কী লিখি কেন লিখি মিনতি রানী দাস

কী লিখি কেন লিখি 
মিনতি রানী দাস

কী লিখি কেন লিখি 
মিনতি রানী দাস
কবি-শিক্ষক। বরিশাল, বাংলাদেশ

আমি লেখক, এই স্বীকৃতি এখনো পাই নি। তবু নামটি যখন ছাপার অক্ষরে ছাপা হয়েছে তখন আর পালাবো কোথায়? তাই লিখব সেই গল্প!
আমার বয়স ১০, পড়ি ৫ম শ্রেণিতে। একদিন আমার প্রিয় শিক্ষক, মোতাহার স্যারের জন্য চারটি লাইন লিখে নিলাম। স্যার আমাকে বললেন, ‘অসাধারণ। তুমি একদিন বড় কবি হবে।’ স্যারের কথাটিই আমার কানে সদা প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। কিন্তু বড় কবি তো হতে পারলাম না!
এরপর থেকে মাঝে মাঝে আপন মনে লিখতাম আবার ছিঁড়ে ফেলতাম। বিদ্যালয়ের যে কোন অনুষ্ঠানে নিজে কবিতা বা ছড়া লিখে তা আবৃত্তি করতাম। আর জারিগানে সবসময়ই থাকত আমার প্রথম পুরষ্কার যা নিজে লিখে সুর করে গাইতাম। যখন আমি এস,এস,সি পরীক্ষা দেব, তখন আমার ভাইয়ের ছেলের জন্ম হল। ভাইয়ের ছেলেকে পেয়ে খুব আবেগাপ্লুত ছিলাম। তাই তাকে নিয়ে লিখেছিলেম অনেক অনেক ছড়া যা দুই চার লাইন এখনো মাঝে মাঝে বলে উঠি।
কলেজে উঠে সৌভাগ্যবশত কবি অর্ণব আশিক যিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একজন সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তার ছাত্রী ছিলাম। তিনি আমাদের বাংলা পড়াতেন। পড়াবার সময় তাঁর চলন, বলন, মুখে-মুখে কবিতা আবৃত্তির ধরন দেখে নিজেকেও কবি হিসেবে কল্পনা করে ফেলেছি। তিনিও মাঝে-মাঝে আমাকে কোন একটা বিষয়ের উপর দশ লাইন লেখার জন্য অনুপ্রাণিত করতেন।
শিক্ষকতার পেশায় আসার পর বাচ্চাদেরকে পড়ানোর সময় বিভিন্ন ছড়া কেটে কেটে পড়াতাম। কিন্তু সেগুলো ছিল অস্থায়ী। যে কোনো ট্রেনিং এর সময় শিক্ষকগণ যে পাঠ উপস্থাপন করতেন তাদের সবগুলো পাঠের আবেগ সৃষ্টির জন্য ছড়া আমিই লিখে দিতাম। এজন্য আমাকে “স্বভাব কবি” হিসেবে সবাই ডাকতেন। তখনো আমি টের পাই নি যে আমার মধ্যে এই গুণ লুক্কায়িত আছে। 
এরপর এল আমার জীবনের মহাপ্রলয়। ২০০৪ সালে দীর্ঘ আট বছর প্রেমের পরে বিয়ে করা স্বামী একটা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর আমি মানসিকভাবে খুব ভেঙ্গে পড়ি। আমার দাদা শ্যামল কুমার দাস (জেঠতুত ভাই) ভারত থেকে মাত্র তিনদিনের জন্য শুধুমাত্র আমাকে সান্ত¦না দেয়ার জন্য বাংলাদেশে এসেছিলেন। আমার কাছে এসে তিনি বুকে জড়িয়ে ধরে কতক্ষণ কাঁদলেন, তারপর তিনি যে অফিসে চাকুরি করেন সেই অফিসের কতগুলো ডায়েরি আর কলম দিয়ে বললেন, নে তোর মনের সব কষ্ট এই ডায়েরিতে লিখে রাখ। তোর স্বামী এসে তোর এই ডায়েরি পড়বে। দাদার কথাগুলোকে সত্যি বলে ধরে নিয়ে আমি আমার স্বামীর কাছে প্রতিদিন একটা করে চিঠি লিখতাম। সেই চিঠি কখনো গদ্যে আবার কখনো পদ্যে চলে আসত। শুরু হল কাল্পনিক প্রেম বিরহের পালা। শুধু স্বামীর সাথে প্রেম-বিরহের ভাবনা থেকে ডায়েরি পাতায় পাতায় লেখা পরিপূর্ণ হতে থাকল কিন্তু কবি বা লেখক হওয়ার ভাবনা নিয়ে কোন লেখার সৃষ্টি হয়নি।
এরপর আসল প্রতিযোগিতা। শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হওয়ার জন্য কোন প্রকাশনা লাগে। আমার কোন প্রকাশনা না থাকায় আমি ৫ নম্বর সবসময় কম পেতাম। আমার খুব শ্রদ্ধাভাজন অফিসার যিনি একজন কবিও বটে যার ছদ্মনাম লিমা ইসলাম, আমাকে ধমক দিয়ে বলেন এত কিছু লিখেন একখানা বই বের করতে পারেন না কেন? তিনি আমাকে গতিধারা প্রকাশনীর ঠিকানা দিয়ে বলেন, “যান এখানে গিয়ে যোগাযোগ করুন।” ঠিকানাটা ঠিকই নিলাম কিন্ত - কোন কাজে আসল না।
নিজের চোখে মাত্র দু-একজন লেখককে দেখেছি। যখন ই দেখতাম হা করে তাকিয়ে থাকতাম। তাদের আচরণ, অঙ্গভঙ্গি, কথাবলার ধরন। আর ভাবতাম আমি যদি একজন লেখক হতে পারতাম! আমার নামটি যদি ছাপার অক্ষরে লেখা থাকত! তারপর ২০১৬ সালে গেলাম ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে এম,এড ডিগ্রি নেয়ার জন্য। কানিজ সৈয়দা বেন্তে সাবাহ ম্যাম একদিন ক্লাসে ঢুকে আমাদেরকে একটা আ্যাসাইনমেন্ট দিয়েছেন। আমি সেটা কবিতার আকারে লিখে জমা দিলাম। ম্যাম প্রথমে তা খেয়াল করেন নি। পরে একদিন আমাকে অফিস রুমের সামনে দেখে বলেন, “এই তুমি অ্যাসইনমেন্টে কি লিখেছ?” এই বলে হাত ধরে টানতে টানতে তার রুমে নিয়ে গেলেন। আমি তো ভয়ে জড়সড়। ম্যাম না জানি আমাকে কত বকা দেন! ম্যাম আস্তে আস্তে করে সেই অ্যাসাইনমেন্টের কপি বের করে আরো ৪/৫ জন ম্যামকে ডেকে তাদেরকে দেখালেন দেখুন আমি দিয়েছি অ্যাসাইনমেন্ট আর এই মেয়েটা লিখল কবিতা? এখন একে কি শাস্তি দেয়া যায়? আমি কী করব ভেবে পাচ্ছি না। সত্যিই তো অপরাধ করেছি। একটু পরেই ম্যাম আমার মাথায় হাতটি বুলিয়ে কী যে আদর! বললেন, “তুমি বোধ হয় কবিতা লিখতে খুব ভালবাস, এমন স্টুডেন্টই আমি চাই। কী সুন্দর কবিতাটি! আমি আমার অফিসে এটা বাধিয়ে রাখব। তুমি কী খাবে বল?” এই বলে ম্যাম পিয়ন ডেকে নাস্তা এনে আমাকে পেট ভরে খাওয়ালেন আর বললেন, “তুমি তোমার জমানো লেখাগুলো দিয়ে বই লিখে ফেল আমি তোমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”
কলেজের বার্ষিক ম্যাগাজিনে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আমি “এ কোন খোকা” কবিতাটি লিখলাম এবং তা শোকদিবসে আবৃত্তি করে প্রথম পুরষ্কার পেলাম। প্রিন্সিপাল স্যার কবিতাটির ভুয়সী প্রশংসা করলেন এবং ব্যক্তিগতভাবে ৫০০/- টাকা উপহার দিলেন। পরবর্তীকালে এই কবিতাটি বরিশালের একমাত্র ইংলিশ ভার্সন বিদ্যালয়ের একটি শিশু আবৃত্তি করায় মেয়েটি প্রথম পুরস্কার পেয়েছে এবং পাবলিক লাইব্রেরি, বরিশাল-এ বরিশাল সদর গার্লস হাই স্কুলের একটি মেয়ে আবৃত্তি করায় সে মেয়েটি দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে। 
ম্যামের কথামত আমার নিজের লেখাগুলোর উপরে চাষ করতে থাকলাম। তারপর একদিন অচেনা ঢাকা শহরে ছেলে ও মেয়েকে সাথে নিয়ে লোকজনের কাছে জিজ্ঞাসা করতে করতে বাংলাবাজার গিয়ে হাজির হলাম। গতিধারা প্রকাশনীর সিকদার আবুল বাশার ভাই, যে কিনা আমাদের বরিশাল অঞ্চলের লোক। তার সাথে কথা বলায় তিনি অভয় দিলেন। তাই তার কাছে পাণ্ডুলিপি জমা দিয়ে বাড়ি চলে এলাম। 
বইমেলা শুরু হল। আমি বাশার ভাইর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু তিনি ফোন ধরেন না। ধরবেই বা না কেন? বড় বড় লেখকদের বই নিয়ে তিনি অনেক ব্যস্ত। আমার মত লোকের লেখা যা কেউ কোন দিন পড়বে না, তার বই নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় তার ছিল না। 
আমার সে কী কান্না! আহারে এবার বইমেলায় আমি একজন লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে আর পারছি না। বাশার ভাই আমার এমন ক্ষতি করলেন? আমার এমন কেউ নেই যে একটু খোঁজ নিবে? 
কোন একদিন বাংলা একাডেমিতে কবিতা শুনতে ও পড়তে গিয়েছিলাম। খুঁজে খুঁজে দেখলাম আমার ফোনে বাংলা একাডেমির উপ পরিচালক, ড. তপন বাগচী স্যারের নম্বরটি সেইভ করা আছে। ভয়কাতুর মন নিয়ে তার কাছে ফোন করে সব কথা খুলে বললাম। সবকিছু শুনে তিনি গতিধারা প্রকাশনীতে ফোন দিয়ে একটু কড়া কথা বললেন। তারপর বাগচী স্যার আমাকে বললেন, “তুমি গিয়ে প্রেসে বসে থাক, যে পর্যন্ত না দিবে সেখান থেকে উঠবে না”। আমি তার কথা মত প্রেসে গিয়ে বসে রইলাম। সারাদিন কেটে গেল। এই হচ্ছে সেই হচ্ছে বলে সন্ধ্যো হয়ে গেল আমার দিকে কেউ ফিরেও তাকাল না। হঠাৎ করে ভেতর থেকে একটি ছেলে এসে বলল, “এই আপনার বইয়ের কভার পেইজ। কেমন হয়েছে দেখুন।”
কথাটি শুনে আমি চমকে গেলাম। মনে হচ্ছে নিজের প্রথম সন্তান জন্ম নিল এই মাত্র। আমি তা কোথায় রাখব? কোলে তুলে নিয়ে চুমু খাচ্ছি আর বারবার চোখ বড় বড় করে তাকাচ্ছি আমার নাম আমার ছবি আজ ছাপার অক্ষরে এসেছে! বাহ সে কী আনন্দ। কোটি টাকা হাতে পেলেও এত আনন্দ হয় না।
কভার পেইজ তো পেলাম, ফর্মাও হাতে পেলাম এবার বই বাঁধানো? প্রেসের মালিক বললেন,“ যদি আমাদের কাছ থেকে নেন তবে আরো এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।” তপন স্যারকে আবার ফোন দিলাম এখন কি করি? একটু ভেবেই তিনি একজন বাঁধাইকারীর ফোন নম্বর দিয়ে বললেন এখানে যোগাযাগ কর। সেই বাঁধাইকারীর সাথে যোগাযোগ করে বই বাঁধিয়ে বইমেলায় নিয়ে আসা হল। 
পরেরদিন ছেলে মেয়ের জন্মদিন পালনের মত করে মোড়ক উন্মোচিত হল প্রথম দুটো বইয়ের ১. অনুচিন্তন-২০১৭, ২. হৃদয় নিংড়ানো-২০১৮ সালে। এরপর লেখা চলতে শুরু করল। পরবর্তীকালে ২০১৯ সালে আসল শিখা প্রকাশনী থেকে কাব্য গ্রন্থ - ৩.নির্ঝরের ঘুম আর ৪. কাজী পাবলিকেশনস থেকে পাঠ্য পুস্তকের পাঠ সম্বলিত ছড়ার বই। ৫. ২০২০ সালে আসল বই পুস্তক প্রকাশনী থেকে গল্প গ্রন্থ-যে পথে হেঁটেছি আমি। ৬. ২০২১ সালে করোনাকালীন সময়ে কিভাবে বই প্রকাশিত হবে এই নিয়ে গভীর ভাবনায় পড়লাম। তপন স্যারের সাথে আবার যোগাযোগ করলাম। তিনি তাকে পান্ডুলিপি মেইল করে রাখতে বললেন, যদি কিছু করতে পারেন-এই ভরসায়। বইমেলা হবে কিনা তা নিয়েও ছিল বেজায় শঙ্কা। 
তপন স্যারের কাছে মেইল করে তার মাথায় বোঝা চাপিয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে রইলাম। বাপরে স্যারের কি যে ব্যস্ততা! একদিন রাত নয়টায় ফোন দিয়ে জানতে পারি তিনি তখনও অফিসে বসে বইয়ের কাজ করছেন। তার নিবেদিত হস্তক্ষেপে কলি প্রকাশনী থেকে আমার ষষ্ঠ গ্রন্থ, (কাব্যগ্রন্থ)’-“অশ্রুসিক্ত আখি” প্রকাশিত হল। এই অকাল সময়ে তার আশীর্বাদ ছাড়া আমার বইখানা আলোর মুখ দেখতে পেত না। পান্ডুলিপি হিসেবে প্রক্রিয়াধীন আছে -৭. গল্পগ্রন্থ-কলা পাতার ছাউনি ৮. শিশুতোষ গ্রন্থ-সবার বন্ধু ম্যাম। ৯. শ্রেণি কার্যক্রমের সহায়ক বই হিসেবে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পরিবেশ পরিচিতি বই (প্রশ্নোত্তোরের মাধ্যমে)। ১০. ছড়ায় ধাঁধায় জীবন গাঁথা।
লেখালেখি নিয়ে তেমন বিশেষ কোন সম্মাননা আমার নেই। তবুও যেটুকু পেয়েছি তা হল-
১.রোকেয়া দিবসে জয়িতা সম্মননা-২০১৮। 
২.আমাদের লেখালেখি সম্মাননা-দুই হাজার আঠারো
৩.আমাদের লেখালেখি সম্মাননা-দুই হাজার উনিশ
৪.শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-২০১৮
৫. .শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-২০১৯
৬.স্বাধীন বাংলা সাহিত্য সাংসদ থেকে সম্মাননা-২০২০
৭.বরিশাল ডিসষ্ট্রিক অন লাইন পেইজ থেকে স্বীকৃতি সম্মনা-২০২০
৮.বাংলাদেশ আলোকিত প্রাথমিক শিক্ষক থেকে স্বীকৃতি স্মারক-২০২১
এছাড়াও রয়েছে অর্থনৈতিক সম্মাননা -কবিতা/ গল্প পড়ে খুশি হয়ে * প্রাইম ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার মালিক মোঃ কালাম সরদার দিয়েছেন-দশ হাজার টাকা,* সকাল সন্ধ্যা সুইট মিটের মালিক -বিশু ঘোষ দিয়েছেন পাঁচ হাজার টাকা, * পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষক বাবু শংকর কুমার দিয়েছেন দশ হাজার টাকা, * আমার সহপাঠী বন্ধু গিয়াস উদ্দীন দিয়েছেন বিশ হাজার টাকা * বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরপ্রতীক রত্তন আলী শরীফ দিয়েছেন দুই হাজার টাকা, * ডিসি অফিসের নেজারত মোঃ হাবিবুর রহমান দিয়েছেন দুই হাজার টাকা। এছাড়া আরো অনেক শুভাকাঙক্ষী আমাকে অর্থ দিয়ে সম্মান দেখিয়েছেন। * অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কল্যান সমিতির বার্ষিক ম্যাগাজিনে একটি কবিতা ছাপা হওয়ায় সম্মানী হিসেবে দিয়েছেন একহাজার টাকা যা আমাকে দারুণভাবে উৎসাহিত করেছে। 
আমার বই পড়ে আমার ভক্ত ও বন্ধুদের মন্তব্য হিসেবে নারীরা বলেন -আমরা বই পড়তে চেয়েছি, কাঁদতে চাই নি। আপনি কেন আমাদের কাঁদালেন? আবার কেউ কেউ বলেছেন একেবারে আমার মনের কথাগুলো কেমন করে আপনি লিখলেন? কেউ কেউ আবার আমাকে মহীয়সী নারী বলে আখ্যায়িত করেছেন। কেউ বলে দিদি আপনার লেখা কবে পাঠ্য বইয়ে ছাপা হবে? শিশুরা বলে ম্যাম বই পড়া লাগে না আপনার লেখা পড়লেই আমরা পরীক্ষায় পাস করব।
কি লিখি কেন লিখি বলতে কোন নির্ধারিত ছকবদ্ধ নেই। কেউ পড়ুক আর নাই-ই পড়ুক, কেউ ভালো বলুক আর নাই-ই বলুক আমি লিখে যাব যত দিন এই দেহে প্রাণ থাকবে। মন যখন যেদিকে ধাবিত হয়, লেখাও সেই দিকেই যায়। কখনো প্রেম কখনো বিরহ, কখনো প্রকৃতি, দেশ, বর্তমান প্রেক্ষাপট, নারী, উৎসব- পার্বন, বিভিন্ন দিবস, বিশেষ ব্যক্তিত্ব, মুক মনের গভীর আকুতি নিয়েই লেখাগুলো আত্সপ্রকাশ করে। কবিতাগুলো প্রথমে একটি ডায়েরীতে লিখি পরে টাইপ রাইটার না থাকায় তা ল্যাপটবে নিজেই টুকটুক করে টাইপ করে ফেলি। আর গল্পগুলো সোজাসুজি ল্যাপটবে কম্পোজ করে ফেলি। আমার দুটো সম্পদ আছে আমার ছেলে ও মেয়ে , ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন নিয়ে পড়ছে আর মেয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করে ইউরোপের চারটি দেশে স্কলারশিপের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। আমি যা লিখি তা এদের দু’জনকে প্রথমে শোনাই। কোথায় সংযোজন -বিয়োজন করতে হবে তা তারা বলে দেয়। আবার মাঝে মাঝে দেখি ছেলে হাততালি দিচ্ছে আর মেয়ে ওয়াও বলে মাথায় হাত বোলাচ্ছে। 
লেখাগুলো কোথায় ছাপা হয় তা তো জানি না। কয়েকটি পত্রিকার মেইল আইডি আছে। মাঝে মাঝে মেইল করে রাখি। একদিন আমাদের উপজেলার কৃতি সন্তান -অতিরিক্ত সচিব মোঃ দেলওয়ার হোসেন স্যার আমাকে দেখে বলেন যে আপনাকে কোথায় দেখেছি বলুন তো? আমি বললাম, স্যার আপনার সাথে এই আমার প্রথম দেখা। স্যার বললেন না আপনাকে দেখেছি ও হ্যাঁ, মনে পড়েছে। আপনাকে আমি পত্রিকায় দেখেছি আপনার কবিতা ও পড়েছি। আমি যা আজও জানতে পারি নি কোন পত্রিকায় আমার লেখা ছাপা হয়েছে। সবার প্রেরণা পেলে লিখব না বলা কথা, অদৃশ্য ব্যথা। সকলের আশীর্বাদপুষ্ট মিনতি।
=================
মিনতি রানী দাস: প্রধান শিক্ষক, উত্তর দেহেরগতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় , বাবুগঞ্জ, বরিশাল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ