কী লিখি কেন লিখি
ঝর্ণা মনি
কী লিখি কেন লিখি
ঝর্ণা মনি
হতে চেয়েছিলাম ভ্যালেন্টিনা তেরেসকোভা। চাঁদের বুকে এঁকে দিতে চেয়েছিলাম পূর্বসূরীদের পদচিহ্ন। যাযাবর হওয়ার দীক্ষা পেয়েছিলাম পূর্বপুরুষদের কাছে। পিতামহের স্নেহাশীষ মাথায় করে পাড়ি দিতে চেয়েছি সাহারা-কালাহারি। তুষার ঝড়কে সঙ্গী করে হতে চেয়েছি আদি কিংবা খামসিন! খসখসে পদযুগলের ছাপ রেখে ডিঙ্গোতে চেয়েছি প্রস্তরখন্ড। কখনো কখনো বীরপুরুষ হওয়ার স্বপ্নে পার করেছি হাজার বিনিদ্র রজনী। বিশ^কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার মতো মাকে নিয়ে অনেক দূরে বেড়াতে যাওয়ার দুর্গম রাস্তায় হা রে রে বলে ছুটে আসা একদল ভয়ংকর ডাকাতকে এক ধাক্কায় কুপোকাত করে বিজয় গর্বে হাসতে চেয়েছি।
আকাশের তারা গোনার সখ সেই উত্তরাধিকার কাল থেকেই। উজ্জ্বল-অনুজ্জ্বল তারা নিয়ে ভাসতে চেয়েছি মহাকাশে। বৃষ্টি হতে চেয়েছি। হতে চেয়েছি সাদা মেঘ। পত্রবাহক হতে চেয়েছি প্রিয়া বিরহে আকূল যক্ষরাজের। মৌসুমী বায়ুর ঝিরিঝিরি ছন্দে লুকাতে চেয়েছি প্রেমিক হৃদয়ের অশ্রুসজল দৃষ্টি। ঝর্ণা হতে চেয়েছি। হতে চেয়েছি পাহাড়ের কান্না হতে। চপল পায়ে রিনিক ঝিনিক সুরে দাপিয়ে বেড়াতে চেয়েছি ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল।
প্রজাপতি হতে চেয়েছিলাম। রঙিণ পাখনায় ভর করে উপভোগ করে চেয়েছি ঝাপিত জীবনের সৌন্দর্য্য। রাখাল হতে চেয়েছি। বাঁশির সুরে খান খান করে দিতে চেয়েছি তপ্ত দুপুরের নিস্তব্দতা। কিশোরীর হাসি হতে চেয়েছি। চেয়েছি প্রেমিকের কান্না হতে। দৃষ্টি পোড়ানো সৃষ্টিতে হতে চেয়েছি কবির কবিতা হতে। সুকান্ত’র ঝলসানো রুটি হতে চেয়েছি। অস্তিমজ্জায় মিশে থাকা দুখু মিয়ার বিদ্রোহী হতে চেয়েছি।
অত:পর আমি রোদে পুড়ি, বৃষ্টিতে ভিজি। জল-ঝড়-হাওয়ায় ভেসে যায় জীবনকাব্য। প্রতি পায়ে পায়ে হারানোর তীব্রতা শিখিয়েছে বেঁচে থাকার বীজমন্ত্র। জীবন-জীবিকায় সঙ্গী কলম। আপাতত. ততদিন সঙ্গে থাকার প্রত্যয়, যতদিন কলম করবে না প্রবঞ্চনা।
ঝর্ণা মনি: সাংবাদিক, কবি।
0 মন্তব্যসমূহ