রবীন্দ্র সমকালে দেশে জাতীয়তাবাদ
সন্দীপ সাহু
--------------------------------------
দ্বিতীয় পর্ব
১৮৮৫ সাল। এলান অক্টাভিয়ান হিউম দরদী ভারতবাসী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করলেন জাতীয় কংগ্রেসের। প্রথম সভাপতি উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। ঐতিহাসিকরা এই কংগ্রেসকে বলে থাকেন বৃটিশ সরকারের সেপ্টিভাল্ভ। ভারতীয়দের ক্ষোভ বিক্ষোভকে যাতে প্রশমিত করা যায়। এই জাতীয় কংগ্রেস ছিল সমস্ত দেশপ্রেমিকদের একটি সাধারণ মঞ্চ। এতে ডানপন্থী বামপন্থী সবাই ছিলেন। এই মঞ্চকে ভিত্তি করে উন্মেশ ঘটে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের। কোপেনহেগেনে সেই সময় ব্যারিস্টার মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী অসহযোগ অহিংস আন্দোলন করে বিখ্যাত। তাঁকেই জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বের ভার অর্পন করার জন্য জাহাজে করে আনা হল। তাঁর অতীত আন্দলোনের ট্র্যাকরেকর্ড বোধকরি বৃটিশ সরকারকে পুলকিত করেছিল। ফলে সেই সময়কার বৃটিশ গণমাধ্যমগুলি গান্ধীজীর বহুল প্রচার দেয়। বৃটিশ বুঝে যায় গান্ধীজীকে একমেদ্বিতীয়ম করতে পারলেই তাদের শাসন শোষণ দীর্ঘ মেয়াদী হবে। গান্ধীজীর নীতি ছিল আবেদন নিবেদনের নীতি। প্রথমদিকে দেশবাসী গান্ধীজীতে আস্থাশীল ছিল। কিন্তু ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে। যুব সমাজ চরমন্থী হয় ওঠে। ফলে জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় দুটি ধারার সৃষ্টি হয়---
গান্ধীজীর নেতৃত্বে আপসমুখী ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাসের আবেদন নিবেদনের ধারা আর আপসহীন পূর্ণ সরাজের দাবিতে সসস্ত্র বিপ্লবী ধারা। দ্বিতীয় ধারার ধারাবাহিকতার সূচনা হয় শহীদ ক্ষুদিরামকে দিয়ে। এই ধারবাহিকতায় জীবন দেন মাস্টারদা সূর্য সেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, ভগৎ সিং সহ অগুনতি যৌবন।
চলবে
0 মন্তব্যসমূহ