কী লিখি কেন লিখি মাহমুদ কামাল

কী লিখি কেন লিখি 
মাহমুদ কামাল

জন্ম : ২৩শে অক্টোবর ১৯৫৭

 স্পষ্টত বলি : প্রথামতো কিংবা প্রথাবিরুদ্ধ লেখাগুলোর অধিকাংশ স্বতঃস্ফূর্ত এবং সামান্যই অনুরোধের। অনুরোধের লেখাগুলোর ক্ষেত্রে ’কেন লিখি‘র জবাব খুবই সহজ। কিন্তু স্বতঃস্ফূর্ত লেখার বেলায় এর উত্তর কি হবে তা বহুদিন নির্ভাবনার মধ্যেই ছিল। সাহিত্যের মহাসমুদ্রে এক আঁজলা জলের সঙ্গে নিজেকে যখন তুলনা করি তখন আয়নায় যে ছবিটি ভেসে ওঠে সেটি আমার নয়, এক অপরিচিতের। ছাত্রজীবনে বাম সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে প্রাণময় হয়ে ওঠার চেষ্টা করেছি। হতাশ! পরবর্তী সময়ে বাম তাঁবু থেকে বের হলেও অন্য কোনও ঘরে আর প্রবেশ করিনি। লেখালেখির ক্ষেত্রে সংগঠন করেছি কিন্তু কোনও গোষ্ঠীতে আটকে থাকিনি। বিশ্বাস করি না কোনও ইজমেরও। স্বতঃস্ফূর্ত লেখাগুলোর বিষয় হয়ে ওঠে মানুষ ও প্রকৃতি। নষ্ট সময়ে ভালো ও মন্দ মানুষের সাথে থেকে তাদেরকে আনুপর্বিক পর্যবেক্ষণ করার পর মানুষ যখন মানুষেরই প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে তখন বিশ্বাসবোধ পরিবর্তন হতে শুরু করে। বদলে যেতে থাকে অতিসাধারণ ধারণাগুলোও। সত্য হয়ে যায় মিথ্যা। এ নিয়ে নিজের একটি ছোট কবিতা উদ্ধৃত করি : 
তোমাকে জেনেছি সত্য / দীর্ঘদিন
আজ প্রমাণিত হলো / মিথ্যে
  তোমাকে জেনেছি মিথ্যা / দীর্ঘদিন
আজ প্রমাণিত হলো / সত্য।
সত্য ও মিথ্যার সংজ্ঞা / কে দিয়েছিলেন?
এখন তাকেই আমি খুঁজছি।
এই অন্বেষণের মধ্যেই লিখছি মানুষের কথা। নিজেকে সচেতন মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি বলে এই দায়বোধ থেকেই মানুষ ও প্রকৃতিকে সমার্থক করে তোলার চেষ্টা করি। তখন মানুষই শ্রেষ্ঠ হয়ে ওঠে। কিন্তু কেন করি? কেন লিখি? অবচেতনের মধ্য থেকে কে আমাকে লিখতে বাধ্য করছে? সংবিৎ ফিরে এলে সেই প্রেরণায় লেখা হয় নানা পঙ্ক্তি। আমাদের সাহিত্য সংগঠনের একটি শ্লোগান এরকম: “জেগে উঠুক কবির মনন মনীষা/ লেখা হোক শ্রেষ্ঠ কবিতা।” মনন ও মনীষাকে যদি সমার্থক করা যায় অন্তত আর যাই হোক লেখাটি পাঠযোগ্য হতে বাধ্য। নিজেকে জানতে গিয়েও লেখা হয়ে ওঠে। এক বাক্যে বলা যেতে পারে, জীবনের তাগিদ থেকেই যেন লিখে যাচ্ছি। তার সাথে যুক্ত করি মনন ও মনীষা। একান্ত ব্যক্তিগত অনুভূতি অন্যকে জানানোর তাগিদও অনুভব করি। ‘আমার’ যদি ‘আমাদের’ হয়ে ওঠে তাহলে সেই পংক্তিগুলো সকলেরই। লেখালেখির এটিও একটি কারণ। 

অরণি’র ২৪তম সংখ্যায় (জানুয়ারি-জুন ২০১৯) প্রকাশিত

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ