কী লিখি কেন লিখি হারাধন বৈরাগী


কী লিখি কেন লিখি 

হারাধন বৈরাগী 


কী লিখি কেন লিখি 

হারাধন বৈরাগী 


 পৃথিবীতে এত কর্ম থাকতে লিখতে এলাম কেন?-এটা‌ই বড় প্রশ্ন।আসলে কেন লিখি,এমন প্রশ্নের উত্তরে বলবো,প্রাণের দায় থেকেই লিখি।নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য‌ই লিখি। সত্যি বলতে কি, ছেলেবেলা থেকেই আমার ভেতরে ভেতরে কেউ যেন সূতো কাটতো,কিছু লিখিয়ে নিতে চাইত।আর যখন‌ই তা হত,তখন কিছু লিখে ফেলতাম।তারপর যৌবন এল, কেউ যেন ভেতর থেকে কিছু লেখাতে চাইল,লিখলাম।মাঝে একটা বড়সময় ভেতরের তাড়না সত্ত্বেও লিখিনি, নিজেকেই নিজে কাঠগড়ায় দাড় করিয়েছি।এই সময়টা আমার খুব কষ্টে কেটে ছিল।তখন কত কর্মে নিজেকে জড়িয়ে ফেললাম।কাম অর্থ মোক্ষ-কত পথ ঘুরে দেখলাম  কিন্তু কোথাও শান্তি পেলাম না। আপনি জানলে অবাক হবেন,আমি যোগগুরুর কাছে দীক্ষা নিয়ে বেশ একটা সময় অধ্যাত্ম যোগেও বিচরণ করেছি। কিন্তু কোন মার্গে‌ই নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। ভালো বাসতে পারলাম না।কারণ একটাই,ওই সব মার্গে যখন‌ই ডুবতে গেছি, কেউ যেন ভেতর থেকে এসে অসম্ভব বাদ সাধত।বুঝতাম এ অন্য কেউ নয় আমার লেখিকা।আমার ঘোরলাগা ভালোবাসা।

আসলে ভালোবাসা‌ই আসল,আর সব মেকি।ভেতর থেকে ভালোবাসা ছাড়া পৃথিবীর কোন কাজ‌ই হয় না।এও ঠিক জগতের যেকোন মার্গ বা পথ‌ই সমুদ্র।কার কোন‌ মার্গের সাথে আত্মার যোগ,নাড়ির যোগ, কোথায় তার ঘোর, সেটাই আসল কথা।

তাই সকল মার্গ ছেড়ে, সকল কর্মের পথ রুদ্ধ করে দিয়ে আমার ভেতরের কেউ যেন‌ আমাকে বাধ্য করল,ফের লিখতে।আর আমি ফের লিখতে লাগলাম।আর এখন, আমার অন্তরজগৎ ও বহির্জগতের মাঝে সর্বদা যেন মিতস্ক্রিয়া চলেছে।আর একটা ঘোরের ভেতর চলেছি।এ থেকে বেরোতে পারি না।এই থেকে ভেতরে সর্বদা কে যেন উচাটন করে, না লিখে থাকতে পারি না।সত্যি বলতে কি এখন যতোই জীবনের শেষের পাতার দিকে যাচ্ছি তত‌ই আমি ঘোরের মাঝে ডুবে যাচ্ছি।এখন বুঝি না কেন লিখি কিজন্য লিখি।লিখলেই কি না লিখলেই কি?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ