কী লিখি কেন লিখি
চিত্তরঞ্জন হীরা
কী লিখি কেন লিখি
চিত্তরঞ্জন হীরা
জীবন এক প্রবহমান নদী। সেই নদীর বুকে কান পেতে যে শব্দ শুনি তাকে ঠিক কখন আত্মায় ধারণ করা যায় ! যায় কি না যায় সেটা ভাবতে ভাবতে এক জীবন। যদি সেই জীবনকে অতিক্রম করা যায় আমরা দ্বিতীয় জীবনে পড়ি। তখন শুরু হয় লেখকসত্তার উন্মোচনের খেলা। সে আরেক যাত্রা। এই যাত্রার মধ্যে থাকে একজন ব্যক্তিমানসের আপ্রাণতা। তিনি নিজেকেই খুঁজছেন কিন্তু প্রাত্যহিক জীবনের বাইরে দাঁড়িয়ে। এই খোঁজ তাঁর তাড়না। তাড়না থেকেই সৃষ্টির আর্তি। যাঁর মধ্যে এই উন্মাদনা প্রকট হয় তাঁকে আর স্বাভাবিক সত্তায় ফিরিয়ে আনা যায় না।
একজন সাধারণ মানুষকে তো প্রশ্ন করা হয় না যে – আপনি কেন লেখেন ! আসলে তাঁর তো লেখকসত্তার উন্মোচন নেই। বা এই জগতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। তাহলে দেখা যাচ্ছে প্রশ্নের মধ্যেই চিহ্নিতকরণের একটা উদ্দেশ্য লুকিয়েই রয়েছে। এখানেই হলো দ্বিতীয় জীবনের শেকড়সন্ধান। বা রহস্যের আধার লুকিয়ে। অমৃতকুম্ভটি।
এই রহস্যময় আধারটি মোড়ক ঢাকা। পরতে পরতে তার রঙ বদলায়, রূপ বদলায়। রঙ থেকে রূপের মাঝখানে অরূপের অথৈ তরঙ্গ। ঢেউ খেলছে। আসলে নিজেকে খুঁজছে। খুঁজেই চলেছে। লেখকজীবনের এই সারসত্যে পৌঁছনোর পরতে পরতে অনেক আলো-আঁধারি রয়েছে। কিন্তু এই অবস্থান পর্যন্ত পৌঁছতে পারলে তখন শুধু ওই আত্মসন্ধানের কথাটাই বারবার মনে হয়।
আর এই অবস্থান পর্যন্ত পৌঁছতে জীবনের যে অধ্যায়গুলো পেরিয়ে আসতে হয়, তখন তাঁর কাছে সবকিছুই আত্মজৈবনিক। অর্থাৎ নিজেকে খুঁজতে খুঁজতে তাঁর লেখকসত্তা টের পায় সে তো নিজেকেই লিখছে। তাঁর লেখার প্রতিটি পাতাই হয়ে উঠছে আত্মজীবনীর এক একটি অংশ। পাঠক তাকে হয়তো কখনও কবিতা বলছেন, কখনও গল্প বা প্রবন্ধ বা নিবন্ধ। এই খোঁজের যেমন শেষ নেই, তেমনি এই লেখারও আলাদা কোনও নাম নেই। প্রতিটি লেখাই শুধু ভিন্ন ভিন্ন এক একটা টেক্সট।
শেষ পর্যন্ত এই দাঁড়ালো যে আত্মসন্ধানের পথ ধরে আত্মজীবনীর এক একটি অংশ রোজ লিখতে চান একজন কবি। অতৃপ্ত হন আর ছিঁড়ে ছিঁড়ে ফেলেন। ছেঁড়া পাতায় ভরে ওঠে তাঁর ঘর, তাঁর জীবন সংসার । এখন ফর ফর করে শুধু পাতাগুলো উড়ছে….
0 মন্তব্যসমূহ