কী লিখি কেন লিখি সঞ্জীব দে

কী লিখি কেন লিখি 

সঞ্জীব দে 



কী লিখি কেন লিখি 

সঞ্জীব দে 


কী লিখি কেন লিখি রূপাইছড়ি জানে,আমার 'আমি" জানে। তবে আমি লিখি আমার ভেতরে ঘটে চলা অবিরাম দ্বন্দ্বের কথা , মুর্ত বিমূর্তের ছবি আঁকি হয়তো । প্রত্যেকটা মানুষের  সবকিছুর মধ্যে থেকেও একটা নিজস্ব আশ্রয় থাকে, সে আশ্রয় ব্যাখ্যাতীত, অনির্বচনীয়।  আমি লিখি কারণ এর মধ্যেই আমি আশ্রয় খুঁজি। একএকজন একেকভাবে তাঁর আশ্রয় খুঁজেন। একজন সংগীত শিল্পী তাঁর গানের মধ্যে আশ্রয় খুঁজেন তেমনি একজন কবিও তেমনি কবিতার মধ্যেই তাঁর আশ্রয় খুঁজেন। আমরা কেন মরি?  আমরা কেন বাঁচি? কেন জন্মাই?  কেন হাঁসি? কেন কাঁদি?  এই প্রশ্নগুলোর মতই "কেন লিখি?  " এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজার চেষ্টা করা। এটাকে আমি মনে করি অনির্বচনীয় একটা দ্বন্দ্বমুলক আর্জ। ।রূপাইছড়ি আমায় লেখায়।কলম ধরি লিখি কারণ এই যে এক অনির্বচনীয় আশ্রয়!  

কত কালের তৃষ্ণা বুকে নিয়ে 
এখনো স্থির আকাশের দিকে 
চেয়ে আছে কে জানে! 
চোখের তারায় কত যুগের মেঘ 
জমে আছে সেই জানে! সেই জানে! 
এতো ঝর বৃষ্টি বয়ে গেল তার বুকের উপর দিয়ে ডজারের মতো ---
তবুও চলনহীন এক অশ্বখুর জল নিয়ে 
যুগের খবর আগলে রেখেছে 
জন্মজন্মান্তর ------
যে রূপাইছড়ি একদিন সর্বস্ব নিয়ে 
হৃদয় নিংড়ে  ফেনীর কোলে সপে দিতো সব! 
মাছরাঙারা যেভাবে ওতপেতে বসতো তার আঁচল বরাবর! 
তেমনি নরেশ দাসের মতো মাছ শিকারীরা 
সকাল সন্ধ্যা আমরা যারা দাপিয়ে সাঁতার কাটতাম তার বুকে! 
আজ ত্রিশবছর পর সেখানে গিয়ে পেয়েছি 
শ্মশানের নিস্তব্ধতা! 
না পলি নেই, বালুর চরও নেই! 
যেখানে বালু দিয়ে আমরা ঘর বানাতাম, 
ছবি আঁকতাম, আবার মুছতাম, আবার আঁকতাম 
কত কিছু...
সব ঘাসে ঢেকে আছে, মনে হলো যার বুকে সাঁতার কাটতে কাটতে বড় হয়েছি 
সে আজ সবুজ শাড়ি পড়ে শুয়ে আছে! 
কুম্ভকর্ণের বুলিভিয়া শরীরে নিয়ে....

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ