কী লিখি কেন লিখি সুস্মিতা দেবনাথ


কী লিখি কেন লিখি 
সুস্মিতা দেবনাথ 



কী লিখি কেন লিখি 
সুস্মিতা দেবনাথ 


কী লিখি কেন লিখি জানিনা? ভালো লাগে তাই লিখি, আবার ভাল না লাগলেও লিখি । কখনো মন খারাপের মেঘ গুলো কে দূরে সরাতে খাতায় আঁকিবুকি আঁকি,  কখনো ভালোলাগার অনুভূতি গুলিকে শব্দমালায় সাজিয়ে আনন্দ পাই। কখনো কোনো লেখা প্রচারের জন্য লিখিনি, মনে হয়েছিল একটা কিছু লিখি তাই লিখে ফেলেছি।তবে নিজের লেখা কোথাও ছাপা হলে সেটা সকলের মত আমার ও আনন্দ হয়।কিন্তু আমি জানি, লেখা প্রচারের মত লিখে উঠতে পারি নি আজ ও।যাইহোক,  কোন লেখা হয়তো আতুর ঘরেই হারিয়ে গেছে,আবার কোন লেখা সৃষ্টির আনন্দে উজ্জ্বল। অগোছালো বর্ণমালা গুলোকে কবিতা অথবা গল্পে সাজায়  এক ধরনের বোধ্ ও গভীর আনন্দের জন্য। ব্যাখাহীন অন্তর্গত কিছু অসংলগ্নতাকে  রূপ দেওয়ার জন্য।মানুষের  চাওয়া-পাওয়া, দুঃখ-বেদনা, প্রেম বিরহ, হাসি-কান্না বিদ্রোহ,সমঝোতা,ব্যর্থতা সফলতাকে বন্দী করি  আমার খাতায়।  এই বিস্ময়কর মহাজগৎ, সমাজ, প্রকৃতি এবং প্রাণীকূলের প্রতি ভালোবাসা ও ভালোবাসাহীনতার জন্য ও লিখি। ভালোবাসি মানুষকে   তাই হয়তো যখন দেখি আমার  ভালবাসার মানুষগুলো অনাদরে-অবহেলায়, ভুলের বশে বিভ্রান্তপ্রায় হয়ে হারিয়ে যাচ্ছে মনুষ্যত্ব হীনতায়, যার দীর্ঘশ্বাসে পৃথিবীটা ভরে উঠছে বিষবাস্পে ঠিক তখন এই ভালোবাসার বস্তুগুলোকে আগলে রাখার জন্য কলম ধরি,সাজিয়ে তুলি শব্দ নারী, যে কোল পরম মমতায় আশ্রয়স্থল। লেখার জগৎ বিশাল,তার চেয়ে ও কয়েকগুন  বেশী বড় পড়ার জগৎ,জ্ঞানের সাগর,  যেখানে আমার একবিন্দু ও আজ পড়া হয়ে উঠে নি,তো লিখবো কেমন করে?আর না পড়লে লেখা যায় না,তাই তো আজ ও পারি নি এমন একটা লেখা লিখতে। 
প্রিয় কবি রবার্ট ফ্রস্টের কথায় যদি বলি“লেখায় যদি নিঃশ্বাস ছাড়তে না পারেন, লেখার মাধ্যমে যদি কেঁদে ওঠতে না পারেন, গান গাইতে না পারেন - তবে বাদ দিন আপনার লেখা।”কই আজ ও পারি নি এমন একটা লেখা লিখতে যা পড়ে আমি নিজেকে বলতে পারি আমি কবি,আমি লেখক,আমি গল্পকার।তাই আমি একজন পাঠিকা।এমন কিছুই আমি লিখতে পারি না, যা অন্যের লেখায় আসে নি বা অন্যের পক্ষে লেখা অসম্ভব। মনে পড়ে,
কবি জীবনানন্দের ভাই একজায়গায় বলেছিলেন,জীবনানন্দ "কাউকে দেখানোর জন্য নয়, নিজের জন্যই যেন লেখাগুলো লিখতেন। "আমি কবির মতই লিখি নিজের জন্য, আমি আমার লেখার প্রথম পাঠিকা,সেখানেই আমার আনন্দ।
ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার অভ্যাস,গল্পের, কবিতার বই পড়তাম আর ভাবতাম আমি যদি লিখতে পারতাম,সেই তখন থেকেই একটু আধটু লেখা। পাশের বাড়ীর মদ্যপ স্বামীর অত্যাচারে ঝলসানো মেয়েটার শরীর প্রথম লেখার কালির যোগান দেয় আমাকে,সেই কালিকে উসকে দিয়েছিল আমার বাবা,যখন আমার অগোছালো মনের যন্ত্রণা টুকুকে আমি স্কুলে চলে যাবার পর আমার এক সাংবাদিক কাকুর কাছে এনে দিয়েছিল,দুদিন পর যখন আমার নাম সবিনয় নিবেদন বিভাগে তখন সে যে কি আনন্দ? তারপর থেকে প্রায়ই লিখতাম,একসময় সংসার কাজ সবমিলিয়ে লেখা আর দেওয়া হয়ে উঠে না,তবে লেখা আজও লিখি।লেখা হোক আর না হোক তবু লিখতে চেষ্টা করি এক দু লাইন,যদি কোন একদিন কোন একটা লেখা আকাঙ্ক্ষিত স্ফুরনের দীর্ঘপ্রতীক্ষায় ঝলসে উঠে,আমি হব সেদিন একজন সার্থক গর্বিতা পাঠিকা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

3 মন্তব্যসমূহ