নীলিমা বেগম
জন্ম ১৯৮৬ সালের ৪ ঠা মে। পার্বত্য রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার একটা ছোট্ট গ্রাম পশ্চিম নোয়াবাদিতে জন্ম। বাবা হলেন অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল আব্দুল মতালেব খান ও মা রোসনা বেগম।
প্রথম শ্রেণী থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশুনা মরিয়াম নগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। এর পর ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ডিপ্লোমা পাশ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, নরসিংগড় যা বর্তমানে ত্রিপুরা ইনস্টিটিউট অফ টেনোলজি নামে পরিচিত। কর্মজীবনের শুরু নোকিয়া কেয়ার সেন্টার থেকে। প্রথমে সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরে প্রমোশন পেয়ে সেন্টার ম্যানেজার। ২০১১ তে সফেদ থেকে ইন্দ্রণগর শিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সিনিওর ইন্সট্রাক্টর হিসাবে যোগদান। ২০১২ তে নিট আগরতলা তে টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে যোগদান। এই বছরই এপ্রিলে শিল্প ও বানিজ্য দপ্তরের অধীন উদয়পুর শিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সিনিওর ইনস্ট্রা্টর হিসাবে সরকারী চাকরিতে যোগদান।
অবিকল
ব্যস্ততার মাঝে সুস্থতা কামনা করি
বিভীষণের মাঝে আপনজনের বাসনা করি।
ভিড়ের মাঝে ফাঁক খুঁজি,
একা থাকলে মোবাইলে মুখ গুঁজি।
নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে ফেলি
অন্যের দোষে ফুটে বিচারকের বুলি।
সজীব মানুষের আজব কান্ড
ত্যাগের নাম ভুলে হয়েছি ভন্ড।
আবেগ ডুবে আছে ঈর্ষার তলে
বিবেক যেন সত্যিই গিয়েছে ভুলে!
বন্ধুত্ব আজ শো অফের মেলা
প্রেম যেন বিষময় খেলা।
ভেবে ভেবে মন নিঃস্ব হয়,
রিক্ত, শূন্য, বিষন্ন হয়,
কেনো জানি অমানুষ গুলিও
মানুষের মতো দেখতে হয়!
অবিকল এক হয়!
মানুষ নও নারী তুমি
ডাইনী তুমি, কুলটা তুমি,
রাক্ষসী, ধিঙ্গি, শয়তানি তুমি,
অবলা, অপয়া, অলক্ষ্মী তুমি
মানুষ নও, নারী তুমি।
জন্ম দাও তুমি, তুমিই নাকি অশুচি!!
পালন কর তুমি, জাগো রাত নিশতি,
যেই ছেলেকে রক্ত দিয়ে লালন করো__
সেই বড় হয়ে হতে চায় পুরুষালী, মেয়েলী তো গালি!
ধর্ষিতা তুমি, ধর্ষক কে যে বাঁচায় সেই মাও তুমি,
বেশ্যা তুমি, দেবী তুমি, জগৎ জননী তুমি,
বিশ্ব মাতা তুমি, রক্ষা কর্তা তুমি।
দিন শেষে মানুষ নও, নারী তুমি,
দুর্বল তুমি, একটা গালি বৈ আর কিছু নও নারী তুমি!!
দিনশেষে মানুষ নও, কিছু নও নারী তুমি।
বিদ্রোহী
মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে বিদ্রোহী হই,
মনের সব ক্ষোভ উগরে দেই,
মাথা উঁচু করে চোখ রাঙাই,
দাঁতে দাঁত চেপে প্রতিবাদ শিখাই,
বিশ্বস্ততার পাঠ পড়াই,
একতার বুলি আওড়াই।
ভয়, মুখে কুলুপ এঁটে দেয়।
প্রতিবাদ, চোখে জল নামায়।
দাঁত, কটমট করে ক্যালসিয়াম যোগায়।
আর জিহ্বা, বুলি ভুলে শুধু গুমরায়।।
মন খারাপ গ্রাস করে,
মধ্যবিত্তের দায়িত্বের বোঝার নীচে
সাহস খুঁজে ফিরি।
জীবন যৌবনের স্বপ্ন পূরণের দৌড়ে
ডিপ্রেশন অর্জন করি।
রাগ, ক্ষোভ, ঘৃণা, ডিপ্রেশন
সব কিছু নিয়ে একদিন
খুব জোরে ' জয়হিন্দ' বলি।
আর, আর নেতাজীকে মনে করে
হায় হুতাশ করি।
মাধবী
আমার একটা মাধবী ছিল,
কোনো লতা নয়, পাতা বা ফুলও নয়__
রক্ত মাংসের জ্যান্ত মাধবী_
এক সঙ্গে ইস্কুলে যেতাম, খেলতাম,
টিফিন খেতাম, এক বেঞ্চে বসতাম।
নম্র, ভদ্র, মিষ্টি মাধবী
শান্ত শিষ্ট, সুনিপুণা মাধবী
আহা কথা তো নয় যেন মধু
হাসি তো নয় যেন যাদু__
সবাই বলতো এই মেয়ে,
দেখবি ঘর আলো করবে,
সুগৃহিনী হয়ে নাম করবে।
হঠাৎ একদিন সব বদলে গেল__
ভদ্র মাধবী অভদ্র হল,
লক্ষ্মী মাধবী অলক্ষ্মী হল,
যেদিন এক হায়েনা ওর মুখ চেপে ধরলো
নরম শরীর খুবলে খেলো
সেদিন কাকীমারা মুখ ফেরাল,
সালিশি সভায় মুরুব্বীরা এল_
প্রশ্নবানে আবার ধর্ষিতা হল।
সকাল গড়িয়ে বিকাল হল
বিজ্ঞ জনের রায় এল_
মাধবীর বিয়ে ঠিক হল
সুদর্শন লম্পটের প্রশংশা হল,
কত বড় মনের পরিচয় দিল__
মাধবীকেই আবার বিয়ে করতে রাজী হল!!!
সবাই ধন্য ধন্য করল__।
এরপর ,
এরপর আমার মাধবী টা মরে গেল।
সবাই হা - হুতাশ করল,
বেশি আদর নাকি তার অসহ্য হলো,
গলায় হারের চেয়ে বুঝি দড়ি আপন হল!!??
আজ,
অনেকদিন পর, মাধবী স্বপ্নে এল,
ভালোবাসে আমায় বলতে এল,
এখনও ভালোবাসি কিনা জানতে এল,
লক্ষ্মী নয়, দূর্গা হতে বলল
ভদ্র নয়, রণচন্ডি হতে বলল
স্বপ্ন - দুঃস্বপ্ন একাকার হল
হায়, আমার একটা মাধবী ছিল।।
অবসাদের একাল
নির্জন দুপুর, একলা বিকাল
নির্ঘুম রাত্রি, বিরস সকাল
ঘড়ির টিকটিক
হৃদয়ের ধুকপুক
টিকটিকির দেওয়াল ভাঙ্গা
মাকড়শার জাল বোনা,
মশার মরণ কামড়,
অবসাদ____
সে তো বড্ড একালের গল্প।
চোখের নোনা জল
অতিরিক্ত আবেগের ফল___
আকাশের তারা গোনা
অরিজিতের গান শোনা,
নিজের গুন কীর্তন
ভগবানের দোষ গুনন
অবসাদ___
সে তো বড্ড একালের গল্প।
মন ভাঙ্গা, রাত দুপুরে বালিশ ভেজা
অভিমান আর অপমানের হিসাব খোঁজা,
সপ্নের ধূলিসাৎ
এক বুক হাহাকার,
তারপর__
ছেলের মুখভরা হাসি,
অবসাদ গোল্লায় যাক__
জীবন তোকে যে বড্ড ভালোবাসি।।
বন্ধু
বন্ধু চল আবার যাই,
শিউলি তলায় ফুল কুড়াই,
মালা গাঁথি, পুতুলকে পরাই।
বৃষ্টি ভিজি, আম কুড়াই,
সবাই মিলে জ্বর বাঁধাই।
বন্ধু চল আবার যাই,
শৈশবটা ফিরে চাই,
আবার আমরা স্কুল পালাই,
খেলতে গিয়ে মন ভুলাই,
রংবেরং ঘুড়ি উড়াই।
বন্ধু চল আবার যাই,
নতুন করে ক্রাশ খাই,
মন ভাঙার গান গাই,
মার শুধু বকুনি খাই,
আবার আমরা পড়তে যাই।
বন্ধু চল আবার যাই,
কলেজের সেই কৃষ্ণচূড়া তলায়,
ক্যান্টিনের সেই টিফিন খাই,
ক্লাস ফাঁকি দিয়ে অন্তক্ষরী গাই,
প্রেমে আবার হাবুডুবু খাই।
বন্ধু চল আবার যাই,
অহেতুক বাইরে সময় কাটাই,
বিনা কারণে করি লড়াই,
অল্প পকেট মানি বাঁচাই,
আর্চিস গ্যালারিতে ঘুরে বেড়াই।
বন্ধু চল আবার যাই,
জীবন টা আবার ফিরে পাই।।
ফোবিয়া
শরীর দুদুল্য মান
মাথা ঝিমঝিম,
গলা শুকিয়ে কাঠ,
কি ভাবছেন করোনা!!???
আরে না, ছোটবেলার পাগল
আজও খেতে আসে।
অপরিচত অফিস ঘর
বড় কলেজ বিল্ডিং,
নয়তো লং জার্নি একা
জানলার সিট থেকে সিলিং ফ্যান
সবেতেই ঘাম ঘাম,
পেট ব্যাথা, অকারণ মাথা গরম
ছেলেধরা বুঝি আজও ধাওয়া করে।
ক্লাসে স্যারের পড়া,
ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রশ্নের ছড়া,
ব্যাংক ম্যানেজারের চাউনি কড়া,
আগন্তুকের নোংরা ইশারা,
ভয় ভয় আর ভয়,
কি করে করবো জয়??
নতুন জায়গার ফোবিয়া
নতুন মানুষের ফোবিয়া
নতুন অফিস, নতুন বসের ফোবিয়া
নতুন প্রেমের ফোবিয়া
লোকে কি বলল তার ফোবিয়া।
উফ্, অসহ্য এই ভয়
যতই লাগামছাড়া হতে চাই,
অক্টোপাসের মত টুটি চেঁপে ধরে ভয়।
যতই বেলাগাম হতে চাই,
আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে ভয়।
ভয় ভয় আর ভয়
কি করে করবো জয়??
ভালোবাসা
ভালোবাসা মানে দু'চোখের মুগ্ধতা,
ভালোবাসা মানে মনের স্নিগ্ধতা।
ভালোবাসা মানে রঙিন স্বপ্ন,
ভালোবাসা মানে রাত জাগা দুঃস্বপ্ন।
ভালোবাসা মানে ঝর ঝর শ্রাবণ ধারা,
ভালোবাসা মানে নীল আকাশের তারা।
ভালোবাসা মানে না বলা অনুভূতি,
ভালোবাসা মানে উতলা আকুতি।
ভালোবাসা মানে জীবনের রামধনু,
ভালোবাসা মানে বিচ্ছেদে ভাঙ্গা তনু।
ভালোবাসা মানে অফুরন্ত অপেক্ষা,
ভালোবাসা মানে একই সুরে দীক্ষা।
ভালোবাসা মানে নিঃশর্ত ভালোবাসা,
ভালোবাসা মানে তুমি 'বাস না জেনেও ভালোবাসা।
ভালোবাসা মানে চূড়ান্ত পাগলামী,
ভালোবাসা মানে তোমাতে পাগল আমি।।
মা
মা মানে বিনিদ্র রজনী
মা মানে সবার সজনী
মা মানে সব কিছুর শেষ আশা
মা মানে শুধু ভালবাসা।।
মা মানে সর্বশান্তের শান্তনা
মা মানে ঠিক পথে চলার প্রেরণা
মা মানে বোধশক্তি আর চেতনা
মা মানে সব ঠিক করার যাতনা।।
মা মানে মা ....____
মা তোমার কাছে আমি চিরঋণী__
মা তুমি আছ বলেই......
এই পৃথিবীতে আমি সবচেয়ে ধনী।।
তরুণী
তরুণী , তোমার ঘোমটা কই ?
কেন তোমার শির - দাঁড়া সোজা ?
তুমি তো থাকবে আড়ালে আবডালে
থাকবে তোমার চোখ কান বুজা ,
তরুণী , কেন তুমি মুখ খুললে ?
কেন তরুণের হৃদয় উড্ডেলিত করলে ?
তুমি তো থাকবে চুপচাপ নতমস্তকে ,
কিসের উল্লাসে তুমি মত্ত হলে !!
নেই , নেই , নেই কোন অধিকার
তোমার বুকে তো থাকবে শুধু হাহাকার __
কখনো অত্যাচারের ,কখনো বা উ্পিড়ণের_
কখনো বা দীন , হীন দৃষ্টির ___
তরুণী , তুমি তো খুশী নও ,
তরুনী , তুমি তো সুখী নও ,
তাতে কার বা কি এসে যায়__!!
এই সমাজ তো সুখী , খুশী , দীর্ঘজীবী
তোমাকে ঝুঁকিয়ে , নতমস্তকে দাঁড় করিয়ে__
তরুনী , তুমি মর
মরে সবাইকে চিরসুখ দাও __!
অমলিন
বন্য আমি
অন্য তুমি।
উদ্দাম আমি
শান্ত তুমি।
উচ্ছল আমি
নীরব তুমি।
বাচাল আমি
স্তব্দ তুমি।
বেলাগাম আমি
ভদ্র তুমি।
পাগল আমি
ব্যস্ত তুমি।
মিল - অমিল
আমি - তুমি।
ভালোবাসি আমি
ভালোবাসো তুমি
শুধু ভালোবাসি আমি তুমি।
সর্বস্ব
তোমায় ভালোবাসে আমার এলোকেশ,
আমার অগোছালো বেশ_
তোমায় ভালোবাসে আমার এক অবুঝ দৃষ্টি,
আমার যত অনাসৃষ্টি_
তোমায় ভালোবাসে আমার নিশ্চল হৃদস্পন্দন,
আমার শিথিল বন্ধন_
তোমায় ভালোবাসে আমার স্থগিত পদক্ষেপ,
আমার চেপে যাওয়া সব আক্ষেপ_
তোমায় ভালোবাসে আমার ছোট ছোট স্বপ্ন,
আমার সমস্ত অস্তিত্ব।
স্বপ্নপরী
তুমি আর এসো না আমার কাছে,
এসে ও যদি ধরা না দাও,
তবে আসবে কেনো মিছে মিছে ????
যদি আসতে হয়, তবে এসে বসো আমার পাশে,
হাত বুলিয়ে দাও আমার মাথায়,
যখন থাকব আমি চিন্তার রেশে।
আর না হয় এসো শুধু আমায় ভালোবেসে,
একটু ভালোবেসে,
সত্যি বলছি আর কেউ না থাকুক ___
তখন আমি থাকব তোমার পাশে,
শুধু তোমায় ভালোবেসে।
ভালোবাসার স্পর্শ!!
কখনো কখনো ভাবি আগেই বোধহয় ভালো ছিলাম,
আগে প্রেম ছিল, ভালোবাসা ছিল!!
এখন মাঝে মাঝে মনে হয় ভালোবাসা টা মনে হয় আর আগের মতো নেই....
আগের মতো আর হঠাৎ করে জড়িয়ে ধর না...
রান্না ঘরে গিয়ে পিছন থেকে বলে উঠ না...
ভালোবাসি ভালোবাসি তোমায় ভালবাসি।
কিন্তু অফিস ফিরত গাড়ী থেকে উকি মেরে যখন দেখি
তুমি আগে থেকেই দাড়িয়ে আছো ...
সত্যি বলছি ক্লান্তি যেন হাওয়া হয়ে যায়।
রান্না ঘরে যখন ঘেমে একাকার হয়ে থাকি
আর তুমি আস্তে করে সবার থেকে লুকিয়ে
টেবিল ফ্যান টা আমার দিকে ঘুরিয়ে দাও
সত্যি বলছি মনটা আনন্দে ভরে যায়।
আসলে ভালোবাসা ছিল, আছে,
হয়ত থাকবে সারাজীবন
সময়ের সাথে ভালোবাসা প্রকাশ করার
ধরন টা হয়ত বদলে গেছে
আগে যেটা ছিল ভালোবাসা, উদ্দাম প্রেম
এখন সেটা দায়িত্ত্ব, ভরসা,
ভরসার হাত ধরে চলা....
খুঁজলে হয়ত আরও পাওয়া যাবে
ভালোবাসার স্পর্শ !!!!
তোমার আমার ভালোবাসা র স্পর্শ।।
মুখোশ
ভাবের দুনিয়া
ভাবের শহর।
বুঝিতে নাহি পারি
কে আপন, কে পর।
কত যে ভালোবাসা
আহা কত যে প্রেম!
সুযোগ সন্ধানী মন
শুধু মুখোশের বহর।।
আমি তোমায় সুখী হয়ে দেখিয়ে দেবো
তুমি কি ভেবেছ, তুমি চলে গেলে
আমি কেঁদে কেঁদে ভাসিয়ে দেবো ___?
ঠিক ভেবেছো, কিন্তু কান্নার মাঝে
আমি তোমায় হেসে দেখিয়ে দেবো,
তোমায় সুখী হয় দেখিয়ে দেবো।।
তুমি কি ভেবেছ, তুমি চলে গেলে
আমি একা বৃষ্টি ভিজতে পারবো না ___?
হয়তো বৃষ্টিতে চোখের জল লুকাতে
কষ্ট হবে, কিন্তু আমি একা
শ্রাবণের ধারা গায়ে মেখে দেখিয়ে দেবো,
তোমায় সুখী হয় দেখিয়ে দেবো।।
তুমি কি ভেবেছ, তুমি চলে গেলে
আমি গোধূলি বেলায় একা
সূর্যাস্ত দেখতে পারবো না __?
হয়তো সূর্যের লাল আভা দেখতে
দেখতে তোমায় ছুঁতে ইচ্ছে করবে,
কিন্তু আমি সন্ধ্যা তারার সাথে
মিষ্টি হেসে দেখিয়ে দেবো,
তোমায় সুখী হয় দেখিয়ে দেবো।।
তুমি কি ভেবেছ, তুমি চলে গেলে
আমি মুগ্ধ নয়নে আর এক ফালি চাঁদ
দেখবো না __?
হয়তো আকাশটাকে দেখতে দেখতে
যখন চোখের পলক জুড়ে দেবো
তখন বেরিয়ে আসা অশ্রু কেউ
মুছিয়ে দেবে না__
কিন্তু আমি এক ফালি চাঁদের সাথে
কথা বলতে বলতে, আকাশকে
ভালোবেসে গান শুনতে শুনতে,
চোখের জলের স্বপ্ন দেখতে দেখতে,
বিনিদ্র রজনী পার করে দেখিয়ে দেবো,
তোমায় সুখী হয় দেখিয়ে দেবো।।
তুমি ঠিক ভেবেছো, তোমায় ছাড়া,
আমার হাসতে কষ্ট হবে, তোমায় ছাড়া_
আমার বৃষ্টি ভিজতে কষ্ট হবে, তোমায় ছাড়া_
আমার একা থাকতে কষ্ট হবে, তোমায় ছাড়া_
আমার আকাশ দেখতে, চাঁদের সাথে
কথা বলতে, স্বপ্ন দেখতে কষ্ট হবে_
আর একটু পর হয়তো
শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হবে__
কিন্তু তারপরও
আমি তোমায় সুখি হয়ে দেখিয়ে দেবো,
প্রয়োজনে নিশ্বাস আটকে দেখিয়ে দেবো,
তোমায় সুখী হয় দেখিয়ে দেব।
প্রাপ্তি
ছোঁয়ায় ছোঁয়ায় ভরিয়ে তুললে আমায়,
নির্বাক চোখে তাকিয়ে দেখি তোমায়,
মিহি ঘন অন্ধকারে
বেজার একটা দুপুরে
শুধু তোমার ছোঁয়া পাই।।
চোখের আগুন, আর ঠোঁটের ফাগুন,
বিন্দু বিন্দু ঘাম, কাঁপা কিছু আবেগ
নিঃশব্দে ভেঙ্গে দিলে বাঁধ
ভাসিয়ে নিয়ে গেলে প্রজ্বলিত ধারায়
সেখানে, যেখানে শুধু তোমার ছোঁয়া পাই।।
মন মাতানো কিছু মুহূর্ত
দুলে দুলে উঠে, মিশে থাকা দুটি শরীর-মন
আলোছায়ার খেলায় মেতে থাকে_
ভিতরে-বাহিরে
শুধু তোমার ছোঁয়া পাই।।
চাই তুমি ছুঁয়ে যায় সারাক্ষণ
তোমার ছোঁয়ায় যেন সর্বসুখ পাই।
অশ্রু
আমি জানতাম না, তুমি আমায় এত ভালোবাসো,
তাই বুঝি বারবার কাছে চলে আসো!
যখনই ভাবি 'ওর' কথা, নির্জন দুপুরে,
ভরিয়ে তোল আমার চোখ, নিঃশব্দে চুপিসারে।।
যখন আমি থাকি সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে,
স্বপ্নে বিভোর, তখন
তুমি আমায় নিয়ে আসো বাস্তবের নির্মম
একটা সন্ধ্যায়।
আমি জানতাম না, তুমি আমায় এত ভালোবাসো,
তাই বুঝি বার বার কাছে চলে আসো!
যখন অভিমানে ভরে থাকে আমার সারা মন
তুমি জড়িয়ে থাকো আমায় সারাদিন সর্বক্ষণ ।।
যখন আমি ডুবে যাই হতাশার অন্ধকারে,
চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে আসে পৃথিবী
তুমি পলক জুড়ে দিয়ে বেরিয়ে আসো,
আর ঘুম পাড়িয়ে নিয়ে যাও ঘুমের দেশে,
আমি জানতাম না, তুমি আমায় এত ভালোবাসো,
তাই বুঝি বারবার কাছে চলে আসো!!
যখন আবেগ আর বিবেকের দ্বন্ধে আমি,
হেরে যাই নিজের কাছে__
ভয় লুকোতে চাই নিজেকে নিজের মধ্যে
কেউ দেখে ফেলে পাছে__
তুমি কাছে আসো হয়ে সান্তনা।
খুঁজে পাই নিজেকে, ফিরিয়ে দাও চেতনা।
আমি জানতাম না, তুমি আমায় এত ভালোবাসো,
তাই বুঝি, না চাইলেও তুমি বার বার কাছে চলে আসো!
তুমি থাকো পাশে সব সময়
হয়ে শান্তি, হয়ে শক্তি,
হয়ে বন্ধন, হয়ে মুক্তি,
আমি এখন জানি, শুধু তুমি আমায় ভালোবাসো
তাই তো আমি চাই, তুমি বার বার কাছে চলে আসো।।
ইচ্ছা
কল্পনায় এক কল্পতরু
তার ছায়ায় হলো জীবনটা শুরু
ছোঁয়ায় ছোঁয়ায়, আদর ভালোবাসায়
আর ভালোলাগায়.....
মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল।
একাকার কবে একাকীত্ব হয়ে গেল,
ভালোলাগা কবে অবজ্ঞায় পরিণত হল,
আর, কল্পতরুর কবে পাতা ঝরে গেল,
কবে, বাস্তবের বেড়াজালে কল্পনার
পাখিদের ডানা কাটা গেল।
আজ, যখন দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখি
অন্য কেউ ভরিয়ে তুলেছে স্বপ্ন দিয়ে
আমার শুকনো ডাল__
আর, আমার ভাগে এল
শুধু ঝরা পাতা__
তখন বলতে ইচ্ছে হয়,
তোমায় ভালোবেসে ছিলাম বলেই
শুধু চাই_
তুমি সুখী হও_
অন্য কারোর ভালোবাসা, স্বপ্ন
আর আমার অপেক্ষা নিয়ে...!!
শেষ বিদায়
একদিন সকালে যদি দেখো
বসন্তের ঝরা পাতার মতো
আমি উড়ে বেড়াচ্ছি
এ মাঠ থেকে ও মাঠ__
তখন তুমি এসো কাছে,
বাতাসের সাথে উড়ে আসব
আর আলতো করে ছুয়ে দিয়ে যাব তোমায়
হয়তো শেষ বার__
যদি দেখো, শীতের সকালে
আমি দূর্বা ঘাসের মত
মিশে আছি মাটির সাথে__
তখন তুমি এসো কাছে,
কুয়াশার সাথে মিশে আসবো
আর আলতো করে ভিজিয়ে দিয়ে যাব তোমায়
হয়তো শেষ বার__
ভয় পেয়ো না,
ঝরা পাতা আর দূর্বাঘাস,
কোনটাই কুড়িয়ে নিতে হবে না তোমায়
শুধু দেখতে এসো একবার আমার
শেষ বিদায়!!
অলিখিত
রোজ ভাবি কিছু লিখব তোমার জন্য,
আমার মনের কথা__
তারপর ভাবি কি লিখব, কখনো তো জানতে চাওনি আমার মন, কষ্ট, ব্যথা__
তারপর ভাবি লিখে যাই, কখনো যদি
সময় হয় তোমার, ব্যস্ততার ভিড়ে__
হয়তো তুমিও কখনো
ফিরে আসবে আমারই নীড়ে।
প্রথমে ভাবি লিখব বিছানার পাশের জানলাটার কথা,
যেখান দিয়ে আকাশের তারা গুনতে গুনতে
নির্ঘুম রাত পার করি__
কিন্তু লিখতে গেলেই, কেন জানি চোখ ঝাপসা হয়ে যায় আকাশটা কালো হয়, আর
তারারা ডুব দেয় অন্ধকারে,
ঠিক আমার স্বপ্নের মত__
তারপর ভাবি লিখব বারান্দার পাশের গাছটার কথা,
যেটার পাখি গুলির সাথে কথা বলতে বলতে
নিজের মনের সাথে আপোষ করি_
কিন্তু লিখতে গেলেই, কেন জানি পাখিগুলো
উড়ে যায়, নতুন বাসার খুঁজে
আর আমি বসে থাকি ভাঙ্গা
স্বপ্ন আর বাসাগুলিকে নিয়ে_
আবার যখন ভাবি, নতুন কিছু লিখব
তখন বৃষ্টি আচ্ছন্ন করে নেয় আমায়_
পড়ে থাকে খোলা কলম, ডায়রীর ছেঁড়া পাতা,
আর অস্পষ্ট কিছু আর্তনাদ।
সুখ পাখি
জলছবি জলতরঙ্গী তুমি,
প্রস্ফুটিত ফুলের বৃন্ত তুমি,
চপল তুমি, চঞ্চল তুমি,
পেলব তুমি, কমল তুমি,
ধীর তুমি, স্থির তুমি,
সব কিছুর মিশ্রণ তুমি।
বৃন্তে ভর করে সাজাও তোমার বাগান,
নতুন বাগান__
হয়তো আমরা তোমায় ছাড়া ম্রিয়মাণ ,
কিন্তু তুমি এগিয়ে যাও
ছেড়ে সব পিছুটান
পাবে নতুন সুখের সন্ধান।
মুখোশের অন্তরায়
খুঁজি তোমায় আমি আমার
নিরবতায়,
খুঁজে পাই তোমায় আমি
বিষন্নতায়।
চঞ্চল তুমি, উচ্ছল তুমি,
ব্যস্ত তুমি, ক্লান্ত তুমি,
খুঁজি তোমায় আমি আমার
ছায়ায়,
খুঁজে পাই তোমায় আমি
কাজের দোরগোড়ায়।
কর্মচঞ্চল তুমি, কর্মচ্ছোল তুমি,
কর্মব্যস্ত তুমি, কর্মক্লান্ত তুমি,
আরো না জানি কত কি তুমি!
আমি হেসে বেড়ায় তোমার
কর্মব্যস্ততায়,
তোমার সান্নিধ্যের আশায়_
কেঁদে কেঁদে মরে আমার বুক,
মুখোশের অন্তরায়___
ভুলে ভরা ভালোবাসা
ভুল করে দেখা,
ভুল করে চাওয়া ,
আর ভুল করে অল্প একটু পাওয়া।
আর হয়তো ভুল শোধরাতে শোধরাতে করি
আরেকটা ভুল__
ভুল করে ভুলে থাকি
নিজের ভালোবাসা__
আর নয় তো ভুলেরই নাম দিয়ে
ভালোবাসা___
'ভালবাসা'
সে যে সময় আর সান্ত্বনার
আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা ভুলেরই এক জাল।
'ভালোবাসা'
সে যে সব মিথ্যে সব ভুল।
তাইতো বলি,
ভুল করে দেখা,
ভুল করে চাওয়া,
আর ভুল করে অল্প একটু পাওয়া।
প্রতিচ্ছবি
আজ আমায় তুমি দিলে ফিরিয়ে
কিন্তু পারবে কি তখন যখন
আসবো আমি আলোর প্রথম কিরণ
হয়ে, তোমায় ভরিয়ে দিতে?
পারবে কি তখন যখন বাতাস
হয়ে ছুঁয়ে যাবো তোমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে?
আজ আমার থেকে তুমি ফিরিয়ে
নিলে চোখ,
যখন আসব বৃস্টির সাথে, এই শ্রাবনের
বারিধারা থেকে কিভাবে বাঁচিয়ে রাখবে নিজেকে?
যখন ভ্রমর হয়ে আসবো, আর
ছুঁয়ে যাবো তোমার ঠোঁট
পারবে কি থামাতে তোমার ঠোঁটের কম্পন?
যখন আধার হয়ে নামবো তোমার বুকে,
জড়িয়ে ধরে অনুভব করব তোমার উষ্ণ হৃদস্পন্দন, পারবে কি আটকাতে আমায়!!!
তুমি যাচ্ছ যাও, আমি আসবো ফিরে বারে বার
শুধু তোমায় ভালোবাসতে,
তোমারই প্রতিচ্ছবি হয়ে।।
কী লিখি কেন লিখি
কী লিখি কেন লিখি বলতে গেলে বলতে হয় যা কাউকে বলা যায় না তাই লিখি। ছোটবেলা থেকেই আমার মধ্যে দুটি সত্তা কাজ করে। একদিকে আমি খুব কথা বলতে ভালোবাসি, আড্ডা দেই হাসি ঠাট্টা করি, অবশ্য ইতিবাচক। অন্যদিকে আমার আমিকে আমি এতটাই গোপনে রাখি যে মাঝে মাঝে খুঁজে পেতে নিজেই হিমশিম খাই। আর এই গোপন সত্তার অনেক কথাই যেগুলি আমি শুধু নিজের সঙ্গে বলি, মাঝে মাঝে কলমের সাহায্যে খাতায় লিখে নিজেকে হালকা করি। ছোটবেলা থেকে হীনমন্যতায় ভোগা আমি কখনোই নিজের মনের গোপন কথা কাউকে বলতে পারতাম না। গল্পে গল্পে মজলিস জমিয়ে রাখা আমিই আবার দিনশেষে মুখ লুকাতাম খাতার পৃষ্ঠায়।
ছোটবেলায় বাড়িতে যেটা অফুরন্ত পেয়েছি তা হল গল্পের বই আর ডায়েরি। আমার বাবা তখন বীরচন্দ্র লাইব্রেরীর সদস্য ছিলেন। পনের দিন বা মাস পর পর কবে বাবুর বই পড়া শেষ হবে আর বদলে নতুন বই আনবে তার অপেক্ষাতেই সব ভাইবোন মিলে বসে থাকতাম। পুলিশের চাকরির সুবাদে বাবুর ডিউটি আওয়ারটা ছিল অনেক বেশি তাই বলে বাবু বাড়িতে না থাকলেই যে পুরো সময়ের জন্য গল্পের বই হাতে পেয়ে যাব তার সুবিধা ছিল না। চার ভাইবোন মিলে চুলচেরা হিসাব করে সময় ভাগ করতাম কার ভাগে কতটা সময় থাকবে গল্পের বইটা। বাড়ির ছোট হবার সুবাদে অনেক সময় আবার বড়দের রেগিং খেয়ে এক আধটা দিন পেতামও না। কিন্তু যখন হাতে পেতাম গল্প যেন পড়তাম না, গোগ্রাসে গিলতাম। ওইটুকু স্কুলের বয়সেই শরৎ সমগ্র তিন খন্ডই পড়ে ফেলেছিলাম। তবে সব শব্দের অর্থ হয়তো তখন বুঝিনি কিন্তু গল্পটা বুঝতাম। আর যেই গল্পের শেষটা সুখের হতো না, ওই গল্পটা পড়ে খুব কাঁদতাম। আমার এখনো মনে আছে, ' দেবদাস ' গল্পটি যখন পড়ি তখন আমি ক্লাস নাইনে মাত্র। দুঃখে কষ্টে কয়দিন খেতে ঘুমাতে পারিনি। এমনকি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াকালীন শাহরুখ আর ঐশ্বর্য অভিনীত
'দেবদাস ' সিনেমা রিলিজ হল তখনো আমি দেখিনি, আজও দেখিনি। সব বন্ধুদের তখন বলেছিলাম এটা আমার জানা গল্প, কিন্তু ওদের বলিনি এটা যে আমার একটা জানা ' কান্নার ' গল্প। তেমনি হয়েছিল ' মহেশ ' গল্পটি পড়ে, গফুর আর মহেশের ভালোবাসায় ও দুঃখে চোখের জলে ভেসে ছিলাম আমি অনেকদিন। হয়তো সেজন্যই কোন অন্যায় অবিচার আর মন ভাঙ্গায় আমার কলম চলে, শব্দরা এসে ধরা দেয়, আর আমিও লিখি। কবিতা কয় ধরনের হয়, ছন্দ কিভাবে লিখতে হয় এসবের কিছুই আমি জানি না। আমার তো মনে হয় আমি আসলে কবিতা ভেবে লিখিই না। শুধু মনের ভাব লিখি কবিতা আকারে।
ছোটবেলায় দেখতাম বাবু ডায়েরিতে রোজদিনের ডিউটি চার্ট লিখে রাখতো। আর প্রত্যেক পাতাতে দুই তিন লাইনের বেশি লেখা থাকতো না বলে বছর শেষ হয়ে গেলে পুরোনো ডায়েরি গুলিতে গিয়ে ভাগ বসাতাম। এর মধ্যে নিজের দিনলীপি লেখার চেষ্টা করতাম। সে থেকেই হয়তো লেখার হাতে খড়ি। তারপর কারো জন্মদিনে দুলাইন, তো নববর্ষের কার্ডে পাঁচ লাইন, বন্ধুদের জন্মদিনে যদি আটলাইন লিখেছি তো কারোর ফেয়ারওয়েলে লেখা আর কান্না সমানে সমানে পাল্লা দিতে। তখন লেখার জন্য খুব ভারী ভারী শব্দ খুঁজতাম, ছন্দ খুঁজতাম। তাই লেখা খুব একটা মিলাতে পারতাম না বলে লিখতামও খুব কম। এরমধ্যে আমাদের স্কুলের বাংলা শিক্ষিকা পুতুল দিদিমণি এবং বাংলা শিক্ষক ভুবন স্যার দুইজনেই দুইদিন ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় একই অর্থের কথা বলেছিলেন। যেটা আজও আমি একমনে মেনে চলি। আর কথাগুলি ছিল অনেকটা এরকম, ' কঠিন কথা বলে কাউকে কিছু না বুঝতে দেওয়ার চেয়ে সহজ ভাষায় যদি তুমি তোমার কথা সবার মনে পৌঁছে দিতে পারো, সবার মন ছুঁয়ে দিতে পারো, সহজ ভাবে বুঝতে পারো, বুঝাতে পারো, তাহলে জীবন অনেক সহজ ও সুন্দর হবে।' এরপর আর কোনদিন আমি শব্দ খুঁজিনি, যা মনে এসেছে তাই লিখেছি। উনাদের ছায়ায় আমি বড় হয়েছি। ক্লাসে প্রথম হওয়ার সুবাদে উনাদের কড়া নজরদারি ছিল আমার উপর তাই হয়তো সামনে বসিয়ে হঠাৎ করে ভাব সম্প্রসারণ রচনা চিঠি বা কোন প্রশ্নের উত্তর লিখতে হতো নিজের মত করে। আর এইগুলোই হয়তো একটু একটু করে আমাকে এই আমি হতে সাহায্য করে করেছে।
এরপর প্রেমে পড়া, প্রেমে উঠা, চাকরির জন্য যুদ্ধ, বিয়ে-সংসার, বাচ্চা প্রত্যেকটা জিনিস নিয়ে কিছু না কিছু লিখতাম। চারপাশে যা দেখতাম, যা বুঝতাম, তাই লিখতাম। তবে এগুলি নিতান্তই আমার ব্যক্তিগত ছিল। পাঠকের সামনে তুলে ধরতে হবে বা কোথাও ছাপানোর জন্য পাঠানোর তাগদা কোনোকালেই আমার ছিলনা এক আধটা আমার হাজব্যান্ড বা বন্ধুরা পড়ে ভালো লাগলে বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়েছে, তো ছেপেছে।
প্রাপ্তির খাতা যদি খুলি তাহলে আজকের ফরিয়াদ পত্রিকা, বিশালগড় বইমেলার ম্যাগাজিন ও আরো কিছু ম্যাগাজিনে টুকিটাকি আমার লেখা ছাপা হয়েছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজের জন্য খুব অলস একটা মানুষ। কোথাও লিখে হারিয়ে ফেলি তো কোথাও নির্দিষ্ট তারিখ চলে গেলে মনে হয় লিখে তো ছিলাম, জমাটা দেওয়া হয়নি। তারপরও আলগোছে অলস আমি, চাকরি সংসার বাচ্চার সামলে নিজের জন্য সময় খোঁজা আমি, অতিরিক্ত খুশি বা দুঃখে যখন মনের মধ্যে খুব জোরে ভূমিকম্প অনুভব করি তখন যেন আপনা থেকেই আমার কলম জেগে উঠে খাতায় নতুন আঁক কাটতে।

0 মন্তব্যসমূহ