কী লিখি কেন লিখি রাহেল রাজিব

কী লিখি কেন লিখি 
রাহেল রাজিব


কী কেন কীভাবে কোথায় এবং...
রাহেল রাজিব

লেখালেখির শুরু যদি বলি তাহলে বাবার হাত ধরেই স্বপ্ন দেখা শুরু । বাবা শৈশব থেকেই এটা ওটা দেখাতে নিয়ে যেতেন- প্রতিদিন আমাকে নিয়ে বের হতেন। এ অভ্যাস আমার মেয়ের ক্ষেত্রেও ঘটেছে। বাবা সবসময় বলতেন দেখ- দেখার মধ্যেই জীবন আছে! এখনও জীবনই দেখবার চেষ্টা করছি!

বাবার বুক সেলফ বানিয়ে দেয়া- বই কেনার টাকা দেয়া- সবমিলিয়ে বইকেন্দ্রিক একটা ছোটখাটো আয়োজনের ভেতরে নিজেকে আবিষ্কার করি! ক্লাশ সিক্সে নিজের আলাদা শোবার ঘর- পড়ার টেবিল, বুক সেলফ! একটা আলনা। আমার এ একক বৃত্ত তৈরি হয়ে যায়- দ্বিতীয় মানুষ বাবু স্যার, আব্দুল আজিজ বাবু। জি এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলার শিক্ষক- তিনি আমাকে বাবার রোপিত স্বপ্নবীজকে লালন করেছেন এবং কবি মানস সাহিত্য সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা রেজা আহমেদ- তিনি এক ধরনের নার্সিং করেছেন! এ প্রেরণাই আমার প্রথম জীবনে লেখক হবার অনুপ্রেরণা। হ্যাঁ কৈশোর যৌবনে আমার প্রেমিকা কখনো লেখার প্রেরণা হয়ে উঠতে পারেনি- কারণ স্বপ্নবাজ লেখক সত্তার সাথে তাঁদের এক ধরনের দূরত্ব ছিল এবং বোধকরি এক ধরনের নিষেধও কাজ করতো। 

প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় স্কুলের ম্যাগাজিন এরপর কবি মানস এর ভাঁজপত্র- পরবর্তীতে দেশের দৈনিক পাক্ষিক মাসিক দ্বিমাসিক ত্রৈমাসিক ষান্মাসিক ও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাতে লেখার সৌভাগ্য ঘটে। লেখা প্রকাশিত হবার কারণে এক ধরনের গর্ববোধ হওয়ার বিপরীতে পারিবারিক আর্থিক দীনতাকে কটাক্ষ করবার লোকেরও অভাব ছিল না।  এসব উপেক্ষা করেই আমার লেখক জীবনের পথচলা।

প্রথম বই কবিতার- বলা ভালো, ছড়াকাব্যের মিশ্রণ! ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত হয় "অবচেতন মনে আগুনের ছোঁয়া"- স্বীকার করি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের চরমতম প্রভাব তখন আমাকে আলোড়িতে করেছে- করেছে ক্ষত-বিক্ষতও!

অর্জন একটাই- নিজের ভেতরে যে ঘাত-প্রতিঘাত তা কখনো তো দেখাবার রঙ পায়নি, যতটুকু এসেছে কলমে তাই নিয়ে স্বস্তি পাই জীবনে। পরিণত জীবনের প্রায় কাছাকাছি বসবাস করছি- চালসে আসন্ন!

কবিতাকে সবসময় ধ্যানজ্ঞান করে চলি- এ কথা ভুল বলা হবে। তবে হ্যাঁ, বাবার কথাই বারবার মনে হয় দেখবার চোখটা খোলা রাখা জরুরি। ভ্রমণের নেশা আমাকে টেনে নিয়ে যায়- পায়ের তলায় শর্ষে এটা বাবা বারবার বলতেন! এটা হয়তো ধমনিতো নিষিক্ত হয়ে গেছে- ভ্রমণ তাই জীবনের অংশ। বেঁচে থাকা জীবনের চাক্ষুষতাকে স্বীকার করি অবলীলায়- গোপনীয়তার অহংকারকে লালন করি ভালোবেসে। সম্ভবত লেখালেখি থেকে এটাই আমার অর্জন এবং এটাকে প্রণম্য মানি।

প্রতিপাশকে খুব গুরুত্ব দেই- বিশ্বাস করি মরুভূমির রুক্ষ্ম পথে যে রোদেলা পুরুষ হেঁটে যায়, তাঁর সঙ্গী হয়ে বেঁচে থাকে বেদুইন নারী। সমতলের মায়া কাটিয়ে বালির শহরের দিকে ঠুনকো সবকিছুকে উজার করে এগোনোই তো জীবন- আমি একজন লেখক হিসেবে এসবই অনুভব করি এবং এ অনুভূতিগুলোই আমার অর্জন বলে বিশ্বাস করি।

০৪.০৬.২০২১।।রাতশংকর।।ঢাকা।। 
রাহেল রাজিব: কবি। সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা


(ত্রিপুরার পত্রিকার জন্যে লেখা)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ