কী লিখি কেন লিখি
তা প স বৈ দ্য
কী লিখি কেন লিখি
তা প স বৈ দ্য
কবি-প্রাবন্ধিক। মেদিনীপুর, ভারত
লেখালেখির জগতে কীভাবে এলাম-- এর পিছনের গল্পটি বলতে গেলে প্রথমেই আমার বাড়ির কথা বলতে হয়। বাড়িতে গান ও নাটকের পরিবেশ ছিল এবং আজও আছে। বড়ো জ্যাঠামশাই (শরৎ বৈদ্য) যাত্রা করতেন। কৃষ্ণের ভূমিকায় তাঁর অনবদ্য অভিনয়ের কথা অনেকের মুখে শুনেছি। ভালো কীর্তনও করতেন। রামায়ণ-মহাভারত, বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনী ছাড়াও বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্র, বিভূতিভূষণ পড়তেন। মেজো জ্যাঠামশাই (জগৎ বৈদ্য) ছিলেন অংকের শিক্ষক। তিনি ভালো তবলা বাজাতেন। গান ও সুস্থ সংস্কৃতির সমাজদার ছিলেন। আমার বাবা (বিশ্বনাথ বৈদ্য) ফুটবল, গান ও যাত্রাভিনয়ে দক্ষ ছিলেন। আমার মনে হয় আমি এসবই বংশগতির ধারায় কিছুটা হলেও লাভ করেছি।
কী করে কবে থেকে লেখার জগতে এলাম, এই প্রশ্নের উত্তরে তবু বলবো বিষয়টা পুরোপুরি আকস্মিক। তবে যতটুকু মনে পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে আমার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় স্কুলের দেয়াল পত্রিকা 'উদ্ভাস'-এ। বাংলার শিক্ষক সুধীর ভৌমিকবাবুর অবদান সশ্রদ্ধায় স্বীকার করতেই হয়। কবিতাটির প্রথম দুটি পঙক্তি এখনো মনে আছে, "আমি লিখবো কবিতা / লিখব মনের কথা / পড়বে না কেউ / বুঝবে না কেউ / কথার মর্ম ব্যথা"। আমাদের ক্লাব রাইন সম্মিলনী 'লিপিকা' নামক যে দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ করত সেখানেও আমার লেখা স্থান পেতে শুরু করেছিল। প্রথম ছাপার অক্ষরে লেখা প্রকাশিত হয় আমাদের স্কুল বৈষ্ণবচক মহেশচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়-এর 'শঙ্খ' নামক পত্রিকায়। তারপর থেকে ক্রমেই ডাইরির পাতা ভর্তি হতে থাকে...। কলেজ জীবনে হঠাৎ করে আলাপ হয় আন্ডারগ্রাউন্ড সাহিত্যের অন্যতম কর্ণধার নন্দিতা ভট্টাচার্যের সঙ্গে। তিনি আমাদের ক্লাবের দেয়াল পত্রিকা 'লিপিকা' থেকে কবিতা নিয়ে গিয়ে ছাপলেন আন্ডারগ্রাউন্ড সাহিত্যের 'নতুন স্বাক্ষর' নামক একটি কবিতা সংকলনের দ্বিতীয় সংখ্যায়। শুরু হলো আন্ডারগ্রাউন্ড সাহিত্যের সঙ্গে সাহিত্যচর্চার নিবিড় ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। আমার লেখালেখির অনুপ্রেরণায় চলে এলেন আমার মা-বাবা এবং আমার জেঠামশাই-এর সঙ্গে আন্ডারগ্রাউন্ড সাহিত্যের ডক্টর রীতা দে, ডক্টর রমেশ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। 'নতুন স্বাক্ষর-৬' থেকে আমি সম্পাদনা শুরু করি, এখন অবশ্য নতুনস্বাক্ষর ১০-এর কাজ চলছে। আমার প্রথম বই ২০০৬-এ প্রকাশিত হয়। 'দর্পণে তোমার মুখ'। ৬৪ পৃষ্ঠার এই বইয়ের প্রচ্ছদ করেছিলেন সোমনাথ ভট্টাচার্য্য। বইটি উৎসর্গ করেছিলাম আমার শিক্ষাগুরু জগত কুমার বৈদ্য ও দীক্ষাগুরু অধ্যাপক ডঃ রমেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়-কে।
এই বইয়ের আগে আমাকে অবশ্যই বলতে হবে আমার পত্রিকার কথা। 'শব্দমালা', ১৯৯৪ সাল থেকে বছরে দু-বার করে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে আসছে। তবে ২০২০-২১-এর মহামারীজনিত কারণে তার গতি কিছুটা শ্লথ। পত্রিকাটির পঞ্চাশতম সংখ্যা খুব ধুমধামের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছিল।
আবার ফিরে আসি আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থে। গ্রন্থটির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রকাশ ঘটেনি। বন্ধুদের হাতে হাতে, প্রিয় কবিদের বাড়িতে বাড়িতে, কবিতা পাঠের অনুষ্ঠানে বিতরিত হয়েছিল। বইটি নিয়ে কয়েকটি পত্রিকায় অতি সংক্ষিপ্ত আলোচনা যে বের হয়নি তা নয়, তবে সেভাবে হয়নি। না, বইটির জন্য সেভাবে কোনো পুরস্কার পাইনি। ‘দেশ’ পত্রিকাসহ প্রথম শ্রেণির অনেক পত্রিকাতেই কবিতা ও অন্যান্য লেখা প্রকাশিত হয়েছে । তবুও আমার প্রথম কবিতার বই আমার প্রথম মানসসন্তান।
লেখালিখি থেমে নেই। ঢিমেতালে তা চলছেই। আমার বর্তমান সাহিত্যগত অবস্থান বুঝতে গেলে নিচের তথ্য বিবেচ্য হতে পারে।
তাপস বৈদ্য
নিবাস :
গ্রাম ও ডাক - রাইন, থানা - কোলাঘাট, জেলা - পূর্ব মেদিনীপুর, পিন - ৭২১১৩০, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
+ ৯১ ৯৫৬৩৭২৭৮২১ (হোয়াটসঅ্যাপ), + ৯১ ৯৪৩৩১ ০০৯৯৪(হোয়াটসঅ্যাপ), + ৯১ ৭৯০৮৩ ১৫৬৭৭ ইমেল ঃ baidyatapas@gmail.com
জন্ম : ৬ জানুয়ারি ১৯৭০
সাহিত্য সংগঠন : আন্ডারগ্রাউন্ড সাহিত্য
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ :
১) দর্পণে তোমার মুখ
২) ভূমিচুম্বন
৩) My Words
৪) হে বন্ধু হে প্রিয়
৫) বিলীন ছায়ায় স্তব
৬) পূর্বপ্রীতি
প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ :
সুস্নাত জানা-র কবিতা : পরাপাঠ
সম্পাদিত পত্রিকা :
শব্দমালা (১৯৯৪ থেকে বছরে দু-বার একটানা)
সম্মান / পুরস্কার :
১) সংলাপ সাহিত্য সম্মান
২) আন্তর্জাতিক রূপসী বাংলা পুরস্কার
0 মন্তব্যসমূহ