাগেনা
ওরা নিরুত্তাপ থাকে।
ভোট এলে দলে দলে মানুষ ওদের ঘরে আসে-
ওদের কদর বাড়ে।
কেউ বলে সাদায়,কেউ লালে,কেউ গেরুয়ায়,কেউ বলে সবুজে ভোট দিতে।
সারা বছর কেউ খবর রাখেনা ওদের তেমন করে।
ওদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে নানান ফন্দি এ
অধিকার কেড়ে নেয়।
ওরা নিরুত্তাপ থাকে।
এই অভাগা মানুষগুলো ই ভোটের ফলাফলের পর আক্রান্ত হয় বেশি।
ওরা নিরুত্তাপ থাকে--
দগদগে যন্ত্রণা নিয়ে ফেলফেল করে
চেয়ে থাকে আকাশে দিকে।
[13/06, 9:07 pm] TANILAL PARE: -----ভোট আসে ভোট যায়-----
ভোট আসে ভোট যায়
নেতারা রং বদলায়,দল বদলায়।
হামি মাংরা বুড়াহা নাই বদলায়।
যেমন ছিলাম তেমনই আছি
ভাঙ্গা ছনের ঘরে নাতি---নাতনি লিয়ে আছি
বড় মুড়া পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে----হাতুং দেবরায়।
গত ভোটে রামচন্দ্রকে দেখলম টাক্কল লিয়ে
আসে বলল---ভোট দিয় মাংরা কাকা এই টাক্কলে।
আর এই বার আইল আনারস লিয়ে।
হাঁ করে ভালে রইলম।
মনে মনে বিরবিরায়
ইটা ক্যামনরে বাপ?
গত ভোটে টাক্কলত
এই ভোটে আনরস।
অরা বদলায় হামি নাই বদলায়
হামার এক কথা।
হামাকে পেট ভরে ভাত দে
হামদের পরব
হামদের পরব মানে
ধামসা মাদল
হামদেল পরব মানে
টুসু,ডন্ড,বাহা
হামদের পরব মানে
ঝুমুর লাঠিনাচ।
এখন হামদের পরবে এই গিলান
সব হারায়--গেছে
হারায় যাছে
গলা ফাটায় বলতে হছে
কবির কথায়---
লোটায় দে, ঐ সময় গিলা--দাঁতে কাটলি যারা
দেশ গাঁও,জমিন,আশা,সপন সুনহেরা,
ফিরায় দে টুসু ডন্ড---ইজ্জৎ সনমান
কত রত্ত,ঘাম,চখের পানি,বে হিসাবি,জান।
আজাদী,হক,রিত--রেওয়াজ,ধামসা মাদল
দে লোটায় লাড্ পিয়ার,ভূঈ মাঈয়ের বোল।
চিঠি
রতন,
জানি নাই কেমন আছিস?
2020সালে করোনাকালে তর খিনে --চিঠি দিয়েছিলাম
উত্তরে তুই জানাইছিলি--কামলে ছাটাই হয়েছিস।
ভুখাপেটে দিন কাটাছিস।
বড়বাপের ক্যান্সার,দাওয়াইয়ের লাগি ছটফটাছে।
প্রিয়াঙ্কা সোনা দুধের অভাবে কান্দছে--
ভৌজি আকাশের দিকে ভালে আছে।
হামি এইখিনে বসে আঃ ও করছি।
জানি নাই কেমন আছিস?
শুনছি তর শহরের কিনার দিয়ে বয়ে চলেছে
গঙ্গা নদী।
পরতি দিন শয়ে শয়ে লাশ ভাসে যাছে।
হয়ত তুই নিজেও দেখছিস।
তর রাইজ্যের ছোট রাজা চখ কান বনধ করে রাখেছে।
কয় দিন আগে কুম্ভমেলা করাইছে।
ধর্মের আফিং মানুষকে খাওয়াইছে।
ফল---পূন্য নাই, মানুষ মরেছে শয়ে শয়ে।
চিল্লায় করে মানুষ বললেও,কে শুনে কার কথা।
গোঁয়ার রাজা কার কথা নাই শুনে।
মানুষ মরছে শয়ে শয়ে।
ছোট রাজা করে কুম্ভমেলাত
ওয়ার গুরু বড় রাজা করে ভোটমেলা।
দেখলি নাই একদিনের ভোট আট দিনে--
লাখ লাখ মানুষ ল্যাংটা হয়ে নাচেছে
রাজা বাজাইছে তালিয়া।
ফল----করোনায় মরছে মানুষ হাজারে হাজারে--
ত রাজার কি?
ওত এখন মুখ ডাকায় আছে
কাঁহা পাবি এখন ওয়াকে?
ভাই রতন চিঠি পাইলে জানাবি
তরা কেমন আছিস?
সাচ্ কথা
মিছা কথায় কত দিন
ভুলায় করে রাখবিরে বেচারাম।
সাচ্ কথাটা একদিন ন একদিন
বাহির হয়ে আসবেক--ই।
তুই বলেছিলি ছানাকে মিঠাই কিনে দিবি।
বাজারলে ডেইলি আসে বলিস
----ভুলাই গেছি।
কন দিন বলিস রুপিয়া নাইখে,
ত কনদিন বলিস বাপ হামার-
বাজার করে সব রুপিয়া শেষ।
আর ঐ দিকে তুই মদ খাইয়ে
ঘরে ঢুকিস------
নেশায় ঠ্যাঁর হয়ে।
ভাবছিস তর বেটা বুঝছে নাই।
বকা নাই ভাববি।
সমাজের কেউ ই বকা নাইখেরে বেচারাম।
বকা তরা বানাইস।
তবে কত দিন?
এক দিন ন একদিন
সাচ্ কথাটা জানে-
ঘাঢ় মটকাবেক ই।
(আর্ন্তজাতিক নারী দিবসে)
ফুলমনি
ফুলমনি বাজার যাছে
আগে আগে মাষ্টর দিদিমনি।
এঁড়ি ঢাকা দিদিমনির ঝোলাপাড়,খোলা আঁচল
দেখে বেজান খুস ফুলমনি।
আফসোস করে মনে মনে বিরবিরায়--
হায়,ক্যামন জানি--হবেক দিদিমনিরএঁড়ি গিলান।
হামার এঁড়ি গিলানত ফাটাফুটা।
জাড়ের দিনে খুজলায়।খুন টপকায়।দুখায়।
কত্ত সুখে আছে জানি দিদি মনিটা।
মাঝে মাঝে কথা হয় ফুলমনির।
---কই যাইবা ফুলমনি।
---বাজারে।
তুমিও বাজারে যাও!তোমার জামাই কই?
----হেও যায় হামিও যাই।দুজনায় বাজার করি---
ও হামকে লাল ফিতা,স্নো,পাইডর কিনে দেয়
--হামি কিনে দেই সিগরেট,---ফুলমনি খিলখিলায় হাসে।
---বাঃ তোমরাত আরামে আছ।
--ক্যানে দিদিমনি?তরা কি আরামে নাইখিস।
----আরাম।
শ্বাস টেনে দিদিমনি বলে--
জান ফুলমনি--প্রতিদিন মদ খাইয়া
বেদম মারে হে।
--আরে বলিস কি দিদিমনি--তর হাত নাইখে।
--হামকে মারতে উঠলে--হামি বলি--
হাত উঠাবি নাই।হামারও হাত আছে।
তর কামাই হামি নাই খাই।
ঘাম ঝড়াই-হামিও টাকা আনি।
সাবধান।
এ কেমন দেশ?
এ কেমন দেশ?
ধর্ষণ করে উল্লাসে--
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
এ কেমন দেশ?
জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ধর্ষক,
ধর্ষিতার বাবাকে খুন করে।
না--কেউ কিছু বলতে পারবে না।
চুপ করে থাকো।
কেউ লিখতে পারবে না।
খুন হয়ে যাবে।
এ কেমন দেশ?
এমনি করেই কি চলবে।
গর্জে উঠবে না যৌবন?
এ কেমন দেশ?
ওরা লড়ছে
ওরা লড়ছে
পথে প্রান্তরে--
ওরা লাঙল চালায় জমিতে
ওরা আজ রাস্তায়।
দিল্লির রাজ পথ আজ
ওদের দখলে।
হকের দাবিতে গর্জায়
কাঁপে দিল্লির মসনদ-।-
ওরা বেপরোয়া
ওরা মানেনা কোন বাঁধা।
কন্যা কুমারী থেকে কাশ্মীর
আসাম থেকে বিহার
ওরা আজ সব এক জায়গায়
দিল্লির রাজ পথে।
ওরা কৃষক
ওরা ঘাম ঝড়ায়।
অযোধ্যা পাহাড়
অযোধ্যা নগরী কাঁহা ছিল-
কেউ দেখেছে কি নাই,-নাই জানি।
তবে বই পত্তরে পড়েছি--
অযোধ্যা নগর ছিল--
রাজা ছিল দশরথ।
এইটা একটা কাহানি।
তবে এখন হামরা যে অযোধ্যার
নাম শুনছি ---অযোধ্যা পাহাড়ের নাম।
এইটা আছে পুরুলিয়ায়।
হ্যঁঃ গো,নাই শুনেছিস?
অযোধ্যার পাহাড় কাটে
জঙ্গল কাটে ঐ খিনে
জললে নকি কারেন্ট উঠাবেক।
কাটা পড়বেক পেরায় বার লাখ গাছ।
চল্লিশটা ওপর আছে দামী গাছ।
এইটা ক্যামন কথা বাপ?
বাবুরা বলেন--'গাছ লাগান প্রান বাঁচান'।
গাছের উৎসব হয়,মনতিরী আসে ফিতা কাটে।
অরাই এখন গাছ কাটতে বলছে।
ঐখিনে আছে পঁচাশিটা গেরাম--
এগারটার মত গেরাম একেবারেই ধংস হয়ে যাবেক।
ঘর ছাড়া,কাম হাড়া হবকে লাখো মানুষ।
তবুও দরকার কারেন্টের।
হঃ,কারেন্টত হামদেরও দরকার।
মাথা গোজনের ঠাঁই থাকলেত--
পেটে ভাত থাকলেত,কারেন্ট।
ভুখা পেট আর ঘর হারা মানুষ
কারেন্ট দিয়ে কি করবেক?
নাই বাবু, ঐ রকম কারেন্ট হামদের নাই লাগে
হামদের এক মুঠা ভাত
আর কুপি বাতি হলেই চলবেক।
আজ ১৩ ই জুন কথাসাহিত্যিক জয়া গোয়ালার
সপ্তম মৃত্যু বার্ষিকী।
তাঁকে মনে করে আমার একটি কবিতা।
তের জুন
এক পাতা দুই কলির বাগানে
ঝুপরি ঘরে তর জনম।
চা-এর সুবাস লিয়ে জনম তর
বড় হয়েছিস চা -বাগানেই।
ছট্টু বয়সলে দেখেছিস সবুজ
হরিয়ালি বাগান
দেখেছিস--বাগানের ল্যাংটা
হাভাতে মানুষজন---
কালা মানুষগিলানের ল্যাংটা
হাড় জিরজিরে ছানাপোনাদের।
দেখেছিস নেশায় ট্যাট হয়ে থাকা
মানুষগিলানকে----
ঠান্ডা রাইতে বস্তা লিয়ে
ঘুমাই থাকত ভাঙ্গা ঝুপড়ি ঘরে
বাতাস ঢুকত,ঠকঠক কাঁপত।
পঁচিশ পয়সা মজুরি
বাড়ানের সংগ্রাম---
মালিকের সংঙ্গে মিশে
শরমিকের সংঙ্গে দালালি করত শরমিক নেতারা।
আবার দেখেছিস লড়াকু নেতাকেও।
দেখেছিস মাংরার বেটা জগু
ফ্যাল ফ্যাল করে ভালে থাকত---
বাবুর বেটাগিলান বই লিয়ে ইসকুলে যাছে।
জগু, মার খিনে বায়না ধরত--'মা,হামি ইসকুলে যাব'।
মা বলত---ধূর বেটা তুই কুলির ছানা-
তর আবার ইসকুল কি রে?
দেখেছিস লালমনিমসি ভাঙ্গা মাটির দেওয়ালে
কি সুন্দর -গাছ,লতা,পাতা আঁকত।
দেখেছিস পার্বতী,লছমনিয়া,সমবারিরা
করম পুজায় ঝুমুর নাচত-
বুগু বাজাইত বাঁশী,মাংরা মাদল।
বড় হয়ে কলম ধরেছিস--
লিখেছিস কত গল্প কাহানি,কবিতা।
তর স্বাধীনতার সোয়াদ গল্পে--সনকুমারীর
লেবেনচুষ স্বাধীনতার কথা।
দাবাগ্নী গল্পে--এতোয়ারীর চখে সিধু,কানহুর লড়াই-এর
কাহানী।
বোনাস গল্পে--শরমিক ঠকানো।
পারবতীয়া নভেলেটে--দিকু আর সাঁওতাল ছকরীর
পেরেম কাহানী---জাতপাত আন্ধা নিয়মের বিরুদ্ধে
লড়াই-এর কাহানী।
কত কী যে লিখেছিস বলে শেষ করন নাই যাবেক।
আইজ তের জুন,তর কথা সবলে বেশী মনে পড়ছে।
কে জানে এত কম বয়সে তুই চলে যাবি---
আইজও ভাবি তুই থাকলে আরও কত
লতুন লতুন কাহানী তর কলমলে পাইতম
চাঁন্দনি
চান্দনি হামার বিটি,বড় আদর করে নাম রাখেছিল ফুলমনি,-ওয়ার মা।
চাঁন্দনি দেখতে চাঁন্দের মত,গোল ওয়ার মুখটা।
ছোট্টু চাঁন্দনি বড় হইল ইট ভাটার ঝুপড়ি ঘরে।
মাস কয়েক বাদে ফুলমনি চলে গেল-
ভুখা পেটে কঠিন বিমারে--
হামার হাতে দিয়ে গেল চাঁন্দনিকে।
দেখতে দেখতে চাঁন্দনি হামার জোয়ান ছকড়ি।
যে দেখেই ওহেই বলে--তর বিটি বহুত্ সুন্দর।
ভাটায় কাম করি,ম্যানজারের ফরমাইস খাটি
টিপরা ময়াললে মদ আনে দেই
কখন সখন লাংগি।হামিও খাই।
কখনও আবার ম্যনজারের ফরমায়েসে
জোয়ান জোয়ান ছকরি সাপ্লাই করি।
গাঁটে পয়সা আসে।
বিটির লাগি লাল ফিতা,সোনু,পাইডর,আলতা কিনে দেই--
বিটি হামার খুস্।
এমন করে দিন বিতে যায়।
একদিন কি হইল,জানিস বাবুরা--
টিপরা ময়ালে যাইয়ে গলালে মদ গিললম।
নেশায় ঠ্যার হয়ে ভাটায় আসে দেখছি,
হামার বিটির সুন্দর শরীলটাকে
কে জানি খুবলায় খুবলায় খাইয়েছে--
কন জানোয়ার জানি---মাথাটা ঘুরছে।
বুক ফাটে যাছে হামার।
কানে ভাসে আসছে,বিটিছানাদের আওয়াজ--
শালা মাদারচুদ।
এখন কাঁন্দছিস,লাজ নাই শালা--
নাই জানিস--
পরের জনে গাতা খুঁড়লে,
ঐ গাতায় নিজেই গিরে মরতে লাগে।
ছিঃ,থুঃ----মর শালা।
0 মন্তব্যসমূহ