কী লিখি কেন লিখি বিজয়া দেব

কী লিখি কেন লিখি 

বিজয়া দেব 


কী লিখি কেন লিখি 
বিজয়া দেব

কেন লেখা হয় এ নিয়ে বহু পুরাতন একট জিজ্ঞাসা আছে। কী লিখি কেন লিখি। এ নিয়ে বিস্তর জিজ্ঞাসা ও তার উত্তর খোঁজার চেষ্টা দেখি। ব্যক্তিগত প্রশ্নেও ভেতরে ভেতরে এর কারণ ও উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছি। কিন্তু যদি বলা হয় প্রিয়জন কেন লিখেন তখন অনেক ধন্দ আসে। একনম্বর, আমার কাছের মানুষরাই আমার প্রিয়জন অথবা প্রিয়জন মাত্রেই কাছের মানুষ। কিন্তু সব প্রিয়জন কি লেখেন? যদি কোন  অক্ষরশ্রমিকের কাছে উত্তর  হয় "না" তাহলে তিনি কী লিখবেন! অথবা উত্তর যদি হয় "হ্যাঁ" তাহলে তাঁকে কী করতে হবে! হয়তো তাঁকে সেই প্রিয়জন লেখকের কাছে গিয়ে উত্তর খুঁজতে হবে। কারণ প্রতিটি লেখকব্যক্তিত্বের কাছ থেকেই স্বতন্ত্র উত্তর আসবে বলেই মনে হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করলে লেখা তো এগোয় না। তাহলে একটা সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে এগোনো যাক।
সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে লিখতে গেলে প্রথমেই ধরে নিতে হবে যাঁরাই লিখছেন তাঁরাই প্রিয়জন। নাহলে এই লেখাটি বাধাগ্রস্ত হবে। কিন্তু আরেকটি প্রশ্ন অবশ্যই লেখার গতির স্বাচ্ছন্দ্যকে ব্যাহত করবে। ধরেই নেওয়া গেল সব লেখকই প্রিয়জন, তবে প্রিয়জনরা কেন লিখেন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আরো অনেক প্রশ্ন উঠে আসে। একনম্বর, একটা সময় ছিল যখন লেখকদের দুটি শ্রেণীতে ভাগ করা হত - এক,"সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ লেখক" , দুই, "শৌখিন মজদুর লেখক"। অথবা অন্যভাবে বলা হতো "শিল্প জীবনের জন্যে" ও "শিল্প শিল্পের জন্যে"। এ নিয়ে একটি প্রচলিত বিতর্কে উদ্বেল হয়েছি প্রথম যৌবনে। কালের গতি সবই বদলে দেয়, চোখে দেখা প্রেক্ষিতের বিস্তার ঘটে, সূর্যোদয় সূর্যাস্তেরও রংবদল হয় ব্যক্তিবিশেষের শৈল্পিক দৃষ্টিকোণ থেকে। এখন ঐ পুরনো বিতর্কটিকে নতুন বোতলে ঢুকিয়ে বলা যায় আসল কথাটি হলো কে কীভাবে জীবনকে দেখেন। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে সমাজজীবন ব্যক্তিজীবন রাজনৈতিক জীবন দার্শনিক জীবন অর্থনৈতিক জীবন কীভাবে ধরা পড়ছে। কোন জিজ্ঞাসা ও যন্ত্রণা থেকে তিনি কলম হাতে তুলে নিয়েছেন! তিনি সরব প্রতিবাদী না কি শুধু কলমতুলি দিয়ে ছবি আঁকতে ভালবাসেন! তিনি কি জনপ্রিয় হবার জন্যে লেখেন না কি অন্তরালের লেখক হয়ে থাকতে চান। তিনি কি সুস্থভাবে সময় কাটাবার জন্যে লেখেন না লেখার প্রতি দায়বদ্ধতার জন্যে লেখেন। তাঁর ভেতরে কি এই প্রশ্ন জাগে যে লেখালেখি সমাজ পরিবর্তনে সক্ষম অথবা আদৌ নয়? লেখকের দায় শুধু কি লেখাতে, না কি বিধ্বস্ত এই সমাজপরিবর্তনে? তিনি কি সস্তায় হাততালি চান না কি কালের কাছে স্বাক্ষর রেখে যেতে চান? লেখক যেহেতু সমাজবদ্ধ জীব তাই সামাজিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক জটিলতা তাঁকে প্রশ্নাতুর করবে এবং তাঁর স্বতন্ত্র জীবনদর্শন থেকে তিনি তাঁর সৃজনের জগতকে সমৃদ্ধ করবেন। এসবই একটি সাধারণ বিশ্লেষণ। আমাদের জিজ্ঞাসাই চলমান জীবনের, সৃজনের জগতের মূলসূত্র, সিদ্ধান্তে নয়।


বিজয়া দেব ।
পূর্বাচল রোড (নর্থ)
কলকাতা - 700078. 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ