কী লিখি কেন লিখি গোবিন্দ ধর

কী লিখি কেন লিখি

গোবিন্দ ধর 


না লিখে পারি না বলে লিখি বললে প্রশ্ন জাগে কার জন্য লিখি?সত্যি বলছি আমি আমার জন্য লিখি।
কিরকম লিখি?যেমন পারি তেমন।তাতে কার কি?
হয়তো কারো কিছু নয়।
কিন্তু লেখা তাহলে প্রকাশ করি কেন?পাঠক জানুক আমি কবি।আমি লেখক। 
এই যদি ইচ্ছে হয় তাহলে কিছু বিষয় মনে রাখতেই হবে একজন কবিকে।একজন লেখককে।
একজন কবি যদি নিজের জন্য লেখেন তাহলে আমাদের আর কোন কথা নেই। কিন্তু কবি যদি কিংবা লেখক যদি কোথাও লেখা প্রকাশ করেন তখন কিছু কথা থেকে যায়।কিছু বিষয় তাঁর রপ্ত করতেই হবে।
কবিকে পাঠের মধ্যে দিয়ে তৈরি হতে হবে।এ যাবৎ কি লেখা হয়েছে। কোথায় কোথায় বাঁক তার নিবিড় পাঠ অভিজ্ঞতা থাকা জরুরী। 
লেখাটি কার জন্য কেন লিখবো এর ক্রমপর্যায় জেনে নিতে হবে নিজেকে পরিশীলিত করার জন্য। বারবার নিজেকেই ভাঙতে হবে তারপর।তারপর চাই এ যাবৎ যা লেখা শেষ তাকে মোচড় দিয়ে কবিকে জীবনানন্দ ক্রস করতে হবে।বিনয় টপকে যেতে হবে।শ্রীজাত,শঙ্খ সুনীল শক্তি জয় সুবোধ রামেশ্বর দিলীপ টপকে কবিকে হতে হবে নিজস্ব আরাধ্য গোবিন্দ। এই যে দীর্ঘ জার্নি তা জানতে হলে ক্রমাগত গোগ্রাসে পাঠই একমাত্র নিদান কবির নিকট।কবিকে কবিই তৈরী করেন।কবির কাছে আর কোন পাঠশালা নেই। আর কোন বিদ্যালয় নেই। নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোর। কবির সামনে পেছনে ডানে বাঁয়ে প্রথম শত্রু কবি নিজেকে।তারপর গণশত্রু তৈরী হলে জানবেন আপনার হয়েছে। ততদিন নিরবচ্ছিন্ন চর্চাই কবির কাজ।লেখালেখা খেলা।খেলতে খেলতে কাটাকাটি করা ছাড়া কবির আর কোন পথ নেই। সকল পথ রুদ্ধ। এই রুদ্ধ সিলেবলের বর্ণানুক্রমে সাজানো গোছানো পরিবেশে কবি জারিত রাখবেন নিজেকে।আঙুলের কড়া বেয়ে শত্রু সংখ্যা বাড়তে থাকলে ধরে নেবেন আপনি কবির দরজায় পা গলিয়েছেন।এবার কবি আরো পরীক্ষা নিরীক্ষা চর্চার মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে তৈরী হতে থাকবেন।ঠিক তখনই আপনার বোধিলাভ হবে।ততদিন চর্চা পাঠ আর লেখালেখিই শুধু একজন কবির কাজ।
আর কোন কাজই কবিকে তৈরী হতে সাহায্য করে না।না তরুণ না প্রবীণ কেউ গুরুত্ব দিলেই কী না দিলেই কী।কবির কাজ নিজেকে তৈরী করে যাওয়া।সময়ে আপনি তখন মূল্যায়ণ না হলেও জীবনানন্দকে আবিস্কারের মতো চর্যাপদ আবিস্কারের মতো একজন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ঠিক মাটি ভেদ করে তুলে আনবেন কবিকে।কিছুই না হলে কবিকে কোন তরুণদের ভালোবাসায় বাঁচিয়ে রাখা যায় না।ভেন্টিলেশনের দরকার নেই একজন কবির।তার শুধু দরকার নিজেকে জারিত রাখা।তৈরী হওয়ার সঠিক পথ ধরে হাঁটা।

২৬:০১:২০২১
রাত:১০:২০মি
লিচুবাগান, আগরতলা।

কবিতা কবির আত্মার শীত:২


কবিতা তো আত্মক্ষরণেরই ঈশ্বরকণা।আত্মার ভেতর থেকে দহনগুলো লিপি হয়ে কবির কাছে ধরা দেয়।কবিতা দহনলিপি।দহনকালের পান্ডুলিপি কবিতা।কবিতার কাছে কবি উপুড় দোয়াত।সুলেখাভরা কলম।কবিতা কবির আত্মার বিষ।যাপনের ধারাপাত।কবিতাই প্রকৃত যাপন।কবিতা একজন কবির সত্যিকারের জীবনকাল। কবির আলাদা কোন জীবনীর দরকার নেই।এক একটি কবিতাই কবির আত্মকথা।আত্মারক্ষরণ।কবি ক্রমশ সরে সরে এগিয়ে যান জীবনের বিচিত্র সিঁড়ি।কোথাও নামেন সিঁড়ি নিয়ন আলোয়।কোথাও শহরের এলইডির নিচেই কবির আত্মা আরো এক শহর খুঁজে জীবনের পরত দেখার জন্যে।শহর আলোকময়।তার নিচেই অন্য আলো।কবি অন্ধকারেও দেখেন।ছুটে যান ঈশ্বরকণার দিকে।কৃষ্ণগহ্বর থেকে তুলে আনেন সামন্য বেদনা।যা অতি সাধারণ তাতেই লেগে আছে হয়তো কবির আত্মারশীত।
কবিতা আসলেই ঈশ্বরকণা।কবির আত্মার শীত।

০৫:০৬:২০১৮
সকাল:০৬:৪০মি
কুমারঘাট।


কবিতায় কিংবা কোন লেখায় ছবির প্রাসঙ্গিতা:৩



প্রিয়জন
অপাংশু দেবনাথ

কবিতায় কিংবা কোন লেখায় হয়তো ছবির কোন প্রয়োজন নেই।তা যেমন বাস্তব এটাও বাস্তব ছবি লেখার প্রতি মনোসংযোগ বাড়ায়।লেখাটি ভালো হলে নিশ্চয়ই ছবির কোন গুরুত্ব নেই।
আমরা বই প্রকাশে যেমন প্রচ্ছদ রাখি।তাও যেমন তেমন নয়।নামি প্রতিষ্ঠিত কোন শিল্পীকেই তখন মান্যতা দিই।যেমন তেমন কোন প্রচ্ছদ শিল্পীকে প্রচ্ছদের বরাত দিই না।কারণ প্রচ্ছদের নান্দনিকতার দিকটা একটা বিষয়।আমাদের চোখে সৌন্দর্য একটা বিষয়।সুন্দর চিরকাল চোখকে টানে।মনোসংযোগ ঘটায়।
রবীন্দ্রনাথ নিজের বইয়ে একটি ট্রেনড তৈরী করেছিলেন। প্রায় একই রকম সবগুলো বইয়ের পোষ্টকার্ড কালার।এতে রবীন্দ্র ঘরণা তৈরী হয়েছিলো।
আমরা তার পর ততটা আধুনিক হতে পারিনি।আমাদের নিজস্বতা বলতে এমন কোন স্বকীয়তা নেই।আমরা সকলেই গড্ডালিকাপ্রবাহে নিজেকে প্রবাহিত করেছি।
ছবিতা কবিতায় কোন বিষয় হয়তো নয়।তবুও লিটল ম্যাগাজিনের পাতায় যখন দেশ পত্রিকা কবিতা ছাপে সাথে ছবি নিশ্চয়ই থাকে।
বিষয় একটা বিষয়।কবিতার সাথে ছবিটার বিষয় অনেকটা মিলে গেলে যেমন সেই ছবির প্রাসঙ্গিকতা আছে তেমনি গল্পে গদ্যে প্রবন্ধেও কিংবা শিশু সাহিত্য ছড়া সংকলনে ছবি একটি ভাইটাল বিষয়।
স্কেচ না হলে যেন বিষয় মেড়মেড়ে হয়ে যায়।
সুতরাং ছবিটি আসলেই ঐ লেখার সাথে প্রাসঙ্গিক হলে ছবি থাকাটা কোন অমূলক নয়।আমি এমনই মনে করি।
আর এমন না হলে তো কাব্য সংকলনগুলো প্রচ্ছদ অলংকরণ হীন হয়ে পড়তো কবেই।এমন দৃষ্টিনান্দনিকতাকে আপাদত আমরা অস্বীকার করতে পারছি কী রবীন্দ্রঘরনার মতো?
লেখাটিই যখন একটি ছবি তাহলে ছবির আবার ছবি কিসের?বিষয়টা হয়তো তুমি তেমনই বলতে চাইছো।কিন্তু আমাদের সব লেখা আদৌ ছবি হচ্ছে কী?
আমরা কবিতা বলছি।কোনটা কবিতা আর কোনটা কবিতা নয় সেই বিচারই বা কে করবে?আমাদের এক রকম পাঠ দক্ষতাই হয়তো কিছু লেখাকে কবিতা বলছি।কিছু লেখাকে কবিতার তকমা দিতে পারছি না।
কবিতা কী আসলেই এমন আবছা কোন বিষয়?নাকি কবিতা আরো কোন সুন্দরের উপাসক?
কবিতা কী কেমন লেখা হবে এমন পরীক্ষা নিরীক্ষা তো নিরন্তর চলছে।আজও চলছে।আগামীতেও চলবে।কেউ কেউ কালউত্তীর্ণ হন।কেউ কেউ হন না।এই যারা হলেন আর যারা হলেন না তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই কবিতা।আমি অন্তঃত এমনই ভাবি।
এখানে একাই আমি সম্রাট নই।কবিতার কোন সীমায়িত ভূগোল নেই।কবিতার কোন সম্রাট নেই।কবিতা কারো চামচাগিরী পচন্দ করে না।
কবিতা আসলেই একটি শিল্প মাধ্যম।যা পাঠ করলে নীরব বসে থাকতে হয়।
কবিতা লেখক ও কবিতা পাঠক দুজনই তার আনন্দ ভাগ করতে পারেন।কবিতা এমনই।
অথচ দেখো আমাদের পৃথিবীতে কত কি।কত কবিতা।লাদেনও কবি।সকল মহাপুরুষও কবি(যারা দাবী করেন মহাপুরুষ)।হজরত মুহাম্মদ থেকে যীষু,অনুকুল থেকে চৈতন্য সকলেই কবি।কবিতায় তাদের ভাব ভালোবাসা জগতের জন্য বিলিয়েছেন।
তার পরেও এত অসুন্দর আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে।আমরা এই অক্ষমতা নিয়েই বড় হই।লেখি।পড়ি।তথাকথিত মানুষ হই।খাই দাই অফিস যাই।
এত সব সুন্দরের মাঝে আমরা কী আর নতুন কিছু করি।সবই তো আগেও ছিলো।এখনো আছে।আগামীতেও থাকবে এমন কোন গ্যারান্টি নেই।
সুতরাং কবিতায় কিংবা কোন লেখায় দৃষ্টিপাত করাতে ছবি একটি মাধ্যম।
কেউ কেউ ছবি ব্যবহার করেন কারণ হয়তো লেখাটিকে আকর্ষিত করানোর জন্য।আমিও লেখায় ছবি এ জন্যেই ব্যবহার করি।
আমি মনে করি ছবি ও লেখা পরস্পর দুটি আলাদা মাধ্যম হলেও একের রূপ অন্য বাড়িয়ে দেয়।
এই ব্যক্তিগত ভাবনা থেকেই লেখাতে ছবির প্রয়োগ করি।
তোমার সাথে তাই হয়তো আমার মিলছে না।
আর দুজন সৃজনশীল মানুষের মতের ভিন্নতা তো স্বাভাবিক।
এতে নিশ্চয়ই ব্যক্তি অপাংশুর সাথে ব্যক্তি গোবিন্দের কোন বৈরীতা নেই।
আমি কবিতায় ছবিতায় এমনই আছি,প্রিয়জন।

০৫:০৬:২০১৮
বেলা:১২:১০মি
রাজেন্দ্রনগর।

সময়ের কাছে হেরে যাওয়া ঈশ্বরকণা:৪


সময়ের কাছে হেরে যাওয়া এক বালক ফেল ফেল চেয়ে থাকে সময়ের দিকে।কখন সময় আসবে সময়কে বলবে থমকে দাঁড়াও।সময় ডায়নার স্রোত।বুকে রাখা উপল ডিঙ্গিয়ে সময় চলে যায় ভাটির টানে।একদিন সময় তার সময় নিয়ে এলে সব সময় হেজেমজে যায় বিকেলের কাছে।বিকেলগুলো সময়ের রূপান্তর।রূপ লাগা তোর্সাদুপুর।সময়।রাজা মাথা থেকে জয়গাঁ শহর।
সময় আসলে জুনের সবুজ।প্রকৃতি।তার রঙ বারবার বদল হয় রূপসী ভূটানসুন্দরীর মতো।
সময় এত সুন্দর কেন?কিংবা কালমেয়ের ঠোঁটের কোণে লটকে থাকা চিলতে রোদই সময়।সময়কে পেরিয়ে যাওয়ার মুদ্রা রাজা মহারাজারাও জানেন না।তার অধরা মুদ্রা আসঙ্গের চিত্রকল্প।আমি তার বহমান শব্দাস্ত্র।শব্দে শব্দে ঠুকাঠুকিতে আমার ইতিহাস লেখা বাবা বলতেন।মা নীরব। আমার মুখের ভাষা পড়তেন আর খিল খিল হাসতেন।তখনই আমার জন্ম হয় একাত্তরের বিজয় নিয়ে সময় প্রবহমান।
আমি সময়ের শব বহন করে এক ঈশ্বরকণা।

০৪:০৬:২০১৮
রাত:১২:৩৫মি
কুমারঘাট।


আত্মক্ষর

কিছুই তো লিখতে পারিনি।সে জানি।তারপরও কেন?আসলে লিখতে না পারাই আরো লিখতে সাহস যোগায়।মনে হয় পারবো।হ্যাঁ আমিই পারবো।আমার কর্মই লেখালেখি।এছাড়া যে আর কোনো কর্ম নেই।আমি লিখি কারণ আর কিছু করতে মন চায় না যে।আর কিছু আমার নয়।এটাই আমার।আমার বলতে আর কিচ্ছু নেই।সব পর।সব-ই পর।এত পর পরের জমি নিজের বলতে আর কিছুই নেই।হয়তো আমার কথাই লিখি।তবু লিখি।না লিখলে যে বাঁচবো না।মরতে চাই না।মরতে পরবো না।আত্মহত্যা করতে পারবো না বলে লিখি আত্মার অক্ষর।আত্মক্ষর।একান্ত আমার জমি।আমার জমিতে ধান লাগাবো না মরিচ সে আমার নিজস্ব বিষয়।আর আমি তো আমার জন্যই লিখি।তাই আমার অহংকারও বটে।কেউ পাঠ করতে পারে না পারে তা তার অধিকার।এতে কে কি মনে কতলো সেটা তার ভাবনা।আমি লিখি না লিখে পারি না।আমি লিখি কারণ আমি যা দেখি তা আমি দেখি।আমার আমিকে আমার থেকে তো কেউ বেশি দেখেনি।জানেনা।কেউ জানবেও না।আমি লিখি আমি পড়বো।আমার পাঠক আমি।আমার সম্পাদক আমি।আমার সমালোচক আমি।ভেতরের আমিকে কাটাকাটি করি।সম্পাদনা করি।অরূপ আনন্দ পাই।দেখি লেখি।পড়ি।পাঠ করি।আমার প্রথম পাঠক আমি।প্রথম পাঠে যদি ভালো লাগে লেখাটি তখন আরো আরো অনেকের সাথে শেয়ার করি।শেয়ার করে হয়তো আনন্দ পাই।কেউ ভালো বললে আত্মশ্লাগা অনুভব হয়।আর ভালো না লাগলে নিজে আরো পরিপাটি করতে চেষ্টা করি।সম্পাদনা করি।ভাঙ্গি।আবার গড়ি।নিজের কথাগুলো মানুষের করতে চেষ্টা করি।ব্যর্থ হই।ক্ষতি কি।তবে অহংকার হয়।অহংকারি হইনা।আসলে আমি লিখি আমার জন্য।আমরা ব্যবসাহিক লোক নয়।হতে চাই না।হয়তো পারবেওনা।তবে  লেখক লিখে টাকা রোজকার করবে একদিন এই বিষয়টাতে তালিম দিই।লেখালেখিকে সম্মান করি।ভালোবাসি।আমার জীবন একটি বই।সবারই।মনে করি এভাবেই।প্রত্যেকের জীবন থেকে কিছু বলার আছে যা অন্যের প্রেরণা হতে পারে।আর বিশ্বাস করি ব্যর্থ জীবনই সাফল্যের শর্ত।অন্যের কাছে হয়তো হয়ে উঠতে পারে এগিয়ে যাবার সিঁড়ি।সফলতা থেকে কিছু শেখার নেই বলছি না তবু ব্যর্থতা থেকে শেখার আছে।সব মিলে আমি লেখি না লিখে উপায় নেই।অনেক দিন গো ধরে না লিখে দেখেছি  কে যেন ঘাড় ধরে লিখিয়ে নেয়।সে আমি নয়।আমার আমি।তার রচিত অক্ষর-ই আমার আত্মক্ষর।

২৪/০৫/২০১৬


সুতরাং আমি লিখি কী লিখি কেন লিখি :৫

আমি লিখি কী লিখি কেন লিখি আমি জানি না। শুধু বলবো না লিখে পারি না। লেখার টেবিলে নির্জনে কেউ বসায়।আমি তার নিকট পরাজিত।না লিখে পারি না।না লিখতে পারলে আমি মৃত।সুতরাং বাঁচতে চাই বলে লিখি।কী লিখি কেন লিখি জানি না। তাও নিজের বুকের গোপন কোটর থেকে না বলা উচ্চারণগুলো কালখণ্ডে লিখে রাখি সময়ের পালক।


০৫:০৬:২০২১
সকাল:০৮টা
কুমারঘাট। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ