কী লিখি কেন লিখি
মনীষা কর বাগচী
কী লিখি কেন লিখি
মনীষা কর বাগচী
কবি। দিল্লি।
অনেক ছোট বেলা থেকেই লেখা লিখি করি। স্কুলের পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় আমার লেখা। নি জের নামে প্রকাশিত হওয়া ছাড়াও ভাই-বোন ও বন্ধু-বান্ধবদের নামেও প্রকাশিত হত আমার লেখা। বিয়ের পর দিল্লিতে চলে আসি। সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশ। চারিদিকে হিন্দিভাষী মানুষ। বাংলা ভাষা থেকে যেন অনেক দূরে সরে এলাম। তারপর সংসারের ঝামেলা। এ এক অন্য জগত। সেই জগতে আমি হাঁফিয়ে উঠছিলাম। সেখানে আমার পড়া নেই, লেখা নেই, গান বাজনা নেই, কোনো ফাংসান নেই। যান্ত্রিক জীবন। এই দুনিয়া যেন আমার নয়। ভিতরে ভিতরে ছট্ফট্ করতাম। সারাদিন সংসার ছেলেমেয়ে নিয়ে ব্যস্ত থেকেছি কিন্তু রাত বড় কষ্টে কেটেছে।
দীর্ঘ কুড়ি বছর পর ফেসবুক আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছে আমার নিজের জগত। ফেসবুক খোলার পর পড়তে শুরু করলাম সাথে সাথে লেখাও। ফেসবুকের বন্ধুরা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। অনেক উৎসাহ দিয়েছে।
কী লিখছি সেটা অতো ভেবে লিখি না। হৃদয়ের টানে লিখি। মন চায় তাই লিখি। গান, কবিতা, গল্প, সংলাপ, হাইকু, লিমেরিক, তানকা ইত্যাদি লিখি। ভারতের বা বাংলাদেশের অসংখ্য পত্রিকায় আমার লেখা প্রকাশিত হয়। আমেরিকা, লন্ডন, জার্মান ও সুইজারল্যান্ড থেকেও আমার লেখা প্রকাশিত হয়। বেশকিছু হিন্দি পেপারে বা পত্রিকায় আমার হিন্দি কবিতা প্রকাশিত হয়।
আমার কাকা কবি নিশিকান্ত বাগচী আমার প্রেরণা। ফেসবুকে অনেক বড় বড় কবি লেখকদের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে। ওনাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তার মধ্যে ঢাকার অন্যতম কবি, কবি তপন বাগচীর নাম সবার উপরে। কলকাতার স্বনামধন্য কবি অনুপম দাশশর্মা, বাংলাদেশের কবি রাজশাহীর গাজীবর রহমান, ফরিদপুরের সফিক ইসলাম ও ধানবাদের বিখ্যাত লেখক অজিত রায়, এই সকল কবি সাহিত্যিকদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি এবং এখনও শিখছি।
এ পর্যন্ত আটখানা বই প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম বই প্রকাশিত হয় বনগাঁর সীমান্ত প্রকাশনী থেকে। সীমান্ত প্রকাশনীর সম্পাদক শ্রী দীপক সিকদার ভীষণ ভালো মানুষ। উনি আমার সঙ্গে সর্বদা বন্ধুত্ব সুলভ আচরণ করেছেন। অনেক কিছু বুঝিয়েছেন এবং শিখিয়েছেন। আমার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের এর নাম যথাক্রমে: নীল দিগন্ত, চোখের কোণে জল, নূতন ভোর, বসন্তরেণু, শিউলি বেলার সুর, তপন বাগচী -নিবিড় অনুধ্যান, বিবর্ণ বনলতা। প্রকাশিতব্য গল্প বই, "স্বপ্ন সফর"।
বই পড়ে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। সকলের মন্তব্য আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। অনেক সাহিত্য সংস্থা থেকে সম্মানিত হয়েছি। কিছু ক্লাব থেকেও সম্মাননা প্রদান করেছেন। বাংলাদেশ থেকে নিয়ন্ত্রণ পেয়েছি কয়েকবার কিন্তু যাওয়া সম্ভব হয়নি। রেড ক্রস সোসাইটি থেকে নিয়ন্ত্রণ পেয়েছিলাম যাওয়া সম্ভব হয়নি। জার্মান থেকে ও নিমন্ত্রণ এসেছিল যাওয়া সম্ভব হয়নি। আমার শ্বশুর বাড়িতে কেউই এই সব লেখা লেখি বা সাহিত্য চর্চা টর্চা একদম পছন্দ করেন না। এই পর্যন্ত আসতে আমাকে অনেক অশ্রু ঝরাতে হয়েছে। হয়ত ওদের সহায়তা পেলে আরও একটু এগিয়ে যেতে পারতাম। অবশ্য ওদের মানসিকতার অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে এখন। দেখা যাক এরপর কী হয়!
0 মন্তব্যসমূহ