কী লিখি কেন লিখি প্রশান্ত সরকার

কী লিখি কেন লিখি 

প্রশান্ত সরকার 


কী লিখি কেন লিখি অথবা আমার কবিতা ভাবনা বলতে যদি এটা বলতে হয় যে, আমি কবিতাকে কিভাবে দেখি তাহলে বলব কবিতাকে দেখা যায় না, উপলব্ধি করতে হয়। অন্তত আমার কাছে তো তাইই। তবে কবিতা কী সেটা বলতে হলে বলব, কবিতা আমার কাছে দৃশ্যের একটা প্রতিফলন যা দ্রষ্টা তাঁর মননে অনুভব করেন এবং সেই প্রতিফলন দ্রষ্টার ভাবাবেগকে জারিত করে যা তিনি শব্দের মাধ্যমে পাঠকের ভাববোধের অভিঘাতে সঞ্চারিত করেন। তবে এ ব্যঞ্জনার মতান্তর থাকতেই পারে, একেকজনের কাছে কবিতার ধারণাও একেকরকম। তবে আমার মনে হয় কবিতা তখনই সার্থক হয়ে ওঠে যখন কোনো কবিতা পাঠ করলে শুধু পরিপূর্ণ নয় বরং পাঠক কিছুুুটা জারিতও হয়। আসলে সে অর্থে কবিতা একটা সম্ভাবনাও বটে যা পাঠককে পৌঁছে দিতে পারে আরেক সম্ভাবনায়। ক্ষেত্রবিশেষে যেমন কিছু বোধ আরও কিছু বোধের সাথে জারিত হয়ে কবিতা হয়ে ওঠে, যেমন-

চিহ্নগুলোই আসলে অনুকরণ করছে পা-কে
#
লুকিয়ে রাখছে যত ইঙ্গিত ও ইশারা
সহজলভ্য -
#
জল এখানে কোনো জীবন নয়,
বরং একেকটা তরঙ্গ খুলে দেখাও
#
ওখানেই সন্ধান পাবে প্রতিটা আনকোরা পায়ের
যারা জুতোকে অনুসরণ করেনি কখনও

(কবিতাঃ চিহ্ন)

আবার কিছু ক্ষেত্রে কিছু দৃশ্য আরও কিছু দৃশ্য বা অন্য কোনো বোধের সাথের সম্পৃক্ত হয়ে কবিতাশরীর পায়, যেমন-

যদি জানত
কেউ কিছু ফেলে রেখে যায়নি এখানে
শূন্যতা অথবা সাঁতার,
#
যদি জানত
কেউ কিছু রেখে যায়নি এযাবৎ
শুধু সূর্যাস্ত, রেখেছে এক অসমাপ্ত দিন
#
সমস্ত ভোজবাজির পর
খুঁজতে বেরিয়েছে আজ ভাসার কৌশল
#
এতক্ষনে জেনে গেছে
পূর্বজন্ম বলে কিছু নেই...
শুধু শুরু থেকে যদি আরও একবার ভেসে থাকা যেত 

(কবিতাঃ নুলিয়া)

এবার আসি আমি কী লিখি আর কেনই বা লিখি এই প্রসঙ্গে। মূখ্যত কিছু লেখা লিখি যা কখনো কখনো কবিতার মতো দেখতে লাগে। আবার কিছু ক্ষেত্রে সেগুলো দীর্ঘ হয়ে গদ্যের মতো মনে হয়। কবিতার নির্দিষ্ট কোনো ফরম্যাট বা গঠন হয় না, যা হয় সে সবটুকুই আমাদের নিজস্ব মনগড়া।  তবে হ্যাঁ কবিতার একটা ছন্দ হয়, ছন্দ বলতে অন্ত্যমিল বা কোনো বৃত্তের ছন্দকে বলতে চাইনি, আমি বলতে চাইছি কবিতার নিজের চলনে একটা ছন্দ থাকে। একটা সমগ্র অতিক্রমের ভেতর একটা দোলা থাকে.... সেটা নাহলে কবিতার শরীর ভেঙে পড়ে, যেমন ভিত নাহলে কোনো নির্মাণই দাঁড়ায় না, তেমনি। চূড়ান্ত গদ্য কবিতা হলেও তার ভেতরেও একটা ছন্দ থেকে যায়, সেটাই শব্দের ঝংকার... সেটাই কবিতার  প্রাণ। আর আমি কেন কবিতা লিখি আমি নিজেও জানিনা। আদৌ যা লিখি তা কবিতা কিনা সেটাই জানিনা আর তাছাড়া কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে তো আর কবিতা লিখতে আসেনা কেউই, যারা আসেন তারা উদ্দেশ্যসাধনেই আসেন... আসলে একটা কথা আছে, "Poetry is the game in which the loser takes all"... ঠিক সেরকমই আমিও কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে লিখতে আসিনি, আদপে আমাদের সারা জীবনে অনেক কিছুই, অনেক কথাই তো বলা হয়ে ওঠেনা সেগুলো জমে জমে লেখার শরীর পেয়ে বেরিয়ে এলে পর বুঝি কোনটা বলার ছিল আর কোনটুকু না বললেও চলত। আমাদের গোটা জন্মটাই তো আসলে একটা রহস্য.... কোনো দৃশ্য বা ভাবনা লালন করতে করতে জারিত হয় ভেতরেই এবার তারা কোন রহস্যে কবিতা বা লেখা হয়ে ওঠে সেটা বলা মুশকিল। যেদিন বুঝতে পারব সেদিন নিশ্চয়ই কোনো না কোনো লেখার মাধ্যমেই জানাতে পারব। 



 প্রকাশিত বই এর নাম

মেঘলা রং বান্ধবীরা" (কবিতা)
অসম্ভব পাখিদের ওম" (কবিতা)
খেলনা যোনির পরী" (কবিতা) 
এই আলো, আলফাজ" (কবিতা)
বিষুবের ঘরবাড়ি (কবিতা)
নিষেধাজ্ঞা জারি থাক (গদ্য)
কলোনি কোলকাতা (কবিতা)
স্বাভাবিকের চেয়ে কিছু বেশী (কবিতা)
এক্ষেত্রে আকাশ যতটা গৌণ (কবিতা)....  প্রকাশিতব্য

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ